#বিপরীত_মেরুর_টানে
#ঊনত্রিশতম_পর্ব
#লেখনীতে_আরিবা_নাওশীন
সকালের সেই পরিত্যক্ত কারখানার ধুলোবালি আর র*ক্তের দাগ এখনো যেন রিন্নির চোখে লেগে আছে। ভোরের আলো ফুটতেই শরীরে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে ওরা বাড়িতে ফিরেছিল। আরাভের হাতের সেই আঁচড়টা ড্রেসিং করে দিতে গিয়ে রিন্নি কেঁদে ফেলেছিল, আর আরাভ ওকে আগলে রেখেছিল। একাহাতে ব্যথা নিয়ে অন্য হাতে রিন্নির মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে স্বান্তনা দিছে কিন্তু সেই শান্তির স্থায়িত্ব যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তা কে জানত!
সকাল ১০টা। ভার্সিটির করিডোরে পা রাখতেই রিন্নি দেখল এক অদ্ভুত স্তব্ধতা। প্রিন্সিপাল স্যারের রুমের সামনে জটলা। মাঝখানে সোনিয়াকে দেখা যাচ্ছে, ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। হাতে একটা স্মার্টফোন।
আরাভকে দেখেই প্রিন্সিপাল সাহেব গম্ভীর কণ্ঠে ডাকলেন, “আরাভ চৌধুরী! আপনার মতো একজন দায়িত্বশীল প্রফেসরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসবে, তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। সোনিয়া দাবি করছে, আপনি কাল রাত ২টায় ওকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠিয়েছেন এবং ছাদে দেখা করতে বলেছেন!”
রিন্নি এক পা এগিয়ে ফোনের স্ক্রিনটা দেখল। সেখানে সত্যি সত্যি আরাভের নম্বর থেকে লেখা “সোনিয়া, রিন্নিকে বিয়ে করে আমি বড় ভুল করেছি। আসলে আমার মনের পাসওয়ার্ড তো শুধু তোমার কাছে। আজ রাতে ল্যাবে একা আসতে পারবে? তোমাকে কিছু স্পেশাল প্র্যাকটিক্যাল শেখাব।”
মেসেজটা পড়া মাত্রই রিন্নির মাথার রগ দপদপিয়ে উঠল। কাল সারারাত সে আরাভকে পাহারা দিয়েছে, সারারাত হ্যাকিং শিখল, আর এখন এই দৃশ্য? রিন্নি রাগে ফেটে পড়ে আরাভের কলার চেপে ধরার উপক্রম করে বলল
“বাহ্ স্যার! চমৎকার! আপনি কাল রাতে না ঘুমিয়ে অন্য মেয়েদের প্র্যাকটিক্যাল শেখানোর প্ল্যান করেন? আর আমি বোকার মতো ভাবতাম আপনি বুঝি আমার জন্য জান বাজি রেখে ফাইট করছেন! আমার মধ্যে কী কমতি ছিল শুনি? থাকব না আমি আপনার সাথে! কাল কেন, আমি আজই বাপের বাড়ি চলে যাব। আপনি গিয়ে ওই সোনিয়াকে নিয়েই ল্যাবরেটরিতে সংসার পাতুন!”
আরাভ এক মুহূর্ত বিমূঢ় হয়ে রিন্নির দিকে তাকিয়ে রইল। রিন্নির এই হুটহাট বাপের বাড়ি যাওয়ার আল্টিমেটামটা ওর কাছে খুব চেনা এক সূত্র। আরাভ শান্তভাবে সনিয়ার ফোনটা হাতে নিল। ওর ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত শীতল হাসিটা ফুটে উঠল। সে প্রিন্সিপাল সাহেবের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত শান্ত গলায় বলল
“মাঝে মাঝে নিজের নামে অন্যের কাছে এমন কিছু শুনি যেটা শুনে আমার শিরায় শিরায় থাকা শয়তানও অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে এই অকাম কখন করবি বাপ? আমাকে অন্তত আগে বলতি, আমি প্রিপারেশন নিতাম!”
