মন_হারালো_বেঘোরে #লেখনীতে_মেহেরীন #পর্ব_২৭

0
22

#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#পর্ব_২৭

ইনায়াকে নিয়ে আসার সময় রিমি দেখলো তখনও ওর চোখের পানি টলটল করছে, শরীরও থরথর করে কাঁপছিল। রিমি বেশ কড়া গলায় জিজ্ঞেস করল — “তোর সমস্যাটা কী ইনায়া? এই ছেলেটা তোকে ওভাবে বিরক্ত করছিলো আর তুই চুপচাপ শুনলি? কেন কিছু বললি না ওকে?”

ইনায়া ভেজা গলায় আফসোসের স্বরে বলল — “আমি ওর এই আচরণ দেখে একদম চমকে উঠেছিলাম রে। শাফিন যে এভাবে সিনিয়রের সাথে পড়ার বিষয় নিয়ে কথা বলাটাকে কুরুচিপূর্ণভাবে তুলে ধরবে, আমি ভাবিনি। সত্যি রিমি, আমার এখন নিজের ওপরই ঘৃণা হচ্ছে যে এমন একটা নিচু মনের মানুষকে আমি একসময় পছন্দ করেছিলাম।”

রিমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইনায়ার কাঁধে হাত রাখল। ওর কণ্ঠস্বর এবার কিছুটা নরম হলো — “যা হওয়ার হয়েছে, ওসব ভেবে এখন আর লাভ নেই। তবে একটা কথা মনে রাখবি, এই ধরণের ছেলেদের ক্ষেত্রে তোর নীরবতাই ওদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তুই যত চুপ থাকবি, ও তত বেশি সুযোগ পাবে। এর পর যদি ও তোকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করে, তবে এক চুলও ছাড় দিবি না।”

ইনায়াকে রিমি সর্বক্ষেত্রে সাহস যোগানোর সম্পূর্ন চেষ্টা করে, ওর মন খারাপ ছিল বলে ওকে নিয়ে একটু ঘোরাঘুরিও করেছে পরে ইনায়ার মনটা একটু ভালো হয়েছিলো। বাসায় ফেরার পর রিমির জন্য বিশ্রামের অবকাশ ছিল না। সুরভী বেগম কেনাকাটার জন্য তৈরি হয়েই ছিলেন। রিমির এই রিসিপশন বা জাঁকজমক নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। কেনাকাটা করতে গিয়ে ওর মনে কোনো অনুভূতিই যেনো কাজ করছিল না। সুরভী বেগম শাড়ি বা গয়না যেটাতেই হাত দিচ্ছিলেন, রিমি কেবল ম্লান হেসে সায় দিচ্ছিল। ওর নিজের কোনো পছন্দ-অপছন্দ যেন উবে গেছে। পরে শাশুড়ির পছন্দের কিছু জিনিসই কিনেছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে মার্কেটে ঘোরার পর ক্লান্তিতে ওর শরীর ভেঙে আসছিল। বাসায় ফিরে রিমি রাতের খাবার না খেয়েই ঘরে ঢুকে সব লাইট বন্ধ করে শুয়ে পড়ল। অন্ধকার ঘরে নিস্তব্ধতা যেন ওকে কিছুটা শান্তি দিচ্ছিল। কতক্ষণ ঘুমিয়েছে ও জানে না, হুট করে চোখের ওপর তীব্র আলোর ঝিলিক পড়তেই রিমির কাঁচা ঘুমটা ভেঙে গেল। চোখ কচলে তাকিয়ে দেখল আরশান ঘরে ঢুকেছে। লোকটা মাত্র অফিস থেকে ফিরেছে বোধহয়। রিমি বিরক্ত হয়ে আবার পাশ ফিরে শুলো এবং অস্ফুট স্বরে বলল — “আমাকে একটু ঘুমাতে দিন। লাইটটা নিভিয়ে দিন।”

