বুকের_পাঁজর #লেখনিতে:#ভরসা_জান্নাত (শ্যামকন্যা) #পর্ব:১০

0
2

#বুকের_পাঁজর
#লেখনিতে:#ভরসা_জান্নাত (শ্যামকন্যা)
#পর্ব:১০

এক সপ্তাহ হয়ে গেছে ইসলাম শিকদার পৃথিবী ছেড়েছেন। গতকাল সারা রাত বৃষ্টি হয়েছে।সকালেও হালকা হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।চারিদিকে শীতল আবহাওয়া।ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় মনটা খিচুড়ি খিচুড়ি করা স্বাভাবিক।তবে সেটা চাওয়াটায় বড় বিষয়।এই যে সকাল বেলায় চা খাওয়ার সময় সবার মনটায় সিক্ত হয়ে উঠেছিল। একজন মানুষ যে নেই তাদের মধ্যে।

ব্যবসার আলোচনায় বাড়ির সকল পুরুষদের থাকা গুরুত্বপূর্ণ।তাই আপাতত বাড়ির পুরুষেরা সবাই স্ট্যাডি রুমে।হিরা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ওড়নার কোণা আঙুলে পেচাচ্ছে।কেউ তার দিকে খেয়াল ই দিচ্ছে না। এভাবে অনেকক্ষন হলো ও দাঁড়িয়ে ই আছে।

“খিচুড়ি রান্না করা ই হচ্ছে”
ডিম ভাজতে ভাজতে বললেন রোকেয়া বেগম।তার কথায় হাসি দিয়েই উপরে উঠে যায় হিরা।মন কে ফ্রেশ করতে হবে তার জন্য ভালো একটা আইডিয়া এসেছে তার মাথায়। শুধু সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়।

সকালের খাবার খেয়েই সবাই বেরিয়ে গেছে।বাড়িতে শুধু পাঁচ মেয়ে রয়েছে।বারোটার দিকে আবার বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি শুরু হতেই বোনদের রাজি করিয়ে শাড়ি পড়েছে হিরা।

এখন সবাই ছাদে। চিলেকোঠার ঘরে হাবিবা, হালিমা, হাওয়া,হিরা আর নূর তাদের জামাকাপড় রেখেছে। সেখানেই দরজার কাছে একটা সাউন্ড বক্সে গান বাজছে।ভলিউম ঠিক ততটুকু যত টুকু হলে তাদের কানে যাবে সেটা।

গানের তালে নাচছে এক রমণী।পড়নে সাদা শাড়ি।কালো ব্লাউজের উপর সাদা শাড়ি টা একদম লেপ্টে রয়েছে।তার চারপাশে রয়েছে চারটি রমণী।তারাও গানের ছন্দে নাচছে বলতে হাত পা দোলাচ্ছে।

প্রতিটা মানুষের একটা শখ থাকে।হিরারও আছে আর তা হলো নাচ।নাচতে সে খুব ভালোবাসে।তবে বাইরে নাচা তার জন্য নিষিদ্ধ, শিকদার পরিবারের বাইরে কেউ তার নাচ দেখেনি এমনকি নীড়ও না।তার জন্য নাচের টিচার রাখা ছিল যে তাকে বাড়িতে এসে নাচ শিখিয়ে দিয়ে যেত। বৃষ্টি তে ভিজে নাচতে তার খুব ভালো লাগে। শাড়ি পড়ে তো কথায় নেই।তাইতো বোনদের কে জোর করে শাড়ি পড়েছে,শাড়িটা শখ করে কিনেছিল ও বিদায় অনুষ্ঠানে পড়ার জন্য।

