#Tell_me_who_I_am
(#বলোতো_আমি_কে?)
#পর্ব_৪
#আয়েসা_ইসলাম_মনি
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
_________________________________________☞
মিরা সারারাত দুই চোখের পাতা এক করতে পারেনি। শরীরটাও ক্লান্তির ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। তার খুব ইচ্ছে করছে, বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়ে ঘুমের আলিঙ্গনে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে। কিন্তু কারানের অফিসে যাওয়ার জন্য নাস্তা বানাতে হবে, তারপর ঘর পরিষ্কার করা, ঝাড় দেওয়া; অসংখ্য কাজ অপেক্ষায় আছে।
মিরা ক্লান্ত দৃষ্টিতে বলে, “উফ! সারারাত একটুও ঘুমাইনি, মনে হচ্ছে শরীর থেকে সব শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেছে। চোখের সামনে সবকিছু যেন ঝাপসা লাগছে। বাকি কাজগুলো পরে হবে। আগে ওর কফি আর নাস্তা বানাই।”
মিরা নাস্তা তৈরি করে। কারান ভোরের নরম আলোয় অফিসের পোশাকে গা গলিয়ে দিয়ে খেয়ে দ্রুত বেরিয়ে যায়। মিরা তখন ঘুমের ক্লান্তিতে টলমল করছে, শরীরটা আর ভার ধরে রাখতে পারছে না। অবশেষে কক্ষে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে।
তিন ঘণ্টা পর, হঠাৎ ফোনের রিংটোনে ঘুমটা ভেঙে যায়।
মায়ের ফোন দেখে মিরার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
খুশিতে ফোনটা হাতে তুলে নিয়ে বলল, “আসসালামু আলাইকুম মা! কেমন আছো?”
মমতাজ হেসে উত্তর দিলেন, “ওয়া আলাইকুমুস সালাম মা। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। তুই কেমন আছিস, আর জামাই বাবা কেমন আছে?”
মমতাজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে আপনমনে বলেন, “কতদিন মেয়েটাকে দেখিনি! বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। তবুও তোর সুখের কথা ভেবে কিছু বলি না।”
এটা ভাবতেই মমতাজের চোখের কোণে জল জমে উঠল।
এদিকে মিরা স্তব্ধ হয়ে গেল। ‘জামাই’ শব্দটা তার ভেতর গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করল। মিরা বোঝে, স্বামীর সাথে সম্পর্কের জটিলতা মাকে জানানো যাবে না, সেই অব্যক্ত বিষাদে মুখোশ পরেই থাকতে হবে। যে মা এত ভালোবাসা দিয়ে তাকে লালন করেছে, নিজের বুকের সমস্ত আবেগ চেপে রেখেও জগৎ-সংসারের নিয়মে মেয়েকে অন্য ঘরে পাঠিয়েছে, সেই মায়ের কোমল হৃদয়কে আঘাত করার মতো ক্ষমতা তার নেই।
মমতাজ উদ্বিগ্ন স্বরে বললেন, “কই মা, কথা বলছিস না কেন?”
মিরা একটা ভারী নিশ্বাস ফেলে নরম গলায় বলল, “ভালো আছি মা, খুব ভালো। খুব খুশি আছি। (একটু থেমে) আর সে তো সবসময়ই ভালো থাকে।”
মমতাজ খুশিতে হাসলেন।
“আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ! এটাই তো চাই।”
অথচ মিরা মুখ নীচু করে, মায়ের হাসির উচ্ছ্বাসের বিপরীতে নিজের বিষণ্নতা চেপে ধরে বসে থাকে।
মমতাজ পুনরায় স্বচ্ছ স্বরে বললেন, “শোন মা, তোকে কিছু কথা বলতে ফোন করেছি। তুই আমার আদরের মেয়ে, জীবনের প্রতিটি ধাপে তোর পাশে ছিলাম। উপদেশ দিয়েছি, তুই কখনো আমার কথা ফেলিসনি। আজ তুই সংসারী হয়েছিস, তাই কিছু কথা বলা দরকার।”
