#কথা_দিলো_রোদ্দুর (২৬)
#তুসিকা
সন্ধ্যার দিকে সকলে মিলে আবারো ও উপস্থিত হয় অর্থিদের বাসায়। সকলে উপস্থিত হলে শান্ত বাসা টা যেন অল্পতে ই জাকজমক হয়ে ওঠে। তবে ইমরান আর মুসাব সেই কখন থেকে সাম্য কে দেখে মুচকি মুচকি হাসছে, কারণ অর্থিদের বাসায় আসার পর সাম্য অর্থির দেখা পায়নি, তাই বারবার অর্থ কে জিজ্ঞেস করছিল, আর কিভাবে একটু অর্থির দেখা পায় সেই চেষ্টাই করছিল।
বাসায় মেহমান আছে ফারিশের চাচি সহ চাচাতো ছোট ভাই বোন তিনজন, ফাহা, ফারিন, তাদের আম্মুরা, অর্থির মেজো খালামনি নাহিদা বেগম, অর্থির ফুফু, আর নাশিদা বেগম রা।
সাজেদা বেগম যে অর্থির সাথে ফারিশের বিয়ে ঠিক করেছে সেটা নাশিদা বেগমের কানে ও এসেছে, কিন্তু এখন ফারিশের বিয়ে আরশিয়ার সাথে হয়ে যাওয়ায় তিনি যেন খুশিই হয়েছেন। তাই তো সকলে যখন রান্নার কাজে রান্নাঘরে বসে গল্পগুজব করছেন তখন তিনি রেবেকা বেগম কাছে গিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন;
—” বুঝলে রেবেকা আজকাল নিজেদের লোকদের ও বিশ্বাস নেই। মানুষ কতো প্রতিশ্রুতি দেয়, অথচ তা ঠিক করে রাখতে ও পারে। তাই সবসময় আবেগে গা ভাসাতে নেই।
দেখ আমাদের না বললে কি হবে কথা কিন্তু আমাদের কানে ও আসে,, সাজেদা আপা নাকি ফারিশের সাথে অর্থির বিয়ে ঠিক করেছিল,, কিন্ত দেখ তিনি যেভাবেই হোক তার কথা রাখতে পারেনি,, তাই বলি সকলকে অন্ধ বিশ্বাস করতে নেই।
নাশিদা বেগমের কথা রেবেকা বেগম এতটা গুরুত্বে না নিলেও তার মনের ভেতর কেমন একটা খচখচ করলো,, কিন্ত ফারিশ যে বিয়ে করেছে এতে তো সাজেদা আপা র কোনো হাত নেই, তাই রেবেকা বেগম নাশিদা বেগম কে বললেন;
—” থাক ভাবী,, এসব কথা বলে তো এখন আর লাভ নেই। অর্থির আব্বু তো বলেছেন ছেলে মেয়ে দুটোর বিয়ে যদি অমতে হতো তাহলে কেউ ই সুখে থাকতে পারতো না,, তাই ওসব বলে এখন আর লাভ নেই,, বরং এসব কথা শুনলে আপা অনেক কষ্ট পাবে। তাই এসব কথা আর বলো না।
নাশিদা বেগম হয়ত চেয়েছিলেন রেবেকা বেগম কে সাজেদা বেগমের জন্য উস্কে দিতে, কিন্ত তা আর হলো না, উল্টো রেবেকা বেগম তাকে বুঝ দিয়ে চলে গেল। এতে নাশিদা বেগমের উদ্দেশ্য বিফলে গেলে তিনি রুমে এসে দাঁত কিড়মিড় করতে থাকেন। একে তো তিনি বেহুদা হিংসায় জ্বলছিলেন তার উপর সামনে থেকে চেঁচামেচির শব্দ শুনে তার মাথা ব্যাথা শুরু হলো যেন। তাই ঘরোয়া যে অনুষ্ঠান করা হলো তাতে তিনি গেলেন না।