আরশান রিমির অভিযোগ যেন কানেই নিল না। ও নিজের মতো টাই খুলতে খুলতে ড্রেসিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। রিমি মেজাজ গরম করে মাথার কাছে পড়ে থাকা তোয়ালেটা টেনে নিজের মুখের ওপর দিয়ে শুয়ে রইল, যেন আলোটা ওর বিরক্তি না বাড়াতে পারে। আরশান হঠাত লক্ষ করল রকিং চেয়ারের ওপর বেশ কিছু প্যাকেট পড়ে আছে। ও কৌতূহলবশত প্যাকেটগুলো খুলে একটা গাঢ় মেরুন রঙের শাড়ি বের করে দেখল। শাড়িটা উল্টেপাল্টে দেখে আরশান রিমির দিকে তাকাল।

“I don’t think these suits your taste, Rimi. আর এই রংটা তো তোমার পছন্দ হওয়ার কথা না! কে কিনে দিয়েছে এটা?”

রিমি তোয়ালেটা না সরিয়েই চাপা গলায় উত্তর দিল — “আন্টির পছন্দ ওটা। উনি অনেক শখ করে কিনেছেন, আমারও ভালো লেগেছে।”

আরশানের বিরক্তি এবার চরমে পৌঁছাল। ও দ্রুতপায়ে রিমির কাছে এসে ঝটকা দিয়ে ওর মুখের ওপর থেকে তোয়ালেটা সরিয়ে দিল। রিমির এলোমেলো চুল আর ঘুমের ঘোরে লাল হয়ে থাকা চোখের দিকে তাকিয়ে ও বেশ কড়া স্বরে বলল…

“Is this reception for you or for ammu? তুমি তাহলে সঙ্গে গিয়েছিলে কী করতে?”

রিমি এবার বিরক্ত হয়ে ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল। চুলে হাত দিয়ে ঠিক করতে করতে রাগী গলায় বলল — “আজব তো আপনি! আন্টির পছন্দের জিনিসে আমার কোনো সমস্যা নেই, সেখানে আপনার এত সমস্যা কেন? আমি ক্লান্ত, আমাকে ঘুমাতে দিন।”

আরশান রিমির খুব কাছে ঝুঁকে এল। ওর স্থির চোখদুটো রিমির ওপর নিবদ্ধ করে ও অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলল…

“Because it’s not YOURS. আমি চাই তুমি এখন থেকে সেইসব করো যা তোমার পছন্দ। ড্রেস হোক বা অন্য কিছু, সব কিছু এখন থেকে নিজে পছন্দ করবে”

“কিন্তু আন্টির পছন্দে তো আমি খারাপ কিছু দেখছি না, আপনি এতো রিয়েক্ট কেনো করছেন? উনি তো শখ করেই…”

“তোমাকে কেউ যখন কিছু গিফট দেবে সেটা আলাদা কথা কিন্তু তোমাকে specifically নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তুমি তোমার শখের জিনিস কিনবে। কিছু পছন্দ না হলে ফেরত আসবে। কেউ তোমাকে জোর করবে না। don’t let anyone impose their choices on you easily, not even my mother. I want to see the ‘real’ Rimi, not a shadow of someone else’s preference. ”

আরশানের এই অপ্রত্যাশিত কথায় রিমির বাকশক্তি যেন হারিয়ে গেল। লোকটা একদিকে যেমন ওকে জোর করে নিজের জীবনে আটকে রেখেছে, অন্য দিকে ঠিক ততটাই তীব্রভাবে ওর ব্যক্তিগত পছন্দ আর স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে চাইছে। আরশানের এই বৈপরীত্য রিমিকে এক গোলকধাঁধায় ফেলে দেয়। লোকটা ঠিক কী চায়? ওর স্বাধীনতা কেড়ে নিতে, নাকি ওকে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের সাথে গড়তে? রিমির অভিমানগুলো যেন মাঝে মাঝে আরশানের এই অদ্ভূত শাসনের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। রিমির মনের ভেতরে এক অজানা সন্দেহটা দানা বেঁধে উঠল। ও বিছানা থেকে নেমে আরশানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সোজাসুজি প্রশ্ন করল…

“আপনার মতিগতি আমি একদম বুঝতে পারি না। একদিকে আপনি আমাকে নিজের মর্জিমতো খাঁচায় বন্দি করে রাখবেন, আবার অন্যদিকে বড় বড় কথা বলছেন যে আমি যেন স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দ বেছে নিই। এই দুটা কি একসাথে সম্ভব? আপনি কি এভাবে আমাকে বিভ্রান্ত করে নিজের মনে ভালো মানুষ সাজার চেষ্টা করছেন?”

