#আমার_বোবাফুল(৬৪)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্
হাঁটু জড়িয়ে মুখ লটকে বসে আছে সুখ। নিঃশ্বাসটাও ছাড়ছে আস্তে ধীরে, যেনো শব্দ না ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। বর্ণ’র নজর তীক্ষ্ণ, কাউচ থেকে নিচ ঠোঁট কামড়ে সুখকে পরখ করতে ব্যস্ত। আকম্মাৎ উঠে এসে হুটহাট সুখের মুখোমুখি ঝুঁকে বলল হিসহিসিয়ে, “ এতোদিন নিজের কাছে রেখে এই শিক্ষা দিয়েছি তোকে?
ইয়্যু আর অ্যা ব্যাড স্টুডেন্ট ফুল।আ’ম ফিলিং অ্যাশেইমড অফ মাইসেল্ফ।এতো এতো ক্লাস সব বৃথা প্রমাণ করে দিলি এক নিমেষেই?তোকে তো এবার শাস্তি পেতে হবে বউ!বল কী শাস্তি দেয়া যায়?”
মুখ অন্যত্র ঘুরিয়ে আড়চোখে চায় সুখ।এতে তার কী দোষ?ভোর থেকে প্রচুর মাথা ঘুরছিল, তার উপর বর্ণ’ কাছাকাছি আসায় হৃদস্পন্দনের বেগ, শরীরের অস্বাভাবিক কাঁপুনিতে মস্তিষ্ক মাত্রাতিরিক্ত চাপ সইতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে!নয়তো এতো দিন এই বেপরোয়াটাকে দিব্যি সামলেছে না? ভাবতেই স্থান ভুলে লজ্জায় কুঁকড়ে গেল সে। পরক্ষণে সম্বিত ফিরতেই মুখটা আগের মতো দুঃখী দুঃখী করে স্ব ভাষায় জানতে চাইল, “ কী শাস্তি?”
সরু চোখে বর্ণ সুখের গতিবিধি লক্ষ্য করছিল।ফুল কীভাবে লজ্জায় নুইয়ে পড়ে, পরে আবার যে মুখের ভাবাবেগ পাল্টেছে তা নজর এড়ায়নি।কী ভেবে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল, “ কিস… কিস মি নাউ!”
চোখ পাকিয়ে পাথর বনে, তড়িৎ মাথা পিছিয়ে নিয়ে বেডের হেড বোর্ডে ঠেসে গেল সুখ।বুঝায়, “ আমি পারবো না।এটা আপনার কাজ!”
সঙ্গে সঙ্গেই ঝুঁকে গেল বর্ণ।সুখের কোমরের পাশাপাশি বেডে হাত রেখে এক হাঁটু ভেঙ্গে তার একদম নিকটে চলে এলো। দূরত্ব খুব বেশি বাকি নেই আর। ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁই।সুখ দম আটকে ঢোক গিলল। আসফিয়ান বর্ণ’র নিঃশ্বাস আঁচড়ে পড়ছিল মুখে।বর্ণ বলল, “ ও-ওহ্, সব সময় আমিই আদর করব আর তুই বারবার চুপচাপ ভোগ করবি? ফিডব্যাক দিবি না? আন-গ্রেটফুল?”– বলা শেষে অধর পাপড়ি জোড়া সুখের অধর ছুঁয়ে যায়। সজোরে চোখ খিচে বর্ণ’র চুল খামচে ধরে মেয়েটা।এতে বর্ণ থামল না বরং দ্বিগুণ বেপোরোয়া হলো। অতঃপর দীর্ঘ এক চুম্বন শেষে বৃদ্ধাঙ্গুলিতে ঠোঁট মুছে বলল , “ এবার রিটার্ন কর আমার কিস!”
