#জেন্টাল_মনস্টার
#লামিয়া_রহমান_মেঘলা
#পর্ব_২৬
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
“বল কার হয়ে খবর নিচ্ছিলি? কার হয়ে….”
আদ্রিসের চিৎকার শুনে আধমরা লোকটা কেঁপে উঠলেন। মাটিতে মাথা নুইয়ে দিয়ে দু হাত জোড় বেঁধে বললেন,
“ক্ষমা করে দিন। আমার কোন দোষ নেই। আমাকে আপনার পিতা পাঠিয়েছিলেন।আপনার এ দেশে কোন সমস্যা না হোক সেটা দেখতে বলেছিলেন।”
আদ্রিস, শান্ত নয়নে তাকিয়ে আছে। রেভেন বোঝার চেষ্টা করছে আদ্রিসের হাবভাব৷
“বিশ্বাস করুন আপনার বাবা আপনার সিকিউরিটির জন্য আমাকে রেখেছিল৷”
আদ্রিস, এবার সোজা তার বাবার মুখের দিকে তাকায়।
আসরাফ খান এতক্ষণ তামাসা দেখছিলেন।
“আদ্রিস আমি তোমার ড্যাড। এত বড় শত্রু ভেবে বসে রেখেছো আমাকে?”
আদ্রিসের কোন হেলদুল নেই। সে ডেক্স থেকে টিস্যু নিয়ে হাতের রক্ত পরিষ্কার করে নেয়।
“রেভেন লেট’স গো।”
আদ্রিস বেরিয়ে যায়। রেভেনও পিছু পিছু যায়।
আসরাফ খান বাঁকা হাসেন,
“তুই আমারই বাচ্চা আদ্রিস বাপ নস। আমি তোর থেকে অবশ্যই কিছুটা এগিয়ে আছি৷”
আসরাফ খান ডিটেকটিভ পাঠিয়েছিলেন আদ্রিসের পেছনে ঠিকই কিন্তু এই লোকটা আসলেই আদ্রিসের সিকিউরিটি পার্পাসে ছিল। আদ্রিসের ইনফরমেশন এই লোকটা কখনোই আসরাফ খানকে দেয়নি।
——-
খান মেনশন,
বাগানের রোদে বসে বই পড়ছে আদ্রিতা৷
কিছুদিন পর পরিক্ষা। ফাস্ট ইয়ারের ইয়ার ফাইনাল। আজ বাড়িতে কেউই নাই। সবাই সকাল সকাল নিজের কলেজ, ভার্সিটির এবং অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গিয়েছে। আদ্রিসও নেই সকাল সকাল সে নিজের কাজে বেরিয়েছে।
থাকার মধ্যে মাধবী বেগম আর আদ্রিতাই আছে।
তবে মাধবী বেগমের সাথে আদ্রিতার সকাল থেকে কথা হয়নি।
আদ্রিতা বইয়ের দিকে তাকিয়ে গত কিছু দিনের কথা ভাবছে। আদ্রিসের কেয়ারিং গুলো তার কাছে অন্যরকম লেগেছে। এ এক অসাধারণ অনুভুতি। আদ্রিতা ব্লাস করছে মাথা নুইয়ে।
গাল দু’টো ওর লাল হয়ে গিয়েছে।
“কি নিয়ে লজ্জা পাচ্ছিস একা একা?”
হটাৎ পেছন থেকে মাধবী বেগমের কন্ঠ শুনে ফিরে তাকায় আদ্রিতা।
“বড় মা৷”
মাধবী বেগম এগিয়ে যায়৷
“হ্যাঁ আমি। আদ্রিতা, কি ভাবছিলি?”
“আমি কি ভাববো৷”
মাধবী বেগমের হাব ভাব ভালো ঠেকছে না তার। কেমন অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে তার দিকে৷
মাধবী বেগম আদ্রিতার পাশে বসলেন,
“এখানে ভালোই রোদ বল? ”
“জি।”
“পরিক্ষাত চলেই এলো। তা প্রিপারেশন কেমন?”
আদ্রিতা বইয়ের দিকে মাথা নুইয়ে নিলো,
“জি ভালো।”
মাধবী বেগম হাসলেন। ফোন বের করে একটা ভিডিও অন করে আদ্রিতার সামনে রাখলেন।
ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় আদ্রিস যে একটা লোক কে টেবিলের সাথে মারছে বারংবার।
আদ্রিতার চোখ বড় বড় হয়ে যায়৷
আদ্রিসের এমন ভয়ানক রূপ সে দেখেনি।
“এ এগুলো কি ব বড় মা?”
