নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ৩৭.

0
2

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

৩৭.

ঘুঘুডাকা মধ্যদুপুর। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে সাধারণ-জ্ঞানের বইটার পাতা উল্টাচ্ছে আবির। এককাপ চা আর একরাশ বিষাদের সাথে কয়েক পাতা পড়া শেষ করলো ও। তারপর টেবিলে থাকা কারেন্ট এফেয়ার্সের ওপর কপাল ঠেকিয়ে শুয়ে পরলো। পড়ার ক্লান্তিতে মাথা ধরে আছে ওর। সামনেই চাকরির পরীক্ষা। মাস্টার্স শেষ করার শুরুর দিকে পছন্দের চাকরিতে জয়েন করার জন্য বেশ চেষ্টা করেছিলো ও। হয়নি। ব্যক্তি-অধিনস্ত চাকরিতে যুক্ত হওয়ার অনিচ্ছা, আর আর্থিক সচ্ছ্বলতার জন্য সেরকম পারিবারিক চাপ ছিলো না ওর। সেকারনেই বোধহয় এতোদিন পড়াশোনা করা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু শারাফ বিদেশ থেকে ফেরার পর একপ্রকার বগলদাবা করে পড়াশোনায় গুজে দিয়েছে ওকে। ‘নিজের পায়ে দাড়ানো’ শিরোনাম আবিরের ওপর প্রতিষ্ঠার পণ করেছে যেনো ও। দৈনিক শোনাতে থাকে, চাকরী ছাড়া মেয়ে জুটবে না। এই এক যুক্তিতে এসে আবির এতোদিনে হার মানলো। শারাফের যুক্তি ভুল না। বউ পেতে হলে আগে জীবন নিয়ে সিরিয়াস হওয়া দরকার। আর তাই জীবনের এই সিরিয়াসনেস ধরে রাখতে গতরাতে পড়তে বসেছিলো আবির। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে গতরাতেই হুট করে ওর বাসায় চলে আসে শারাফ। ‘বেরোবো চল’ বলে ওকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে পরে। পুরোটা রাত শারাফের সাথেই ছিলো ও। যেহেতু শারাফের জন্য রাতের পড়া হয়নি, এজন্য সকালসকাল ক্যাম্পাসে আসতেই শারাফ বই ধরিয়ে দিয়ে লাইব্রেরিতে ঠেলে পাঠিয়েছে ওকে। সব মিলিয়ে বর্তমানে হুট করে পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পরা ক্লান্ত মস্তিষ্ক আবিরের। আর ওটা টেবিলে ঠেকানোর দুমিনিটও হয়নি। টেবিলে ‘ধুম’ শব্দে ঘুষির শব্দ শুনে ধরফরিয়ে উঠে বসলো ও। আৎকে উঠে বললো,

– বন্ধু পড়ছি! পড়ছি…

সামনে দাড়ানো মেয়েটাকে দেখে কথা শেষ করলো না আবির। ওর কপালে ভাজ পরলো কেবল। বুকে দুটো বই গুজে ভ্রুকুচকে ওরদিকে তাকিয়ে আছে অনু। সব মিলিয়ে এমনিতেও আবিরের চারপাশ ধুকছে। এসময় অনুর এমন ব্যবহার! বাকা হয়ে বসে, চেয়ারের পেছনে হাত রেখে আবির বললো,

– সমস্যা কি ম্যাডাম? এভাবে হঠাৎ টেবিলে চড় লাগিয়েছেন কেনো?

– এটা ভার্সিটির ক্যাফে। আপনার বেডরুম না যে দক্ষিণের চিপায় গিয়ে নেশা করে, এখানে এসে আরাম করবেন। ঘুমোনোর হলে অন্যকোথাও গিয়ে ঘুমান। বসতে দিন। অন্যটেবিলে জায়গা নেই।

