#বুকের_পাঁজর
#লেখনিতে:#ভরসা_জান্নাত (শ্যামকন্যা)
#পর্ব:১১
দেখতে দেখতেই শুক্রবার চলে আসলো। ইমরানের পরিবার সন্ধ্যার পর আসবে।তবুও সকাল থেকে ব্যস্ততার শেষ নেই।রহিমা বেগম মেয়ে বাড়ি গেছেন। যতদিন সুস্থ আছেন ততদিন এদিক সেদিক ঘুরেই বেরাবেন তিনি।তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়ে বাড়ি থেকে ফিরেই জমিদার বাড়ি যাবেন এবং সেখানেই থাকবেন।তার কথায় সবাই দ্বিমত করলেও তিনি নিজের কথায় অচল।
শুক্রবার হওয়ায় কারো কোনো চাপ নেই একমাত্র বাড়ির গিন্নিদের ছাড়া।বাজারের লিস্ট ধরিয়ে দিয়েছেন স্বামীদের উপর।সকাল দুপুরের রান্না করে খাবার খেয়ে তারা বেরিয়ে যাবে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে।তবে সবাই যে একেবারেই ফ্রি এমন না।ঘড়ির কাঁটা সাতটার কাছাকাছি।বাড়ির বড় তিন কর্তা বাজারে গেছে এক বড় লিস্ট নিয়ে।ছোটো কর্তারা ঘুম,ছুটির দিন গুলোতে তারা নামাজ পড়েই পুনরায় ঘুম পড়ে যায়।আর মেয়েদের টা বলা যায় না।ঘুম ভাঙলে উঠবে আর না ভাঙলে ঘুমিয়েই থাকবে,ডাকা যাবে না।
দশ বারো মিনিট পর পাঁচ মেয়ে একসাথে সিঁড়ি বেয়ে নামল। ঝিমাচ্ছে সবগুলো।রাতে কি পাহারা দিয়েছে কে জানে।ওরা সবাই সোফায় বসার পাঁচ মিনিটের মধ্যে রাবেয়া বেগম চা এনে দিলেন।সবার আগে হিরার খাওয়া হয়ে যাওয়ায় ও কাপ নিয়ে কিচেনে চলে গেল।আসমা বেগম ভাত রান্না করছেন আর রোকেয়া বেগম কফি বানাচ্ছেন।রাবেয়া বেগম মশলা পিষছেন।ওকে দেখে রোকেয়া বেগম বললেন,
“হিরা মা,যা তো হিম কে কফিটা দিয়ে আয়।সাতটা বেজে গেছে বেশ আগে।আর বাকি নবাবের পুত্র গুলোকেও ডেকে দিস তো।”
বলেই ওর হাতে কফি ধরিয়ে দেন রোকেয়া বেগম।নিজের বড় মাকে কিছু বলবে কিন্তু নিজের মায়ের চোখ দেখে গিলে ফেলল কথাটা।মুখে জোরপূর্বক হাসি ফুটিয়ে চলল হিমের ঘরের দিকে।
“হিম ভাই?”
কোনো জবাব আসলো না।ধাক্কা দিতেই খুলে গেল।কফির জন্য ই হয়ত দরজা খোলা না হলে হিম তো কখনো দরজা খোলা রাখার মানুষ না।
বেলকনি থেকে আসা সূর্যের আলোয় ঘরের অন্ধকার টা কেটে হালকা আলোয় ভরে উঠেছে।বিছানার চাদর এলোমেলো,বালিশের কোনো ঠিক নেই।সোফার ওপর একটা টিশার্ট এমন ভাবে রাখা যেন কেউ না তাকিয়েই ওর উপর ছুঁড়ে মেরেছে। ড্রেসিং টেবিলে থাকা জিনিস গুলো এলোমেলো হয়ে রয়েছে।আসলে হিম ঘরের বাইরে ঠিক যতটা গোছালো স্বভাবের ঘরের ভেতরে ঠিক ততটাই অগোছালো।কোনো মানুষ নিখুঁত হয় না।মেয়ে বাড়ির লোকের কাছে হিম নিখুঁত কিন্তু হিরার কাছে হিমের এই বেশি নিখুঁত স্বভাব টাই সবচেয়ে বড় খুঁত।
ওর এসব ভাবনার মাঝেই ওয়াশরুমের দরজা খুলে গেল।সেখান থেকে শুধু একটা ট্রাওজার পড়া হিম বেরিয়ে এলো যার কাঁধে তোয়ালে ঝুলছে।
হিমকে ওভাবে বের হতে দেখে হিরা মাথা নিচু করে নিল।আগে তো হিমের সামনে হাঁটু কাপতো আর এখন হাতও কাঁপছে।হিরার অবস্থা দেখেও কিছু বলল না হিম।তোয়ালে টা বিছানায় ছুড়ে ফেলে হিরার সামনে দাঁড়ালো।
হিমকে নিজের সামনে টের পেয়ে গলা শুকিয়ে গেল ওর। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,
