#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_৪
লেখনীতে:#মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম
জেনিন নুরশাদ আজ তার বিশাল অট্টালিকা ছেড়ে ছোট এই দুই কামরার বাসায় এসে দাঁড়িয়েছে। তার হাতে মাত্র একটা ছোট ট্রাভেল ব্যাগ, যাতে কয়েক জোড়া কাপড় আর কিছু অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি। জেনিনের বাবার সাথে শেষ বিকেলের সেই চূড়ান্ত সংঘাতের পর সে আর এক মুহূর্তও ওই শ্বাসরুদ্ধকর বাড়িতে থাকতে চায়নি। যখন সে নানামিদের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল, তখন তার সারা শরীর বৃষ্টিতে ভিজছে, আর কপাল দিয়ে হালকা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
নানামি দরজা খুলেই স্তব্ধ হয়ে গেল। সে জানত জেনিন কোনো বড় পদক্ষেপ নেবে, কিন্তু সে যে এভাবে ঘর ছেড়ে চলে আসবে, তা নানামি কল্পনাও করেনি।
“একি অবস্থা তোর?” নানামি আর্তনাদ করে উঠল।
নানামির মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে জেনিনকে দেখে শিউরে উঠলেন। তিনি কোনো প্রশ্ন করলেন না, বরং দ্রুত আলমারি থেকে একটা শুকনো তোয়ালে আর নানামির একটা পুরনো পাঞ্জাবি বের করে আনলেন।
“আগে ভেজা কাপড় ছাড় বাবা, শরীর খারাপ করবে। নানামি, ওকে বাথরুমে নিয়ে যা,” নানামির মায়ের কণ্ঠে সেই একই মাতৃত্বের সুর, যা জেনিন তার নিজের বাড়িতে কোনোদিন শোনেনি।
বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে জেনিন যখন নানামির ঘরে ঢুকল, সে দেখল নানামি তার জন্য বিছানা পরিষ্কার করছে। জেনিন নানামির একটা ঢিলেঢালা সাদা পাঞ্জাবি পরেছে। তাকে দেখতে আজ খুব শান্ত আর অসহায় লাগছে, সেই দুর্ধর্ষ বাউন্ডুলে জেনিন যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। নানামির মা এক বাটি গরম স্যুপ আর কিছু নাস্তা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। তিনি নিজে চামচ দিয়ে জেনিনকে খাওয়াতে শুরু করলেন।
“খা বাবা, অনেকক্ষণ কিছু খাসনি মনে হয়। এখানে তুই একদম নিজের বাড়ির মতো থাকবি। নানামি যেমন আমার ছেলে, তুইও তেমনই,” মা পরম আদরে জেনিনের চুলে হাত বুলিয়ে দিলেন।
জেনিনের গলার কাছে একটা দলা পাকিয়ে এল। সে কোনোমতে চোখের জল সামলাল। যে ছেলেটা সারাদিন পাড়ায় মাস্তানি করে বেড়ায়, যে ছেলেটা কারো শাসনের তোয়াক্কা করে না, সে আজ এক সাধারণ গৃহিণীর সামান্য মমতায় ছোট বাচ্চার মতো কেঁপে উঠল। জেনিন স্যুপ খেতে খেতে দেখল নানামির ঘরটা কত ছিমছাম। দেয়ালে কিছু ম্যাপ টাঙানো, বুকশেলফে নানামির প্রিয় বইগুলো সাজানো, আর পড়ার টেবিলে জেনিনের সাথে তোলা একটা পুরনো ছবি।
“তোর কোনো চিন্তা নেই দোস্ত,” নানামি জেনিনের পাশে বসে ধীর স্বরে বলল। “বাবা-মা তোকে নিয়ে কোনো আপত্তি করবেন না। তুই যতদিন চাস এখানে থাকতে পারিস। আমরা একসাথে পড়াশোনা করব, একসাথে স্কুলে যাব। তুই দেখিস, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”
জেনিন একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বলল, “সবকিছু কি আসলেই ঠিক হয়? আমার বাবা আজ আমাকে ত্যাজ্যপুত্র করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন আমি নাকি উনার কপালে কলঙ্ক মেখেছি। জায়দান, আমি কি আসলেই এতোটা খারাপ?”