ছাদের সিঁড়ির সামনে আবছা অন্ধকারে এক পুরুষ দাঁড়িয়ে। তার চোখে ভাসছে এক আবেদনময়ী রমণী যে নৃত্যের তালে তালে বাঁকা কোমড় টা দোলাচ্ছে।সাদা শাড়িটা গায়ের সাথে একদম লেপ্টে আছে, শুভ্র গায়ে কালো ব্লাউজ টা কি দারুন ফুটে উঠেছে।বুকের এক পাশ থেকে সরে গেছে শাড়ির আঁচল।ইস,চোখ জ্বলে উঠল তার।হাতের মুঠো হয়ে উঠল শক্ত।চোখ হয়ে উঠছে লালচে।ভেজা হালকা গোলাপি ঠোঁট গুলো গানের সাথে নড়ে উঠছে,লম্বা চুল গুলো খোলা। এমনিতেই দেখতেই মাত্রাতিরিক্ত আবেদনময়ী লাগছে আবার নাচছেও আবেদনময় ভঙ্গিতে।সহ্য সীমানা পার হয়ে গেলো তার।আর কিছু দেখার ধৈর্য তার নেই।

“শুধু বিয়েটা হোক বানরের বাচ্চা,তারপর নাচ আমি বের করবো।এখন যা করছিস কর কিন্তু একবার বিয়েটা হতে দে। তখনও নাচবি তুই কিন্তু আমার সামনে ওয়াশরুমের ঝড়নার নিচে দাঁড়িয়ে। শুধু আমি দেখব,দেখব কতটা নাচ পাড়িস তুই।আজকে যা যন্ত্রণা কালকে তাই আমাকে তৃপ্তি দেবে।তোর হাল যদি আমি নাজেহাল না করি তবে আমার নামও হিরণ শিকদার হিম না।”
বিরবির করতে করতে চলে গেল সে। বৃষ্টি দেখতে তার ভালো লাগে তাই ভেবেছিল চিলেকোঠার ঘরে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখবে।বহু দেখা হয়েছে তার,এর বাইরে কিছু দেখার ক্ষমতা তার নেই।
___________________________________________________________________________

জোরে দরজা বন্ধ করেই বড় বড় নিশ্বাস নিলো ও।সবাই তো ওকে ঠান্ডা মাথার মানুষ বলেই জানে।সহজে রাগে না কিন্তু তার বানরের বেশিক্ষণ সময় লাগে না তাকে রাগাতে।চোখের সামনে সব আজেবাজে জিনিস ভাসছে তার।টেবিলে থাকা পানির জগ টাকে ফ্লোরে ফেলে টুকরো টুকরো করল।তার পরেও অশান্ত মন শান্ত হবে না।হবেই বা কীভাবে, বেইমান তো।

“বিড়ালের বাচ্চা তোর দিন ফুরিয়ে এলো। ভেবেছিলাম সময় দেব কিন্তু তুই তার যোগ্য নোস। সবকিছু শুধু স্বাভাবিক হোক,বেশি সময় তোকে দেওয়া যাবেনা।তোর আঠারো বছর হওয়া অবদি অপেক্ষা করা যাবে না।অনেক পেকেছিস, অকালে পাকলে এই ই হয়।তোর ঝড়ে পড়ার টাইম হয়ে গেছে এবং তুই বাঘের গুহাতেই ঝরে পড়বি।”
বলেই টাওয়াল আর প্যান্ট নিয়ে চলে গেল সে সাওয়ার নিতে।
___________________________________________________________________________

এক মাস হয়ে গেছে ইসলাম শিকদার নেই তাদের মাঝে। বর্তমানে স্বাভাবিক সবাই।আকলিমা বেগম সপ্তাহখানেক থেকেই চলে গেছিলেন তবে নূর যায়নি।নূর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, রেজাল্ট পাওয়ার পর ভেবেছে ঢাকায় থেকেই পড়বে।নীড়ও যায়নি।আগেও ও এখানেই থাকতো মাঝে কিছু কাজের জন্য শহরের বাইরে গেছিল।

হামিমের বিয়ের কথা উঠেছিল।আর এক মাস পর বিয়ে।এর মধ্যে সুমাইয়া কয়েকবার এসেছে তবে রাতের আগেই চলে গেছে।হিরারও কলেজ খুলেছে।

কালকে হাবিবাকে পাত্র পক্ষ দেখতে এসেছিল।হাবিবার সিনিয়র সে।ও যখন মেডিকেল ফার্স্ট ইয়ারে তখন ইমরান চতুর্থ বর্ষে পড়ত। জুনিয়র মেয়েটাকে মনে ধরেছিল,বলেও ছিল তবে সেই খবর চলে যায় হামিম হিম দের কাছে।এক বছর হয়েছিল হিম এসেছে।সেইদিনের কথা মনে পড়লেই হার্টবিট বেরে যায় তার।

