আকাশপ্রিয়া #পর্ব ৪০

0
41

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব ৪০
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ ]

চোখের পলকে সময় কেটেছে পুরো একটা মাস।এরই মধ্যে পাল্টেছে অনেক কিছুই।অয়ন শিয়া দুজনেই তাদের অসুস্থতার চূড়ান্ত দূর্গতি পারি দিয়ে এখন প্রায় সুস্থ। প্রিয়ার মাঝখানে অ্যাডমিশন ছিলো,এরইমধ্যে ভর্তির কার্যক্রমও শেষ হয়েছে।অয়নকে নিয়ে আসা হয়েছে চৌধুরী বাড়িতে,শিয়া প্রিয়া কে নিয়ে তার বাবা মা ফিরেছেন তাদের বাড়িতে।রাতুল,রাকিব রা সকলে কটেজেই থাকছে।
আকাশ এর হয়ে গেছে বেশি ব্যাস্ততা একবার ঢাকা একবার চট্টগ্রাম… যদিও শুধু এই ঘনঘন এখান থেকে ওখানে জার্নি! এটাই বেশি সমস্যা। তাছাড়া কাজের প্রেশার অয়নের অনুপস্থিতিতে রাতুলরা ঠিক সামলে নিয়েছে।ওদের মতো বন্ধু থাকতে আকাশের এতো প্রেশার হচ্ছেই না।তাদের প্রজেক্ট এর কাজ চলছে একদম পুরোদমে।

আকাশ বাড়ি এসেছে তিনদিন হলো।অয়নের কিছু চেকআপ করানোর ডেট ছিলো।কাল সকালে আবার চট্টগ্রাম এর উদ্দেশ্য রওনা দিতে হবে।অয়ন এখন বেশ হাঁটাচলা করতে পারছে।ওদিকে শিয়াও তাই।বিকেলে বেলা ছাঁদে চেয়ারে বসে কফি খাচ্ছে সে।রোদ পরে গেছে,গরমও তেমন একটা নেই।কানে এলো ভাইবোন দের হৈ চৈ এর আওয়াজ।সিড়ি বেয়ে আসছে সবগুলা হয়তো।হলোও তাই।কিছুক্ষণ এর মধ্যেই দেখা গেলো বোনগুলোকে।আরশি ছুটে এসে ভাইয়ের পাশেই বসলো।আয়াত,এরিন ওদের হাতে ফুলগাছ এর চারা।আরশি হাসিমুখে ভাইকে বললো,
____”বড়দাভাই আসছে।”

আকাশ আতকে তাকালো সিড়িকোঠার দিকে।কাউকে দেখতে পেলো না।আরশির দিকে প্রশ্ন সূচক তাকাতেই আরশি ব্যাস্ত হয়ে বললো,
____”আরাফ ধরে নিয়ে আসছে।লিফট এ।”

মাথা নাড়লো আকাশ।মিনিট পাঁচেক এর মধ্যে দেখা গেলো অয়নকে।বা পাশের হাত আরাফ ধরে আছে।অয়ন চোখমুখ কুচকে নিলো আলোয়।এতগুলো দিন সম্পূর্ণ ঘরের ভিতরে।বিধায় হুট করে দিনের আলো চোখে লাগছে।

আকাশ উঠে ভাইয়ের আরেকপাশের হাত ধরে নিয়ে এসে বসালো চেয়ারটায়।অয়ন আরাম করে বসলো।আকাশের দিকে তাকিয়ে মলিন হেসে বললো,
____”নিজেকো বয়ষ্ক বয়ষ্ক লাগছে বুঝলি।”

আকাশ নিজেও হাসে।আরশি ছটফট করে উঠে গিয়েছে বোনদের কাছে।আরাফকে কিছু একটা দরকারে হাতের ইশারায় ডাকছে।আরাফ উঠে গিয়ে যোগ দিলো তাদের সাথে। অয়ন আয়েশ করে বসলো,শব্দ করে।দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
_____”বিকেলটা সুন্দর বল?অভাবনীয় লাগছে।এ দুনিয়ার আলো আর যে দেখতে পাবো আশা ছিলো না।”

আকাশ ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে রয়।মুখে কিচ্ছু বলে না।তারা কি ভেবেছিলো অয়নকে ফিরে পাবে আবার তাদের মাঝে! যখন ডাক্তার শেষবার বললো পালস নেই তখন কি অবস্থা হয়েছিলো সবার ভাবা যায়!অয়ন ভাইয়ের মনের কথাটা যেনো ধরতে পারলো।ধীরে ধীরে ব্যান্ডেজহীন বাঁ হাতটা ভাইয়ের কাধে রাখলো।
____”হায়াত ছিলো বল!না হলে এতক্ষণে!”

অয়ন হাতের ইশারায় ওপরের দিকে দেখালো।আকাশ হেসে ফেললো।
____”যাই বলো ভয় কিন্তু পেয়েছিলাম ভাইয়া।”

অয়ন মৃদু হাসে।জানে সেটা সে।যখন জ্ঞান ফিরেছিলো তখন দেখেছিলো বাড়ির মানুষ এর আর্তনাদ। শিয়ার খোঁজ জানতে চাচ্ছিলো বারবার।প্রায় তিনদিন অবধি তাকে জানানো হয়নি শিয়ার কথা।যদি শিয়ার ওই অবস্থার কথা শুনে আবার ভালোমন্দ কিছু ঘটে!অবশেষে অয়নের অবস্থা যখন আরও একটু উন্নতি হলো আর আল্লাহর অশেষ রহমতে যখন শিয়াও বিপদমুক্ত হয়ে জ্ঞান ফিরলো তখন দুজনকে জানানো হয়েছিলো দুজনের কথা।শিয়ার এ অবস্থার কথা মাথায় আসলেই গা সিওড়ে ওঠে অয়নের।মেয়েটা কতটা মানসিক চাপের মধ্যে দিয়েই নাম গেছে।
সামনে প্রচুর ফুলের গাছ লাগানো। ভাইবোন গুলো আরও লাগাচ্ছে।আকাশ অয়নের দৃষ্টি ওদিকে হলেও মন দিয়ে একে অপরের কথা শুনছে।
____”কাল চট্টগ্রাম যাবি।”
____”হ্যা।মিস্টার ডিসুজা আসবেন। মিটিং অ্যাটেন্ড করতে হবে।”