“মানুষ জন্মগতভাবে খারাপ হয় না, পরিস্থিতি তাকে বদলে দেয়। তুই এখন থেকে একটা নতুন শুরু করবি,” নানামির গলার স্বরে এক দৃঢ় প্রত্যয় ছিল।
সেই রাতে জেনিন আর নানামি একসাথে এক বিছানায় শুয়ে ছিল। জানালার বাইরে বৃষ্টির একটানা শব্দ। জেনিন সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ছিল। সে অনুভব করতে পারছিল এই বাড়ির বাতাসটা অন্যরকম। এখানে কোনো কৃত্রিমতা নেই, কোনো ক্ষমতার দম্ভ নেই। মাঝরাতে নানামির বাবা একবার ঘরে উঁকি দিয়ে দেখে গেলেন ছেলেরা ঠিকমতো ঘুমিয়েছে কি না। তিনি জেনিনের গায়ের ওপর থেকে পড়ে যাওয়া কাঁথাটা আলতো করে টেনে দিলেন। জেনিন ঘুমানোর ভান করে ছিল, কিন্তু তার ভেতরে এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল। এই ক্ষুদ্র যত্নটুকুর জন্যই সে সারাজীবন তৃষ্ণার্ত ছিল।
পরের কয়েকটা দিন জেনিনের জীবনে ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। সকালে নানামির মা তাকে নাস্তা খেতে ডাকেন, নানামির বাবা তাকে নিয়ে খবরের কাগজ পড়তে বসেন। জেনিন দেখল নানামি কীভাবে প্রতিদিন ভোরে উঠে নিজের পড়া শেষ করে, কীভাবে সে তার মাকে ছোটখাটো কাজে সাহায্য করে। জেনিনও ধীরে ধীরে এই রুটিনে অভ্যস্ত হতে চাইল। সে নানামির সাথে বসে অংক করার চেষ্টা করে, যদিও বেশিক্ষণ মন বসে না। কিন্তু নানামি ধৈর্য ধরে তাকে বুঝিয়ে দেয়।
“দেখ নুরশাদ, এই উপপাদ্যটা যদি তুই একবার বুঝে যাস, তোর কাছে সব সোজা লাগবে,” নানামি পেনসিল দিয়ে খাতায় দাগ টেনে দেখালো।
জেনিন খাতা থেকে চোখ তুলে নানামির দিকে তাকালো। “তুই এত ধৈর্য পাস কোথায় রে? আমি হলে তো এতক্ষণে খাতা ছিঁড়ে ফেলতাম।”
নানামি হাসল। “ধৈর্যই তো মানুষের আসল অস্ত্র। তুইও শিখবি।”
জেনিন নুরশাদ এখন আর সেই বাউন্ডুলে ভবঘুরে নয় যে সারাদিন রাস্তায় আড্ডা দেয়। সে এখন নানামিদের বাড়ির বাগানে নানামির বাবার সাথে কোদাল দিয়ে মাটি কোপায়, গাছে জল দেয়। নানামির বাবা তাকে গাছ চেনাচ্ছেন, কোনটা জবা, কোনটা হাসনাহেনা। জেনিন মনোযোগ দিয়ে সব শোনে। তার ভেতরে যে হিংস্রতা ছিল, তা এই পরিবারের সান্নিধ্যে এসে অনেকটা স্তিমিত হয়ে গেছে।
একদিন বিকেলে নোবারা আকারি নানামিদের বাসায় এল। সে জানত জেনিন এখানে আছে। নোবারাকে দেখে জেনিন একটু লজ্জা পেয়ে গেল। সে তখন নানামির মায়ের সাথে বসে পিঠা বানাচ্ছিল। জেনিনের হাতে আটা মাখা, কপালে সাদা গুঁড়ো লেগে আছে। নোবারা সেই দৃশ্য দেখে হেসে কুটি কুটি।
“একী জেনিন ভাইয়া! আপনি কি এখন শেফ হওয়ার ট্রেনিং নিচ্ছেন?” নোবারা হাসতে হাসতে বলল।
জেনিন একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল, “মামণি শিখিয়ে দিচ্ছেন। পিঠা বানানো তো অংকের চেয়েও কঠিন মনে হচ্ছে!”
নোবারা জেনিনের পাশে বসে পড়ল। “থাক, আপনাকে আর কষ্ট করতে হবে না। নানামি ভাইয়া কোথায়?”
