#কথা_দিলো_রোদ্দুর (৩৪)
#তুসিকা
গতানুগতিক সময় নদীর স্রোতের মতো বহমান,, ওই একটা জিনিস মানব জাতি শত চাইলেই ধরে রাখতে পারে না,, যা পারে তা হলো কিছু রিক্ত শিক্ত স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বাঁচতে, যেন সে গুলোই একমাত্র সত্য, একমাত্র আশ্রয়।
মুসাবের ক্ষেত্রেই ও তাই হচ্ছে,, সে ভেবেছিল আর কোনোদিন প্রেম করবে না,, নিজের এই মিছেমিছে জীবনে কাউকে জড়াবে না,,, অথচ এই ছোট কিশোরী তাকে কি সুন্দর বলছে ভালোবাসে,,, কি সুন্দর করে বলছে তার জীবনে আসতে,, কিন্তু মুসাব কি করবে বুঝতেই পারছে না,,, তাই মুসাব যুক্তি দিতে চাইলো;
—” দেখ ফাহা,,,
পুরো কথা আর শেষ করতে পারলো না,, তার আগেই ফাহা বলল;
—” প্লিজ মুসাব ভাই আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না,,, আমি জানি মানুষ প্রথম প্রেমকে ভুলতে দ্বিতীয় কারোর প্রেমে পড়ে,, কিন্ত আমি চাই আপনি আমার প্রেমে পড়ুন আমাকে ভালোবাসার জন্য।
আমি আপনার অতীত সম্পর্কে কিছু জানতে চাইবো না,, শুধু আজ আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না মুসাব ভাই প্লিজ।
মুসাব কি করবে বুঝলো,, ফাহার সেই কান্নামাখা কন্ঠস্বর শুনলো,,, তার সে বড্ড উপহাস করতে ইচ্ছে করছে নিজেকে নিয়ে,, কিন্ত এই প্রথম হয়ত তার একটু খানি বিশ্বাস করতে মন চাচ্ছে,, তার এই ছেলে খেলার জীবনে আরো একবার বিশ্বাসের হাতটা ধরছে ইচ্ছে,, এবার হেরে যাবে কিনা জানে না,, তবুও ইচ্ছে হলো এই কিশোরীর কথা শুনতে। আর সামনে যে ভালোবাসার উপস্থাপন করছে তার হাতটা শক্ত করে ধরতে।
তাই মুসাব বেশি কিছু বলল না,, ফাহার হাতটা চেপে ধরে বলল;
—”বাকি কথা পরে হবে ফাহা! বাসায় যাওয়া যাক। দেরী হলে আবার সবাই চিন্তা করবে!
ফাহা মাথা আরো নত করে নিল,, সাথে সাথে নাকের পাটা ফুলে উঠলো, হয়ত চোখের পানি ও গড়িয়ে পড়ল সাথে সাথে, সে ভেবেছে মুসাব তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে,, তার ভালোবাসা মুসাব গ্রহন করছে না,, তবে ফাহার এমন ভাব দেখে মুসাব তার হাত মুঠো করে নিজের হাতের মুঠোয় আনলো,, ক্লান্ত গলায় বলল;
—” একটু আগেই কেউ একজন বুঝদারের মতো বলছিল সে নাকি আমার অপেক্ষা করবে,, তাই আমি ও কথা দিলাম তার অপেক্ষার ফলস্বরূপ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই শক্ত হাতের বাঁধন ছাড়ব। তাহলে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্ন ই আসে না।
ফাহা মুসাবের এমন কথা শুনে অবাক হয় তার দিকে তাকালো,, মন কেমন করে যেন কেঁদে উঠল,, কিন্তু কিছু বলতে পারলো না,, তার আগেই মুসাব রিকশা ডাকলো,, তারা দুজনেই এক রিকশায় বসলো,, রিকশার চাকা ঘোরার সাথে হিমেল হাওয়া শরীরে লাগলো,, কেউ কোনো কথা বলছে না,, তবুও যেন মনের কথা বুঝতে পারছে খুব করে,, মুসাব এখনো ফাহার হাতটি ধরে আছে যা দেখে ফাহার মুখে এক হাসি খেলে গেল,,
রিকশা চলছে নিজের আপন গতিতে,, সন্ধ্যার স্লান আলো গায়ে লাগছে,, হিমেল হাওয়া শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে। ফাহা মুসাবের দিকে তাকালো,, বাতাসে তার চুল গুলো দুলছে,, পড়নে তার নীল রঙয়ের স্ট্যাপের শার্ট যার স্লিভ হাতা পর্যন্ত ফ্লোল্ড করা। বুকের পাশে বোতাম দুটো দুটো খোলা দেখতেই কেমন আকর্ষনীয় লাগছে। ঠিক ফাহা র পছন্দের নায়ক দুলকার সালমানের মতো।