মাথা নাড়ে অয়ন।শিয়াকে দেখে আসতে ভাইকে তার বলতে হবে না।আকাশ সমান তালে শিয়াকেও খেয়ালে রেখেছে,ট্রিটমেন্ট এর যাবতীয় দৌড়াদৌড়ি নিজেই করেছে।আকাশ স্বাভাবিক গলায় বললো,
____”শিয়ার বাবা মা তোমাদের বিয়ের কথা বলছিলো।”

____”শিয়াও বলছিলো।কিন্তু”

____”ওদের বাবা মা তো এক মাসের জন্য এসেছিলো।ছুটি শেষ।কোনোমতে আর তেরো দিনএর ছুটি ম্যানেজ করেছে।চাচ্ছিলো এর মধ্যে যদি তোমাদের বিয়েটা হয়ে যায় তাহলে নিশ্চিন্তে যেতে পারে তারা।

মুখচোখ ভার করে তাকালো আকাশের দিকে।
____”আমাদের বাড়িতে।কথা বলেছিস?”

আকাশ মাথা নাড়ে মৃদু হেসে।দু পরিবার এর সাথেই কথা হয়েছে তার।ছয় বছর আগে ঘটা ভুলবোঝাবুঝি ক্লিয়ার করেছে দু পরিবার এর কাছে সব প্রমান সহ।অপরাধবোধে তাদের মা আমিনা চৌধুরী এতদিন অয়নের সামনে শিয়ার কথাটা তোলেনি।আর না তো অয়ন নিজে তুলেছে।খানিকটা অভিমান থেকেই যদিও।আকাশের মুখে সেসব শুনে যেনো বুক থেকে পাথর নামলো।যখন শুনেছিলো সেদিন সত্যিই শিয়ার বিয়ে ছিলো।মনে হচ্ছিলো পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে তার।এত অসহায় সে বোধহয় এর আগে বোধ করেনি কখনো।সেদিন তার অভিমানীনি নিশ্চয় কতটা মানসিক যন্ত্রণায় ছিলো।হাসপাতাল।থেকে বাড়ি নিয়ে আসার পর তাদের সামনা-সামনি দেখা হয়নি।যা কথা হয় সব ভিডিও কলে।অয়নের তো ইচ্ছে করে ছুটে চলে যেতে।পারেনা শরীরের জন্য। যদিও এখন সে অনেকটা ফিট,তবুও আরও দু মাস টোটালি রেস্ট এ থাকতে হবে।আকাশ হেলান দিয়ে বসে চেয়ারে।ভাইয়ের দিকে ফিরে বলে,
____”মা বলেছে কাল শিয়ার বাবা মায়ের সাথেও কথা বলে আসতে।তাদের সুবিধা অনুযায়ী ডেট ফিক্সড করলে আমরা যাবো কথা বলতে।”

_____

শিয়া বিছানায় হেলান দিয়ে বই পরছিলো একটা।একগাদা শুকনো কাপড় ছাদ থেকে তুলে নিয়ে ঘরে ঢুকলো প্রিয়া। আলনার ওপর রাখলো সেসব।মাগরিব এর আজান হচ্ছে। জামাকাপড় পরে ভাজ করবে।বোনের পাশ এসে বসলো সে।
____”এখন শরীর কেমন?”
একগাল হাসলো শিয়া।বোনের গালে হাত রাখলো।
____”খুব ভালো।”
____”আর ভালো হবে।একটা সুসংবাদ আছে।”

শিয়া ভ্রু উচোয়।জিজ্ঞাসাসূচক প্রশ্ন করে।প্রিয়া ঠোঁট উল্টায়।বাঁকা গলায় বলে,
_____”আগে টাকা দে।”
_____”কিসের টাকা?”
_____”এত বড় সুসংবাদ দেবো।এটা পাওয়া আমার।”
_____”দে আগে।সুসংবাদ মনে হলে ভেবে দেখবো।”

প্রিয়া ভেঙ্গচি কাটে।বাঁকা গলায় বলে,
____”না দিলে খবর আছে।”
____”বেশ তো।আগে শুনি।”

প্রিয়া হাত বাড়িয়ো বালিশ টা কোলে এনে পা ভাজ করে বসলো।মাথার চুলগুলো খুলে দিলো।বিকেল করে গোসল করায় এখনো শুকায় নি চুল।গরমের মধ্যে ছাদে যাচ্ছিলো তাই বেধে রেখেছিলো।গম্ভীর গলায় বললো,
_____”অয়ন ভাইয়ের বাড়ির সবাই আসছে কাল।”

হা হয়ে গেলো শিয়া।আসছে মানে!কই একটু আগেও তো অয়নের সাথে কথ হলো বলেনি তো একবারও।
____”তোকে কে বললো?”

____”বাবা কথা বলছিলো আমি ছাদ থেকে আসার সময় শুনলাম।”

আর কিছু প্রশ্ন করার আগেই দরজায় কড়া পরলো।দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলেন আনিসুল রহমান আর রেনুকা রহমান।গোটা একটা মাস আনিসুল সাহেব মেয়ের থেকে দূরে দূরে থেকেছেন তীব্র অপরাধবোধে।মেয়ে ঘুমালে এসে বসে থাকতেন মাথার কাছে।আজকে বাবা কে দেখে চোখে পানিই চলে এলো শিয়ার।আনিসুল রহমান চেয়ার টেনে মেয়ের কাছে বসলেন,রেনুকা বিছানায়।
মেয়ের মুখে দিকে তাকিয়ে অসহায় গলায় বললেন,
____”বাবার ওপর এখনো রেগে আছো মা?”