“নানামি লাইব্রেরিতে গেছে একটা বই ফেরত দিতে। এখনই চলে আসবে,” জেনিন উত্তর দিল।
নোবারা আর জেনিন অনেকক্ষণ গল্প করল। জেনিন বুঝতে পারছিল, নোবারা তাকে এখন আর সেই ‘পাগল ছেলে’ মনে করছে না। নোবারার চোখে জেনিনের জন্য এখন এক ধরনের মায়া ফুটে উঠছে। জেনিন মনে মনে খুব খুশি হলো। সে ভাবল, হয়তো এভাবেই তার জীবনটা সুন্দর হয়ে উঠবে। নানামির পরিবার, নোবারার বন্ধুত্ব, সবকিছু মিলিয়ে সে এক নতুন স্বর্গের দেখা পেয়েছে।
কিন্তু জেনিনের ভেতরের অন্ধকার সত্তাটা কি আসলেই মরে গেছে? নানামির এই আদর্শ পরিবার তাকে সাময়িক শান্তি দিলেও, জেনিনের রক্তে যে আগুনের নেশা আছে, তা কি শান্ত হবে? নানামির মা যখন জেনিনকে খাবার বেড়ে দেন, তখন জেনিনের মনে মাঝেমধ্যে এক অদ্ভুত হীনমন্যতা কাজ করে। সে ভাবে, আমি কি সত্যিই এই পবিত্রতার যোগ্য? যদি কোনোদিন এরা জানতে পারে আমি অতীতে কী কী করেছি, তখন কি এরা আমাকে এভাবেই ভালোবাসবে?
সেই রাতে ডিনার টেবিলের এক কোণে বসে জেনিন দেখছিল নানামির বাবা নানামিকে খুব গর্ব করে বলছেন, “আমার ছেলে একদিন দেশের বড় অফিসার হবে।” জেনিনের বুকটা কেঁপে উঠল। সে কি পারবে নানামির মতো যোগ্য হতে? নাকি সে সবসময় নানামির ছায়া হয়েই থাকবে?
জেনিন নুরশাদ বুঝতে পারছিল না, তার এই শান্তিটা ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা। নানামির বাড়ির এই মায়াবী পরিবেশ তাকে বদলে দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বাইরের জগতের সেই অপরাধী বন্ধুরা তাকে বারবার ডাকছে। জেনিন বুঝতে পারছিল, সে এক দোটানায় পড়ে গেছে, একদিকে নানামির আদর্শ জীবন, অন্যদিকে তার নিজের উচ্ছৃঙ্খল রক্ত।
সেই রাতে জেনিন তার ম্যাথ খাতায় লিখল, “আমি এই বাড়িতে থাকতে চাই। এই বাড়ির মা-বাবার ভালোবাসা আমার বুকের ভেতরের আগুনটাকে জুড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমি ভয় পাই, আমি যদি কোনোদিন এই ভালোবাসা হারিয়ে ফেলি, তবে আমি পুরো পৃথিবীকে পুড়িয়ে দেব। আমি জায়দানের মতো ভালো হতে চাই, কিন্তু আমার অতীত আমাকে বারবার পেছনের দিকে টানছে।”
নানামি তখন পাশের বিছানায় ঘুমাচ্ছে। তার নিঃশ্বাসের শব্দ খুব শান্ত। জেনিন জানালার বাইরে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল। সে জানে, এই অন্ধকারের সাথে তার এক জন্মজন্মান্তরের সম্পর্ক। নানামি তাকে আলোয় ফেরাতে চায়, কিন্তু জেনিন কি পারবে সেই আলোয় নিজেকে সঁপে দিতে? নাকি সে এই পবিত্র ঘরটাকেও একদিন তার নিজস্ব অন্ধকারে ডুবিয়ে দেবে?
