মন_হারালো_বেঘোরে #লেখনীতে_মেহেরীন #পর্ব_২৮

0
22

#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#পর্ব_২৮

বিকেলের আকাশটা আজ ভারী হয়ে আছে। ভীষণ গুমোট গরম পড়েছে। সকালে ছাদে কাপড় শুকাতে দেওয়া গিয়েছে সেগুলোই বিকেলে রিমি আনতে যায়। ছাদে পা রাখতেই রিমি দেখল নীরা রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। রিমি ওকে উপেক্ষা করে কাপড়গুলো নিতে শুরু করল। কিন্তু নিস্তব্ধতা ভাঙল নীরাই! নীরার কণ্ঠে একটা বিদ্রূপাত্মক সুর।

“আরশান ভাইয়ের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে তোমার জ্ঞান কতটা রিমি? ওর ব্যাপারে কিছু না জানা থাকলে আমি তোমাকে বলতে পারি”

রিমি কাপড় ভাঁজ করা থামিয়ে ধীরেসুস্থে নীরার দিকে ফিরল। ওর চোখে কোনো জড়তা নেই, বরং এক অদ্ভুত স্থিরতা। রিমি শান্ত অথচ স্পষ্ট গলায় বলল — “পছন্দ অপছন্দের ব্যাপারটা সবার ব্যক্তিগত বিষয়, জরুরি না সবাইকে সব জানতেই হবে। তোমার কাছ থেকে কোনো সেকেন্ড হ্যান্ড ইনফরমেশন নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করছি না আমি”

নীরা একটু থমত খেয়ে গেল, তবে দমে না গিয়ে বলল — “সেকেন্ড হ্যান্ড ইনফরমেশন? আরশান ভাইয়ের কফিতে ঠিক কতটা চিনি লাগে, ও কোন ব্র্যান্ডের পারফিউম ব্যবহার করে, কি খাবার ওর পছন্দ কি অপছন্দ এই ছোট ছোট জিনিসগুলোও আমি জানি। আমি নিশ্চিত তুমি এসবের কিছুই জানো না। আরশান ভাইকে আমি কতটা পছন্দ করি সে বিষয়েও তোমার ধারণা নেই, উনিও আমাকে পছন্দ করে। আর তুমি না এলে হয়তো আমাদের এতদিনে বিয়েও হয়ে যেতো!”

নীরার কথায় রিমি উত্তর দিলো না কারণ এই মেয়ের যে আরশানের প্রতি বা ওর বিষয়ে দুর্বলতা আছে সেটা রিমি বুঝেছে কিন্তু আরশান তো নিজের বিষয়ে সহজে কিছু প্রকাশ করেনা তাহলে এই মেয়ে এতকিছু কিভাবে জানে? নীরা আরো কিছু বলছিল, আরশান সম্পর্কে অনেক ছোটো বিষয়ও ও জানে এমনকি ছোটবেলার কিছু কাহিনীও বললো। আবার নীরা এমন কথাও বলেছে যে আরশান হয়তো ওকে দয়া করে বিয়ে করেছে! এসব শুনে রিমির ওই মুহূর্তে বিরক্ত লাগছিলো কারণ ওর মনে হচ্ছিল নীরা ওকে বোঝাতে চাইছে যে ওদের দুজনের মাঝখানে রিমি হঠাৎ চলে এসেছে। রিমি আর ওখানে না দাঁড়িয়ে গটগট করে ছাদ থেকে নেমে এল। তখন মুখ শক্ত রাখলেও ঘরের ভেতর ঢুকতেই ওর মনের ভেতর এক তোলপাড় শুরু হলো। সত্যিই কি তবে আরশানও নীরাকে পছন্দ করে? নীরা তো প্রতিটা অভ্যাস জানে, কিভাবে? নিশ্চয়ই আরশানই জানিয়েছে! হঠাৎ রিমির মনে হলো যেনো ও তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে ওদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে!

