#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_৪৫
লেখনীতে: #মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম
রাত তখন আড়াইটে। তনুজা আজ বড় সাহস করে নানামির ঘরে ঢুকল। নানামি ল্যাপটপ বন্ধ করে নিজের কপালে হাত দিয়ে বসে আছে।
“আমি একটা কথা বলতে চাই,” তনুজা খুব ধীর পায়ে এগিয়ে এল। “নোবারার সাথে দেখা করার পর আমি একটা সত্য বুঝে গেছি। জেনিন সাহেব উনাকে যেভাবে আগলে রাখেন, সেভাবে আপনি কোনোদিনও আমাকে বা উনাকে রাখতে পারতেন না।”
নানামি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তনুজার দিকে তাকাল। “তুমি দয়া করে এসব কথা বাদ দাও।”
তনুজা দুচোখ ভরা অশ্রু নিয়ে হাসল!
“কেন বাদ দিব? আপনি মা-বাবার দোহাই দিয়ে আমাকে বিয়ে করলেন, অথচ আমার প্রতি আপনার কোনো টান নেই। আমি এসব আর সহ্য করতে পারছি না।”
নানামি কোনো পাল্টা যুক্তি খুঁজে পেল না। তনুজার এই অমোঘ সত্য তাকে আজ নগ্ন করে দিল।
তনুজা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শেষবারের মতো বলে গেল, “জেনিন নোবারাকে ভালোবাসে তার আত্মা দিয়ে, আর আপনি নোবারাকে মনে রেখেছেন আপনার হীনম্মন্যতা দিয়ে। আপনাদের দুই বন্ধুর মধ্যে কেবল এটাই পার্থক্য!”
মানুষ বলে ভালোবাসা হলো এক নিঃস্বার্থ ত্যাগ। কিন্তু সেই ত্যাগের গভীরতা মাপা যায় কেবল সময়ের দাঁড়িপল্লায়। জেনিন আর নানামি…দুজনের জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে একজনই নারী, নোবারা। পনেরোটি দীর্ঘ বছর নোবারা তাদের কারোর জীবনেই ছিল না। এই পনেরো বছরে জীবন অনেক বদলেছে। কিশোর নানামি আজ পুলিশের এসি, আর সেই একরোখা জেনিন আজ শহরের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সিইও এবং মাফিয়া সম্রাট।
কিন্তু তফাতটা গড়ে দিয়েছে তাদের এই দীর্ঘ নিঃসঙ্গতার সময়গুলো।
নানামি জায়দান…সে নিজেকে নোবারার প্রেমিক দাবি করে, অথচ পরিবারের সামান্য চাপের মুখে সে নতি স্বীকার করল। সে চাইলে কি পারত না তনুজাকে এই নরক থেকে বাঁচাতে? কিংবা সে চাইলে কি পারত না নোবারার স্মৃতির প্রতি সৎ থেকে একাকীত্বের জীবন বেছে নিতে? নানামি তনুজাকে বিয়ে করে কেবল তনুজার জীবন নষ্ট করেনি, সে প্রমাণ করেছে তার ভালোবাসার চেয়ে নিজের সামাজিক অবস্থান আর পারিবারিক ইমেজের গুরুত্ব অনেক বেশি। সে নোবারাকে মনে রেখেছে ঠিকই, কিন্তু সেই স্মৃতি আগলে রাখার মতো মানসিক দৃঢ়তা তার ছিল না। সে আজ তনুজাকে অবহেলা করছে, কিন্তু দিনশেষে তনুজা তার বৈধ ঘরণী! এটিই নানামির ভালোবাসার সীমাবদ্ধতা।
অন্যদিকে জেনিন নূরশাদ… তার জীবনটা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। সে চাইলে তার অঢেল অর্থ আর ক্ষমতার জোড়ে প্রতিদিন নতুন নতুন নারীসঙ্গ ভোগ করতে পারত। লন্ডনের নিঃসঙ্গ দিনগুলো হোক কিংবা ঢাকার এই যান্ত্রিক জীবন…ইউজি ছাড়া তার পাশে কেউ ছিল না। কিন্তু পনেরোটি বছর জেনিন নিজেকে পাথর করে রেখেছিল। তার হাই স্কুল জীবনের সেই প্রথম প্রেম, সেই কিশোরী নোবারা…তার প্রতি জেনিনের নিষ্ঠা ছিল অবাক করার মতো। সে কোনো মেয়ের দিকে দ্বিতীয়বার ফিরে তাকায়নি। সে জানত না নোবারাকে সে কোনোদিন ফিরে পাবে কি না, তাও সে নিজের অনুভূতিগুলোকে কোনো সস্তা মোহতে বিলিয়ে দেয়নি। জেনিনের ভালোবাসা ছিল এক কঠিন তপস্যা।
