বোকামন #পর্ব_১৫

0
2

#বোকামন
#পর্ব_১৫
#Tahsin_Atoshi

স্মৃতি মাএই বাসায় এসেছে। চুপচাপ ঘরে ঢুকতেই শুভকে দেখে একটু অবাক হয়। কাঁধের ব্যাগটা বিছানায় রেখে শুভর পাশে বসে। কিছুক্ষণ দুজনের মাঝে নিস্তব্ধতা কেটে যায়। এরপর শুভ গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করে,

-এতো দেরি হলো কেন আসতে? ড্রাইভার আঙ্কেল না পেয়ে চলে এলেন।

-আহান হুমুকে ওনার বাসায় নিয়ে গিয়েছিল। তো হুমু আমাকেও জোর করে ওদের সাথে নিয়ে যায় তাই। আপনি কল করলেই পারতেন।

-আমাকে তুমি করে বলা যায় না? ভাইয়া কি ডাকা যায় না?

শুভর কন্ঠটা করুন শোনায়। স্মৃতির এক নজর দেখে নেয় শুভকে। হালকা নিচু কন্ঠে বলে,

-আমার সময় লাগবে সব কিছুর সাথে মানিয়ে নিতে।

-ওকে।

বলেই শুভ ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। স্মৃতি শুধু শুভর যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে। কেমন একটা লাগছে দেখতে। দু’দিন আগেও তো কত মজা করতো,হাসাহাসিতে মেতে ছিল। হুট করে এতো গম্ভীরতা ভাবনায় ফেলে স্মৃতিকে। প্রশ্ন করতেও দ্বিধা বোধ হয়। ও জিজ্ঞেস করলে বলবে কিনা সেটাও সে জানে না। এসব ভাবতে ভাবতেই ফ্রেশ হয়ে নেয় স্মৃতি। মনকে শান্ত করে আবারো শুভর ঘরে যায় তার এই গম্ভীরতার কারণ জানার জন্য।

~★~

সব সময়কার মতো আজও সকলে মিলে আড্ডাতে মগ্ন হয়। কিন্তু শুভর গম্ভীর ভাবটা কাটে না। সেদিকে কারো খেয়াল নেই। শুধু স্মৃতিই দেখে যাচ্ছে নিজের ভাইকে। বাকিরা নিজেদের মতো গল্পে ব্যস্ত। তিনদিন পর আহান ও হুমায়রার বিয়ে। সেই নিয়েই প্ল্যান হচ্ছে। অর্নি একটু মজা করে স্মৃতিকে বলে,

-স্মৃতি তোমার বান্ধুবীর তো বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তুমিও বিয়ে করে নেও।

স্মৃতি জোরপূর্বক হাসে একটু। এরপর বলে,

-আপাতত ইচ্ছে নেই। পড়াশোনা শেষ করি আগে।

এরই মাঝে আহান বলে,

-পড়াশোনা করতে কে বারণ করেছে? মায়রাও তো বিয়ের পর পড়াশোনা করবে। আর তুমিও এমন কাউকে খুঁজে নেও যে বিয়ের পর পড়াবে।

স্মৃতি কিছু বলার আগেই শুভ বলে,

-ওকে বিয়ে করবে কে? রান্নাবান্নাকিছু পারে নাকি ও?

স্মৃতি ভ্রু কুঁচকে তাকায়। কিছু বলতে যাবে তার আগেই হুমায়রা বলে ওঠে,

-আপনাকে কে বলেছে ও রান্না পারে না? ও সব রান্না পারে। গ্রামে থাকা কালিন বাসার সব রান্না তো ও করতো। আর আপনার চাচা চাচিরা গাণ্ডেপিণ্ডে শুধু খেতো। আমার বান্ধুবী সব পারে।

শুভ অবাক হয়ে তাকায়। স্মৃতি হেসে বলে,

-হুম এর জন্য আমি এমন কাউকে বিয়ে করবো যেখানে নো রান্না, নো কাজ। বিয়ের আগে আয়েশ করিনি৷ বিয়ের পর করবো।

তুলি অবাক হয়ে বলে,

-এমন ছেলে কোথায় পাবে যে রান্না করে খাওয়াবে?

