আমার_বোবাফুল(৬৩) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

0
58

#আমার_বোবাফুল(৬৩)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্

মায়রা আড়চোখে একবার চেয়ে নিজের কাজে ব্যস্ততা দেখায়।ভাবটা এমন- যেন মেহরাবের প্রশ্ন সে শুনতেই পায়নি।এতে আরো অস্বস্তিতে পড়ে যায় মেহরাব। পরক্ষণে আপু শুনেনি ভেবে বলল ফের, “ মেয়েটা কোথায় আপু? কোথাও দেখছি না যে!”

মায়রা এই পর্যায়ে সরু চোখে তার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, “ কোন মেয়েটা?কার কথা বলছিস ভাই?”

ইতস্তত গলায় ভ্রুতে তর্জনী ঘঁষে মেহরাব বলল কন্ঠ খাদে নামিয়ে, “ জ-জেসি মেয়েটার কথা বলছিলাম।”

“ ওহ্,জেসি?ও তো চলে গেছে।”
“ চলে গেছে মানে? কোথায়?”

মায়রা পুণরায় জামা ভাঁজ করতে লেগে গেল। কাভার্ড খুলতে খুলতে বলল, “ ওর ভাই এসে নিয়ে গেছে।আর বলে গেছে ভালোবাসা, মিল-মোহাবত ছাড়া দ্বায়ে পড়ে এক ছাদের নিচে থাকা যায় কিন্তু সুখের সংসার গড়ে উঠে না।সে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছে তোর কাছে।খুব শীঘ্রই তোকে এই নড়বড়ে সম্পর্কের মুক্তি পত্র পাঠিয়ে দেবে নাকি!”

“সে” বলতে জেসিকেই বুঝিয়েছে । মেহরাব দৃষ্টি মেঝেতে ফেলে, এরপর একদৃষ্টে চেয়ে ছোট্ট শব্দে বলল, “ ওহ্…!” –হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁতের নিচে দাঁত পিষ্ট করে উপর নিচ মাথা ঝাঁকায়। তারপর মায়রার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গটগট চলে যায়।মায়রা হতাশ চোখে তার যাওয়ার পথে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলল।কী হতে চলেছে অতঃপর?এদের পরিণতি কোথায়?সে জানে না। তবে একটাই চাওয়া- জীবনের সর্বাবস্থায় ভাই যেন সুখী হয়।

রুমে এসে ফোনটা বেডের একপাশে ছুঁড়ে মেরে ধপ করে বসল মেহরাব।রাগে মেজাজ রি রি করছে।শুয়েও স্থির হতে না পেরে নরম বেডে ঘুষি মেরে উঠে ব্যলকনিতে চলে এলো।এখন রাত।আকাশে রূপবতী চাঁদ খানা উঁকি মেরে আছে। অন্ধকার রাতের দিকে অদৃশ্যে চেয়ে থেকে রেলিংয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাতের মৃদু আঘাত করতে করতে সজোরে উপর নিচ মাথা ঝাঁকিয়ে মেহরাব বিড়বিড় করল, “ ওখেই, তবে দেখা যাক এর শেষ কোথায়!”


মাহিরের অনুরোধে তার বাবা-মা এসেছিল শিকদার নিবাসে।আবদার জানিয়েছেন- তুহফাকে মাহিরের বউ হিসেবে নিয়ে যাওয়ার।এতে মাহির, তুহফা উভয়েই স্ব স্ব জায়গা থেকে শঙ্কিত ছিল মামা’রা উনাদের অপমান করবেন না তো?তবে তাদের অবাক করে দিয়ে ঘটনা ঘটে গেল অন্যরকম। অতিথিদের প্রতি শিকদারদের ব্যবহার অত্যন্ত অমায়িক ছিল এবং তুহফাকে মাহিরের হাতে তুলে দিতে রাজিও হয়ে গেলেন। সেদিনি বিয়ের ডেট ঠিক হলো- আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি।আজ ৯ তারিখ।হাতে আছে মাত্র ৬ দিন।

