#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_৫০
লেখনীতে: #মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম
নূরশাদ ভিলার রাজকীয় আভিজাত্য যেখানে আকাশছোঁয়া, সেখানে নোবারা আজও সাধারণ মাটির মেয়েটির মতোই সহজ-সরল। জেনিন নূরশাদ, যার এক ইশারায় শহরের ট্রাফিক সিগন্যাল বদলে যায়, যার নিরাপত্তার জন্য দশটি এসইউভি সারাক্ষণ সজাগ থাকে..সেই মানুষটির জীবনে নোবারা এক দমকা হাওয়ার মতো। আজ বিকেলে নোবারার হঠাৎ এক অদ্ভুত জেদ চাপল। সে আজ কোনো ফাইভ স্টার হোটেলের ডিনার করবে না, কোনো দামী ক্যাফেতে কফি খাবে না। সে খাবে রাস্তার ধারের ফুচকা, আর তাও নাকি রিকশায় চড়ে!
বিকেল পাঁচটা। জেনিন তখন তার স্টাডি রুমে বসে একটি আন্তর্জাতিক ড্রিলিং প্রজেক্টের ফাইল দেখছিল। তার পরনে কালো রঙের থ্রি-পিস স্যুট, হাতে হাবলট ব্র্যান্ডের ঘড়ি। ঠিক সেই সময় নোবারা ঘরে ঢুকল। তার পরনে একদম সাধারণ একটা তাঁতের শাড়ি, চুলে একটা বেলি ফুলের মালা।
“আজ আমরা বাইরে যাব,” নোবারা খুব স্বাভাবিক গলায় বলল। যেন সে বললেই আলাদিনের চেরাগ এর দৈত্যর মতো জেনিন তার সব হুকুম হোক বা ইচ্ছে মান্য করবে!
জেনিন ফাইল থেকে চোখ না সরিয়েই বলল,
“কিন্তু আজকে না আপনি মা কে আনতে গ্ৰামে যাবেন বলেছিলেন!”
“প্ল্যান চেন্জড। মা’কে আনতে আগামীকাল যাবো। আপাতত আমরা দুজন বাইরে যাবো।”
“ওকে। কোন রেস্ট্রন্ট্র এ যাই চলুন, সি ফুড এর ক্রেভিং হচ্ছে আমার।”
নোবারা তৎক্ষণাৎ ভ্রু কুঁচকে জেনিনের ল্যাপটপটা এক ঝটকায় বন্ধ করে দিল। “আমি সি-ফুড খাব না। আজ আমি ধানমন্ডি লেকের পাশে ওই যে বুড়ো মামার দোকানের ফুচকা খাব। আর আমরা গাড়িতে যাব না, আমরা রিকশায় যাব।”
জেনিন এবার নোবারার দিকে তাকাল। তার চোখে এক আকাশ বিস্ময়। “নূরা, সেদিনের ঝামেলাটা মনে নেই আপনার? প্রটোকল নিয়েই বের হবো!”