তবে ছোট হলে ও ঘরোয়া হলুদের অনুষ্ঠান কিন্তু ভালোই শুরু হলো,, সাম্য তো ভেবেছিল আজ বোধ হয় অর্থির দেখা মিলবে না কিন্ত আরশিয়ার কে নিয়ে সে যখন সামনে গেল তখন যেন সাম্যের কলিজায় একটু হলে ও পানি আসলো। অর্থি তার দিকে না তাকাক কিন্ত সে যে দেখতে পারছে এটাই অনেক। তাই কেউ যাতে লক্ষ্য না করে তাই সবার ঠিক পেছনে গিয়ে বসে সাম্য। কিন্ত মুসাব আর ইমরান ঠেলে ঠুলে ঠিক সাম্যের পাশেই নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। ইমরান তো তার হাসি চেপে বলছে;
—” সাম্য তোকে কিন্ত এক দাগ ফর্সা মনে হচ্ছে,, এখন বাকিটা আল্লাহ ভরসা,,,
সাম্য ইমরানের মজা করা বুঝতে পেরে বলল;
—’সবসময় আজাইরা বুদ্ধি না দিয়ে একটু ভালো ভাবে ও তো হেল্প করতে পারিস,, তোর কথায় মুখে কফি আর মধু দিয়ে একটু শুয়েছি,, আর তখন পিঁপড়া এসে নিজের বাপ দাদার সম্পত্তির খাজানা মনে করে কামড়ে দিয়েছে আমাকে। দেখ কানের কাছে আর নাকের উপর লাল হয়ে আছে।
সাম্যের কথায় মুসাব কষ্ট করে হাসি চেপে তার গাল ধরে বলল;
—” ইশ রে কামড়ে লাল করে দিয়েছে, পিঁপড়া গুলোর কামড়ে জশ আছে বলতে হবে।
মুসাবের কথা শুনে সাম্য মুখ ভার করে বলল;
—” ফারিশ কে বলা কথা এখন আমাকে শোনাচ্ছি,, তোরা তো বন্ধু নামে বেন’ঞ্চন বি!ড়ি। টানতে শান্তি লাগে, আবার ফুসফুসের ও ক্ষতি করে।
এই কথা শুনে তো মুসাব ইমরান দুজনেই হাসতে শুরু করে।
তবে সাম্য যে ব্যাপার নিয়ে এত হতাশায় ছিল তা তার হয়ে পূরণ করছে ফাহা। যবে থেকে ফাহার সন্দেহ হয়েছে তবে থেকে গুপ্তচরের মতো সাম্যের খবরাখবর অর্থিকে দিচ্ছে। এখন ও সবার সাথে থেকে অর্থির কানে কানে ফিসফিস করে বলছে;
—” অর্থি আপু, সাম্য ভাই কিন্তু এই নিয়ে ষোল বার তোমার দিকে তাকিয়েছে,, মুচকি মুচকি হাসছে ও,,আয়হায় সাম্য ভাই কে সুন্দর ও লাগছে,,
অর্থি নির্লিপ্ত চোখে ফাহার দিকে তাকালো, আর নরম স্বরে বলল;
—” ফাহা এমনটা কিছুই নয়, হয়ত এদিকে তাকাতেই চোখ পড়ছে,, আর এখন এসব কথা বলোনা, পাশেই ফারিন আর নিপা আপু আছে শুনলে কি হবে বুঝতে পারছো।
ফাহা তবুও অর্থির কথায় সায় না দিয়ে সাম্যের প্রোফাইল থেকে একটি ছবি বের করলো, মাহা র বিয়ের পরদিন যে তারা ঘুরতে বের হয়েছিল এটি সেদিনের একটি ছবি। যেখানে সাম্যের হাতে কচুরিপানার বেগুনি ফুল। ছবিটি এমন ভাবে তোলা হয়েছে যেখানে ফুল গুলো স্পষ্ট হলে ও একটি মেয়ের অবয়ব ঝাপসা করে তোলা। আর সাম্য ক্যাপশনে দিয়েছে ;
Scary queen..