নিবাসের সামনে বর্ণ’র গাড়ি থামতেই, সুখ আনন্দে কেঁদে ফেলল। আম্মু ‘রা সবাই গেটের সামনে দাঁড়িয়ে। তাদের কাছে ছুটে যেতে নিলেই বর্ণ খপ করে হাত চেপে ধরল। হেঁচকা টানে নিজেকে কাছাকাছি এসে ভেজা পাপড়িতে সন্তর্পণে আঙুল ছুঁয়ে বলল, “ বলেছিলাম না, অযথা অশ্রুতে চোখ না ভেজাতে?আই ডোন্ট লাইক ইট!”

নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকল সুখ। আড়চোখে পরিবারের দিকে চেয়ে ইশারায় বুঝাল, “ আপনজনের কাছে ফিরে এসেছি অনেকদিন পর। খুশিতেও কাঁদতে পারবো না।”

বর্ণ কিছু বলল না আর।হাত ছেড়ে সুখকে যেতে দিয়ে অন্যত্র নজর সরিয়ে নিল।আইজা এসেছে পাশে। বর্ণ না দেখেই বুঝল তিনি কাঁদছেন।সে তাকাতেই ভদ্রমহিলা তাকে জাপটে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন-

“ কী হয়েছে তোমার খোকা? কথা বলছো না, বারবার এড়িয়ে যাচ্ছো!মা’র সাথে কীসের এতো অভিমান?”

বর্ণ তাচ্ছিল্য হেসে বলল, “ অভিমান? পুরুষ চরিত্রের সাথে এই শব্দটা মানায় কী না আই ডোন্ট নৌ। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটা কাজ করে না, ইনফ্যাক্ট এটার বিশেষত্ব সম্পর্কেও আমার ধারণা নেই।”

“ মা’র সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে চাওয়া, কথা বলতে গেলে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, কারণ জানতে চাইলে এটা-ওটা টেনে যুক্তি দাঁড় করে কথা কাটিয়ে দেওয়াও অভিমানের মধ্যেই পড়ে। এরপরও বলবে তুমি মা’র সাথে অভিমান করোনি?”

স্থির চোখে মায়ের দিকে তাকাল বর্ণ।তার আচরণের সাথে অভিমানের বিশেষত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে? কিন্তু তার তো অভিযোগ করার ছিল।আজ থেকে দীর্ঘ দিন আগে ছয়, সাত বছর বয়সে মা’র কোলে মাথা রেখে যেভাবে অভিযোগ দাখিল করতো, সেভাবে কোলে মাথা রেখে অভিযোগ করা- ‘আমাকে বাহিরে একা কেনো ছেড়েছিলে মম?এই আঁচলের তলায় লুকিয়ে রাখোনি কেনো?যেনো কেউ দেখতে না পায়, সেভাবে আড়াল করে রাখতে কীসে আটকেছিল?তাহলে আজ শুনতে হতো না- আমি এতিম। কেউ নেই আমার।যেই মুখের দিকে তাকালে আমার সব হিংস্রতা, রাগ, নিষ্ঠুরতা এক মূহুর্তের জন্য উবে যায়- সেই মমতামাখা মুখটা আমার গর্ভধারিনী মায়ের নয়!’

বর্ণ ঢোক গিলল। মা’র চোখের পানির দিকে তাকিয়ে রইল কিয়ৎক্ষণ। এরপর নজর সরিয়ে নিল। মিথ্যে, ওই অশ্রু গুলো নিশ্চয়ই মিথ্যে?কিন্তু… বর্ণ চট করে আবার তাকাল। মিথ্যে তো মনে হচ্ছে না। আইজা তাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলেন, “ বাড়ি চলো।কতো হাজার কল করেছি , রিসিভ করোনি।সেদিন এসেছিলে, একটিবার আমার সাথে কথা বলার প্রয়োজন বোধ মনে করোনি। অব্যক্ত কোন কারণে অভিমান করে আছো?বেশ! কিন্তু সেই কারণ যদি অবান্তর হয়, তখন মা তোমায় নতুন করে শাসন করবে, দেখো। তখন আমি দেখবো না- তুমি রকস্টার,তোমার কতো কতো শুভাকাঙ্ক্ষী!”