ফাহার হঠাৎই বলতে ইচ্ছে করলো;
—” ভালোবাসি মুসাব ভাই,, খুব ভালোবাসি।
মুসাব কোনো উওর করলো না,, শুধু ফাহার হাতটা শক্ত করে ধরলো আরো! এই যেন মুখে ভালোবাসি না বলে ও ভালোবাসা,,, কাছে না এসেও কাছে আসা। মনের ভাষা প্রকাশ করার জন্য শব্দের প্রয়োজন হলো না,,, এতেই যেন দুজনে বুঝলো তাদের পথচলা সুন্দর শুরু এখান থেকেই।
_____________
এদিকে সাম্য অর্থি কে নিয়ে আবার ও বের হয় ঘুরতে।
বিয়ের পর এমন একাকী তাদের সময় খুব একটা দেওয়া হয়নি,, আর ইদানিং সাম্যের কেমন মনে হয় একটু প্রেমিক পুরুষ হতে। তারা দুজনাতে রিকশা করে পুরো শহর ঘুরবে, রাতে ই শহরটা উপভোগ করে। তাই তো রিকশা করে যান্ত্রিক শহরের ভীড় ঠেলে একটু দূরত্বে আসে,,
এখানে তেমন একটা জনসমাগম নেই,, বিস্তৃত মাঠ আর সরু রাস্তা। এমন একটা পরিবেশে হাটতে বেশ ভালোই লাগছে,, অর্থির ছোট কাঁধ ব্যাগটা সাম্য নিজ হাতে নিয়ে হাঁটছে, আর অর্থির সাথে টুকটাক কথা বলছে।
—” দেখেছো এখন যদি আমারা প্রেমের সম্পর্কে থাকতাম তাহলে রাত বিরাতে তোমাকে নিয়ে বের হতে পারতাম! কত লুকোচুরি ই না করা লাগতো, কিন্ত দেখ এখন কি প্রেম করছি তাও বাধা দেবার কেউ নেই।
অর্থি হালকা হাসে,, তার মনের ভেতর অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে,, সাম্য যদি আবার কিছু মনে করে তা ভেবে অর্থি সাহস পায় না। কিন্ত সাম্য কে আজ ভালো মেজাজে মনে হচ্ছে তাই অর্থি সাম্য কে জিজ্ঞেস করলো;
—” আচ্ছা আপনি আমাকে কিভাবে পছন্দ করলেন,, আমি তো আগে কেমন জানি ছিলাম,, কিভাবে মনে হলো আপনি আমাকে বিয়ে করবেন।
সাম্য অর্থির কথায় হাটার গতি কমিয়ে দিল,, দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল;
—” জানো কাউকে পছন্দ হবার নির্দিষ্ট কোনও কারন লাগে না,, খুব ছোট ছোট জিনিস যথেষ্ট একজনকে নিজের মনে জায়গা করে দিতে।
অর্থি মুগ্ধ নয়নে সাম্যের কথা গুলো শুনছে,, সারাদিন তিরিংবিড়িং করা লোকটা এতটা আদর নিয়ে কথা বলতে পারে বুঝি, এতটা যত্ন নিয়ে ভাবতে পারে,, তখন সাম্য আবারও বলল;
—” তোমার মনে আছে প্রথম আমি তোমাকে তিশা আপুর বিয়েতে ফারিশের সাথে দেখেছি। তখন নজরে আসেনি ব্যাপার টা এমন নয়,,, যখন দেখলাম একটা মেয়ে সবার থেকে আলাদা হয়ে এক কোণায় বসে বসে পুরো অনুষ্ঠান কাটিয়ে দিয়েছে,,, নিপার কথায় কষ্ট পেয়ে পুরো অনুষ্ঠানে না থেকে বাসায় চলে গিয়েছে। তখন নজরে পড়েছে,,, আর বিশেষ করে নজরে পড়েছে সেদিন বৃষ্টিতে। ওই ভীতু চোখের চাহনি,,, সেটা দেখেছি বলেই মনে হয়েছে এই মেয়ে যদি আমার হয়ে থাকে মন্দ কিসে।
অর্থি বুকের ভেতরটা কেমন নরম হয়ে এলো,, সে সাম্যের দিকে তাকিয়ে রইল,, তখন সাম্য অর্থির হাত ধরে হাটতে হাটতে বলল;
—” আর একটা কথা কি জানে তুমি নিজেকে যতটা সাধারন ভাবে আমার কাছে তুমি ততটাই অসাধারণ।
অর্থি ভালো লাগছে সাম্যের থেকে এমন কথা গুলো শুনতে কিন্ত হঠাৎই কি মনে করে সাম্য কে বলল;