মিরা কণ্ঠ নীচু করে বলল, “হ্যাঁ মা, বলো।”
মমতাজ একটুখানি থেমে গম্ভীর কণ্ঠে বলতে লাগলেন, “তুই মুসলিম ঘরের মেয়ে। জানিসই তো, ইসলামে স্বামীর স্থান কতটা পবিত্র। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক রক্তের বাঁধনে বাঁধা, যেখানে হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন হয় একে অপরের জন্য। এই সম্পর্কের মহিমা এতটাই গভীর যে, তা শুধু ভালোবাসা দিয়েই পূর্ণ হয় না, ত্যাগ আর সহমর্মিতার মূলে গড়ে ওঠে। তোর স্বামী এখন থেকে তোর জীবনের সবচেয়ে আপনজন। তোর বাবা-মায়ের জায়গাও ওর জন্য উৎসর্গ করবি।
জীবনের পথে চলতে গিয়ে অনেক কষ্ট, অনেক রাগ-অভিমান আসতে পারে; কিন্তু মনে রাখিস, যত ঝড়ঝাপটা আসুক না কেন, তুই সবসময় মাথা ঠান্ডা রাখবি। স্বামীর শান্তি তোর ভালোবাসাতেই নিহিত। ওর মন খারাপ হলে তুই শান্ত থাকবি, তাকে বুঝবি। তর্কে জড়াস না বরং ভালোবাসা দিয়ে ওর মনের দুয়ার খুলে দিবি। সেই নারীই প্রকৃত বিজয়ী, যে স্বামীর হৃদয়কে ত্যাগ আর ভালোবাসার শক্তি দিয়ে জয় করে নেয়। যতটা পারিস, তাকে আদর দিবি, যত্নে রাখবি। স্বামীর সুখেই স্ত্রীর সুখ নিহিত;এই সত্যটুকু কখনো ভুলে যাস না। তোদের জন্য সবসময় দোয়া করি। সুখী হ মা। ‘ভালোবাসা হলো সেই পবিত্র ফুল যা যত্ন পেলে চিরকাল ফুটে থাকে। ভালোবাসা হলো সেই পবিত্র বন্ধন, যা সম্পর্ককে মৃত্যুর পরও বেঁধে রাখে।’ বুঝতে পারলি?”
মায়ের কথাগুলো শুনে মিরার চোখ জলে ভরে উঠল। সে যেন চিৎকার করে বলতে চায়, ‘মিথ্যা মা, যা দেখানো হয় সবই মিথ্যা। তুমি যে সুখের কথা বলছো, তা আমার জীবনে নেই। কতদিন তোমার কোলে শুতে পারি না, তোমার মমতামাখা হাতের স্পর্শ পাই না। আমার ক্লান্ত, অশান্ত মনের ভার তুমি ছাড়া আর কে বুঝবে মা?’ মিরার ভেতর থেকে এসব কথা বেড়িয়ে আসতে চায়, কিন্তু বের হতে পারে না। মাকে কষ্ট দেওয়ার অধিকার তার নেই।
মিরা শান্তভাবে বলে, “মা, আমি তোমার সব কথা মেনে চলার চেষ্টা করবো। তুমি চিন্তা করো না।”
মমতাজ স্মিতহাস্যে বেশ খুশি হলেন।
মিরার চোখ দিয়ে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। হাতের উলটো পাশের সহিত মুছে নিয়ে প্রশ্ন করল, “বাবা আর মাহি কেমন আছে? বললে না তো।”
“সবাই ভালো আছে রে। মাহি তো সারাদিন বলে আপুকে দেখতে যাবো, আপুকে দেখতে যাবো। এখন ওরও কিছুতে মন বসে না। মাঝে মাঝে এসে অভিযোগ করে, কেন তোকে বিয়ে দিলাম।”
কথাটা শুনে মিরার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। মাহিমা, বাবা-মায়ের কথা তারও যে খুব মনে পড়ে। ইতোমধ্যেই তার চোখ থেকে অবিরাম অশ্রু ঝরতে লাগল। গলাও ভারী হয়ে উঠেছে, এখন কোনো কথা বললেই কান্না ছুটে যাবে। মায়ের সামনে কষ্টগুলো প্রকাশ করার সাহসও নেই। মমতাজও ফোনের ও প্রান্ত থেকে মিরার অশান্তি অনুভব করতে পারছে না। মেয়ে ভালো আছে ভেবে নিশ্চিন্ত থাকছেন। অর্থাৎ মিরার নিখুঁত অভিনয় তাকে এড়িয়ে রাখছে।