<><><><><><><><><>
নানামিদের বাড়ির এই কয়েকটা দিন জেনিন নুরশাদ-এর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় ছিল। সকালে শিউলি ফুলের গন্ধ আর রাতে নানামির মায়ের হাতে মেখে দেওয়া ভাতের স্বাদ, সবকিছু মিলে জেনিন প্রায় ভুলে গিয়েছিল যে সে আসলে কে। কিন্তু নিয়তির খেলা বড় অদ্ভুত। অন্ধকার কোনোদিন তার শিকারকে এত সহজে ছেড়ে দেয় না। জেনিন যখন নিজেকে আলোর পথে ফেরাতে চাইছিল, ঠিক তখনই তার অতীতের সেই ‘গ্যাংস্টার’ পরিচয়টা দেয়াল টপকে নানামিদের পবিত্র আঙিনায় হানা দিল।
সেদিন বিকেলে নানামি তার কোচিং সেন্টারে গিয়েছিল। বাড়িতে জেনিন একা, নানামির বাবা তখন বাজারে আর মা রান্নাঘরে ব্যস্ত। জেনিন বারান্দায় বসে নানামির একটা ইংরেজি গ্রামার বই উল্টেপাল্টে দেখছিল। হঠাৎ বাড়ির সামনের লোহার গেটে কেউ একজন খুব জোরে আঘাত করল। জেনিন ভ্রু কুঁচকে উঠে দাঁড়ালো। গেটের ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে তিনজন যুবক। তাদের পরনে চামড়ার জ্যাকেট, চোখে কড়া চশমা আর ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট। জেনিনের বুকটা ধক করে উঠল। এদের সে খুব ভালো করে চেনে। এরা হলো ‘কালা মানিক’-এর গ্যাংয়ের সদস্য, যাদের সাথে জেনিন একসময় রাতের অন্ধকারে এই শহরের অলিগলি চষে বেড়াত।
জেনিন ধীর পায়ে গেটের কাছে গেল। “এখানে কেন এসেছিস তোরা?” জেনিনের স্বরে শাসনের বদলে এক অদ্ভুত চাপা ভয়।
গ্যাংয়ের পান্ডা রনি একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল, “আরে জেনিন ভাই! আপনি তো দেখি একদম ভোল বদলে ফেলেছেন! সাদা পাঞ্জাবি পরে এক্কেবারে ভালো মানুষ সেজে বসে আছেন? আমাদের মানিক ভাই তো আপনাকে খুঁজছে। বড় একটা ‘অপারেশন’ আছে আজ রাতে, আপনার সাহায্য দরকার।”
“আমি এসব ছেড়ে দিয়েছি রনি। তোরা চলে যা এখান থেকে। নানামির বাবা-মা দেখলে ঝামেলা হবে,” জেনিন ফিসফিস করে বলল, তার চোখ বারবার ভেতরের দরজার দিকে যাচ্ছে।
রনি সিগারেটের ধোঁয়া জেনিনের মুখের ওপর ছেড়ে দিয়ে বলল, “ছেড়ে দেওয়া কি এতই সহজ? রক্তের নেশা কি দুধের গ্লাসে মেটে? মানিক ভাই বলেছে আপনি যদি না যান, তবে এই ‘আদর্শ’ পরিবারের ওপর বিপদ আসতে কতক্ষণ!”
জেনিনের হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল। তার চোখের মণি দুটো হঠাৎ করেই লালচে হয়ে উঠল, সেই পুরনো হিংস্র জেনিন যেন এক নিমেষে জেগে উঠছে। কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল। নানামির পরিবারের কোনো ক্ষতি সে হতে দিতে পারে না।
“আমাকে সময় দে। তোরা এখন যা,” জেনিন দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
রনিরা চলে যাওয়ার পর জেনিন অনেকক্ষণ মাটির দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার শরীরের ভেতরে এক অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছে। একপাশে এই শান্তির নীড়, যেখানে সে প্রথমবার মানুষের মতো ভালোবাসা পেয়েছে। অন্যপাশে অন্ধকারের জগত, যা তাকে রক্ত আর ক্ষমতার হাতছানি দিচ্ছে। জেনিন বুঝতে পারছিল না সে কী করবে। যদি সে মানিকের কথায় রাজি না হয়, তবে ওরা নানামিদের বাড়িতে হামলা করতে পারে। আর যদি রাজি হয়, তবে নানামির কাছে সে আবার সেই ‘অপরাধী’ হয়ে যাবে।
সন্ধ্যায় নানামি ফিরল। সে দেখল জেনিন চুপচাপ ঘরের কোণে বসে আছে, তার সামনে রাখা বইটা উল্টো হয়ে পড়ে আছে। নানামি জেনিনের পাশে বসল।
“কী হয়েছে তোর? শরীর খারাপ?” নানামি জেনিনের কপালে হাত দিতে চাইল।
জেনিন হঠাৎ নানামির হাতটা সরিয়ে দিল। “ছুঁস না আমাকে। আমি অপবিত্র। আমি এই বাড়ির যোগ্য নই।”
নানামি থমকে গেল। “আবার কী শুরু করলি? আঙ্কেল কি তোকে কোনো ফোন করেছিলেন?”