“বড়মা আপনার কফি পাঠিয়েছে আর আমি আপনার রুমে ঢোকার আগেই নক করেছিলাম কিন্তু কোনো আওয়াজ পাইনি।দরজা ধাক্কা দিতেই খুলে গেল আর কাউকে না দেখে ভেতরে চলে এসেছি।এই নিন আপনার কফি।”
বলে কফিটা এগিয়ে দিল হিরা।হিম নিতেই ” আমি আসি”বলে ছুটে পালালো।ও বেরিয়ে যাওয়ার পর দরজা বন্ধ করে বেলকনিতে চলে গেল হিম।
___________________________________________________________________________
মাগরীবের নামাজ পড়া শেষ হতেই হাবিবা খয়েরী রঙের শাড়ি পড়ে নিল।হালিমা সুক্ষ্ম কাজ করা লাল গোল জামা পড়ল।হাওয়া আর নূর পড়ল পাকিস্তানি সাদা রঙের থ্রিপিস।হিরা পড়েছে সিম্পিল ডিজাইনের কালো গোল জামা।
হাবিবার শাড়ি পড়া হতেই হালিমা হাওয়া ওকে হালকা মেকআপ করিয়ে দিল।হালকা করে ডার্ক রেড কালারের লিপস্টিক লাগিয়ে দিল।তারপর শাড়ির আঁচল মাথায় দিয়ে দিল।ব্যাস হাবিবা রেডি।হালিমা হাওয়া আর নূরও হালকা মেকআপ করে নুড লিপস্টিক লাগালো।হিরা শুধু হালকা করে মুখে পাওডার দিয়ে লিপবাম লাগিয়ে নিল। অবশেষে পাঁচ বোন রেডি।
ততক্ষণে বাড়ির পুরুষেরা সবাই নামাজ পড়ে চলে এসেছে।তিন কর্তা ড্রয়িং রুমে বসে থাকলেও চার ছেলে উপরে চলে গেছে।ড্রয়িরুমে সবাই ইমরানের পরিবারের জন্য বসে রয়েছে।ইমরানের নিজের কোনো ভাই বোন নেই তাই আজকে ও আর ওর বাবা মা আসবে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা চলে এলো। রোকেয়া বেগম শিউলিকে পাঠালেন চার ছেলেকে ডাকতে।বড় তিন কর্তা বাইরে গেছেন তাদের বাড়ির ভেতরে আনার জন্য।
তারা সবাই সোফায় বসতেই নেমে এলো চার পুত্র।প্রথমে নামল হামিম যার গায়ে সোভা পাচ্ছে সাদা প্যান্ট আর সাদা সার্ট।ওর সাথেই নেমে এলো হাসিব যে ব্লু কালারের প্যান্ট আর সাদা টিশার্ট এর ওপর ডার্ক ব্লু কালারের শার্ট পড়েছে।ওর পরেই নেমে এলো নীড় যে কিনা ডার্ক ব্লু কালারের প্যান্ট আর শার্ট পড়েছে। সবশেষে নেমে এলো হিম,ফোনে কিছু দেখতে দেখতে নামছে।পড়নে কালো প্যান্ট আর কালো শার্ট। বলিষ্ঠ দেহের জিম করা শরীরে কালো কালার টা কি দারুন ফুটেছে,সামনের দুটো বোতাম খোলা থাকায় ফর্সা বুকটা দেখা যাচ্ছে।
নিচে নেমেই হাতের ফোন টা পকেটে রেখে সোফার দিকে এগিয়ে গেলো। ততক্ষণে বাকি তিন পুত্র ইমরানের পরিবারের সাথে কথা বলে সোফায় বসে পড়েছে।হিম কে আসতে দেখে জরোসরো হয়ে বলল ইমরান।তিন কর্তী কিচেন থেকে হালকা খাবার নিয়ে এসে সোফার সামনে টেবিলে রাখছিলেন।হিম সামনে আসতেই ইমরানের সামনে হাসিব পানি ধরল যে কি না ওর পাশেই বসেছে।এক নিঃশ্বাসে এক গ্লাস পানি ঢকঢক করে খেয়ে ফেললো ইমরান।
গম্ভীর মুখে সবার সাথে কথা বলে চেয়ার টেনে বসল হিম।ওদিকে ওদের খাবার দিয়ে রাবেয়া বেগম চলে গেছেন উপরে পাঁচ মেয়েকে ডাকতে।উনি ওদের ডেকেই নিচে চলে এসেছেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে নেমে এলো শিকদার বাড়িতে থাকা পাঁচ কন্যা।