আবির যেনো আকাশ থেকে পরলো। প্রথমত, সিনিয়রের সাথে এমন ভাষার চল নেই ক্যাম্পাসে। দ্বিতীয়ত, স্নিগ্ধতার সাথে চলাফেরা করা অনুকে এমন ভাষায় কথা বলার মেয়ে বলে মনে হয়নি ওর। তৃতীয়ত, সকালে ক্যাম্পাসের দক্ষিনদিকটার এক টঙে দাড়িয়ে সত্যিই আজ ও সিগারেট ধরিয়েছিলো। স্ট্রেসের জন্য মাঝেমধ্য এটা করে ও। শারাফের থেকে লুকিয়ে। কিন্তু সেটা অনু কিভাবে জানে? জানলেও এভাবে বলার মতো সাহস কি করে পেলো? অনু আবারো বললো,

– আর একটা ফ্রি এডভাইস দেবো? আপনি তো বেকার মানুষ। পনেরো টাকার সিগারেট না কিনে, পাঁচটাকার বিড়িতে কাজ চালালেই পারেন। আপনার বাবার টাকা কিছুটা রক্ষা পেতো।

ওর মুখে এমন সত্যবচন শুনে আবির অপ্রস্তুত হয়ে যাচ্ছিলো। পরপরই নিজের অবস্থান মনে পরে গেলো ওর। সিনিয়রিটি জাহির করতে এবার উঠে দাড়ালো ও। কিছু বলতে যাবে, তখনই দেখলো অনুর পেছন থেকে স্নিগ্ধতা ওদের দিকেই আসছে। কাধে ব্যাগ, পরনে গাঢ় খয়েরি রঙের বড়হাতা কুর্তা, সাদা ধুতি আর গলায় ওড়না। আবির একপলক অনুকে দেখে নিয়ে স্বাভাবিক হলো। স্নিগ্ধতা এগিয়ে এসে সালাম দিলো ওকে। সালামের উত্তর নিয়ে আবির হেসে বললো,

– কেমন আছেন মিস স্নিগ্ধতা? সব ঠিকঠাক?

স্নিগ্ধতা অনুর দিকে তাকালো। অস্বস্তি লাগছে ওর। ও জানে আবির শারাফের অনেক ভালো বন্ধু। আগেরদিন এক অদ্ভুত পরিবেশে শারাফকে ভালোবাসি বলেছে ও, শারাফ ওর কপালে ঠোট ছুইয়েছে। আর এই মুহুর্তে ওর কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর যেটা, এসব আবিরের জানা অস্বাভাবিক নয়। ও বেশ বুঝলো, ‘সব ঠিকঠাক?’ প্রশ্নটা ওকে লজ্জায় ফেলার জন্যই করেছে আবির। নিজেকে সামলে তবুও ঠোটে জোরালো হাসি ফুটালো স্নিগ্ধতা। বললো,

– জ্ জ্বী আলহামদুলিল্লাহ। আপনি?

– এইতো! আপনার শারাফ স্যারের কৃপায়, বউয়ের জন্য বইয়ে আসক্ত হওয়ার চেষ্টায় আছি আরকি।

স্নিগ্ধতা ওড়না শক্তমুঠো করলো নিজের। ‘আপনার শারাফ স্যার’ কথাটা ওর জন্য ঝড়ো বলে মনে হলো যেনো। শুকনো ঢোক গিললো একটা। বললো,

– আ্ আর আমি আপনার বয়সে ছোট ভাইয়া। তুমি করেই বলুন।

– হ্যাঁ। ওই একই হলো। তোমার শারাফ স্যার আরকি…!

স্নিগ্ধতা আরো ইতস্তত করতে লাগলো এবারে। আবির হাসি বাড়িয়ে বললো,

– হেই ডোন্ট গেট নার্ভাস! সি! তুমি আমাকে ভাইয়া ডাকছো, শারাফকে স্যারের পরিবর্তে নাম ধরে ডাকবে, তোমাকে শারাফ তুমি করে বলবে, কেমন সুন্দর একটা ভাইব আসছে না?

– কেমন বিশ্রি একটা স্মেল আসছে নারে স্নিগ্ধতা? সিগারেটের মতো?

