#বুকের_পাঁজর
#লেখনিতে:#ভরসা_জান্নাত (শ্যামকন্যা)
#পর্ব:০৯
“যার কথায় বড় বড় নেতারা ওঠে বসে সে কিনা একটা মেয়ের পিছু পিছু ঘুরছে।ছ্যাহ ছ্যাহ ”
শিহাবের কথায় বাকিরা হেসে উঠল।একসাথে ব্যঙ্গ করে বলে উঠল,
“ছ্যাহ ছ্যাহ ”
বলেই পুনরায় হেঁসে উঠল।
“আমার নিষ্পাপ ভাইটাকে নিয়ে তোরা মজা নিস না তো।যার কথায় নিজের জীবন দিতে দুবার ভাববে না তার পিছু পিছু ঘোরা কি এমন ব্যাপার।বউয়ের কাছে তো বাঘও বেড়াল।”
সিরিয়াস মুখ করে বলল হামিম।বাকিরা ওর কথায় বিজ্ঞদের মতো মাথা নাড়িয়ে আবার হেসে উঠল।ওদের এসব কিছু স্বাভাবিক ভাবেই দেখছে হিম। অতঃপর নিজের পাঞ্জাবি টা বাম হাতে নিয়ে ডান হাতের পাঞ্জাবি গুলো উঁচু করে দেখলো। কারো কিছু বোঝার আগেই টুপ করে সেগুলো নিচে ফেলে দিল।ফেলে দিয়েই শিষ বাজাতে বাজাতে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।
দরজা বন্ধের শব্দে সবার টনক নড়ল।এক আরেকজনের দিকে তাকিয়েই নিচে ছুটল। ভাগ্যিস শুধু নিচেই ফেলেছে,আগুনে ফেললেই হয়ে যেত।বরের ড্রেস টা পর্যন্ত নিচে ফেলেছে।এমন ভাই কারো শত্রুও যেন না হয়।
___________________________________________________________________________
পরেরদিন সকাল থেকেই জমিদার বাড়ির সবাই খুব ব্যস্ত। জমিদার বাড়ি টা ইসলাম শিকদারের,এখানে তারা থাকে না তাই কেয়ারটেকার রাখা ছিল।তার চাচাতো ভাইদের ছেলে মেয়েরা একটু দূরে নিজেদের বানানো বাড়িতে থাকে।রাতে তারা নিজেদের বাড়িতে গেলেও সকাল সকাল চলে এসেছে।
দুপুরে হিম হিরার আনা ড্রেস পড়েই বাড়ির পুরুষেরা নামাজ পড়তে গেছে।মহিলারা গোসল করে ওদের আনা শাড়ি পড়েছে।মেয়েরা সবাই এক ড্রেস পড়েছে।নামাজ পড়ে কাজি নিয়েই আসবে সবাই।মেয়েরা নামাজ পড়েই সুমাইয়া কে রেডি করতে বসেছে।
কাজি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করল বাড়ির গুরুজনেরা।ছোটো’রা তাদের পিছু পিছু আসছে।গুরুজনেরা সবাই সোফায় বসেছে।হামিম চেয়ারে বসা।বাকিরা দাঁড়ানো।
গতকালকের কষ্ট টা সকাল থেকে কমলেও এই মুহূর্তে তা যেন শিকদার বাড়ির সবার মনে ঝড় তুলল।এসব কি এভাবে হওয়ার কথা ছিল? দুদিন আগে একজন পরিবার,পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো আর আজ বিয়ে!!কি দৃষ্টিকটু ই না বিষয়টা। শুধু মাত্র কাছের কিছু মানুষ থাকায় সবাই ড্রয়িংরুমেই রয়েছে।দশ মিনিটের মধ্যেই মেয়েরা নামল সুমাইয়া কে নিয়ে।
বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন কাজি সাহেব।’কবুল’এর মাধ্যমে ভিন্ন দুজন মানুষ বাঁধা পড়ল এক সম্পর্কে।এই মুহূর্ত থেকে একে অপরের অর্ধাঙ্গ। শিকদার বাড়ির প্রতিটা সদস্যের চোখ ছলছল করে উঠল। কিন্তু সামলে নিল। কেঁদে আর কি হবে? যে যাওয়ার সে তো চলেই গেছে।
