বোকামন #পর্ব_২০

0
6

#বোকামন
#পর্ব_২০
#Tahsin_Atoshi

বাবা-মায়ের থেকে আপন হয়তো কেউ হয়না। সে যতই দূরত্ব থাকুক না কেন মনের টান থেকেই যায়। যেমন হুমায়রা ও নীলা বেগমের টান। হুমায়রা যতই না জানুক নীলা বেগম তার মা তবুও সেই দিন শেষে সেই মানুষটার কাছেই চলে আসে। অথচ যাকে মা বলে জানে তার প্রতি কখনো টান অনুভব করে না।
শুভ তার কথা মতো আজ হুমায়রাকে নিয়ে তার মামনির কাছে এসেছে। এতে হুমায়রার খুশির শেষ নেই। তাই সারাদিনে কোনো তর্ক করেনি সে শুভর সাথে। চুপচাপ সব কথা শুনেছে। এতে শুভ অবাক হয় বটে। কিন্তু কারণটাও তার অজানা নয়। তাই আর কিছু বলে না। সমস্যা কি যদি কোনো একটা কারণের উছিলায় নিজের হূরের মুখে মিষ্টি কথা শুনতে পায়। আনমনে হাসে শুভ। হুমায়রা বাসায় আসতেই নীলা বেগমের কাছে গিয়ে যে আঠার মতো লেগেছে আর আসার নাম নেই। শুভও চুপচাপ অমিত,অনিলের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। অনিল কিছুটা রেগেই আছে শুভর উপর। তা তার কথাতেই বুঝা যাচ্ছে। কথার মাঝেই শুভ জিজ্ঞেস করে,

-আচ্ছা আহান কোথায়? ওর সাথে দেখা হয়েছিল তোদের?

অমিত, অনিল দুজনই এবার রাগি চোখে তাকায়৷ অমিত গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-কেন ওকে দিয়ে তোর কি কাজ?

-না মানে হাজার হোক বন্ধু তো।

-বিয়ের সময় ওই কাহিনী করার আগে মনে ছিল না?

অনিলের প্রশ্নে হাসে শুভ। মাথা চুলকে বলে,

-অর্নির যদি অন্য কারো সাথে বিয়ে ঠিক হয় তাহলে তুই কি এমন করতি না? তোদের কথা তো জানি না কিন্তু আমি ভাই স্যাক্রিফাইস করতে পারবো না।

ভ্রু কুঁচকে তাকায় অনিল। গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-গত একসপ্তাহ যাবৎ আহানের খোজ নেই৷ তুহিনটা তো কাজের জন্য চট্টগ্রাম গেলো। আমি অমিত কতবার গিয়েছি ওর বাসায়।দরজাও খুলেনি।

-হুম আজ স্মৃতিও যাবে বললো। ওরও হয়তো ফিরে আসতে হবে।

-স্মৃতি ওখানে কেন যাবে?

-মেয়েদের মন নরম হয় দোস্ত। বললো আহানের জন্য খারাপ লাগছে তাই দেখা করবে একবার৷ তাই আর বারণ করিনি।

-কিন্তু…

-কিছুই না। ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।

কথার মাঝেই শুভ ফোন বেজে ওঠে। স্মৃতি কল করেছে। কৌতুহল নিয়েই কলটা রিসিভ করে। ওপর পাশ থেকে কি বলে তা আর কেউ জানতে পারে না। হঠাৎ করেই উদ্যোত হয় যাওয়ার জন্য। তা দেখে অমিত জিজ্ঞেস করে,

-কিরে কি হলো কোথায় যাচ্ছিস?

-আহানের বাসায়..

আহানের বাসায় কথাটা শুনতেই হুমায়রা দৌড়ে এলো। কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল,

-কি হয়েছে?

হুমায়রাকে দৌড়ে আসতে দেখে শুভ একটু অবাক হয়৷ গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-কিছু না কাজ আছে৷

-আমিও যা…

কথা শেষ করার আগেই শুভর চোখের দিকে তাকিয়ে থেমে যায় হুমায়রা৷ চোখটা লাল হয়ে আছে। রেগে আছে হয়তো। চুপচাপ মাথা নিচু করে ফেলে। বোনের ভয় দেখে অবাক হয় অমিত অনিল। কিন্তু বলার মতো কিছুই খুঁজে পায়না৷ এরই মাঝে শুভর গম্ভীর কন্ঠ শোনা যায়,

-চলো।

শুভর কথার মানে বুঝতে না পেরে কৌতুহল নিয়ে তাকায় হুমায়রা। কথাটা বোধগম্য হতেই দৌড়ে চলে যায় পিছু পিছু।

