বিপরীত_মেরুর_টানে #পর্ব_১৩

0
10

#বিপরীত_মেরুর_টানে
#পর্ব_১৩
#লেখনীতে_আরিবা_নাওশীন

সকালবেলা রিন্নিদের বাড়ি যাওয়ার জন্য ধুম লেগেছে। আফজাল চৌধুরী হুকুম দিয়েছেন, জামাই যাবে রাজকীয় হালে। তাই আরাভকে বাধ্য হয়ে নীল রঙের একটা সিল্কের পাঞ্জাবি পরতে হয়েছে।

আরাভ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবিটা ঠিক করছিল আর গজগজ করছিল। “গিন্নি, এই সিল্কের কাপড়টা পরলে গায়ে কেমন সুড়সুড়ি লাগে। আমার সাদা সুতি পাঞ্জাবিটা কী দোষ করেছিল?”

রিন্নি খাটে বসে আলতা পরছিল। সে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল, “সাদা পাঞ্জাবি পরলে আপনাকে হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় মনে হয়। আজ আমার বাবার বাড়ি যাচ্ছি, একটু কালারফুল না হলে লোকে কী বলবে? আর এই নীল রঙে আপনাকে… উমম… একটু কম পচা লাগছে।”

আরাভ পাঞ্জাবির হাতা বোতাম লাগাতে গিয়ে হঠাৎ “উহ!” করে চিৎকার দিয়ে উঠল। “রিন্নি! একি! আমার পিঠে কী যেন বিঁধছে!”

রিন্নি মনে মনে খিলখিল করে হাসল। সে পাঞ্জাবির ভেতরের দিকে খুব সাবধানে একটা ছোট সেফটিপিন আলগা করে আটকে রেখেছিল। সে খুব নিরীহ মুখ করে বলল, “কই? দেখি? ওহ, হয়তো কাপড়ের কোনো সুতো আপনার শক্ত গায়ে লেগে ব্যথা দিচ্ছে। সহ্য করে নিন স্যার, ডিল তো মনে আছে?”

আরাভ দাতে দাত চিপে বলল, “মনে আছে। কিন্তু এই নীল রঙের অত্যাচারের সাথে সাথে পিনের খোঁচাও খেতে হবে এটা ডিলের শর্তে ছিল না।”

গাড়ি রিন্নিদের বাড়ির সামনে এসে থামল। ফাহিম দৌড়ে দৌড়ে আসল। রিন্নি তাড়াতাড়ি ফাহিমকে গাড়ির মধ্যে বসিয়ে দেয়। আরাভ বোকার মতো তাকিয়ে আছে। রিন্নি একটা বোকার মতো হাসি দিয়ে বলে, “ফাহিম একা থেকে কি করবে? আমারদের সাথে চলুক”আরাভ কোনো কথা না বলে বসে গাড়িতে।

রিন্নির আব্বু হাসান সাহেব আর আম্মু গেটেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। জামাইকে নামতে দেখেই হাসান সাহেব জড়িয়ে ধরলেন।

“আরে এসো বাবা আরাভ! তোমাকে নীল পাঞ্জাবিতে একদম প্রিন্স মনে হচ্ছে।”

আরাভ একটা কাষ্ঠ হাসি দিয়ে বলল, “ধন্যবাদ আব্বু। আসলে নীল রঙের সাথে আমার একটা… উমম… যন্ত্রণাদায়ক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে আজ।”

ঠিক তখনই ড্রয়িংরুমের কোণা থেকে তানিন উদয় হলো। আজ সে পাঞ্জাবির ওপর একটা নেহেরু জ্যাকেট পরেছে, হাতে একটা বিশাল ফলের ঝুড়ি।

রিন্নিকে দেখেই সে ম্লান হেসে বলল, “রিন্নি, তুমি এলে? পরশমণি ছোঁয়ানো এই আঙ্গিনায় আজ যেন শরতের মেঘ এসে ধরা দিয়েছে।”

আরাভ পাশ থেকে বিড়বিড় করল, “শরতের মেঘ না, আজ নির্ঘাত শিলাবৃষ্টি হবে এই কবির মাথায়।”

সবাই ভেতরে গিয়ে বসল। তানিন সুযোগ বুঝে রিন্নির একটু কাছে গিয়ে বসল। আরাভের চোখে সেটা ধরা পড়ল। সে দেখল তানিন রিন্নির দিকে তাকিয়ে একটা চিরকুট এগিয়ে দিচ্ছে।

আরাভ উঠে গিয়ে তানিন আর রিন্নির মাঝখানে ধপাস করে বসে পড়ল। তানিন থতমত খেয়ে গেল। আরাভ খুব শান্তভাবে বলল, “কী খবর তানিন সাহেব? আপনার কবিতার বাজার কেমন? নতুন কোনো ভাইরাস… থুড়ি… নতুন কোনো ছন্দ মাথায় এল?”