সুখের দিকে গাল রেখে অন্যদিকে এমন ভাবে রোবটিক ম্যান হয়ে চেয়ে রইলো, দেখে মনে হলো এখানে সুখের অস্তিত্ব সম্পর্কে তার কোন ধারণায় নেই।সুখ হাঁসফাঁস করে হাতে হাত ঘঁষে ড্যাবড্যাব করে নজর তুলে। যতোক্ষণ নিজের চাওয়া, পাওয়ায় পরিণত না হচ্ছে ততোক্ষণ অসভ্য পুরুষটা এক ইঞ্চিও নড়বে না, এই কয়দিনে সেটা বেশ ভালোই আয়ত্ত করেছে সুখ।মুখটা বাড়িয়ে এনে টুপ করে বর্ণ’র গালে ঠোঁট ছুঁয়ে সরে গেল সে।চোখ খিচে নিতেই পুরুষালী কন্ঠটি কর্ণকৌঠরে পৌঁছে গেল, “ হয়নি।আই ওয়ান্ট লিপ লক!”
সুখের দিকে না চেয়েই বর্ণ আওড়ালো বাক্যটি। নিজের এক কথায় সে স্থির।সুখ উঁকি দেয়ার মতো একবার বর্ণ’র মুখাবয়ব দেখার চেষ্টা করে।মুখটা ফ্যাকাসে।একটু আগের মতো জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ভালো লাগত, কিন্তু হারাচ্ছে না তো!
উপায়ান্তর না পেয়ে কাঁপা হাতটা বাড়িয়ে ধীরে বর্ণ’র কলার চেপে নিজের দিকে ঘুরিয়ে, অপর হাতে গলা পেঁচিয়ে চোখ বুজে ঠোঁটের ঠোঁট ছুঁয়ে দিল।এই যাত্রায় আসফিয়ান বর্ণ সকল দূরত্ব ঘুচিয়ে সুখ সমেত ঢলে পড়ল বেডে।আসফিয়ান বর্ণ’র ভাষায়- অল্প আদর ভাগাভাগিতে মত্ত হলো দু’টো অস্তিত্ব।আর সাক্ষী হিসেবে নির্লজ্জের মতো স্থির চেয়ে রইলো চার দেয়াল।
এক মূহুর্তের জন্য ঘোরে চলে গিয়েছিল দুজন। সুখের হঠাৎ মনে পড়ল খানিক পর মাহিরের পরিবার আসবে। সেখানে তাকে থাকতে বলা হয়েছে।সুখ ছটপট শুরু করে ছাড়া পেতে। কিন্তু পুরুষালী বাঁধন থেকে মুক্তি পাওয়ার শক্তি নেই।ফুলের এই নড়ছড় বর্ণকে বড্ড বিরক্তি এনে দিচ্ছে।মুখ তুলে চোখ রাঙিয়ে তাকায় সে, “হোয়াটস রং উইথ ইউ?দেখছিস না আমি ব্যস্ত?”
•
তুহফার বিয়ের আয়োজন চলছে পুরোদমে।হাতে গুনা কয়েকটা দিন বাকি আছে কেবল।এরইমাঝে মাহিরের সাথে কথা হয়েছে মাত্র একবার।তাও বেশি নয়- স্বাভাবিক দুয়েকটা কথা আদান-প্রদান। যেখানে বেশিরভাগ সময় তুহফা নিরব শ্রোতার ভূমিকা পালন করেছে।কাজিনগুলোও এবারে বড্ড নিষ্ঠুরতা করছে।তুহফাকে ফোনের কাছে আসতেই দিচ্ছে না। ইতোমধ্যে মাহিরের ত্রিশাধিক কল প্রবেশ করেছে।প্রতিটি কলই কাজিনের কেউ না কেউ রিসিভ করেছে। মাহির লজ্জায় তুহফার সাথে একটু কথা বলার আবদার রাখতে পারে না শালীকাদের দুষ্টু ইঙ্গিতপূর্ণ কথার নিচে পিষ্ট হয়ে।
মাত্রই শপিং থেকে থেকে ফিরছে বিয়ের।আসার পর থেকে ইবরাত লক্ষ্য করছে তুহফা বার বার বুকে গলায় হাত মেজে লম্বা শ্বাস ছেড়ে কেমন অদ্ভুত হাঁসফাঁস করছে।ইবরাত বলল, “ এ্যাঁই আপু জিজুকে একপলক দেখে বুক চিনচিন ব্যথা অনুভব করছো নাকি?”
