নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ৪২.

0
2

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

৪২.

‘সুবাস এপার্টমেন্ট’। আবাসিক এলাকার বহুতল এ ভবনটার সামনে বেশ অনেক লোকজন জড়ো হয়ে আছে। সকলের মাঝে চলছে গুন্জন। ভোরের আলো ফোটেনি এখনো। ফজর নামাজটা সেরে বাসায় ফেরার পথে কেউ আর বাসায় ফিরছে না। উপস্থিত মানুষজনের কথপোকথন শুনে দাড়িয়ে যাচ্ছে সেখানেই। তাদের কানাঘুষার বিষয়, দোতালার বাসিন্দা ডক্টর নাজমুলকে নাকি অপহরন করা হয়েছিলো। মধ্যরাত থেকে শুরু করে শেষরাত অবদি নাকি বেধরক পেটানো হয়েছে তাকে। কিছুক্ষন আগে এক ভ্যানওয়ালা এসে বাসার নিচে পৌছে দিয়ে যায় তাকে। আলোচনার শেষে ‘কর্মফল’ বলে মত ছুড়তেও ভুললো না প্রতিবেশীরা। ডাক্তার এ্যারেস্ট হবার পর থেকে কমবেশি সবাই জানে, এই ডাক্তার পদবীর আড়ালে মানুষটা কতোটা বিশ্রি মানসিকতার। তবে সবচেয়ে বড় দূর্ভোগ তো এটাই, সবটা জেনেও বাধ্য হয়ে ওই লোকটার একইসমাজে থাকতে হচ্ছে। ছিঃ ছিঃক্কার করে এলাকা থেকে নড়ানো যায়নি নাজমুল আর তার পরিবারকে। নির্লজ্জের মতো গা ছাড়া ভাবে বেচে আছে সেখানেই। আর উপেক্ষা আর নাক ছিটকানো প্রতিক্রিয়া নিয়ে থাকছে আশপাশের সব।

নিজবাসায় ডাক্তার নাজমুল বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে। পাশে দাড়ানো তার বউ ওড়না মুখে গুজে চুপ করে আছে। স্বামীর গায়ের ক্ষতগুলোর দিকে যতোবার তাকাচ্ছে, গায়ে কাটা দিচ্ছে তার। কারো প্রতি আক্রোশ কতোটা ভয়ানক হলে কেউ এভাবে আঘাত করে, ভাবতেই শিওরে উঠে, চোখ খিচে বন্ধ করে নিচ্ছে সে। ডাক্তারের চোখজোড়া সর্বোচ্চ ব্যাসার্ধে ফুলে আছে। চোখের পাপড়ি নেই। যেনো টেনে তোলা হয়েছে ওগুলো। ঠোটজোড়ায় শক্ত কিছুর ছোপ পরে আছে। সূচের আঘাত শরীরজুড়ে। চেহারা, বুক, পিঠ, বগল, হাতের জখমগুলো আরো ভয়ানক। ঘুমন্ত মানুষটা হঠাৎ বাইরে কেনো গিয়েছিলো, তার এই অবস্থা কিকরে হলো, কে করলো, কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। নার্স আস্তেধীরে জখমগুলো পরিষ্কার করলো। এতোক্ষণ কাতরালেও, ওষুধের ছোয়া পেয়ে ঘর কাপিয়ে আর্তনাত করে উঠলো ডাক্তার। সাইফ এতোক্ষণ সোফায় চুপচাপ বসে ছিলো। এবার উঠে এসে বেডের পাশে চেয়ারে বসলো ও। অজ্ঞাতনামার কল পেয়ে সর্বোচ্চগতিতে পৌছেছে এখানে। আর আসার পর ডাক্তারকে বাসার সামনে ভ্যানের ওপর অজ্ঞান হয়ে পরে থাকতে দেখেছে। তখনতখনই তাকে বাসায় নিয়ে আসে ও। কেউই ছিলো না সেখানে। লোক জানাজানি কিকরে হলো সেটা ভাবার সময়ও নেয়নি ও। তবে ডাক্তারের কুকর্ম কানে এসেছে ওর। সাইফ হাটুতে দুহাত রেখে এগিয়ে বসলো। ধীরস্থির গলায় বললো,

– আপনার এই অবস্থার জন্য কে দায়ী ডক্টর?

ডাক্তার শরীর মোচড়াতে মোচড়াতে ব্যথাতুর আওয়াজে বললো,

– চেহারা দেখিনি ইন্সপেক্টর! চেহারা দেখিনি!

