#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_৩১
#আনিকা_আফসা
অয়নের নিশানা সোজা আমার দিকে। হাত কাঁপল খানিক। রুদ্রের মাথা আমার কোলে দেখে বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। তারউপর রুদ্রের জন্য আমার প্রতিটা আর্তনাদ ভেতরটা নাড়িয়ে দিলো তার। সে বিড়বিড় করে বলল,
“আমিও তো তোকে ভালোবেসে ছিলাম, কিন্তু তোর চোখে আমার জন্য এমন ভালোবাসা দেখতে পেলাম না কেন আনি? তুই আমাকে কেন ভালোবাসলি না? আমি তো তোকে ভালোবেসে তোকে এই পাঁচটা বছর আগলে রেখেছি, কোনো বিপদ যাতে তোকে ছুঁতে না পারে তার জন্য যা প্রয়োজন তা করেছি তাহলে আমাকে ফাঁকি দিয়ে তুই রুদ্রের কি করে হতে পারিস? আমাকে কেন ভালোবাসলি না?”
তার ভেতরের সত্তাটা বলল তখন,”ভালোবাসা কি কখনো জোর করে আদায় করা যায়, অয়ন? কাউকে আগলে রাখা যায়, রক্ষা করা যায়, তার জন্য পৃথিবীর সঙ্গে যুদ্ধ করা যায়, কিন্তু তার হৃদয়কে নিজের করে নেওয়া যায় না।”
অয়নের হাত আরও কেঁপে উঠল। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, অথচ সেই লালচে চোখের গভীরে জমে আছে অসহায়তা। বছরের পর বছর ধরে বুকের মধ্যে জমিয়ে রাখা ভালোবাসা, প্রত্যাশা আর না পাওয়ার যন্ত্রণা যেন একসাথে বিস্ফোরিত হচ্ছে। অয়ন চোখ বন্ধ করে একটা গভীর শ্বাস নিলো। ধীরে ধীরে সে পিস্তল ধরে রাখা হাতটা আরো শক্ত করলো। মনে মনে প্রস্তুতি নিলো গুলি ছোড়ার। সে তো ভালোবেসেছিলো, আনি কেন তার হলো না তবে? এখানে তার কোনো দোষ নেই, ভালোবাসায় সবকিছু জায়েজ।
যখনই সে ট্রিগারে চাপ দিতে যাবে , মাথার বা পাশে কিছুর উপস্থিতি টের পেলো। মাথা হালকা ঘোরাতেই একটা পিস্তলের নলের সম্মুখীন হলো। পুলিশ অফিসার তার মাথায় রিভেলবার ধরে রেখেছে। অয়ন তাকাতেই বলল,
“পিস্তল নামান মিস্টার অয়ন, আপনার খেলা শেষ।”
অয়ন হতবাক হলো। পিছনে তাকিয়ে দেখলো পুলিশের গাড়ি ও একদল পুলিশ। আছে সানভি, রিয়াদ, আনিশা, নিকি, নিহান ও আমার আম্মু। এতক্ষণ তার খেয়াল অন্য কোথাও থাকায় এসব খেয়ালই করে নি। অয়ন জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো। কি করবে এখন?
চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিলো একবার। সব শেষ। এতদিন ধরে যত পরিকল্পনা, যত হিসাব, সবকিছু যেন মুহূর্তেই ভেঙে পড়েছে। আমি পিছনে তাকালাম তাদের শব্দে।
পুলিশ অফিসার আবারও কঠোর গলায় বললেন,
“পিস্তলটা নিচে রাখুন, মিস্টার অয়ন। কোনো বোকামি করার চেষ্টা করবেন না।”
অয়নের ঠোঁটের কোণে তিক্ত একটা হাসি ফুটল। সে তিক্ত হাঁসি বজায় রেখে বলল,
“বোকামি? আমি তো অনেক আগেই বোকামি করে ফেলেছি, অফিসার। যেদিন ওকে ভালোবেসেছিলাম সেদিনই।”
তার দৃষ্টি গিয়ে থামল আমার ওপর। আমি তখনও রুদ্রের মাথা কোলে নিয়ে বসে আছি। রুদ্রের শরীর নিস্তেজ, তবুও তার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছি আমি।
অয়নের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।
“একবারও কি আমাকে ভালোবাসতে পারলি না, আনি?”
আমি কোনো উত্তর দিতে পারলাম না। শুধু চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। নীরবতাই যেন তাকে সব উত্তর দিয়ে দিল।
অয়ন ধীরে ধীরে হাসল। সেই হাসিতে সুখ ছিল না, ছিল ভাঙা একটা মানুষের অসহায়তা।
“বুঝেছি.,,, এই জন্মে তোর ভালোবাসা পাওয়া আমার হবে না।”
তার আঙুল তখনও ট্রিগারের উপর। পুলিশ অফিসার চিৎকার করে উঠলেন,
“অয়ন! পিস্তলটা ফেলুন!”
