মন_হারালো_বেঘোরে #লেখনীতে_মেহেরীন #পর্ব_১৫

0
25

#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#পর্ব_১৫

রাতের নিস্তব্ধতা চিরে যখন কলিংবেলের সেই তীক্ষ্ণ শব্দটা দ্বিতীয়বার বাজল, রিমির মনে হলো ওর হৃৎপিণ্ডটা বুঝি ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে। ১০টি মিসড কল আর ঠিক এই সময়ে দরজায় কড়া নাড়া দুটোকে এক সুতোয় গেঁথে রিমি অনেকটা নিশ্চিত ছিলো যে ওর সাময়িক শান্তির দিন শেষ করতে হয়তো আরশান এসে হাজির হয়েছে। রিমি দ্রুত আরশানের নাম্বারটা ডায়াল করল। ওপাশ থেকে কল রিসিভ হতেই রিমি কোনো ভূমিকা না করে, হন্তদন্ত হয়ে বলে উঠল — “আপনি…আপনি এত রাতে এখানে কেন এসেছেন? পা’গল হয়েছেন নাকি? দয়া করে চলে যান এখান থেকে, এখনই চলে যান!”

ওপাশ থেকে কয়েক সেকেন্ডের এক গভীর নীরবতা। তারপর আরশানের সেই চেনা গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল, তবে তাতে রাগের বদলে এক ধরণের বিস্ময় মিশে আছে। আরশান খুব ধীরলয়ে প্রশ্ন করল — “আমি ওখানে কেন যাব?”

আরশানের এমন নির্লিপ্ত উত্তরে রিমি এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ওর মস্তিস্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। ও অস্ফুট স্বরে বলল — “আপনি নেই? মানে কলিং বেল বাজছে, দরজায় তাহলে…”

কথা শেষ না করেই রিমি পা টিপে টিপে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এল। ড্রয়িংরুমের আবছা আলোয় ও দরজার ফাঁক দিয়ে একটু উঁকি দিল। দেখল ইলোরা বেগমের দেবর দরজা খুলেছেন। বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন ওনাদের পরিচিত কোনো এক প্রতিবেশী, হয়তো কোনো জরুরি দরকারেই এই অসময়ে তার আগমন ঘটেছে। এ দৃশ্য দেখে রিমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো, কয়েক মুহূর্তের জন্যে তো চোখের সামনে সব যেনো অন্ধকার হয়ে গেছিলো মেয়েটার। ও দেয়ালটা ধরে দীর্ঘ একটা শ্বাস নিল। নিজের ভুল বুঝতে পেরে রিমি ফোনটা কানে চেপে ধরে একদম নিচু স্বরে বলল — “I’m sorry, এই সময়ে কলিং বেল বাজল আর আপনারও অনেকগুলো মিসড কল ছিল তাই আমি ভেবেছিলাম হয়তো আপনিই এসেছেন”

ওপাশ থেকে এবার আরশানের সেই পরিচিত তাচ্ছিল্যের হাসিটা শোনা গেল। আরশান এবার বেশ আয়েশ করে উত্তর দিল — “দরজায় আমাকে না দেখে কি খুব বেশি খারাপ লেগেছে?”

রিমি একটু লজ্জাবোধ করছে বটে, শুধু শুধু ভুল বুঝলো। ও কোনো উত্তর দেওয়ার আগেই আরশান আবারো বেশ খুশিমনে বলে উঠলো — “Oh wow! Are you missing me this much, Rimi? ইদানিং আমাকে কল্পনা করতে শুরু করে দিয়েছ? ভাবিনি আমার অনুপস্থিতি তোমার ওপর এতটা প্রভাব ফেলবে”

আরশানের এই বাঁকা কথায় রিমি জানলার গ্রিলটা শক্ত করে ধরে বিড়বিড় করল — “না, আমি মোটেও আপনাকে মিস করছি না। আ..আমি ভয় পেয়েছিলাম।”

আরশান ফোনের ওপাশে নিজের হাতের সেই নতুন ফাউন্টেন পেনটা ঘোরাতে ঘোরাতে বলল — “তুমি ভুল করে হলেও আমার কথা ভেবেছো, আমাকে দেখতে চেয়েছ এটাই বড় কথা। নিশ্চিন্ত থাকো, আমি যখন আসব সশব্দেই আসব”

রিমি কথা ঘোরানোর জন্যে বললো — “কিন্তু আপনি এতবার কল কেনো করেছিলেন?”