ভার্সিটি ছুটির পর ও প্রপোজ করেছিল হাবিবাকে। মেয়েটা কিছু না বলেই চলে গেছিল।রাতে হোস্টেল থেকে খবর এলো বাইরে তার জন্য নাকি কেউ অপেক্ষা করছে।সে কি জানতো যে তার সামনে সাক্ষাৎ যম দূত দাঁড়িয়ে।

একটা গাড়ি দাঁড় করানো আর তার সামনে বসেছিল হিম।হামিম,হাসিব,নীড় ছিল তার পাশে দাঁড়ানো।হামিমের হাত ছিল পেছনে এবং সেই হাতে যে হটিস্টিক ছিল তা সে ভালো ভাবেই বুঝতে পেরেছিল।নীড় চোখের ইশারায় ডাক দেয় ওকে।

“হাবিবাকে প্রপোজ তুই করেছিস?”
“হ্যাঁ”
নীড়ের প্রশ্নে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে জবাব দেয় ও।ওর উত্তরে গাড়ির উপর থেকে লাফ দিয়ে নামে হিম।হামিম ততক্ষণে তেড়ে এসেছে ওর দিকে।হাত দিয়ে আটকে দিল হিম।হাত বেঁধে তাকিয়ে রইল ইমরানের দিকে।

নীড় ওর সামনে দাঁড়িয়ে কাঁধে হাত রেখে ঠান্ডা কন্ঠে জিজ্ঞেস করেছিল,
“হাবিবা কোন বাড়ির মেয়ে জানিস?”
ভয়ে মুখ দিয়ে শব্দ বের করতে পারেনি। শুধু মাথা নাড়িয়ে ছিল অর্থাৎ হ্যাঁ।
“এই কলিজা নিয়ে শিকদার বাড়ির মেয়েকে প্রপোজ করিস,ছ্যাহ!!আমাদের বোনের যে এতটা অর্ধপতন হয়েছে তা তো তোকে না দেখলে জানতাম না।মুখে উত্তর দিবি,তোর ইশারা বোঝার ঠেকা পড়েনি আমাদের।”

“আমার ওকে ভালো লাগতো।তাই ওর অজান্তেই ফলো করতাম ওকে।সেইভাবেই জানতে পারি ও শিকদার বাড়ির মেয়ে।ওকে ডিস্টার্ব করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না আমার,আমি তো দূর থেকেই ভালোবাসতে চেয়েছিলাম ওকে। কিন্তু আমার ফ্রেন্ড আমাকে বলেছিল ভালোবাসা নাকি প্রকাশ করতে হয়,তারপরেও যদি তাকে না পায় অন্তত কোনো আফসোস থাকে না।তাই আর কি”
ভয়ে বোধ হয় ছেলেটা কেঁদে ই দেবে।ওর অবস্থা থেকে হাসিব পারল না নিজের হাসি থামাতে।হামিম রেগে ওকেই হকিস্টিকের বাড়ি মারলো।যাকে মারার জন্য এসেছিল সে তো কিছু বলার আগেই ভয়ে কেঁদে দিচ্ছে।

হিম তখনো ওর দিকে তাকিয়ে।এবার নীড়কে সরিয়ে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো হিম,
” এতদূর এসেছো,এতটাও বোকা নও নিশ্চয়।অতি চালাকের গলায় দড়ি জানাতো।ভয় তো একটু পেয়েছোই আর জীবন বাঁচানোর জন্য এত নাটক।তা কোথায় তোমার সাঙ্গপাঙ্গরা,ডাকো তো একটু।সবার মুখো দর্শন করি।”
“সাঙ্গপাঙ্গরা বলতে কি বুঝাচ্ছেন ভাইয়া?”
এতক্ষণ কপালে ঘাম না থাকলেও এখন বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে সেখানে।হিম পেছন ফিরল, হঠাৎ ওর দিকে ফিরেই একটা চড় লাগিয়ে দিল।