যেহেতু বাইরের কেউ নেই কাজি সাহেব ছাড়া তাই খাওয়ার আয়োজন ঘরেই কথা হয়েছে।খাবার টেবিলে বিভিন্ন ধরণের খাবার সাজিয়ে রাখা।মাছ,ডিম, মুরগীর মাংস,গরুর মাংস, রোস্ট,পোলাও, বিরিয়ানি,সাদা ভাত,মুড়িঘন্ট,দু পদের ডাল সব রাখা আছে।রান্না ঘরে এখনো পুডিং,মিষ্টি,দই, রসগোল্লা,রস মালাই, সন্দেশ রাখা আছে।খাওয়া শেষে এগুলো দেওয়া হবে।
আকরাম শিকদার তার বেয়াই,নিজের ভাই সহ চাচাতো ভাই এবং কাজিকে নিয়ে খেতে বসলেন।তারা খেয়ে উঠলে হামিম আর সুমাইয়া কে খেতে দেওয়া হলো।ওদের খাওয়ার পর হিম, হাসিব,হিমের বন্ধুরা সহ হিমদের চাচাতো ভাই সকলে খেতে বসল।ওদের খাওয়ার পর বাড়ির মেয়ে বউরা খেতে বসবে।রহিমা বেগম আর তার জা’রা সবাই আগেই খেয়ে নিয়েছে। বৃদ্ধ মানুষ, বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকা ঠিক নয়।
হিম হিরার পছন্দের তারিফ করেছে সবাই।সুমাইয়ার জন্য যা কেনা হয়েছিল তার কিছু হিরা কাউকে দেখতে দেয়নি।ওকে রেডি করিয়ে তবেই সবাইকে দেখিয়েছে।একই রকমের ড্রেস পড়ায় অন্যরকম একটা ভাব এসেছে।দাদি’রা এক ড্রেস,মা চাচি রা এক ড্রেস আবার বোনেরা সবাই এক ড্রেস, ওদিকে বাবারা এক ড্রেস আর ভাইয়েরাও এক ড্রেস।
আজকে বিকালেই সবাই রওনা দেবে।তারা যেহেতু নিজেদের গাড়ি করে এসেছিল তাই কোনো সমস্যা নেই।হিম হামিম সুমাইয়া আর তার বাবা মাকে নিয়ে যাবে।বাকি দুই গাড়িতে এক গাড়িতে যাবে হাসিব আর বড়রা।অন্য গাড়িতে নীড় আর ছোটোরা।আকলিমা বেগমও যাচ্ছেন তাদের সাথে।
হিমের বন্ধুরা অন্য কোনো এক গাড়িতে যাবে।ইশারায় হিমের সাথে কিছু কথা হলো ওদের।
বিকালের নামাজ পড়েই সবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিলো। দেড় ঘন্টার মধ্যেই ফাঁকা হয়ে গেল জমিদার বাড়ি।সবাই ইসলাম শিকদারের কবরের কাছ থেকে ঘুরে তবেই রওনা দিয়েছে।
___________________________________________________________________________
তিনদিন পর শিকদার বাড়ির বড় গেট খোলা হলো। নিজের মালিকদের গাড়ি দেখেই দরজা খুলে দিল দারোয়ান।পর পর দুটো গাড়ি প্রবেশ করল।
গাড়ি থেকে নামলো সবাই।হাসিব নীড় গেলো গাড়ি পার্ক করতে।এশার আযান দিয়েছে কিছুক্ষণ আগে।সবার শরীর মন দুটোই ক্লান্ত।
শিকদার বাড়ির দরজা খুললেন রোকেয়া বেগম।ভেতরে অন্ধকার।লাইট জ্বালালেন। মুহূর্তেই জায়গাটা আলোকিত হয়ে উঠল।সবাই যে যার ঘরে চলে গেল।রহিমা বেগম গেলেন নিজের স্বামীর স্মৃতি বিজড়িত ঘরে।
আকলিমা বেগম মায়ের সাথেই থাকবেন।অন্য সময় যদি উপরের গেস্ট রুমে থাকতেন তবে এখন থেকে মায়ের সাথেই থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন।