পুরো রুম এক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আরাভ এবার সোনিয়ার চোখের দিকে তীক্ষ্ণভাবে তাকাল। সোনিয়া ভয়ে এক পা পিছিয়ে গেল। আরাভ নিজের পকেট থেকে একটা ছোট ডিভাইস বের করে সোনিয়ার ফোনের কাছে ধরল। কয়েক সেকেন্ডে ফোনের স্ক্রিনে লাল অক্ষরে ভেসে উঠল “SPOOFED MESSAGE DETECTED: IP CLONED.”
আরাভ রিন্নির দিকে ফিরে এক ভ্রু কুঁচকে নিচু স্বরে বলল, “কাল সারারাত তোমার সাথে ছিলাম আমি, এমনকি তোমার ওই হ্যাকিং শেখার ধাক্কায় আমার চোখের ঘুম উড়ে গিয়েছিল। জখম হাতে আমি কখন ওরে মেসেজ দেব ওটা একবারও ভাবলে না? আমার কি চারটে হাত নাকি?”
রিন্নি মুখ ঝামটা দিয়ে ততোধিক জোরে বলল, “হ্যাঁ তো! আমি তো ঘুমিয়ে পড়েছিলাম! আপনি তো জাদুকর, ল্যাপটপ টিপে কখন হাত সরিয়ে টাইপ করেছেন আমি বুঝব কী করে? আমার সন্দেহ হচ্ছে!”
আরাভ এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে সবার সামনেই রিন্নির হাতটা শক্ত করে ধরে হাসতে হাসতে বলল
“এই জন্যই বলে মেয়ে মানুষের বুদ্ধি হাঁটুর নিচে থাকে! জেরি, এত যখন সন্দেহ তোমার বরের ওপর, তাহলে রাতে ঘুমাও কেন শুনি? ঘুমানোর দরকার কী? স্বামীকে সারারাত পাহারা দিলেই পারো! একটা সিসিটিভি ক্যামেরা কিনে কপালে ফিট করে নাও, যাতে আমি নিশ্বাস ফেললেও তোমার ল্যাপটপে নোটিফিকেশন যায়।”
পুরো করিডোরে এবার হাসির রোল পড়ে গেল। রিন্নি লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে তো রাগের মাথায় বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা বলছিল, এখন লোক হাসানোর পাত্রী সে নিজেই। আরাভ প্রিন্সিপাল সাহেবকে বুঝিয়ে দিল যে, সোনিয়ার ফোন হ্যাক করে কেউ এই মেসেজ পাঠিয়েছে যাতে আরাভের ইমেজ নষ্ট করা যায়। সোনিয়া ধরা খেয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। শাস্তিস্বরূপ তাকে ১ মাসের জন্য কলেজ থেকে দরখাস্ত করা হলো।
বাড়ি ফেরার পথে:
গাড়িতে রিন্নি এক কোণায় মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। আরাভ গাড়ি চালাতে চালাতে আড়চোখে রিন্নিকে দেখছে।
আরাভ টিপ্পনী কাটল, “তা বাপের বাড়ি যাওয়ার সুটকেস কি গোছানো শেষ? টিকিট কি আমি বুক করে দেব নাকি আমার ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে নিজেই কাটবে?”
রিন্নি গাল ফুলিয়ে বলল, “চুপ করুন! আপনি খুব খারাপ। সবার সামনে বললেন আমার বুদ্ধি হাঁটুর নিচে? আপনি কি জানেন না আমি এই ডিপার্টমেন্টের টপার স্টুডেন্ট?”
আরাভ হেসে ফেলল। সে রাস্তার পাশে গাড়িটা এক নিমিষে থামিয়ে দিল। রিন্নি চমকে উঠে বলল, “থামলেন কেন? এখন কি মাঝরাস্তায় আমাকে নামিয়ে দেবেন নাকি?”
আরাভ রিন্নির সিটবেল্টটা খুলে ওর একদম কাছাকাছি ঝুঁকে এল। রিন্নি ভয়ে সিটে পিঠ ঠেকিয়ে দিল। আরাভ ওর নাকে নাক ঘষে আদুরে গলায় বলল
“টপার স্টুডেন্টদের যখন হিংসে হয়, তখন তাদের আইকিউ (IQ) জিরো হয়ে যায় জেরি। আর তুমি যখন বাপের বাড়ি যাওয়ার হুমকি দাও, তখন আমার মনে হয় তোমাকে একটা ফায়ারওয়াল দিয়ে এই গাড়ির ভেতরেই বন্দি করে রাখি। আজ থেকে রাতে কিন্তু আমার ঘুম মানা। কারণ আমাকে তো তোমাকে পাহারা দিতে হবে, পাছে তুমি আবার স্বপ্নে কোনো সনিয়াকে দেখে বাপের বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরো!”