অনুর কথায় তৎক্ষনাৎ মুখ বন্ধ হয়ে গেলো আবিরের। এই অকাজ করার পর দু দুটো চকলেট আর চা খেয়েছে ও। একবিন্দুও স্মেল থাকার কথা না। তারপরও অনু ওকে খোচাতে কথাটা বললো। স্নিগ্ধতা অনুর দিকে কড়া চোখে তাকালো। পরিস্থিতি সামাল দিতে আবির গলা ঝারলো নিজের। বললো,

– এহেম, ও্ ওকে স্নিগ্ধতা। তুমি করেই বলছি তবে। আর আমাকে ভাইয়া বলে ডেকেছো যখন, বসো। কি খাবে বলো?

– না ভাইয়া। কিছু খাবোনা।

– আরেহ খাবেনা কেনো? সিনিয়রের ট্রিটে না বলা বারন। জানোনা?

– সত্যিই খাবোনা কিছু ভাইয়া। তবে আপনার সাথে কিছু কথা ছিলো। তাই…

– শারাফ ক্যাম্পাসে নেই। ছাত্রহলে গেছে একটু।

স্নিগ্ধতা একটু থেমে রইলো। তারপর স্থিরকন্ঠে বললো,

– আমি অন্যকিছু জানতে চাইছি।

আবির হাসি কমালো। স্নিগ্ধতার শেষ কথায় গম্ভীরতার ছাপ। মজা করার মতো কিছু হবে না ব্যাপারটা চেয়ার টেনে বললো,

– ওকে বসো।

স্নিগ্ধতা ঘুরে অন্যদিকের চেয়ারটায় বসতে যাচ্ছিলো। অনু আগেআগে ওটায় বসে গিয়ে বললো,

– তুই ওদিকেই বস স্নিগ্ধতা। আমার সিগারেটের গন্ধ সহ্য হয় না।

স্নিগ্ধতা আবারো ওরদিক চোখ পাকালো। আবির অনুর মুখোমুখি বসে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। সমস্যাটা কি মেয়েটার? এভাবে একইকথা বারবার ওকে শোনাচ্ছে কেনো? প্রথমদিন ফান্ডের টাকাটা দিয়ে ওকে হেল্প করেছিলো ও আর শারাফ। তাহলে ওর সাথে এমন শত্রুর মতো ব্যবহারের কারন কি? আবিরের চাওনি অনু গায়ে লাগালো না খুবএকটা। ও বললো,

– শারাফ স্যার হলে কেনো গিয়েছেন? জানেন কিছু?

– হবে হয়তো নতুন কারো সিট লাগবে। তাকে নিয়ে গেছে মনেহয়।

– সিট তো আগেই দিয়ে দিয়েছে। উনি এই অসময়ী হল এলোটমেন্টে ইনভল্বড কি করে?

স্নিগ্ধতার প্রশ্ন শুনে আবির না সুচক মাথা দুলালো। বললো,

– তুমি যেভাবে ভাবছো সেভাবে না স্নিগ্ধতা। শারাফ রাজনীতিতে ইনভল্বড না। ওর বড়ভাইয়ের একটুআধটু চেনাজানা আছে, এই যা।

– মিস্টার আরাফাতকে চেনেন?

হঠাৎ এমন প্রশ্নে অবাক হলো না আবির। মৃদ্যু হেসে বললো,

– কফি?

– না৷ শুধু উত্তরটা চাইছি।

আবির চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো। বুঝলো স্বিগ্ধতার আগ্রহ অনেকটা বেশি। একটু সময় নিয়ে বললো,

– ক্যাম্পাসে থাকতে আরাফাত শারাফের বেস্টফ্রেন্ড ছিলো স্নিগ্ধতা।

স্নিগ্ধতার দৃষ্টি অনেকটা প্রসারিত হলো। তারমানে ও যা ভেবেছিলো, তাতে কোনো ভুল নেই। গতদিন শারাফ ওকে সময় দেয়নি এ নিয়ে প্রশ্ন করার। আলিঙ্গন ছেড়ে, দ্বিতীয়বারের মতো কপালে চুমো দিয়ে বেরিয়ে এসেছিলো ওদের বাসা থেকে। শারাফ আরাফাতের সম্পর্ক নিয়ে স্নিগ্ধতা আন্দাজ করেছিলো কিছুটা। সাথে এটাও বুঝে যায়, শারাফের কাছে আরাফাতের প্রসঙ্গ তোলা মানানসই নয়। তাই নিশ্চিত হতে আবিরের কাছ থেকে জানার সিদ্ধান্ত নেয় ও। আবির বললো,