কেঁদে ফেললো শিয়া।দুদিকে মাথা নাড়লো সজোরে। মাথায় হাত বুলালেন তিনি।
____”ক্ষমা করে দিয়ো আমাকে।সেদিন আমার জন্য অত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেলো…”

শিয়া বাবার দু হাত নিজের মুঠোর মধ্যে নিলো।কোনোমতে কান্না থামিয়ে বললো,
____”তোমার কোনো দোষ নেই বাবা।এ পৃথিবীতে আমার যদি সবচেয়ে কেউ ভালো চায় সেটা তুমি আর মা।একটা বোঝার ভুল ছিলো ওটা।কোনো দোষ করনি তুমি বাবা।”

আনিসুল রুহমান মাথা নিচু করে চোখ মুছলেন।মেয়ে যতই বলুক না কেনো নিজেকে সে ক্ষমা করতে পারেনা।খোদা না করুক সেদিন যদি ছেলেমেয়ে দুটোর কিছু হয়ো যতেো কি করে ক্ষমা করতেন তিনি নিজেকে!পারতেন!নিজেকে স্বাভাবিক করে নরম গলাতে বললেন,
____”একটা জরুরি কথা বলার জন্য এসেছি।”

একপলক প্রিয়ার দিকেও তাকালেন তিনি।শিয়ার আগ্রহ চোখে তাকালো বাবার দিকে।আনিসুল সাহেব খানিক গলা পরিষ্কার করে বললেন,
_____”আমার যাওয়ার সময় হয়ে এলো মা।তুমি যদিও সুস্থ। আমি চাই যাওয়ার আগে তোমাকে অয়নের হাতে তুলে দিয়ে যেতে।আমাদের ফিরতে ফিরতে দু বছর।অয়নের পরিবার ও চাচ্ছিলো আরকি।ওরা কিছুক্ষণ আগেই ফোন করেছিলো।ওরা কাল আসতে চাচ্ছে।বিয়ের কথা বার্তা এগোতে।যদিও আকাশ কাল আসতে চেয়েছিলো।তবে ওরা ফোন করে জানাতেই আমার তাড়াহুড়োর কথাটা জানালাম ওদের। ওরা সপরিবারে কাল আসতে চায়।”

শিয়া মাথা নোয়ায়।নরম গলায় বলে,,
____”তোমাদের যা ভালো মনে হয়,যেদিন মনে হয় করো।আমার সমস্যা নেই।”

____”তা বললে তো হয়না মা।এই প্রশ্ন টা না করেই তো এত বড় বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছিলাম তোমাদের। এক ভুল আমি বারবার করতে চাইনা।”

শিয়া মৃদু হাসে।রেনুকা রহমান আচলে চোখ মোছে সেসব দিনের কথা মনে করে।প্রিয়া বোনের হাত জড়িয়ে বসে।
____”বাবা বার বার এককথা তুলে আমাকেও সমান অপরাধি করে দিচ্ছো তোমরা।এসব কথা আর তুলবে না কেউ।প্লিজ।”

আলতো মাথা নাড়ে দুজনেই তুলবে না।কালকে অয়নরা পরিবার এর সবাই আসবে বিয়ের ডেট ফিক্সড করতে।সকাল সকালই রওনা দেবে।পৌছুতে যতক্ষণ আরকি।রাতে থাকার প্রয়োজন হবে। কটেজে থাকার ব্যবাস্থা করা হবে।তাছাড়া আনিসুল রহমান এর নিজের বাড়িও যথেষ্ট বড়।যা হবে কালকে পাকা কথা হয়ে যাওয়ার পর দেখা যাবে।

_____

পরদিন চৌধুরী বাড়ির সবাই এসে যখন পৌছুলো তখন অলরেডি সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।আনিসুল রহমান আগেই রাতুলদের দাওয়াত দিয়ে রেখেছিলো।সবকটা সকাল সকাল এসে হাজির।বাজার করে দেওয়া থেকে শুরু করে রাকা আর তুষি রেনুকা রহমান এর সাথে প্রায় সব রান্নাবান্নাও করে ফেলেছে।
বাইরে গাড়ির হর্নের শব্দে চকিত হলো বাড়ির সকলে।শিয়া ওপরের ঘরেই।প্রিয়া আর রিমি ওকে সাজাচ্ছিলো।রাকা আর তুষি নিচতলায় রেনুকা রহমান এর সাথে। রাতুল,রাকিব,রেদোয়ান সোফায় আনিসুল সাহেব এর সাথে গল্পে ব্যাস্ত।প্রিয়া ছুটে গিয়ে দাড়ালো বারান্দায়। তিনটে গাড়ি এসে থেমেছে বাড়ির সামনে।খুশিতে লাফাতে লাফাতে বোনের কাছে এলো।
____”চলে এসেছে আপু।”

শিয়া লাজুক হাসলো।রিমি শিয়ার শাড়ির কুচি ঠিক করে দিচ্ছে।প্রিয়া ঝটপট নিজের ফোন চেক করলো।কাল রাত থেকে আকাশের সাথে কথা হয়নি।সে বেশ কয়েকবার কল,মেসেজ করেছে।সে বান্দার রেসপন্স করার খবর নেই।সে যাগকে।এখন সেসব নিয়ে ভাবলে চলে!