সন্ধ্যা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে রিমি রান্নাঘরে এসেছিলো কিছু খেতে, খেয়েই পড়ার টেবিলে বসবে। ইদানিং পড়াশোনায় বিশেষ মন বসেনা মেয়েটার, সারাক্ষণ মাথায় অনেক উল্টোপাল্টা ভাবনা ঘুরপাক খায়। পড়তে বসলেও আরশানের বলা অদ্ভুত কথা ও আচরণগুলো মনে পড়ে তাই আরশান যতক্ষণ বাসায় না থাকে ওই সুযোগে পড়ায় মনোযোগ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে মেয়েটা। তো ও রান্নাঘর থেকেই হঠাৎ ফুপুর কর্কশ ডাক শুনতে পেলো — “এইযে মেয়ে! বলি একাই খাবে নাকি আমাদেরও কিছু খাওয়াবে?”

রিমি তখন দ্রুত এক কাপ চা বানিয়ে নিয়ে ড্রয়িংরুমে গিয়ে দেখল ফুপু সোফায় জাঁকিয়ে বসে আছেন। ওনার সামনে বড় একটা কার্টন, আরশানকে দিয়ে সকালেই আরাফাত সাহেব এগুলো বের করেছিলেন মোছানোর জন্যে, মুছে ক্যাবিনেটে সাজিয়ে রাখবেন। এগুলো আরশানের দাদীর আমলের ভারী সব পিতল আর দামী পাথরের শোপিস। রিমি ফুপুর হাতে চায়ের কাপ দিতেই ফুপু ওর দিকে তাকিয়ে আদেশের স্বরে বললেন — “এই যে দেখো, এগুলো আমার মায়ের জিনিস বুঝেছো? দেয়াল ক্যাবিনেটের ওপরের তাকে এই ভারী শোপিসগুলো সাজিয়ে রাখতে হবে। তুমি তো লম্বা আছো, নাও এগুলো সব ওপরে তুলে দাও তো দেখি।”

“কিন্তু এগুলো তো আঙ্কেল বলেছিলো পরে…”

“কাজ ফেলে রেখে লাভ নেই, পরে পরে করে আর গোছানো হবেনা! তুমিই রেখে দাও”

রিমি তখন বিনীত স্বরে বলল — “ফুপু, আমি এখন একটু পড়তে বসবো। কাল সকালে কি এগুলো গুছিয়ে দেব?”

“পড়ার দোহাই দিলেই কি ঘরের কাজ বন্ধ থাকবে? একটু হাত চালাতে এত আলসেমি কিসের? এ বাড়ির বড় বউ হতে হলে সংসারের জিনিসের মর্যাদা বুঝতে হয়। যাও, যা বলছি করো!”

রিমি দেখল ফুপু নাছোড়বান্দা। এই অবস্থায় কথা বাড়ালে অশান্তি আরও বাড়বে। ও কোনো তর্ক না করে নিঃশব্দে ক্যাবিনেটের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। শোপিসগুলো একেকটা বেশ ওজনে ভারী। ও এক হাত দিয়ে ক্যাবিনেট ধরে অন্য হাতে একটা তীক্ষ্ণ পাথরের কারুকাজ করা শোপিস ওপরে তুলতে গেল। ওপরের তাকে হাত পৌঁছানো কষ্টকর ছিল, তার ওপর পাথরটা ছিল বেশ পিচ্ছিল। ফুপু নিচ থেকে অনবরত তাড়া দিচ্ছিলেন — “একটু তাড়াতাড়ি হাত চালাও মেয়ে!”