রিন্নি এবার খিলখিল করে হেসে ফেলল। সে আরাভের গালটা টেনে দিয়ে বলল, “আপনি একটা আস্ত শয়তান স্যার! লজিক দিয়ে সবসময় জিতে যান।”
আরাভ রিন্নির ঠোঁটে একটা আলতো চুমু খেয়ে বলল, “জিতি না রিন্নি, আত্মসমর্পণ করি। কাল রাতের ওই ঘটনার পর ওরা চাইছে আমাদের আলাদা করতে। তাই এখন থেকে খুনসুটি করো কিন্তু বিশ্বাসটা হ্যাক হতে দিও না।”
বাসায় ফিরতেই দেখা গেল ফাহিম ড্রয়িংরুমে বসে নয়নার সাথে ভিডিও কলে ঝগড়া করছে। নয়না নাকি রাগে ফাহিমের গেমের আইডি ব্লক করে দিয়েছে! আরাভ আর রিন্নি একে অপরের দিকে তাকিয়ে হোহো করে হেসে উঠল। চৌধুরী ভিলার অশান্তির মাঝেই এক চিলতে সুখের পরশ পাওয়া গেল।
সকালে জানালার পর্দা ভেদ করে রোদের একটা চিকচিক রেখা রিন্নির চোখের ওপর পড়তেই ওর ঘুমটা ভেঙে গেল। হাত বাড়িয়ে পাশে আরাভকে খুঁজল, কিন্তু বিছানাটা খালি। গতরাতের সেই খুনসুটি আর সনিয়ার অপবাদ থেকে মুক্তির পর রিন্নির মনটা আজ বেশ ফুরফুরে।
বিছানা ছেড়ে উঠতে গিয়ে দেখল বালিশের পাশে একটা ছোট লাল গোলাপ আর একটা সাদা চিরকুট রাখা। চিরকুটে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা “জেরি, আজ আমাদের ফিজিক্স এর প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস বন্ধ। আজ শুধু বায়োলজি আর কেমিস্ট্রির ডেট। রেডি থেকো, ১১টায় বেরব। পিএস: বেশি সাজলে কিন্তু ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়ব!”
রিন্নি চিরকুটটা ধরে মুচকি হাসল। “এই হিটলার প্রফেসরটাও না! ডেটে যাওয়ার জন্য আবার শর্ত দিচ্ছে!”
ঠিক ১১টা বাজার পাঁচ মিনিট আগে রিন্নি তৈরি হয়ে নিচে নেমে এল। পরনে হালকা নীল রঙের একটা জামদানি শাড়ি।
আরাভ নিচে সোফায় বসে ল্যাপটপ টিপছিল। রিন্নিকে নামতে দেখে সে এক মুহূর্তের জন্য ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরাল। চশমার আড়ালে আরাভের চোখ দুটো যেন আজ একটু বেশিই উজ্জ্বল।
আরাভ ল্যাপটপটা বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল। “১১টা বাজতে আরও চার মিনিট বাকি। সময়ের আগে চলে এলে যে? বাপের বাড়ি যাওয়ার ব্যাগ কি তবে আজ আর গোছানো হচ্ছে না?”
রিন্নি মুখ বাঁকিয়ে বলল, “বাপের বাড়ি যাব না তো কী! আপনি যেভাবে সবার সামনে অপদস্থ করলেন.. বুদ্ধি নাকি আমার হাঁটুর নিচে! আজ যদি আপনি আমাকে ভালো কোনো জায়গায় খাওয়াতে না পারেন, তবে বাপের বাড়ি যাওয়ার ট্রেনের টিকিটটা আপনার ক্রেডিট কার্ড দিয়েই কাটব।”
আরাভ হেসে ফেলল। রিন্নির হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল, “জেরি, তোমার বুদ্ধি হাঁটুর নিচে হলেও মনটা কিন্তু আমার ল্যাপটপের মেমোরির চেয়েও বড়। চলো, আজ তোমাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যাব যেখানে কোনো সোনিয়া নেই, কোনো ডার্ক ওয়েব নেই আছে শুধু আমি আর আমার একরোখা জেরি।”
গাড়িটা ঝড়ের বেগে ছুটে চলেছে শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে নির্জন এক লেক সাইডের দিকে। রিন্নি জানালার বাইরে তাকিয়ে গান গুনগুন করছিল। হঠাৎ আরাভ গাড়িটা একটা শান্ত নিরিবিলি ক্যাফের সামনে দাঁড় করাল। ক্যাফেটা সাজানো হয়েছে একদম ল্যাপটপের মাদারবোর্ডের মতো ডিজাইনে!