_____

আনিসুল সাহেব রাতুলদের নিয়ে এগিয়ে গেলো অতিথি দের আমন্ত্রণ জানাতে।গাড়ি থেকে একেএকে নামলো সকলেই।আরাফ সবসময় অয়নের পাশাপাশিই থাকে।যদিও তাকে অতটাও ধরে রাখতে হয়না সবসময়। তবুও এতে বড় অ্যাক্সিডেন্ট,এইটুকু সতর্ক না থাকলে চলে!।
আকাশের বাবা শাহজাহান চৌধুরী এসে কোলাকুলি করলেন বেয়াই এর সাথে। অয়ন ধীরেসুস্থে নামলো গাড়ি থেকে।আনিসুল রহমান নিজে এগিয়ে গিয়ে বুকে জড়ালো তাকে।তারপর পরিবার এর বাকি সকলের সাথে কুশল বিনিময় শেষে বাড়ির ভিতর নিয়ে গেলেন।রাকিব, রাতুল রা আজকে মনে হচ্ছে পাত্রী পক্ষের লোকজন। ব্যাস্ত হয়ে আকাশের পরিবার কে আপ্যায়নে মন দিয়েছে। বন্ধুদের দায়িত্ববোধে হাসলো আকাশ।সবাইকে ইশারা করলো ভিতরে যেতে।সে ড্রাইভারদের গাড়ি পার্কিং করে দেখিয়ে তারপর যাবে ভিতরে।
গাড়ি পার্কিং করতে করতেই রাতুল দ্রুত পায়ে বেড়িয়ে এলো ভিতর থেকে।আকাশ ভ্রু উচুলো।
____”আসলি কেনো?”
____”ভাবলাম তোর কোনো সাহায্য লাগবে কি না..”
____”ফালতু বকিস না।কি বলবি ঝেরে কাশ।”

রাতুল ঘেষে দাড়ালো আকাশের কাছে।বাকা গলায় বললো,
____”বিয়ে টা কি অয়ন ভাইয়ের একার হবে?নাকি তুইও বউ নিতে এসেছিস…”

____”সে চিন্তা তোর করতে হবে না চল।”

গটগট করে ভিতরে গেলো আকাশ।পিছন পিছন ছুটলো রাতুল।দোতলার বারান্দার পর্দার ফাঁকে দাড়িয়ে এতক্ষণ আকাশকেই দেখছিলো প্রিয়া।ইশশশ কতদিন পর সামনাসামনি দেখলো লোকটাকে।অস্থির লাগছে বুকটা।আকাশের গায়ে অফ হোয়াইট শার্ট।নিজের গায়ের ব্লু ড্রেস চেঞ্জ করে দ্রুত অফ হোয়াইট একটা জামা গায়ে জড়ালো সে।আচমকা জামাকাপড় পাল্টানোর কারণ বুঝতে পারলো না কেউ।রিমি শিয়ার চুল ঠিক করতে ব্যাস্ত।শিয়াই ভ্রু উচুলো।
____”জামায় কি সমস্যা ছিলো।সুন্দর লাগছিলো তো।”
প্রিয়া আমতা আমতা করে।আকাশের কথা বলে হাসাহাসি করবে নিশ্চিত। মুখে বললো,

____”পরে আরাম পাচ্ছিলাম না তো।”

হুরমুড়িয়ে ঘরে ঢুকলো একগাদা মানুষ জন।আকাশের সব বোনেরা সব ছুটে এসেছে।রাকা নিয়ে এসেছে সবার সাথে। প্রিয়া নিজের লম্বা চুল চিরুনি করছিলো।শিয়াও তৈরি।চুপচাপ বসে বোনের রংঢ়ং দেখতে ব্যাস্ত,রিমিও তাই।আচমকা এতজন আসায় চমকেই গেলো।রাকা একগাল হেসে সবাইকে তাড়া দিলো ঘরে ঢোকার।আরশি ছুটে এলো সবার প্রথমে।একবার প্রিয়া আরেকবার শিয়ার দিকে তাকাচ্চে।কাকে ছেড়ে কাকে জড়িয়ে ধরবে এই ভেবে কুল পাচ্ছে না সে।বাচ্চাদের মতো চোখ টলটল করে উঠলো খুশিতে।তবে শিয়ার কাছেই আগে বসলো।
____”বড় বউমনি কেমন আছো তুমি এখন? “

শিয়া হেসে জড়িয়ে নিলো মেয়েটাকে।হাসপাতালে অয়নের বাড়ির সবার সাথে পরিচয় হয়েছে তাদের।আয়াত,এরিন, আরাফ ওরাও এসে দাড়ালো কাছাকাছি। শিয়া ওদেরও বসতে বললো।প্রিয়াকে টেনে কাছে আনলো ওরা সবাই।গল্প গুজবের মাঝে সবার প্রথমে প্রায় চিৎকার করে উঠলো এরিন,
____”ছোটবউমনি…তোমার ড্রেস আজকে একদম মিলে গেছে ছোট’দা ভাই সাথে জানো?”

রিমি,শিয়া তাকালো প্রিয়ার দিকে।প্রিয়া লজ্জাই পেলো।

______

নিচে বড়দের মধ্যে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। আগের বড়দের করা কিছু ভুলের জন্য বাচ্চাদের এই অবস্থায় অনুতপ্ত দু বাড়ির সকলেই।ক্ষমা চাওয়াচাওয়ির পর্ব বেশ দীর্ঘ হলো।আমিনা চৌধুরী তাকালেন রেনুকা রহমান এর দিকে।হেসে বললকন,
____”বউমাকে নিয়ে আসুন তাহলে।”

রেনুকা রহমান তুষির দিকে তাকাতেই তুষি মাথা নেড়ে ছুটলো দোতলায়।শিয়াকে নিয়ে নামা হলো ধীরেসুস্থে। অয়ন তাকলো সোজাসুজি। নেভি ব্লু একটা কাতানের শাড়ি জড়ানো গায়ে।মাঝারি চুলগুলো খুলে রাখা।মুখে তেমন কোনো প্রসাধনিই নেই।ফর্শা মুখে রাজ্যের মায়া।অয়নের বুকের বা পাশ টা থমকে রইলো।হা করে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।রাতুলই সর্বপ্রথম খেয়াল করলো সেটা।হালকা ধাক্কাও দিলো।ধীর গলায় বললো,
_____”ভাই, বড়রা সক্কলে আছে।আর কয়টা দিন সবুর করেন না হয়।”