তুহফা অপ্রস্তুত হেসে গোসল করার বাহানা দেখিয়ে রুমে চলে গেল।তার যাওয়ার পানে চেয়ে রয় বাকিরা।রুশ্মিতা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললো, “ আপুর বিয়ের ড্রেসটা দেখো আগে। সুখের মতো এবারও কাটাকুটি করা নাকি চেক দাও একবার!বলা তো যায়না!”
রুমে প্রবেশ করে প্রথমে ঢকঢক পানি গিলল তুহফা। আয়নায় সামনে নিজেকে পরখ করে লজ্জায় মুখটা নইয়ে নেয় একসময়।মলে তখন গরম লাগছিল প্রচন্ড। একাই ওয়াশ রুমে গিয়ে মুখে পানি ছিটা দিয়ে বের হলো তুহফা।জানা ছিল না, শুরু থেকেই মাহিরের নজর তার উপর। ওয়াশ রুমের দরজা খুলতেই হঠাৎ মাহিরের আগমন ঘটে। এরপর কিছু বুঝে উঠার আগেই লোকটা এসে তাকে জড়িয়ে ধরল, তারপর কপালে কপাল টোকা দিয়ে কানে কানে
বলল, “ বোনেদের সাথে মিলে আমাকে হেনস্থা করতে বেশ মজা পাচ্ছো, না?মনে রেখো, বিয়েতে বেশি দেরি নেই। সেদিন সময় কিন্তু আমার পক্ষে থাকবে। ‘আমার’ মানে বুঝতে পারছো কিছু?”
পরপরই হতভম্ব তুহফার কপালে আলতো আঙুলে ঠেলে হেসে বেরিয়ে গেল।সে তো চোখের আড়াল হয়ে গিয়েছিল তখন, কিন্তু তুহফাকে দিয়ে গেছে এক বুক ধুকপুক আর পানির পিপাসা। বুকে হাত চেপে ফোঁস শ্বাস ছাড়ে তুহফা।সুখকে অনেকদিন পর কাছে পেয়ে বাচ্চাদের মতো ঝরঝর কেঁদে দেওয়া রুবাইয়্যাতের মুখশ্রীটা চোখের তারায় ভাসতেই অন্যমনস্ক হলো হঠাৎ। ইশশ্…আজকের এই দিনে তার বাবা-মা যদি পাশে থাকতো! বিদায় বেলা বুকের মানিককে অন্যঘরে পাঠাতে বাকি মায়েদের মতো খুব কাঁদতো নিশ্চয়ই? এখন কে কাঁদবে তার জন্য?
•
রুম জুড়ে জেসির শূণ্যতা অনুভব করছে মেহরাব। কেনো যেনো সে আশায় থাকে- জেসি এখনি রুমে আসবে।তাকে কাজে ব্যস্ত দেখে মুখ বাঁকিয়ে বেডে বসে নিজে নিজেই পরোক্ষভাবে উষ্কানি মূলক বার্তা ছুঁড়ে বিড়বিড় করে তাকে রাঙিয়ে দেবে। বিনিময়ে সে কিছু বললেই মুখে মুখে তর্ক শুরু করবে।…
কিন্তু এসব কিছুই হয়না। মেয়েটা একবারও আগের মতো আসেনা।তবে ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে ঠিকই এসে রোজ জিজ্ঞেস করে যায়, “ এই যে মিস্টার অ্যারোগেন্ট!আমাকে ছাড়া নিশ্চয়ই বিন্দাস আছেন?মিস করার মতো ভুলটা করছেন নাতো? সাবধান!”