সানভি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল,
“প্লিজ অয়ন, আর কিছু করিস না।”
রিয়াদও এগিয়ে এলো এক পা এবং বলল,
“সব শেষ হয়ে গেছে। আত্মসমর্পণ কর।”
কয়েক সেকেন্ড কেটে গেল। সেই কয়েক সেকেন্ড যেন কয়েক বছরের সমান দীর্ঘ। অয়নের চোখে ভেসে উঠল গত পাঁচ বছরের প্রতিটা মুহূর্ত। আনিকে দূর থেকে আগলে রাখা, তার হাসি দেখে নিজের সুখ খুঁজে নেওয়া, আর শেষ পর্যন্ত তাকে হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা।
ধীরে ধীরে তার হাত নিচে নামতে শুরু করল ।পিস্তলটা মাটিতে পড়ে ঠক করে শব্দ হলো।
অয়নের হাত থেকে পিস্তলটা পড়ে যেতেই চারপাশে ছুটোছুটি শুরু হয়ে গেল। কয়েকজন পুলিশ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে ঘিরে ফেলল। কিন্তু অয়ন কোনো প্রতিরোধ করল না। মাথা নিচু করে স্থির দাঁড়িয়ে রইল।
কিন্তু রুদ্রের শ্বাস ফুরিয়ে আসতে চাইছে। আমি তাদের উদ্দেশ্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললাম,
“প্লিজ ,কেউ অ্যাম্বুলেন্স ডাকো। রুদ্রকে হসপিটালে নেয়া প্রয়োজন।
তখনই সবার নজর রুদ্রের দিকে স্থির হলো। আপু, নিকি আপু, আমার আম্মু, নিহান ভাইয়া সহ সবাই ছুটে আমাদের কাছে। আম্মু ইতিমধ্যে সত্যটা জেনে গেছে। চোখে জল ও বুকভর্তি অনুশোচনা তার।
আম্মু কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
“অ্যাম্বুলেন্স কোথায়?”
পুলিশ অফিসার দ্রুত বললেন,
“অ্যাম্বুলেন্স রাস্তায় আছে। আর দুই মিনিট।”
দুই মিনিট! আমার কাছে মনে হলো দুই যুগ।
রুদ্র চোখ টেনে খোলার চেষ্টা করলো। মুখের সামনে আমাকে দেখে হঠাৎ খুব আস্তে বলল,
“আনি,,,”
“হ্যাঁ?”
“একটা কথা বলবে?”
আমি দ্রুত মাথা নাড়লাম এবং বললাম,
“যা বলবে।”
রুদ্র চোখ বন্ধ করে আবার খুলল এবং বলল,
“ভালোবাসো আমাকে?”
প্রশ্নটা শুনে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
আমি তার মুখ দুহাতে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললাম,
“ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি। পৃথিবীর সবকিছুর চেয়েও বেশি ভালোবাসি। তাই তোমাকে কোথাও যেতে দেব না।”
রুদ্রের ঠোঁটে তৃপ্তির একটা হাসি ফুটে উঠল।
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা অয়ন চোখ বন্ধ করে ফেলল।
আজ সে নিজের কানে শুনল সেই কথাটা, যেটা শোনার জন্য সে পাঁচটা বছর অপেক্ষা করেছিল।
কিন্তু সেই কথাটা কখনো তার জন্য ছিল না।
ঠিক তখনই দূর থেকে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দ ভেসে এলো। আর আমার বুকের ভেতর একটাই প্রার্থনা ঘুরপাক খেতে লাগল,
“হে আল্লাহ, আমার রুদ্রকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিও না,,,,”
_____________
আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের রোগী ও ডাক্তার ও নার্সদের ছোটাছুটি। হসপিটালের ব্যস্ত পরিবেশ নজরে আসছে সামনে। হসপিটালের ওটির সামনে ভিড় হয়েছে। ইতিমধ্যে রুদ্রের অপারেশন শুরু হয়েছে। প্রথমে অর্ধচেতন থাকলেও পরে পথের মাঝে জ্ঞান হারিয়েছে রুদ্র। আমি ওটির সামনে দেয়ালের সাথে থাকা লোহার চেয়ারে বসে আছি। আমার পাশে আনিশা আপু, নিকি আপু পায়চারি করছে, আহান ভাইয়াও এসেছিলো তবে নিকি আপু ওনাকে তূর্য ও কেয়ার খেয়াল রাখতে বলে পাঠিয়ে দিয়েছে। আম্মু অপর পাশে বসে আছে আর শুধু বলছে এতবড় ভুল সে কিভাবে করলো? আরো কত কি? আমি বারবার ছটফট নজরে ওটির দিকে তাকাচ্ছি। ডক্টর রুদ্রের অবস্থা আশংকাজনক বলেছে, তখন থেকে টেনশনে হাত পা নিশপিশ করছে। কি হবে এখন আল্লাহ ভালো জানেন।
আমি চেয়ারে বসে আছি, কিন্তু মনে হচ্ছে যেন শরীরটা এখানে আর মনটা ওটির ভেতরে আটকে আছে। প্রতি সেকেন্ডে মনে হচ্ছে দরজাটা খুলবে, ডাক্তার বেরিয়ে এসে কিছু বলবে। কিন্তু সময় যেন থমকে গেছে।
হঠাৎ আম্মু আমার হাতটা শক্ত করে ধরলেন।
“আনি..”