স্মৃতি হাসলো একটু। এরপর বললো,

-যাস্ট কিডিং। আমি এতোটা ভাগ্যবতী না যে আমাকে কেউ রান্না করে খাওয়াবে আর আমি আয়েশ করবো। এত বছরে ভালো কিছু হয়নি আর বিয়ের পর লাইফে ভালো কিছু আসবে সেই আশা আমি করিনা।

স্মৃতির কথা শুনে হুমায়রা এবার মাথায় একটা গাট্টি মে’রে বলে,

-ওরে আমার ইমোশনালের বংশধর-রে। দেখবি তুই একটা ভালো হাসবেন্ড পাবি। যে তোকে খুব ভালোবাসবে আর কেয়ার করবে।

স্মৃতি এক ভ্রুঁ উঁচু করে তাকায়। হুমায়রার মাথায়ও একটা গাট্টি মে’রে বলে,

-আমাকে নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না মেডাম। নিজে তো রান্নার ‘র’ ও পারো না। বিয়ের পরে কি করবি?

রান্নার কথা শুনে হুমায়রা ঠোঁট উল্টায়। কিছু একটা ভেবে বলে,

-আমি সিয়র তুই মামনির হারিয়ে যাওয়া সেই মেয়ে। না হয় আমার পিছনে লাগিস কেন বার বার। রান্না বান্না আমার কর্ম না। আমার হাত পুড়ে গেলে,নক গুলো নষ্ট হয়ে গেলে! তখন… তখন কি হবে হুম? ও মাই গড আমি বিয়ে করবো না। বিয়ে কেনসেল।

হুমায়রার কথা উপস্থিত সকলে হাসে এবার। আহান বলে,

-মায়রা তোমাকে কি আমি একবারও বলেছি রান্না করতে? বাসায় মেড আছে। দরকার পরলে আরো রেখে দিবো। তোমার কিছুই করতে হবে না।

হুমায়রাও এবার হেসে বলে,

-ইয়েএএ… দ্যাটস মাই বয়।

হঠাৎ কানের মোচর খেতেই ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে পাশে তাকাবেই দেখে নীলা বেগম দাঁড়িয়ে আছে। গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-হ্যারে মেয়ে একটু লজ্জা সরম কর। ওটা তোর হবু বর। তোর কি একটু লজ্জা লাগছে না। বিয়ের আগে কীভাবে ঢ্যাং ঢ্যাং করে সামনে আসে। ঘরে যা।

হুমায়রা এবার ঠোঁট উল্টে ফেলে। দৌড়ে নিজের বাবাইয়ের কাছে গিয়ে বলে,

-বাবাই তোমার বউয়ের সাথে আমার কোন জন্মের শএুতা? এমন করে কেন আমার সাথে? থাকবো না আমি এই বাড়ি। কেউ ভালোবাসে না।

অনুরাগ হোসেনও হেসে মেয়েকে জড়িয়ে নেয় নিজের সাথে। নীলা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলে,

-তুমি সেই আগের যুগে পড়ে আছো নীলা! এখনকার যুগে এসব কেউ মানে নাকি?এখনকার ছেলে মেয়েরা মডার্ন হয়ে গেছে।

হুমায়রাও এবার উৎসাহ পেয়ে বলে,

-দেখেছো বাবাই বলেছিলাম না তোমার বউ আগের যুগেই পরে আছে। মিললো তো।

-তবে রে….

বলেই খুন্তি হাতে নীলা এবার হুমায়রার দিকে তেড়ে আসতেই হুমায়রা দৌড়ে উপরে উঠে যায়। কিছু একটা ভেবে স্মৃতির দিকে তাকিয়ে বলে,

-স্মৃতু উপরে আয় তো ল্যাহেঙ্গা চুজ করবে। দশ বার না পাঁচবার না একবার বিয়ে হবে। মন মতো লেহেঙ্গা না পড়লে হয়।

মেয়ের কথায় নীলা বেগম অবাক হয়। অনুরাগ সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে,

-এই মেয়ে লাজ লজ্জা সব বিসর্জন দিয়েছে নাকি! আমাদের সময় বিয়ের কথা শুনলেই লজ্জায় দরজা আটকে বসে থাকতাম।

অনুরাগ হোসেন হালকা হেসে নীলা বেগমের কানের কাছে নিচু হয়ে বলে,

-এখন কি লজ্জা আছে নাকি গেছে ম্যাডাম জ্বী?