রিন্নি অবাক হয়ে বলল, “এটা কী! ডেটে এসেও কি আমাকে ফিজিক্সের ল্যাবে নিয়ে এলেন?”
আরাভ গাড়ি থেকে নেমে রিন্নির জন্য দরজা খুলে দিল। “এটা একটা টেক-ক্যাফে জেরি। আমিই এটা ডিজাইন করেছি। আজ পুরো ক্যাফেটা বুক করা শুধু তোমার আর আমার জন্য।”
ভেতরে ঢুকতেই রিন্নি দেখল প্রতিটি টেবিলে ছোট ছোট রোবট ওয়েটার ঘুরছে। একটা রোবট এসে ওদের সামনে দাঁড়িয়ে যান্ত্রিক স্বরে বলল, “ওয়েলকাম প্রফেসর আরাভ এন্ড হিজ বিউটিফুল ওয়াইফ। আজ কি আপনারা ঝগড়া মেনু অর্ডার করবেন নাকি রোমান্টিক ডিনার?”
রিন্নি হেসে কুটিপাটি। সে আরাভের দিকে তাকিয়ে বলল, “স্যার! আপনি কি রোবটটার মধ্যেও কোডিং করে রেখেছেন নাকি?”
আরাভ রিন্নিকে একটা টেবিলের সামনে বসিয়ে দিয়ে ওর চোখের ওপর নিজের চশমাটা আলতো করে পরিয়ে দিল। “আজ আমার জেরি এই চশমা দিয়ে জগত দেখবে। বলো তো, এই করিডোরে কোনো অকাম করার সুযোগ আছে?”
রিন্নি চশমার ভেতর দিয়ে চারপাশটা দেখছিল। হঠাৎ ওর নজরে এল ক্যাফের এক কোণায় সোনিয়া আর একটা লোক নিচু স্বরে কথা বলছে। রিন্নি চমকে উঠে চশমাটা খুলে ফেলল।
“আরাভ! দেখুন! ওই তো সোনিয়া! ও এখানে কেন?”
আরাভ শান্তভাবে কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলল, “আমি জানি ও এখানে। আজ সোনিয়াকে আমি এখানে ডেকেছি। ওর পেছনের আসল হ্যাকারকে ডিকোড করার জন্য। জেরি, তুমি শান্ত হয়ে বসো। আজ তোমাকে দেখাব কীভাবে একটা প্রফেশনাল হ্যাকিং ডিল ক্লোজ করতে হয়।”
রিন্নি ভয়ে আরাভের হাতটা চেপে ধরল। “আবার বিপদ? আমরা কি একটু শান্তিতে ডেট করতে পারি না?”
আরাভ রিন্নির হাতের ওপর নিজের হাতটা রেখে খুব আদুরে গলায় বলল, “বিপদ মানেই তো রোমাঞ্চ রিন্নি। আর আমার সাথে থাকলে তোমায় একটু বেশিই বিপদ সাথে নিয়ে সংসার করতে হবে। কিন্তু ভয় নেই, তোমার এই বরের ডিকশনারিতে হার বলে কিছু নেই।”
ঠিক তখনই সোনিয়া আর ওই লোকটা ওদের টেবিলের দিকে এগিয়ে এল। লোকটার চেহারায় এক ধরণের নৃশংসতা। সোনিয়া বেশ গর্বিত ভঙ্গিতে বলল, “স্যার! আপনি কি ভেবেছিলেন আমাকে ভার্সিটি থেকে বের করে দিলেই সব শেষ? এই দেখুন, ডার্ক ওয়েবে র মাস্টারমাইন্ড টাইগারের বড় ভাই, ড্রাগন!”
