#প্রাচীর
#নূপুর_ইসলাম
#পর্ব- ১৮
সুবর্ণার সাথে নিশাতের দেখা হলো একেবারে রাতে খাবারের সময়। নিশাত ফিরেছে সন্ধ্যায়! ফিরে রুমে ঢুকেছে যে ঢুকেছে, বের হলো একেবারে এই তো কিছুক্ষণ আগে।
সুবর্ণা ভেবেছিল নিশাত বাসায় ফিরেই কৈফিয়ত দেওয়ার চেষ্টা করবে । তবে সেই রকম কিছুই দেখা গেলো না। নিজের মতো আছে। তাকে দেখেই কালকের মতো গদগদ হয়ে একটা সালাম দিলো। দিয়েই শেষ! এখন মাহফুজ নিনিতের সাথে খুব উৎফুল্ল নিয়ে কথা বলছে আর খাবার খাচ্ছে। এতো খুশি সে এখনো না নিনিতকে দেখেছে না মাহফুজকে। কিছুক্ষণ আগে একবার দেখলো নিনিতের গালও মুচড়ে দিলো। নিনিত ব্যথা পেয়েছে বলে মনে হয় না। বরং মিষ্টি করে হাসলো।
তখনি ওয়াহিদ বাসায় ফিরলো। একবার ডাইনিংয়ের দিকে তাঁকালো তারপর যা করে তাই করল। সোজা নিজের রুম। ওয়াহিদ তার দিকে তাঁকায়নি, তাঁকিয়েছে নিশাতের দিকে। আর এটা ভেবেই তার শরীরে আগুন জ্বলে গেলো। সে সেই আগুন নিয়েই তেজের সাথে বললো, — ওয়াহিদের জন্য একটু বসলেই তো পারতে। অতিরিক্ত কাজ না হলে তো দশটার মধ্যেই ফিরে।
নিশাত তখন ভাতে কাঁচামরিচ ডলে নিচ্ছে। এই বাড়ির মানুষেরা ঝাল খায় না। সব কিছু ফেদা ফেদা। সে ডলতে ডলতে বললো, — আমিতো বসতেই চেয়েছি । আপনার ছেলের’ই ঢং বেশি। না পেয়ে বউ পেয়েছে। বলে কোন দরকার নেই। যখন ইচ্ছে খেয়ে নিতে পারো। তারতো ফেরার ঠিক ঠিকানা নেই। তাছাড়া সব সময় নাকি সে একা একাই খাবার খেয়ে অভ্যস্ত।
— সব সময় আর বিয়ের পরে এক হলো? আমি বয়স্ক মানুষ, নিতু নিতুর মতো। এটা কি তোমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? সারা রাত তো আর বসে থাকার জন্য বলছি না।
নিশাত হাসলো! বড় ভুল হয়ে গেছে এমন ভাবে বললো, — কালকে থেকে আমি অবশ্যই বসে থাকবো মা।
সুবর্ণা এই অবশ্যই বসে থাকবো বলায় কোন ভরসা হলো না। এই মেয়ে সত্য মিথ্যা সব এক করে অনায়াসেই বলে। আর তার জন্য কোন মাথা ব্যথাও নেই। তখনি মাহফুজ বললো, — সবারই নিজস্ব ফ্রিডম আছে মা। নিতুর যেমন নিজের মতো থাকতে পছন্দ করে। ভাবিরও এমনটা হওয়া উচিত। তাছাড়া ভাইয়া যেমন কাজ করে ভাবিও তেমন করে। ভাবি যদি নিজের ইচ্ছায় অপেক্ষা করে সেটা ভিন্ন তবে চাপিয়ে দেওয়া টা অন্যায়।
সুবর্ণা বিস্ময় নিয়ে তাঁকালেন। মাহফুজ কে তিনি ছেলের মতোই স্নেহ করেন। তার ধারণা ছিল মাহফুজও তাকে মায়ের মতোই সম্মান করে। তবে আজ মনে হলো, করার জন্যই করে। সে তাঁকিয়ে বললেন, — নিতুর সাথে তুমি এর তুলনা করছো কেন? নিতু এ বাড়ির মেয়ে। সে বউ! নিতু তোমাদের বাসায় গিয়ে নিশ্চয়ই তার মতো থাকে না।
মাহফুজ হালকা হাসলো! তার বলতে ইচ্ছে করলো। নিতু থাকলোটাই কবে। তবে সেই কথায় গেলো না। শান্ত ভাবে বললো, — আমার কথায় মনে কোন কষ্ট নেবেন না মা। তবে সন্তানেরা বড় হলে তাদের দিকটা তাদের উপর ছেড়ে দেওয়া ভালো।
নিশাত কৃতজ্ঞতা ভরা দৃষ্টিতে মাহফুজের দিকে তাঁকালো। যেন ভরা গাঙ্গে ভাসা অবস্থায় একটু কাঠের লাকড়ির সাহায্য পেলো। সুবর্ণা রাতে ভাত খায় না। সাদা রুটি আর সবজি। সেই রুটিই হাতে পিষলো। পিষে তেজের সাথে কাজের লোককে বললো, — নিতু কোথায়?