চড় দিতে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এল দশ বারোজন ছেলে।সবার হাতে লাঠি তবে হাত কাঁপছে।দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভদ্র ঘরের ছেলে।এসব বাচ্চাদের বুঝি পরোয়া করে শিকদার বাড়ির ছেলে রা।

ওদের মধ্যে থেকে একজনকে ডাক দিয়ে ইমরান কে চেক করতে বলল।ওকে ঐ যে চড় খেয়ে পিচের রাস্তায় পড়েছে ওঠার আর নামই নেই।বোঝা গেল জ্ঞান হারিয়েছে আর তা যে চড়ের প্রভাবেই সেটা পরিষ্কার।

ইমরানের অবস্থা দেখে ওর বন্ধুদের কলিজা শুকিয়ে গেলেও পেট চেপে হেসেছিল শিকদার বাড়ির তিন ছেলে।হিম তো তীক্ষ্ণ চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে ছিল। সম্পূর্ণ বিষয়টাই বুঝতে পেরেছিল ও। হাবিবাকে প্রপোজ করায় কেউ ভয় দেখিয়েছে ইমরানকে। শিকদার বাড়ির ছেলেরা ওকে মেয়ে ফেলবে টাইপ কথা বলা হয়েছিল ওকে হয়ত। অতিরিক্ত ভয় আর আবেগে বিবেক হারিয়ে ফেলেছিল ছেলেটা।ভালোবেসেছে,পাপ তো করেনি তাই কেউ মারতে এলে তাকেও মারা হবে।বন্ধুত্বের টানে ঐ ছেলেগুলো সঙ্গ দিয়েছে ওকে যে ওর গায়ে হাত উঠলেই ওরা ঝাঁপিয়ে পড়বে। কিন্তু বলা যতটা সহজ করাটা ঠিক ততটাই কঠিন।একটা চড়ের প্রভাব দেখেই ওদের সাহস ফুরিয়ে গেছে। হাসপাতালে সবকিছু স্বীকার করেছিল ইমরান,সাথে চার ভাইকে বলেছিল তারা যেন হাবিবাকে কারো কাছে না দেয়।ও হাবিবার যোগ্য হয়েই ওর হাত চাইবে শুধু ততদিন যেন হাবিবা অপেক্ষা করে। অবশেষে সেদিন এসেছে। বড় ডাক্তার হয়েছে।আরো আগেই আসতে চেয়েছিল তবে সাহস পাইনি।হামিম ফোন করে বলল পরিবার নিয়ে আসতে তাই আসা,হামিমদের উপর বিশ্বাস ছিল ইমরানের।

পরিবার নিয়ে এসেছিল ঠিকই তবে ছেলেরা কেউ বাড়ি না থাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল।হাবিবাকে দেখতে আসবে সেটা বড়রা জানতো।তাই আকরাম শিকদার আজকে হাসপাতালে যাননি। রোকেয়া বেগম আর আসমা বেগম বাড়িতে থাকতে পারলেও রাবেয়া বেগমকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল।বাড়ির সবার ই ছেলেকে পছন্দ হয়েছে এবার সবার বাড়ি আসার অপেক্ষা।হিম’দের মত এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ওনারা অভিজ্ঞ মানুষ হলেও যুগ পাল্টেছে।
___________________________________________________________________________

রাতের খাবার খেয়ে সবাই ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে রয়েছে।ছোটরা খাবার টেবিল থেকে চেয়ার এনে বসেছে কারণ চার সোফার দুটাই তিন জন আর দুইটাই এক জন করে মোট সোফায় আটজন বসতে পারবে।

“আজকে হাবিবাকে দেখতে আসার কথা ছিল তোমরা জানো।ছেলে আমাদের পছন্দ হয়েছে।তোমরা কি বলবে?”
গলা পরিষ্কার করে আকরাম শিকদার কথা শুরু করলেন।

