#কথা_দিলো_রোদ্দুর (২৮)
#তুসিকা
কথায় আছে মিয়া বিবি রাজী তো ক্যায়া কারেগা কাজী।
কিন্ত এখানে জাবের সাহেব সহ অর্থি মামা রা, ফুফুরা সকলে সাম্যের সাথে অর্থির বিয়ের কথা বার্তা সম্পর্কে জানলেও অজানা শুধু আছে অর্থি নিজেই। তার পরিবার যে সাম্যের সাথে তার বিয়ের কথাবার্তা বলছে এটা সে এখন পর্যন্ত জানে না,, তবে ইদানিং অর্থি খেয়াল করছে বাসার সবার ভাব সাব একটু অন্যরকম। বিশেষ করে অর্থের ব্যাপার টা অর্থির কাছে কেমন সন্দেহ জনক ঠেকছে। অর্থ এখন তাকে দেখলেই কেমন যেন হাসে,, যেনতেন হাসি নয়, একদম গা জ্বালানো হাসি। যা দেখে অর্থির আবার ভীষণ রাগ হয়। এই তো সন্ধ্যার কথা,,
প্রতিদিনের মতো জাবের সাহেব বাসায় ফিরলে ফ্রেশ হয়ে আসলে প্রথমেই অর্থির হাতে বানানো এককাপ চা খাবেন,, তারপর টিভি তে খবর দেখবেন,,, যার ব্যতিক্রম আজ ও হলো না,, অর্থি ও বাবার জন্য চা বানিয়ে দিয়ে নিজের রুমে এসে হুমায়ুন আহমেদ এর হিমু সামগ্রী বই টি পড়ছিল,, যা তাকে তার ফুফাতো বোন যুথি ই উপহার দিয়েছিল। অর্থির আবার চেঁচামেচির মধ্যে বই পড়তে ভালো লাগে না, তাই দরজা বন্ধ করেই বইটি পড়ছিল,, কিন্ত খানিক বাদে অর্থ এসে দরজা ধাক্কায়,, অর্থি খানিক বিরক্ত হয়, কিন্ত জানে এখন দরজা না খুললে বিচ্ছুটি রুমের সামনে থেকে যাবে না,,, তাই বিরক্ত সহিত সামনে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। আর দেখে সেই গা জ্বালানো ক্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে অর্থির দিকে তাকিয়ে আছে।
অর্থি কথা না বাড়িয়ে আবারো বিছানায় উপর বসে, আর অর্থ র দিকে না তাকিয়ে বলে;
—” কি বলবি বলে তাড়াতাড়ি এখন থেকে যা!
অর্থি এই কথা বলার পর ও অর্থ র থেকে জবাব না পেয়ে অর্থি তার দিকে তাকায়, দেখে অর্থ তার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে,,, আর অর্থির বিরক্ত দেখে অর্থ বলল;
—”আব্বু তোকে ডাকছে তা বলতেই এলাম।
—” কেন ডাকছে!
—” জানি না! বললো তোকে সামনের রুমে যেতে,, কি যে বলবে তোকে।
অর্থি অর্থ কে কিছু জিজ্ঞেস না করেই জাবের সাহেবের কাছে যায়, সেখানে রেবেকা বেগম ও আছে। জাবের সাহেব তো অর্থি কে নিজের পাশে বসায়,, মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, জাবের সাহেব যেন মেয়ের সামনে এতক্ষণ ধরে মনের ভেতর সাজানো কথা গুলো ভুলে যেতে থাকলেন,,, শব্দ বের হবার আগেই যেন বুকের ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসতে চাইলো। তবুও রেবেকা বেগমের আশ্বাসে জাবের সাহেব বললেন;
—” আচ্ছা আম্মু মা বাবা তো সন্তানের ভালো চায় সব সময় তাই না,,, তাহলে তোমার মা আর আমি যদি তোমার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেই তুমি কি তা মেনে নেবে।
অর্থি তৎক্ষণাৎ বুঝলো না বাবা তার কি বলতে চাইছে, তাই বলল;
—” কেন আব্বু, কিছু কি হয়েছে!