—” আচ্ছা ঠিক আছে সব মানলাম,, কিন্তু আপনি আমাকে এখনো ক্ষেপান কে বলুন তো,, জানেন কে আমাকে নোয়াখাইল্লা বল কি রাগ হয়।
সাম্য হো হো করে হেসে দিল,, তার ভীতুরানি এটাও মনে রেখেছে,, যাক এসব ছোট ছোট জিনিস মনে রাখা ও ভালোবাসার লক্ষণ,, তাই সাম্য বলল;
—” আমি তোমাকে রাগাতাম যেন আমার প্রতি তুমি বিরক্ত হও,, তুমি যত বেশি বিরক্ত হবে তত আমার কথা বেশি বেশি করে মনে করবে,, আর দেখবে এক সময় তোমার মাথা ব্যাথার কারন থেকে মনে ব্যাথার কারনে পরিনত হবো,, তাই আরকি।
সত্যিই লোকটা পারে বটে,, এত কুটিল বুদ্ধি তার মনে,, তবে লোকটা সফল হয়েছে তার কাজে,, এই যে মনে ব্যাথার কারন হয়েছে। এটা আর কম কিসে।
এসব মিষ্টি একটা মুহুর্ত কাটিয়ে শেষে আবারও রিকশা চেপে শহর মুখী হলো,, সাম্য তো অর্থিকে রজনীগন্ধ্যার মালা এনে দিল,, নিজের শার্টের পকেটে করে দুটো গোলাপ ও আনলো অর্থির জন্য। তা দেখে অর্থির ভালো লাগলো,,, আর শেষে এই সুন্দর মুহুর্ত কাটিয়ে রিকশা পাশাপাশি বসে চলল বাসার দিকে।
বাসায় তো এখনো মামি রা, ফুফু, ফাহা রা সবাই আছে,, অর্থিরা যখন গেছে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে নিল, সবাই আবার গল্প করতে বসলো। সাম্য আসার সময় মিচেন কে ও নিয়ে এসেছিল,, মিচেন তো অর্থ আর ফারিনের কাছে আছে,
তাই অর্থি ফাহার পাশেই বসলো,, ওকে খুশি খুশি লাগছে তার মানে সব ঠিক আছে,, তাই নিশ্চিত হয়ে পরিবারের সকলের সাথে মিলে কাটালো সময়টা,, আর এই চক্করে কখন যে সময় পেরিয়ে রাত এক টা বাজে খেয়াল হলো না,, এর মাঝে সাম্য অর্থিকে ডাকলো, কিন্ত সবার কথা শোনাতে এত মশগুল হলো তার সাম্যের কথা খেয়াল আর হলো না।
কিন্ত সবাই যখন ঘুমাতে চলে গেল, তখন অর্থি ও রুমে আসলো,, দেখলো সাম্য উপুড় হয়ে শুয়ে মোবাইল দেখছে,, অর্থি অবাক হলো,, সাম্য এতক্ষণ পর্যন্ত জেগে আছে,, তাই অর্থি জিজ্ঞেস করলো;
—” ওমা আপনি এখনো ঘুমান নি,,, আমি তো ভেবেছি আপনি শুয়ে গেছেন।
সাম্য প্রত্যুত্তর করলো না, জেদ দেখিয়ে ফোনটা এক পাশে রেখে শুয়ে পড়ল,, অর্থি বুঝলো না হঠাৎ কি হলো,, পরক্ষণে মনে পড়ল সাম্য তাকে রুমে আসতে বলেছিল, কিন্ত সে আসেনি। আগের বার ও এমন কান্ড হয়েছিল তাই অর্থি সাম্যের পাশে গা এলিয়ে বলল;
—” আপনি কি আমার উপর রেগে আছেন! আসলে দেরী হয়ে গেছে কি করবো বলুন।
সাম্য প্রথমে উওর দিল না,, কিন্ত পরে চোখ বন্ধ রেখে বলল;
—’ দেরী হলে ওখানেই থেকে যেতে,, রুমে আসার দরকার কি ছিল বলো!
অভিমানের পাল্লা তো বেশ ভারী,,, তবে অর্থি জানে এখন কি করলে সাম্যের রাগ গলে পানি হবে। তাই অর্থি সাম্যের গালে একটা চুমু দিল,, কুঁচকানো ভ্রু শিথিল হলেও সাম্য কোনো প্রতিক্রিয়া করলো না,, তাই অর্থি নিজে থেকে সাম্যের থুতনিতে হাত রেখে তার দিকে মুখ ঘোরালো,,, চোখ বন্ধ এখনো সাম্যের। তাই অর্থি গুন গুন করলো;
— আর কোনোদিন ন যাইয়ুম আই,
আর কোনোদিন ন যাইয়ুম আই
তোয়ারে ছাড়িয়া রে ও ননাই রে,,
কইলজার ভিতর গাথি রাইখুম তোয়ারে,,
শিনার লগে বান্ধি রাইখুম তোয়ারে…
সাম্য না চাইতেও হেসে ফেললো,,
—”ভেবেছি অনেকক্ষণ অভিমান করে থেকে বড় সড় একটা আদর নিব! তুমি দেখি দিনদিন চালাক হয়ে যাচ্ছো!