এমন আরও কতো কথা। কিন্তু মেহরাব জবাব দিতে চোখ খুলতেই দেখে- জেসি কোথাও নেই। মাত্র যা দেখেছে, শুনেছে তা নিছকই ভ্রম।আজও তাই হলো। মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল মেহরাবের।পাশে জেসি নামের ইডিয়ট মেয়েটা না থাকায় খালি খালি লাগছে, অযথাই বিরক্তিকর ঠেকছে সবকিছু। একগ্লাস পানি পান করে উঠে ছাদে চলে এলো সে।
একেকটা সিঁড়ি চাপিয়ে ছাদে পা রাখতেই থেমে গেল আবার।আপুও এখানে!
মায়রা দোলনায় বসে।মীরাভ আরামে ঘুমিয়ে আছে তার কোলে।মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে ক্ষণে ক্ষণে চুমু আঁকছে সে।অথবা কখনো কখনো দূর আকাশের দিকে চেয়ে চাপা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে।গত কয়দিন আগে এক বিদেশিনী এসেছিল ছয় বছরের এক বাচ্চার হাত ধরে, জোসেফের খোঁজে। নিজেকে জোসেফের ওয়াইফ দাবি করছিল রমণী।তবে জোসেফকে অন্য এক বিদেশি নামে সম্বোধন করছিল, মায়রার এতো খেয়াল নেই। কিন্তু হাসবেন্ড বলে যেই ছবি রমণীটি দেখিয়েছে, তাতে জোসেফই ছিল। ছবিতে তারা পরষ্পরকে কতো গভীর ভাবেই না আঁকড়ে ধরেছিল।ঠিক মায়রার কাছে এলে যেভাবে ধরত জোসেফ। তখন মনে হতো- এই মানুষটির মতো কেউ ভালোবাসতে পারবে না তাকে। জীবনসঙ্গী হিসেবে সে সঠিক মানুষই নির্বাচন করেছে। অথচ ভাগ্য! ভাগ্য কতো নিদারুণ ভাবেই না তার ভাবনা ভুল প্রমাণিত করে দিল।হায়… মানুষ কতো নিখুঁত অভিনেতা। আচ্ছা, সে যে এতো গুলোকে মেয়ের সাথে এমন নিকৃষ্ট ছেলেখেলা করল, পরিশেষে এতে তার কী লাভ হলো ?
ভেতর থেকে অস্বস্তিদায়ক হাহাকার মিশ্রিত দীর্ঘশ্বাস ব্যতীত অন্য কোন জবাব পেলো না মায়রা। পিছু থেকে সেসময় ডাক ভেসে আসে, “ আপু ঘুমোও নি?”
বলার ফাঁকে দোলনায় ধাক্কা দিল মেহরাব।অদূর থেকে আপুর চোখের ছলছলে জল প্রত্যক্ষ করেছে সে। এখন তার উদ্দেশ্য আপুকে হাসানো।মায়রা সত্যিই হেসে ফেলল। একহাতে মীরাভ ও অপর হাতে দোলনার শেখল ধরে বলল হেসে, “ কী বাচ্চামো করছিস ভাই?পড়ে যাবো তো!”
মেহরাব ঘুরে এসে বোনের পাশে বসে আস্তে আস্তে দুলে দুলে বলল, “ যতোদিন তোর ভাই বেঁচে আছে।পড়ে যাওয়ার আগেই বারবার আগলে নেবে ততোদিন!”
“ আমি জানি সেটা।”–একটু নিরবতা। এরপর মায়রা বলল ধীর গলায়, “ জেসিকেও তার ভাই নিজের চেয়ে বেশী ভালোবাসে।”
মেহরাব মুখ গম্ভীর করে বলল, “ এতে আমার কী!”
“ ভাইয়ের কাছে সে তোকে পছন্দ করে চেয়ে বসেছিল!”
“ সো হোয়াট!এমন নির্লজ্জও পৃথিবীতে আছে জানতাম না!”
