Soulmate_to_Enemy #পর্ব_৫২

0
2

#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_৫২
লেখনীতে#মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম

নূরশাদ ভিলার ড্রয়িংরুমে আজ ভোরের আলোটা যেন অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশিই স্নিগ্ধ মনে হচ্ছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই জেনিন আর নোবারা গ্রাম থেকে নোবারার মা হালিমা আকারি কে নিয়ে শহরে ফিরেছে। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি থাকলেও নোবারার চোখে-মুখে ছিল এক প্রশান্তির ছাপ। সে গ্রামের মেঠোপথ আর সেই পুরোনো স্মৃতিগুলোকে পেছনে ফেলে এলেও সাথে করে নিয়ে এসেছে তার মাকে..যাকে সে কোনোদিন নিজের জীবনের এই বিশাল প্রাসাদে দেখার কল্পনাও করেনি।

জেনিন নিজে ড্রাইভ করে নোবারার মাকে ভিলার প্রবেশপথে নিয়ে এসেছিল। জেনিন যখন তার শাশুড়িকে সম্মানের সাথে গাড়ি থেকে নামিয়ে ভেতরে নিয়ে আসছিল, তখন নোবারার মনে হয়েছিল, এই জেনিন নূরশাদকে কি সত্যিই পৃথিবী ভয় পায়? মা হালিমা বেগমের চোখেও ছিল বিস্ময় আর আনন্দ। তিনি ভাবেননি যে তার ভাগ্যে এমন এক মেয়ে জামাই জুটবে, যে সমাজের রক্তচক্ষুকে পরোয়া না করে তাকে এই রাজপ্রাসাদে ঠাঁই দেবে!

ভোরে ভিলায় পৌঁছানোর পর জেনিন নিজেই তদারকি করে মাকে সবচাইতে আরামদায়ক গেস্ট রুমে সেট করে দিয়েছে। তিনি সেখানে খুব তাড়াতাড়িই মানিয়ে নিয়েছেন নিজেকে।

কয়েক ঘণ্টা পর, ব্রেকফাস্ট সেরে হালিমা সোফায় বসেছিলেন, কিন্তু তার দৃষ্টি ছিল অন্য কোথাও। তিনি নোবারার দিকে তাকিয়ে খুব মমতা ভরা গলায় বললেন, “মা, আমাদের সমাজের তো একটা নিয়ম আছে নাকি। তোদের বিয়েটা তো হয়েছিল অনেক ঝামেলার মধ্যে, তুই তো বলেছিলি। কিন্তু মা, আমি চাই, জেনিন বাবা আর তুই আবার নতুন করে, আমাদের সমাজের রীতি মেনে সবার সামনে কবুল বলিস।”

ড্রয়িংরুমের কোণায় ফাইল চেক করছিল জেনিন। মা হালিমার কথা শুনে তার হাতের কলমটা এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। একটা বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো তার ঠোঁটের কোণে। যতই হোক, পুরুষ মানুষ আর বিয়ের কথা শুনে হাসবে না, তা অসম্ভব!

কিন্তু নোবারা অবাক হয়ে তার মায়ের দিকে তাকাল। “মা? এসব কী বলছ? আমাদের বিয়ে তো অনেক আগেই হয়েছে!”

হালিমা হাসলেন।
“বিয়ে তো হয়েছে, কিন্তু আত্মীয়স্বজন সাক্ষী রেখে যে আনন্দের সাথে বিয়ে হয়, সেটা কি তোরা পেয়েছিস? আমি চাই এবার সবটা হোক আমার চোখের সামনে।”

ঠিক সেই সময় লিভিং রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল ইউজি আর নীলিমা। নীলিমা আজ নীল রঙের একটা সালোয়ার কামিজ পরেছে, হাতে এক গুচ্ছ ফাইল যা জেনিনকে চেক করতে দেওয়ার জন্য এনেছিল। ইউজি আর নীলিমার দিকে তাকিয়ে হালিমা হাতছানি দিয়ে ডাকলেন।
“জেনিন বাবা, আমার মনে হয়, ওদেরকেও আর দেরি না করিয়ে একসাথে করে ফেলা উচিত। এসেছি থেকে দেখছি দু’জন চিপায় গিয়ে কি সব করে!”

ইউজি কিছুটা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল। নীলিমার মুখে তখন লজ্জার রাঙা আভা। জেনিন ল্যাপটপ বন্ধ করে সোফার দিকে এগিয়ে এল। সে হালিমা বেগমের পাশে বসে খুব সম্মানের সাথে বলল, “মা, আপনি ঠিকই বলেছেন। ওদের বিয়েটা তো আমি আমার নিজের বিয়ের চেয়েও বড় করে দিবো। আপনি শুধু বলুন কখন!”