“আপনার সিকিউরিটি প্রোটোকল আজ ছুটিতে” নোবারা জেনিনের টাইটা ধরে টান দিল। “আপনি ওই কালো স্যুটটা ছাড়ুন তো আগে। একটা পাঞ্জাবি পরুন। আর শুনুন, আমি নানামি ভাইয়া আর তনুকেও ফোন করেছি। ওরাও আসছে। কোনো অজুহাত চলবে না মিস্টার নুরশাদ।”
জেনিন একটু থমকাল। নানামি আর তনুজাকে এই ফুচকা মিশনে আনা মানে হলো এক মহা কান্ড। নানামি এমনিতে খুব ফরমাল, আর তনুজার সাথে তার দূরত্ব তো এখনো ঘোচেনি। কিন্তু নোবারার চোখের আকুতি জেনিন কোনোদিন উপেক্ষা করতে পারেনি। জেনিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার ব্লেজারটা খুলে রাখল।
“ঠিক আছে। কিন্তু একটা শর্ত..ইউজি দূর থেকে আমাদের ফলো করবে। আমি কোনো ঝুঁকি নিতে পারব না,” জেনিন গম্ভীর গলায় বলল।
নোবারা খুশিতে জেনিনের গালে একটা চুমু দিয়ে দৌড়ে আলমারি থেকে জেনিনের জন্য একটা ঘিয়া রঙের পাঞ্জাবি বের করে আনল। জেনিন নূরশাদ, যে কিনা প্রটোকল ছাড়া বাইরে বের হয় না, সে আজ শুধু নোবারার জেদ রক্ষা করতে নিজের সব আভিজাত্য ঝেড়ে ফেলল।
পনেরো মিনিট পর নূরশাদ ভিলার গেটের সামনে একটা রিকশা এসে দাঁড়ালো। জেনিন তার এলিট ফোর গার্ডদের ইশারা করল দূরে থাকতে। সে নোবারার হাত ধরে রিকশায় উঠল। জেনিনের জন্য এই অভিজ্ঞতা একদম নতুন। রিকশার হুডটা ফেলে দিয়ে যখন তারা খোলা বাতাসের মাঝে চলতে শুরু করল, জেনিন অনুভব করল এক অন্যরকম মুক্তি। নোবারা জেনিনের কাঁধে মাথা রেখে রিকশায় বসে আছে, আর জেনিন তার একনিষ্ঠ দৃষ্টি দিয়ে শুধু নোবারাকেই দেখছে। চারপাশের কোলাহল জেনিনকে স্পর্শ করছে না, কারণ তার পুরো পৃথিবী এখন এই রিকশার ছোট্ট সিটে বন্দি। আর নোবারা? তার খুশি দেখে কে? এমন হুটহাট করে পব বায়না ধরবে আর জেনিন তার সব কাজ গোল্লায় ফেলে তার বায়না পূরণ করবে। এমন জীবনসঙ্গীর স্বপ্নই তো নোবারা আকারি দেখেছিল।
<><><><><><><><><>
ধানমন্ডি লেকের এক কোণে নানামি আর তনুজা আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। নানামি পুলিশের এসি হওয়ার কারণে সবসময় একটু শক্ত মেজাজে থাকে। সে বার বার ঘড়ি দেখছিল। তনুজা একপাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, তার চোখেমুখে এক ধরণের অস্বস্তি। নানামি তাকে আজ জোর করেই নিয়ে এসেছে কারণ নোবারা ফোন করে বলেছিল..‘এটা নোবারা নুরশাদের হুকুম!’
জেনিন আর নোবারা যখন রিকশা থেকে নামল, নানামি জেনিনকে দেখে হাসতে হাসতে প্রায় লুটিয়ে পড়ল। রিকশার মতো জীর্ণ শীর্ণ এক যানবাহন এ জেনিনের মতো বড়মাপের মানুষ কে দেখে লাগছে কোন ভিনদেশী মানুষ বাঙালি হওয়ার প্রথম চেষ্টা করছে তাও তাকে জঘন্যই লাগছে! নানামি অনেক কষ্ট এ নিজের হাসি আটকে রেখে বললো,
“জেনিন নূরশাদ? পাঞ্জাবি পরে রিকশায়? দাহিন কর্পোরেশনের বোর্ড মেম্বাররা যদি তোকে এখন দেখত!”
জেনিন ম্লান হাসল। মাথা চুলকে সে বললো,
“বেবিডন এর হুকুম বলে কথা, না করবো কোন সাহসে!”
নোবারা এগিয়ে গিয়ে তনুজার হাত ধরল। “কেমন আছো তনু? এসো, ওই যে সামনে মামার ফুচকার দোকান, ওখানেই আজ আমরা খাবো। কেমন?”
সবাই মিলে ফুচকার দোকানের সামনে প্লাস্টিকের টুলে বসল। জেনিনের জন্য এটি একটি দুঃস্বপ্নের মতো হলেও নোবারার খুশি দেখে সে মুখ বুজে সব সহ্য করছিল। ফুচকাওয়ালা মামা যখন টক আর মশলা মাখানো ফুচকা প্লেটে দিল, নোবারা সবার আগে একটা মুখে দিয়ে বলল, “উফ! জেনিন, এই স্বাদের কাছে আপনার ফাইভ স্টার হোটেল ফেল!”
