#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
১৭.
-আপনার গাড়িটা প্লিজ সাইড করুন মিস্টার এহমাদ। দু গাড়ি পেছনে এ্যাম্বুলেন্সে একজন ইমারজেন্সির পেশেন্ট আছেন।
এতোক্ষণে এ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজ কানে আসলো সাইফের। শারাফ-স্নিগ্ধতার ছবিগুলো দেখতে দেখতে পারিপার্শ্বিক ভুলে গিয়েছিলো ও। অগ্নিলার কথা শুনে তড়িঘড়ি করে আগে গাড়ি সাইড করলো সাইফ। গাড়ি থেকে নেমে আসতেই কয়েকজন মিলে ঘিরে ধরলো ওকে। ওর গাড়ির কারনে এ্যাম্বুলেন্স আটকে ছিলো, এ নিয়ে কথা শোনাতে হুমড়ি খেয়ে পরলো সবাই। সাইফকে অনর্গল শুনিয়ে দিলো প্রত্যেকে। অগ্নিলা কয়েকদফায় সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করলো। পারলো না। সাইফের পরিচয় বলতে যাবে, সাইফ-ই ওকে থামিয়ে দিলো। চুপচাপ মাথা নিচু করে কথা হজম করলো সবার। বিস্ময়ে ওর নতদৃষ্টি দেখলো অগ্নিলা। অনেকক্ষণ বলা শেষে সবাই যে যার কাজে এগোলো। সাইফ মৃদ্যু হেসে জানালা দিয়ে গাড়ির ভেতরে মাথা ঢুকালো চাবি নেওয়ার জন্য।
-আপনি এভাবে সবার কথা সয়ে গেলেন কেনো মিস্টার এহমাদ?
সাইফ মাথা বের করে দেখে অগ্নিলা দাঁড়িয়ে। ঠিকমতো দাঁড়িয়ে হেসে বললো,
-দোষীকে সবাই দোষারোপ করবে, এটাই স্বাভাবিক নয়কি?
-আপনি নিজের পরিচয় বললে, বা আমাকে বলতে দিলে, ওরা এভাবে বলতে পারতো না আপনাকে।
সাইফ চাবির গোছার দিকে তাকিয়ে হাসলো কেবল। পরপরই মাথা তুলে বললো,
-আপনার পেন্সিলহিলের গোড়ালি ঠিক আছে? যে বারিটা লাগিয়েছেন!
অগ্নিলা নুইয়ে গেলো। মিনমিনে গলায় বললো,
-সরি। একচুয়ালি…
-পেছনে মুমুর্ষ রোগীর গাড়ি ছিলো, আমি পথ আটকে বসে ছিলাম, সেটা আপনার সহ্য হয়নি, তাই আপনি গাড়ির কাচ ভেঙেছেন! এন্ড ইটস্ টোটালি ওকে, যদি আপনি আমার গাড়ির কাঁচভাঙা ক্ষ’তিপূরণ দেন তো!
একদমে বললো সাইফ। ওর কথার ভঙিমায় হাসি পাচ্ছিলো অগ্নিলার। তবে হাসলো না। বড়সর একটা শ্বাস নিয়ে বললো,
-ওকে…আপনি যেমন দোষী হয়ে দোষারোপ মানতে পারেন, আমিও তেমন ক্ষ’তিকারক হয়ে ক্ষ’তিপূরণ দিতে জানি। কফি?
সাইফ হেসে দিলো। হাত বাড়িয়ে এগোনোর জন্য ইশারা করলো অগ্নিলাকে। দুজনে মিলে গিয়ে বসলো পাশের কফিশপে। কফির আড্ডায় পেরিয়ে গেলো বেশ অনেকটা সময়…
•
ক্লাসব্রেক চলছে। অনুর সাথে ক্যাফেটেরিয়ায় এসে বসেছে স্নিগ্ধতা। অনু বইয়ে মুখ গুজে ছিলো। তবে লক্ষ্য করছে, খাওয়া বাদ দিয়ে স্নিগ্ধতা কেবল জুসের স্ট্র ঘুরিয়ে চলেছে। ওর ধ্যান অন্যকোথাও আটকে। অনু স্নিগ্ধতার দিকে বইটা এগিয়ে ধরে বললো,
-স্যার কি এই স্টেটমেন্টের পুরোটা পড়তে বলেছে রে স্নিগ্ধতা?