মমতাজের আবেগপূর্ণ কথা এড়ানোর জন্য মিরা হঠাৎ বলে উঠল, “মা, ঘরের কিছু কাজ বাকি আছে। জানো, তোমার জামাই আমাকে কোনো কাজই করতে দেয় না। শুধু বলে, সার্ভেন্টরা করবে। কিন্তু আমার সময় কাটে না, তাই নিজে থেকে কিছু কাজের দায়িত্ব নিয়েছি। আর তোমাদের কল দিতে না পারলে অভিমান করো না প্লিজ। আসলে কারান এটা ওটা করে সবসময় সাথে থাকে, তাই সময় হয়ে উঠে না মা।”
অথচ বলে না যে কাজের ভারে আর সময় থাকে না।
মিরার কথায় মমতাজ খুশি হয়ে বলে উঠলেন, “এটা তো ভালো কথা, তুই সুখে আছিস শুনে মনটা ভরে গেল। আচ্ছা মা, তুই কাজ কর। আল্লাহ হাফেজ সোনা।”
কলটা কেটে যেতেই মিরার মন ভারী হয়ে গেল, কিন্তু কাঁদারও সময় নেই। ঘরের এত কাজ, সবকিছু যে প্রতীক্ষা করে আছে।
____________
মিরা সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে কাটিয়েছে। রাতের আঁধার ক্রমশ নেমে এসেছে। নয়টা বাজলেই একরোখা কারানের আগমন ঘটবে, এই আশায় টেবিলের ওপর খাবার সাজিয়ে বসে আছে সে। কিন্তু কারান এসেই দ্রুত পায়ের আওয়াজে উপরে চলে গেল। মিরা ক্ষণিকের জন্য ঘাড় ঘুরিয়ে তার চলে যাওয়া দেখল। মনে মনে ভেবেছিল, কিছুক্ষণ পরই ফ্রেশ হয়ে এসে খেতে বসবে সে।
কিন্তু অবিরাম অপেক্ষার পরও কারান আসছে না দেখে মিরা উপরে চলে গেল। সে দেখল, কারান বিছানায় বসে দেয়ালের সাথে মাথা ঠেকিয়ে কানে হেডফোন গুঁজে চোখ বন্ধ করে গান শুনছে। মিরা বুঝতে পারছিল না, কীভাবে কারানকে ডাকা যায়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলেও, হেডফোনের কারণে সে কিছুই শুনতে পাচ্ছে না। অতঃপর আরও কিছুক্ষণের জন্য অপেক্ষা করলেও কারানের পূর্বের মতোই কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। শেষপর্যন্ত, উপায়ন্তর না দেখে হাত দিয়ে কারানকে ছুঁতে যাবে, তখনই কারান চোখ খুলল।
কারান বিচক্ষণ গলায় বলল, “সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে এসেছো?”
মিরা তার এমন কথায় বেশ লজ্জায় পড়ল। পরে একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বলল, “আজব! আমি তো আপনাকে ডিনারের জন্য ডাকতে এসেছি।”
“জানি জানি। তোমার মতো মেয়ে তো, ভালো করেই চেনা আছে। আর আমি খেয়েই এসেছি। তাছাড়া এত পতি-ভক্তি দেখাতে হবে না।”
কারানের তিরস্কার শুনে মিরার বক্ষঃস্থল চুরমার হয়ে গেল, তবুও মুখে কোনো কথা বলল না। কারণ সে আগে থেকেই অবগত, কারানকে কিছু বলা মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা।
পরবর্তীতে দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে নিচে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়াতেই, কারান মাথার চুলে হাত বোলাতে বোলাতে বলে, “ড্রয়ার থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা দাও।”
শুনেই মিরার মুখ মুহূর্তে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। কারান যে সিগারেট খায়, এটা তার জানা ছিল না।
মিরা সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করে বসে, “সিগারেট?”
কারান শ্বাস টেনে বলে, “তুমি আগে ওটোল্যারিংগলজিস্ট (কানের ডাক্তার) দেখাও।”
এবার ক্ষুব্ধ হয়ে চেঁচিয়ে বলে, “একবার বললে বুঝো না নাকি?”