হালিমা হাওয়া হাবিবাকে নিয়ে নামছে আর ওদের পেছনে রয়েছে হিরা নূর।বাড়িতে সাধারণ অনুষ্ঠান হওয়ায় কেউ হিজাব বাঁধে নি,ওড়না দিয়ে সম্পূর্ণ চুল ঢেকেছে।
হাবিবা আসতেই ইমরানের মা তাকে নিজের পাশে টেনে বসালো।রূপের প্রসংসা করতে ভুললেন না।
সবার অনুমতি নিয়ে তিনি হিরাকে আংটি পড়িয়ে দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে আযান দিতেই মসজিদের উদ্দেশ্যে শিকদার বাড়ি থেকে সকল পুরুষ বেরিয়ে গেলেন। মেয়েরা সবাই গেল নামাজ পড়তে।
নামাজ পড়ে এসে আকরাম শিকদার হামিম কে বললেন ইমরান কে তাদের সাথে নিয়ে।বাবার কথা মতো ইমরান কে নিয়ে সে নিজের ঘরে ঢুকল।ভাইদের মধ্যে হামিম ই সবচেয়ে গোছালো স্বভাবের।তাই আপাতত সবাই ওর রুমেই গেলেও হিম নিজের রুমে গেল।মহিলারা নামাজ পড়ে ঘর থেকে আর বের হননি। আকরাম শিকদারের ঘরে সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছে। ড্রয়িং রুমে বাড়ির বাকি পুরুষ রা বসা যারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে,সাবজেক্ট ‘ দেশ ‘।আর বাড়ির মেয়েরা তো নিজেদের রুমে।
___________________________________________________________________________
হামিমের রুমের সোফায় বসে আছে ইমরান।ওর এক পাশে হাসিব আর এক পাশে নীড় বসা।হামিম বিছানায় বসে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।কারো মুখে কোনো কথা নেই তবে ইমরানের মনে হচ্ছে সবাই ওর হার্টবিট এর আওয়াজ শুনতে পারছে।কি চড় টাই না ছিল,ওর ভাবনার মাঝেই হামিমের ঘরের দরজা একাধিক বার নাড়ার আওয়াজ এলো,যেন দুই তিন জন একসাথে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। নীড় উঠে দরজা খুলে দিলো।
দরজা খুলে দিতেই হুর হুর করে শিহাব,আহাদ,আকাশ আর আবির ঢুকে পড়ল।সবার পারমিশন নিয়েই নীড় ডেকেছে ওদের।যদিও পারিবারিক অনুষ্ঠান তবে ওরা এলে মজা হবে সাথে কিছু কাজও হবে,তাই ওদের ডাকা।
শিহাব নীড়ের জায়গায় বসে পড়ল,নীড় দরজা চাপিয়ে বাকিদের সাথে বিছানায় বসল।
“কি রে হবু দুলাভাই,এমন ভয়ে পেয়ে আছো ক্যান? শিকদার বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করছো,বুকের পাটা রাখতে হবে বস”
ইমরানের পিঠে চাপড় মেরে বলল শিহাব।শিহাবের কথায় জোর করে হাসল ইমরান তবে হাসিব পেট ধরে হেসে ফেলল।
“বেচারা হয়ত এখনো চড়ের প্রভাব কাটাতে পারেনি।ভাইরে ভাই,কি চড় টাই খেয়েছিল। জ্ঞান ই হারিয়ে ফেলল।”
বলে আমার দাঁত কেলিয়ে হাসল ও।
“হিমের সামান্য চড় খেয়েই এই অবস্থা!! আসল ডোজ তো দেখো ই নি।আসলে আমাদের ভাবিকে তো চিনতাম না,না চেনালে চিনব কি করে বলো।আমাদের ভাবি আবার নজর কাড়া সুন্দরী,তাকে একবার দেখতেই সে আমার নজর কেড়ে নিল।যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয় বলে একটা কথা আছে না।আমার সাথেও তেমন ই হলো।ভাবিকে বেশ মনে ধরেছিল তাই তো ভাইয়ের সামনেই মানে হিমের সামনেই আগে মুখ খুলি।বন্ধুদের সাথে কথা বলতে গেলে যা হয় আর কি মানে একটা মেয়ে মনে ধরলেই তাকে নিয়ে বাসরের পরিকল্পনা টাও করি এবং বন্ধুদের কেও বলি।