আর ছবিতে মেয়েটি অর্থি ই। আর যে চিঠি দিয়েছে, দু বার করে জবা ফুল দিয়েছে,, আর তার উদ্দেশ্য তো গান ও করেছে।
ফাহা র এসব যুক্তিতে অর্থি বেশি কিছু বলল না, ফাহা তার থেকে ছোট, তার কাছে এসব অবশ্যই ভালো লাগছে, কিন্ত অর্থি এমন কিছুই চাইছে না,, তাই ফাহা কে আবারও চুপ থাকতে বলে আরশিয়ার কাছে গিয়ে বসলো। বড়রা এখন আরশিয়া আর ফারিশ কে হলুদ লাগিয়ে দিচ্ছে, মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছে আর ফারিশ কে নিয়ে হাসি মজা ও করছে। বাপ চাচা, খালু রা ও অংশ গ্রহন করছে,, আর ছোটরা ও সবাই ওদের মিষ্টি খাইয়ে দেয়।
আর এসব শেষ হলে এখন মেয়েরা মেহেদী লাগাচ্ছে। যাতে ছেলেরা একটু বোরিং ফিল করছে। তাই মজা করার জন্য ছেলে গুলো ও মেহেদী নিয়ে একে অপরের হাতে ফুল, ঘাস, লতা পাতা এঁকে দিচ্ছে। আবার সাথে সাথে ধুঁয়ে ও নিচ্ছে,, সাম্য তো মুসাবের হাতে একটি ফুল এঁকে দেয়, যা দেখে ইমরান তার হাত বাড়িয়ে দিলে সাম্য ওর হাতে একটি গরু এঁকে হাম্বা লিখে দেয়। যা দেখে সবাই হাসতে থাকে। আর ফারিশের হাতে লিখে দেয় অশান্তি মোবারক।
তবে ফারিশের বড় ভাই লাবীব সে তার স্ত্রী মাহিয়া কে খুব সুন্দর করে মেহেদী দিয়ে দেয়,, সবাই তো লাবীব ভাইয়ের অনেক প্রসংশা করে,,
এভাবে সময় টা ভালোই যায়, আর প্রত্যেক বারের মতো সবাই এবার ও সাম্য কে গান গাইতে বলে,, কি গায় গাইবে ভেবে না পেয়ে মুসাব ফারিশ আর আরশিয়ার জন্য একটি গান সাজেস্ট করে গাইতে বলে; কিন্ত সাম্য তখন অর্থির দিকে মুচকি হেসে নিচে দিকে তাকিয়ে গানের অর্ধেক থেকে গাইল।
“ভালোবাসি বলে দাও আমায়,,
বলে দাও হ্যাঁ সব কবুল।
তুমি শুধু আমারই হবে,
যদি করো মিষ্টি এই ভুল।
হাতে হাত রাখতে পারো,
সন্ধি আঙ্গুলে আঙ্গুল।
ভালোবাসা বাড়তে আরও,,
হৃদয় ভীষণ ব্যাকুল।
অর্থি ফারিন কে যে মেহেদী দিয়ে দিচ্ছিল, সাম্যের গান শুনে এক মুহুর্তের জন্য ও চোখ দুটো উপরে তুলে নি,, তবে ফাহা তাকে কানে ফিসফিস করে বলল;
—” আপু আমার মনে হচ্ছে তোমার জন্যই গাইল,, এখন শুধু তুমি হ্যাঁ কবুল বলার অপেক্ষা। ইশ আমাদের জন্য এসব কেউ করে না।
কিন্ত অর্থি তাও নির্বিকার ভাবে মেহেদী পড়ালো ফারিনের হাতে, এরপর জুন কে ও মেহেদী পরিয়ে দিল। আর অর্থির পাশে লাবীবের ছেলে লুবান পুতুল নিয়ে খেলা করছিল দেখে অর্থি তার হাতে ও কিছু আঁকিবুকি করে দেয়,,, তবে ওই একবারের জন্য অর্থি সাম্যের দিকে তাকালো যখন সাম্য ফারিশ আরশিয়া কে শুভেচ্ছা জানালো নিজেদের নতুন জীবনের জন্য তখন।
এরপর তো আরো কিছু ক্ষণ ছিল সবাই, পরে খাওয়া দাওয়ার পর ছেলেরা সকলে সাম্যদের বাসায় চলে গেল জায়গা কম থাকায় কারনে ঘুমাতে। আর বলে গেল সবাই তাড়াতাড়ি সকালে চলে আসবে।