তাই আজ যখন তনুজা আর নানামির ঘরের মাঝখানে সেই অদৃশ্য দেয়ালটা দেখা যায়, তখন স্পষ্ট বোঝা যায়…ভালোবাসার লড়াইয়ে জেনিন অনেক আগেই জয়ী হয়ে গিয়েছিল। নানামি নোবারাকে চেয়েছিল নিজের প্রয়োজনে, আর জেনিন নোবারাকে ভালোবেসেছিল নিজের অস্তিত্বের তাগিদে।|
তনুজার কথাগুলো নানামির কানে সীসার মতো বিঁধছিল। তনুজা চলে যাওয়ার পর ঘরের দেয়ালগুলো যেন নানামিকে বিদ্রুপ করতে শুরু করল। নানামি জায়দান…পুলিশের এসি, যে শহরের বড় বড় অপরাধীদের চোখে চোখ রেখে কথা বলে, সে আজ নিজের স্ত্রীর সামনে মাথা নিচু করে আছে। কিন্তু তনুজার প্রতিটি কথা নানামির হৃদয়ের সেই দগদগে ক্ষতগুলোতে লবণের ছিটে দিচ্ছিল।
নানামি হাতের গ্লাসটা সজোরে দেয়ালে ছুড়ে মারল। কাঁচের টুকরোগুলো চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল, ঠিক নানামির জীবনের মতো। তনুজা বলছে জেনিন সৎ? তনুজা বলছে জেনিন বেশি ভালোবেসেছে?
“কেউ জানে না…” নানামি নিজের মনেই চিৎকার করে উঠল। “কেউ জানে না আমি কীভাবে দিন কাটিয়েছি।”
সে তার ড্রয়ার থেকে একটি পুরোনো জীর্ণ ছবি বের করল। ছবিতে দুই কিশোর…একজনের কাঁধে অন্যজনের হাত। জেনিন আর নানামি। স্কুলে যখন জেনিন একা থাকত, নানামিই ছিল তার একমাত্র কথা বলার মানুষ। জেনিনের প্রতিটি লড়াইয়ে নানামি পাশে ছিল। আর আজ? সেই জেনিনই তাকে তার জীবনের সবচাইতে প্রিয় মানুষটির থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। নানামির দোষ কোথায়? সে তো সমাজ আর পরিবারের চাপে পড়েছিল। সে তো রক্ত-মাংসের মানুষ, রোবট নয়। পনেরো বছর একটা মানুষের প্রতীক্ষায় থাকা আর সেই প্রতীক্ষার মাঝে একা নিঃসঙ্গ হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা তনুজা বুঝবে না।
নানামি ডায়েরিটা টেনে নিল। তার কলমটা আজ কাগজের ওপর যেন তলোয়ারের মতো চলছে। সে লিখতে লাগল,
“নুরশাদ, তুই তো সব পেয়েছিস। তোর পাশে ইউজি আছে, যে তোর এক ইশারায় জীবন দিতে পারে। কিন্তু আমার পাশে কে ছিল? আমি পুলিশের উর্দি পরে যখন প্রতি রাতে অপরাধীদের ডেরায় হানা দিতাম, তখন আমার মনের ভেতরে যে কী প্রলয় চলত, তা কি কেউ দেখেছে? তুই নোবারাকে পেয়েছিস কারণ তুই আইনের বাইরে যেতে পেরেছিস। আর আমি? আমি আইনের শৃঙ্খলে নিজেকে এমনভাবে বেঁধেছি যে আজ নিজের ভালোবাসাটাও আমার কাছে অপরাধ মনে হয়।”
নানামির ইগো আজ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। সে তনুজার কাছে ছোট হতে চায় না। সে নিজেকে অপরাধী মানতে নারাজ। সে মনে করে, জেনিন যদি তাকে একা ফেলে চলে না যেত, জেনিন যদি তার বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখত, তবে আজ নানামির জীবনটা এমন মরুভূমি হতো না। জেনিন আর নোবারা..দুজনেই তাকে মাঝপথে ছেড়ে গেছে।
নানামি হাঁপাতে লাগল। তার গলার রগগুলো ফুলে উঠেছে। সে বুঝতে পারছে সে অন্যায় করছে তনুজার ওপর, কিন্তু তার ভেতরের পুঞ্জীভূত রাগ আজ বাঁধ ভেঙেছে। সে না পেল জেনিনকে, না পেল নোবারাকে। তার জীবনটা যেন এক ডাস্টবিন, যেখানে সবাই শুধু অবহেলা ফেলে গেছে।
নানামির মনে হলো, তার এই ব্যর্থতার জন্য সে দায়ী নয়। সমাজ, পরিবার আর ভাগ্য তাকে এই মোহনায় এনে দাঁড় করিয়েছে। সে পনেরো বছর একাই লড়েছে। জেনিন নূরশাদ হয়তো একা ছিল, কিন্তু তার ক্ষমতার প্রাচীর ছিল। নানামি তো সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে প্রহর গুনেছে। কিন্তু এসব সে তার ঘরণীকেই বুঝাতে পারছে না!