“না রে, আঙ্কেল নয়। আমার অতীত আমাকে ফোন করছে,” জেনিন একটা ম্লান হাসি দিয়ে জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকালো।
নানামি বুঝল জেনিন কোনো বড় বিপদে পড়েছে। সে জেনিনের দুহাত ধরে বলল, “আমি তোকে বলেছি না আমি তোর ঢাল হয়ে থাকব? তুই ভয় পাস না। ওরা তোকে কিছুই করতে পারবে না।”
কিন্তু সেই রাতে যখন পুরো বাড়ি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, জেনিন বিছানা থেকে নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ালো। সে জানালার গ্রিল দিয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকালো। রনিরা রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের টর্চের আলো জেনিনের চোখে এসে পড়ছে। জেনিন জানত, আজ তাকে যেতেই হবে, তবে নিজের ইচ্ছায় নয়, নানামিদের সুরক্ষার জন্য।
জেনিন একটা ছোট চিরকুট লিখে নানামির বালিশের পাশে রেখে দিল। তাতে লেখা ছিল, “আমি আমার অন্ধকারকে তোর বাড়ির আলোয় মাখাতে চাই না। আমি যাচ্ছি আমার পুরনো পাওনা মিটিয়ে দিতে। যদি ফিরি, তবে মানুষ হয়ে ফিরব। আর যদি না ফিরি, তবে মনে রাখিস তোকেই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছিলাম।”
জেনিন জানালার গ্রিল দিয়ে খুব সন্তর্পণে বেরিয়ে গেল। নানামি টেরই পেল না। জেনিন যখন মানিকের আড্ডায় পৌঁছাল, দেখল সেখানে মদের বোতল আর দেশি অস্ত্রের সমারোহ। মানিক সোফায় পা তুলে বসে ছিল। জেনিনকে দেখে সে অট্টহাসি দিল।
“এই তো আমার বাঘের বাচ্চা ফিরে এসেছে! শোন, তুই জন্মেছিস এই অন্ধকার শাসন করার জন্য। আজ রাতে আমাদের একটা ট্রাক হাইজ্যাক করতে হবে। ওই ট্রাকে অনেক মাল আছে। তুই থাকবি সামনে।”
জেনিন কোনো কথা বলল না। সে শুধু তার হাতের মুঠিটা শক্ত করল। তার ভেতরে এক অদ্ভুত রূপান্তর ঘটছে। সে এই অপরাধ করতে চায় না, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে সে আজ এক দাবার ঘুঁটি। সে দেখল মানিকের লোকেরা অস্ত্র পরিষ্কার করছে। তাদের চোখে সেই একই হিংস্রতা যা জেনিন নিজের মধ্যেও অনুভব করে।
ঠিক সেই মুহূর্তে নানামির ঘুম ভেঙে গেল। সে পাশে জেনিনকে না পেয়ে আঁতকে উঠল। বালিশের পাশে চিরকুটটা দেখেই নানামির বুকটা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো। সে এক মুহূর্ত দেরি করল না। তার বাবার পুরনো সাইকেলটা নিয়ে সে অন্ধকারের মধ্যেই বেরিয়ে পড়ল। নানামি জানত জেনিন কোথায় যেতে পারে। সে শহরের প্রতিটি অন্ধকার গলি চেনে যেখানে জেনিন একসময় আড্ডা দিত।
শহরের উপকণ্ঠে পরিত্যক্ত একটি গুদামের সামনে যখন জেনিনরা ট্রাক আটকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন নানামি সেখানে পৌঁছাল। সাইকেলের টুংটাং শব্দ শুনে মানিকের লোকেরা সজাগ হয়ে গেল।
“কে ওখানে?” রনি চিৎকার করে উঠল।
নানামি সাইকেল ফেলে দৌড়ে জেনিনের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। “নুরশাদ! ফিরে চল! তুই এসব করতে পারিস না!”
জেনিন নানামিকে দেখে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেল। “তুই এখানে কেন? পালা এখান থেকে! মানিক তোকে মেরে ফেলবে!”
মানিক ধীর পায়ে এগিয়ে এল। “আরে, এটা তো সেই মাস্টারের ছেলে! জেনিন, তুই একে চিনিস? এ তো আমাদের প্ল্যান নস্যাৎ করতে এসেছে। মার ওকে!”
জেনিন মানিকের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ালো। তার চোখে এখন আগ্নেয়গিরির লাভা। “আমার বন্ধুর গায়ে যদি কারো হাত লাগে, তবে আজ এই গুদাম থেকে কেউ জীবিত বের হবে না! ও আমার ভাই, ওর গায়ের একটা পশম ছিঁড়লে আমি পুরো শহর জ্বালিয়ে দেব!”