কিন্তু পরদিন সকাল এগারোটা বাজতে চললে ও কারো আসার নাম ই নেই। আর ফারিশ ও চলে গেছে সাম্যদের সাথে,,, সে ও এখনো আসেনি দেখে হাশেম সাহেব তার উপর রাগারাগি করছে। কিন্ত মাহিয়া ভাবী আর নিপা মিলে আরশিয়াকে সুন্দর করে সাজানো শুরু করে। নিপার সাথে এখন ও অর্থির বনিবনা না হলে ও নিপা যেমন অর্থির সাথে কোনো কথা বলছে না, তেমনি অর্থি ও নিপার সাথে আগের মতো কোনো কথাই বলছে না।
তারা নিজেদের মতোই থাকছে,, তবে সাজেদা বেগম অর্থিকে ডাকছে দেখে অর্থি সেখানে চলে গেলে নিপা মাহিয়া ভাবীর কাছে অর্থির নামে বদনাম করতে থাকে,, যা শুনে ফাহা একটু রাগ করলে ও মাহিয়া ভাবীর ইশারা পেয়ে চুপ করে থাকে।
____________
আর এদিকে সাম্য দের বাসায় সকলের ঘুম ভাঙ্গে এগারোটা র দিকে,, শুক্রবার হওয়ায় একটু আলসেমি কাজ করে সবার। কিন্ত ওই বাসা থেকে হাশেম সাহেব ফোন করে যখন ফারিশের উপর চিল্লাচিল্লি করতে থাকে।
—” মহারাজের ঘুম ভাঙ্গলো নাকি,
ফারিশ তখনও ঘুমের ঘোরে উম উম করছে,, তা শুনে হাশেম সাহেব রেগে বলেন;
—” ওই হা’রামজাদা আজকে না তোর বিয়া,, কয়টা বাজে সে খবর আছে নাকি। পড়ে পড়ে এখনো ঘুমাচ্ছিস, বিয়া কি আমি করবো নাকি তুই করবি।
কাঁচা ঘুম ভাঙায় ফারিশ বলে ওঠে;
—” এই তুমি করে নাও,, এত চিল্লাচিল্লির কি আছে।
এই কথাশুনে হাশেম সাহেব অকথ্য ভাষার প্রয়োগ করেন,,
তখন সবার ঘুম হালকা হয়ে আসে। আর মনে পড়ে আজ তো ফারিশের বিয়ে, তাই সকলে তাড়াতাড়ি করে উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয় ওই বাসায় যাওয়ার জন্য।
সবাই তৈরি হয়ে নিচে যায়, তবে অনাকাঙ্খিত ভাবে সাম্যের সাথে তিথি র দেখা হয়ে যায়,, সাম্য একটু অবাকই হয়,, সে তিথি কে নিজের বাসার ঠিকানা বলেনি, কিন্ত সে এই ঠিকানা কোথায় পেল জানে না। কিন্ত সাম্য যে খুশি হয়নি তা সাম্যের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে,,
কিন্ত তিথি অতীব আগ্রহ নিয়ে সাম্যের কাছে আসে,, তবে ইমরান আর মেহেদী ও অবাক হয় তিথি নামক নমুনা কে এখানে দেখে,,তাই তো ফারিশ কে নাঈমের সাথে বাসায় পাঠিয়ে তারা দাঁড়িয়ে যায়।
তিথি তখন মেহেদী, ইমরান কে ভালো আছে কিনা জিজ্ঞেস করলো আর সাম্যের হাত ধরে বলে;
—” দেখলে তুমি আমাকে না বললে কি হবে ঠিকই তোমার ঠিকানা খুঁজে নিয়েছি,,, এখন চলো আজ সারাদিন আমরা একসাথে সময় কাটাবো।
সাম্য নিজের হাত থেকে তিথির হাত ছাড়িয়ে বলল;
—” আজ হবে না। অন্য আরেকদিন ঠিক আছে,,
তিথি তখন আবারও বলল;
—” কেন অন্যদিন,, আর তুমি সব সময় আমার কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা কেন করছো বলো তো,, আমি যে তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি তুমি খুশি হওনি।
সাম্যের তো বলতে ইচ্ছে হচ্ছে সে একদম খুশি হয়নি,, কিন্ত মুখে ভদ্রতা রেখে বলল;
“‘ আরে তেমন কিছুই না,, আসলে ছোট ভাই একটার বিয়ে আছে,, সেখানেই যাচ্ছি,, তাই আজ সময় হবে না। আর আমাদের এখুনি বেরোতে হবে না হলে আমাদের দেরী হয়ে যাবে। ঠিক আছে,, আসি তাহলে…