ঠিক তখনই একটা বিপত্তি ঘটল। তনুজা খুব সাবধানে একটি ফুচকা মুখে নিতে গিয়েছিল, কিন্তু ঝাল আর টকের তীব্রতায় সে একটু কাশল। আর সেই কাশির তোড়ে হাতের ফুচকাটা পিছলে গিয়ে তার ঠোঁটে আর গালে টক পানি ছিটে পড়ল। তনুজা খুব অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল।
নানামি বিরক্ত হয়ে হয়ে কপাল কুঁচকাল। “তনুজা! কতবার বলেছি খাওয়ার সময় একটু সতর্ক থাকতে!”
নানামির এই তুচ্ছতাচ্ছিল্যে তনুজার মুখটা সাথে সাথে কালো হয়ে গেল। তার চোখের কোণে জল চলে এল। সে নিচু হয়ে তার ওড়না দিয়ে মুখ মোছার চেষ্টা করছিল। জেনিন আর নোবারা দুজনেই দৃশ্যটা দেখল। জেনিন নানামির ওপর বিরক্ত হলো, কিন্তু কিছু বলল না। স্বামী স্ত্রীর ব্যাপারে সে আর কিইবা বলবে!
নোবারা দেখল পরিবেশটা ভারি হয়ে যাচ্ছে। সে হুট করে নিজের একটা বড় ফুচকা তনুজার মতো করেই অর্ধেকটা মুখে দিল এবং ইচ্ছে করে অর্ধেক গালে ঢুকিয়ে কামড় দিতেই টক পানি গড়িয়ে তার মুখে-শাড়িতে পড়লো।
“আরে! দেখো তনু, আমারও তো মেখে গেল! এই ফুচকাগুলোই এমন, তবে মজা লাগছে বলো?” নোবারা খিলখিল করে হেসে উঠল।
পুরো আড্ডাটা নোবারার হাসিতে হালকা হয়ে গেল। তনুজা বুঝতে পারল নোবারা ইচ্ছে করে তাকে বাঁচানোর জন্য নিজের মুখে ফুচকা মাখল। তনুজা কৃতজ্ঞতায় নোবারার দিকে তাকাল।
কিন্তু তখনই জেনিন তার পাঞ্জাবির সামনের নিচের অংশটা হাতে নিল। তারপর সে খুব স্বাভাবিকভাবে নোবারার গালটা মুছিয়ে দিতে লাগল। নোবারার গালে এখন কোন টক পানির ছিটেফোঁটাও না থাকলেও জেনিনের পাঞ্জাবির অবস্থা কাহিল! জেনিনের এই আচরণ দেখে নানামি অবাক চোখে তাকাল। তার ভেতরে এক সূক্ষ্ম ব্যাথা অনুভূত হতে লাগলো।
“নূরা, আপনি সত্যিই একটা পাগল,” জেনিন খুব গভীর আর আদুরে গলায় বলল। সে সবার সামনেই নোবারার গালটা আলতো করে টেনে দিল।
জেনিন নোবারার গাল মোছার পর নানামির দিকে তাকাল। সে খুব গম্ভীর গলায়ই বলল,
“শোন জায়দান, ভালোবাসা মানে শাসন করা নয়, ভালোবাসা মানে অন্যের ছোট ছোট ভুলগুলোকে নিজের করে নেওয়া। তনুজা তো বাচ্চা নন, কিন্তু ওনার ভুলটা যদি তুই না বুঝিস, তবে তো প্রেমটা অর্ধেকই রয়ে গেল।”
নানামি মাথা নিচু করল। সে দেখল জেনিন নূরশাদের মতো একজন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী মানুষ কীভাবে নিজের স্ত্রীর এঁটো হওয়া গালটা নিজের পোশাক দিয়ে মুছিয়ে দিচ্ছে। নানামির মনে হলো সে অনেক বড় একটা ভুল করে ফেলেছে। সে ধীর পায়ে তনুজার কাছে গেল এবং তার ওড়নাটা নিজের হাতে নিয়ে তনুজার কপালে লেগে থাকা ঘামটা মুছে দিল।
“সরি তনুজা। আমি আসলে…” নানামি আর কথা শেষ করতে পারল না।
তনুজা হাসল। এই প্রথম তনুজার চোখে পূর্ণতা দেখা গেল। নোবারা আর জেনিনের এই ছোট পদক্ষেপটি আজ দুটি ভাঙা সম্পর্কের মাঝে এক বিশাল সেতুবন্ধন তৈরি করল। তনুজা আজ সত্যিই খুব খুশি হলো। তার ঠোঁটের কোণে হালকা করে হাসি ফুটে উঠলো।
<><><><><><><><><>