-হুম।
বই না দেখেই জবাব দিলে স্নিগ্ধতা। অনু যেটাতে মুখ গুজে আছে, সেটা কোনো অপ্রয়োজনীয় পড়া হবে না। তাই সম্মতিসূচক জবাব দিয়েছে ও। অনু আবারো বললো,
-তোর উড-আর্ট করা শেষ?
-হুম
-সাইফ ভাইয়া কি আসবে?
-হুম।
-ছাতা এনেছিলি। ব্যাগে দেখছি না এখন। কোথায় রেখে এসেছিস?
-হুম।
-শারাফ স্যারের কথা ভাবছিস?
-হু…
হুম শেষ না করে অনুর দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। অনু বুকে হাত গুজে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো। সন্দিহান চোখে তাকিয়ে আছে ও স্নিগ্ধতার দিকে। অপ্রস্তুত হয়ে গেলো স্নিগ্ধতা। সত্যিই শারাফকে নিয়ে ভাবছিলো ও। আর অনুর এভাবে মনে করে দেওয়াতেই বিষয়টা অনুধাবন হয়েছে ওর। এই লোকটা ওর ভাবনাতেও জরিয়ে গেছে স্মরন হতেই ও মনেমনে চমকালো। সামনে বসে থাকা অনুর ধারনাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বললো,
-আসলে অনু…
-ব্যাপার না! ও হয় হয়! মনোবিজ্ঞানীর কথা মনে আসবে না তো কার কথা মনে আসবে বল?
…
-তাহলে? মনোবিজ্ঞানী মনের চিকিৎসার পরিবর্তে মনোরোগ জুটিয়ে দিলো নাকি?
-এরকম কিছুই না অনু। তুইও জানিস।
-আমি জানতাম তুই সবাইকে উপেক্ষা করে বেচে আছিস। কাউকে ভাবনায় নিয়ে বসে আছিস, এটা আমি জানতাম না স্নিগ্ধতা।
স্নিগ্ধতা দৃষ্টি সরালো। পাতত অনুকে যাই বলুক না কেনো, ও থামবে না। অনু টেবিলে হাত রেখে বললো,
-এটা ভালো! তুই এভাবেই ভাবতে থাক। একদিন না একদিন, কাউকে না কাউকে নিয়ে তো ভাবতেই হতো তাইনা? আর সেটা শারাফ স্যার হলে মোটেও মন্দ হবে না।
…
-শুধু আফসোস একটাই। অনেকদিন যাবত, অনেকবেশি ভালোবেসেও আরাফাত ভাইয়া তোর ভাবনায় জায়গা করে নিতে পারলো না। সেদিন তার একটা পোস্ট দেখলাম। ❝সাত’শ কোটি মানুষের মাঝে তুমি নামক একজনকে ভালোবেসেছি। সেই তোমায় না পেলে, অভিযোগ তো থাকবেই। অভিযোগকারীকে ক্ষমা করে দিও প্লিজ।❞
অনু তাচ্ছিল্যে হাসলো। স্নিগ্ধতা ছলছল চোখে ওরদিক তাকিয়ে রইলো কিয়দক্ষণ। বললো,
-কাউকে ভালোবাসতে না পারাটা আমার দোষ অনু?