কিন্ত তিথি বেহায়ার মতো বলে বসলো সে ও যাবে তাদের সাথে,, সাম্য, মুসাব, মেহেদী, ইমরান এরা এক সাথেই কুমিল্লা ভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছে, সে সূত্রে তারা একে অপর কে বেশ ভালো করেই চেনে। তারা এই ও জানে তিথি নামক মেয়েটা সাম্য বলতেই পাগল।
তাই অনেক বাহানা দেবার পরেও তিথি তাদের সাথে যাবে,, অগত্যা সাম্যদের তিথি কে সাথে নিয়েই অর্থিদের বাসায় নিয়ে যেতে হয়,,
নতুন চেহারা দেখে সবাই যখন জিজ্ঞেস করে মেয়েটির ব্যাপারে তখন মেহেদী ই বলে তিথি র ব্যাপারে। তখন সবাই তিথি র আদর আপ্যায়ন করে,, বিশেষ করে নাশিদা বেগমের তো তিথি কে অনেক পছন্দ হলো,, তিনি বেশ কয়েকবার গিয়ে তিথির সাথে সেধে সেধে কথা বললেন।
কিন্ত ফাহা মেয়েটাকে মোটেও সহ্য করতে পারছিল না,, তিথি যেভাবে মুসাব, সাম্যের সাথে আঠার মতো লেগেছিল তা ফাহা র মোটেও ভালো লাগেনি,, তার উপর তিথির ন্যাকা ন্যাকা নাকে বাজানো কথা শুনে ফাহার আরও বিরক্ত লাগছিল,,, তাই সে অর্থি কে বলে;
—” ইশ এই মেয়ের ডং দেখেই আমার ব.মি আসছে,, আর এমন নাকে বাজিয়ে কথা বলছে দেখে ইচ্ছে করছে নাকে তুলো গুজে দিতে। অসহ্য।
অর্থি ও দেখছে মেয়েটাকে,, তাদের সবার থেকে সাজ পোশাকের দিক থেকে বেশ সুন্দর ভাবে এগিয়ে আছে মেয়েটি,, আর মেহেদী, মুসাব, সাম্য এদের সাথে মেয়েটির বেশ ভাব এটা ও দেখছে,,, শুনেছে তো মেহেদীর থেকে তিথি নাকি বিদেশ থেকে ফিরেছে, তাই ওনার কথা ওমন হয়ে গেছে, এটা বলে অর্থি ফাহা কে শান্তনা দিল।
আর আরশিয়ার ফারিশের নতুন জীবনের শুভ সূচনা দেখতে বলল,, আর সকলের দোয়ায় ফারিশ আর আরশিয়া আবারও তিন কবুলে আবদ্ধ হলো,, আর বিয়ে সব কাজ সম্পূর্ণ হলে তো সাজেদা বেগম আজই ফারিশ দের বাসায় নিয়ে যেতে বলল। আর জাবের সাহেব এতে আপত্তি করার কিছু নেই তাই তিনি গাড়ি সহ যাবতীয় সকল কিছু ঠিক করে দিলেন।
এতে সাজেদা বেগমের আরও কষ্ট হলো,, তাই সবার খাওয়া দাওয়ার পর জাবের সাহেবের সাথে কথা বললেন,, সাজেদা বেগম নত জানু হয়ে জাবের সাহেব কে বললেন;
—” আজ সব ঠিক থাকলে হয়ত আমার ছেলে মেয়ে দুটোর বিয়ে হতো,, কিন্ত দেখ আমি আমার কথা দিয়ে ও কথা রাখতে পারিনি,, এই কষ্ট আমি জীবনে ও ভুলতে পারবো না,, পারলে আমাকে তুমি মাফ করে দিও ভাই।
জাবের সাহেব খুবই নরম স্বরে বললেন;
—” এমা আপা আপনি এটা কি বলছেন,, দেখেন আগে ও বলেছি এটা হয়ত হবার ই ছিল,, আপনি শুধু দোয়া করবেন ছেলে মেয়ে দুটো যেন সুখী হয়,, আর আমার অর্থির জীবন ও যেন সুন্দর ভাবে কাটে।
সাজেদা বেগম চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন;
—” ঠিক,, মা হয়ে ওদের জন্য দোয়া করবো,, আর আমার আম্মাটার জন্যও। কিন্তু তোমার কাছে একটা আবদার করবো ভাই,, ফাহা তো যাচ্ছে আমাদের সাথে, অর্থি কে ও যদি দাও আমাদের সাথে, দুটো দিন থেকে আসবে। অর্থি তোমার অনুমতি ছাড়া কোথাও যায় না।
জাবের সাহেব এবার অনুনয়ের সুরে বললেন;
—” এমন করে বলছেন কেন আপা,, যাবে আপনাদের সাথে এতে অনুমতির কি আছে।