ধানমন্ডি লেকের পাড় দিয়ে রিকশাটা যখন হেলেদুলে এগোচ্ছে, তখন ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলো আর গাছের ছায়ার খেলা চলছে সারা রাস্তায়। নানামি তনুজা কে নিয়ে শপিং করতে গিয়েছে। আর ওদের বিদেয় দিয়ে জেনিন আবারো নোবারাকে নিয়ে রিকশায় উঠে পড়ছে। আড়াল থেকে তার এজেন্ট রা এখনো পাহারা দিচ্ছেই।
রিকশার হুডটা ফেলাই আছে। জেনিন এখন একদম শান্ত। নোবারা লক্ষ্য করল, জেনিনের বাংলার পাঁচের মতো করে রাখা মুখটায় এক চিলতে হাসি!
বাতাসে ভুরভুর করছে একটা খুব চেনা, আভিজাত্যমাখা ঘ্রাণ। নোবারা জানে এটা জেনিনের সিগনেচার পারফিউম..’Bleu de Chanel’।
নোবারা হঠাৎ জেনিনের খুব কাছে সরে এল। রিকশার ছোট সিটে তাদের শরীর এখন একে অপরের সাথে লেপ্টে আছে। নোবারা জেনিনের কাঁধে মাথা রেখে মুখটা একটু উঁচিয়ে ধরল। ল্যাম্পপোস্টের আলো যখন জেনিনের মুখে পড়ছে, নোবারা মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার স্বামীর মুখটা খুঁটিয়ে দেখতে লাগল।
“জেনিন,” নোবারা খুব নিচু স্বরে ডাকল।
“হ্যাঁ!” জেনিন রাস্তার ভিড়ের দিকে তাকিয়ে ছিল, নোবারার ডাকে সে মুখ ফেরাল।
নোবারা হাত বাড়িয়ে জেনিনের ডান চোখের ঠিক পাশটায় তার তর্জনী রাখল। সেখানে জেনিনের কুচকুচে কালো চোখের মণির একদম কোল ঘেঁষে একটা ছোট্ট কালো তিল। দিনের আলোয় বা চশমার আড়ালে এটা সচরাচর চোখে পড়ে না, কিন্তু এই মায়াবী রাতে তিলটা যেন জেনিনের চোখের তীক্ষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
“আপনার এই চোখের পাশের তিলটা কি আগে থেকেই ছিল? নাকি আমার ভালোবাসায় এটা এখন বেশি স্পষ্ট হয়েছে?” নোবারা দুষ্টুমি করে জিজ্ঞেস করল।
জেনিন একটু হাসল। “এটা জন্মের সময় থেকেই আছে। তবে হয়তো আপনার আগে কেউ এতোটা গভীর করে আমার চোখের দিকে তাকানোর সাহস পায়নি, তাই তিলটা অজানাই ছিল।”
নোবারা থামল না। তার আঙুল এবার নেমে এল জেনিনের ঠোঁটের ঠিক নিচে, বাম পাশে। সেখানে আরও একটা ছোট তিল, যা জেনিনের গম্ভীর চেহারায় এক ধরণের অদ্ভুত লাবণ্য যোগ করে। নোবারা সেই তিলটাতে নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে আলতো করে ঘষল।
“জানেন, যখন আপনি কথা বলেন, তখন এই তিলটা নড়াচড়া করে। আমি লক্ষ্য করেছি, আপনি যখন রেগে যান তখন এই তিলটা কাঁপতে থাকে, আবার হাসলে আরো সুন্দর করে ফুটেও উঠে! নোবারা খিলখিল করে হেসে উঠল।
জেনিন এবার নোবারার কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। জেনিনের গায়ের পারফিউমের উগ্র অথচ মনমাতানো ঘ্রাণ এখন নোবারার নাসারন্ধ্রে সরাসরি আঘাত করছে। এই ঘ্রাণটা নোবারাকে সবসময় এক ধরণের নিরাপত্তা দেয়। মনে হয়, এই ঘ্রাণটা যেখানে আছে, সেখানে কোনো বিপদ তাকে ছুঁতে পারবে না।
“আপনি কি আজ আমার তিল গুনতে বের হয়েছেন?” জেনিন নোবারার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল। “নাকি আমার এই পারফিউমের নেশায় আপনি একটু বেশিই মাতাল হয়ে গিয়েছেন?”