মিরা মাথা নত করে রিনরিনে গলায় বলে, “সিগারেট খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই আপনাকে জাস্ট অ্যাডভাইস দিচ্ছি, ওগুলো খাবেন না।”
কারান হালকা হেসে বলে, “ব্লাডি ড্রামা গার্ল। আমাকে এক্সজোরটেশন (উপদেশ) দিতে এসেছে।”
এবার চোখ রাঙিয়ে কটমট করে দ্বিরুক্তি করে, “সিগারেটের প্যাকেটটা দাও, এক্ষুনি।”
তথাপি, অনিচ্ছা সত্ত্বেও মিরা ড্রয়ার থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে কারানের হাতে তুলে দিল। কারান প্যাকেট খুলে একটি সিগারেট ঠোঁটে রাখল, আগুন জ্বালিয়ে দীর্ঘ টান দিল। আর ধোঁয়ার ঘন কুণ্ডলী বাতাসে মিশে যেতে থাকল। মিরা এ দৃশ্য অপছন্দ করলেও নিজেকে শান্ত রাখল। মনে মনে ভাবল, আজকালকার ছেলেরা এসব খাবেই। কিছুক্ষণ নির্বাক দাঁড়িয়ে কারানের দিকে তাকিয়ে দেখল, তার প্রতিটি নিশ্বাস ধোঁয়ার আবরণে হারিয়ে যাচ্ছে।
অবশেষে একগাদা শ্বাস ফেলে, নিচে নেমে এসে খাবার টেবিলে বসল। কিন্তু যতই সান্ত্বনা খুঁজতে চাইল, খাবার তার গলায় আটকে রইল। কারানের এমন রূপ মিরার ভালো লাগছে না। যদিও সে তার স্বামী, তবু ভালোবাসার মধ্যেও কিছু অপছন্দের জায়গা থাকে। যখন প্রিয় মানুষটিই সেই পছন্দগুলো উপেক্ষা করে, তখন ভালোবাসার সঙ্গে এক অদ্ভুত বিরোধ শুরু হয়।
মিরা মন ভার করে আপনমনে বলে, “নিজেকে ক্ষতি করে আমাকে শাস্তি দিচ্ছেন?”
এরপর কোনো মতে দুই লোকমা মুখে দিয়ে শুতে চলে গেল।
মনের গভীরে অজানা যন্ত্রণা চেপে বসেছে, যার সুরাহা সে করতে পারছে না। কারানের ধোঁয়াভরা নিশ্বাস তার ভালোবাসার পৃথিবীকে ঢেকে দিচ্ছে।
___________
আজকের দিনটি কারানের ছুটির দিন। সূর্য কিঞ্চিৎ অলসভাবে ওঠার পর, সে ঘরের কোণায় বসে ল্যাপটপে কাজ করে চলেছে। পাশের কক্ষে মিরা তার বইয়ের শেলফ পরিষ্কার করতে ব্যস্ত। সেই শেলফে স্থান পেয়েছে বাংলা সাহিত্যের নন্দিত রচনাগুলি।
আরেক পাশের শেলফে কালজয়ী ইংরেজি সাহিত্যের বই রাখা। দ্বিতীয় শেলফে রাখা নামজাদা বিজ্ঞানীদের কিতাব, আর তৃতীয় শেলফে কিংবদন্তি দার্শনিকদের গ্রন্থ। কিছু ঔপন্যাসিকদের জীবনীও রয়েছে সেখানে। এই বইগুলো সবই কারানের প্রিয় সংগ্রহের অংশ। কিছু বইয়ের মাঝের পাতা ভাঁজ করা। হয়ত ভবিষ্যতে পুনরায় সেই পাতাগুলোয় ফিরে আসার জন্য ভাঁজ রেখে গেছে।
বাইরে স্নিগ্ধ হাওয়া বইছে। সকালে সূর্যের ম্লান রোদ কারানের কক্ষের জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে বিছানার চাদরে এসে পড়েছে। বেলকনির জানালার পাশে টবে সাজানো রয়েছে কিছু মনোমুগ্ধকর গাছ। লাল গোলাপের ভিড়ে শোভা পাচ্ছে চন্দ্রমল্লিকার সৌন্দর্য। আরেকধারে রয়েছে মানিপ্লান্ট, যার লতাগুলো জানালার গ্রিল বেয়ে নিচে চলে গেছে।
মৃদু অনিলে সব গাছগুলো আলতোভাবে নড়ছে। কাচের বেলকনি থেকে বাইরের পরিবেশটি অপরূপভাবে দৃশ্যমান।
কিছুক্ষণ পর কারান ল্যাপটপ বন্ধ করে গিটারটি হাতে তুলে নিল।
শীতলতম মসৃণ আবহাওয়ার মধ্যে গিটার বাজাতে বাজাতে সে গান ধরল,
“ওরে নীল দরিয়া আমায় দেরে দে ছাড়িয়াআআ।
ওরে নীল দরিয়া আমায় দে রে দে ছাড়িয়া।
বন্দি হইয়া মনোয়া পাখি হায়রে কান্দে রইয়া রইয়াআ।
বন্দি হইয়া মনোয়া পাখি হায়রে কান্দে রইয়া রইয়া।
কাছের মানুষ দূরে থুইয়া মরি আমি ধরফড়াইয়া রেএএএ
কাছের মানুষ দূরে থুইয়া মরি আমি ধরফড়াইয়া রে।”
মিরা কারানের গানের সুরে মুগ্ধ হয়ে কারানের আলয়ের দরজার কাছে নিঃশব্দে এসে দাঁড়াল। কারান জানত না, মিরা পাশের কক্ষে নিঃসীম মনোযোগে কাজ করছে। তাই সে নিজের কণ্ঠের সবটুকু সুর ঢেলে গান গেয়ে যেতে থাকে। এদিকে মিরা চোখ বন্ধ করে দেয়ালে হেলান দিয়ে গভীর তন্ময়তায় সেই সুরের মায়ায় ডুবে যায়।
“দারুণ জ্বালা দিবানিশি, দারুণ জ্বালা দিবানিশি অন্তরে অন্তরে।
আমার এত সাধের মন…”
এর মধ্যে কারান হঠাৎ থেমে গেল। সামনে মিরাকে দেখে তার চোখ বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেল।
মিরা ধীরগতিতে চোখ মেলে তাকাল। তার কণ্ঠস্বরে অমৃতের সুধা ঝরে পড়ল, “থেমে গেলেন কেন?”