-না! কিন্তু তোকে ভালোবাসা তার জন্য চরম দোষের হয়ে দাড়িয়েছে রে স্নিগ্ধতা। এজন্যই চাইছি, এমন দোষ আর কেউ না করুক।
…
-জীবনটা তোর স্নিগ্ধতা। আর সিদ্ধান্তটাও। তাই যেভাবে যা হচ্ছে, সুন্দরভাবে মেনে নে। কেউ তোর প্রতি ফল করবে এটা যেমন অস্বাভাবিক না, ঠিক তেমনি তুইও কারো মায়ায় জরিয়ে যাবি, এটাও অস্বাভাবিক না। শারাফ স্যার একজন দারুন মানুষ। অনেক হাসিখুশি একজন মানুষ। আমি নিশ্চিত সে তোকে পছন্দ করে। এন্ড আই সাজেস্ট, কোনোভাবে তুইও যদি তাকে পছন্দ করতে শুরু করিস, নিজেকে আর বাধা দিস না।
স্নিগ্ধতা চুপই রইলো। অনু বই ব্যাগে ঢুকাতে ঢুকাতে বললো,
-এনিওয়েজ! আমার উড-শেইপ আর্টের আরো কিছুটা বাকি আছে। কালকেই ওটা গ্রুপ এক্সিবেশনে প্রেজেন্ট করতে হবে। আপাতত গ্যারালিতে যাচ্ছি। তোর ভাবনা আর জুসের স্ট্র ঘুরোনো পর্ব শেষ হলে চলে আসিস। বাই!
অনু চলে গেলো। হাত মুঠো করে শক্ত হয়ে বসে রইলো স্নিগ্ধতা। চোখভর্তি জল ওর। একটু এদিকওদিক হলেই বেরিয়ে আসবে। শুকনো ঢোক গিলে তা সামলানোর চেষ্টা করতে লাগলো ও। হঠাৎই একটা লিফলেট ওর সামনের টেবিলে রাখলো কেউ। ওটা হাতে নিয়ে দেখে, তাতে একটা স্মাইলি ইমুজির সাথে সরি লেখা। লিফলেট যে দিয়েছে সে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলো ওকে। স্নিগ্ধতা ডাক লাগিয়ে বললো,
-এক্সকিউজ মি?
ছেলেটা পেছন ফিরলো। পরিচিত লাগলেও লোকটাকে ঠিক মনে করতে পারছিলো না স্নিগ্ধতা। কাগজটা দেখিয়ে বললো,
-এটা কিসের ভাইয়া?
-সরি? আমাকে বলছেন?
-জ্বী।
স্নিগ্ধতার হাতের সরি লেখা কাগজ দেখে ছেলেটা অবাক চাওনিতে তাকালো। বললো,
-আপনার হাতে ওটা কিসের কাগজ তা আমি কি করে বলবো?
-কিন্তু লিফলেট হিসেবে আপনিই তো আমার টেবিলে দিয়ে গেলেন এটা।
ছেলেটা নিজের হাতে থাকা লিফলেট পরখ করলো। তারপর সেগুলো স্নিগ্ধতাকে দেখিয়ে বললো,
-সরি আপু। আমি তো আমাদের আপকামিং ইভেন্টের লিফলেট দিচ্ছিলাম সবাইকে। আপনার কাছে এটা কিভাবে গেলো ঠিক…
স্নিগ্ধতা পরে দেখলো তার হাতেরগুলো সত্যিই ইভেন্টের লিফলেট। টপিক, সাইকোলজি এন্ড মাইন্ড। ওর এবারে মনে পরলো, এই ছেলেটাও সেদিন জরিপের জন্য শারাফদের সাথে ওদের ক্লাসে এসেছিলো। তাই চেনাচেনা লাগছিলো। গলা স্বাভাবিক করে বললো,
-আপনি এক্স সাইকোলজিয়ান?