জাবের সাহেবের কথা শুনে সাজেদা বেগম খুশি হলেন,, আর কথাটা অর্থি কে জানান আর বলেন তৈরি হয়ে নিতে সে ও তাদের সাথে যাবে। কিন্ত এই কথা শুনে সাম্য মোটেও খুশি হলো না,, তার তো উল্টো চিন্তা হলো সাজেদা বেগমের যে রাগ। তিনি যদি কিছু করে বসেন তাই সে চিন্তায় তার যেন অস্থির লাগা শুরু হলো।
কিন্ত আসলে তেমন কিছুই হলো না,, উল্টো অর্থির খালামনিদের বাসায় সময়টা বেশ ভালো কাটলো। তাদের সারাদিন লুবানের সাথে খেলায় খেলায় কাটলো,, আর আরশিয়া মাহিয়া ভাবী এদের সাথে হাসি মজায় দিন কেটে গেল।
বাসায় ফাহা কে নিয়ে ফিরলো পাঁচটি দিন পর,,, আর অর্থির জীবন সেই আগের মতোই চলতে থাকে,,
কিন্ত সাম্যের জীবন যেন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে,, একে অর্থির সাথে তার কিছুই হচ্ছে না,, সেই সামনাসামনি গিয়ে অর্থির সাথে কথা ও বলতে পারছে না,, কিন্ত তিথি নামক মেয়েটা তার পিছু যেন ছাড়তে ই চাইছে না,, যত বাহানা দিচ্ছে তত যেন জোঁকের মতো লেগে ই আছে। আজ তো একদম সাম্যের অফিসে ই চলে আসে। তা দেখে সাম্য অফিসে স্টাফ রুমে লুকিয়ে ছিল কিছুক্ষণ। কিন্ত লাভের লাভ কিছুই হয়নি,,, লাঞ্চ টাইমে আবার ও আসে,,, তখন অগত্যা নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে ওর সাথে দেখা করতে যেতে হয়।
ক্যাফেতে যায় তারা, আর কথা তিথি ই শুরু করে,,
—” দেখো তুমি কেন এমন করছো আমি সত্যিই জানি না,, কিন্ত আমি কেন তোমার জন্য এসব করছি তুমি কি কিছুই বুঝতে পারছো না।
—” দেখ,, আমরা জাস্ট বন্ধু,,, আর তুমি যে কথা বলছো তা কোনোদিন ও হবে না,, আমি একজন কে অনেক ভালবাসি।
কিন্ত তিথি অনেক বলার পরেও সাম্য অর্থির নাম প্রকাশ করলো না,, শেষে সাম্য মেজাজ হারিয়ে তিথি কে ধমক দিয়ে দিল,, আর বলল বন্ধু হয়ে থাকলে ভালো কিন্ত এসব উল্টো পাল্টা বিষয় নিয়ে কোনোদিন যেন তার সামনে না আসে।
চলবে।
(স্পয়লার)
সাম্যের বুঝি এই জীবনে আর প্রেম করা হবে না,, যখনই মনে হয় জীবন সুন্দর ভাবে এগোচ্ছে তখনই কিছু একটা ঝামেলা এসে দাড়িয়ে যায়,,, এখন এই ঝামেলার নাম হলো রাতুল নামক ব্যাক্তিটি। মেহেদীর থেকে শুনেছে মহাশয় নাকি অর্থিদের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। এই কথা শুনে মনে হলো এখুনি সাম্য ফুসফুস এর্টা’ক করুক, আর কোমায় চলে যাক। )
আপনারা দেখি গল্প পড়ে রিয়েক্ট করতে ভুলে যান,, এভাবে চললে গল্প দিতে মন চায় বলুন,, পড়ার মানুষ আছে অথচ রিয়েক্ট করার মানুষ নেই। জোর করে তো কাউকে দিয়ে কিছু করানো যায় না, আপনাদের দিয়ে ও পারবো না,, কিন্ত এতে আমার গল্প লেখার যে আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে।
আর একটা বিশেষ কথা #কথা_দিলো_রোদ্দুর এই নামে ভেবেছি একটা সেড এন্ডিং এর গল্প বানাবো কিন্তু কেমনে যেন ভালোর দিকে এগোচ্ছে। এটা নিয়েও আমি হতাশায় ভুগছি। তবে হতাশা কমাতে কোনোদিন যারা কমেন্ট করেন নি কমেন্ট করে যাবেন আমি সবার উওর দেব।