কী হলো কে জানে বর্ণ’র। তাড়া দেখিয়ে কোথাও যাওয়ার কথা বলতে গিয়েও বলল না।বাধ্য ছেলেটির মতো নিঃশব্দে মা’র পিছু পিছু চলল। দু বছরের বাচ্চার আঙুল আঁকড়ে ধরলে যেমন নির্বিঘ্নে পাশাপাশি চলতে শুরু করে নিরবে!

আম্মু-আব্বু, দাদু, বড়মা,বড়-আব্বু বাড়ির প্রতিটি সদস্য এমনকি রামশা, আতিফ, আসলামের সাথেও ভাব বিনিময় করে এলো সুখ। বহুদিন পর নিজের পরিবারের কাছে ফিরে মনটা ভীষণ ফুরফুরে।তুহফার কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ থাকল। রমণী লজ্জায় মুখ লাল করে রেখেছে।শুনেছে আজকাল রুম থেকেই বের হতে চায়না সহজে। সুখ জানতে চায়, “ মনের মানুষকে নিজের করে পাওয়ার আনন্দে এখন থেকেই পরিবার থেকে দূরে সরে যেতে চাইছো?”–বাহবা দিয়ে হাত তালি দিল সে।তুহফা হতাশ হয়ে তাকায়। দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলে , “ মজা নে ইচ্ছে মতো।সময় এখন তোদের।”

রুশ্মিতা, ইবরাতও চলে এসেছে বিয়েতে যোগ দিতে।সুখ আরো কিছুক্ষণ সবার মাঝে কাটিয়ে রুমে ফিরে আসে। ডোর লক করে পিছু ঘুরতেই শিরদাঁড়া সোজা করে থম মেরে দাঁড়িয়ে গেল।বর্ণ সবে শাওয়ার নিয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়েছে।কোমরে তোয়ালে পেঁচানো।পেটানো অর্ধনগ্ন সুদেহ বিন্দু বিন্দু পানিতে চকচকে।অন্য একটা তাওয়াল জড়িয়ে মাথার চুল মুছতে মুছতে সুখের দিকে দৃষ্টিপাত করল ঝট করে। মেয়েটা তড়িৎ পিছু ঘুরে গেল চোখে হাত রেখে। ছিঃ ছিঃ… এখনই যে কেনো আসতে হলো তাকে!

চোখ থেকে হাত সরালো না।একহাতে চোখ ঢেকে, অপর হাতে হাতড়াতে হাতড়াতে ধীর পায়ে ডোরের কাছাকাছি গেল সে।লক খোলতে চোখের উপর রাখা হাতের আঙুল ফাঁক করে তাকাতেই দ্বিতীয় ঝটকাটা খেল। দরজায় হেলান দিয়ে চেয়ে আছে বর্ণ,চোখাচোখি হতেই ভ্রু নাচাল।সুখ অচিরেই এক কদম পিছিয়ে গিয়ে পুণরায় দুহাতে চোখ ঢাকে। অল্পসময়ে ওখানে কীভাবে চলে এলো মানুষটা? জ্বীন নাকি!

বর্ণ কাছে এসে ক্ষণকাল চুপ করে বউফুলকে নির্লজ্জ দৃষ্টিতে উপর নিচ পরখ করে, এক ঝটকায় চোখ থেকে জোরপূর্বক হাত সরিয়ে দিল। এরপর বলল ধূর্ত হেসে, “ দু’দিন আগেও ঠিক এভাবেই শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে ছিলাম।বেড থেকে তখন ঘুমের ভান ধরে দু’টো চোখ আমার রূপ-যৌবন গিলে খাচ্ছিল।ফর শিওর চোখ দু’টোর মালিক তুই ছিলি?ছিলি না?”