-জ্বী আপু। আপাতত রিসার্চরত।
-ওকে ভাইয়া। সরি ফর ইন্ট্রাপশান।
স্নিগ্ধতা মাথা নেড়ে বসে গেলো। ছেলেটা সৌজন্য হেসে লিফলেট বিলি করতে লাগলো নিজের মতো। কপাল এক আঙুলে চেপে ধরে টেবিলে থাকা কাগজটার দিকে তাকিয়ে রইলো স্নিগ্ধতা। সবগুলো লিফলেট ঠিকাছে। বেছেবেছে ওর কাছেই কেনো সরি লেখা কাগজ আসলো? এমনও মনে হলো না কাগজটা ইচ্ছাকৃতভাবে দিয়েছে ভাইয়াটা। তাহলে? এই সাইকোলজিয়ান শব্দটা মাথায় আসলেই শারাফকে মনে পরে যায় ওর। যেটা এখন বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। মাথা ঝেরে একটা ছোট শ্বাস ফেলে উঠে দাড়ালো স্নিগ্ধতা। সাইডব্যাগ কাধে তুলে, কাগজটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসলো ক্যাফেটেরিয়া থেকে। পা বাড়ালো ফাইন আর্টসের গ্যালারির দিকে। রাস্তায় আবিরকে দেখতে পেলো স্নিগ্ধতা। তার হাতেও লিফলেট। ওরই সামনের দুজনকে দিচ্ছে সেগুলো। ধীরস্থির পায়ে এগোতে লাগলো স্নিগ্ধতা। এরইমাঝে ওকে পাশ কাটিয়ে আরেকটা মেয়ে সামনে এগিয়ে গেলো। আবির ওই মেয়েটার দিকে লিফলেট বাড়িয়ে দিলো। মেয়েটাও হাত বাড়ালো নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু পারলো না নিতে। হঠাৎই কোত্থেকে এসে শারাফ কেড়ে নিলো লিফলেটটা। স্নিগ্ধতা থামলো। বাকিদুজনেও বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে শারাফের দিকে। শারাফ একটা হাসি দিয়ে বললো,
-কিরে? এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো? লিফলেট দিয়ে দে আপুটাকে? আর কতোক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবেন উনি?
কিঞ্চিৎ হা হওয়া মুখে হাতের আরেকটা লিফলেট মেয়েটার দিকে এগিয়ে দিলো আবির। মেয়েটা শারাফের অদ্ভুত কাজ দেখে, ওটা হাতে নিয়ে দ্রুতপদে স্থান ত্যাগ করলো। শারাফ আবিরের কাধে একহাত রাখলো। বিরবিরিয়ে বললো,
-শা’লা! অলওয়েজ আমার কাজ বিগ’রানোর ধান্দায় থাকিস!
কথাটা বলে স্নিগ্ধতার দিকে তাকালো শারাফ। স্নিগ্ধতাও তখনতখন দৃষ্টি ঘুরালো। শক্ত করে ব্যাগ মুঠো করে পা বাড়ালো ও। আবির কিছু বলতে যাচ্ছিলো। ওকে থামিয়ে দিয়ে, নিজের হাতে থাকা কাগজ ওর হাতে ধরিয়ে দিলো শারাফ। বললো,
-আগে এনাকে লিফলেট দিয়ে আয়। তারপর সব বলছি।
-কিন্তু…
-ব্যা’টা যাবি নাকি মার খাবি?
-আমার কাছে আছে লিফলেট। তুই এটা কেনো…
-আগে যা তুই!
আবিরকে ধাক্কা লাগালো শারাফ। বেচারা হুমড়ি খেয়ে স্নিগ্ধতার সামনো পরেছে একদম। স্নিগ্ধতাও থেমে যেতে বাধ্য হয়েছে। কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে, আবির জোরপুর্বক একটা হাসি টানলো মুখে। কাগজটা এগিয়ে দিয়ে বললো,
-ই ইভেন্ট প্রোমোটিং লিফলেট আপু।
স্নিগ্ধতা দেখলো, আগেরটার মতো এই লিফলেটের ওপরও সরি লেখা। ওর বুঝতে বাকি রইলো না, সবটা শারাফের কারসাজি। তীক্ষ্মচোখে পেছন ফিরে শারাফের দিকে তাকালো ও। আর ওর রাগী চাওনি দেখে একটা হাসি দিলো শারাফ। আবিরের দিক ফিরে বুকে হাত গুজে দাড়ালো স্নিগ্ধতা। জোরে শ্বাস ছেড়ে বললো,
-আর ইউ শিওর ভাইয়া? এটা ইভেন্ট প্রোমোটিং লিফলেট?