আমি তাকালাম না। চোখ এখনও ওটির লাল বাতিটার দিকে স্থির।
“মা, আমাকে ক্ষমা করিস। আমি তোকে অয়নের সাথে জোড় করে বিয়ে দিতে চাইছিলাম। কিভাবে ওর মতো একটা প্রতারককে বিশ্বাস করলাম?”
কণ্ঠটা ভেঙে গেল তার। তারপরও বলল,
“আমি সত্যিটা বুঝতে এত দেরি করলাম কেন? ছেলেটা তোর জন্য কত কিছু করলো, আর আমি,,.”
বাকিটুকু বলতে পারলেন না। কান্নায় গলা আটকে গেল। আমারও চোখ ভিজে উঠল। কিন্তু এখন কারও প্রতি কোনো রাগ নেই। শুধু একটাই ভয়, রুদ্রের যেন কিছু না হয়।
ঠিক তখনই ওটির থেকে নার্স দুজন দৌড়ে বেরিয়ে কোথাও ছুটলো। সবাই চমকে উঠল।
নিকি আপু থেমে গেল পায়চারি করা। আনিশা আপু দুহাত জোড় করে চোখ বন্ধ করল। পুরো করিডোর জুড়ে নেমে এলো অদ্ভুত এক নীরবতা।
কয়েক মিনিট পর হঠাৎ ওটির ভেতর থেকে একটা মেশিনের তীক্ষ্ণ শব্দ ভেসে এলো।
আমার বুক ধক করে উঠল। অজান্তেই ঠোঁট কেঁপে উঠল। আমি উঠে দাঁড়ালাম। আমি ফিসফিস করে বলে উঠলাম,
“রুদ্র,,,”
দেয়াল ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু পা দুটো কাঁপছে।
ঠিক তখনই ওটির দরজা খুলে গেল। একজন ডাক্তার দ্রুত বেরিয়ে এলেন। তার কপালে ঘাম।
আমরা সবাই একসাথে তার দিকে ছুটে গেলাম।
ডাক্তার গভীর শ্বাস নিয়ে বললেন,
“পেশেন্ট অনেক রক্ত হারিয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু পরবর্তী কয়েক মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
আমার বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল। আমি কাঁপা স্বরে বললাম,
“ডক্টর,,,ও বাঁচবে তো?”
ডাক্তার আমার দিকে তাকালেন। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললেন,
“এখনও আশা আছে। আপনারা দোয়া করুন।”
আশা আছে। মাত্র দুটো শব্দ। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার কাছে মনে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান কথা এটাই। ডাক্তার নার্সদের কি সব নিয়ে আসতে বলল এবং আবার ওটিতে ঢুকলেন, ইনি আসল সার্জনের এসিস্ট্যান্ট। আমি হাত কচলাতে লাগলাম। শুষ্ক ঠোঁট ভেজালাম জিভ দিয়ে। অনেক খারাপ খারাপ চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। রুদ্রের বলা কথাগুলো, তার আর্তনাদ, তার অসহায়ত্ব মনে পড়ছে। আর এগুলো মনে পড়তেই চোখ ভিজে উঠছে বারবার। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখের জল মুছলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর ওটির লাল লাইটটি নিভে গেলো। আমরা সবাই উৎসুক হয়ে তাকালাম। ডাক্তার ও তার এসিস্ট্যান্ট বেরিয়ে আসতেই ঘিরে ধরলাম সবাই। নিহান বলল,
“ডক্টর রুদ্রের অপারেশন ঠিকঠাক হয়েছে তো?”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,”কেমন আছে রুদ্র?”
