নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ৪১.

0
2

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

৪১.

স্নিগ্ধতা শারাফের একদম সামনে এসে দাড়িয়েছে তার মিনিটতিনেক পেরিয়েছে। কিন্তু এতোক্ষনেও বদলায়নি শারাফের দৃষ্টি। স্নিগ্ধতা আসার পর কেবল সোজা হয়ে দাড়িয়েছে ও। আর থমকে আছে সেভাবেই। অন্ধকারে নিমজ্জিত প্রান্তরে জোনাকি যেমন ঝলমলে আলোতে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়, আধারে ডোবা বিস্তর আকাশকেও যেমন চাঁদ একাকী মোহনীয়তায় সাজিয়ে দেয়, ঠিক তেমনভাবেই যেনো এই মুহুর্তে ওর চারপাশ স্নিগ্ধতায় ডুবেছে। সাদা ওড়নায় ঘেরা ফর্সা মুখশ্রী, সিক্ত তুলির মতো চোখের পাপড়ি, অতিশয় হালকা গোলাপী ঠোঁটজোড়া, গলার দুপাশে নাগিনের মতো পরে থাকা চুলের বাহার…শারাফ তাকিয়েই রইলো। তবে স্নিগ্ধতা দৃষ্টিনত করেছে। আঙুলের নখ দেখতে দেখতে বললো,

– এভাবে চলে এসেছেন…

– বিয়ে করতে থোরি এসেছি যে শেরওয়ানিতে আসবো। আসার কথা ভাবার সময় যে বেশে ছিলাম, সে বেশেই চলে এসেছি। চেঞ্জ করার সুযোগ পাইনি।

ভ্রুকুটি করে তাকালো স্নিগ্ধতা। বললো,

– আমি তা কখন বললাম? আমিতো বলছিলাম…

– কি?

আগ্রহী চাওনিতে স্নিগ্ধতার দিকে ঝুকলো শারাফ। স্নিগ্ধতা একপা পেছোলো। শারাফের দিকে ড্যাবড্যাবে চোখে তাকিয়ে থেকে বললো,

– এ্ এতো রাতে হঠাৎ?

শারাফ মুচকি হেসে, পেছনে গাড়িতে হাত রেখে দাড়ালো এবারে। বললো,

– আবিরের সাথে কথা বলছিলাম। হঠাৎ বলে উঠলো, আজকের চাঁদটা নাকি সুন্দর। তাই চেইক করতে আসলাম।

স্নিগ্ধতার সরু চাওনি। এই লোকটা এমনভাবে কথা বলে, জবাব খুজে পাওয়ার জন্য নিজেকেই খুজে পায়না ও। শারাফ কিছু বললো না আর। চোখের ইশারায় গাড়িতে ওঠার জন্য বললো ওকে। একপলক বাসার দিকে তাকিয়ে গাড়িতে চড়ে বসলো স্নিগ্ধতা। ড্রাইভিং সিটে এসে বসলো শারাফ। স্নিগ্ধতা সিটবেল্ট লাগিয়ে বললো,

– কোথায় যাচ্ছি?

– একটা স্পেশাল জায়গায়। ফর মাই স্পেশাল ওয়ান।

– আচ্ছা? তা কি এমন স্পেশালিটি সেখানকার, যে এতো রাতে, আমার ভাইয়াকে ম্যানেজ করে হলেও সেখানে যেতে হবে?

– তুমি যাচ্ছো, এটাই সেখানকার স্পেশালিটি। আর কিছু লাগেনা।

হেসে দিলো স্নিগ্ধতা। শারাফ ওর হাসিটার দিকে তাকিয়ে থেকে বললো,

– এই হাসিতে সব নিকষতার ইতি।

– আব্…আ্ আপনি ভাইয়াকে কি বলেছেন?

– তোমায় নিয়ে বেরোবো।

– ব্যস? এটুকোতেই ভাইয়া রাজি হয়ে গেলো?