<><><><><><><><><>
ঢাকার শীতের শেষ বিকেলের বিষণ্ণ রোদটা যখন গোল্ডেন টিউলিপ ক্যাফের কাঁচের জানালায় আছড়ে পড়ছে, তখন সেখানে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। এই ক্যাফেটি শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, যেখানে বসার জায়গাগুলো ঝোপঝাড় আর লতাপাতায় ঘেরা। ঠিক মাঝখানের একটি নির্জন টেবিলে মুখোমুখি বসে আছে দুই নারী…একজনের চোখে রাজকীয় আভিজাত্য ও এক সমুদ্র মায়া, অন্যজনের চোখে গভীর বিষাদ আর না বলা হাজারো অভিযোগ।
নোবারা আর তনুজা।
নোবারা আজ হালকা বেগুনি রঙের একটি সুতির শাড়ি পরেছে, গলায় ছোট্ট একটা হিরের লকেট। তনুজা পরেছে ফ্যাকাসে ধূসর রঙের এক কামিজ, যা তার ভেতরের একাকীত্বের প্রতিচ্ছবি। তনুজা আজ নোবারাকে এখানে ডেকেছে, কারণ সে জানে, একমাত্র নোবারাই পারে এই পনেরো বছরের জট খুলতে। মুখে সে যতই বলুক যে সে আর নানামির কাছে কোন আশা করে না, কিন্তু তার আত্মা জানে সে নানামি কে খুশি দেখতে কতটা মরিয়া! তার এক ক্ষুদ্র প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে সে এখন।
নোবারা কফির কাপে চামচ নাড়তে নাড়তে তনুজার দিকে তাকাল। তনুজা আজ অনেক বেশি শান্ত, যেন সে কোনো বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে।
“তনুজা, আপনি কি আমাকে এখানে জেনিন আর নানামি ভাইয়ার ব্যাপারে কথা বলতে ডেকেছেন?” নোবারা খুব সরাসরি প্রশ্নটা করল।
তনুজা কফির কাপে এক চুমুক দিয়ে বাইরের রাস্তার দিকে তাকাল। “নোবারা, আপনি কি জানেন নানামি কাল রাতে কী করেছেন? তিনি জেনিন সাহেবের একটা পুরনো ছবি কাঁচি দিয়ে কেটে দুটুকরো করে ফেলেছেন। আমি তাঁর চোখে যে আগুন দেখেছি, তা প্রতিশোধের নয়, তা এক চরম যন্ত্রণার। তিনি জেনিন সাহেবকে যতটা ঘৃণা করার অভিনয় করেন, তার চেয়েও হাজার গুণ বেশি তাঁকে ভালোবাসেন।”
নোবারা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে জানে, জেনিনও নানামির নাম শুনলে গম্ভীর হয়ে যায়, কিন্তু তার ল্যাপটপের গোপন ফোল্ডারে এখনো নানামির সাথে স্কুলের ড্রেস পরা ছবিগুলো সেভ করা আছে। জেনিন নূরশাদ তার সাম্রাজ্যের প্রয়োজনে নিষ্ঠুর হতে পারে, কিন্তু পনেরো বছরের বন্ধুত্বকে সে কোনোদিন মন থেকে সরাতে পারেনি।
“তনুজা, জেনিন আর নানামি একে অপরের আয়না,” নোবারা খুব নরম গলায় বলল। “জেনিন যখন ইউজির সাথে কোনো সাকসেস সেলিব্রেট করে, আমি দেখেছি ও মাঝপথে থেমে জানালার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি জানি ও কাকে খুঁজছে। ও নানামি ভাইয়া কে মিস করে। কিন্তু দুজনের ইগো আজ এক হিমালয় হয়ে মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে।”
তনুজা নোবারার হাতটা ধরল। “আমরা কি পারি না এই হিমালয়টা সরিয়ে দিতে?”