অনলাইন থেকে খাবার অর্ডার করে দিয়েছিল হিম। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে বোধহয়।সবাই কড়া করে বলা হয়েছে কিছু খেয়ে তবেই ঘুমাতে।হাবিবা,হালিমা,হাওয়া,হিরা আর নূর প্রথমেই নিজেদের ড্রেস চেঞ্জ করে নিল। যদিও শরীর টা ক্লান্ত তারপরেও নামাজ পড়তে ভুল হলো না তাদের।
সাড়ে আটটার দিকে আসমা বেগম ওদের ডেকে গেলেন। দ্রুত খাবার খেয়ে সবাই বিশ্রাম নেবে।না চাইতেও ক্লান্ত শরীর টাকে নিয়ে ঢুলতে ঢুলতে নিচে নামল হিরা।
___________________________________________________________________________
“হিম ফোন করেছিল।বলল আজ আসতে নাকি অনেক রাত হবে। হাসপাতালে দরকার আছে।হামিমও থাকবে ওর সাথে।”
সবাইকে খাবার দিয়ে চেয়ারে বসতে বসতে বললেন রোকেয়া বেগম।ওনার কথার বিপরীতে কেউ কিছু বলল না।
কোনো রকমে খাবার খেয়েই উঠে গেছে সবাই।রহিমা বেগম আর আকলিমা বেগম তাদের ঘরেই খেয়েছেন।দুই ছেলের জন্য খাবার রেখে সব গুছিয়ে নিজেদের ঘরে গেলেন তিন গিন্নি।
শিকদার বাড়ির সব ঘরের লাইট নিভে যেতেই দুজন বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে। একজন দৃঢ় পায়ে হেঁটে গাড়ির যাচ্ছে আরেকজন ঢুলতে ঢুলতে।ঘুমে চোখ বুজে আসছে তার কিন্তু শান্তির ঘুম টাও পড়তে পারছে না।কোন কপাল নিয়ে যে সব এলিয়েন টাইপ ভাই পেয়েছে সে তা আল্লাহ ভালো জানেন।
শিকদার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল একটা গাড়ি কিন্তু কেউ টের পেলো না।পাবেই বা কি করে?সবার খাবারেই যে হালকা করে ঘুমের ওষুধ ছিল।
___________________________________________________________________________
দেখতে অনেকটা গবেষণাগারের মতো। চারিদিকে বিভিন্ন ধরণের রিসার্চের জিনিস।এখানে চব্বিশ ঘন্টার আঠারো ঘন্টায় গবেষণা চলে।আট জন মানুষ এ কাজে নিয়োজিত।প্রথম ৯ ঘন্টা চারজন এবং বাকি ৯ ঘন্টা আর চারজন তাদের কাজ করে।প্রতি সপ্তাহের একদিন তাদের হেড এসব কাজ তদারকি করেন।এছাড়া যখন তাদের দরকার হয় তখন তারা তাদের হেড কে ডাকে। অবশ্য সময় পেলে মাঝে মধ্যেই তাদের হেড তাদের সাথেই কাজ করে।
আজোও তাদের হেড আসবে এখানে।তিনি যে শুধু গবেষণার কাজেই আসেন তা নয়।নিজের প্রয়োজনেও আসেন তিনি।আজকেও সেই জন্যই আসবেন।এখানের সাদা দেয়ালের পিছনেও একটা ঘর আছে।আপাতত সেখানেই আছে পাঁচ জন ব্যক্তি আর তাদের হেড’এর বন্ধুরা।
সাড়ে আটটা বাজতে চললো।আপাতত যে চারজন এখানে আছে তারা রাত ১ টা অবদি এখানে থাকবে।বাকি চারজন আসা মাত্রই তারা বেরিয়ে যাবে।বাইরে গাড়ির শব্দ পাওয়া গেল। অর্থাৎ তাদের হেড এসে গেছে।
দৃঢ় ভঙ্গিতে বড় বড় পা ফেলে তাদের হেড ঢুকল। কিন্তু তাতে তাদের মাঝে ভাবান্তর দেখা গেল না।তারা আটজন সহ আরো আটজনের এখানে প্রবেশ করার পারমিশন রয়েছে।এই ষোলো জনের বাইরে কেউ এখানে প্রবেশ করলেই এলার্ম বেজে ওঠে এবং সকল দরজা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়।