– হবে না কেনো? জানে আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। যখনতখন প্রেম করার প্রেমিক-প্রেমিকাগত অধিকার আছে আমাদের! তাছাড়া, সে নিজেও তো কম ডোবেনি।

হাসলো শারাফ। ওর হাসিটা কেমন যেনো বিদ্রুপ মনে হলো স্নিগ্ধতার কাছে। তারপরও সে বিষয়ে কিছু বললো না ও। বললো,

– আপনার এই প্রেমিকগত অধিকারের মধ্যে আর কি কি আছে শারাফ?

– তোমাকে আগলে নেওয়ার অধিকার। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটাকে সবচেয়ে সুন্দর মুহুর্তগুলোর সাথে সাক্ষাৎ করানোর অধিকার, তার চারপাশকে পবিত্রতায় ছেয়ে রাখার অধিকার, তার হাসিতে বাধনছাড়া হবার অধিকার, তার জন্য কুজ্ঝটিকা রচনা কিংবা ইতি টানার অধিকার। আর পরিশেষে, তার স্নিগ্ধতায় স্নাত হওয়ার অধিকার। আর আমার মতে, ইহজনমে এরচেয়ে সুন্দর আর কিছুই হতে পারে না।

স্নিগ্ধতা মৃদ্যু হাসিতে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। শারাফ দ্বিতীয়বার বলে উঠলো,

– এমনি কোনো এক চাঁদনী রাত, আমার সাথে আমার নিজস্ব চাঁদ, আমি এক ‘স্নিগ্ধস্নাত প্রেমিক’ আর আমাদের নাম করে বিনিদ্র রাত। কেমন হবে সে মুহুর্তগুলো? ভাবতে পারো স্নিগ্ধতা?

স্নিগ্ধতা দুহাতে মুখ ঢাকলো এবারে। টের পেলো, শারাফের আগের কথাতেই লজ্জা পাওয়া উচিত ছিলো ওর। তাহলে শেষ কথাগুলো বলতো না শারাফ। আওয়াজ এলো,

– চোখ মেলে আশপাশ দেখো স্নিগ্ধতা। তুমি এসেছো বলে চারপাশে আজ আলাদাই উন্মাদনা। দেখো?

স্নিগ্ধতা আঙুলের ফাকে সামনে তাকালো। দু চারটে গাড়ির যাতায়াত ছাড়া সামনে কিছু নেই তেমন। শারাফের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচালো ও। শারাফ বললো,

– ওপস্! সেরকম কিছুই নেই দেখছি। তুমি কি কিছু এক্সপেক্ট করেছিলে?

কপাল কুচকে আসলো স্নিগ্ধতার। শারাফ ওরদিক উকি দিয়ে, কিছু একটা পরখ করে বললো,

– তোমার কপালে ভাজ? মিথ্যে পছন্দ করোনা বুঝি?

– ম্ মানে?

– মানে ধরো, দুদিন পর জানলে, এতোদিন আমি তোমাকে মিথ্যে বলে এসেছি। মিছেমিছে ভালোবাসি বলেছি, আমার কোনো স্বার্থের জন্য। এতোদিন যা করেছি, সবটা সেটআপ ছিলো। এটা জানার পর তুমি কি করবে স্নিগ্ধতা?

স্নিগ্ধতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। দুদন্ড নিয়ে শারাফ হেসে দিলো শব্দ করে। বললো,

– এতো সিরিয়াস লুক? এইনা হলে ইন্সপেক্টর সাইফ এহমাদের বোন!

– এটা মোটেও ঠাট্টার পর্যায়ে পরে না।

– অভিমান করলে?