মানিকের লোকেরা জেনিনের এই রূপ দেখে ঘাবড়ে গেল। জেনিন জেনিনই, সে যখন ক্ষেপে যায়, তখন সে যমরাজের চেয়েও ভয়ংকর। জেনিন নানামির হাত ধরে এক টানে সাইকেলের দিকে নিয়ে এল।
“তুই পাগল হয়েছিস? তুই কেন এখানে এলি? তুই কি জানিস ওরা কত বিপজ্জনক?” জেনিন ধমক দিয়ে বলল, কিন্তু তার চোখে তখন জল।
নানামি জেনিনকে জড়িয়ে ধরল। “আমি মরে গেলেও তোকে ওই নরকে ঢুকতে দেব না। তুই যদি অপরাধ করিস, তবে আমি পুলিশের কাছে গিয়ে বলব আমি তোর সাথে ছিলাম। তুই একা যাবি কেন?”
জেনিনের পাথুরে হৃদয়টা যেন এক মুহূর্তের জন্য গলে গেল। সে মানিকের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল, “শুনে রাখ মানিক! জেনিন নুরশাদ আজ থেকে মৃত! যদি আর কোনোদিন আমার বা আমার বন্ধুর পেছনে লাগিস, তবে নিজের কবর নিজেই খুঁড়ে রাখিস!”
জেনিন আর নানামি রাতের আঁধারে সাইকেলে করে ফিরে চলল। জেনিন সাইকেল চালাচ্ছে, আর নানামি পেছনে বসে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। জেনিন বুঝতে পারছিল, এই ভালোবাসাটাই তার শক্তি। অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তার আছে, কিন্তু নানামির বন্ধু হওয়ার ভাগ্য সবার থাকে না।
কিন্তু জেনিন মনে মনে জানত, মানিক তাকে এত সহজে ছাড়বে না। অন্ধকার জগতটা এক চোরাবালির মতো, যত বের হওয়ার চেষ্টা করা হয়, তত বেশি নিচে টেনে নেয়। জেনিন নানামির পিঠের ওপর নিজের মাথাটা একটু রাখল। সে আজ বড় শান্ত। কিন্তু তার অন্তরালে এক বিশাল ঝড়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
শহরের স্ট্রিট লাইটের নিচে যখন তাদের ছায়া পড়ছে, মনে হচ্ছে দুজন কিশোর নয়, বরং এক আত্মা দুই শরীরে মিশে বাড়ি ফিরছে। নানামির আদর্শ আর জেনিনের সেই আদিম প্রবৃত্তি, দুইয়ের লড়াইয়ে আজ বন্ধুত্ব জয়ী হয়েছে। কিন্তু কতদিনের জন্য? গ্যাংস্টার হওয়ার বীজ কি জেনিনের রক্ত থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব?
<><><><><><><><><>
মানিকের আস্তানা থেকে ফিরে আসার পর জেনিন নুরশাদ কয়েকদিন একদম চুপচাপ হয়ে রইল। তার ভেতরে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করছে। নানামি তাকে যে বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়েছে, তা জেনিনের পাথর-হৃদয়ে এক অদ্ভুত কৃতজ্ঞতা জন্ম দিয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই স্কুলে শুরু হলো বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার তোড়জোড়। স্কুলের সেই পুরনো অডিটোরিয়ামটা এখন সাজানো হচ্ছে রঙিন কাগজ আর আলোকসজ্জায়।
প্রতি বছর নানামি কোনো না কোনো প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পায়, হয় উপস্থিত বক্তৃতা, নয়তো কুইজ। কিন্তু এবার জেনিন জেদ ধরল, তারা দুজনে মিলে একটা নাটক করবে। জেনিন হবে বিদ্রোহী কোনো এক যোদ্ধা, আর নানামি হবে তার পরামর্শদাতা।
“তুই কি পাগল হয়েছিস? আমি আর নাটক?” নানামি হাসতে হাসতে বলল, যখন সে ক্লাসরুমে বসে নোটস গোছাচ্ছিল।
“কেন নয়? তুই তো বাস্তবেও আমার পরামর্শদাতা। এই নাটকের মাধ্যমে আমরা সবাইকে দেখিয়ে দেব জেনিন আর নানামি আলাদা কিছু নয়,” জেনিন চোখ টিপে বলল।
তাদের এই নাটকের রিহার্সাল শুরু হলো স্কুলের ছাদের এক কোণে। আর তাদের দর্শক হিসেবে জুটল কেবল একজন, নোবারা আকারি। নোবারা প্রতিদিন বিকেলে স্কুল ছুটির পর তাদের রিহার্সাল দেখতে আসত। সে মাঝেমধ্যে জেনিনের ভুল ডায়ালগ ঠিক করে দিত, আবার কখনো নানামির অতিরিক্ত সিরিয়াসনেস দেখে হাসিতে ফেটে পড়ত।
সেই দিনগুলোর বিকেল ছিল স্বর্ণালি রোদে মাখানো। জেনিন যখন কাঠের তলোয়ার নিয়ে বীরত্ব দেখাত, নোবারা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকত। জেনিনের এই দাপুটে ভঙ্গি, তার চোখের আগুন, সবই যেন নোবারার কৈশোরের মনে এক মায়ার জাল বুনছিল। অন্যদিকে নানামি যখন ধীরস্থিরভাবে তার সংলাপগুলো বলত, নোবারার মনে হতো নানামিই আসলে গল্পের প্রকৃত নায়ক।
একদিন রিহার্সাল শেষ করে তারা তিনজন স্কুলের গেটের পাশে আইসক্রিম খাচ্ছিল। জেনিন হঠাৎ করেই একটা অদ্ভুত কথা বলল।
“আচ্ছা নোবারা, যদি এই নাটকের মতো বাস্তবেও কোনোদিন আমি বিপদে পড়ি, তুমি কি নানামির মতো আমার পাশে থাকবে?”