ইউজি নীলিমার বিয়ের কথা নোবারা খুশিতে আপ্লুত হয়ে উঠল। যাক বেজিকা অন্তত এবার বউ পেলে তার জামাই নিয়ে টানাটানি করবে না! নোবারা জেনিনের হাতটা নিজের হাতে চেপে ধরল। জেনিন নোবারার দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল, “নূরা, আপনি যদি রাজি থাকেন, তবে আমরা নূরশাদ ভিলাতেই দুটো বিয়ে একসাথে ধুমধাম করে আয়োজন করব। কি বলেন?”

নোবারা জেনিনের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “কিন্তু আমরা তো আগেই বিয়ে করেছি, আবার নতুন করে কেন?”

জেনিন নোবারার চোখের দিকে তাকিয়ে খুব গূঢ় সুরে বলল, “কারণ আমি আপনাকে নতুন করে পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না। প্রথমবার যখন আমাদের বিয়ে হয়েছিল, আমি হয়তো তখন জেনিন নূরশাদ হিসেবে আপনাকে শুধু অধিকার করেছিলাম। কিন্তু এবার, আমি একজন প্রেমিক হিসেবে আপনাকে সবার সামনে গ্রহণ করতে চাই।”

নীলিমা আর ইউজির চোখে তখন স্বপ্নের জাল। ইউজি কখনো ভাবেনি জেনিন নূরশাদের মতো একজন মানুষের কাছে সে এই সৌভাগ্য পাবে। নীলিমা আবেগাপ্লুত হয়ে নোবারার কোল ঘেঁষে বসল।

কিন্তু হালিমা বেগমের অগোচরে, ভিলার বাইরে একটি কালো রঙের গাড়ি নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়ির ভেতর থেকে জনৈক ব্যক্তি দূরবীন দিয়ে নূরশাদ ভিলার এই আনন্দমুখর দৃশ্যগুলো দেখছিল। আরমান। যে আরমান জেনিনের দ্বারা অপদস্থ হয়ে শহর ছেড়েছিল, সে আজ নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। তার সাথে কথা হচ্ছিল আর এক রহস্যময়ীর, যার চেহারায় কেবল ধূর্ততা খেলা করছে।

<><><><><><><><><>

পরদিন সকাল থেকেই নূরশাদ ভিলা যেন এক টুকরো উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। কেনাকাটার জন্য পুরো শহরের সবচেয়ে নামি শোরুমগুলো আজ জেনিন নূরশাদের নির্দেশে সাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। জেনিন আজ কোনো কর্পোরেট মিটিংয়ে নেই, তার সবটুকু মনোযোগ এখন নোবারার দিকে।

ঠিক দশটায় নানামি আর তনুজা এসে পৌঁছাল। তনুজা আজ হালকা গোলাপি রঙের একটি শাড়ি পরেছে, তার চুলে গোঁজা একগুচ্ছ বেলি ফুল। নানামি তাকে দেখে এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তনুজার চেহারায় আজ এক অদ্ভুত প্রশান্তি, যা নানামির মনে নতুন করে ভালো লাগার জন্ম দিচ্ছে। তাদের সম্পর্কটা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে চলেছে যে!

জেনিন নিচে নেমে এল। পরনে তার হালকা ছাই রঙের ফরমাল শার্ট আর ট্রাউজার। সে নানামিকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আজ তুই আমার পার্সোনাল শপার। চল শপিং করি।”

নানামি হেসে বলল, “আমি শপিংয়ে বড্ড কাঁচা নুরশাদ! তার চেয়ে বরং ইউজিকে দায়িত্ব দে।

ইউজি পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল, নীলিমার দিকে তাকিয়েই আছে ছেলেটা। তার কি আর অন্যদিকে খেয়াল যায়! নোবারা সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলল, “না, আজ নানামি ভাইয়াই তনুর জন্য শাড়ি পছন্দ করবে। আর আমি জেনিনের জন্য আমার পছন্দে পাঞ্জাবি কিনব।”

সবাই মিলে বেরিয়ে পড়ল। জেনিন নূরশাদের PSP(Personal Security Protocol) আজ আগের চেয়েও কঠোর। কনভয় যখন মূল শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, জেনিন লক্ষ্য করল রাস্তার মোড়ে মোড়ে কিছু ছায়া তাকে অনুসরণ করছে। সে ইউজিকে ইশারা করল। ইউজি হেডসেটে ফিসফিস করে কিছু একটা বলল। জেনিন খুব কৌশলে নোবারার হাতটা ধরল, যাতে সে বুঝতে না পারে যে কোনো বিপদ তাকে ঘিরে আছে।