“ছেলে ভালো,রাজি হয়ে যাওয়া উত্তম বলে আমার মনে হয়।”
হিমের কথায় আকরাম শিকদার, আকলিমা শিকদার হামিম,নীড় বাদে মোটামুটি সবাই অবাক হলো।ও তো বাড়ি ছিল না তবে ছেলের খোঁজ কোথা থেকে।হয়ত কেউ বলেছে আর কেউ মাথা না ঘামালেও হাসিব বোধ হয় আকাশ থেকে টুপ করে পড়ল।
“তাহলে বলছি…”
ওনার কথা শেষ করার আগেই হাসিব বলে উঠল হিমকে,
“হিম তুই কীভাবে রাজি হতে পারিস?সব ভু..”
হাসিবের হাত চেপে ধরেছে নীড়। অর্থাৎ কথা বলিস না।হাসিবের দিকে বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকালো সবাই। আকরাম শিকদার পুনরায় বলে উঠলেন,
“যায় হোক, বলছিলাম কি দুই ছেলে মেয়ের বিয়ে কি এক সাথে দেওয়া যায় না?তাহলে ঝামেলা কম হতো মানে বিয়ে তো কাজের পাশাপাশি অনেক ঝামেলাও থাকে।হামিমের বিয়ের ডেট তো ঠিক করা হয়েই গেছে আর হাবিবার জন্য ছেলেপক্ষরাও বেশি দেড়ি করতে চাইছে না তাই বলছিলাম কি একসাথে দুজনের বিয়ে দেওয়া কি বেশিই ভালো হবে না।কি বলো সবাই?”

“মেয়েদের জন্য একটা কথা আছে,তা হলো মেয়েরা নাকি কুড়ি তে বুড়ি হয়।সেই হিসেবে যথেষ্ট বয়স হয়েছে।আমার মতে একসাথে বিয়ে দেওয়ায় ভালো।এবার তোরা যা ভালো বুঝিস তবে বিয়ে কিন্তু গ্রামেই হবে।এটা সবার ক্ষেত্রেই হবে।”
এতক্ষণে মুখ খুললেন রহিমা বেগম।

সবার ই মত থাকায় ঠিক করা হলো এক মাস পরেই দুই ভাই বোনের বিয়ে দেওয়া হবে।সামনের শুক্রবারে ছেলেদের আসতে বলা হবে।ঐ দিন ঘরোয়া ভাবে আংটি বদল হবে।
___________________________________________________________________________

“আমি কি করে জানবো যে হাবিবাকে দেখতে আসা ছেলেটা ইমরান।আবেগে বিবেক হারিয়ে মাঝে কথা বলে ফেলেছি।ভেবেছি হিম বোধহয় ভুলে গেছে ওর কথা।”
কাচুমাচু হয়ে বলল হাসিব।আপাতত তারা সবাই হিমের ঘরে।হিম ল্যাপটপে নিজের কাজ করছে, যেন ও ঐ ঘরেই নেই।

“তবে যা ই বলিস না কেনো, সেদিনের কথা মনে পড়লে আমার খুব হাসি পায়।তবে কি অভিনয় টাই না করল,আমি তো বুঝতেই পারিনি।ইস,হাবিবার সাথে বিয়ে হলেও ও হিমের সামনে দাঁড়াবে কীভাবে, যে চড় টাই না খেল।”

“রাখ তো তোর কথা।এদিকে আমি ভাবছি অন্য কথা।এখন আমি মিঙ্গেল, কিছুদিন পর বউকে কাছে পাব।আহ ৩২ টা বছর হয়ে গেল বউয়ের সেবা পাইনা।বেচারা হাসিবের তো কেউ নেই ই।নীড় তোর জন্যে আমার একটু একটু আফসোস হলেও হিমের জন্য এক আকাশ সমান আফসোস আমার।এখনো নিম্নে দুই বছর, আফসোস।”
হামিমের কথা শেষ হতেই কোলের উপরে থাকা ল্যাপটপ টা বন্ধ করল হিম।পাশে রেখে হামিমের দিকে তাকিয়ে বলল,
“দুই বছর পর বিয়ে না বরং তোর বোনের হাতে বাচ্চা তুলে দেব আমি। বড্ড পেকেছে তোদের বোন,আর পাকতে দেওয়া যাবে না। শুধু তোদের বিয়ে টা হোক, কিছুদিনের মধ্যেই আমাকে সামলাতে হবে তোর বোনকে।”