এমনিতেও শারাফের কর্মকান্ড সুবিধার লাগছিলো না আবিরের। লিফলেট নিয়ে ক্যাফের দিকে যার যাওয়ার কথা ছিলো, শারাফ তাকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে পাঠিয়েছে। মিনিটদুই আগে ওর হাতের লিফলেটগুলো সাজিয়ে দিয়েছে শারাফ-ই। এখন সামনে স্নিগ্ধতা, শারাফের এমন অদ্ভুত ব্যবহার, আর তার ওপর স্নিগ্ধতার প্রশ্ন। কথাটা শুনে কাগজটা ঘুরিয়ে দেখলো আবির।
ওতে থাকা সরি লেখাটা ‘খট’ শব্দে যেনো আঘাত হানলো ওর মাথায়। শব্দ অনুসরন করে আবির পাশে তাকিয়ে দেখে কেরানী রুমের দরজা লাগিয়েছে, সেই শব্দ ছিলো ওটা। একপলক শারাফের দিকে তাকালো ও। শারাফ সরুদৃষ্টিতে ঘাড় নাড়ালো। যারমানে ‘কাগজটা স্নিগ্ধতার হাতে না পৌছালে তোকে দিয়ে আজ হোলি খেলবো আবির!’ ফোকলা হেসে আবির স্নিগ্ধতার হাতে কাগজটা গুজে দিলো তৎক্ষনাৎ! বললো,
-কো ইন্সিডেন্টলি যখন এটা আপনার কাছেই এসেছে, রাখুন না হাতে! কি এমন আসবে যাবে বলুন? কিন্তু আপনি এটা না রাখলে আমার অনেককিছু আসবে যাবে! সো প্লিজ!
কাচুমাচু হয়ে শারাফের দিকে তাকিয়ে কোনোমতে কথা শেষ করলো আবির। পরপরই ছুট লাগালো। স্নিগ্ধতা শক্ত হয়ে দাড়িয়ে রইলো। শারাফ একটা বিশ্বজয়ের হাসি দিয়ে এগোলো ওর দিকে। প্যান্টের পকেটে দুহাত গুজে দাড়িয়ে বললো,
-নিন মিস স্নিগ্ধতা! ঠিকঠাকমতো আপনার এন্সারশিট কালেক্ট করেনি বলে, ওইদিন যে দুজন এন্সারশিট কালেক্ট করার দায়িত্বে ছিলো, তাদের দুটোকে দিয়েই সরি বলিয়েছি আপনাকে। এবারও কি অভিমান করেই থাকবেন? নাকি ভাব করে নেবেন?
কানের পেছনে চুলকানোর ভঙিমায় বললো শারাফ। স্নিগ্ধতা একপা এগোলো। শারাফের চোখে চোখ রেখে ধরা গলায় বললো,
-আমার সাথে মাইন্ডগেইম খেলা বন্ধ করুন মিস্টার শারাফ। আপনার কথা, কাজ,উপস্থিতি সবকিছু আমার কাছে অসহনীয় লাগছে! নিতে পারছি না আমি! সো জাস্ট স্টে এওয়ে ফ্রম মাই আই-সাইট! প্লিজ!
কথাগুলো যেনো স্নিগ্ধতার গলায় দলা পাকিয়ে আসছিলো। কোনোমতে বলা শেষ করে চলে আসলো ও শারাফের সামনে থেকে। শারাফ একবর্ণ বললো না। দুহাত মুঠো করে চুপচাপ ওর চলে যাওয়া দেখলো কেবল।
#চলবে…