মাধবী বেগম কান্না করে দিলেন।
“আদ্রিতা কিছু মনে করিস না মা। তোকে আমরা ভালোবাসি না সেটা নয়। আমার ছেলেটা আসলে একটা গুন্ডা। ও একটা মাফিয়া সব থেকে বড় কথা ও একটা সাইকো। মানুষ কে মারা ওর ডান হাতের খেলা। তোকে ওর থেকে এই জন্য দুরে রাখতে চেয়েছিলাম আমি। জানিস তুই এই জন্য ও তোর চাচাকে সে দিন মারতে পর্যন্ত গেছিল৷”
“কোন দিন?”
“যে দিন তোকে ধাক্কা মেরেছিলাম। আমার সোনা মেয়েটা ব্যাথা পেয়েছিলি কি?”
আদ্রিতার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। এসব সে মানতে পারছে না। তার কেমন লাগছে।
“আদ্রিতা, তোকে বাঁচানোর জন্য তোর চাচা জীবন পর্যন্ত দিতে গেল। কিন্তু আদ্রিসের থেকে তোকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। তুই যদি এখন চলে না যাস তবে আদ্রিস হয়ত তোর অজুহাতে আরও কত মানুষকে মেরে ফেলবে। এটা ওর নেশা। তুই আমার ছেলেটার ভালো চাস মা। এই জন্যই সে বার আদ্রিসকে পাঠিয়ে দিয়েছিল বিদেশ তোর চাচা৷”
“তাহলে আপনি আমাকে কেন দোষ দিয়েছিলেন বড় মা? ”
মাধবী বেগম রেগে যাচ্ছেন তবে তিনি চুপ থাকলেন। ধৈর্য ধরে বললেন,
“মায়ের মন মা। খচখচ করে।”
“আপনি কাঁদবেন না বড় মা৷”
“আদ্রিতা কি করব আমি তুইই বল?”
আদ্রিতা, মাধবী বেগমকে জড়িয়ে ধরে,
“কি চাইছেন আমি সেটাই করব৷”
“পালিয়ে যা।”
“কিন্তু কোথায়?”
“ওই তোদের প্রাক্তন স্কুলের কাছে একটা গাড়ি আছে। ওই গাড়িতে করে চলে যা। তোর চাচা আর বাপ মিলে ঠিক করেছে। গাড়িটা তোকে একটা বাড়িতে নিয়ে যাবে।”
আদ্রিতা সরে আসে,
“কোথায় নিয়ে যাবে?”
“নিয়ে যাবে তোর এক খালার বাড়িতে। ওখানে কিছু দিন থাক। আদ্রিস আর ১৫ দিনের মত আছে। ও চলে গেলে তোকে নিয়ে আসব৷”
“বড় মা।”
আদ্রিতার কন্ঠ কাঁপছে। চোখ বেয়ে পানি পড়ছে টুপটুপ।
“আমি৷”
মাধবী বেগম, আদ্রিতার গাল দু’টো ধরে আলতো করে,
“আমাদের কথাটা ভাব আদ্রিতা। তোর চাচাকে কবেনা আদ্রিস মেরেই ফেলে। আমি তোর কাছে ভিক্ষা চাইছি। আমার আদ্রিসের কথাটাও বোঝ। একটা মা তোর কাছে আঁচল পেতেছে।”
আদ্রিতা, মাধবী বেগমের হাত ধরে বসে,
“এভাবে বলবেন না।”
“কি ডিসিশন নিলি?”
“আমি গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে?”