আমি আবার অত ফার্স্ট না, শুধু পাঁচ ছেলে মেয়ে আর নাতি নাতনির স্বপ্ন ই দেখেছিলাম।সবার আগে হিম কেই বলেছিলাম। বিশ্বাস করো ভাই,এক সপ্তাহ পরে জ্ঞান ফিরে পেয়েছিলাম।মাথায় এমন জায়গায় মেরেছিল,যেখানে আঘাত পেলে মানুষ স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলে।ওর লক্ষ্য ছিল ভাবিকে নিয়ে মানে ওর বউকে নিয়ে যা যা কল্পনা করেছি তা আমার মাথা থেকে মুছে ফেলার।তবে আমার জায়গায় আর কেউ হলে সে তার ইয়ে মানে ভবিষ্যৎ টাই হারিয়ে ফেলতো।”
বলে দম ফেলল শিহাব।তারপর থেকে হিরাকে দেখলেই ও অন্ধ হয়ে যায়,জীবনের মায়া কার না আছে।ওর তো পৃথিবীতে আপন বলে কেউ নেই তাই ওকে মেরে গুম করে দিলেও কেউ টের পাবে না।নিজের ভালো তো পাগলেও বোঝে সেখানে ও সুস্থ মস্তিষ্কের সুস্থ মানুষ।
“তোর ভবিষ্যৎ টাই কেড়ে নেওয়া উচিত ছিল,তাহলে আর আমার ছেলে মেয়ের বাপ হওয়ার ক্ষমতা থাকতো না।ছোটো বেলায় মা অনেক দয়া কলা খাইয়ে ছিল বুঝলি,তাই তো দয়ার মন আমার।অল্পের উপর দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি।”
ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল হিম।ওকে ঢুকতে দেখে ইমরান দাঁড়িয়ে গেল।ও ঠিক টের পাচ্ছে ওর হাঁটু কাঁপছে।সত্যি বলতে ভদ্র ছেলে সে।তবে মারামারিতেও ফার্স্ট ক্লাস।ওর গ্রামের সব ছেলে পুলে ভয় পায় ওকে,চাচাতো মামাতো খালাতো ফুফাতো সব ভাই বোন ওর এক কথায় ওঠে বসে।ওর বাপ পর্যন্ত ওর সাথে তর্ক করে না সেখানে একটা মানুষের সামনে দাঁড়াতে গিয়েই নাকি তার হাঁটু কাঁপছে।
“আসসালামুয়ালাইকুম বড় ভাই ”
ভাই বোনেদের মধ্যে সবার বড় হামিম আর এই ছেলে নাকি তাদের সবার ছোটো ভাইকে সালাম দিচ্ছে তাদের না দিয়ে।
“ওয়ালাইকুমুস সালাম। হাঁটু কাঁপা ভালো,আমার সামনে দাঁড়ানো কারো যদি হাঁটু কাঁপে আমার কিন্তু দেখতে ভালোই লাগে।তবে আমি ছাড়া অন্য কারো সামনে যদি এই হাঁটু কাঁপে তবে আমি সেই হাঁটু কেটে রেখে দেব।”
“ঠিক আছে বড় ভাই”
বেচারা হয়ত মনে মনে ঠিক করেই নিয়েছে একবার বিয়ে হলে আর পা দেবে না এ বাড়ির ত্রিসীমানায়।
“এমন দয়ার মন যেন আল্লাহ আর কাউকে না দেয়।আমার তো হিরার ভবিষ্যৎ ভাবলেই হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করে।”
কথা শেষ করতেই আহাদ খামচে ধরল ওর হাত।চোখের ইশারায় হিমের দিকে তাকাতে বলল যে কিনা চেয়ারে বসে ওর দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে।আবার ভুল কাজ করেছে শিহাব,নাম নিয়ে ফেলেছে।হিম যে ই না উঠতে যাবে তার আগেই শিহাব উঠে দাঁড়ালো।
“দাঁড়া,তোর আর উঠতে হবে না।আমি নিজেই খাচ্ছি।”
বলে ঘরের বাইরে চলে গেল।এদিকে ইমরান বোধহয় এ দুনিয়ায় নেই।হিরা মানে তো হিমদের বোন।তার মানে হিম ই হিরার ভাবি থুরি শিহাব হিরার ভাবি না না হিরা শিহাবের ভাবি মানে হিমের বউ। ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না,কোন ভাগ্য নিয়ে যে ও হাবিবার প্রেমে পড়ছে আর কি ভেবে যে প্রপোজ করেছে তাই ই বুঝতে পারছে না।