—”না কিছু হয়নি,, কিন্ত আমি আর তোমার আম্মু কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি,, তবে যদি তোমার সায় না থাকে তাহলে আমরা তোমাকে জোর করবো না,, কিন্ত দেখ, মেয়ে হয় যখন জন্মেছো তখন তো মা পরের ঘরে আজ হোক বা কাল যেতেই হবে। তাই আমরা তোমার জন্য সমন্ধ ঠিক করেছি।
একটু থেমে জাবের সাহেব আবার বললেন;
আমি আর তোমার আম্মু চাইছি না তোমার অমতে কিছু হোক, তাই তোমার মতামত জেনে আমরা ছেলের বাড়ির লোককে বলব।
অর্থি মাথা টা নিচু করে রাখলো,, এখন বুঝতে পারছে অর্থ ওকে দেখলে এমন হাসি কেন দিচ্ছে,, আর কিছুদিন ধরে যুথি, ফাহা, এবং কি তিশা আপু ফোন দিয়ে তার খোঁজখবর রাখছে কেন নিচ্ছিল। কিন্ত সে এসব নিয়ে কখনো ভাবে নি,, আর না তার বাবা মা কে ছেড়ে থাকার কথা ভেবেছে। তাই অর্থির নাকের পাঠা ফুলে উঠল,, অর্থি কি বলবে তার তো মুখ থেকে কথা ই বের হচ্ছে না।
তবে রেবেকা বেগম বললেন;
—” কি হয়েছে,, এমন কান্নার কি আছে,, আমরা কি তোর বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি এখুনি,, তোর মত জানতে চাইছি,, যদি তোর অন্য কোনো পছন্দ থাকে বল,,,
অর্থি তখনও নির্বিকার বসে রইল, কিছুই বলল না,, তখন জাবের সাহেব আবার ও আদুরে গলায় বললেন;
—” এভাবে কেউ কান্না করে বলো,, এমন ফুঁপিয়ে কান্না করলে হিছকি উঠবে,, দেখ আম্মু, ছেলে ভালো আছে, তুমি দেখ,, ভেবে সময় নাও,, কিন্ত একদিন না একদিন তোমাকে তো বিয়ে দিতেই হবে,, ছেলে ভালো, তোমার মামাদের ও পছন্দ হয়েছে,, আর ছেলে চেনা জানার ভেতর ও আছে, আর আমার ও পছন্দ হয়েছে তাই আমরা ভেবেছি….
অর্থি তখনও কিছু বলল না, তখন অর্থ পাশ থেকে বলল;
—’ রাজি হয়ে যা অর্থি,, ছেলে কিন্ত আমার হেব্বি পছন্দ হয়েছে।
অর্থের কথা শুনে রেবেকা বেগম চোখ পাকিয়ে তাকায়,, তাকে চুপ থাকতে বলে,, আর তারা আবারও অর্থির সাথে কথা বলে আর শেষে সাম্যের ছবি খানা অর্থি কে দেখায়।
এতে যেন অর্থি আরো অবাক হয়,, শেষে কিনা এই লোকের জন্য তার বিয়ের কথা চলছে। অর্থির এমনিতেই বিয়ের কথা শুনে কষ্ট লাগছে তার উপর সাম্যের সাথে বিয়ের কথা শুনে অর্থি যেন হতবিলম্ব হলো,, তাহলে এসব ছিল এই লোকের পেটে পেটে।
কিন্ত মা বাবার সামনে বেশি কিছু বললো না, মা বাবার কথা শুনে রুমে চলে আসলো,, অর্থির জন্য এসব সত্যিই অন্যরকম। কিশোরী বয়স থেকে স্বাস্থ্য বেশি হবার কারনে নানা কথাই শুনতো, তার উপর প্রেম ভালোবাসা নামক কিছুই জীবনে আসে নি, আর বিয়ে নিয়ে কল্পনা ও করেনি কোনোদিন তাই কি বলবে কিছুই বুঝলো না। তবে পরামর্শ নিতে ফুফাতো বোন যুথির কাছে ফোন করলো,, যুথির সাথে তার প্রেমিক আনিস ভাইয়ের দীর্ঘ সাত বছর ধরে প্রেম। বিয়ে ও করবে সামনে। আর সাম্য যে ফুল, চিঠি, দিয়েছে সেসব তো যুথিকে জানিয়েছিল তাই অভিজ্ঞ হিসেবে তার কাছ থেকে পরামর্শ চাইলো।
সবটা শুনে যুথি শুধু হাসলো,, আর বলল;
—” আরে চিন্তা করছিস কেন,, মামা যখন সব ঠিক করছে তখন ভালোই হবে,, আর তাকে তো তুই দেখেছিস বল,, আর লোকটার ব্যবহার যদি ভালো না হতো তাহলে তো মামা নিশ্চয়ই বিয়ে পর্যন্ত ব্যাপার টা এগোতো না বল।
অর্থি একটু ফুঁপিয়ে উঠল; আর নাক টেনে বলল;
—” লোকটা যদি ভালো না হয়,, এমনিতেই দেখলেই আমাকে নোয়াখাইল্লা বলে!