“হ্যাঁ আমার ছেলেটাও সব থামিয়ে দেবে। তুইও কিছুদিন পর ফিরে এলি।”
“আচ্ছা।”
মাধবী বেগম খাতা কলম দেখে আদ্রিতার হাতে দেয়,
“একটা চিঠি লিখে দিয়ে যা। ”
আদ্রিতা কাঁপা হাতে খাতাটা ধরল।
“লিখ আদ্রিস ভাইয়া আমি একটু খালাদের বাড়িতে যাচ্ছি। আমাকে কিছু দিনের জন্য খালামনি ডেকেছে। আমি দ্রুতই ফিরে আসব। আপনাকে বলতামই কিন্তু আমারত ফোন নেই।’
আদ্রিতা লিখে দেয় যা বলেন মাধবী বেগম।
মাধবী বেগম, আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরেন।
” ভালো থাকবি আদ্রিতা। ভালো থাকবি।”
——-
সারাটা দিন আদ্রিসের জন্য একটু চাপ ছিল। সায়ার রাশিয়া থেকে অনেক গুলো সমস্যা দিয়েছিল আদ্রিসকে। আদ্রিস সেগুলো ঠিক করে সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে ফেরে।
মেনশনে প্রবশ করতে না করতেই আদ্রিস লক্ষ করে তার ফোনে রানিং সিসিটিভি টা কাজ করছে না।
আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
কোন একটা সমস্যাত আছেই।
আদ্রিস দ্রুত পায়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
তার সাথে রেভেনকে ম্যাসেজ করে,
“এলার্ট থাক দু সেকেন্ডের ভেতর গাড়ি রেডি করবি৷”
আদ্রিস ভেতরে প্রবেশ করে।
মাধবী বেগম এগিয়ে আসতে যাবে তার আগেই আদ্রিস হন্তদন্ত হয়ে আদ্রিতার রুমের দিকে চলে যায়।
মাধবী বেগম পেছন থেকে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসলেন,
“এত পাগল।”
—–
আদ্রিতার রুমটা ফাঁকা দেখে আদ্রিসের বুকরে ভেতর ধক করে ওঠে।
সে আশেপাশে চোখ ফেরায়।
আদ্রিসের চোখ পড়ে একটা কাগজের উপর।
আদ্রিস কাগজটা হাতে নেয়।
“আদ্রিস ভাইয়া আমি একটু খালাদের বাড়িতে যাচ্ছি। আমাকে কিছু দিনের জন্য খালামনি ডেকেছে। আমি দ্রুতই ফিরে আসব। আপনাকে বলতামই কিন্তু আমারত ফোন নেই।”
আদ্রিস শব্দ করে হাসে।
তার হাসির শব্দে সব কিছু কেঁপে উঠছে।
আদ্রিস, আদ্রিতার রুমের প্রতিটা জিনিস ভাঙতে শুরু করে।
এদিক সেদিক থেকে কিছু বেঁচে নেই।
কিছু ভাঙার তীব্র শব্দ শুনে মাধবী বেগম শহ মাত্র বাড়িতে ফেরা প্রিয়াও এগিয়ে আসে। প্রিয়া, আদ্রিসকে সব ভাঙতে দেখে অবাক হয়ে যায়।
“ভাইয়া কি করছো? ভাইয়া থামো।”
আদ্রিসের চোখ দু’টো রক্তিম। সে প্রিয়ার দিকে তাকায়। প্রিয়া ভয় পেয়ে যায়।
“ভ ভাইয়া৷”
আদ্রিস হাতের কাগজটা প্রিয়াকে দিয়ে বেরিয়ে যায়।
লিভিং রুমে মাধবী বেগম ছিল। তার সামনে এসে বলে,
“মম, আই কেন বার্ন ইয়োর এন্টায়ার প্লান। জাস্ট ফর হার।”
আদ্রিস বেরিয়ে যায়। মাধবী বেগম তাকিয়ে থাকে,
“ছেলে তুমি আমার আদ্রিস৷”
আদ্রিস বেরিয়ে গেলে দেখে রেভেন দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি নিয়ে।
আদ্রিস গাড়িতে বসে।
“বস কোথায় যাব?”
“ড্যাড এর অফিস।”
আদ্রিস ফোন করে কাউকে রাশিয়ান ভাষায় কিছু বলে ফোন কেটে দেয়।
আদ্রিস সাইকোদের মত বাঁকা হাসে।
“মাই লিটিল র্যাবিট ডেয়ার টু রান ফ্রম মি? ফ্রম আদ্রিস খান?
জান, আমার আদ্রিতা তোকে ২৪ ঘন্টার ভেতর খুঁজে না পেলে আমি সব ধ্বংস করে দেব।
এক বার পাই তোর ছোট্ট পা দু’টোকে আমি কি করব আমি নিজেও জানিনা৷”
রেভেন ঘামছে। আদ্রিস ভীষণ রেগে আছে। এতে সে বুঝেত গিয়েছে আদ্রিতা পালিয়েছে। এই মেয়েকে পেলে আজ খবর আছে।
আদ্রিস মাথাটা গাড়ির সিটের সাথে ঠেকিয়ে দেয়। চোখ বন্ধ করে নেয়।
“রেভেন আমার ভিলায় যে সার্ভেন্ট আছে তাকে বল কিছু সিক আগুনে দিতে ।”
“ক কেন?”..
” যা বলেছি তাই কর।’
“ওকে৷”
চলবে?