তানিন আমতা আমতা করে বলল, “জি স্যার, এই তো লিখছি। রিন্নিকে নিয়ে একটা নতুন কাব্য সাজিয়েছি।”

রিন্নি হাসতে হাসতে বলল, “তাই নাকি তানিন ভাই? শুনুন না একটু!”

তানিন গলা পরিষ্কার করে শুরু করল, “নীল সাগরের মাঝে যেন এক চিলতে রোদ হাসে,
যার বিরহে এই অধমের দিনগুলো সব দীর্ঘশ্বাসে ভাসে…”

আরাভ এক হাত দিয়ে নিজের পিঠের ওই পিনের খোঁচাটা সহ্য করার চেষ্টা করছিল, আর অন্য হাতে সোফার কুশনটা কামড়ে ধরছিল। রিন্নি আরাভের এই অবস্থা দেখে খুব মজা পাচ্ছে। সে তানিনকে উৎসাহ দিয়ে বলল, “বাহ! তানিন ভাই, আপনার শব্দগুলো তো একদম তীরের মতো মনে বিঁধছে!”

আরাভ এবার আর থাকতে পারল না। সে মুচকি হেসে তানিনকে বলল, “তানিন সাহেব, আপনার শব্দগুলো তীরের মতো কি না জানি না, তবে আমার পাঞ্জাবিতে যে একটা সত্যিকারের তীর বিঁধে আছে সেটা আমি বুঝতে পারছি।” সে রিন্নির দিকে তাকিয়ে বলল, “রিন্নি, আপনার হাতের ওই আলতা দিয়ে কি তানিন সাহেবের ডায়েরিতে একটা বর্ডার টেনে দেবেন? কারণ ওনার সীমা লঙ্ঘন করার প্রবণতা বাড়ছে।”

হাসান সাহেব খাবার টেবিল থেকে ডাকলেন, “কিরে তোমরা গল্প করছ কেন? জামাই আসো, তোমার জন্য তোমার প্রিয় সব খাবার রান্না করা হয়েছে।”

খাবার টেবিলে বসে আরাভ দেখল এলাহি কাণ্ড। ইলিশ মাছ, খাসির মাংস, চিংড়ি মালাইকারি সবই আছে।

রিন্নি আরাভের পাতে একটা বড় মাছের মাথা তুলে দিয়ে বলল, “নিন স্যার, এটা খেলে আপনার ওই শক্ত ব্রেনটা একটু নরম হবে।”

আরাভ ফিসফিস করে বলল, “রিন্নি, এই পিনটা আগে সরান, নাহলে আমি এই মাছের কাঁটা দিয়ে তানিনের ডায়েরি ছিঁড়ে ফেলব।”

রিন্নি হাসতে হাসতে আরাভের পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। খুব সাবধানে পিনটা খুলে নিজের আঁচলে লুকিয়ে ফেলল। আরাভ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।

খাবার শেষে আরাভ চৌধুরী সোফায় বসে এমন ভাবে আড়ষ্ট হয়ে আছে যেন সে কোনো রাজকীয় সিংহাসনে বসেছে, আর নড়াচড়া করলেই সিংহাসনটা ভেঙে যাবে।

রিন্নি ভেতর থেকে এক বাটি আমড়া মাখানো নিয়ে এল। আরাভের সামনে বাটিটা ধরে বলল, “নিন স্যার, আমড়া খান। এটা খেলে দাঁত শক্ত হয়, তখন আমাকে বকা দিলে আপনার কথাগুলো আরও বেশি ধারালো লাগবে।”

আরাভ ভুরু কুঁচকে আমড়ার দিকে তাকিয়ে বলল, “এই সব হাই-এসিডিক খাবার আমি খাই না। আর আপনার কি কোনো কাজ নেই? সকাল থেকে আমাকে পিন মা*রা ছাড়া আর কিছু করলেন না।”

রিন্নি একটা আমড়া কামড়ে দিয়ে বলল, “পিন তো কাল আপনার পাঞ্জাবিতে মে*রেছিলাম স্যার, আজ তো শুধু আপনার মনে মা*রছি। আর হ্যাঁ, মনে রাখবেন বাবার বাড়িতে আমি কিন্তু কুইন। আপনি এখানে শুধু একজন ভিজিটর!”