শপিং মলে যাওয়ার পর শোরুমের ম্যানেজাররা রেড কার্পেট বিছিয়ে তাদের স্বাগত জানাল। নোবারা প্রথমে নানামিকে নিয়ে একটি সিল্কের শাড়ির কালেকশনে গেল।

“ভাইয়া, এই নীল শাড়িটা তনুর ওপর কেমন হবে?” নোবারা একটা গাঢ় নীল রঙের জামদানি শাড়ি বের করল।

নানামি শাড়িটার দিকে তাকিয়ে তনুজার দিকে তাকাল। তনুজা তখন শাড়িটার স্পর্শ নিয়ে মুগ্ধ হয়ে আছে। নানামি খুব ধীরে এগিয়ে এসে তনুজার কাঁধে শাড়িটা ধরে দেখল। “শাড়িটা তোমাকে সুন্দর মানাবে, তনুজা।

তনুজা অবাক হয়ে নানামির দিকে তাকাল। নানামির চোখে প্রথমবারের মতো সে পেল একরাশ যত্ন। তনুজা মাথা নেড়ে সায় দিল। জেনিন একপাশে দাঁড়িয়ে নোবারার সাথে শেরোয়ানি দেখছিল।

এদিকে শোরুমের এক কোণে দাঁড়িয়ে আরমানের রহস্যময় সঙ্গী তনুজা আর নোবারার ওপর নজর রাখছিল। সে একটি মোবাইল বের করে আরমানকে টেক্সট করল: “টার্গেট এখন শপিং মলে। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ খুব কড়া।”

আরমান ওপাশ থেকে রিপ্লাই দিল: “ওদের খুশিতে মেতে থাকতে দে। বিয়ের আয়োজনের মাঝেই আমি এমন কিছু করব যে নূরশাদ ভিলা সারাজীবন কাঁদবে।”

শপিংয়ের আনন্দ তখন তুঙ্গে। নীলিমা আর ইউজি নিজেদের পছন্দমতো গয়না দেখছে, মা হালিমা তার মেয়ের বিয়েতে কী কী লাগবে তার তালিকা করছেন। জেনিন নোবারার জন্য এমন এক সেট হীরা কেনা শুরু করল যে ম্যানেজাররা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

“জেনিন, এতো কিছু লাগবে না!” নোবারা প্রতিবাদ করল।

জেনিন নোবারার চোখের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল, “প্রথমবার আপনার অধিকারটুকু বুঝিয়ে নিতে পারিনি। এবার সবটুকু আদায় করে নিতে চাই, প্রতিটি মুহূর্তে।”

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু হঠাৎই শোরুমের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটল। পুরো মল মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকারে ডুবে গেল। জেনিন দ্রুত নোবারাকে জাপটে ধরে নিচের দিকে বসিয়ে দিল। নানামি ততক্ষণে তার পিস্তল বের করে নিয়েছে। সে তনুজাকে নিজের শরীরের আড়ালে রেখেছে।

“ইউজি! পরিস্থিতি কী?” জেনিন চিৎকার করে উঠল।

অন্ধকারের মাঝে একটা বিকট শব্দ হলো…শপিং মলের কাঁচের দেওয়াল চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। বাইরের দিক থেকে কেউ গুলি ছুড়ছে। কাঁচ ভাঙার বিকট শব্দ আর গুলির আওয়াজে মানুষ ছোটাছুটি করছে। জেনিন নূরশাদ মাটিতে শুয়েই নোবারার পিঠে হাত রেখে তাকে নিজের কব্জায় রাখল। তার চোখের মনি এখন রক্তবর্ণ, যে কোনো বাঘের মতো সে শিকারির দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত।

“ইউজি! ফায়ার ব্যাক করো! লোকেশন ট্রেস করো!” জেনিন গর্জে উঠল।

ইউজি অন্ধকার ভেদ করেই তার পজিশন নিল। পাশেই নানামি তার পিস্তলটা বের করে তনুজাকে আড়াল করে রেখেছে।

জেনিন এক মুহূর্ত দেরি করল না। সে তার পকেট থেকে ওয়াকিটকি বের করে বলল, “সমস্ত এজেন্টদের বলছি, শপিং মলের চারপাশে ঘেরাও করো। কিলারের লোকেশন আইডেন্টিফাই করো। রাইট নাউ।”

তারপর জেনিন ইশারা করল নানামিকে। দুজন বন্ধু, যারা একসময় একে অপরের শত্রু ছিল, আজ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করল। জেনিন দ্রুত দৌড়ে শোরুমের পিলারের আড়ালে গিয়ে দাঁড়াল। তার হাতে 9mm পিস্তল। সে জানত এসব আরমান এর কাজ। ইউজি ইতোমধ্যেই তাকে ওয়াকিটকিতে জানিয়েছে।