হঠাৎ শোপিসটার ভারসাম্য হারিয়ে গেল। পাথরটা রিমির হাত ফসকে যাওয়ার সময় সেটির একদিকের সুচালো অংশ রিমির হাতের তালুতে সজোরে আঁচড় কেটে বসে গেল। যন্ত্রণায় রিমির হাত কেঁপে উঠল এবং পাথরটা নিচে পড়ে সশব্দে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

“উফ!”— যন্ত্রণায় রিমির মুখ দিয়ে একটা গোঙানি বেরিয়ে এল। হাতের তালু চিরে দরদর করে র’ক্ত পড়তে শুরু করল। ভারী কিছু ভাঙার আওয়াজ শুনে সুরভী বেগম ঘর থেকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন। ফুপু সুযোগ পেয়েই তখন বলে উঠলেন— “দেখলে ভাবী? তোমার বউয়ের কাজের ছিরি দেখো। দামী জিনিসটা তো ভাঙলোই, এখন র’ক্তার’ক্তি কাণ্ড ঘটিয়ে বসে আছে। একটু কাজ দিলে হাত কেটে যায়, নবাবজাদী আর কাকে বলে! নীরা! আয় তো মা, তুই একটু হাত লাগা। দেখ ওরে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।”

সুরভী বেগম রিমির রক্তাক্ত হাত দেখে আঁতকে উঠলেন — “একি রিমি! অনেকটা কে’টে গেছে তো!”

নীরা যেন এই সুযোগেরই ওত পেতেই ছিল। ও খুব চটপটে ভঙ্গিতে স্টিলের মইয়ে উঠে বাকি শোপিসগুলো সাজিয়ে ফেলল। ফুপু তৃপ্তির হাসি হেসে সুরভী বেগমকে শুনিয়ে বলতে লাগলেন— “দেখেছ ভাবী? একেই বলে কাজের হাত। নীরা থাকলে আমার এই সাধের জিনিসগুলো ভাঙতো না। ঘরসংসার করতে গেলে হুঁশ লাগে, শুধু ভার্সিটিতে গিয়ে বড় বড় লেকচার শুনলেই বউ হওয়া যায় না।”

রিমি কোনো তর্ক করল না। ও শুধু দাঁতে দাঁত চিপে যন্ত্রণাটা সহ্য করল। র’ক্তমাখা হাতটা ওনার চোখের সামনে থেকে সরিয়ে নিয়ে ও মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। সুরভী বেগম রিমিকে দ্রুত ঘরে গিয়ে হাতটা ব্যান্ডেজ করে নিতে বললেন, উনিও কিছুটা টের পেয়েছেন যে এগুলো নীরার মায়ের ইচ্ছাকৃত পরিকল্পনা রিমিকে ছোটো করে দেখানোর জন্যে! রিমিরও বুঝতে বাকি নেই যে আরশানের ফুপু বা ফুপাতো বোন কেউই ওকে পছন্দ করেনা। রিমি দ্রুত ওপরে আসতেই ইনায়া ঘর থেকে বেরোলো — “নিচে কিসের আওয়াজ… একি রিমি! এতোটা হাত কিভাবে কাটলো?”

রিমি দ্রুত ঘরে গিয়ে হাতটা আগে পানি দিয়ে ধুয়ে নিলো, ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে! ইনায়াও ওর পিছু পিছু ঘরে এসেছে। পানি দিয়ে ধোয়ার পরেও মোটামুটি ভালোই র’ক্ত পড়ছে, অনেকটা কে’টেছে। রিমির চোখের জল তখন আর বাঁধ মানছে না। টপটপ করে নোনা জল মিশে যাচ্ছে হাতের ক্ষতের ওপর। শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসগুলো যেন ওকে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল। সবাই কেনো ওর সঙ্গে এমন করছে? আরশান একজন জোর করে বিয়ে করতে বাধ্য করলো এখন ওর ফুপু আর তার মেয়ে এসে আবার এসব করছে। রিমি জানেনা কোন দোষের জন্যে এসব শাস্তি পাচ্ছে। ইনায়া হন্তদন্ত হয়ে ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে এল। রিমির করুণ মুখটা দেখে ওর নিজেরও বুক ফেটে যাচ্ছিল। ইনায়া অত্যন্ত কোমল হাতে রিমির হাতটা ধরল — “রিমি, একটু স্থির হয়ে বস। আমি ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছি”