অয়ন মৃদু হেসে দৃষ্টি সরালো।রাকা আর তুষি দুপাশ থেকে ধরে নামাচ্ছে শিয়া কে।পিছনে আকাশের ভাইবোনগুলো।আকাশের ব্যাস্ত চোখ চাতক পাখির মতো খুজলো কাউকে।রাতুল এবার বিরক্তই হলো।আকাশের দিকে ফিরে একই গলায় বললো,
____”তোরা দু ভাই এতো হ্যাংলা কবে থেকে হলি বলতো।এভাবে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছিস। মানসম্মান ডুবাবি চৌধুরীদের।শেষে বলবে পাত্রর নজর খারাপ, মেয়ে দেবো না।”

আকাশ বিরক্ত সূচক শব্দ করলো।রাতুল খানিকটা সরে এসে আবার সিড়ির দিকে তাকাতেই থমকালো।নিজের মুখটা হা হয়ে গেলো।
রিমি!কি মিষ্টিই না লাগছে মেয়েটাকো।আকাশ রাতুলের দৃষ্টি অনুসরন করে মনে মনে হাসলো।রাতুলের এ কথা রাকিবের মুখে শুনেছে।যদিও নিজে জিজ্ঞেস করার সুযোগ, সময় পায়নি।তবে এখন শোধ নিতে ভুললো না।এক হাত বাড়িয়ে রাতুলের হা হয়ে যাওয়া মুখটা বন্ধ করে দিতে দিতে বললো,
____”নজর টা একটু ঠিক কর।চৌধুরী বাড়ির ছেলেদের বন্ধুবান্ধব এতো হ্যাংলা এটা মানা যায়না।মানসম্মান এ লাগে। “
রাতুল বন্ধুর খোটা নির্বিকার এ সহ্য করে গেলো।নজর মোটেই সরালো না।মেয়েটা তার মাথা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিয়েছে বহু আগে।প্রেম কি না সেটা বুঝতে সময় লেগেছে আরও অনেকদিন। এখন এতে কোনো ভুল নেই।একদম নেই।

বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হলো।আংটি পড়িয়ে ফেলা হলো শিয়াকে।সামনে শুক্রবার ঘরোয়া আয়োজন এ বিয়েটা হবে।যেহেতু আনিসুল রহমান এর হাতে একদম সময় নেই,তাছাড়া সবে সবে এতো বড় ঝামেলা মুক্ত হলো তারা, এখন হৈ চৈ করার মতো অবস্থা নেই আরকি।একেবারেরও ছোটখাটো হবে না যদিও।নিজেদের বিশেষ, কাছের বন্ধুবান্ধবদের তো জানাবেই।যদিও এদিকে আনিসুল রহমানদের সেরকম কেউ নেই।একমাত্র বন্ধু আজগর সাহেব। তাকে নিশ্চয় তার না হওয়া ছেলের বউয়ের বিয়েতে আসতে বলা যায় না।দৃষ্টি কটু লাগে।

আমিনা চৌধুরী হঠাৎ কিছু বলার জন্য ইশারা করলেন।তার দিকে ফিরতেই তিনি এদিকওদিক তাকিয়ে বললেন,
_____”আমার আরেকটা প্রস্তাব আছে।বেয়াই সাহেব,যদি কিছু মনে না করেন কথাটা বলতে চাই।”

আনিসুল রহমান অত্যন্ত ব্যাস্ত হলেন।
____”এভাবে কেনো বলছেন।দয়া করে বলে ফেলুন।”

প্রিয়া কে খুঁজলেন তিনি।নরমগলায় বললেন,
____”আপনার ছোট মেয়ে কে দেখছি না?”

রেনুকা রহমান তাকালেন অদূরে দাড়িয়ে থাকা রিমির দিকে।রিমি ছুটলো প্রিয়াকে ডাকতে।আকাশের ওপর রাগ করে নিচে আসেনি সে।তবে ওপর থেকে পিলারের আড়াল থেকে সবই শুনছেন।তার কথা ওঠায় আঁতকে উঠে ঘরে ছুটলো এক দৌড়ে।রিমির যাওয়ার দিকে একনজর দিয়ে আমিনা চৌধুরী তাকলো নিজের স্বামীর দিকে।শাহজাহান চৌধুরী বললেন,
____”সোজাসুজিই বলে ফেলি কথাটা তাহলে।আমার ছোট ছেলে আপনার ছোট মেয়েকে পছন্দ করে।আমি আপনার ছোট মেয়েকে আমার ছোট ছেলের বউ হিসেবে নিতে চাই।”

বলাবাহুল্য সকলেই চমকে উঠলো।চৌধুরী বাড়ির সকলেও।কারণ বাড়ি থেকে আসার সময় এমন কোনো কথাই হয়নি।বরং আকাশ বারবার মা কে নিষেধ করেছিলো তার বাবা কে এখিনই সব না জানাতে।রেনুকা আর আনিসুল সাহেব বড্ড চমকালেন।চোখাচোখি হলো দুজনের।তারা মোটেই আন্দাজ করেননি এমনটা।তবে আপত্তি নেই তাদেরও।আপত্তি করার মতো ছেলে এরা নয়।এদের মতো ছেলে লাখে একটা।কিন্তু… আনিসুল সাহেব অতি বিনয়ের সাথে বললেন,
_____”আমার কোনো আপত্তি নেই বেয়াই।কিন্তু… কিন্তু আমার মেয়েটা তো ছোট আসলে।সবে অনার্স এ ভর্তি হলো।বড্ড ইমম্যাচুয়র।তাছাড়া…”

খানিক দম নিলেন তিনি।সকলের দিকে একবার নজর বুলিয়ে নিয়ে বললেন,
_____”আমার খুব স্বপ্ন আমার দু মেয়েকে খুবই ধুমধামে বিয়ে দেবো।আমার কিছু ভুলে আমার বড় মেয়ের সেটা করতে পারছি না।তবুও যতটুকু সময় পাচ্ছি আমার দিক থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা থাকবে,কিন্তু প্রিয়াটা একদিকে ছোটও।অন্য দিকে আমাদের এতো তাড়াহুড়োর মধ্যে দু দুটো মেয়েকে বিয়ে দিয়ে না জামাইদের ঠিক মতো আপ্যায়ন করতে পারবো আর না তো আয়োজন মন মতো হবআে।আমি চাই অন্তত দুইটা বছর যদি…”