নোবারা তনুজার চোখের জল দেখতে পেল। সে বুঝতে পারল, তনুজা শুধু তার সংসার বাঁচাতে চায় না, সে চায় নানামিকে সেই অন্ধকার গর্ত থেকে বের করে আনতে। নানামির জীবনে জেনিন ছিল এক বিরাট অংশ, যা হারিয়ে যাওয়ার পর নানামি আর স্বাভাবিক হতে পারেনি।
“আপনি কী চান? আমি কী করি করতে পারি?” নোবারা জিজ্ঞেস করল।
“আগামীকাল নানামি সাহেবের জন্মদিন,” তনুজা খুব নিচু স্বরে বলল। “আমি জানি তিনি এটা সেলিব্রেট করবেন না। হয়তো স্টাডি রুমে একা বসে সিগারেট নয়তো ফাইলে ডুবে থাকবেন। আমি চাই জেনিন সাহেব কাল রাতে আমাদের বাড়িতে আসুক। কোনো বডিগার্ড ছাড়াই, শুধু সেই পুরোনো বন্ধু হিসেবে।”
নোবারা চিন্তায় পড়ল। জেনিন কি যাবে? জেনিন এখন নূরশাদ গ্রুপের সিইও, তার প্রতিটি পদক্ষেপে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে। তাছাড়া নানামির প্রতি জেনিনের এক ধরণের চাপা ক্ষোভও আছে যে নানামি কেন তাকে বোঝবার চেষ্টা করেনি।
“জেনিনকে রাজি করানো কঠিন হবে তনুজা,” নোবারা কপালে আঙুল বোলাতে বোলাতে বলল। “ওর কাছে নানামি ভাইয়া এখন কেবল একজন পুলিশ অফিসার যে তাকে গ্রেফতার করার সুযোগ খোঁজে।”
“সেটাই তো সমস্যা!” তনুজা জেদ নিয়ে বলল। “তাও আপনি জেনিন সাহেবকে অনুরোধ করুন প্লিজ। আমি নিশ্চিত, উনি আপনাকে ফেরাতে পারবেন না।”
নোবারা জানালার বাইরে তাকিয়ে ভাবল…আসলেই তো! পনেরো বছর অনেক দীর্ঘ সময়। জেনিন নোবারাকে ভালোবাসে, কিন্তু নানামি ছিল তার শৈশবের সেই সঙ্গী যার কাছে সে নিজের দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করতে পারত। আজ জেনিন বড় একা, তার সিংহাসন অনেক উঁচু, সেখানে কারো সাথে দুঃখ ভাগ করার উপায় নেই।
ক্যাফেটেরিয়া থেকে বের হওয়ার সময় নোবারা তনুজাকে জড়িয়ে ধরল। এই প্রথম তনুজা অনুভব করল যে নোবারা তার প্রতিপক্ষ নয়, বরং তার বড় বোন বা শুভাকাঙ্ক্ষী।
“আমি চেষ্টা করব তনুজা,” নোবারা দৃঢ় গলায় বলল। “জেনিনকে আমি নিয়ে আসব। তবে আপনাকেও কথা দিতে হবে, নানামি ভাইয়া যেন জেনিনকে দেখা মাত্রই কোনো আইনি কথা না তোলেন।”
তনুজা হাসল, তার চোখে এক চিলতে আশার আলো দেখা গেল। “আমি কথা দিচ্ছি। আমি ঘরটা সাজিয়ে রাখব। শুধু ওদের বন্ধুত্বের জন্য।”
নোবারা যখন তার গাড়িতে ফিরছিল, সে ভাবছিল মানুষের জীবনটা কত বিচিত্র। জেনিন আর নানামি…দুটো মানুষ যারা একে অপরকে ছাড়া অসম্পূর্ণ, অথচ তারা আজ এক অদৃশ্য যুদ্ধে লিপ্ত। জেনিন নূরশাদ রাজত্ব পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই রাজত্বে কি সত্যি শান্তি আছে? নানামি ছাড়া জেনিনের সেই পুরোনো অট্টহাসি কি আর কখনো শোনা যাবে?
নোবারা তার ফোন বের করে ইউজিকে মেসেজ দিল..’ইউজি, কাল জেনিনের সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট ক্যান্সেল করো। কাল আমাদের এক বড় মিশনে যেতে হবে।’
ইউজি ওপাশ থেকে রিপ্লাই দিল..”ওক্কেহ ম্যাম! আপনি যাহা আদেশ করেন।”
চলবে ইংশাআল্লাহ।।।।।।।।।।।
(হুহ😼 আগামী পর্বে দেখবেন যেই বন্ধুত্ব আমি ভেঙেছিলাম থুক্কু ভেঙে গিয়েছিল, তা কত সুন্দর করে জোড়া লাগে! ইশশ! নোবারা তনুজার মতো বউ হয় না। আমিও হবো হয়তো! হিহি। টা টা…)