অর্থির কথা শুনে যুথি হোঁ হোঁ করে হেসে দিল; আর শান্তনা দিয়ে বলল;
—” থাক ওইটা আর চিন্তা করিস না,, যে ছেলে এখনও চিঠি দিয়ে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে, সে ছেলে ভালোই হবে,,
এরপর আরো কিছু কথা হলো যুথি আর অর্থির মাঝে,, যুথি তাকে নানা ভাবে বোঝালো,, কিন্ত অর্থি তৎক্ষণাৎ কি করবে ভেবে পেল না,, তবে রাতে খাওয়ার সময় চুপচাপ ই ছিল,, তা দেখে রেবেকা বেগম আর জাবের সাহেব কোনো কথাই আর তোলেন নি।
তবে পরদিন সকালে আরেকটু অবাক হবার কান্ড ঘটল। বেগমগঞ্জ থেকে ফারিশ, আসলো অর্থিদের বাসায়,, রেবেকা বেগম ভেবেছিল ফারিশ রা হয়ত বেড়াতে ই এসেছে। তবে ফারিশ যখন অর্থির সাথে কথা বলল তখন বুঝলো সাম্যের তরফদারী করতে ই এতদূর থেকে ফারিশের আগমন ঘটেছে।
ফারিশ যে বিয়ের ব্যাপার টা শুনে খুশি হয়েছে তা তার কথা শুনেই বুঝতে পারছে অর্থি। কারণ ফারিশ আসা থেকে অর্থির সামনে নানা ভাবে সাম্যের গুন গান করছে। আর বলছে;
—” দেখ অর্থি সাম্য ভাইয়ের মতো মানুষ হয় না,, ছেলে হিসেবে ভালো,, ভালো চাকরি করে, অনেক মিশুক ও আছে,, দেখলি না আমার আর আরশিয়ার বিয়েতে কিভাবে সাহায্য করেছে। তাই বলছি ওনার মতো ভালো ছেলে পাবি না।
ফারিশের এমন কথা শুনে অর্থির কিছুটা সন্দেহ হয়,, তবে আরশিয়া আর মাহিয়া ভাবী ও ফারিশের কথায় তাল মেলায়,, তাই ওদের সামনে কিছু বলল না।
কিন্ত পরে ফাহা ফোন করলো,, সে ও ফোন করে প্রথমে সাম্যের নামে গুন গান করলো,, কিন্ত শেষে অবাক করার কান্ড হলো,, ফারিশ ফাহা এরা ঠিক ছিল কিন্ত তানভীর ভাই, মেহেদী ভাই, এরা ফোন করে বিয়েতে হ্যাঁ করতে বলল। এবার অর্থির পুরোপুরি সন্দেহ হলো সাম্য ই এদের দ্বারা এসব করাচ্ছে।
তাই অর্থি সাহস করে সাম্য কে মেসেজ দিল;
—’ এসব কি হচ্ছে,, আপনি কি বলছেন সবাই কে!
দুয়েক মিনিট পর সাম্য উওর দিল;
—” কি সব বলেছি,, আর প্রথমে সালাম দিবে সুন্দর করে বুঝেছো! তোমার মতো মিষ্টির মেয়ের জন্য এমন রুক্ষতা খুবই বেমানান।
অর্থি তা ও যেন একটু রাগ দেখাতে চাইলো সাম্যের সাথে,, তাই বলল;
–’ আপনি এমনটা কেন করছেন,, বিয়ের কথা কিভাবে আসলো আমি জানি না,, তবে আপনি মনে মনে যে কু মতলব আটছেন আমি বেশ বুঝতে পারছি।
সাম্য উওর দিল;
—” কি কু মতলব,, কাউকে ভালোবাসা নিশ্চয়ই খারাপ কিছু নয়,, আর প্রেম, সম্পর্কে জড়ানো এসব ক্ষণিকের জন্য। তুমি বোকা বুঝে ও আমার ভালোবাসা বুঝোনি,, কিন্ত আমি তোমার মতো বোকা নই ভীতুরানী,,, ভালোবাসা যখন বুঝোনি তাহলে বিয়ে করবো, হারামে না জড়িয়ে তোমাকে হালাল ভাবে নিজের ভালোবাসায় জড়াবো আমার ভীতুরানী। তোমার মায়া আমাকে যেভাবে জড়িয়ে তার থেকে মুক্তি পেতে হলেও যে তোমাকে ই আমার লাগবে,
অর্থি এই সামান্য কথার পেছনে যে রুক্ষ ভাব ছিল তা যেন উবে গেল। হঠাৎই কি বলবে ভেবে পেল না,, কিন্ত বুঝলো এই লোকের এসব কথায় সে পারবে না। তাই অনলাইন থেকেই বের হয়ে গেল।