কারান একটু বিব্রত হয়ে নিজেকে সামলে নিল।
অপ্রস্তুত গলায় বলল, “তুমি? তুমি কখন এলে এখানে?”
মিরা একটু হেসে নরম স্বরে বলল, “আমি তো পাশের ঘরেই ছিলাম। আপনার গান শুনে আর নিজেকে সামলাতে পারিনি। শুধু শুনছিলাম আর শব্দের মাঝে ডুবে যাচ্ছিলাম। এত মুগ্ধতায় আপনি বাংলা গান গাইতে পারেন, ভাবতেও পারিনি। আপনার কণ্ঠে এমন সুর, এমন মাধুর্য; মনে হচ্ছিল, অন্য কোনো জগতে হারিয়ে যাচ্ছি। যদি আপনার কোলে মাথা রেখে এই গানটা আরেকবার শুনতে পেতাম, তবে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবতী মনে করতাম।”
মিরার কথাগুলো কারানের মনে বিষের মতো বেজে উঠছিল। যাকে জীবন থেকে উপচে ফেলার পাঁয়তারা করছে, তার মুখে এত সুখের কথা শুনতে চায়নি সে।
কিছুক্ষণ পর স্বরকে কঠোর করে বলল, “When I am in the room, no one may enter without my explicit permission.”
এই কথা বলে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। গিটারটা জায়গা মতো রেখে দিয়ে, হাতে সানগ্লাস তুলে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
কারান যাওয়ার পর মিরা গভীর চিন্তায় ডুবে গেল। সে ভাবতে শুরু করল, কী এমন ভুল করেছে যে কারান এভাবে চলে গেল। সত্যিই কি তার কোনো অন্যায় ছিল?
মিরা বিছানায় বসে মন বেজার করে আওড়াল, “আপনার মুখে গান শোনাও কি আমার দোষ? এখন কি কানে তালা দিয়ে রাখব? সবকিছুতেই এত রাগ করার কি আছে? মনে হয় জন্মের সময় তাকে নিমপাতার রস খাওয়ানো হয়েছিল, তাই সারা দিন অদ্ভুত অভিব্যক্তি নিয়ে থাকে।”
ভেংচি কেটে ফের বলে, “আমি ভাবছি, তার সাথে প্রেম করা যায় কিনা। কিন্তু সে সুযোগ তো দেবেই না, উলটো সাপের মতো ফোঁস করে উঠবে। নিশ্চয়ই এটার সাথে সাপের কোনো কানেকশন আছে, তাই কিছুই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। মাঝে মাঝে তো ভয়ই পেয়ে যাই, কখন না সাপটা কামড় দিয়ে বসে। বেটা একটা কালনাগ।”
এরপর অযাচিত ভাবনায় সে ঘরের কাজ করতে চলে গেল।
অথচ কারান বাইরে বের হয়ে ফুঁসতে থাকল। মিরার কথাগুলো তার মনে বিষের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। কী দরকার ছিল তার গান শোনার? মনের সুখে গানটাও গাইতে দিল না। যদি মিরার মাথাটা ধরে আছাড় মারতে পারত, তাহলে হয়ত কিছুটা ক্ষোভ কমতো।
সে দ্রুত তার বন্ধুকে ফোন করল, “Abid. I’ll be heading to your place. And just so you know, we’re going to the nightclub tonight.” বলেই ফোন কেটে দিল।
__________
কারান রাতে মাতাল অবস্থায় বাসায় ফিরল। দরজায় একের পর এক প্রবল আঘাত করতে থাকলে মিরার মনে অজানা ভয় দানা বাঁধল। কলিংবেল থাকা সত্ত্বেও এমনভাবে কে ধাক্কা দিচ্ছে? দ্বিধা ও আতঙ্কে দরজা খুলে দেখল, কারান দেয়ালের পাশে হেলে দরজায় ক্রমাগত আঘাত করছে।
কারান চেঁচিয়ে বলে, “এত সময় লাগল দরজা খুলতে?” বলেই ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ল।
মিরা স্তব্ধ হয়ে দেখল, কারানের দৃষ্টি ঝাপসা; সে নেশায় বুঁদ। কারান সিঁড়িতে পা দিতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে নিচে বসে পড়ল।
মিরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে ধরতে চাইলে, কারান ক্ষিপ্ত হয়ে বলে উঠল, “এই মেয়ে, হাউ ডেয়ার ইউ হ্যাভ দি অড্যাসিটি টু টাচ মি? অ্যান্ড লিসেন, আই ক্যান গো এ্যালোন, আমার কারোর সাহায্যের দরকার নেই।”
কারানের কথার সাথে সাথে তার মুখ থেকে উদ্ভট, গা গোলানো দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।
মিরা নাকের কাছে হাত দিয়ে বলল, “ছিঃ! আপনি কি অ্যালকোহল নিয়েছেন?”