কাজের লোক বলার আগেই মাহফুজ নির্বিকার চিত্তে বললো, — নিতু রাতে খাবে না মা। তার ওজন নাকি বেড়ে যাচ্ছে। তাকে বিরক্ত করতে নিষেধ করেছে।
নিশাত ঠোঁট টিপে হাসলো। পুরো গুষ্টিকে জ্ঞানদাতার নিজের পরিবারই ফাঁকা ঠনঠনা। সে ঠোঁট টিপে হেসেই বললো, — রাতে এভাবে একেবারে না খেয়ে থাকা একদম ঠিক না মা। এসিডিটি হবে তো। অল্প হলেও কিছু খাওয়া দরকার।
— তুমি নিজের চিন্তা করো।
— সেটাই তো করছি। আপনারা বুঝি আমার নিজের না ? বলেই নিনিতের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।
মাহফুজ দেখে সুন্দর করে হাসলো। সেই হাসি দেখে সুবর্ণার রাগে শরীর ফেটে যেতে চাইলো। তখনি ওয়াহিদ এসে বসলো নিশাতের পাশে। সুবর্ণা আবারো অবাক হয়ে তাঁকালো! হচ্ছে কি তার বাড়িতে। ওয়াহিদ বাসায় ফিরে কখনো সাথে সাথে নিচে আসবে না। ফ্রেশ হবে, কফি খেয়ে রিল্যাক্স হবে তারপর।
ওয়াহিদ সুবর্ণা থমথমে মুখ দেখে বললো, — কোন সমস্যা মা?
— না।
— ঔষুধ নিচ্ছো ঠিকমতো।
— হুম।
তখনি কাজের লোক ওয়াহিদের খাবার আনলো। তার খাওয়া দাওয়া এমনিতেও কম। রাতে আরো কম। সে খাবার নিতেই নিশাত আহ্লাদ করে বললো, চিংড়ির তরকারিটা দেই। এটা খুব ভালো হয়েছে।
ওয়াহিদ চমকালো না! ঠোঁট টিপে একটু হাসলো। সে ধরেই নিয়েছে এই মেয়ের নিত্য নতুন রুপ দেখবে। সারা দিন সে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছে। সকালের কান্ডের পর আর ফোন’ই ধরে নি। তার হাসির মাঝেই নিশাত এক গাদা তরকারি ওয়াহিদের প্লেটে তুলে দিলো। সুবর্ণা তাঁকিয়েই বললো, — গাধার মতো কি করছো?
ওয়াহিদ মাকে থামিয়ে বললো, — সমস্যা নেই মা। আমি খাচ্ছি।
নিশাত আরো দু- চামচ ভাত তুলে দিলো। দিতে দিতে বললো, — আপনিও না মা। ছেলে মেয়েদের কিচ্ছু বলেন না। এতো লম্বা চওড়া মানুষ। এইটুকুতে কি হয় বলেন? বলেই তরকারি উপরে দু- চামচ ডালও তুলে দিলো।
ওয়াহিদ টু শব্দও করল না। তবে সুবর্ণা উঠে চলে গেলো। যেতেই নিশাত বললো, — শুনুন, এখন থেকে কখন ফিরবেন না ফিরবেন সব আপডেট আমাকে জানাবেন? এই যে একা একা প্রায় খেয়ে উঠলাম। কেমন দেখায় বলেন? মা খুব রাগ করলেন। ওতো মাহফুজ ভাইয়া আমার হয়ে বললো বলে রক্ষে।
মাহফুজ হালকা হাসলো! নিশাতও হাসি ফেরত দিলো। দিয়ে আবার ওয়াহিদ দিকে ফিরে বললো, — আর কিছু লাগবে আপনার?
ওয়াহিদ শান্ত ভাবেই বললো, — লাগবে।
নিশাত গলেই বললো — কি?
ওয়াহিদ উত্তর দিলো না। নিশাত ওয়াহিদের দিকে তাঁকিয়ে মুখ বাঁকালো। বাঁকিয়ে মাহফুজের দিকে তাঁকিয়ে বললো, — আপনার কিছু লাগবে ভাইয়া?