“চেক করার জন্যে কল করেছিলাম যে আমার কথা তোমার মনে আছে কিনা, তোমার রিয়েকশন আমাকে ইমপ্রেস করেছে তাই আজকের মতো ক্ষমা করে দিলাম, কিন্তু ১০টা কল ইগনোর করার শাস্তিটা তোলা থাকবে”

রিমি কোনো উত্তর দিতে পারল না। আরশান আর কিছু না বলেই কলটা কেটে দিলো। রিমি ঘরে এসে ধপ করে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লো, আবার শাস্তির কথা তুলেছে? না জানি লোকটা এবার কি করবে!
___________________________________

মাসে হাত খরচের জন্যে বাবা যে টাকা দিয়েছিলো সেটা শেষ হয়ে যাওয়ায় ইনায়া এসেছে ওর ভাইয়ের কাছে টাকা চাইতে। ভাইবোনের এসবের বিষয়ে আরশান আবার সায় দেয়। ও মানিব্যাগ থেকে কিছু টাকা বের করে এগিয়ে দিতেই ইনায়া বেশ খুশি হলো! — “Thanks bhaiya, you are best”

ও টাকা নিয়ে চলে যেতে যাচ্ছিলো তখন আরশান ওকে দাঁড়াতে বললে ও গুটিগুটি পায়ে ভাইয়ের সামনে এসে দাঁড়াল — “হ্যাঁ ভাইয়া, কিছু বলবে?”

আরশান জিজ্ঞেস করল — “ভার্সিটিতে সব কেমন চলছে? পড়াশোনা, ক্লাস…সব ঠিকঠাক তো?”

ইনায়া একটু অবাক হলো ওর স্কুল, কলেজ এমনকি ভার্সিটির বিষয়েও আরশান কোনোদিন আগ বাড়িয়ে এসব জানতে চায়নি। ও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে হাসল — “হ্যাঁ ভাইয়া, সব ভালোই চলছে”

আরশান ল্যাপটপ থেকে নজর না সরিয়েই খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আবারো জিজ্ঞাসা করলো — “তোর বান্ধবীর কি অবস্থা?”

এ কথা শুনে ইনায়া একটু হতাশ কণ্ঠে উত্তর দিলো — “রিমির কথা আর বলো না। মেয়েটা ইদানিং ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ওর নতুন বাসা থেকে ভার্সিটি অনেক দূরে, তার ওপর ক্লাস শেষে বাসায় ফিরেই ওকে টিউশনি করাতে হয়। নিজের পড়াশোনা আর টিউশনি সামলাতে গিয়ে ও একদম হিমশিম খাচ্ছে। দম ফেলারও সময় পাচ্ছে না ও। এমনকি আমাকেও এখন তেমন সময় দিতে পারছেনা”

রিমির ব্যস্ততার কথা শোনামাত্রই আরশানের চোখের কোণে একটা তীক্ষ্ণ আভা খেলে গেল। ও খুব ধীরস্থিরভাবে জিজ্ঞেস করল — “I see! She is very busy”
________________________________

ভার্সিটির করিডোরে বিকেলের নরম রোদ এসে পড়েছে। শাফিন একদল ছেলেমেয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করছে। ওর স্বভাবটাই এমন সবার সাথে খুব সহজেই মিশে যেতে পারে, বিশেষ করে মেয়েদের সাথে ওর কথা বলার ভঙ্গিটা একটু বেশিই সাবলীল। দূর থেকে দৃশ্যটা দেখে ইনায়ার বুকের ভেতরটা কেন জানি জ্বলে উঠল। ও অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছে, ক্লাসের একটা মেয়ে শাফিনকে খুব যত্ন করে একটা গিফট প্যাকেট ধরিয়ে দিল, আর শাফিনও বেশ চওড়া হাসি দিয়ে সেটা গ্রহণ করল। সবাই চলে যাওয়ার পর ইনায়া গটগট করে শাফিনের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ওর দুচোখে স্পষ্ট বিরক্তি। শাফিন ওকে দেখে চনমনে গলায় বলল — “আরে ইনায়া! তোমাকেই খুঁজছিলাম”

ইনায়া দেখলো শাফিনের হাতে একটা নতুন ডায়েরি, নিশ্চয়ই আজকেও কেউ একজন এটা গিফট দিয়েছে। এটা দেখে ইনায়া সরাসরি শাফিনের চোখের দিকে তাকিয়ে খুব কড়া গলায় বলল— “তোমার তো গিফট দেওয়ার বান্ধবীর অভাব নেই, তাদের সঙ্গেই গল্প করো। হঠাৎ আমার খোঁজ করছো কেনো?