এতক্ষণ মজা করলেও এখন সিরিয়াস হয়ে বসল হামিম।হিমের মুখ দেখে মনে হচ্ছে না মজা করছে আর কথাটাও মজার নয়।স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক টা জানে সে,ছোটো বাচ্চা না ও।হিরা তো হিমের হাঁটু সমান বলতে গেলে।হিম জড়িয়ে ধরলেই তো হিরা কে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

“মজা করিস না।তুই ভেবে বলছিস তো কি বলছিস,হিরা ঐটুকু।তোকে সামলানোর ক্ষমতা ওর নেই।আর কয়েকটা বছর যাক তখন না হয়”

“তখন না হয় মানে কি?আর তোকেও বা কি বলছি,তোর গায়েও তো এই বাড়ির ই রক্ত। বেইমান সব,কথা দিয়ে কথা রাখতে পারে না।তোরা সবাই তো কথা দিয়েছিলি হিরাকে আমাকে দিবি। যদিও হিরা তখন আমার জন্য একটা চাল ছিল কিন্তু এখন তো আর সেটা নেই।তাও তোর জন্য।দেশে আসার পর আমার প্রোফেশন জেনে তোর বাবা দাদা কথা ঘুরাতে লাগলো।এখন তুইও বাহানা দিচ্ছিস। আচ্ছা আমাকে কি তোদের মানুষ মনে হয় না নাকি?সবাই যখন যা বলবি আর আমার তাই শুনতে হবে নাকি, হ্যাঁ?আমার নিজের কোনো ইচ্ছা নেই?চাহিদা নেই?তোর জন্য আজ আমার এই অবস্থা।না হলে বিন্দাস লাইফ হতো আমার। পিছুটান নেই,আর টাকা থাকলে চাহিদা পূরণের মানুষের অভাব হয় না।তোর জন্য আমি বেঁধে রয়েছি।তুই যদি জানতিস আমার ভেতর টাই কি হয় তাহলে বোনের দিকে তাকাতিস না।সবসময় চোখের সামনে থাকে, নিষিদ্ধ অনুভূতি গুলো মাথা চড়ে ওঠে,আমিও তো মানুষ নাকি!!!”

“ভুলে যাবি না তোর দেহেও এই বাড়ির ই রক্ত।আর হ্যাঁ তোর এই অবস্থার জন্য আমি ই দায়ী তোর মাথাটাও আমিই বিগড়েছি। কিন্তু আমি কি জানতাম যে,যে ভাইকে আমরা দেশের বাইরে পাঠিয়েছি সে আর সে নেই।রিক্স নিতে,বড় বড় চ্যালেঞ্জ নিতে তোর ভালো লাগতো কিন্তু সেটা যে এই পর্যায়ে আসবে আমি তা কল্পনাও করিনি। শুধু চেয়েছিলাম বাড়ির ছোটো ফুলটাকে তোর হাতে দিতে,তোর কাছে যে ফুল ই দিতাম না কেনো সেটাকেই আগলে রাখতি নিজের জীবন দিয়ে হলেও। কিন্তু কেনো জানি মনে হলো হিরার জন্য তুই ই পার্ফেক্ট।লোহা চৌম্বক পরস্পরের বিপরীত হয়েও একজন আরেকজন কে আকর্ষণ করে।তাই তো হিরাকেই বেছেছিলাম যে তোর বিপরীত।আমি কি আর জানতাম,এতে করে আমি হিরার ভবিষ্যৎ কেই বড় এক হুমকির সম্মুখীন করছি।”

হামিমের প্রথম কথাতে তেজ থাকলেও শেষের কথা গুলো ছিল বড্ড অসহায়।তাতে পাত্তা দিল না হিম।

“আমাকে নিতে না পেরে তোর বোন যদি মরেও যায় তবুও ওকে আমার হয়েই থাকতে হবে।ওর লাশের সাথেই সংসার করব আমি।”
বলে ওয়াশ রুমে চলে গেলো হিম।ওর যাওয়ার দিকে ব্যথিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিজের ঘরে চলে গেল হামিম।দুই ভাইয়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল হাসিব নীড়।ভঙ্গুর মন নিয়ে হাসিব চলে গেলেও নীড় থাকলো হিমের রুমে। কিছু কথা বলেই চলে যাবে সে।

#চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here