—’ আপনার থেকেই তো শেখা! আমি অভিমান করলে আপনি তা ভাঙাতে পারেন আমি কেন পারবো না বলুন,,, কিন্তু আপনি এত ভং ধরে থাকতে পারেন! একদম পুরো মেয়েদের মতো হিংসুটে হয়ে যাচ্ছেন দিন দিন।
সাম্য হাসলো,, আর অর্থিকে নিজের বুকের আষ্টেপৃষ্টে নিল,, দৃষ্টি আর তৃষ্ণা মেটানোর খুব প্রয়োজন ,, তাই অর্থির কপালে পরশ দিল নিজের ওষ্ঠের। দূরত্ব টা মিটিয়ে নিতে খুব করে চাইলো,,
কিন্তু ড্রায়ারের উপর থেকে মিউ মিউ শব্দ শুনে দু জনেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো সেদিকে! মিচেন চোখ সরু করে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আর মিউ মিউ ডাকছে। তারা তো এতক্ষণ কেউ খেয়াল ই করলো না মিচেন যে এই রুমে আছে,
তাই সাম্য মুখ ভার করে বলল;
—” বউয়ের সাথে একটু রোমান্স করবো, তাতেও ঠিক মতো প্রাইভেসি নেই। কি কপাল আমার।
সাম্যের কথা শুনে অর্থি ফিক করে হেসে দিল,,
সাম্য ও অর্থির হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। এই মেয়ে খুব কম হাসে,, কিন্তু হাসি মুখের যে এই মেয়েকে কি যে ভালো লাগে,, কি যে মায়া লাগে,, যেন এক প্রশান্তি কাজ করে। তাই সাম্য অর্থির গালে হাত রেখে বলল;
—” এভাবে থাকবে ভীতুরানি,, এভাবেই হেসে আমার মনের রাজত্ব দখল করবে। আমি দেখে দেখে নিজের ক্লান্তি দূর করবো, আর ভীষণ ভালোবাসব।
“” আমি ও…
—’ আমি ও কি…
—”ভালোবাসি।
এই যেন এক ভীষণ আদুরে প্রেম মাখা কথা। এভাবেই হয়ত দুটো অচেনা মানুষ তাদের নিজস্ব স্বত্তা খুঁজে পায়,, একসাথে চলার উপায় খুঁজে নেয়,, সুখে দুঃখে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়।
আর স্বামী স্ত্রীর জীবনে এমন মান অভিমান, ঝগড়া, বিবাদ, থাকলেই ভালোবাসা গুলো বিশেষ করে উপলব্ধি করা যায়,, যেন ঠিক এই খানেই ভালোবাসার প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে।
________________________
চার বছর পর!
সুখের সমাপ্তি বোধ হয় খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়,, দুঃখ ও জীবনে আসে। তবে নিকষ কালো অন্ধকার রাত পেরিয়ে নতুন রোদ্দুরে ভোরের সূচনা হয়।
মুসাব আর ফাহা হলো তার জ্বলন্ত উদাহরণ। দুঃখ কষ্ট পেরিয়ে আজকের দিনে তাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেতে চলেছে। বিবাহ নামক বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছে তারা। সবাই তো ভীষণ খুশি। প্রথম প্রথম ফাহা র বাবা এটা মেনে না নিলেও সকলের কথার কারনে শেষে মেনে নেয়,, আর মুসাব ও নিজেকে সেভাবেই গড়ে তুলে যেন এক বার চাওয়াতে ফাহা র পরিবার দ্বিমত পোষণ না করেন।
তাই তো অবশেষে তাদের বিয়ে হচ্ছে জাকজমক ভাবে। সকলেই উপস্থিত আছে তাদের বিয়েতে। ফাহা আর মুসাবের বিয়েতে যাদের অবদান বেশি আছে সাম্য আর অর্থি তারা ও আছে এখানে। এই চার বছরে অনেক কিছু পাল্টে গেলে ও পাল্টে নি তাদের ভালোবাসা। ঠিক আগের মতোই রয়েছে তারা।
যত দিন যাচ্ছে তত যেন তাদের ভালোবাসা গভীর হচ্ছে। তত যেন সাম্য অর্থির প্রতি মরিয়া হচ্ছে। একদম চোখে হারায় যাকে বলে।
তবে এত সুখের মাঝে ছোট একটি অপূর্ণতা আছে বিয়ের এই চার বছরে ছোট একটি বাবুই পাখির খুব অভাব অর্থির জীবনে। ফাতেমা বেগমের একটু মন ভার এই নিয়ে কিন্ত সাম্য কোনোদিন অর্থিকে এই নিয়ে কিছু বলেনি। এটা আল্লাহ র নিয়ামত যখন আল্লাহ চাইবে তখন ই এটা হবে।