শাফিন একটু অপ্রস্তুত হয়ে হাসল। ও পরিস্থিতিটা হালকা করার জন্য বলল — “আরে, বন্ধু হিসেবে দিয়েছে, না নিলে খারাপ দেখায় না? তাছাড়া অনেক সময় অনেক দরকারি জিনিসও তো এভাবে গিফট হিসেবে পাওয়া যায়। ডায়েরিটা তো আমার কাজেও লাগবে।”

ইনায়া এবার আরও এক পা এগিয়ে এল। ওর গলার স্বরে এখন অধিকারবোধের সুর স্পষ্ট! — “তোমার যদি খুব কিছুর প্রয়োজন হয়, তবে আমাকে বলবে। আমি তোমাকে কিনে দেব। কিন্তু অন্য কোনো মেয়ের থেকে এভাবে হাত পেতে কিছু নেবে না, বুঝেছ?”

এ কথা শুনে শাফিনের ঠোঁটের কোণে একটা হাসির রেখা ফুঁটলো। ও ইনায়ার দিকে একটু ঝুঁকে নিচু স্বরে বলল — “তা তোমার থেকে কেন নেব?”

ইনায়া দমল না। ও পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিল— “তাহলে ওদের থেকে কেন নাও?”

“ওরা তো আমার বন্ধু, ইনায়া। বন্ধুদের মধ্যে লেনদেন তো চলেই”

ইনায়ার জেদ এবার চরমে উঠল। ও শাফিনের খুব কাছে এসে ওর চোখের মণি দুটোর দিকে তাকিয়ে গম্ভীরভাবে জানতে চাইল — “ওরা যদি বন্ধু হয়, তাহলে আমি কী?”

শাফিনের প্রশ্ন শোনামাত্রই মানুষের কোলাহল যেন মুহূর্তের জন্য ম্লান হয়ে এল। ওর আর ইনায়ার মধ্যকার দূরত্ব এখন মাত্র কয়েক ইঞ্চির। শাফিন এবার একদম স্থির হয়ে গেল। ওর চোখের সেই চঞ্চলতা উধাও হয়ে সেখানে এক গভীর মায়া বাসা বাঁধল। ও ইনায়ার কানের খুব কাছে মুখ নিয়ে প্রায় ফিসফিসিয়ে বলল — “You are more than a friend to me”

ইনায়ার নিঃশ্বাস এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। শাফিনের এই অকপট স্বীকারোক্তিতে মেয়েটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। লজ্জায় ওর গাল দুটো বিকেলের রোদের চেয়েও বেশি লাল হয়ে উঠল। ও আর কোনো কথা বলতে পারল না! ওর মনে যে শাফিনের জন্যে বিশেষ অনুভূতি জন্মাচ্ছে তা ও আরো আগেই টের পেয়েছে, কিন্তু শাফিন এধরনের কথা দ্বারা কি বোঝাতে চাইছে। ও নিজেও কি ইনায়াকে পছন্দ করে?
__________________________________