কারান দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে মিরার দিকে তীক্ষ্ণ চাহনি দিয়ে বলল, “হ্যাঁ, নিয়েছি। আমি সিগারেট খাই, মদ খাই, গাঁজা খাই, জুয়া খেলি, ইভেন বারেও যাবো। যা ইচ্ছা তাই করবো। তোর বাপের কি রে?”
কারানের এমন কুশ্রী বাক্য শুনে মিরার মাথা রাগে তেঁতিয়ে উঠল।
ক্রোধের বশবর্তী হয়ে সে ঝাঁঝালো কণ্ঠে প্রশ্ন করল,
“Mind your words! Have you no sense of decency (শিষ্টাচার)? Who gave you the nerve to insult someone’s parents like that?”
কথাটি শুনে কারানের মাথা রাগে দিম্মা হয়ে উঠল। তার চোখে জ্বলজ্বলে ক্ষোভের আগুন দেখা দিল। মুহূর্তের মধ্যে সে সপাটে জোরে মিরার গালে প্রহার করলো। মিরার গালে তার পাঁচটি আঙ্গুলের দাগ গভীরভাবে চিহ্নিত হলো।
কারান ফুঁসতে ফুঁসতে প্রবল আক্রোশে বলল, “My entire life has crumbled for your sake. I loathe (ঘৃণা করা) you.”
তারপর মিরাকে ধাক্কা দিয়ে পুনরায় বলল, “সরে যা আমার সামনে থেকে।”
কারানের ধাক্কায় মিরা নিচে বসে পড়ল। কারান টলতে টলতে দেয়াল ধরে উপরে চলে গেল। কিছুক্ষণ মিরা গালে হাত দিয়ে ফোঁপাতে থাকল। তার অশ্রুতে শাড়ির একপাশ ভিজে গেছে, আর ব্যথায় গালদুটি ফুলে উঠেছে।
অনেকক্ষণ পর, কারানের অন্দরে গিয়ে দেখল, কারান সুজুতো পরেই শুয়ে পড়েছে। স্ত্রীর দায়িত্বের প্রতি মায়া ও সমর্পণের ভাবনায়, হাজারো যন্ত্রণার মধ্যে সে কারানের জুতো খুলে দিল। এরপর ক্ষণকাল তার দিকে কান্নামিশ্রিত চোখে তাকিয়ে রইল। অর্থাৎ তার গলায় বলার জন্য অনেক কিছু জমে রয়েছে, কিন্তু তা কণ্ঠনালি অতিক্রম করতে পারছে না।
এরপর অন্য কক্ষে গিয়ে দরজা আটকে দিয়ে বিছানায় নিশ্চুপ বসে রইলো। যদিও চোখ থেকে পানির কণা গড়িয়ে পড়ছে।
এভাবেই প্রতিদিন সকালে কারান অফিসে যায়, আর রাতে নেশায় মাতাল হয়ে ফিরে আসে। মিরার জন্য এই পরিস্থিতি এখন সহ্য হয়ে গেছে। স্বামী বলে তার কিছুই করার নেই; সেই সঙ্গে জননীর কঠোর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
অথচ মনের গভীরে অপমানের আঁচড় প্রতিটি মুহূর্ত তার আত্মায় ছুরির মতো আঘাত করে চলেছে।
___________
আজও কারান মাতাল অবস্থায় দরজা ধাক্কাচ্ছিল। মিরা দ্বিধা নিয়ে দরজা খুলতেই তার সামনে উপস্থাপিত হলো একটি বিব্রতকর দৃশ্য।
কারান নিজের গায়ে এবং মিরার গায়ে বমি করে দিল। মিরা তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারল, কয়েকদিন ধরে টানা স্ট্রং অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে কারানের অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠেছে।