– ভালোলাগছে না কিছু আমার। গাড়ি ঘোরান। বাসায় যাবো আমি।

– তুমি জানো আমি তোমার অভিমান মেটাতে জানি।

স্নিগ্ধতা জবাব না দিয়ে, গম্ভীর মুখ করে বাইরে তাকিয়ে রইলো। খানিকটা পরেইগাড়ি থামালো শারাফ। কিছুসময় পার হলো দুজনের নিরবতায়। কিন্তু পরপরই ভ্রুকুটি করতে বাধ্য হলো ও। ওদের গাড়িটা একটা ফ্লাইওভারের ওপর। আর নিচ থেকে একের পর এক লাভ আকারের হাইড্রোজেন বেলুন উপরে উঠছে। আর তাদের প্রত্যেকটার গায়ে স্মাইলি ইমোজি আঁকা। স্নিগ্ধতা গাড়ির কাচ নামিয়ে দিলো এবারে। পাশ থেকে ঠিক তখনই শারাফ ‘নীলচে তারার আলো’ গানটা হুইস্টলিং করে উঠলো। চমকে উঠে পাশ ফিরলো স্নিগ্ধতা। শারাফ সামনে তাকিয়ে আছে। স্নিগ্ধতাকে তাকাতে দেখে চমকানোর ভান করলো ওউ। বললো,

– ডিস্টার্ব হচ্ছো? ওকে সরি!

আবারো বাইরে তাকালো স্নিগ্ধতা। আকাশভরা লালরঙা লাভ আকারের হাইড্রোজেন বেলুন। বশীভূতর মতো গাড়ি থেকে নেমে আসলো ও। শারাফও নেমেছে। ফ্লাইওভারের কিনারার দিকে এগোলো দুজনে। শারাফ কিছুটা পেছনে দাড়ালো স্নিগ্ধতার। একের পর এক হাইড্রোজেন বেলুন উড়ে উপরে চলে যাচ্ছে স্নিগ্ধতার সামনে দিয়ে। টের পেলো, ওর ঠিক পাশে ব্রীজে পা ঠেকিয়ে দাড়ালো শারাফ। সেদিকে তাকালো না ও। শারাফ কিছুক্ষন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো স্নিগ্ধতার চোখমুখে ছড়ানো উচ্ছ্বাসের দিকে। তারপর ব্রীজে ঠেকানো গিটারটা হাতে নিয়ে অকস্মাৎ সুর তুলে গেয়ে উঠলো,

‘ তোমার জন্য নীলচে তারার একটুখানি আলো
ভোরের রং রাতে মিশে কালো…
কাঁঠ গোলাপের সাদার মায়া মিশিয়ে দিয়ে ভাবি
আবছা নীল তোমার লাগে ভালো…

স্নিগ্ধতা আকাশ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে শারাফের দিকে তাকালো। মৃদ্য বাতাসে ওর মাথা থেকে ওড়না পরে গেছে। ছাড়া চুলগুলো উড়ছে স্নিগ্ধতার। অভিমানী চোখজোড়ায় মুগ্ধতা দেখে বর্ধিত হলো শারাফের হাসিটা। একবুক সুখ নিয়ে আবারো গাইলো,

ভাবনা আমার শিমুল ডালে, লালচে আগুন জ্বালে
মহুয়ার বনে মাতাল হাওয়া খেলে।
একমুঠো রোদ আকাশ ভরা তারা,
ভিজে মাটিতে জলের নকশা করা,
মনকে শুধু পাগল করে ফেলে।
তোমায় ঘিরে এতগুলো রাত অধীর হয়ে জেগে থাকা…
তোমায় ঘিরে আমার ভালো লাগা ।
আকাশ ভরা তারার আলোয় তোমায় দেখে দেখে…
ভালোবাসার পাখি মেলে মন ভোলানো পাখা (ii)
একমুঠো রোদ…পাগল করে ফেলে(ii)
তোমার জন্য নীলচে তারার…

শারাফের গানের সাথে বেলুন ওড়াও বন্ধ হলো। দ্রুতপদে আরো ফ্লাইওভারের কিনারায় এগিয়ে নিচে তাকালো স্নিগ্ধতা। ঠিক নিচেই রাস্তার ধারে একটা টংয়ের দোকান। মোটামুটি পঁচিশ-ছাব্বিশজন ছেলে পনেরো বিশটার মতো বাইক ঠেকিয়ে বসে আছে সেখানে। চা খাচ্ছে আর আড্ডা দিচ্ছে। ওকে দেখে ‘হাই’ দিলো সকলে। তারপর নিজেদের মতো ব্যস্ত হয়ে পরলো। স্নিগ্ধতা হা হয়ে তাকিয়ে রইলো। বন্ধুত্বের এমন রুপও হয়? শারাফের দিকে তাকালে ও মুচকি হেসে বললো,