এরই মধ্যে শিহাব ফিরে এলো তবে হাতে লবণের বয়াম।বয়াম টা নিয়ে সোফায় বসল।হিমের দিকে তাকিয়ে বেশ খানিকটা লবণ নিজের মুখে ঢুকিয়ে নিল।এক মিনিট মুখে রেখে অতঃপর
তা গলাধঃকরণ করল।সবাই নিরব দর্শক হয়ে বসে আছে।এটা যেন নিত্যনতুন ঘটনা।
___________________________________________________________________________
“ইস,এমন লাভ স্টোরি যদি আমারও হতো।আমি কলেজ যাচ্ছি,কোনো এক সিনিয়র ভাইয়াও যাচ্ছে। হঠাৎ তার চোখে আমি পড়লাম আর মুহূর্তেই তার মনে জায়গা করে নিলাম।আমি কলেজ যাবো আর সে আমার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে,আমাকে ফলো করবে।লুকিয়ে লুকিয়ে দেখবে,আর হঠাৎ একদিন বিয়ে করে নেবে।”
ইমরান হাবিবার সিনিয়র ছিল এবং প্রপোজ করেছিল শোনার পর থেকেই এমন করছে হিরা।
“আমার এমন লাভ স্টোরি চাই না।কিশোরী বয়সে এক যুবকের প্রেমে পড়েছিলাম আজো উঠতে পারিনি। পাঁচ টা বছর হয়ে গেল,ভালোলাগা থেকে কবে যে ভালোবাসা হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না।আমার নামাজের মোনাজাতে সবসময় তাকে রাখি,তাকে নিয়ে কতকিছু কল্পনা করি।এ অনুভূতি বলে বোঝানোর মতো না।তাকে হারাতে ভয় পায় আবার আল্লাহ কে বিশ্বাসও করি।তিনি আমাকে নিরাশ করবেন না।”
হাওয়ার কথায় কেন্দ্রবিন্দু তে পরিণত হলো সে।এই গোপন প্রেমের ব্যাপারে তারা সবাই জানে তবে কাকে নিয়ে এই প্রেম তা হিরা ছাড়া কেউ জানে না।
“আমাদের কে তার নাম আজো বললি না কিন্তু তুই হাওয়া”
“নাম জেনে হার্ট অ্যাটাক করার থেকে না জানায় ভালো।তার মধ্যে আমার বোন যে কি দেখেছে তা ও আর আল্লাহ ভালো জানে। দুলাভাই হিসেবে তাকে আমার একদম পছন্দ না।অমন লোকের প্রেমে পড়ে কেউ?যার মধ্যে প্রেম ভালোবাসার ছিটে ফোটা নেই তার উপর মানুষ বুঝি প্রেমে পড়ে!!”
“এই তুই চুপ কর তো হিরা।সংসার তো হাওয়া করবে,তুই তো করবি না।তাই তোর মুখ বন্ধ রাখ।এই হাওয়া বলনা কে ছেলেটা?”
হাবিবার কথায় মুখ ফুলালো হিরা।তবে হাওয়ার চোখের সামনে ভেসে উঠলো এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।তার প্রেমিক পুরুষ আরেকটি মেয়েকে চুমু খাচ্ছে,আবার কলিজা টা ওর মুচড়ে উঠল। ছলছল চোখে বলল,
“জানো আজ পাঁচ বছর তার প্রেমে পাগল আমি। কিন্তু তাকে কখনো কোনো মেয়ের আশেপাশে দেখিনি। মেয়েদের থেকে সবসময় একটা দুরত্ব বজায় রাখে সে। কিন্তু একদিন কি দেখলাম জানো?আমার ভালোবাসার মানুষ টা আরেকটি মেয়ের কপালে চুমু দিচ্ছে।মেয়েটা তার চাচাতো বোন ছিল যদিও কিন্তু আপন বোন তো না।ঐ দৃশ্য দেখার পর আমার মনে হয়েছিল আমার কলিজাটা কেউ টান দিয়ে ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে। নিঃশ্বাস থেমে গেছে।তার পাশে অন্য কোনো মেয়েকে দেখার সামর্থ্য নেই ।”
কথা শেষ হতেই দু চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ল।হাবিবা টেনে নিল হাওয়াকে নিজের বুকে।তার ছোটো বোন টা যে কার প্রেমে পড়েছে কে জানে।তবে ওর কেনো জানি মনে হচ্ছে এই প্রেমের জন্য হাওয়াকে কাঁদতে হবে অনেক।
#চলবে?