– দুটো আলাদা মানুষ, আলাদা ডিপার্টমেন্ট। কিন্তু তবুও শারাফ-আরাফাত কখনো আলাদা নামে পরিচিতি পেতো না ক্যাম্পাসে। একনামে শারাফাত বলে ডাকা হতো ওদের। বন্ধুত্ব কি, ভ্রাতৃত্ব বললেও বোধহয় কম হতো ওদের সম্পর্কটাকে। আমরা পুরো ব্যাচ জানতাম, ওদের দুজনের একত্র হওয়া মানে প্রতিবার আমেজিং কিছু। একজন হিউম্যান সাইকোলজি অবজারভেশনে দক্ষ, আরেকজন আইটি সেক্টরে। ক্লাসব্রেকে আমরা যেমন আরাফাতের কোডিং স্কিলে অভিভুত হতাম, তেমনি শারাফের জিনিয়াস মাইন্ডগেইমগুলোতেও বশ হয়ে যেতাম। আড্ডা, পার্টি, দুষ্টুমি, সবমিলিয়ে দিনগুলো…

আবির দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। স্নিগ্ধতা বললো,

– এতো ভালো সম্পর্ক? তাহলে সে বন্ধুত্বের এই পরিনতি কেনো?

– বিশ্বাস করো স্নিগ্ধতা, এটা আমরা কেউ জানিনা। কি হয়েছে ওদের মধ্যে, মুলত আরাফাতের। কেননা শারাফ এখনো চায় আরাফাতের সাথে সবকিছু ঠিক করে নিতে, এখনো বন্ধুত্বনষ্টের কষ্টে গুমরে আছে ও। কিন্তু আরাফাত…তুমি জানো স্নিগ্ধতা? বরাবরই ওদের মতের, পছন্দের, সিদ্ধান্তের অনেক মিল ছিলো। আরাফাত কি চায় বা চাইছে, সেটা প্রতিবারই টের পেতো শারাফ। আমার অনেকবার মনে হয়েছে, শুধুমাত্র আরাফাতের জন্য জীবনে অনেক পছন্দের কথা না বলা রয়ে গেছে ওর। অনেক চাওয়া না চাওয়া হয়ে রয়ে গেছে ওর। অনেকটা।

– তবে শুধু আরাফাতের ক্ষেত্রে না, বন্ধুত্ব মানে শারাফ বোধহয় স্যাক্রিফাইজটাই বুঝতো। সবার ক্ষেত্রে। ইভেন এখনো এমনটাই বোঝে। সবার চাওয়া বোঝার অসাধারণ প্রতিভাটা যেমন ওপরওয়ালা ওকে দিয়েছে, তেমনি দিয়েছে নিজেরটা বিলিয়ে হলেও হাসিমুখে সবকিছু মেনে নেওয়ার গুন। এতোটা স্যাক্রিফাইজিং কাউকে পাওয়াটা আমি আমার ভাগ্যের ব্যাপার বলে মনে করি স্নিগ্ধতা। জানিনা আরাফাত কোন মাটিতে তৈরী। কেনো শারাফের সাথে এভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো, কেউই বুঝে উঠতে পারিনি আজও।

স্নিগ্ধতা চুপ করে মাথা নিচু করে রইলো। আবির এগিয়ে বসে টেবিলে দুহাত রেখে বললো,

– একটা কথা বলবো স্নিগ্ধতা? শারাফ তোমাকেও রিড করতে জানে৷ তুমি আমাকে এই প্রশ্নটা করবে সেটা ও জানতো। আমাকে গতরাতেই বলেছিলো এ বিষয়ে।

– এসব বলার জন্য মানাও করেছিলাম তোকে।

শারাফের আওয়াজ শুনে চোখ তুললো স্নিগ্ধতা। আবির দেখলো শারাফ ঠিক স্নিগ্ধতার পেছনে দাড়িয়ে। পরনে খয়েরীরঙা শার্ট। বুকে হাত গুজে আরামে বসলো আবির। শারাফ এসেছে মানে এই বিষয়ে আলোচনা এর বেশি বাড়বে না। ও লক্ষ্য করেছে, কেমন করে যেনো শারাফ স্নিগ্ধতার নিয়মিত পোষাক সমন্জস্যতা ঘটে। কোনোরকম পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই। অনু স্নিগ্ধতাকে ইশারা করলো পেছনে তাকানোর জন্য। কিন্তু স্নিগ্ধতা পেছন ফিরলো না। আবির বললো,

– এতো জলদি কাজ শেষ?