– চব্বিশজনের ব্যাচট্যুর। এভাবেই দলবেধে বাইকে হাজারো মাইল পাড়ি দেই আমরা। এবার আমার যাওয়া হয়নি বলে সবগুলো বলছিলো, তোর জন্য কি আনবো শারাফ। হাইড্রোজেন বেলুনের কথা বলেছিলাম। তখন মজা নিলেও, এখন তো দেখছি একেকজন মিনিমাম পাঁচটা করে এনেছে। আবির তোমার বিষয়ে বলেছে বোধহয় ওদের। তাই…

শারাফকে অবাক করে দিয়ে, আচমকা ওকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো স্নিগ্ধতা। সেকেন্ড কয়েকের জন্য শ্বাসেরা থমকে গেলো শারাফের। হঠাৎ নামা বর্ষনের মতো বুকজুড়ে শান্তি অনুভব হচ্ছে ওর। স্নিগ্ধতা ওর টিশার্ট আঁকড়ে ধরে ফুপিয়ে উঠে বললো,

– আ’ম সরি!

শারাফ তৎক্ষনাৎ দুহাতে জড়িয়ে ধরলো স্নিগ্ধতাকে। ওর চুলে চুমো দিয়ে বললো,

– সরি কেনো বলছো? তুমি জানো? আমার জীবনে তোমার আগমন কোনো প্রলয়ের চেয়ে কম না। প্রথমবারের দেখায় তোমাকে প্রলয়া ডেকেছিলাম আমি। কিন্তু ঠিক তার পরেরমুহুর্তে টের পাই, যাকে আমি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রলয়া নাম দিয়েছি, সে ওই চাঁদের মতো সুন্দর, স্নিগ্ধ। তার অভিমানও ওই চাঁদগলা আলোর মতোই স্নিগ্ধ। জানি, অভিমান মানায় তোমাকে। তবে এতো সহজে আকাশের চাঁদকে দুহাতের মাঝে পাওয়া যায়, এটা জানতামনা। স্নিগ্ধতার প্রলয়ে ডুবেছি আমি। ভালোবাসি তোমাকে। আর তোমার জন্য শুধু অভিমান কেনো, সাত-খুনও মাফ।

আবেশে শারাফকে আরো জাপটে জড়িয়ে ধরলে স্নিগ্ধতা। শারাফের হাতঘড়ি বিপ শব্দ তুললো। স্নিগ্ধতা তাকিয়ে দেখলো, মধ্যরাত। এই প্রথমবার রাতের গহীনতাকে গুরুত্ব দিলো না ও। ভুলে গেলো বাকিসব। মুখ গুজে রইলো শারাফের বুকে…