——–

স্মৃতি চুপটি করে বসে আছে সোফার একপাশে। আহানও তার থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বসে আছে। আর তাদের সামনে বসে আছে কিছু লোক ও কাজী। মূলত একটা ছেলের বাসায় এভাবে একটা মেয়ে আসা তারা মানতে পারছে না। তবে সে এটা দেখে অবাক হয় আহানের বাসায় থাকা মেডটাও কিছু বলছে না৷ তার সাথেই তো ঘরে ঢুকলো স্মৃতি। তাহলে কেন কিছু বলছে না তাই বুঝতে পারছে না৷
সকলেই অপেক্ষায় আছে শুভর আশার৷ কেটে যায় প্রায় আধঘন্টা। সকলেই নিস্তব্ধ। কেউ স্মৃতিকে কোনো কটু কথাও শোনাচ্ছে না। শুধু বসে আছে স্মৃতির বাসার মানুষ আসার অপেক্ষায়। সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুভ ও হুমায়রা ভেতরে ঢোকে। তার কিছুক্ষণ পর আসে স্মৃতির বাবা-মা হাজির হয়। স্মৃতিকে এক কোণে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে মেয়ের কাছে ছুটে যায় মৌমিতা। হুমায়রা এসেও স্মৃতির কাছে যেতে পারেনি। শুভ বাধা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাশে৷ কারণ স্মৃতির থেকে কিছুটা দূরেই আহানের অবস্থান। হুমায়রাকে দেখার পর তার চোখে এক অসহায়ত্বের ছাপ স্পষ্ট ছিল।
মন খারাপ হয় হুমায়রার আহানের অবস্থা দেখে। এই এক সপ্তাহ কি হালই না করেছে নিজের। চোখের নিচে কালো দাগ,মুখে দাড়িতে ভরা, চুলগুলো এলোমেলো। প্রথম দেখা সেই আহান আর এই আহানের মাঝে যেন আকাশ পাতাল তফাত। তা দেখে মন খারাপ হয় হুমায়রার৷ চোখে পানি ছলছল করে।আহানের সাথে চোখাচোখি হতেই আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ওই চোখের দিকে তাকানোর সাহস যে হুমায়রার নেই৷ পরিস্থিতির শিকার হলেও নিজেকে ঠকবাজ মনে হচ্ছে তার।
এতো ভাবনার মাঝেই একজন মহিলা শুভর বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,

-আপনারা কেমন মানুষ বলুন তো! মেয়ে অন্য ছেলের ঘরে একা আসে সেদিকে খেয়াল রাখেন না আপনারা।

স্মৃতির গলা আটকে আসে। মিথ্যা অপবাদে নয়। তার জন্য তার পরিবারকে কথা শুনতে হচ্ছে এই ভেবে। নিজেকে সংযত করে বলে,

-আন্টি আপনাদের ভুল হচ্ছে। আমি তো শুধু…

স্মৃতিকে কথা বলতে না দিয়েই আরেক মহিলা বলে ওঠে,

-হ্যাগো মেয়ে একটু লজ্জা তো করো। হাতেনাতে ধরেছি তোমাকে ওই ছেলের সাথে একই রুমে। তাও কীভাবে কথা বলছো?

-আন্টি আপনারা কি বলছেন। এক ঘরে কখন ছিল। আর আহানের এখানে যে কাজ করে ওই আন্টিও তো ছিল। ওনার সাথে ঘরে ঢুকেছি আমি।

বলেই মহিলাটার দিকে তাকিয়ে বলে,

-কি হলো আন্টি বলুন।

এরই মাঝে আরেক লোক বলে ওঠে,

-ও কি বলবে। টাকা পেলে সবাই চুপ হয়ে যায়। আমাদের সমাজটা ভদ্র। তো এই মুহূর্তে আমরা তোমাদের বিয়ে দিতে চাচ্ছি।

এরই মাঝে আরেকজন লোক বলে ওঠে,

-তোমার বাবা মাকে দেখে তো ভদ্র ঘরেরই মনে হচ্ছে। তাই আর কথা বাড়ালাম না। বাইরের মানুষও টানলাম না। এখানে এখন বিয়ে পড়াবে। আমরা আর কিছু জানি না।

অবাক হয় শুভ। গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-আপনারা বললেই হয়ে গেল? করবে না আমার বোন বিয়ে।