— না ভাবি, আপনি বসুন তো! আমার শেষ। বলেই মাহফুজ উঠল! সে যেতেই ওয়াহিদ আস্তে করে বললো, — তোমাকে?
— মানে?
— ও যে জিজ্ঞেস করলে কি লাগবে।
— বাবা এক দিনেই এতো উন্নতি?
— বিয়ে করে উন্নতি না হলে পরেতো বদনাম হয়ে যাবে।
— উন্নতি হলেই যে হবে না এটা কে বললো?
— না খেয়ে মরার চেয়ে খেয়ে মরা ভালো।
— তা ঠিক! নাচতে যখন নেমেছি আর ঘোমটা তুলে লাভ কি? বলুন পতিদেব আপনার সেবায় কখন বিলীন হবো?
ওয়াহিদ হেসে ফেললো! তার হাসি দেখে নিনিতও হাসলো। তার মাথায় হাত বুলিয়ে ওয়াহিদ বললো — নেক্সট ফ্রাইডে রিসিপশন টা রাখবো। তুমি কাকে কাকে ইনভাইট করতে চাও, জানিয়ে দিও।
— আমি কাওকেই চাইনা।
— ভালো। হানিমুনের জন্য কোন স্পেশাল চয়েজ আছে?
— আছে।
— কি?
— জাহান্নাম।
— গুড।
নিশাত বিরক্ত চেপে উঠে চলে গেলো। এতো মেন্দা মার্কা বেটা জীবনে দেখেনি। রাগ উঠেনা কেন? ওয়াহিদ নিশাতের যাওয়া দেখে আগের মতোই হাসলো। হেসে বললো, — অল ওকে নিনিত বাবা?
— ইয়াহ!
— মামি পছন্দ হয়েছে?
— অনেক।
ওয়াহিদ হাসলো! হেসে বললো, — আমারও।
____
নিশাত আজকে ঘুম থেকে উঠল খুব ভোরে। নিজে থেকেই উঠেছে। এক দু- বছর অন্তর অন্তর তাদের অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণে যেতে হয়। দু থেকে তিন দিনের কোর্স। এই কোর্সের’ই ডেট পড়েছে। সেখানেই রওনা দেবে । সে অবশ্য এখনো কাওকে বলেনি। বলার কোন ইচ্ছাও নেই। সে উঠেই কাচের রুমটায় উঁকি দিলো। খালি গায়ে শুভ্র একটা চাদরে কুশন জাপটে ওয়াহিদ ঘুমিয়ে আছে। পাশেই ল্যাপটপ!
কাজ করতে করতে সেখানেই ঘুমিয়েছে না ইচ্ছে করে ঘুমিয়েছে নিশাত জানে না। তবে গতকালও সে লাইট টাইট অফ করে আগেই ঘুমিয়েছে। ওয়াহিদ নিচে থেকে এসে আর লাইট অন করেনি। ল্যাপটপ আর কফি নিয়ে সোজা এই রুমে চলে এসেছে।
সে ফিরে এলো! এসে নিজের মতোই রেডি হলো। হালকা কিছু গোছগাছ করে বেরুবে তখনি দেখলো দরজা লক।
নিশাত বড় একটা শ্বাস ফেললো। এই বেটা তলে তলে মিচকা শয়তান। ঠিক জেনে গেছে। সে শ্বাস ফেলেই একগ্লাস পানি নিয়ে সোজা গেলো ওয়াহিদের সামনে। একবার ভাবলো পুরো গ্লাস ঢেলে দেই তবে নিজেকে সামলে হাত দিয়েই ছিটালো। সাত সকালে এতো রং ভালো লাগছে না।
ওয়াহিদ চোখ খুললো না! আরাম করে শুতে শুতে বললো, — লাভ নেই।
নিশাত বিরক্ত মুখে বললো, — দেরি হচ্ছে আমার।
— হোক।
— আমি পুরো গ্লাস ঢেলে দেবো।
— দাও! আমার বাথরুমে বাথটাব দেখেছো তো। দু- জনের জন্য একদম পার্ফেক্ট। নিতে আমার দু- সেকেন্ড লাগবে।
— এতো কাহিনী করছেন কেন?
— তোমার সাথে তো আমার কাহিনীর’ই সম্পর্ক।
নিশাত রাগে দাঁতে দাঁত পিষলো! পিষে বললো, — কি চাচ্ছেন বলুন তো ? আমি আপনার কোন কাজে ডিসটার্ব করছি? তো আমার কাজে বেগরা বাজাচ্ছেন কেন?