তাদের হেড গিয়ে সেই দেয়ালের সামনে দাঁড়ালো যার পেছনে একটা গোপন ঘর আছে।এখানের দেয়ালগুলো প্রায় এক ফুট মোটা।দরজার সামনে দাঁড়াতেই খুলে গেল সেটা।
পাঁচ জন লোককে চেয়ারে বেঁধে রাখা হয়েছে। জ্ঞান নেই কারো।হেড নামক লোকটা ইশারা করতেই একজন তাদের মুখে পানি ঢেলে দিল। আস্তে আস্তে জ্ঞান ফিরছে ওদের।
জ্ঞান ফিরতেই নিজেদের হাত পা বাঁধা অবস্থায় দেখেই চমকে উঠল বোধ হয়।
“এই তোদের এত বড় সাহস আমাদের বেঁধে রাখিস।জানিস কারা আমরা?তোরা নিজেরাও জানিস না আমাদের তুলে এনে কত বড় ভুল করেছিস।খুব পস্তাবি তোরা।খান সাহেব কে চিনিস তো।খান টেইলার্সের মালিক খান সাহেব।তার খাস লোক আমরা।শু***রের বা*চ্চা ছাড় আমাদের।বা****দ কথা শুনিস না নাকি”
পাঁচ জনের মধ্যে মাথা যে সে একাধারে চিৎকার করছে।যা জানার তা জানা হয়ে গেছে।এদের দিয়ে আর কি করবে? ছেড়ে দেবে!! উঁহু,কাজেই লাগাবে।
“শিকদার বাড়ির মেয়েদের দিকে নজর দিয়েছিস।কি ভেবেছিলি?বাড়ির বড়কর্তা মারা যাওয়ায় সবাই ভেঙে পড়বে আর সেই সুযোগে তোরা বাড়ির মেয়েদের কে তুলে নিয়ে যাবি, গ্যাং রেপ করে তার ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দিবি,কেনো রে?আমাদের চোখে পড়েনি তোদের জানোয়ারের দল।আমরা জানতে পারলে কি করব সেটা ভাবিসনি”
বলেই চিৎকার করল হামিম। ইতিমধ্যে নীড় হাসিব এসে পড়েছে।
এবার উঠে দাঁড়ালো হিম।চেয়ার টেনে ঠিক ওদের সামনে বলল আয়েশিভঙ্গিতে।
“যা জিজ্ঞেস করব তার উত্তর দিবি তা না হলে যা শিকদার বাড়ির মেয়েদের সাথে করতে চেয়েছিলি তা তোর মেয়ের সাথে হবে।”
আধা ঘন্টা পর ওদের ওখানে রেখেই বেরিয়ে গেল ওরা।ওদের সাথে তেমন কিছু হবে না, শুধু কিছু রোগের জীবাণু ছাড়া হবে ওদের দেহে আর তারপর সেই রোগ থেকে সুস্থ হওয়ার জন্য বানানো ওষুধ গুলো প্রয়োগ করা হবে ওদের ওপর।এভাবেই রিসার্চ করা হবে আর যদি সফলতা আসে তো আরো কয়েকবার টেস্ট করে বাজারে ছাড়া হবে।ওদের দিয়ে এসব করাতে কেউ যদি মারা যায় তবে সেই মৃতদেহ সরিয়ে ফেলা হয়।
গবেষণার সকল খবর নিয়েই বেরিয়ে পড়ল ওরা।হিমের বন্ধুরা চলে গেলো তাদের বাসস্থানের দিকে আর হিম’রা নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
গাড়ি চালাচ্ছে হিম।পাশে হামিম বসা। পেছনে নীড় আর হাসিব বসেছে।দেশের সবচেয়ে বড় ওষুধ কোম্পানির মালিক হিম।বড় বড় সকল হাসপাতালেই ওর কোম্পানির ওষুধ বেশি চলে।বিদেশে থাকতেই দেশে সবকিছুর ব্যবস্থা করছিল ও।ছোটো থাকতেই এসব বিষয়ে ও অনেক বই পড়েছে ,এগুলোর সাথে গোয়েন্দা টাইপ কাহিনী গুলোও ওর খুব প্রিয়।বিদেশে ডাক্তারি পড়ার পাশাপাশি রিসার্চেও সময় দিত।ছয় মাস লেগেছে ওর যোগ্য মানুষ খুঁজতে।