গলা শুকিয়ে এলো সুখের।এটাও দেখে ফেলেছে বেহায়াতে পিএইচডি করা লোকটা! দুদিকে ঘনঘন মাথা ঝাঁকিয়ে পিছিয়ে যেতে লাগে সে।

“ ভালো কী দূর থেকেই বেসেছিলি? কাছাকাছি এসে আদর ভাগাভাগি করার কথা কল্পনা করিসনি কখনো?”

জীবনেও নাহ্। দু’দিন মাথা দুলাল সে।বর্ণ মুখ কুঁচকে নেয়, “ দুনিয়ার সবাইকে পেছনে ফেলে শুধু তোর হাতটাই ধরেছি জানেমান। অথচ ছুঁতে গেলেই কাঁপা কাঁপি?এমন বউ তো আমি চাইনি।” —কথার ফাঁকে বর্ণ ধীরে একপা দু’পা ফেলে কাছে আসছে; সুখ ততোদূরে যাচ্ছে।

একসময় ড্রেসিং টেবিলে গিয়ে আটকে গেল; পেছানোর কোন পথ অবশিষ্ট নেই আর। দুহাত জামা খামচে দম বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যায় সুখ। হৃদস্পন্দন ছুটছে। লজ্জায়, জড়তায় কানের পর্দা ঝাঁ ঝাঁ করে উঠে বোধহয়।বর্ণ চুলে হাত চালিয়ে ঝাঁকাতেই মুখে ঝিরিঝিরি পানির ছিটা এসে হামলে পড়ে সুখের। অচিরেই মেয়েটা চোখ বুজে নেয় আবেশে।তা দেখে বর্ণ ঠোঁট কাড়মে মোহিত চোখে চেয়ে রইল অপলক।আলগোছে সুখের দু’পাশের ড্রেসিং টেবিলে হাত রেখে ঝুঁকে গেল মুখোমুখি। চোখের পাপড়ি গুলোও কাঁপছে সুখের, শ্বাস প্রশ্বাস ভারী হচ্ছে ক্রমশ। সন্তর্পণে মুখটা তার কানের কাছে নিয়ে গিয়ে বর্ণ সম্মোহনী সুরে ডাকল, “ বউউ…”

সুখের চারপাশ থমকে গেছে। তেষ্টা পেয়েছে প্রচন্ড। জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়বে পড়বে মনোভাব। তখনই পুণরায় বর্ণ’র কন্ঠ গিয়ে কর্ণকৌঠরে পৌঁছায়, “ এ্যাঁই বউফুল?”

অবচেতন মনেই সুখ সাড়া দেয় এবার, “ উঁঃ?”

বর্ণ’র ঠোঁট দুটো তার কান ছুঁয়ে দিল এবার। ফিসফিসিয়ে বলল বোধহয়, “ আমার কেমন কেমন ফিলিং হচ্ছে।ইয়ু নৌ কেমন কেমন?”

এরপর আর কিছু মনে নেই সুখের।

দোলনায় পা তুলে দুহাতে হাঁটু জড়িয়ে জেসি অন্যমনস্কে বসা।।মন খারাপি দূর করতে আজ শাড়ি পড়েছিল সে। শাড়ির লম্বা আঁচল খানা মেঝেতে লুটোপুটি খাচ্ছে।

সে কী ভুল করেছে ও বাড়ি ছেড়ে এসে? নিশ্চয়ই না।কেনো পড়ে থাকবে ওখানে? লোকটার চোখে না ছিল তার জন্য মায়া,না ভালোবাসা আর না ভালোলাগা। এরপরও সে নিজের আত্মতুষ্টি এবং ওই মানুষগুলোর মনে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করতে থেকেছিল। কিন্তু সে ব্যর্থ!