সাইফ ল্যাপটপে ব্যস্ত। আগের একটা কেইসের ব্যাকগ্রাইন্ড ঘাটাচ্ছে মুলত। ভিক্টিম ভার্সিটিরস্টুডেন্ট। বাবা মায়ের দুই ছেলের ছোটজন। খারাপ কোনো রেকর্ড নেই তার। এরপরও মাসছয়েক আগে জঘণ্যভাবে খু*ন হতে হয়েছে তাকে। সেই একই নিয়মে। নখ উপড়ে নেওয়া, চোখে এসিড ঢেলে দেওয়া, ঠোটে ব্লে*ডের আঁচড়, ভ্রু টেনে টেনে তোলা, পরিশেষে, গোপনাঙ্গ ভারী কিছুতে থেতলে দেওয়া। তবে সবার আগে যেটা, খু*নী আগে শিকারের শরীরে ড্রাগস্ পুশ করে নেয়। এমন কিছু, যাতে সে স্পষ্টভাবে টের পায়, তার সাথে কতো ভয়ানক কিছু হচ্ছে, অথচ বলা বা করার মতো বিন্দুমাত্র জোর পায় না। ছেলেটা বাসা থেকে বেরিয়েছিলো কোনো এক বই কেনার নাম করে। আর তারপর ওর বিগলিতপ্রায় লাশটা পুলিশ খুজে পেয়েছিলো খু*নের চারদিন পর। বস্তাবন্দি। খু*নী গুম করেনি কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। লাশটার সাথে ছোটছোট প্যাকেটে ওর নখ, ভ্রু অবদিও দিয়ে গেছে। এতো বিভৎস্য খু*ন আর নিখুতভাবে লাশ সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করার মতো মস্তিষ্ক কতোটা ভয়ানক আন্দাজ হলো সাইফের। বছরখানেক আগে বস্তা থেকে বের করা মৃতদেহের তাৎক্ষনিক তোলা ছবিটা দেখে আরো বিষিয়ে গেলে ওর মেজাজ। এমনভাবে খু*ন করেও সে খু*নি আইনের দৃষ্টি এড়িয়ে মুক্তভাবে ঘুরছে। প্রস্তুতি নিচ্ছে আরো হত্যাকান্ডের। আর কেইসের ইনচার্জ হয়েও, কোনো ক্লু না পেয়ে রীতিমতো হাত গুটিয়ে বসে আছে ও।

দৃষ্টি সরিয়ে নিলো সাইফ। হঠাৎ চকিত হয়ে সাইফ আবারো তাকালো ছবিটার দিকে। ছেলেটার কবজির জায়গাটায় আরো জুম করলো ও। ছেলেটার কবজিতে অর্ধচন্দ্রের মতো করে ছোট্ট একটা ট্যাটু করা। সাইফ ওর সুস্থ দশার ছবি বের করলো এবারে। দুটো ছবির পার্থক্যটা খুজে বের করতে খুববেশি সময় লাগেনি ওর। মৃত্যুর আগে ট্যাটুটা একদম পার্ফেক্ট আকারের ছিলো। কিন্তু মৃতদেহের কবজিতে থাকা ট্যাটুটা এবড়োথেবড়ো। সুক্ষ্মভাবে দেখলে বোঝা যাবে, সুচালো কিছু একটা দিয়ে ঘা দেওয়া হয়েছে বারবার সেখানে। জিভ দিয়ে ঠোট ভেজালো সাইফ। প্রতিটা খু*ন করার ক্ষেত্রে, শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা ছাড়া আঘাত করেনি খু*নি। কিন্তু এই ছেলেটার ট্যাটুকে ছাড় দেয়নি সে। কিন্তু কেনো? হাজারটা প্রশ্নের জোয়ারে ভেসে যাওয়ার আগেই কল আসলো ওর ফোনে। অচেনা নম্বর। সাইফ রিসিভ করলে কলটা। ওপাশ থেকে পুরুষালী আওয়াজে ভেসে আসলো,

– ঘুম হারাম হয়ে গেছে ইন্সপেক্টর?

– কে?

– নন ট্র্যাকার ফোন থেকে কল করেছি, অবশ্যই পরিচয় জানাবো বলে নয় ইন্সপেক্টর। বোঝা উচিত আপনার।

– কি চাই?

– একজনের সেইফটি।

– মানে?

– নয়াতলির সুবাস এপার্টমেন্ট সেকেন্ড ফ্লোর। ডক্টর নাজমুল। ও বেচারার একটু খোজখবর নেবেন প্লিজ। আর হ্যাঁ! নিজেরও যত্ন নেবেন। গুডনাইট।

কলটা কেটে যায়। সাইফ সেকেন্ডপাঁচেক অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো নম্বরটার দিকে। পরপরই শারাফকে কল করে ‘টুকিকে দেখো, আমাকে বেরোতে হচ্ছে।’ বলতে বলতে গাড়ির চাবি হাতে নিলো ও। ওপাশের কিছু না শুনে, কল কেটে বেরিয়ে পরলো বাসা থেকে।

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here