নীলা বেগমও চোখ বড় বড় করে অনুরাগ হোসেনের দিকে তাকায়৷ আবার তাকায় বাকিদের দিকে।।তারা কিছু শুনেছে কিনা। কিন্তু বাকিরা নিজেদের মতো ব্যস্ত। তা দেখে হাফ ছেড়ে আবারো রান্না করতে চলে যায়।

~★~

আজ হুমায়রার গায়ে হলুদ। কিন্তু সে মুখ ভার করে বসে আছে। নীলা বেগম কয়েকবার এসেছে রেডি হয়েছে কিনা দেখতে। গ্রাম থেকে এসেছে তার বাবা-মা। তাদের জন্যই মূলত মনটা খারাপ হয়ে আছে৷ কারণ তার মা আসতেই প্রথমে এটাই বলেছে অপয়া মেয়ে কার বাড়ির বউ হবে আবার৷ ব্যাপারটা হুমায়রার পছন্দ হয়না৷ মাঝে মাঝে ভেবে কুল পায়না সে কি সত্যিই অপয়া! কিন্তু প্রশ্ন করার মতো মানুষ পায়না। হুমায়রাকে সাজানো শেষে সকলেই নিচে কাজ করতে গেছে। একা একা আয়নার সামনে বসে এসব উদ্ভট চিন্তা ভেবে যাচ্ছে সে।
আবার আয়নায় নিজেকে দেখে একটু লজ্জা পাচ্ছে। আজ তার গায়ে হলুদ। গায়ে হলুদের সাজে কত সুন্দর-ই না লাগছে তাকে। আগামীকাল বিয়ে হয়ে যাবে। এই বাড়ি থেকে চলে যেতে হবে। এটা ভাবতেই আবারো মন খারাপ হয়ে গেল। সে নিজের ভাবনায় এতোটায় ডুবে আছে যে তার পেছনে যে কেউ দাঁড়িয়ে আছে আয়নার প্রতিবিম্বে সে সেটাও খেয়াল করছে না৷

-আমার বউটার মন খারাপ কেন?

হঠাৎ কানের কাছে পুরুষালি কন্ঠ শুনতেই কেঁপে উঠে হুমায়রা৷ কিছুটা দূরে সরে দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করে কে লোকটা। লোকটার চেহারা দেখতেই একটু হাফ ছেড়ে বাঁচে। তা দেখে আহান এবার একটু হাসে। হুমায়রার কোমড় জড়িয়ে কাছে টেনে বলে,

-সারফারাজ আহানের বউ হচ্ছেন ম্যাম। এতো ভীতু হলে চলে? সাহসী হতে হবে তো।

হুমায়রা এক নজর আহানকে দেখে ঠোঁট উল্টে আবার নিচে তাকিয়ে রইলো। তা দেখে আহান ভ্রুঁ কুঁচকে বলে,

-আমার বউটার মন খারাপ কেন?

হুমায়রা কিছু একটা ভেবে বলে,

-সত্যিই আপনি এসেছেন? নাকি আমার কোনো ভ্রম হচ্ছে!

হুমায়রার প্রশ্নে বোকার মতো তাকায় আহান। কিছু একটা ভেবে বলে,

-উমম….কি মনে হয় ভ্রম নাকি সত্যি?

-জানি না।

-তাহলে একটু প্রেম করে বুঝিয়ে দেই?

বলেই হুমায়রার দিকে নিজের মুখটা এগিয়ে নিয়ে যাবে তা দেখে হুমায়রা আরো বেশি ভরকে যায়। দূরে সরে বলে,

-না না সত্যিই আপনি। আর বুঝাতে হবে না।

আহান থামে। হেসে বলে,

-আয়নার দিকে তাকিয়ে মন খারাপ করে ছিলে কেন?