জেসি উঠে আনমনে জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়ায়। আচ্ছা, জেসিকে বাড়িতে কোথাও না পেয়ে ডক্টর মেহরাব শাহরিয়ারের কী একটুও খারাপ লাগা কাজ করবে না?তখন উনার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? হুটহাট জানতে ইচ্ছে করল জেসির।সেসময় জিসান এলো দরজার কাছে।

“ বনু আছিস?”

জেসির ঠোঁটে হাসি ফুটল । দরজা মেলে জিসানকে একহাতে জড়িয়ে ধরে প্রফুল্ল মনে,

“ ভাইয়া!কী এনেছো দেখি?”–স্বেচ্ছায় ভাইয়ার হাতের প্যাকেট নিজের দখলে এনে বলল উচ্ছ্বাসিত মুখে, “ ও… আমার ফেভ্রেট আইসক্রিম।এত্তোগুলো লাভ অনলি ফর ইয়্যু।”

জেসিকে আগলে রেখে জিসান রুম থেকে বেরোতে বেরোতে জানতে চাইল, “ মন খারাপ?”

ছোট ছোট চোখে ভাইয়ার দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে সে বলল , “ মন খারাপ! তুমি আজ পর্যন্ত দেখেছো জিসান সারোয়ারের একমাত্র বোন জেসিকা সিদ্রাত কখনো মন খারাপ করে বসে থেকেছে?”

“ রাইট।কিন্তু এটাও মানতে হবে যে- জেসিকা সিদ্রাত এখন শুধু জিসানের বোন নয়, কারো ঘরের ঘরণীও হয়।যাকে তিন দিন আগে ছেড়ে চলে এসেছে সে।মনে পড়ছে ও-বাড়ির কথা?”

জেসি ঠোঁট উল্টেপাল্টে চায়, “ আ’ম স্যরি ভাইয়া। আমিই তো নির্লজ্জের মতো লাফিয়ে ছিলাম এই বিয়েতে।ভুল করছি দেখে তোমার উচিৎ ছিল আমাকে শাসন করা।”

মাথায় ঠোঁট রেখে ছোট বাচ্চাকে ট্রিট করার মতো আদর দিয়ে জিসান বলল, “ যা হবার তা হয়ে গেছে, এখন মন খারাপ করে না বাচ্চা।দেখিস,সে আসবে তোকে নিয়ে যেতে!”

“ এমন কিছুই হবে না! উনি তো আমাকে পছন্দই করেননা।”–জেসি বিড়বিড় করল।

পিটপিট করে চোখ মেলে সুখ আশেপাশে নজর হাঁটিয়ে শিয়রে আম্মু আর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের চিন্তিত মুখশ্রী দেখতে পেলো।

“ জ্ঞান ফিরেছে মা? এখন কেমন লাগছে?মাথা ঘুরছে?”

উঠে বসে কপালে হাত রেখে মাথা ঝাঁকায় সুখ। বুঝায়- সে ঠিক আছে এখন।তামিজ সাহেব বর্ণ’র উপর গর্জে উঠলেন, “ কী হয়েছিল আমার আম্মু্র?তুই কী অনিষ্ট করেছিস ওর সাথে?”

বর্ণ বেডের কিনারে দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগে সেই কবে থেকেই সুখের দিকে চেয়ে।তামিজ সাহেবের কথায় নজর স্থির রেখেই বলল গম্ভীর স্বরে, “ সেটা তোমার আম্মুই ভালো এক্সপ্লেইন করতে পারবে।আস্ক হার!”

#চলবে🦋
||সুখ পাখির সাথে রকস্টার সাহেব কী অনিষ্ট করেছে আপনারাই চাচ্চুকে বলে দিন রিডার্স 💜

আর হ্যাঁ অবশ্যই অবশ্যই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন। কেমন? ভালোবাসা নিবেন!||

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here