আকাশ এবার কথা বলে উঠলো।গম্ভীর গলায় বললো,
____”আংকেল এতো চাপ নেওয়ার কোনো দরকার নেই।প্রিয়ার ক্যারিয়ার সবে শুরু।ভাইয়া ভাবির বিয়েটা হয়ে যাক।আপনারা দেশে ফিরুন। ততদিনে প্রিয়া আরেকটু ম্যাচুয়র হোক,ক্যারিয়ার গুছিয়ে নিক,বয়সও তখন আরেকটু হবে।তখন যা করার করবেন নাহয়।.।”

আকাশের বিনয়ে অতি সন্তুষ্ট হলো প্রিয়ার বাবা মা।অগত্যা আমিনা চৌধুরী বা শাহজাহান চৌধুরী কেউই কিছু বললেন না।ছেলের কথা যুক্তিযুক্ত।

প্রিয়া নেমে এলো কিছুক্ষণ পরে।ভুলেও আকাশের দিকে তাকালো না।সালাম দিয়ে দাড়ালো অদূরে। আমিনা টেনে নিয়ে বসালে তার পাশে। দু বোনকে দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায়না।ছেলেদুটো সাক্ষাৎ অপ্সরা পছন্দ করেছে।নিজের দুপাশে দুই হবু পুত্রবধূকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি।
_____”মাশাল্লাহ… আমার ছেলেদের পছন্দ আছে বলা যায়।আমার বাড়িতে মেয়ে হয়ে এসো মা…কেমন.?”

______

নিচে খাওয়াদাওয়া পর্ব চলছে।সবাই মিলে খেতে বসেছে।হৈ চৈ শেনা যাচ্ছে নিচ থেকে।প্রিয়া ওপরে এসেছে কিছুক্ষণ হলো।জামাটা পরে সে একদম শান্তি পাচ্ছে না।শুধুমাত্র আকাশের জন্য পরেছিলো।অসহ্য রাগ লাগছে তার।নিচে এতক্ষণ ছিলো একটাবারের জন্য লোকটা ফিরেও তাকালো না তার দিকে!মানা যায়!কার জন্য এত সেজেছিলো সে!আবার তার বিয়ের কথাও নাকি হচ্ছিলো,পাকনা লোক নাচতে নাচতে নাকি সেটা মানা করে দিয়েছে!সে নাকি ছোট,ইমম্যাচুয়র,বাচ্চা।মেজাজ খারাপ হচ্ছে তার।প্রেম করতে কে বলেছিলো বাচ্চার সাথে! বাচ্চার াকছে এলে হুশ থাকেনা।ঠোঁট এমন ভাবে কামড়ে ধরে তখন মনে থাকে না বাচ্চা মেয়ে সে! আর বিয়ের কথা ওঠায়..
রাগে গজগজ করতে করতে দরজা ভেজিয়ে দিয়ে এলো।জামাটা চেন্জ না করলেই না।দীর্ঘক্ষন কসরত শেষে জামার চেইন টা খুলতেই শব্দ হলো দরজাতে।আসার সময় রিমিকে ওপরে আসতে বলেছিলো।সেই নিশ্চয়। দরজার ছিটকিনির শব্দে চকিত হয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই হতভম্ব হলো সে।বুকে আড়াআড়ি হাত ভাজ করে আকাশ দাড়িয়ে।প্রিয়া অপ্রস্তুত হলো।পিঠের চেইন আটকানোর চেষ্টায় ব্যাস্ত হলো।আকাশ দরজায় গা এলিয়ে দাড়ালো এবারে।গভীর চোখে তাকিয়ে।প্রিয়া লজ্জা পেয়েছে হুট করে ঢোকায়!সে তো যা দেখার দেখেই ফেলেছে।মনে মনে হাসলো। প্রিয়া গায়ের ওড়না টা পিছনে ছড়িয়ে দিলো বাধ্য হয়ে।ড্রেসিং টেবিল ঘেষে দাড়িলে রইলো।আকাশ ধীর পায়ে এসে দাড়ালো তার সামনে।
____”ম্যাডাম কি রেগে?”

প্রিয়া মুখ তুললো না।গম্ভীর গলায় বলল,
____”আমি রাগ করার কে?”

আকাশ খুব করে ধরতে পারলো অভিমানী কন্ঠ।মৃদু হাসলো।
____”আপনিই তো সব।”
____”তাই বুঝি ফোন ধরছিলেন না?”
____”চাইলাম একটু অপেক্ষা করুন।একবারে সামনে এসে ধরা দেই।মাসখানেক হলো কাছে আসতে পারি না,ছুঁতে পারিনা।”