নোবারা জেনিনের পাঞ্জাবির কলারটা খামচে ধরল। “দুটোই। আপনার এই পারফিউমটা আমার বড্ড প্রিয় জেনিন। মাঝেমধ্যে ইচ্ছা করে আপনার একটা শার্ট চুরি করে নিজের কাছে রেখে দিই, যাতে আপনি পাশে না থাকলেও এই ঘ্রাণটা আমাকে আপনার কথা মনে করিয়ে দেয়।”
জেনিন নোবারার কপালে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। “আমার শার্ট চুরি করার দরকার নেই। আমি তো নিজেই আপনার পাশে আছি। আর এই তিলগুলো? জানেন, আপনি ছাড়া আর কাউকে এই তিলগুলো এতো কাছ থেকে দেখার পারমিশন আমি দিইনি।”
রিকশাওয়ালা মামা তখন আপন মনে টুংটাং বেল বাজাচ্ছে। পেছনের কথা তার কানে আসলেও সে হজম করে নিচ্ছে। কারণ এক ট্রিপের ভাড়ায় যদি দশ হাজার টাকা পাওয়া যায় তো এমন কতকিছু সে অনায়াসে সহ্য করবে। সে মাঝে মাঝে এও ভাবছে, এই মেমসাহেবের সাথে আরেকটু ভাব করলে হয়তো আবারো কোন একদিন তার রিকশায় চড়বে। তখন তো সে লালে লাল, এক্কেরে শাহজালাল!
লেকের ঠান্ডা বাতাস জেনিন আর নোবারার চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে। রিকশার পেছনে জেনিন নোবারার হাতটা নিজের হাতের তালুতে নিয়ে বসেই আছে। হঠাৎ কি যেন একটা ভেবে সে বললো,
“জানি না নূরা, এই সাধারণ রিকশা ভ্রমণ আর এই সাধারণ মুহূর্তগুলো আমার কাছে কেন পৃথিবীর সবচাইতে দামী প্রজেক্টের চেয়েও বেশি মূল্যবান মনে হয়। এ সময় যেন সত্যিই না ফুরোয়!” জেনিন খুব আবেগপ্রবণ গলায় বলল।
নোবারা জেনিনের বুকে কান পেতে শুনল তার হৃদস্পন্দনের শব্দ। জেনিন যখন এভাবে কথা বলে তার বড্ড ভালো লাগে, আবার মাঝে মাঝে ভয় ও হয়। তার ভাগ্যের উপর যে এক বিন্দু পরিমাণ ও বিশ্বাস নেই!
চলবে ইংশাআল্লাহ।।।।।।
(আমারো প্ল্যান চেন্জড, ৫২/৫৩ পর্ব থেকে আসল সংঘাত শুরু হবে। কারণ আরো কিছু ছোট ছোট ঘটনা গল্প এ যোগ করা বাকি। আবার এমনিই মনে করবেন না। মনে রাখবেন,
ছোট ছোট বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল,
গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল।)