নোবারা আইসক্রিম খেতে খেতে থমকে গেল। সে জেনিনের চোখের দিকে তাকালো। জেনিনের চোখে আজ কোনো দুষ্টুমি নেই, আছে এক গভীর আকুতি। নোবারা একটু লাজুক হেসে বলল, “আপনার পাশে তো নানামি ভাইয়া সবসময় আছেই। আমার কি খুব দরকার পড়বে?”
“পড়বে। নানামি আমার বিবেক, আর তুমি… তুমি আমার সাহস,” জেনিন কথাটা বলে সোজা নানামির দিকে তাকালো।
নানামি আইসক্রিমের কাঠিটা ঘোরাতে ঘোরাতে বলল, “তোর সাহস তুই নিজেই। আমাদের ওপর ভরসা করার দরকার নেই। তুই শুধু নিজের ভেতরের এই অবাধ্যতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখ।”
স্কুলের সেই বার্ষিক অনুষ্ঠানের দিনটি এল। অডিটোরিয়াম দর্শকে ঠাসা। স্টেজের পেছনে জেনিন আর নানামি কস্টিউম পরে দাঁড়িয়ে আছে। জেনিনের পরনে কালো জোব্বা আর কপালে লাল কাপড় বাঁধা, তাকে দেখতে সত্যিই এক দুর্ধর্ষ যোদ্ধার মতো লাগছে। নানামির পরনে সাদা রঙের রাজকীয় পোশাক।
“আমি একটু নার্ভাস রে,” নানামি ফিসফিস করে বলল।
জেনিন নানামির কাঁধে হাত রেখে তাকে এক ঝটকায় নিজের কাছে টেনে নিল। “নার্ভাস হওয়ার কিছু নেই। মনে রাখবি স্টেজটা আমাদের মাঠ, আর অডিয়েন্সরা হলো সেই পুলিশ বা গ্যাংস্টার যারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তুই শুধু আমার দিকে তাকিয়ে সংলাপ বলবি, ব্যস!”