আরাভ কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই তানিয়া ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকল। রিন্নিকে দেখেই সে এক বিশাল চিৎকার দিল। আরাভ চমকে উঠে নিজের চশমাটা নাক থেকে ফেলে দিচ্ছিল প্রায়। “নারী জাতি ন্যাকামিতে পিএইচডি করা। বাপ রে! এত জোরে চিৎকার করা লাগে যেন এলিয়েন দেখছে।”

তানিয়া এসেই রিন্নিকে জড়িয়ে ধরল, “রিন্নি! তুই তো দেখি বিয়ের পর আরও সুন্দর হয়ে গেছিস। আর জামাই তো দেখি একদম মাটির মানুষ! কী শান্তভাবে আমড়া দেখছেন!”

রিন্নি হাসতে হাসতে বলল, “মাটির মানুষ না রে, ওটা একটা আগ্নেয়গিরি। ভেতরে লাভা ফুটছে, শুধু বের হতে পারছে না। তুই বস, তানিন ভাই কোথায়?”

তানিয়া মুখটা হাঁড়ি করে বলল, “আছেন তো ওই বাগানে। তোর বিরহে কাবু হয়ে এখন মশার কামড় খাচ্ছেন আর ডায়েরি লিখছেন। রিন্নি, আমাকে একটু হেল্প কর না! ওই হাড়কিপ্টে কবিটা কেন আমাকে দেখে না? তুই তো এখন বিবাহিত, অন্তত এবার ওকে বুঝিয়ে বল না যে তানিয়া নামের একটা মেয়ে ওর জন্য জান দিতে পারে!”

রিন্নি আর তানিয়া মিলে যখন তানিনকে পোটানোর জন্য অপারেশন কবিরাজ নামক গোপন পরিকল্পনা করছে, ঠিক তখন বাড়ির পেছনের বাগানে এক ঐতিহাসিক অঘটন ঘটে চলেছে।

ফাহিম ভেবেছিল সবাই যখন ড্রয়িংরুমে ব্যস্ত, তখন সে একটু নয়নার সাথে কথা বলে নেবে। নয়না হলো রিন্নিদের পাশের বাড়ির মেয়ে। ফাহিম বাগানের এক কোণায় দাঁড়িয়ে ফোনে ফিসফিস করে কথা বলছে আর লজ্জা পেয়ে মোচড়াচ্ছে।

“নয়না, বিশ্বাস করো… তোমার চোখের দিকে তাকালে আমার মনে হয় আমি কোনো নীল সাগরে ডুবে ম-রে যাই। তুমি কি আজ নীল রঙের ওড়না পরে ছাদে আসবে?”

ঠিক এই সময়েই আরাভ ল্যাবের একটা জরুরি কল করার জন্য নিরিবিলি খুঁজতে খুঁজতে বাগানে চলে এল। ফাহিমের ওই নীল সাগরে ডুবে ম*রার সংলাপটা আরাভের কানে যেতেই সে থমকে দাঁড়াল। আরাভ নিঃশব্দে ফাহিমের ঠিক পেছনে গিয়ে দাঁড়াল।

ফাহিম তখনো মগ্ন, “নয়না, রিন্নি ভাবী সব জানে। ভাবী তো আমাদের দলে। কিন্তু বড় ভাইয়াটা তো আস্ত একটা হিটলার! ও জানলে আমাকে একদম চার্জার দিয়ে বেঁধে রাখবে। তুমি চিন্তা করো না, হিটলার এখন আমড়া চিবোচ্ছে।”

আরাভ এবার ফাহিমের কানের কাছে গিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল, “হিটলার কি শুধু আমড়া চিবোয় ফাহিম? নাকি মাঝেমধ্যে অবাধ্য ভাইদের হাড়গোড়ও চিবিয়ে ফেলে?”

ফাহিম যেন জ্যান্ত ভূত দেখল! সে লাফ দিয়ে তিন হাত দূরে সরে গেল, আর তার হাত থেকে ফোনটা টুপ করে ঘাসের ওপর পড়ে গেল। ফাহিম কাঁপতে কাঁপতে বলল, “ভাইয়া.. আপনি… মানে…. আমি ড্রেনেজ সিস্টেম দেখছিলাম…”

আরাভ ফোনটা মাটি থেকে তুলে নিয়ে দেখল কলার আইডিতে লেখা ‘নয়না (মাই হার্ট)’. আরাভ ফোনটা কানে দিয়ে বলল, “হ্যালো নয়না, হিটলার বলছি। ফাহিম এখন ড্রেনেজ সিস্টেম দেখছে, আপনি কি ড্রেনের ভেতর থেকে কথা বলছেন?”