তবে সমাজের মানুষের কথা কি আর আটকে রাখা যায়,, তারা তো পারেই ছোট খাটো খুঁত ধরে মানুষের মনে আঘাত করতে।
এই যেমন নাশিদা বেগম। হলুদের এত সুন্দর এক মুহুর্ত সবাই কত আনন্দ করছে, কিন্ত কাটা গায়ে নুনের ছিটা দিতে তিনি সবার সামনেই ফাতেমা বেগম কে বলেন;
—” ভাবী চার বছর হলো ওদের বিয়ের অথচ বাচ্চা কাচ্চা এখনো হলো না এই কেমন কথা,, এখন না হলে কখন বাচ্চা হবে, আপনিই বা কখন নাতি পুতীর মুখ দেখবেন বলেন। আচ্ছা অর্থির মাঝে কোনো সমস্যা নেই তো,, না হলে এত বছরে বাচ্চা হচ্ছে না কেন বলুন তো।
ভরা জন সমাগমে এসব কথা শুনে ফাতেমা বেগম একটু ইতস্তত বোধ করলেন,, তিনি নিজেও চান না তার ছেলে ছেলের বৌয়ের নামে কেউ বাজে মন্তব্য করুক,, তাই তিনি বললেন;
—” সমস্যা কেন থাকবে,, এটা আল্লাহ যেদিন চেয়েছেন সেদিন হবে। আর এসব ওদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার,, আশা করি এতে কথা না বলাই ভালো।
নাশিদা বেগম তাও বললেন;
—” না বলছি আরকি! চার বছর হয়ে গেছে কিন্ত বাচ্ছা হচ্ছে না,, সমস্যা আছে নাকি,, সমস্যা না থাকলে তো সুখবর টা অনেক আগেই পাওয়া যেত।
অনেকেই ছিল সেখানে, নাশিদা বেগমের কথা তারা শুনেছেন,, অর্থি ও ছিল সেখানে,, সাজেদা বেগম রা ছিলেন সেখানে,, এটা শুনে সাজেদা বেগম বরাবরের মতো অর্থির হয়ে বললেন;
—” নাশিদা তোমার একটু লজ্জা থাকা উচিত না? ওদের জীবন ওরা বুঝবে। আর এমন আনন্দের মুহুর্তে এসব না বললেই বুঝি তোমার পেটের ভাত হজম হচ্ছিল না।
নাশিদা বেগমের গা পিত্তি যেন জ্বলে যায় সাজেদা বেগমের ব্যবহার দেখে,, এখনো অর্থির জন্য তার এত দরদ। তাই তিনি বললেন;
—” আপা আমি কিন্ত ভালোর জন্যই বলছি,, আপনারা শুধু শুধু এর অন্য মানে বের করবেন না।
সাজেদা বেগম নাশিদা বেগমের সাথে আর তর্কে জড়ালেন না,,
কিন্ত অর্থি তো নাশিদা বেগমের পুরো কথাই শুনেছে,, সাজেদা বেগম অর্থির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন নাশিদা বেগমের কথা এড়িয়ে যেতে কিন্ত অর্থির তো ভীষণ খারাপ লাগছে।
বিয়েতে আসার আগে অর্থির একটু জ্বর বেঁধেছিল, তাই এখন জ্বরের বাহানা দিয়ে রুমে চলে আসলো,, কিন্ত পরপর তার মা, খালা, শাশুরি সবাই এসে দেখে গেলেন,, জাবের সাহেব ও এসে অনেকক্ষণ মেয়ের কাছে ছিলেন। আগের মতো এখনো কপাল টিপে দিচ্ছে যেন আরাম লাগে। আর এমন উষ্ণ আদরে তখনই অর্থির একটু চোখ লেগে এসেছে।
ফাহা, আরশিয়া, মাহিয়া এসে ডাকে কিন্তু ঘুমাচ্ছে দেখে তারা ও তাকে বিরক্ত করেনি। সাম্য এতক্ষণ ছিল না,, অনুষ্ঠান শুরুর প্রথম দিকে যা মজা করে ছবি তুলেছে, খাওয়া দাওয়া করেছে তারপর তো মেহেদী আর তানভীরের সাথে একটু বেরোয়,, আর আসে এই মাত্রই।
কিন্ত দেখে তার ভীতুরানি ঘুমাচ্ছে। শরীর হালকা গরম। তবে সে ফ্রেশ হয়ে আসতে দেখে অর্থির ঘুম ভেঙে গেছে,, তাই সাম্য জিজ্ঞেস করলো তার সমস্যা হচ্ছে কিনা। এতে অর্থি বলল তার হাত পা কেমন ব্যাথা করছে। তাই কোনো কথা না বলে অর্থির হাত পায়ে মালিশ করতে লাগলো।
অর্থি মানা করলো, কিন্ত সাম্য শুনলো না খুব যত্ন করে আঙুল টেনে টেনে ম্যাসেজ করে দিতে লাগলো। আর জিজ্ঞেস করলো;
—” কি হয়েছে অর্থি এমন মুখ ভার করে আছো যে,, কিছু হয়েছে!