আটজন কে অনেক খুঁজে পেয়েছে ও।নিজের চব্বিশ বছর বয়সে দেশে এসেই ওষুধের কাজে লেগে পড়ে। যথেষ্ট ব্যবসায়ী জ্ঞান এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়ায় পাঁচ বছরেই এক নম্বরে এসে দাঁড়িয়েছে ওর কোম্পানি।এতে ওর পরিশ্রম, চেষ্টা বুদ্ধির পাশাপাশি ঐ আটজন মানুষের অবদানও অনেক বেশি। নিজেদের হাসপাতাল থাকায় বেশ সুবিধায় হয়েছে ওর।
টাকার অভাবে নিজেদেরকে ঠিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি কেউ।আমাদের দেশ সঠিক মেধার মূল্য দিতে পারে না।ওরা সবাই বেকার ঘুরছিল।হিম না থাকলে পরিবার প্রিয়জনের অবহেলায় শেষ ই হয়ে যেত ওরা।হিমের প্রতি ওরা সবাই কৃতজ্ঞ, ভীষণ ভাবে।
গবেষণাগার থেকে কোনো রোগের ওষুধ বানানো হলে সেটা হিমের মূল ওষুধ বানানোর ফ্যাক্টরিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।হিমের ওষুধ কোম্পানির সিও নীড়। প্রতিদিন রাতে হিমকে সব খবর বা হিসাব দিতে হয় নীড়ের।
গাড়িতে অদ্ভুত নিরবতা চলছে।কি হতো যদি ওদের পরিকল্পনা সফল হতো!!বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় ইসলাম শিকদার পরিবার টাকে এক করে রেখেছে কিংবা সামনে আকরাম শিকদার এক করে রাখবে কিন্তু আদোও বুঝি তাই!!
সবার আড়ালে আবডালে পরিবারকে রক্ষা করছে হিম।তাই তো সবার সাথেই গ্রামের বাড়িতে নিজের বন্ধুদের পাঠিয়ে দিল। শুধু কি তাই?আশপাশে কত রূপধারী বডিগার্ড ছিল তা ধারণার বাইরে।কাউকে কিছু বুঝতে দেওয়া হয়নি।ঠান্ডা মাথা হিমের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।আর নিজের অস্ত্র কে খুব ভালোভাবেই ব্যবহার করতে জানে সে।
রাত এগারোটার কাছাকাছি। শিকদার বাড়ির সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন।বাড়িতে প্রবেশ করল একটা গাড়ি।তিন জন নামলো গাড়ি থেকে আরেকজন গেলো গাড়ি পার্ক করতে।সে আসতেই চারজনে ঘরে ঢুকে চলে গেল যে যার রুমে।আলাদা ঘর থাকা স্বত্বেও নীড় আসলে সবসময় হাসিবের সাথে ঘুমায়।তারা ঘুমাতে চলে গেলেও বাকি দুই ভাই ফ্রেশ হয়ে একসাথে খেয়ে নিল।তাদের জন্য যে খাবার রাখা আছে তা খুব ভালো ভাবেই জানা তাদের।খেয়ে যে যার রুমে চলে গেল।
#চলবে?
#বিঃদ্রঃ গল্পটা সম্পূর্ণ আমার কল্পনা।বাস্তবের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই।তাই প্লিজ কল্পনাকে বাস্তবের সাথে মিলিয়ে কষ্ট দেবেন না।এখানের সব চরিত্র কাহিনী আমার কল্পনার,বাস্তবে এমন কিছু হতে পারে বা হতে পারে না,তাতে আমার কিছু না।বাস্তবের সাথে মিললো কি মিললো না তা জেনে আমার কাজ নেই,কারণ গল্পটার কোনো কিছুই বাস্তব নয় যে তাকে বাস্তবতার সাথে মেলাতে হবে।কল্পনা কল্পনাতেই সুন্দর,আশা করি আমার অগোছালো কথার অর্থ বুঝেছেন!!