ডাক্তার আমাদের সবার দিকে তাকালেন এবং বললেন,
“দেখুন ওনার ওনার দু দুটি গুলি লেগেছে এবং অনেক ব্লেডিং হয়েছে । আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং অপারেশন করতে সফলও হয়েছি।”
আমরা সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। আমি আমার গলার ঐ আংটির চেইনটি ধরে চোখ বুজে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। ডাক্তার আবার বললেন,
“কিন্তু,,”
আমি ঝট করে চোখ খুলে বললাম,”কিন্তু কি ডাক্তার? অপারেশন তো হয়ে গেছে এখন তো রুদ্র ঠিক হয়ে যাবে তাইনা?”
ডাক্তার বললেন,”অপারেশন করলেই সব কিছু ঠিক হয়ে যায় না মিস। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি কিন্তু সামনের ৭২ ঘন্টা আপনাদের সবার জন্য আশংকাজনক। এর মধ্যে ওনার জ্ঞান না ফিরলে ওনি কোমায় চলে যেতে পারেন।”
ডাক্তারের কথা শুনে মনে হলো কেউ যেন আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে নিয়েছে।
“কোমা..?”
শব্দটা ঠোঁট থেকে বের হলেও নিজের কাছেই অপরিচিত লাগলো। আমার চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেল। আনিশা আপু দ্রুত আমাকে ধরে ফেলল।
“আনি, নিজেকে সামলা।”
আমি ফাঁকা চোখে ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
“ডক্টর, ওর জ্ঞান ফিরবে তো?”
ডাক্তার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এবং বললেন,
“আমরা আশা করছি ফিরবে। কিন্তু এখন কিছু নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ওনার শরীর অনেক বড় ধাক্কা সামলেছে।”
কথাটা বলে তিনি চলে গেলেন। করিডোরে আবার নেমে এলো নীরবতা। এই নীরবতা কান্নার চেয়েও ভয়ংকর।
আম্মু মুখ চেপে কাঁদছেন। নিকি আপু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। নিহান ভাইয়া বারবার সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে সবাইকে।
আর আমি…
আমি শুধু ওটির দরজার দিকে তাকিয়ে আছি।
কিছুক্ষণ পর একজন নার্স এসে জানাল,
“পেশেন্টকে আইসিইউতে শিফট করা হচ্ছে। একজন চাইলে দেখতে পারবেন কিন্তু বেশি কথা বলবেন না আর বেশিক্ষণ থাকা যাবে না।”
কথাটা শেষ হতেই আমি প্রায় দৌড়ে এগিয়ে গেলাম। কাঁচের দরজার ওপাশে রুদ্রকে দেখেই বুকটা হুহু করে উঠল। মুখে অক্সিজেন মাস্ক। হাতে স্যালাইন। বুকের সাথে লাগানো অসংখ্য তার।
মেশিনের মনিটরে উঠানামা করছে হৃদস্পন্দনের রেখা। এত চঞ্চল, এত প্রাণবন্ত মানুষটা যেন মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। নার্স আমাকে কয়েক মিনিটের জন্য ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দিল।
আমি ধীরে ধীরে রুদ্রের বেডের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম।
তার ঠান্ডা হাতটা নিজের দুহাতের মধ্যে নিয়ে ফিসফিস করে বললাম,
“শুনছো? তুমি কিন্তু আমাকে কথা দিয়েছিলে, আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না।”
কোনো উত্তর নেই। শুধু মেশিনের নিয়মিত বিপ বিপ শব্দ। আমার চোখ আবার ভিজে উঠল। আমি আবারো বললাম,
“রুদ্র, আমি জীবনে অনেক ভুল করেছি। অনেক দেরিতে বুঝেছি তোমাকে। কিন্তু এবার আর দেরি কোরো না। ফিরে এসো।”
এক ফোঁটা জল গিয়ে পড়ল তার হাতের ওপর।
“তুমি না বলেছিলে আমি তোমার বেঁচে থাকার কারণ? তাহলে আমাকে একা রেখে যাওয়ার অধিকার তোমার নেই।”
তখনই নার্স এসে বলল,
“এখানে কান্নাকাটি করবেন না ম্যাম, পেশেন্টের অবস্থা এখন ভালো না। আরো খারাপ হতে পারে।”
আমি চোখ মুছলাম। আমার জন্য রুদ্রের কোনো ক্ষতি হবে না আর। আমি হতে দিব না। আমি রুদ্রের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললাম,
“আমাকে ছেড়ে তুমি যেতে পারবেনা। শুনলে তুমি? যেতে দিবো না আমি তোমায়।”
#চলবে