প্রিয়া চমকে মাথা তুলে তাকালো আকাশের কন্ঠের মাদকতার টানে।কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঠোঁটে ঠোঁট মিললো।প্রিয়া হতভম্ব হয়ে গেলো।দু হাতে ঠেলে সরাতে চাইলো আকাশকে।বড় বড় করে তাকালো দরজার দিকে।প্রিয়ার এহেন ছটফটে বিরক্তই হলো আকাশ।দু বার ছেড়ে ছেড়ে চুমু আকলো ঠোঁটে। গাল শক্ত করে চেপে নিজের দিকে ফেরালো।
____”ছটফট বন্ধ পাখিইই।ডিসটার্ব হচ্ছি।”
____”আপনি….
আবার কথা বন্ধ হলো প্রিয়ার।প্রিয়া তাল সামলাতে না পেরে পিছেয়ে ধাক্কা খেলো ড্রেসিং টেবিলের সাথে। হুড়মুড় করে ওপরের জিনিসপত্র পড়ে গেলো।প্রিয়া ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখতে চাইলো বোধহয়।আকাশের শক্ত হাতের চাপ পরেছে ততক্ষণে তার উন্মুক্ত ঘাড়ে।
নরম চুমুতেই থেমে যেতে চেয়েছিলো হয়তো আকাশ,হয়তো নয়।সত্যিই তাই।শুধু হালকা নরম ঠোঁট এর অস্তিত্ব ছুতে চেয়েছিলো।তবে খেই হারিয়েছে নিজের।গাঢ়ো থেকে গাঢ়োতর হয়েছে চুমুর তীব্রতা।মিনিট পাঁচেক পর থামলো সে বেচারা।কপালে কপাল ঠেকালো।হাপাচ্ছে দুজনই।প্রিয়া চোখ খিচে বন্ধ করা।আকাশ তাকালো সেদিকে।প্রিয়া ঠোঁটের গাড় লিপস্টিক ছড়িয়ে গেছে আসেপাশে। মাথা তুলে নিজের অবস্থা পরখ করতে আয়নায় তাকালো। যা ভেবেছিলো ঠিক তাই।নিজেরও একই অবস্থা। প্রিয়ার লিপস্টিক টা মুছে নেওয়া উচিত ছিলো আগে।হাত বাড়িয়ে ট্যিসু নিলো প্রিয়ার হাতে গুঁজে দিলো সেটা।প্রিয়া নিভু নিভু চোখ খুললো।আকাশ আঙুল চিবুকে ঠেকিয়ে উঁচু করলো মুখখানা।
____”আমার ঠোঁট মুছে দাও।”
____”হ্যা?”
____”ঠোঁটে তোমার লিপস্টিক লেগেছে মুছে দাও।”

প্রিয়া লজ্জায় আড়ষ্ট। কোনোমতে মুখ তুলে তাকালো।আকাশের অবস্থা বেহাল।তারও তাই বুঝি!কাঁপা কাঁপা হাত তুললো আকাশের অধরোষ্ঠ মুছতে।কি যে নির্লজ্জ লোক এটা।
মোছা শেষ হতেই আয়নায় পরখ করলো নিজেকে।পানি দিয়ে না ধুলে উঠবে না লাল আভা।প্রিয়ার হাতে আরও দুটো ট্যিসু ধরিয়ে দিয়ে নিজে পা বাড়ালো বাথরুমে মুখ ধুয়ে বের হলো।প্রিয়া ততক্ষণে মুছে নিয়েছে।

আকাশ বিছানায় বসলো। প্রিয়ার হাত টেনে সামনে দাড় করালো। কোমড় জড়িয়ে মুখ গুজলো প্রিয়ার বুকে।প্রিয়া না চাইতেও আর রাগ করে থাকতে পারলো না।দু হাত চলে গেলো আকাশের চুলে।

____”চুল টেনে দাও।”

প্রিয়া বাধ্য মেয়ের মতো আকাশের চুলগুলো আলতো হাতে টেনে দিচ্ছে।আকাশ নাক মুখ গুজে আছে গভীর ভাবে।শরীর শিরশির করছে প্রিয়ার।বুকের ধুকধুক শব্দটাও কানে বাজছে।মৃদু গলায় বললো,

_____”আপু ভাইয়ার বিয়ের কথা হচ্ছে?”

আকাশ অবাক হয়ে মুখ তুলে তাকালো।এতক্ষণ নিচে কি ঘটলো তাহলে!এতক্ষণ এ এসে প্রশ্নের কারণ কি থাকতে পারে।একনজর প্রিয়ার বাচ্চা বাচ্চা মুখটা পরখ করে আবার মুখ গুজলো একই জায়গায়।অস্ফুটস্বরে আওড়ালো,
_____”হচ্ছে।”

খানিকক্ষন প্রিয়ার গলা পাওয়া গেলো না।হাত চলছে তার চুলের ভিতরে এখনো।বেশ আরাম লাগছে আকাশের।ঘুম ঘুম পাচ্ছে।মনে মধ্যে আজেবাজে চিন্তা এসে হানা দিলো।প্রিয়াকে বুকে চেপে শুয়ে একট াঘুম দিতে পারলে শান্তি পাওয়া যেতো।প্রিয়া ফিসফিস করে বললো,
____”আমাদের বিয়ের কথা হচ্ছে না কেনো!”

মেয়েটার বলার ভঙ্গিতে হাসি পেলো আকাশের।মুখ তুলে বাচ্চার বায়না করা চাঁদ পানা মুখটা দর্শন করতে ইচ্ছে হলো।কিন্তু তা সে করলো না।গলা গম্ভীর করলো উল্টো,
_____” কারণ তুমি বাচ্চা এখনো।পড়াশোনা টা শেষ হোক।তারপর সব হবে…”

প্রিয়া হাত তো সরিয়ে আনলোই আকাশের মাথা থেকে বরং ছিটকে খানিকটা পিছিয়েও গেলো।আকাশ ভ্রু কুচকে বিরক্ত চোখে তাকালো।প্রিয়ার মুখে রাজ্যের হতাশা ঘোরাঘুরি করছে।প্রিয়ার মুখ দেখে মনে হচ্ছে তার সাথে এহেন মশকরা করে সকলে ভীষন অন্যায় করে ফেলেছে।গলায় একরাশ হতাশা এনে বললো,
_____”মাথা খারাপ!এতদিন অপেক্ষা করতে পারবো না আমি।তাছাড়া কোথায় বাচ্চা আমি!উনিশ চলে আমার…আগের যুগের মতো ঠিক সময় বিয়ে দিলে দু চারজন বাচ্চা ঘুরঘুর করতো আমার আচল ধরে।”

প্রিয়া বলার ভঙ্গিতে আকাশ শব্দ করে হেসে ফেললো।প্রিয়াকে কোমড় টেনে এনে বসালো নিজের উরুর ওপর।হাত বাড়িয়ে চেপে ধরলো দু গাল।নরম গলাতে বললো,
____” তা ঠিক!তবে আমার কি মনে হয় জানো!আমার বাচ্চারা জন্মেই যদি দেখে তাদের বাবাকে তাদের সাথে সাথে মা নামক বাচ্চাও মানুষ করতে হচ্ছে। বিষয়টা কি ভালো দেখায়!”