সুরভী বেগম সাধারণত শান্ত স্বভাবের মানুষ, কিন্তু বড় ননদের এমন নির্লিপ্ত আচরণ দেখে ওনার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। নীরা তখনো খুব সাবলীলভাবে শোপিস সাজিয়ে মই ছেড়ে নিচে নেমে এসেছে, মুখে এমন ভাব যেন ও খুব বড় কোনো বীরত্বের কাজ করেছে। সুরভী বেগম ওনার বড় ননদের দিকে তাকিয়ে বেশ কড়া গলায় বললেন — “আপা, কাজটা কিন্তু আপনি মোটেও ভালো করলেন না। আপনি খুব ভালো করেই জানেন রিমি একা এগুলো পারবে না তাহলে কেনো করাতে গেলেন?”

ফুপু চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে নির্বিকারভাবে বললেন — “আরে ভাবী, আমি আবার কী করলাম? কাজ করতে গেলে তো একটু-আধটু হাত কাটতেই পারে। হাত তো কাটল ওর নিজের অসাবধানতায়। সামান্য এইটুকু একটা কাজ যে মেয়ে সামলাতে পারে না, সে ভবিষ্যতে এই বিশাল বংশের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবে বলো তো? আমি তো ওকে ঘরের কাজ শেখাতে চাইছিলাম।”

সুরভী বেগমের কণ্ঠস্বর এবার আরও দৃঢ় হলো। ওনার চোখেমুখে স্পষ্ট বিরক্তি — “আপা, ও আমাদের বাড়ির বউ। ও কী পারবে আর কী পারবে না, সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের। আমরা ওকে কোনোদিন কাজের জন্য চাপ দিইনি। তাছাড়া আপনার ভাইপো যদি এই বিষয়ে জানতে পারে… আপনি তো জানেন ওর মেজাজ কেমন! ও কিন্তু রিমির বিষয়ে বিন্দুমাত্র অবহেলা সহ্য করবে না।”

“কি বললে ভাবী? আরশান? ও আমাকে কি বলবে? আর দুদিনের আসা ওই বাইরের একটা মেয়ের জন্য তুমি আমাকে আরশানের ভয় দেখাচ্ছ? আমি আরশানের বড় ফুপু, আমি ওকে ছোটো থেকে দেখেছি! আর তুমি দুদিনের আসা একটা মেয়ের জন্য আমাকে অপমান করছো?”

আরশানের ফুপু একটু ঝগড়ুটে ধাঁচের মহিলা এটা সুরভী বেগম ভালোভাবেই জানেন, তাই উনি ওই মুহূর্তে আর কথা বাড়ালেন না। উনি ঠিক করেছেন এই বিষয়ে সরাসরি আরাফাত সাহেবের সঙ্গে কথা বলবেন। বাইরের একজন জোর করে এই বাসায় নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে সেটা উনি কিছুতেই মেনে নেবেন না!
_____________________________________

বিগত কিছুদিন আরশানের ভীষণ ব্যস্ততায় কাটছে। নতুন একটা প্রজেক্ট, এক বিশাল ক্লায়েন্ট যেকোনো মূল্যে এই ডিলটা ওর চাই। এর আগেরবার একটা বড় সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ক্ষতটা ও এখনো ভুলতে পারেনি, তাই এবার নিজের সর্বস্ব দিয়ে লড়ছে ও। প্রজেক্ট প্রপোজাল তৈরি থেকে শুরু করে ক্লায়েন্টের মন জয় করা সবকিছুতে ও নিজেই তদারকি করছে। কাজের এই পাহাড়সম চাপের কারণে বাসায় ফিরতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। রাত তখন গভীর। আরশান যখন রুমে ঢুকল, দেখল পুরো ঘর অন্ধকারে ডুবে আছে। শুধু বারান্দার মৃদু আলোটা জ্বলছে। আরশান ল্যাপটপ ব্যাগটা টেবিলে রেখে বারান্দার দিকে উঁকি দিল। দেখল রিমি রেলিংয়ের পাশের রকিং চেয়ারে চুপচাপ বসে আছে। ওর পিঠটা আরশানের দিকে ফেরানো, খোলা চুলগুলো হালকা বাতাসে উড়ছে। রিমি খুব ভালো করেই জানে আরশান ফিরেছে, কিন্তু ও নড়ল না, কোনো কথা বলল না। কথা বলার বিন্দুমাত্র ইচ্ছাও ওর অবশিষ্ট নেই।আরশান ক্লান্ত হাতে টাইটা আলগা করল। নিজের শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে ও ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে গম্ভীর অথচ নরম স্বরে জিজ্ঞেস করল — “How was your day, sweetie? সারাদিন কী কী করলে?”