আহানের প্রশ্ন শুনতেই চোখে পানি চলে আসে হুমায়রার। ঠোঁট উল্টে কান্না করে বলে,

-আমি কি সত্যিই অপয়া? আচ্ছা কোনো মা নিজের মেয়েকে অপয়া বলতে পারে?

-রাগের মাথায় বলেছে হয়তো। এতে মন খারাপ করতে হয় নাকি বোকা?

-তাই বলে সব সময়?

এইটুকু বলতেই চোখ থেকে পানি পড়ে যায়৷ এতেই আহানের মনের মাঝে কেমন একটা ভয় জেগে ওঠে।
‘ভয়’! হ্যা ভয়। হুমায়রার চোখের পানিটাও তার কাছে ভয়ের কারণ। সে চায় তার মায়রা সব সময় হাসিখুশি থাকবে। কোনো কষ্ট তাকে ছুঁতে পারবে না। আর এই চোখের পানি? সেটা তো আসতেই পারবে না৷ আর কিছু না ভেবেই নিজের সাথে জড়িয়ে নেয় হুমায়রাকে। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,

-এটাই যেন আমার মায়রার শেষ কান্না হয়। আমি আর আমার মায়রার চোখে পানি দেখতে চাই না।

আহানের কথায় এবার শব্দ করেই কেঁদে দেয় হুমায়রা। এরই মাঝে অমিত অনিলও এসে হাজির হয়েছে বোনকে স্টেজে নেয়ার জন্য। কিন্তু এভাবে কান্না করতে দেখে তারাও ভরকে যায় কিছুটা। অনিল রাগী চোখে আহানের দিকে তাকিয়ে বলে,

-কি বলেছিস ওকে? কাঁদছে কেন ও?

অনিলের কথায় আহান বোকাবনে যায়। অবাক হয়ে বলে,

-আ্ আমি কি বলবো? শুধু শুধু কাঁদছে। থামতে বলছি তবুও থামছে না। দেখ না তোরা।

বলেই হুমায়রাকে ছেড়ে দাঁড়ায়। অমিত এবার হুমায়রার কাছে এসে দুই গালে হাত রেখে জিজ্ঞেস করে,

-কি হয়েছে বনু? কাঁদছিস কেন?

হুমায়রা নিচে তাকিয়ে না সূচক মাথা নাড়িয়ে বুঝায় কিছুই হয়নি। এবার অনিল সামনে এসে দাড়ায়। গম্ভীর কন্ঠে বলে,

– কাঁদছিলি কেন?

আবারো না সূচক উওর আসে হুমায়রার কাছ থেকে। তা দেখে আহান বলে,

-ওর মা.. আই মিন তোদের মনি এসেই বলেছে ও নাকি অপয়া। যার বাড়ি যাবে ধ্বংস হবে এমন কিছু তাই কাঁদছে।

আহানের কথায় ভ্রুঁ কুচকে তাকায় দু’জন। কিছু বলার আগেই আহান আবারো বলে,

-দেখ মায়রার চোখে আমি আর পানি দেখতে চাই না। আর ওই মহিলাকে ভালোমতো বুঝিয়ে দিস। না হয় আমি কি করতে পারি সেই সম্পর্কে তোদের ধারণা আছে। সম্পর্কে কি হয় সেটা আমি দেখবো না।

বলেই বড় বড় পা ফেলে ঘর থেকে বের হয়ে যায় আহান। হুমায়রা আহানের যাওয়ার পানে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করে আসলে কি বোঝাতে চাইলো আহান। কিন্তু কথাগুলো ঠিক বোধগম্য হলো না তার। কি করতে পারে! অমিত চুপচাপ হুমায়রার চোখের পানি মুছে দিয়ে মুচকি হেসে বলল,

-সামান্য ব্যাপারে কাঁদতে হয় বুঝি? মনি তো এমনই জানিস না তুই? তাহলে? অপয়া বললেই কেউ অপয়া হয় নাকি বোকা?