আরশান তখন নিজের শার্টের বোতাম খুলছিল। রিমির কথা শুনে ওর হাত দুটো স্থির হলো। ও শার্টটা খুলে ড্রয়ারের ওপর রাখল। ওর সুগঠিত, প্রশস্ত বুক আর পেশিবহুল কাঁধের ওপর নীলচে ড্রিম লাইটের আলো পড়ে এক রহস্যময় ছায়ার সৃষ্টি করেছে। ও রিমির দিকে এক পা এগিয়ে এল। ওর ঠোঁটে সেই অতি পরিচিত, বাঁকা অথচ মারাত্মক আকর্ষণীয় হাসিটা ফুটে উঠল। ও রিমির খুব কাছে এসে নিচু স্বরে বলল…

“Yes, I will keep you in my cage, but I will give you the sky too. It’s an innovative concept, isn’t it?”

আরশানের এই অর্ধনগ্ন বলিষ্ঠ দেহের উপস্থিতি আর ওই কণ্ঠস্বরের নেশায় রিমি মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ওর দৃষ্টি আটকে রইল আরশানের উন্মুক্ত বুকের দিকে। নিজেকে সামলে নিয়ে দ্রুত চোখ নামিয়ে ফেলল ও। রিমির বুক তখন ধড়ফড় করছে। ও তোতলাতে তোতলাতে বলল — “আ…আচ্ছা হয়েছে। অনেক জ্ঞান দিয়েছেন। এবার যান তো, ফ্রেশ হয়ে আসুন!”

আরশান যেন আজ অন্য কোনো মুডে আছে। ও রিমির কথা শুনে চলে যাওয়া তো দূরে থাক, উল্টো রিমির কোমরে দু-হাত দিয়ে এক ঝটকায় ওকে পাজাকোলা করে তুলে নিল। রিমি একদম অপ্রস্তুত ছিল এমন কিছুর জন্য। ও ভয়ে আর বিস্ময়ে আরশানের গলা জড়িয়ে ধরে চেঁচিয়ে উঠল…

“এই! কী করছেন কী? আমাকে কোলে তুললেন কেন? নামান বলছি!”

আরশান রিমির চেঁচামেচিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না। ও বাথরুমের দিকে হাঁটতে হাঁটতে শান্ত স্বরে বলল…

“বাইরে প্রচণ্ড গরম পড়েছে, তোমারও আমার সাথে আর একবার ফ্রেশ হওয়া উচিত।”

রিমি হাত-পা ছুড়ে প্রতিবাদ করতে লাগল!

“আরে আমি ফ্রেশ হয়েছি তো! আমার একদম দরকার নেই। আপনি আমাকে নামাবেন কি না!”

আরশান বাথরুমের দরজার কাছে পৌঁছে রিমির চোখের দিকে তাকিয়ে একটা চোখ টিপে দিল। দুষ্টুমি মেশানো স্বরে বলল…

“But I insist, sweetheart. আমি চাই তুমি আবারও ফ্রেশ হও, আমার সাথে।”