রিমি আকাশের দিকে তাকিয়েই শীতল গলায় জবাব দিল — “আমার আপনার সাথে কথা বলার ইচ্ছে নেই।”

আরশান আলমারি থেকে নিজের টি-শার্ট বের করতে করতে এক চিলতে হাসল — “I know you don’t want to talk to me। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। আমি প্রশ্ন করলে তোমাকে উত্তর দিতেই হবে। It’s my rules!”

রিমি উত্তর না দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিল। ওর ভীষণভাবে একা থাকতে ইচ্ছে করছে, নিজের কান্নার শব্দগুলো এই আকাশের সাথে ভাগ করে নিতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আরশান থাকলে এই দুনিয়ায় কি ‘প্রাইভেসি’ বলে কিছু থাকা সম্ভব? আরশান দ্রুত ফ্রেশ হতে বাথরুমে ঢুকল। মিনিট দশেক পর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে দেখল রিমি তখনো একই ভঙ্গিতে বারান্দায় বসে আছে। ও তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বারান্দার স্লাইডিং ডোরটা সরালো — “অনেক রাত হয়েছে রিমি। ভেতরে এসো”

রিমি তবুও বসে রইল, কোনো প্রতিক্রিয়াই নেই ওর। আরশান এবার একটু বিরক্ত হলো। ও রিমির খুব কাছে এগিয়ে এসে ওকে এক প্রকার জোর করে ঘর আনতে চাইল। ঠিক তখনই ওর নজর পড়ল রিমির ডান হাতের ওপর। সাদা ধবধবে ব্যান্ডেজটা বারান্দার আলোতে স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। আর ব্যান্ডেজের নিচ থেকে আসা হলুদাভ ওষুধের দাগ বলে দিচ্ছে ক্ষতটা মোটেও সামান্য নয়। আরশানের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। ও রিমির সামনে একদম হাঁটু মুড়ে মেঝেতে বসে পড়ল। রিমি তখনো চেয়ারে বসা, নিজের মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে রেখেছে। আরশান রিমির আহত হাতটা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজের হাতের ওপর রাখল। ওর স্পর্শে রিমি হাতটা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু আরশানের ধরা ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। সে রিমির হাতের গভীর ব্যান্ডেজটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। ওর কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। ওর কণ্ঠস্বরের সেই কাঠিন্য এখন এক গভীর উৎকণ্ঠায় রূপ নিয়েছে। ও রিমির চোখের দিকে তাকানোর চেষ্টা করে অত্যন্ত নিচু কিন্তু তীক্ষ্ণ স্বরে জিজ্ঞেস করল — “How did this happen?”

রিমি হাতটা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু আরশান ছাড়লে তো! ও উল্টে রেগে গেলো! — “কিছু জিজ্ঞাসা করছি তোমাকে, কি হয়েছে? এতো বড় আঘাত লেগেছে আমাকে জানাওনি কেনো ফোন করে। ডাক্তারের কাছে গেছিলে?”

আরশানের চোখমুখে চিন্তার ছাপ দেখে রিমি কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো, এরপর হুট করেই প্রশ্ন করে বসলো — “আপনি আমাকেই কেনো বিয়ে করেছেন আরশান? জোর করে আমাকে হাসিল করে আপনি কোন উদ্দেশ্যে সফলতা অর্জন করেছেন?”

চলবে…

আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1GnrwcwGo4/?mibextid=oFDknk

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here