হুমায়রা তবুও ঠোঁট উল্টে তাকিয়ে থাকে ভাইয়ের দিকে। অমিত হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

-আচ্ছা আমি মনিকে বলে দিবো যাতে সে আর এসব না বলে ওকে? এখন একটু চোখমুখ ধুয়ে আবারো সুন্দর করে সেজে আয় তো। আমি তুলি, অর্নি ওদের পাঠিয়ে দিচ্ছি।

কথাটুকু শেষ করে অমিত অনিলও ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। হুমায়রা আবারে আয়নার সামনে এসে দাড়ায়। আয়নায় নিজের চেহারার অবস্থা দেখে নিজেয় ভয় পেয়ে যায়। মাএই যেখানে নিজেকে পরীর মতো লাগছিল আর এখন কান্নার কারণে কাজল লেপ্টে যাওয়ায় ততটাই পেতনি লাগছে। তা দেখে এক দৌড়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। হাজার হোক তার গায়ে হলুদ। এমন দেখালে কীভাবে হবে!

যেই কথা সেই কাজ। ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবারো সাজতে বসে হুমায়রা৷ আগের মতো নিজেকে সাজিয়ে তোলে। নিজেকে কীভাবে পরিপূর্ণ সাজাতে হয় সেটা সে ভালোমতোই জানে। অতিরিক্ত মানুষের প্রয়োজন পরে না তার। তাই তো পার্লারের কাউকে আনতে দেয়নি। রেডি হয়ে খুশি মনে ঘর থেকে বের হবে সেই মুহূর্তেই হঠাৎ লাইট অফ হওয়ায় কিছুটা ভরকে যায়।

দরজা থেকে আসা বাইরের আলো লক্ষ করে বাইরে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই শক্ত-পোক্ত কোনো হাত ধরে ফেলে তাকে। একটা হেচকা টানেই দেয়ালের সাথে মিশিয়ে নেয়। কিছুটা ভরকে যায় হুমায়রা। চিৎকার করার সুযোগ নেই। কারণ এক হাতে সেই মানব তার মুখ চেপে ধরে আছে। আর আরেক হাতে তার দুই হাত বন্ধী। উম…উম.. করে শব্দ করে কয়েকবার ছাড়া পাওয়ার জন্য। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে কোথায়। ধীরে ধীরে সেই মানবটা মুখ থেকে হাত সরিয়ে কোমড়ে হাত রাখে। ঠান্ডা কিছু একটা অনুভব হয় কোমড়ে। কিন্তু কি তা এই অন্ধকারে বোঝার সাধ্যি নেই হুমায়রার। ভয়ে এখন মুখ থেকে স্বরও বের হচ্ছে না তার। শুধু নিজেকে ছাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর লোকটা শান্ত দৃষ্টিতে অন্ধকারেই হয়তো তাকিয়ে আছে তার দিকে।
হঠাৎ কপালে ঠোঁটের স্পর্শে আরেকটু কেঁপে ওঠে হুমায়রা৷ ভয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়।

স্মৃতির ডাকে চোখ খুলে সে। চারপাশে তাকাতেই লাইট জালানো দেখে অবাক হয়৷ মাএ কি হলো তাই মাথায় ঘুরতে থাকে। মনের ভ্রম ছিল নাকি সত্যি মাথায় ঢুকছে না তার। হুমায়রাকে ভাবনায় ডুবে থাকতে দেখে স্মৃতিও চোখের সামনে তুরি বাজিয়ে বলে,

-কি ভাবছিস এতো? হলুদের অনুষ্ঠান কি শুরু করতে দিবি না নাকি। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করবো চল না।

বলেই স্মৃতি হাত টেনে হুমায়রাকে ছাদের উদ্দেশ্যে যাওয়া শুরু করে। হুমায়রাও একবার স্মৃতির ধরা হাতের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ নিজের কোমড়ের দিকে তাকায়। ভালোমতো পরখ করতেই বুঝতে পারে তার কোমড়ে হলুদের ছোয়া লেগে আছে। তার মানে সত্যিই কেউ এসেছিল? কিন্তু কে? আহান হলে তো এমন করতো না?সে সামনাসামনি হলুদ লাগাতো। তাহলে কে ছিল সে লোকটা!

#চলবে…..

(রোজা উপলক্ষে দুইদিন পর পর দিবো 🥹। আমি অলস মানুষ 🤧)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here