হঠাৎ হাসি পেলেও মায়রা হাসল না।বলল, “ নিয়তিতে এটাই হয়তো হওয়ার ছিল।”–এরপর পুণরায় বলে, “ ওকে মনে পড়ছে না তোর? আমার তো খুব পড়ছে।”
আড়চোখে ভাইকে দেখে মায়রা।সে ঢের বুঝতে পারে- জেসিকে শুধু মেহরাবের মনে পড়ছে না,মন-ও পুড়ছে!তবে স্বীকার করতে নারাজ।
মেহরাবের প্রত্যুত্তর না পেয়ে মায়রা আবার বলল,“ জেসি নেই আজ নয় দিন।”
•
জিসান ল্যাবে বসে। কিছু টেস্ট করাতে দিয়েছিল ল্যাব ডক্টরকে।আজ রিপোর্ট আসবে। রিপোর্ট পেয়ে ক্ষণকাল স্থির বসে রইলো সে।মনে মনে অসংজ্ঞায়িত কিছু বিড়বিড় করে রিপোর্টে ধীরে ধীরে নজর বুলিয়ে অল্পক্ষণ পর ধপ করে চেয়ারে বসে চোখ বুজে। এরপর তড়িঘড়ি করে সিয়ামকে কল করে বলল শুধু, “ বেজি না থাকলে ল্যাবে আয়।”
সিয়ামের আসতে ঘন্টা খানেক লাগবে জানিয়েছে। জিসান নিজের বরাদ্দকৃত কেবিনে চলে এলো।এটা ‘ আই গ্যাং’ কানেক্টেড ল্যাব। গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ সেরে নিজের পার্সোনাল ল্যাপটপ ওপেন করল সে। বোনের সময় কীভাবে কাটছে একবার দেখে নেবে, ফ্ল্যাটে সিসি ক্যামেরা রয়েছে।জেসিকে সঙ্গ দিতে মিহিকা এসেছিল দু’দিন হবে।আজ সকালে চলেও গেছে।
টিভি ছেড়ে সোফায় শুয়ে,বসে দেখছে জেসি।ক্ষণে ক্ষণে সোফার হ্যাডরেস্ট পা তুলে দিচ্ছে।মুখটা অসন্তুষ্টিতে কুঁচকে সময় সময় এদিক ওদিক কুশনও ছুঁড়ে মারছে।মায়াময় চোখে চেয়ে রইল জিসান।তার চোখে বোন এখনো ছোট্ট বাচ্চাটি। অপরিণত বয়সে মেহরাবের হাতে জোরপূর্বক তুলে দেওয়ার অন্যতম এক কারণ এটাই।এই যে একা একা সময় কাটাতে জেসির কতো কষ্ট, বিরক্তি লাগছে।সেই জ্ঞান হবার পর থেকেই তার অনুপস্থিতিতে এমন কাটে জেসির।আর কতো বছর কাটানো যায় এমন?এমনি এমনিই মেহরাবের হাতে জেসিকে দেয়া হয়নি কিন্তু। এর পূর্বে তার পুরো জানকারী উদ্ঘাটন করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঁচ বন্ধু মিলে।যেই পাঁচ বন্ধু পরষ্পরের সাথে পরষ্পর ওতোপ্রত ভাবে জড়িত। তাদের মধ্যে চীফ – আসফিয়ান বর্ণ!
জেসিকে আরও কিছুক্ষণ দেখে ফোন বের করল জিসান।মিহিকাকে টেক্সট পাঠালো-
“ সন্ধ্যায় রেডি থেকো।আমি নিতে আসবো।”
রিপ্লাই এলো, “ কোথাও যাচ্ছি আমরা?”
“ বেশি দূরে নয়। ঘুরেফিরে বনুর কাছেই।”
—
কলিং বেল বাজতেই জেসি খুশিতে লাফ দিয়ে উঠলো।একা একা দিন কাটছিল না। নিশ্চয়ই ভাইয়া অথবা মিহিকা বেবী এসেছে। উচ্ছ্বাসে পিপহোলে কে এসেছে না দেখেই জেসি দরজা খুলে। এরপর সামনের মানুষটিকে দেখে মুখের উচ্ছ্বাস মূহুর্তেই কর্পোরের মতো উবে গেল।হতবাক হয়ে অস্ফুট স্বরে বলল, “ আ-আপনি!”
(কে এলো জেসির দোয়ারে?)
#চলবে🍂
||ঈদ মোবারক 🌙||