কিন্তু তার যে হালকা একটু ভালোলাগা তৈরি হচ্ছে সাম্যের প্রতি এটা বোঝালো না কাউকে। তাই তো ফাহা থেকে লুকিয়ে ওইদিনের সাম্যের দেওয়া জবা ফুল গুলো আর চিঠি খানা খুব যত্নে লুকিয়ে রেখেছিল। এটাই তার জন্য প্রথম অনুভূতি। তাই কারো চোখে ধরা যেন না পড়ে তাই সাম্যের সামনে সে খুব কম পড়ার চেষ্টা করেছে। কিন্ত শেষ রক্ষা বোধ হলো না।
শেষে জাবের সাহেব সহ এবার তার খালারা বোঝালো,, সাজেদা বেগম ও আসলেন তাদের বাসায়,, অর্থির উপর কেউ তেমন জোর দিল না,, কিন্ত বোঝালো কাছে পিঠে পরিচিতদের ভেতর আছে,,, বিয়েটা হলেই ভালো হবে। আর অর্থি দেখছে এই বিয়ে নিয়ে তার বাবা জাবের সাহেব ও একটু বেশি উৎসাহিত। তাই পরের বার যখন তার থেকে মত জানতে চাইলো তখন অর্থি শুধু মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক উওর দেয়।
আর মত পেয়ে সবাই খুশিই হয়,, আর ঠিক করে সাম্যরা কোন দিন অর্থিদের বাসায় দেখতে আসবে,,, তবে সবটা যেন আগে থেকেই ঠিক ছিল,, হুট করে বলাতে হুট করেই যেন সব আয়োজন করা হলো। অর্থির খুশি হবার কিছুই হলো না,, কষ্ট হলো সে তার বাবা মাকে ছাড়া থাকবে বলে,, তার প্রিয় ঘর ছেড়ে যাবে বলে।
তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো সাম্য তাকে এই পর্যন্ত কোনোদিন মেসেজ দেয় নি,, তার সাথে কথা ও বলেনি,, আর অর্থির সাথে সাম্যের দেখা হয় একেবারে দেখতে আসার দিন।
সাম্য রা এসেছিল সোমবার দিনকে। তার মা, চাচা, মামা, চাচি, আর মেহেদী আর মুসাব কে নিয়ে এসেছিল। জেন্টেলম্যান সেজে সবার মাঝে এমন ভাবে বসেছে সাম্য, দেখে কেউ বলবে না এই বিয়ে হবার পেছনে সব থেকে বড় কল কাঠিটা সেই মিলিয়েছে। অথচ বাকি সবাই জানে এটা পারিবারিক বিয়ে। তাই তো শাড়ি পরিয়ে অর্থি কে সামনে নিয়ে আসে,, বসানো ও হয় সবার সামনে। সাম্য এমন লজ্জা পাচ্ছিল মনে হচ্ছে তাকে দেখতেই বোধ হয় মেয়েপক্ষ দেখতে এসেছে। সবার সামনে তাকায়নি অর্থির দিকে।
তবে কিছু ফরমালিটি করে শেষে সাম্য আর অর্থি কে একান্তে কথা বলতে ও পাঠায়। তখন সাম্য অর্থির দিকে তাকায়,, আর মুখে দেয় বিশ্ব জয়ের এক হাসি। ফাহা রা এসেছিল অর্থিদের বাসায়, তাই সাম্য আর অর্থি কে যখন কথা বলতে পাঠায় তখন ফাহা আর ফারিন ও সেখানে যায়। তারা এক পাশে দাঁড়িয়ে ওদের কথা শুনছিল,,
ফাহা ভেবেছিল সাম্য অর্থি কে নানা কথা জিজ্ঞেস করবে,, কিন্ত তারা বেশি কিছু বলল না,, তা দেখে ফাহা বিরক্ত হলো,, আর বোরিং হয়ে ছাদ থেকে নিচে নেমে এলো,, আর দেখতে পেল দরজার কাছে মুসাব দাঁড়িয়ে আছে। একাই আছে তা দেখে ফাহা তার কাছে এসে দাঁড়ালো,, তাকে দেখে মুসাব আবার বলল;
—” কি হলো ফাহা, চলে এলে যে, ওরা কি কথা বলছে শোনোনি।
—” আরে না,, আমি ভেবেছি ওরা ইন্টারেস্টিং সব কথা বলবে কিন্ত ওরা কিছুই বলেনি।