নাটক শুরু হলো। জেনিন স্টেজে আসার সাথে সাথেই পুরো হল রুমে একটা নিস্তব্ধতা নেমে এল। তার কণ্ঠের সেই জোর আর প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি ছিল দেখার মতো। সে যেন তার জীবনের সব ক্ষোভ, সব প্রতিবাদ ওই অভিনয়ের মাধ্যমে উগরে দিচ্ছিল। নানামি যখন স্টেজে প্রবেশ করল, তার শান্ত কণ্ঠস্বর জেনিনের উগ্রতাকে প্রশমিত করছিল। দর্শক সারির প্রথম সারিতে বসে ছিল নোবারা। তার চোখ থেকে পলক পড়ছে না। সে দেখছে কীভাবে দুই বন্ধু একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে।
নাটকের শেষে জেনিনের একটা সংলাপ ছিল—”যদি এই পৃথিবী আমাকে গ্রহণ না করে, তবে আমি নিজের এক পৃথিবী তৈরি করব। আর সেই পৃথিবীতে আমারই তৈরি করা আইন হবে।”
সংলাপটা শেষ হওয়ার পর কয়েক সেকেন্ড পুরো হল নিস্তব্ধ ছিল, তারপর এক বিশাল করতালিতে ফেটে পড়ল চারপাশ। জেনিন আর নানামি হাত ধরে দর্শকদের সামনে মাথা নত করল। সেই মুহূর্তটা ছিল জেনিন নুরশাদের জীবনের সেরা মুহূর্ত। তার মনে হচ্ছিলো, সে হয়তো এই আলোর জগতেই থাকতে পারে। তার বাবা-মা তাকে অবজ্ঞা করলেও, এই হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা তাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অনুষ্ঠান শেষে যখন সবাই হল থেকে বের হচ্ছে, তখন নোবারা স্টেজের পেছনে এল। তার হাতে দুটো রজনীগন্ধার তোড়া। একটা সে নানামির হাতে দিল, আর অন্যটা জেনিনের দিকে বাড়িয়ে ধরল।
“অসাধারণ হয়েছে! জেনিন ভাইয়া, আপনার ওই শেষ সংলাপটা আমার মনে গেঁথে গেছে,” নোবারা উজ্জ্বল চোখে বলল।
জেনিন ফুলটা নিল, কিন্তু সে নোবারার চোখের দিকে তাকাতে পারছিল না। সে অনুভব করছিল তার হৃদস্পন্দন দ্রুততর হচ্ছে। নানামি পাশে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। নানামির মনের কোণে একটা সূক্ষ্ম হুল ফুটল, কিন্তু সে পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিল। সে তো জেনিনের আনন্দই চেয়েছিল।
সেই রাতে নানামিদের বাসায় ফিরে জেনিন একদমই ঘুমাতে পারল না। সে বারান্দায় গিয়ে একা বসে রইল। নানামি কিছুক্ষণ পর তার পাশে এসে বসল।
“কী ভাবছিস? অনেক বড় সেলিব্রেটি হয়ে গেলি তো আজ!”
জেনিন হাসল না। সে গম্ভীর স্বরে বলল, “জানি না। এই যে হাততালি, এই যে নোবারার ওই প্রশংসা, এসব কি চিরস্থায়ী? আমার কেন যেন মনে হয়, এই আলোর জগতটা আমার জন্য নয়। আমি যখন স্টেজে ডায়ালগ দিচ্ছিলাম, আমার বারবার মানিকের কথা মনে পড়ছিল। আমি যেন অভিনয়ের আড়ালে নিজের ভবিষ্যৎটা দেখতে পাচ্ছিলাম।”
“তুই সব সময় কেন নেতিবাচক চিন্তা করিস? আজ তো ভালো কাটল, তাই না? উপভোগ কর ওটা,” নানামি জেনিনের পিঠ চাপড়ে দিল।
“জায়দান, আমি ঠিক করেছি আমি পড়াশোনা করব। তোর সাথে পাল্লা দিয়ে আমি কলেজে উঠব। আমি চাই না কেউ আমাকে আর বাউন্ডুলে বলুক। বিশেষ করে নোবারা যেন আমাকে তুচ্ছ না ভাবে,” জেনিনের গলায় আজ এক নতুন জেদ।
নানামি খুশি হলো। “এই তো আমার দোস্ত! চল, কাল থেকেই আমরা ম্যাথ প্র্যাকটিস শুরু করব। কোনো ফাঁকি দেওয়া চলবে না।”
কিন্তু সেই রাতে জেনিন তার ম্যাথ খাতায় এক অন্য কথা লিখল। সে লিখল, “আজ মঞ্চে যখন সবাই তালি দিচ্ছিল, আমি দেখছিলাম নোবারা কেবল নানামির দিকেই তাকাচ্ছে। সে হয়তো আমার অভিনয় পছন্দ করেছে, কিন্তু সে শ্রদ্ধা করে নানামিকে। আমি কি কোনোদিন ওই শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারব? নাকি আমাকে সবসময় নানামির দয়ায় বেঁচে থাকতে হবে? ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার মধ্যে যে পাহাড়সম দূরত্ব, তা আমি কীভাবে পার হব?”
জেনিন নুরশাদের ভেতরে হীনমন্যতার এক বিষাক্ত বীজ বপিত হতে শুরু করেছিল। সে নানামিকে ভালোবাসত ঠিকই, কিন্তু নানামির এই ‘আদর্শ’ ভাবমূর্তি তাকে বারবার নিজের ক্ষুদ্রতা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। জেনিন বুঝতে পারছিল না, সে আসলে কার সাথে লড়াই করছে, বাবার সাথে, মানিকের সাথে, নাকি তার এই নিখুঁত বন্ধু নানামির সাথে?
চলবে ইংশাআল্লাহ…..