যতটা সম্ভব সাহস জোগাড় করে কারানের বাহু ধরে তাকে বাথরুমে নিয়ে গেল। পানি দিয়ে তার শরীর ধোয়ার চেষ্টা করতে লাগল। কোট ও শার্টটি খুলে পাশে রেখে মিরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। কারানের নগ্ন ঊর্ধ্বাংশের দিকে তাকিয়ে মিরা এক পলকও চোখ সরাতে পারছে না।
মিরার অন্তরে যে বেদনার বন্যা বয়ে চলছিল, তা এই মুহূর্তে আরও প্রবল হয়ে উঠল। সে জানত না, এই পরিস্থিতি আর কতদিন সহ্য করতে হবে, তবুও তার হৃদয়ে গভীর সহানুভূতির অনুভূতি ছিল।
কারানের ফরসা গায়ে পানি পড়ার ফলে আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মিরা মনে মনে ভাবল, “আমি বারবার আপনার থেকে দূরে থাকতে চেয়েও ব্যর্থ হচ্ছি। আপনার এই চমৎকার নীল চোখগুলো বারংবার আমাকে টেনে নেয়। জানেন, আপনার আচরণে মাঝে মাঝে আমার মনে এত কষ্ট জন্মায় যে মনে হয়, আপনাকে কয়েকটা থাপ্পড় দিলে হয়ত শান্তি লাগতো। কিন্তু আপনি তো আমার স্বামী। কখনো বোঝানোর সুযোগও দেন না। কিন্তু আমি যে আপনাকে আগলে রাখতে চাই, যত্ন করতে চাই, ভালোবাসতে চাই। আপনার প্রতি আমার আকর্ষণ অবিরাম, কিন্তু এর মানে খুঁজে পাই না। আপনাকে ঘৃণা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আপনার এই নীল চোখগুলো বারবার আমাকে জানান দিচ্ছে, ‘অপেক্ষা করো মিরা, একদিন না একদিন কারানের সমস্ত হৃদয় জুড়ে তুমি থাকবে।’ কিন্তু সেই দিনটি কবে আসবে কারান?”
মিরা এসব ভাবতে ভাবতে কারানের শরীর ধুতে থাকে। এর মধ্যেই হঠাৎ কারান তার হাত ধরে টেনে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। এভাবে প্রথম কোনো পুরুষের স্পর্শ পেয়ে মিরা সহসা শিউরে উঠল। যাকে নিয়ে এত প্রত্যাশার সঞ্চয়, তার ভালোবাসার প্রথম ছোঁয়া অনুভব করে সে মুহূর্তে নিষ্প্রাণ হয়ে গেল। কারানের গায়ে পানি দেওয়া ছেড়ে সোজা হয়ে হতভম্বের ন্যায় দাঁড়িয়ে রইল। স্বামীর উষ্ণ আলিঙ্গনে মিরার অন্তর কেঁপে উঠলো। চোখের কোন থেকে একফোঁটা অশ্রুসিক্ত নোনাজল ঝরে পড়ল।
কারান মিরার ঘাড়ের চুল সরিয়ে তার চোয়াল মিরার ঘাড়ে কিছুক্ষণ ঘষে, আবার শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রেখে বলল, “মিরা, তুমি আমাকে কেন বিয়ে করলে বলো তো?”
মিরার মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হলো না। কারানের উষ্ণ নিশ্বাস মিরার কাঁধে পড়ছে, আর তার পুরো শরীরে এক অবিরাম স্রোত কম্পন দিয়ে উঠছে। তার হৃদয়ের স্পন্দন ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
কারান আবার গুনগুনিয়ে বলে, “তুমি তো কোনো ভালো ছেলেকে বিয়ে করতে পারতে। (খানিকটা থেমে) তোমাকে একটা মজার কথা বলি। কালকে বাবা ফোন করে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, মিরা কেমন আছে? আমি কি উত্তর দিয়েছি জানো?”
মিরা ঢোক গিলে আস্তে করে বলল, “কিহহ?”