নাশিদা বেগমের কথা গুলো মনে পড়ল,, কিন্ত সাম্য কে সে কিছুই বলল না,, অর্থি জানে এসব শুনলে সাম্যের রাগ হয়, তাই চুপ করে মাথা নাড়ল,, জ্বরের বাহানা দিল।
কিন্ত অর্থি নিজের মন থেকে ভুলতে পারলো না কথা গুলো,,, চিন্তায় চিন্তায় তার বেহাল দশা,, রাত থেকেই তার প্রচুর জ্বর। সকাল থেকে নিজের পায়ে দাঁড়ানো মুশকিল। তবে সকালে সাম্য জোর করে নাস্তা করিয়েছে,, কিন্ত সব বমি করে বের করেছে। তাই ওই খালি পেটে ই ওষুধ পড়েছে,, এতে অবশ্য জ্বর একটু হলেও কমেছে। তাই বেলা গড়াতে কোনো মতে গোসল করে নিল।
বিয়ে বাড়ি এত আয়োজন একটু পর মুসাব রা চলে আসলো,, তাই তৈরি হয়ে সবার সাথে বসলো,, বাইরে থেকে এত সুন্দর সুন্দর খাবারের ঘ্রাণ ভেসে বেড়াচ্ছে কিন্ত অর্থির এতে যেন আরো বমি বমি লাগছে। মাথা ও ঘুরছে,, তাই সে রুমে চলে এলো। ফাহা মুসাবের এত সুন্দর দিন টাই সে ঠিক করে দেখতে পারলো না,,,
কিন্তু সময় যেতে যেতে অর্থির যেন হঠাৎই শরীর খারাপ হলো,, গা গুছিয়ে বমি হলো কয়েকবার। শরীর ছেড়ে দিল সাথে সাথে।
ভাগ্যিস সাম্য তখন অর্থি কে দেখার জন্য রুমে আসলো, অর্থির এমন অবস্থা দেখে তাকে আগলে নিল সাথে সাথে,, মুখে আলতো করে চাপড় দিল,, কিন্তু জ্ঞান হারিয়েছে অর্থি।.ততক্ষনাৎ সে রেবেকা বেগম আর ফাতেমা বেগম কে ডাকলো,, তারা এসে দেখে অর্থির এই অবস্থা,, চোখে মুখে পানি দিল কিন্তু অর্থি তো কোনো রেসপন্স করছে না,,
তাই পাঁজকোলে তুলে সবার সামনে বাইরে গাড়িতে নিয়ে গেল। সবাই বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে অর্থির।
সাম্য জানায় হয়ত জ্বরের কারনে ই সে অজ্ঞান হয়ে গেছে। তাই চিন্তা না করে বাকিদের বিয়েতে থাকতে বলে,, আর জাবের সাহেব, ফাতেমা বেগম, রেবেকা বেগম কে বলে তার সাথে হসপিটালে যেতে,, কিন্ত সাজেদা বেগম ও তাদের সাথে যায়।
হসপিটালে অর্থিকে কেবিনে রাখা হয়,, ডাক্তার এসে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা ও করেন,, আর জ্বরের জন্য ইঞ্জেকশন দেন। এদিকে সবাই তো চিন্তায় শেষ। তবে অনেকক্ষণ বাদে ডক্টর রিপোর্ট নিয়ে আসে,, অর্থির ও জ্ঞান ফিরেছে।
ডক্টর এসে আবার তার হাতের নাড়ি দেখল, রিপোর্ট গুলো ও পুনরায় দেখে মুখে একটু মুচকি হাসি নিয়ে বলল;
—” চিন্তার কিছু নেয়, কোনো কিছু নিয়ে বেশি চিন্তা করেছে তাই হঠাৎ শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। ওষুধ দিচ্ছি সব ঠিক হয়ে যাবে,,