এরই মাঝে আরেক মহিলা বলে ওঠে,

– হ্যা গো ছেলে ভালোভাবে বলছি কানে যায়না কথা। আর আমরা হাতে নাতে ধরেছি। আর কি চাই।

সবার কথার মাঝেই স্মৃতি শুভকে উদ্দেশ্য করে বলল,

-ভাইয়া তোর সাথে কথা আছে৷

সবাই তাকায় এবার স্মৃতির দিকে। শুভ গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-কি বলবি বল।

-আলাদাভাবে।

কেউ কোনো প্রশ্ন করেনা আর। স্মৃতি চুপচাপ চলে যায় শুভকে নিয়ে পাশের একটা রুমে। দুজনের মাঝে কি কথা হয় তা কারো আর জানা নেই৷ কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসে দুজন। শুভর চেহারায় গম্ভীরতা স্পষ্ট। গম্ভীর কন্ঠেই সে বলে,

-আচ্ছা আমি রাজি বিয়েতে। কিন্তু আমার শর্ত আছে।

পাশে থাকা একটা মহিলা হেয় করে বলে,

-মেয়ে বাড়ির লোকের আবার কিসের শর্ত হ্যাঁ? এমনতো না যে দেখেশুনে বিয়ে করাচ্ছো। অন্যছেলের সাথে একই বাড়িতে পেয়েছি তোমার বোনকে। একটু লজ্জা তো করো।

শুভ এবার রাগ কন্ট্রোল করতে পারে না। পাশে থাকা চেয়ারটায় এক লাথি দিতেই চেয়ারটা ছিটকে দূরে পরে। তা দেখে সবাই চুপ হয় এবার। শুভ গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-কীভাবে পেয়েছেন হ্যাঁ আমার বোনকে? একই বিছানায়? এক সাথে? বলুন কি হলো বলুন। আর আপনারা বলবেন আমি বিশ্বাস করে নিবো? প্রমাণ আছে আপনাদের কাছে? বলুন!

শুভর চিৎকারে পুরো ঘর কেঁপে ওঠে। হুমায়রা ভয়ে কিছুটা দূরে সরে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সে পরেছে বলে মনে পরে না। তাবুও ভয় করে তার। কেউ রেগে কথা বললে,ধমক দিলে। সে তো এসবে অভ্যস্ত না৷ দেয়ালের সাথে মিশে দাঁড়ায় এবার। স্মৃতি ভাইয়ের পাশে এসে দাড়ায়। হাত ধরে বলে,

-ভাইয়া শান্ত হ প্লিজ। হুমু ভয় পাচ্ছে।

হুমায়রার কথা শুনতেই পেছন ফিরে তাকায় শুভ। ভয়ে ছিটিয়ে দেয়ালের সাথে মিশে আছে হুমায়রা। শুভ গিয়ে জড়িয়ে ধরে এবার। গম্ভীর কিন্তু অসহায় কন্ঠে বলে,

-আম্..আম্..সরি হূর। আসলে রাগ হলে কন্ট্রোল করতে পারি না। ভয় পেয়ো না প্লিজ। সরি। সরি।

শুভ ও হুমায়রার এতো কাছাকাছিটা সহ্য হয়না আহানের। নিজেকে সামলে হাত মুঠে করে বসে সে। কাটা হাতে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের মাঝেই আবারো তাজা রক্তে ভিজে ওঠে হাত। এরই মাঝে একজন লোক বলে ওঠে,

-এখন বিয়ে পড়ায়। ওর ভাই কি বললো তা আমাদের দেখার বিষয় না। আমাদের সমাজের একটা নিয়মনীতি ও ভদ্রতা আছে।

কেউ আর কথা বাড়ায় না৷ বিয়ে হয়ে যায় অবশেষে। বিয়ে পড়ানো শেষ হতেই বাইরের সকল লোক ও কাজী চলে যায় নিজের মতো।

এখন ঘরে উপস্থিত শুধু আহান,শুভ,স্মৃতি, হুমায়রা ও শুভর বাবা মা। চোখ বন্ধ করে নিজেকে সংযত রাখে শুভ গম্ভীর কন্ঠে আহানের দিকে তাকিয়ে বলে,

-আমার উপরের রাগ আমার বোনের উপর যেন না ওঠে কথাটা মাথায় রাখিস।

আহান তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে শুধু৷ গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-এখন ও আমার বউ। তো ওর সাথে আমি কেমন ব্যবহার করবো তা তোর কাছে শিখতে হবে নাকি আমার? এটা আমার ইচ্ছে।