কারান ঠোঁটের কোণে স্বচ্ছ হাসি ফুটিয়ে জবাব দেয়, “আমি বলেছি, ‘কে মিরা?’ তখন বাবা বলেছে, ‘কে আবার, তোর বউয়ের কথা জানতে চাইছি।'”
তারপর কিছুক্ষণ থেমে কিঞ্চিৎ হেসে বলে, “তখন আমি বুঝলাম, আমার বউয়ের নাম তাহলে মিরা।”
কথাটি মিরার কর্ণকূহরে পৌঁছাতেই তার চোখ ছলছল করে উঠলো। প্রথমবারের মতো কারান নিজেই স্বীকার করলো, মিরা তার বউ। এর মানে, সে সত্যিই কারানের মনে একটি বিশেষ জায়গা করে নিতে পেরেছে। মিরা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল; আজ তার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন। কিছুক্ষণ আগেও সে যে ভালোবাসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল, তা হঠাৎই সত্যি হয়ে গেল। অর্থাৎ এ যে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি হওয়ার মতো অবস্থা।
কারান আবার গুনগুনিয়ে বলে, “আমি বিয়ের আগে তোমার সম্পর্কে কিচ্ছু জানতাম না। তোমার নামটাও কখনো জানতে চাইনি। (একটু থেমে) মিরা।”
কথাগুলো মিরার অন্তরে এক নতুন আলোর প্রদীপ জ্বেলে দেয়। সে অতীতের সমস্ত শঙ্কা ও দ্বিধাকে কাটিয়ে উঠে, আজকের এই বিশেষ মুহূর্তে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করলো। তার মনে হচ্ছে, ভালোবাসা তার কাছে আসতে শুরু করেছে, আর তার হৃদয়ে একটি গভীর আনন্দের অনুভূতি উদ্ভাসিত হচ্ছে।
মিরা ঢোক গিলে বলে, “হুমম।”
“আমার মাঝে মাঝে তোমাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। আচ্ছা, সত্যিই কি আমার তোমাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে?”
কারানের এই প্রশ্নটি মিরার অন্তরে অদ্ভুত আলোড়ন সৃষ্টি করে। কি কঠিন প্রশ্ন! মিরা জানে, এসব কথা কারান নেশার ঘোরে বলছে। কিন্তু তবুও, এই শব্দগুলো শুনতে তার হৃদয়ে গভীর সুখের রেশ জাগায়।
মিরা নিজের মনে ভাবতে থাকে, “স্বামীর সুখ কি এমনই হয়? এত কিছু পার হওয়ার পরও কেন যেন আমি ওকে অতিকাঙ্ক্ষিত মনে করছি। ওর শিশুসুলভ প্রশ্নগুলো শুনে আমার আনন্দ হচ্ছে। এতটা খুশি কেন হচ্ছি? যেন বুকের জমে থাকা সমস্ত কষ্ট ধুয়ে-মুছে যাচ্ছে। কি আশ্চর্য! কেবল ওর একবার জড়িয়ে ধরার এত ক্ষমতা?”
কারান সন্দেহের সুরে প্রশ্ন করে, “মিরা, তুমি এত বড় ঘোমটা দাও কেন? তুমি কি দেখতে খুব খারাপ, হ্যাঁ?”
মিরা শীতল কণ্ঠে জবাব দেয়, “জানিনা। স্বামীর আদেশ। সে আমার মুখ দেখতে চায় না।”
কারান সামান্য হেসে বলে, “স্বামীর আদেশ! (একটু থেমে) তোমার কাছে একটা আবদার করতে পারি?”
“বলুন।”
“তোমাকে একটা চুমু খেতে ইচ্ছে করছে।”
কারানের এই কথাটি মিরার মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোকে তোলপাড় করে তোলে। তার মনে মিশ্র আনন্দের ঢেউ আছড়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা ক্রমশ বেড়ে যেতে থাকে, ঠোঁট তিরতির করে কেঁপে ওঠে। দীর্ঘশ্বাসও ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে।
এরই মধ্যে কারান ঝরনা ছেড়ে দেয় এবং দুজনের গায়ে ঝরনার স্নিগ্ধ পানি পড়তে শুরু করে। এই পানি মিরার শরীরে নতুন একটি প্রাণশক্তি সঞ্চারিত করে। কী অদ্ভুত অনুভূতি! মিরার চোখে অশ্রুবিন্দুর উপস্থিতি ভাসে।
কারান আরও শক্ত করে নিবিড়ভাবে মিরাকে জড়িয়ে ধরে। আবার প্রশ্ন করে, “করবো কিস?”
🍁ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং পেইজে ফলো দিয়ে রেখে পোস্ট টি শেয়ার করতে পারেন🍁
চলবে??