আর সুখবর মিসেস সুজানা ইজ প্রেগ’নেন্ট। তাই চিন্তার কিছু নেই,, এমন সময়ে একটু আধটু জ্বর, বমি থাকবেই। আপনারা চাইলে এখনই বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন।
উপস্থিত সবাই যেন অবাক হলো ডক্টরের কথা শুনে,, তার চেয়ে সাম্য বেশি অবাক হলো। এই একটা খুশির খবর হুট করে শুনতে পাবে এটা তো সাম্যের ধারনার বাইরে ছিল। কিন্ত আরো অবাক হলো ডক্টর যখন বলল অর্থি দুই মাসের গর্ভ’বতী। তার মানে দুই মাস ধরে নতুন এক অতিথি তাদের মাঝে ছিল অথচ সে বলতেই পারবে না। আর অর্থি ও তো কিছু বলেনি। সাম্য এমন অবাক হলো যেন সে কথা বলতে ভুলে গেছে। তার নিজেরই মাথা ঘুরছে,, পারলে সেই হসপিটালে শুয়ে থাকুক।
সবার চোখে পানি চিকচিক করেছে,, এমন একটা খুশির খবর পেয়ে। অর্থি তো নিজেই আরো অবাক হয়েছে,, সে তো নিজেও জানতো না,,, কিন্ত শুকরিয়া আদায় করলো আল্লাহর কাছে,,,
তবে অর্থির শরীর কিছুটা সুস্থ তাই দেরী করতে চাইলো না কেউ, সব ফর্মালিটির শেষ করে অর্থি কে নিয়ে চলল বিয়ে বাড়িতে।
তবে যাবার আগে সাম্য ত্রিশ কেজি মিষ্টি নিয়ে গেল,, বিয়ে বাড়িতে তখন কাছের লোকেরা ছাড়া তেমন কেউ নেই। তাই খবরটা দিল সবাই কে। আর সাম্য গিয়ে গুনে গুনে দশ কেজি মিষ্টি নাশিদা বেগম কে দিল। আর প্রথম মিষ্টিটা তাকেই খাওয়ালো। নাশিদা বেগম বেশ বুঝতে পেরেছেন কি হচ্ছে, কিন্তু তিনি কিছু বললেন না।
তবে বাকি সবাই তো অনেক খুশি হয়েছে,, ফাহা র প্রথমে একটু মন খারাপ করেছিল অর্থি হঠাৎ এমন অসুস্থ হয়ে গেছিল দেখে,, তবে এখন কি পরিমান যে খুশি হয়েছে। তাদের বিয়ের দিনই খবরটা পেয়েছে,,, সকলেই অনেক খুশি হয়েছেন। কিন্ত সবার সাথে থেকে সাম্য অর্থিকে একটুও ফাঁকা পেল না,, এত বড় একটা উপহার দিল অর্থি তাকে অথচ সাম্য নিজেই তাকে অভিনন্দন জানাতে পারলো না,, বুক ভরা হতাশা নিয়ে সাম্য সবার দিকে তাকিয়ে থাকলো শুধু। তবে বিকেলে তারা অর্থিদের বাসায় রওনা হলো।
আর সকলের সাথে খুশি ভাগ করে নিতে নিতে সাম্য অর্থি কে কাছে পেল একদম রাতে। তার কি যে ভালো লাগছিল তবে অবিশ্বাস ও লাগলো,, সত্যিই সে বাবা হবে। তাই সবাই যখন অর্থির রুম থেকে চলে গেল তখন ধীর পায়ে এসে সাম্য অর্থির গা ঘেঁষে বসলো। করুন সুরে বলল;
—” অর্থি সত্যিই আমি বাবা হবো!
—” হুম! আপনি খুশি হয়েছেন!
সাম্যের চোখ যেন ছলছল করে উঠল খুশিতে। তার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো,,
—” আমার জীবনের বেস্ট একটা পাওয়া অর্থি। ডক্টর বলল বাচ্চার দুই মাস তাহলে তুমি আমাকে আগে বলো নি কেন! জানো আমাদের কাছেই নতুন একটি প্রাণ দুই মাস ধরে আছে,, আর আমরা কেউ বলতে পারবো না!!