ওয়াহিদ চোখ খুললো! নিশাতে গায়ে সাদা একটা কামিজ। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক। মেয়েটা চোখে কখনো কাজল পরেনা কেন? সে উঠে বসতে বসতে বললো, — রাতে তো বললাম’ই শক্রবারে রিসিপশন।
— তো! আজ কি বার? মঙ্গলবার। সময় মতো থাকলেই তো হলো।
— বিয়ে শুধু একটা অনুষ্ঠান হয় না নিশাত। সেখানে অনুভূতি থাকতে হয়।
— আপনার জন্য আমার কখনোও কোন অনুভূতি হবে না। এটাই সত্য, এক সত্য, দুই সত্য, তিন সত্য।
— কাছে আসো দেখি অনুভূতি কি করে না হয়।
নিশাত ওয়াহিদের ঠিক সামনে বসলো। বসে বললো, — নিন আসলাম! দেখি কত অনুভূতি হয়।
ওয়াহিদ হাসলো! হেসে চোখে চোখ রেখে বললো, — তোমার হৃদয় কোথায় মেয়ে?
— অনেক বছর আগে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছি।
— আমার এই শরীর না হৃদয় চাই।
— সেটার খোঁজ আপনি কখনো পাবেন না।
— কেন? সুবর্ণার ছেলে বলে।
— হ্যাঁ!
— তাহলে বিয়ের জন্য রাজি হয়েছো কেন? সোজা’ই তো বলা হয়েছিল। রাখতে চাও কি না?
— তো? রাখতে চাও কি না জিজ্ঞেস করেছেন? এখানে আবার হৃদয় কি? অযথা যতো ঢং। বউ লাগবে সোজা বলুন।
ওয়াহিদ বড় একটা শ্বাস ফেললো! ফেলে কুশনের নিচ থেকে চাবি বের করে দিলো। দিতে দিতে বললো, — শক্রবারে সকালে আমার বউ আমি ফেরত চাই। যদি না পাই তোমার খবর আছে মেয়ে।
নিশাত মুখ বাঁকালো! বাঁকিয়ে চাবি নিয়েই বেরিয়ে এলো। ড্রইংরুমে এসে সোফার নিচে, সাইডে একটু উঁকি ঝুঁকি মারলো। কনা এসে বললো, — কি হয়েছে ভাবি?
— আর বলোনা কালকে অনেক রাত মাহফুজ ভাইয়া সাথে বসে বসে আড্ডা দিলাম। রুমে গিয়ে দেখি কানের দুলটা নেই। এখানে পড়ল কি না। এদিকে আবার আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।
— আপনি যান ভাবি, আমি দেখছি।
— সমস্যা হবে নাতো তোমার?
— কি যে বলেন না ভাবি। কিসের সমস্যা।
— অসংখ্য ধন্যবাদ কনা। আর মাকে একটু কষ্ট করে বলে দিয়ো তো। আমি বেরিয়ে গেছি।
— আচ্ছা ভাবি! সমস্যা নেই।
নিশাত হেসেই বেরিয়ে গেলো। নামাজ পড়ে সুর্বণা কখনো ঘুমায় না। বাগানে হাঁটাহাঁটি করে। তজবিহ পড়ে। আজকেও তেমনি বেরিয়ে দেখে কনা আর আরেক কাজের লোক সোফার নিচ তো ভালোই পুরো ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে। সে আবাক হয়ে বললো, — কি হয়েছে?
— ভাবির নাকি দুল হারিয়েছে।
— কখন?
— কাল রাতে। দুলাভাই আর নাকি ভাবি এখানেই বসে গল্প করেছে। রুমে গিয়ে দেখে দুল নেই। তাই ভাবলো এখানে পড়েছে কি না।
সুবর্ণা ভ্রু কুঁচকে বললো, — কে কে গল্প করেছে?
— দুলাভাই আর ভাবি।
— কখন?
— রাতে।
সুবর্ণা স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তার মন বললো কিছু একটা ঠিক নেই। কি নেই ধরতে পারলো না। সে চিন্তা করতে করতেই রুমের দিকে এগুলো। তখনি তার চোখের সামনে ভেসে উঠল, অনেক অনেক দিন আগের কিছু স্মৃতি। এভাবেই হেসে হেসে গড়িয়ে পড়া, এভাবেই বসে বসে কতো আড্ডা দেওয়া। সব কিছুতে নাজিম ভাই, নাজিম ভাই করে গলে যাওয়া। ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় দৌড়ে নাজিমের বাইকের পেছনে বসে আহ্লাদ করে বলা, — একটু পৌঁছে দিন না নাজিম ভাই প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ। সুবর্ণার শরীর কাঁপতে লাগলো। কাঁপতে কাঁপতেই সিঁড়িতে পা রাখতেই ফসকে গেলো। কনা শব্দ পেয়ে পেছনে তাঁকাতেই এক চিৎকার দিলো।
চলবে…..