ইউজির দেওয়া লোকেশন অনুযায়ী, জেনিন একটি পরিত্যক্ত ফায়ার এক্সিট দিয়ে মলের ছাদে উঠে গেল। ছাদ তখন বৃষ্টির মতো গুলি চলছে। জেনিন তার অসাধারণ দক্ষতায় আরমানের দুই সঙ্গীকে নিস্তব্ধ করে দিল। আরমান তখন স্নাইপার হাতে আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। জেনিন তার একদম পেছনে গিয়ে পিস্তলের নল আরমানের মাথায় ঠেকিয়ে ধরল।

“তুই শালা না মরার আগে শুধরাবি না!” জেনিন শীতল কণ্ঠে বলল।

আরমান থরথর করে কাঁপছে। “জেনিন! আমাকে মেরো না! আমি… আমি তো শুধু…”

“তুই আমার নূরার চোখের পানি ফেলার কারণ। আর সবচাইতে বড় অপরাধ..তুই আমাদের আনন্দের মাঝে বিষ ঢালার চেষ্টা করেছিস, এবার তোকে ক্ষমা করবো না, নো ওয়ে!” জেনিন আরমানের হাতের স্নাইপারটা কেড়ে নিয়ে দূরে ছুঁড়ে মারল।

আরমান চিৎকার করে উঠল, “আমি নোবারার ভাই! খোদা তোমাকে ক্ষমা করবে না!”

জেনিন উপহাসের হাসি হাসল। “অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া খোদার কাজ। আর অপরাধীকে খোদা পর্যন্ত পাঠানোর কাজ আমি নিজ হাতে নিয়েছি।”

জেনিন পিস্তলের ট্রিগার টিপল না, বরং সে আরমানকে ছাদ থেকে ঝুলে থাকা পাইপগুলোর কাছে টেনে নিয়ে গেল। সে ইউজিকে ইশারা করল। ইউজি নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। জেনিন আরমানকে ছাদের কিনারে ঝুলিয়ে রেখে বলল, “শোন আরমান, আমি তোকে মারলে তোর পাপ শেষ হবে না। তোকে আমি এমন জায়গায় পাঠাচ্ছি, যেখানে তুই কোনোদিন আমার বা নোবারার নাম নিতে পারবি না। তোর সব সম্পত্তি আমি সিজ করেছি। আজ রাত তিনটের গাড়িতে তোকে সুদূর সীমান্তের ওপারে এমন এক লেবার ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তুই বাকি জীবন হাড় ভাঙা খাটুনি খাটবি। এটাই তোর শাস্তি।”

আরমান আর্তনাদ করে উঠল, কিন্তু জেনিন তাকে এক ধাক্কায় নিচের গার্ডদের হাতে তুলে দিল। আরমানের জন্য এটাই ছিল সবচাইতে বড় সাজা..মৃত্যুর চেয়েও ভয়ংকর এক জীবন, যেখানে তার কোনো আভিজাত্য বা ক্ষমতা অবশিষ্ট থাকবে না।

মলের বাইরে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর জেনিন নিচে নেমে এল। নোবারা তখনো কাঁপছে। জেনিন তাকে দেখামাত্রই তার বুকে টেনে নিল। নোবারা কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আপনি কি ভা..ভাইয়াকে মেরে ফেলেছেন?”

জেনিন নোবারার কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে বলল, “আমি ওকে মারিনি নূরা তবে ওর অস্তিত্ব আজ থেকে আমাদের জীবন থেকে চিরতরে মুছে গেছে। আর কোনোদিন ও আমাদের সামনে আসবে না।”

বাড়িতে ফেরার সময় জেনিন নোবারাকে জড়িয়ে ধরে বসেছিল। শপিং মলের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর নোবারার কাছে জেনিনের উপস্থিতিই ছিল সবচাইতে বড় স্বস্তি। জেনিন আজ প্রমাণ করেছে, সে কেবল সিইও বা মাফিয়া নয়, সে তার পরিবারের ঢাল। যতদিন জেনিন নুরশাদ তার জীবনে আছে, কেউ নোবারার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তবে এই কথাটা লোক জানাজানি করেই জেনিন সবচেয়ে বড় ভুল টা করেছে। এবার নোবারাকে সরাতে চাইলে শত্রুপক্ষ আগে জেনিনকেই আক্রমণ করবে!

চলবে ইংশাআল্লাহ……..

(বলছিলাম এখন থেকে শুরু হবে গল্পের চূড়ান্ত সংঘাত এর পর্ব গুলো। আগামী পর্বেই মাহিতোর আগমন এ সবটা উলোট পালোট হয়ে যাবে। তাই শ্বাসরুদ্ধকর পর্বগুলো দ্রুত পড়তে চাইলে দ্রুত মন্তব্য করুন। নয়তো আমি অন্য গল্প এ ফোকাস করছি। টা টা)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here