– কাজ আগেই শেষ। ঘুমোচ্ছিলাম।

– ওহ। হ্যাঁ। ঘুমোবিই তো। কাল রাতে তো একমুহূর্তের জন্য দুচোখের পাতা এক করিসনি। হ্যারে? চাঁদটা কি খুব সুন্দর ছিলো? ওটা দেখে সারারাত কাটিয়ে দিলি যে?

শারাফ এগিয়ে অন্যটেবিলের সামনে থেকে থেকে চেয়ার টেনে নিজেরদিকে রাখলো। তারপর দুপাশে পা দিয়ে স্নিগ্ধতার দিক হয়ে বসলো। চেয়ারের হেলান দেওয়ার জায়গাটায় দুহাত রেখে, থুতনি ঠেকিয়ে বললো,

– আমার ব্যক্তিগত চাঁদ আমাকে ভালোবাসি বলেছে, আমার হবে বলেছে। তো শেষবারের মতো একটা রাত, ওই আকাশের চাঁদের নামে করা উচিত বলে মনে হয়েছিলো আমার। তাই…

– হ্যাঁ তাইতো! তা এ বিষয়ে তোমার কি মত স্নিগ্ধতা? শারাফ ঠিক করেছে একরাত ওই আকাশের চাঁদকে উৎসর্গ করে? নাকি ওর সময়টা তোমার নামেই করা উচিত ছিলো?

আবিরের প্রশ্নে স্নিগ্ধতা নুইয়ে চুপচাপ বসে রইলো। শারাফ ওর দিকে একটুখানি উকি দিয়ে বললো,

– একজনের প্রশ্নকে উপেক্ষা করেছি বলে সে কি আমার দিকে না তাকিয়ে, আমাকে উপেক্ষার পণ করেছে?

– বলি একজনের নজরবন্দির অভাবে আমি যে ক্যাফের বাকিসব মেয়েগুলোর নজরে পরে যাচ্ছি, সে খবর কি রেখেছে কেউ?

স্নিগ্ধতা এবারেও জবাব দিলো না৷ ডানপাশের মেয়েদুটোকে তাকিয়ে দেখলো শুধু। ও খেয়াল করেছে, ওরা শারাফ আসার পর থেকে ওকে দেখেই মিটমিটিয়ে হাসছে। রাগ হলেও নিজেকে সংবরন করলো স্নিগ্ধতা। তবে শারাফ উঠে দাড়ালো এবারে। ওকে উঠতে দেখে আবির চেয়ার ছেড়ে দিলো। ‘এন্জয় দ্যা ডে স্নিগ্ধতা’ বলে, বই আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে বেরিয়ে গেলো ও। শারাফ এসে ওর চেয়ার নিয়ে ঠিক সামনে বসলো স্নিগ্ধতার। ওকে এতোটা কাছে দুরুত্ব ঘুচিয়ে বসতে দেখে, দুরন্ত চোখে আশপাশে তাকালো স্নিগ্ধতা। শারাফ কোনোদিক পাত্তা না দিয়ে সোজা হাত ধরলো ওর। তারপর কোথথেকে একমুঠো কাচের গাঢ় খয়েরীরঙা চুড়ি বের করলো। স্নিগ্ধতার হাতে ওগুলো আলতোভাবে পরিয়ে দিয়ে, মৃদ্যুকন্ঠে বললো,

– অভিমানটা তোমাকে অলংকারের মতো মানায় স্নিগ্ধতা। তুমি বরং এমন অভিমানী হয়ে থেকো। আর আমি না হয় প্রতিবার এই অভিমান মিটিয়ে প্রেম ঝরাবো। স্নিগ্ধতায় স্নাত হবো। কেমন?

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here