ইলোরা বেগম পেশায় একজন শিক্ষিকা, ছোটো একটা স্কুলে চাকরি করেন। তো রিমি এখানে আসার আগেই উনি ঠিক করে রেখেছিলেন মেয়ের জন্যে টিউশনির ব্যবস্থা করে দেবেন। এ কথা শুনেই ওনার শাশুড়ির মন্তব্য করেছিলেন — “মেয়ে মানুষের এত সন্ধ্যায় বাইরে থাকা সাজে না, কাল যদি কোনো অঘটন ঘটে তবে দোষ তো আমাদেরই ঘাড়ে পড়বে”। ইলোরা বেগম পরে স্বামীর সাহায্যে শাশুড়িকে রাজি করিয়ে রিমিকে টিউশনি করার অনুমতি নেন। রিমিও এতে আপত্তি করেনি, কারণ মায়ের কাছে থাকতে এসে এ বাড়ির টাকা পয়সা খরচ করার ইচ্ছে ওর নিজেরও ছিলো না। কষ্ট হওয়া সত্বেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাগিদে ও সব সয়ে নিয়েছে। রিমির দিনগুলো এখন অনেকটা একঘেয়ে নিয়মের ছকে বাঁধা পড়ে গেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রিমির মনের ভেতরের সেই ভয়ের ভাবটাও ভাবটা ধীরে ধীরে থিতু হতে শুরু করেছিল। দেখতে দেখতে পঁচিশটা দিন পার হয়ে গেল। এই দীর্ঘ সময়ে আরশানের দিক থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। না কোনো কল, না কোনো মেসেজ। রিমি মাঝে মাঝে অবাক হয় যে মানুষটা ছাদের রেলিংয়ে ঝুলিয়ে দিয়ে সামান্য দেখা করার জন্যে ভয় দেখাতে পারে, সে এত সহজে হাল ছেড়ে দিল? টিউশনি শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। মেইন রোড থেকে বামের সেই সরু, অন্ধকার গলিটা পাড়ি দিয়েই ওকে বাসায় ফিরতে হয়। আজও টিউশনি শেষ করে রিমি যখন সেই সরু গলির মুখে পা রাখল, চারপাশটা অন্যদিনের চেয়েও বেশি নিঝুম মনে হলো যদিও রাস্তায় লোকের ভালোই আনাগোনা আছে। ল্যাম্পপোস্টের ম্লান হলদেটে আলোয় ছায়াগুলো আজ যেন একটু বেশিই দীর্ঘ। রিমি ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে দ্রুত পায়ে গলির মোড়টা ঘুরতে যাবে, ঠিক তখনই বাতাসের ঝাপটার মতো একটা চেনা, শীতল কণ্ঠস্বর ওর কানে এসে বিঁধল — “Caught you!”

আচমকা সেই কণ্ঠ শুনে রিমির হৃৎপিণ্ডটা যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। ও চমকে পাশে তাকাতেই দেখল, রাস্তার এক কোণে একটা কালো স্পোর্টস বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক দীর্ঘদেহী অবয়ব। হেলমেটটা বাইকের হ্যান্ডেলে ঝুলছে। ম্লান আলোয় আরশানকে দেখা গেলো। সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রিমির দিকে এক পা এগিয়ে এল। ওর ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা বাঁকা হাসি! — “এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলে?”

রিমি হকচকিয়ে উত্তর দিলো — “ন..না, আমি আপনাকে দেখতে পাইনি আর এই সময়ে আপনি এখানে আসবেন সেটাও…”

আরশান মৃদু হেসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো — “পঁচিশ দিন, রিমি। Just 600 hours। এর মধ্যেই আমার উপস্থিতি তোমার কাছে এতটা ফিকে হয়ে যাবে ভাবিনি। আমার উপস্থিতি তুমি এত সহজেই ভুলে যেতে শুরু করেছ? That’s sad!”

রিমি পাথরের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ক্লান্তিতে ওর গলা এমনিতেই শুকিয়ে কাঠ, কথা বলার শক্তিটুকুও যেন লোপ পেয়েছে তার ওপর আরশানের এই আকস্মিক আগমনে আরো চমকে উঠেছে। কিন্তু ও নিজের কৌতূহল ধরে রাখতে না পেরে জিজ্ঞাসা করেই ফেললো — “কিন্তু আপনি এই সময়ে এখানে কীভাবে এলেন? আর আমার ঠিকানা তো ইনায়াও জানেনা”

আরশান বাইকের সিটে হালকা একটা চাপড় দিয়ে হাসল। রিমি ভ্রু কুঁচকে তাকালো! আরশান ইশারায় রিমিকে কাছে আসতে বললো রিমি এক কদম এগোতেই ও রিমির খুব কাছে মুখ নামিয়ে এনে ফিসফিস করে বলল — “Even if you go to the other side of the world, you can’t be out of my reach”

কথাগুলো বলে আরশান রিমির উত্তরের জন্য এক মুহূর্ত অপেক্ষা করল না। বরং কোনো সুযোগ না দিয়েই, অতর্কিতে ও রিমির গালের ওপর নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো। রাস্তার মাঝখানে আরশানের এমন বেপরোয়া আর অস্বাভাবিক আচরণে রিমির শিরদাঁড়া দিয়ে এক তীব্র শীতল স্রোত বয়ে গেল। ও চমকে উঠে এক কয়েক পা পিছিয়ে আসতে চাইলো কিন্তু আরশান ওকে সরার কোনো সুযোগই দিল না। ও রিমিকে এক হেঁচকা টানে নিজের কাছে নিয়ে এসে বললো — “You can’t escape from me, so don’t try to run”

চলবে…

আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1Agqmjxnde/?mibextid=oFDknk

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here