আরাভ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। ওর সেই গম্ভীর প্রফেসর লুকটা মুহূর্তেই ফিরে এল। সে ড্রাগনের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত শান্ত গলায় বলল
“মাঝে মাঝে নিজের শত্রুদের সামনে দাঁড়িয়ে আমার শিরায় শিরায় থাকা শয়তানটা জিজ্ঞেস করে এই অকামগুলো করতে এদের লজ্জাও লাগে না? ড্রাগন, তুমি কি জানো তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছো, সেখানে প্রতিটি ইঞ্চিতে আমি সেন্সর ফিট করে রেখেছি?”
ড্রাগন হাসল। “সেন্সর দিয়ে কী হবে আরাভ? তোমার বউ তো এখন আমার নাগালের মধ্যে।”
আরাভ রিন্নিকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে ড্রাগনের চোখের গভীরে তাকাল। “আমার বউকে ছোঁয়ার আগে তোমাকে আমার ফায়ারওয়াল পার হতে হবে। আর শোনো সোনিয়া, তুমি যে ব্লু-চিপটা চুরি করার জন্য আজ ড্রাগনকে এখানে নিয়ে এসেছো, সেটা অলরেডি তোমার ব্যাগে আছে। কিন্তু সেটা আসল চিপ নয়, ওটা একটা ডিজিটাল ট্র্যাকার। এখন থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টা তোমরা যেখানেই যাবে, পুলিশ তোমাদের ছায়ার মতো অনুসরণ করবে।”
সোনিয়া চমকে উঠে নিজের ব্যাগটা চেক করতে গেল। অমনি চারপাশ থেকে পুলিশের সাইরেন শোনা গেল। ড্রাগন আর সোনিয়া পালানোর চেষ্টা করতেই ক্যাফের রোবটগুলো ওদের পথ আটকে দাঁড়াল।
আরাভ রিন্নির দিকে ফিরে মুচকি হেসে বলল, “দেখলে জেরি? আমার রোবটগুলো শুধু কফি সার্ভ করে না, ওরা গুণ্ডা ধরতেও ওস্তাদ।”
পুলিশ ওদের নিয়ে যাওয়ার পর ক্যাফেটা আবার শান্ত হয়ে গেল। রিন্নি হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। সে আরাভের কলারটা টেনে ধরে বলল, “আপনি একটা আস্ত শয়তান! ডেটে এসেও এসব প্ল্যান করে রেখেছিলেন?”
আরাভ রিন্নিকে নিজের বুকের খুব কাছে টেনে নিল। “প্ল্যান না করলে কি আমার জেরিকে আজ সুরক্ষিতভাবে ডিনার করাতে পারতাম? এখন বলো জেরি, এই শয়তান বরের সাথে কি সারা জীবন এই বিপদগুলো হ্যাক করতে পারবে?”
রিন্নি আরাভের চোখে চোখ রেখে বলল, “পারব স্যার। তবে শর্ত একটাই রাতে ঘুমানোর সময় আমাকে আর পাহারা দিতে হবে না। কারণ আমি জানি, আপনার হার্টবিট হ্যাক করার ক্ষমতা আর কারও নেই।”
আরাভ রিন্নির কপালে একটা দীর্ঘ চুমু দিয়ে বলল, “আজ থেকে আমার প্রসেসরের স্পিড অর্ধেক হয়ে গেল রিন্নি। কারণ এখন থেকে আমি শুধু কোডিং করব না, আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসব।”
চৌধুরী ভিলার সেই রাতে যখন ওরা ফিরে এল, ফাহিম দেখল আরাভ আর রিন্নি হাত ধরাধরি করে ঢুকছে। ফাহিম মুখ বাঁকিয়ে বলল, “বাঃ! সোনিয়া আপাকে তো পুলিশে দিলে, এখন আমার নয়নার লকটা কবে খুলবে ভাইয়া?”
আরাভ হাসতে হাসতে বলল, “ফাহিম, আগে তুই ফিজিক্সের ‘ডিসপ্লেসমেন্ট’ থিওরিটা মুখস্থ কর, তারপর নয়নার লক খুলব!”
রিন্নি আর আরাভ একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসল। বিপরীত মেরুর এই টান যেন আজ এক অদ্ভুত পূর্ণতা পেল।
চলবে…
(ভাই কি চান আপনারা। এটা কি শেষ করব না। আজীবন চলবে🤦♀️)