অর্থি বুঝছে সাম্যের মনের ভাবনা,, তাই সে বলল;
—” আগের বারের মতো যদি আশানুরূপ ফল না পেতাম তাই এবার আমি টেস্ট করাই নি,,, কিন্ত দেখলেন আল্লাহ কিভাবে আমাদের খুশি খবর টা দিল। কিন্ত আপনি এভাবে কাঁদছেন কেন বলুন তো,,,
সাম্যকে কথা টা বলতে বলতে অর্থির নিজের কান্না পেল,, চোখ দিয়ে তো তার ও পানি পড়ছে,,, দুজনেই দুজনার কপালে কপাল ঠেকিয়ে কাঁদছে,, কেউ মুখে কিছু বলছে না,, সুখের অশ্রু বোধ হয় এটাই।
একটা বাবুর আশায় অর্থি মন খারাপ করলে ও সাম্য তাকে সব সময় সাহস দিত,, মন খারাপ করতে মানা করতো,, বাইরের মানুষের পরোয়া না সব সময় অর্থি কে আগলে রাখতো। অর্থির তখন মনে হতো তার এই সামান্য জীবনে এই মানুষ টা যদি না আসতো তাহলে কি হতো,, কে তাকে এভাবে ভালোবাসতো।
ঘন কালো মেঘ যতই আকাশ ঢেকে রাখুক না কেন, এক চিলতে রোদ্দুর এসে ধরনীকে আবারও রাঙিয়ে দেয়। আমাদের জীবন ও ঠিক দুঃখ আসে, কিন্ত একমুঠো সোনালী রোদ্দুরের মতো সুখ গুলো উজ্জ্বল হলে অন্ধকারাচ্ছন্ন কালো মেঘের স্লান দুঃখ ভুলে যেতে সময় লাগে না। অর্থি আর সাম্য বোধ হয় এই দিনের অপেক্ষা করছিল,, সেই ছোট মেঘ ঢাকা আকাশ কেটে সোনালী রোদ্দুর তাদের জীবনে ধরা দিচ্ছে,,, তাই এই সুখ টুকু যেন লুফে নিচ্ছে তারা দুজন।
তবে কিছুক্ষণ বাদে সাম্য মুখ তুলে চাইল অর্থির দিকে। লাল হয়ে আছে চোখ দুটো,, সাম্য কিছু না বলে ঘন শ্বাস নিয়ে অর্থির পুরো মুখ আদরে ভরিয়ে দিল, আর বলল;
এই অর্থি কাঁদছো কেন বলতো,, দেখ আমাদের জীবনে কত খুশির দিন আজকে, এত করে কেউ কাঁদে বলতো,,,, তুমি না ঠিক আগের মতোই আছো ভীতুরানী,,, কিছু হলেই কেঁদে সাগর বানিয়ে দাও।
অর্থি ফুঁপিয়ে বলল;
—’ আপনি ও তো কাঁদছেন,, তাহলে আমাকে কথা শোনাচ্ছেন কেন!
–’ আমি তো খুশি কাঁদছি,,,, দায়িত্ব নেওয়ার খুশিতে কাঁদছি,, বাবা ডাক শোনার আনন্দ কাঁদছি।
এরপর অর্থির পেটে হাত রেখে বলল;
—” বাবু তুমি সুস্থ হয়ে আমাদের জীবনে আসো,, মা বাবা তো জন্য অপেক্ষা করবো,, আমাদের দুজন থেকে তিন জনের পূর্নতা দিতে তুমি আসো,,,,, তোমার মা যে তোমার বড্ড অভাবে ছিল।
______________
“কথা দিল রোদ্দুর” এই নামের ভেতর যে অপূর্ণতা ছিল, সেগুলো যেন দিন শেষে গোধূলির মতো নরম হয়ে আসে,, প্রতিশ্রুতি গুলো ও যেন এক সময় শান্ত হয়ে আসে,, যেখানে দিনের প্রশান্তি গুলো স্লান হয়ে যায় রাতের প্রশান্তিতে,,, আর না পাওয়ার গুলো যেন রোদ্দুরের মতো ফিরে আসে।
তাই সব রোদ্দুর গোধূলির আকাশে মিলিয়ে গেলেও তার উষ্ণতা থেকে যায় ঠিক হৃদয়ের গভীরে।
সমাপ্ত।
কেমন ছিল এই গল্পের জার্নি। কাল যে একটা ঘটনা ঘটলো,, তাতে ভাবছি এটা আজই শেষ করি,,, জানি এতটা ভালো লিখি নি,,, তাও আপনারা জানাবেন কেমন হয়েছে,, আর দেখেন সাম্য অর্থির সংসার খুব কম লিখেছি,,এখন আপনারাই চিন্তা করুন ওদের সংসারে আর কি হলে ভালো হতো। আর শেষে মুসাব আর ফাহা কে আপনারা অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন,, ওদের অনেক অল্প লিখছে,, তাও ভীষণ আদুরে ওরা।
যাক বেশি কথা বলছি,,, শেষ জানাবেন। অনেকেই হয়ত হতাশায় ছিলেন,, পড়া ও বাদ দিয়েছেন,, তবে যারা পড়েছেন তারা জানাবেন অনুভূতি।