“”লজ্জা পাচ্ছে আরকি দুজনেই। এই কথা বলে মুসাব ভেতরে ঢুকতেই নেবে তখন ফাহা পেছন থেকে বলে ওঠে;
—” আচ্ছা মুসাব ভাই, সাম্য ভাই তো বিয়ে করে নিচ্ছে আপনি করবেন না,,
মুসাবের হাসোজ্জ্যল মুখটা মলিন হয়ে গেল,, শুধু বলল;
—” করবো সময় হোক।
____________
এরপর তো সবার সহ সম্মতিতে বিয়ের ডেট ঠিক করা হলো, সাম্যের মা ফাতেমা বেগম তো অর্থি কে রিং পড়িয়ে দিলেন,, আর এভাবেই শুরু হলো দুজন মানুষের সম্পর্কের শুরু।
তবে সমস্যা তো বলে কয়ে আসে না,, হুট করেই আসে,, তবে আজ আসা সমস্যা কে সমস্যা নয় মহামারী বলা চলে। যার নাম হলো তিথি নামক রমনীটি।
নিপা থেকে ই শুনেছে সাম্যের সাথে অর্থির বিয়ে ঠিক হয়েছে। নিপা অবশ্য নিজেই তাকে ফোন করে বলেছে এই কথা টা। সেদিন সাম্য কে তো সে সামনে পায়নি,, তাই কলেজ শেষ হবার পর অর্থি কে যখন তার নজরে পড়ে তখন একপ্রকার তেড়ে যায় অর্থির কাছে।
কি বলবে প্রথমে ভেবে না পেয়ে বলে;
” শুনলাম সাম্যের সাথে নাকি তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে,, তা রাজি নাকি তুমি ।
অর্থি মাথা নাড়ল, তবে তিথি র এমন ব্যবহারের কারণ বুঝলো না,, তবে পরক্ষণেই তিথি বলল;
—” ভুল করছো তুমি , সাম্যের ব্যাপারে না জেনেই ওকে বিয়ের করার জন্য তুমি রাজি হয়ে গেল।
তিথির কথায় অর্থি ভ্রু জোড়া সংকুচিত করে তাকালো,, কিন্ত ততক্ষণে তিথি বলল;
—” জানো সাম্য আগে আমার পেছনে কু’ত্তার মতো পড়ে থাকতো,,, কিন্ত আমি ওকে পাত্তা দিতাম না। আমার সাথে প্রেম করতে চাইতো,, কিন্ত আমি ই ওকে রিজেক্ট করেছি।
অর্থি এবার বুঝলো হঠাৎই তিথি নামক মেয়েটি এসব কেন বলছে,, তবে অর্থির রাগ হলে ও তিথির সামনে শান্ত থাকলো,, নিজের হবু স্বামীর নামে এমন কথা শুনে সন্দেহ করার থেকে মনে হলো এই মেয়েকে আগে কিছু বলতে হবে, তারপর না হয় সাম্যের সাথে সে কথা বলবে তাই খুবই শান্ত স্বরে বলল;
—” একটা কথা কি জানেন আপু, কু’কুর রা কখনো ভালো খাবারে মুখ দেয় না,,, কুকু’রের পছন্দ ই ওই বাসি, পঁচা, ডাস্টবিনের খাবার,,
আর আমার জানামতে আমার হবু বর বাসি খাবার তো দূরে থাক, দু মিনিটের ঠান্ডা খাবার ও খেতে চায় না।
তাহলে আপনার কথা মানতে পারলাম না, উনি কু’ত্তা নয়, তবে শেষে কিনা আপনি কি নিজেকে ডাস্টবিনের সাথে তুলনা করলেন। শেম লেইস।.
আপনার কথা মানতে পারলাম না, উনি কু’ত্তা নয়, তবে শেষে কিনা আপনি কি নিজেকে ডা’স্টবিনের সাথে তুলনা করলেন। ছি….
চলবে।
এত রাতে গল্প দিচ্ছি কে পড়বে জানি না,, তবে যারা পড়বেন রিয়েক্ট দিয়ে যাবেন,, যদি রেসপন্স ভালো পাই পরের পর্ব লিখবো আজ থেকে,, না হলে পরীক্ষার জন্য কয়েকদিন গল্প দিব না,,,
আর একটা গল্প প্রায় শেষের দিকে,, আপনার পছন্দের চরিত্র কোনটা ছিল,, বলে যাবেন। আর তিথি মেয়েটারে যত পারেন গালি দেন।