এরই মাঝে আসিফ ইসলাম গম্ভীর কন্ঠে আহানের দিকে তাকিয়ে বলে,

-আমি চাচ্ছি ওর পড়াশোনা শেষ অব্দি আমাদের বাসায় থাকুক। এরপর না হয় ধুমধাম করে…

কথা শেষ করতে পারলেন না আসিফ ইসলাম। এরই মাঝে আহান বলল,

-দুঃখিত আঙ্কেল। কিন্তু আমাদের পরিবারের বউরা বিয়ের পর বাপের বাড়ি থাকে না। আর পড়াশোনা সেটা ও এখান থেকেই চালিয়ে যেতে পারবে। আর কি বললেন? ধুমধাম করে অনুষ্ঠানের কথা? তাহলে বলি আমাদের বিয়েটা কীভাবে হয়েছে তা দেখলেনই। তো তার কোনো প্রয়োজন নেই৷ এখন আসতে পারেন।

আহানের কথায় অবাক হয় আসিফ ইসলাম। এর আগে আহান কখনো তার সাথে এইরকম ব্যবহার করেনি। এতো পরিবর্তন কীভাবে হয় মানুষের৷ কিছু বলতে পারেন না তিনি। অপমানে শরীরটা শিরশির করে ওঠে। মৌমিতা অসহায় কন্ঠে বলে,

-মেয়েটাকে কাছে পাইনি। কষ্ট সহ্য করেছে অনেক। ওকে ভালো রেখো।

আহান হাসে। এরপর বলে,

-জ্বী আন্টি খুব ভালো রাখবো। আসতে পারেন এখন।

ধীরে ধীরে সবাই স্থান ত্যাগ করে। এখন শুধু থাকে স্মৃতি ও আহান। এক কোণে চুপচাপ দাড়িয়ে রয় স্মৃতি। নিজের ভাগ্যের উপর হাসি পায় তার। মনের ভেতর ঝড় বয়ে বেড়াচ্ছে সে। তবুও পরিস্থিতি ঠিক করতে গলা ঠিক করে আহানের উদ্দেশ্য বলে,

-আপ্ আপনার হাত কেটে গেছে। ব্যান্ডেজ করা প্রয়োজন।

আহান হাত ভাজ করে তার উপর মাথা রেখে নিচে তাকিয়ে ছিল স্মৃতির কথায় হালকা নড়ে ওঠে। চোখ তুলে একনজর দেখে বলে,

-বিয়ে হয়েছে মানে এই না আমার সব ব্যাপারে অধিকার খাটাতে আসবে। নিজের লিমিটে থাকো।

থমকায় স্মৃতি। কিন্তু কিছু বলারও নেই তার। কি বা বলবে। সে তো জানে আহান যে হুমায়রাকে ভালোবাসে। এমন ব্যবহার খুবই স্বাভাবিক। স্মৃতিকে চুপ থাকতে দেখে কৌতুহল নিয়ে তাকায় আহান। গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-আমার রুম তো চেনোই তাই না। যাও ওই রুমে গিয়ে রেস্ট নেও। আমি এখানে থাকবো।

-আ্..আমার একা ভয় করে।

-ভয়ের কি আছে? এখানে বাঘ থাকে না ভাল্লুক থাকে হ্যাঁ?

কথাটা আহান একটু উচ্চস্বরেই বলে। কেঁপে ওঠে স্মৃতি। কিন্তু মন খারাপ হয়না তার। সে যে অভ্যস্ত এসবে। তবে কিসের মন খারাপ! থামে আহান। জোরে জোরে কয়বার শ্বাস নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-আমি এখানেই আছি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই যাও৷

কথামতো স্মৃতি চুপচাপ চলে যায় রুমে। কিছুক্ষণ বিছানায় বসে থাকলো কিন্তু মন মানছে না। তাই আবারে ফার্স্ট এইড বাক্সটা নিয়ে আহানের কাছে এলো। তা দেখে আহান রাগ দেখিয়ে কিছু বলার জন্য উদ্যত হতেই স্মৃতি থামিয়ে বলল,

-এখানে অধিকারের তো কিছু নেই। হাতে ইনফেকশন হয়ে যাবে। ব্যান্ডেজ করে দেইনা।

আহানের কি হলো ঠিক জানা নেই। অতিরিক্ত কথা বাড়ালো না সে। স্মৃতিও আহানের চুপ থাকাকে সম্মতি ভেবে হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলো। একটা ঔষধ এগিয়ে দিয়ে বললো খেয়ে নেয়ার জন্য। আহানও কথা না বাড়িয়ে ঔষধ খেয়ে নিজ রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিলো।

#চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here