কি আশ্চর্য! তাকে বাচ্চা বলা হচ্ছে মানে টা কি!তাকে মানুষ করতে হবে! যতসব বিয়ে না করার বাহানা।প্রিয়া আচমকা গলা টিপে ধরলো আকাশের।আকাশ বিস্মিত হলো।প্রিয়া দাঁতে দাঁত চেপে কঠিন গলায় বললো,
____”বিয়ে করবেন কি না বলুন!না হলে…”

আকাশ তব্দা খেয়ে গেলো কয়েক মূহুর্তের জন্য। প্রিয়া মোটেই জোরে ধরেনি তার গলা।ছোট ছোট হাতে কতটাই আর জোর।তবে সাহসে অবাকই হলো।আকাশ এহনাজ চৌধুরীর গলাও কেউ চেপে ধরতে পারে!এটা কোনোমতে জানাজানি হলে সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না।মিডিয়া নিউজ করা শুরু করবে।কোনোমতে নিজেকে সামলে নিলো।প্রিয়ার দিকে ঘোরলাগা দৃষ্টি ফেলে হাস্কিস্বরে বললো,
____” বিয়ে করতে শেষমেশ থ্রেট দিচ্ছো!আমাকে সামলাতে পারবে তো পাখিইইই?”

____”না পারার কি আছে।কি এমন করবেন আপনি।”

____”হু?

মুখ ফস্কে কি বলে ফেলেছে সেটা খেয়াল হলো আকাশের মুখের দিকে তাকাতেই দু হাতে মুখ চাপা দিলো।আকাশ ঠোঁট এ ঠোঁট টিপলো।কোমড়ে রাখা হাতের চাপ দৃঢ় করলো।
____”কি করবো আমি?হু?সেটা জানার এত কিউরিওসিটি! তাহলে এক কাজ করি গিয়ে বলি নিচে সেটা তোমার বাবাকে!নাকি?”

মুখে হাত চাপা অবস্থাতেই দুদিকে অসহায় চোখে মাথা নাড়লো প্রিয়া।আকাশ বাঁকা হাসলো।
____”তার মানে চাই না আমাকে?”

প্রিয়া আবার সজোরে মাথা নাড়লো।আকাশ কপাল উচুলো।
____”চাই না?”

প্রিয়া ওপর নিচ মাথা ঝাকালো।আকাশ হাস্কিস্বরে বললো,
____”মুখে বলো।চাই না আমাকে?”

প্রিয়া তোতলালো এবারে আকাশের কথায়।
____”চ..চ..চাই।”

আকাশ নিঃশব্দ হাসলো।প্রিয়ার দৃষ্টির অগোচরেই রয়ে গেলো আকাশের সে হাসি।আকাশের হাত উঠে গেলো প্রিয়ার চুলে।পিছনের চুল সামনে এনে মুখ ডুবালো ঘাড়ে।ঘ্রান টানলো।
____”কতটা চাই?”

প্রিয়া জবাব না পেয়ে ঘাড়ে নাক ঘষলো।প্রিয়ার হাত খামচে ধরে আকাশের শার্টের আস্তিন।কোনোমতে আওড়ায়,
____”অ..অনেকটা।”

____”তোমার বাবা তো দেবে না বললো এখন।দুবছর ঝুলিয়ে রাখলো।কি করি বলোতো।আমার তো দিনও কাটে না, রাত তো আটকেই থাকে।আই নিড ইউ ব্যাডলি।”

প্রিয়ার শরীর কাঁপছে। কি বলবে ভেবে পায়না।সত্যিই তো।লোকটা যে হারে তাকে জ্বালাতন করে দু বছর অপেক্ষা করা তার পক্ষেও সম্ভব হলে হয়!মুখ তুললো আকাশ।হাতঘড়িতে সময় দেখলো।

____”নিচে চলো।বাইরে আরশিকে পাহারায় রেখে এসেছি।বড়রা চলে আসলে আমাকে আবার দুশ্চরিত্র ভাববে।ভাববে মেয়ের সাথে হবু জামাই কি না কি করছে।তখন শশুর মশাই বেকে বসলে সমস্যা। আমার আমও যাবে,সাথে ছালাও।”

হেসে ফেললো প্রিয়া.কপালে কপাল ঠেকালো।ফিচেল গলায় বললো,
____”দুশ্চরিত্র নন?”

আকাশ যেনো আকাশ থেকে পরলো।চোখ বড় বড় করে বললো,
____”তাই? “
____”নন?”
____”কোন যুক্তিতে!”
____”এইযে একটা অবিবাহিত মেয়ের ঘরে আছেন।মেয়েটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে কোলের ওপর বসিয়ে রেখেছেন। জোর করে চুমু খাচ্ছেন। ভদ্রলোকের কাজ এসব?”

অশ্লীল হাসি দিলো এবারে আকাশ।সে হাসিতে শরীর অবশ হয় প্রিয়ার। একরাশ মাদক গলায় বললো,
____”চুমু টা কি শেষ অবধি জোরজবরদস্তিই ছিলো
একফোঁটাও এনজয় করোনি?”

____”ছিহ্”।

মুখ ঘুরিয়ে ফেললো প্রিয়া লজ্জায়।কথাটা তোলাই পাপ হয়েছে তার।আকাশ মুখ টেনে ঘোরালো তার দিকে।
____”ছিহ?সত্যিই কি?”

____”নয়?”

____”আমি তো খেয়াল করলাম শেষের দিলে আমার সাথে রেসপন্স করছিলো একই তালে।ওটা তাহলে…

প্রিয়া চেপে ধরলো আকাশের মুখ।চোখ বুজে নিলো নিজের।অস্ফুটস্বরে কয়েকবার আওড়ালো,
____”নির্লজ্জ চুপ,চুপ।কিছু বলবেন না।ভুল হয়েছে আমারই।খুব ভুল হয়েছে।”

চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼❤️

[বানান ভুল থাকতে পারে।মানিয়ে নেবেন।আর ১হাজার + রিঅ্যাক্ট হওয়া চাই কিন্তু ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here