রিমির ভেতর এখন আর আগের মতো সেই জমাটবদ্ধ ভয় নেই, বরং আরশানের এই একগুঁয়েমিতে ও তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। এই লোকটা কি সব সময় নিজের মর্জিমতোই চলবে? এর জন্যে কি একটু বিশ্রামও নেওয়া যাবেনা? রিমি রাগের চোটে কিছু না ভেবেই আরশানের গলার ঠিক পাশে, কাঁধের একটু ওপরে সজোরে কামড় বসিয়ে দিল। ও এতটাই জোড়ে কামড় দিয়েছে যে ওর দাঁতের পাটি আরশানের চামড়ায় বসে গেল। ও চাইছিল আরশান ব্যথা পেয়ে ওকে ছেড়ে দিক। কিন্তু ফলাফল হলো উল্টো। আরশান ব্যথায় আর্তনাদ তো করলই না, বরং ওর ঠোঁটের হাসিটা আরও চওড়া হলো। ও এবার রিমির চোখের দিকে তাকাল। আরশানের চোখে এখন এক ধরণের পৈশাচিক আনন্দ আর কামনার ঝিলিক। ও রিমির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল…

“Wow! আমার বউটা যে পুরো Wild cat, সেটা তো জানা ছিল না। You marked me, এই দাগটা সহজে যাবে না। তা যখন তুমি শুরুই করেছ, তখন আমারও তো প্রতিদানে কিছু করা দরকার, তাই না?”

আরশানের কথা শুনে রিমির শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল। ও বুঝতে পারল, রাগের মাথায় ও মারাত্মক এক ভুল করে ফেলেছে। আরশানকে দমাতে গিয়ে ও আসলে পুরুষটাকে উসকে দিয়েছে। আরশানের চোখের ওই তীব্র চাউনি দেখে রিমির বুক এখন দুরুদুরু কাঁপছে। ও এখন কীভাবে এই জংলি বাঘের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাবে? বাথরুমের দরজাটা আরশান নিজের পা দিয়ে ঠেলে বন্ধ করে দিল। ভেতরের আলোটা আরও উজ্জ্বল, আর রিমির পালানোর পথ এখন পুরোপুরি বন্ধ!
_____________________________________

রিসিপশনের বাকি আর মাত্র দুদিন। এর মধ্যেই হুট করে এক বিকেলে আরশানের বড় ফুপু আর ফুফাতো বোন নীরা এসে উপস্থিত হলো। আরাফাত সাহেব সোফায় বসে ছিলেন। ফুপু সোফায় ধপ করে বসে কোনো ভনিতা ছাড়াই আক্রমণাত্মক সুরে বললেন— “আমি তো আগেই বলেছিলাম ভাইজান, বাইরের একটা ছন্নছাড়া মেয়েকে এভাবে বাড়ির ভেতরে আশ্রয় দিও না। দেখলে তো কী হলো? আমাদের আরশানের মতো ছেলেটাকে কীভাবে পটিয়ে নিজের কবজায় করে ফেলল! এই ধরণের মেয়েদের চরিত্র তো আমার জানাই আছে।”

আরাফাত সাহেব অস্বস্তিতে পড়লেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিচু স্বরে বললেন— “এখন এসব বলে কী হবে? যা হওয়ার হয়ে গেছে। আর রিমি মেয়ে হিসেবে মন্দ নয়।”

ফুপু তচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললেন — “ভালো তো হবেই! নিজের আখের গোছাতে ভালো মানুষের মুখোশ পরতে হয় সেটা ও ভালো করেই জানে। আমার এই নীরা আরশানের জন্য কতটা উপযুক্ত ছিল তা কি তুমি জানতে না? ঘরের লক্ষ্মী ঘরেই থাকত। তা না করে কোথাকার কোন অচেনা আপদকে ঘরের বউ করে আনলে!”

নীরা পাশে বসে মেকি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নখ খুঁটছিল, যেন ওর খুব বড় কোনো ক্ষতি হয়ে গেছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই রিমি আর ইনায়া ভার্সিটি থেকে ফিরল। আজ ওদের শেষ পরীক্ষা ছিল, তাই দুজনের চেহারায় একটা স্বস্তির ছাপ ছিল, যা ফুপুর কথা শুনে মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। রিমি ফুপুর সামনে গিয়ে বিনয়ের সাথে সালাম দিল, কিন্তু ফুপু উত্তর দেওয়া তো দূর, উল্টো মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলেন। ইনায়া পরিস্থিতি বুঝতে পেরে রিমির কনুইয়ে টান দিয়ে ফিসফিস করে বলল — “রিমি, চল এখান থেকে”

রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়িতে গুমোট ভাব আরও বাড়ল। ডাইনিং টেবিলে সুরভী বেগম সবার জন্য খাবার বেড়ে দিচ্ছিলেন। রিমি নিয়মমতো ওনাকে সাহায্য করছিল। পরিবেশটা অস্বাভাবিক শান্ত। যখন খাবার দেওয়া শেষ হলো এবং রিমি নিজের জন্য চেয়ার টেনে বসতে যাবে, ঠিক তখনই ফুপু তপ্ত গলায় বলে উঠলেন….

“আদব-কায়দা কি একদমই শেখোনি বাপু? মুরুব্বিরা আর বাড়ির পুরুষেরা খাওয়ার পর যে বাড়ির বউরা খায়, নাকি সেই নিয়ম তোমার ওই মডার্ন শিক্ষায় নেই?”

রিমির হাতটা চেয়ারের হাতলেই থমকে গেল। এক মুহূর্তের জন্য ওর আত্মসম্মানে প্রচণ্ড আঘাত লাগল। ও মাথা নিচু করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ইনায়া কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু রিমি ইশারায় ওকে থামিয়ে দিল। ও চায় না ওর কারণে নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক। ঠিক তখনই আরশান ডাইনিংয়ের দিকে এল। টেবিলে এসে সবাইকে খেতে দেখে ওর চোখ আটকে গেল দাঁড়িয়ে থাকা রিমির ওপর। আরশানের কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়ল। ও গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করল — “দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসো।”

ফুপু আরশানকে দেখে কিছুটা নরম হওয়ার ভান করে বললেন — “আরে আরশান, তুই বসে খেয়ে নে বাবা। ও তো বাড়ির বউ, আমরা খেয়ে নিলে ও পরে ধীরেসুস্থে খেলেও হবে। এটাই তো নিয়ম।”

আরশান ফুপুর কথার কোনো উত্তর দিল না। ও সরাসরি রিমির চোখের দিকে তাকাল। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে এল। ও ফুপুর দিকে না তাকিয়েই অত্যন্ত শীতল কণ্ঠে রিমিকে উদ্দেশ্য করে বলল…

“I said sit down, Rimi”

রিমি একবার ফুপুর রাগী চেহারার দিকে তাকাল, পরক্ষণেই আরশানের অনড় ভঙ্গি দেখল। আরশান এক মুহূর্ত দেরি না করে রিমির পাশের চেয়ারটা সশব্দে টেনে বের করল এবং ওর কাঁধে হাত রেখে এক প্রকার জোর করেই ওকে বসিয়ে দিল। পুরো ডাইনিং টেবিলে তখন পিনপতন নীরবতা। আরশান নিজের প্লেটে খাবার নিতে নিতে ফুপুর দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল — “সারাজীবন শুনে এসেছি তুমি নাকি দেখতে আমার দাদার মতো, কিন্তু স্বভাবটা যে আমার দাদী থেকে শিখেছ সেটা প্রকাশ করার খুব দরকার তো দেখছি না। দাদুও দেখতাম আম্মুর সঙ্গে এমনি করতো, তাইনা আম্মু?”

এ কথা শুনে ফুপুর মুখটা অপমানে কালো হয়ে গেল, পুরো পরিবারের সামনে আরশান এভাবে অপমানের শিকার হবে ভাবতেই পারিনি। রিমি নিচু হয়ে বসে থাকলেও ওর মনের ভেতর এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করতে লাগল। এই প্রথম আরশানের এই একগুঁয়েমি আর শাসনটা ওর কাছে আশ্রয়ের মতো মনে হলো। আরশান মানুষটা হয়তো জটিল, কিন্তু ওর ছায়ার নিচে দাঁড়ালে বাইরের ঝড় যেন নিমিষেই তুচ্ছ হয়ে যায়!

চলবে…

আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1AzPcRmEjY/?mibextid=oFDknk

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here