ওপাশ থেকে নয়না একটা চিক্কার দিয়ে ফোন কেটে দিল। ফাহিম তখন প্রায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে। “ভাইয়া, প্লিজ… আব্বুকে বলবেন না। নয়না রিন্নি ভাবীর বান্ধবীর ছোট বোন। ও খুব ভালো মেয়ে।”

আরাভ রাগে কাঁপতে কাঁপতে ফাহিমের কলার ধরল। “রিন্নি জানে? রিন্নি কাল রাতে আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে জড়িয়ে ধরল যাতে আমি এখানে শান্ত থাকি, আর সে তোকে এখানে প্রেম করার সুযোগ করে দিচ্ছে? তার মানে জেরি আর ছোট জেরি মিলে আমাকে একদম পা-গল বানিয়ে ছেড়েছিস?”

আরাভ হিড়হিড় করে টেনে ফাহিমকে ড্রয়িংরুমে নিয়ে এল। সেখানে তখন রিন্নি, তানিয়া আর হাসান সাহেব বসে চা খাচ্ছিলেন। তানিনও এক কোণায় বসে তানিয়ার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে ডায়েরি লিখছিল।
আরাভ ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকে ফাহিমের ফোনটা টি টেবিলের ওপর আছাড় দিল। “এই নিন আপনাদের প্রেম কাহিনী! রিন্নি, আপনি এই সব জানতেন?”

রিন্নি থতমত খেয়ে গেল। “স্যার.. মানে… ফাহিম তো ছোট মানুষ…”

আরাভ চিৎকার করে উঠল, “ছোট মানুষ? ছোট মানুষ কি নীল সাগরে ডুবে ম*রার পরিকল্পনা করে? আর এই নয়না নামের মেয়েটা কে? তার সাথে ফাহিমের ডায়েরি আদান-প্রদান হচ্ছে কেন? হেড স্যারের মেয়ের সাথে প্রেম করে ফাহিম তো আমার চাকরিটাও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে!”

হাসান সাহেব অবাক হয়ে বললেন, “আরে বাবা আরাভ, শান্ত হও। ছোটদের মন…”

“শান্ত হব না আব্বু!” আরাভ চেঁচিয়ে বলল। “ফাহিম, এখনই ব্যাগ গুছিয়ে গাড়িতে ওঠ। আর রিন্নি, আপনার এই ষড়যন্ত্রের বিচার আমি বাসায় গিয়ে করব। আপনি কাল রাতে আমাকে চার্জ করার নামে যা নাটক করেছেন, তার আসল উদ্দেশ্য আমি বুঝে গেছি।”

রিন্নি এবার রেগে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। “কী নাটক করেছি আমি? ফাহিম কাউকে পছন্দ করলে আপনার সমস্যা কী? আপনি কি চান ও আপনার মতো সারা দিন খিটখিটে হয়ে চশমার আড়ালে মুখ লুকিয়ে থাকুক? আপনার জীবনে তো কেউ নেই, তাই আপনি অন্যের ভালো দেখতে পারেন না!”

তানিয়া আর তানিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই লড়াই দেখছে। তানিন ডায়েরিতে নোট নিতে শুরু করল “প্রেমের দায়ে ভাই আজ খু*নি, রিন্নি আজ মহিষাসুর মর্দিনী…”( ভাই আমারই হাসি আসতেছে😆)

আরাভ কোনো কথা না শুনে ফাহিমকে একরকম টেনে হিঁচড়ে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে লাগল। রিন্নি পেছন থেকে চিৎকার করতে লাগল, “যান! পালিয়ে যান! আপনি একটা ভীতু হিটলার!”

আরাভ পিছনে না ফিরে বলল,” ২মিনিটের মধ্যে যেন গাড়িতে দেখি!”

রিন্নি :” আমি যাব না। আপনিই যান। ”

বলল তো ঠিকই কিন্তু পিছ পিছ ঠিকই গাড়িতে গিয়ে বসল। আরাভ গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিয়ে রিন্নির দিকে তাকিয়ে বলল, “জেরি মনে করেছিল সে টমকে জব্দ করেছে। কিন্তু জেরি ভুলে গেছে, টম যখন ক্ষেপে যায় তখন সে পুরো বাড়ি মাথায় করে নেয়। বাসায় আসুন মিসেস জেরি, আপনার জন্য নতুন ভাইভা ওয়েট করছে।”

গাড়িটা ধুলো উড়িয়ে বেরিয়ে গেল। ফাহিমের কান্নার আওয়াজটা হালকা হয়ে মিলিয়ে গেল। রিন্নি রাগে পা গাড়ির দরজায় বার বার বাড়ি দিচ্ছে।”

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here