– আপনার এমন অবস্থা কে করেছে, সেটা জিজ্ঞেস করিনি ডক্টর। আমি জিজ্ঞাসা করেছি আপনার এমন অবস্থার জন্য দায়ী কে? রোগীর সুযোগ নেওয়া আপনি? নাকি পুলিশকে ঘুষ দিয়ে কাস্টাডি থেকে বেরিয়ে আসা আপনি? কোন আপনি?

একপলক সাইফকে দেখে আবারো শারীরিক যন্ত্রনায় মুর্ছা গেলো ডাক্তার। নার্স বারবার তাকে একপাশ রাখার চেষ্টা করলেও, ব্যথার তোপে অনবরত বিছানায় এপাশওপাশ করছে সে। সাইফের কপালের রগ দৃশ্যমান হলো। সাইফ এগিয়ে বসে শক্ত তবে ধীরকন্ঠে বললো,

– এখনো সময় আছে ডক্টর। পাপ স্বীকার করুন নিজের। ঠিক কিসের জন্য কেউ এভাবে রাগ মেটালো আপনার ওপর? আর কতোধরনের অপকর্মে জড়িত আপনি?

কাতরাতে কাতরাতে একবার সাইফের দিকে তীক্ষ্ণ নজর ছুড়লো ডাক্তার। তার মিসেস ঝাঝালো গলায় বলে উঠলো,

– এসব কি ধরনের প্রশ্ন ইন্সপেক্টর? আপনার কাজ আমার স্বামীকে কে বা কারা এভাবে তুলে নিয়ে অত্যাচার করছে, তাদের খুজে বের করা। তা না করে আপনি…

মহিলার দিকে শীতল চাওনিতে তাকালো সাইফ। আটকে গিয়ে ছোটখাটো একটা ঢোক গিললো ভদ্রমহিলা। সাইফ নার্সকে ইশারায় ঠিকমতো ঔষধ লাগাতে ইশারা করলো। তারপর উঠে মিসেস নাজমুলের দিক এগিয়ে বললো,

– হ্যাঁ, কি বলছিলেন যেনো? অপহরণ করা অপরাধ আর আমার কাজ সেই অপরাধীকে খুজে বের করা। রাইট?

– বেশ ভালোই আইন জানেন দেখছি। তা বলুন তো? ডাক্তার হয়ে রোগীর সাথে অশ্লীলতা, পুলিশকে ঘুষ দেওয়া এগুলো অপরাধ কি না?

চেহারার সবটুকো রঙ উড়ে গেলো মহিলার। কোনোমতে বললো,

– ইন্সপেক্টর, আমিতো…

সাইফ জানতো মহিলার উত্তর নেই কোনো। একবর্ণও আশা করেনি তার কাছে। বরং কঠোর চাওনিতে তাকিয়ে ছিলো। মহিলাকে মুখ খুলতে দেখে রাগ বাড়লো ওর। দাতে দাত চেপে বললো,

– আপনার স্বামীর কিডন্যাপারদের খোজার বদলে আমি তাকে শ্লীলতাহানি আর ঘুষ দেওয়ার দায়ে এইমুহুর্তে লকাপে পুরতে পারি। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারি নিজের। এবং আমি সেটা করবোও। কিন্তু এখন না। আর আপনি যদি চান এখন আমি এমনটা না করে আগে এই কিডন্যাপারকে ধরি, তাহলে আমার প্রশ্নের মাঝে চুপ থেকে কো ওপারেট করুন। গট ইট?

সাইফের এ হেন কথায় ভদ্রমহিলা পুরোপুরিভাবে চুপসে গেলো। সাইফ আবারো ডাক্তারের দিকে ফিরে বসলো। তুখোড় চোখে তার শরীরের ক্ষতগুলোতে চোখ বুলিয়ে বললো,

– কিভাবে কি হলো ডক্টর? মাঝরাতে কি এমন প্রয়োজন ছিলো যে আপনাকে বাইরে যেতে হয়েছিলো?

ডাক্তার ব্যথায় ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আছে নিজের। চিৎ হয়ে শুয়ে আছে শক্তভাবে। নার্সের লাগানো ঔষধের জ্বালাপোড়ায় এদিক ওদিক কাৎ হবার চেষ্টাটুক ছাড়া, আর কিছুই করার ক্ষমতা নেই তার। সাইফের প্রশ্ন শুনে নড়াচড়া কমে আসলো ডাক্তারের। ঘাড় হেলিয়ে সাইফের দিকে তাকালো সে। সাইফের চোখজোড়ায় সততা আর আইনের প্রতি আনুগত্য জ্বলজ্বল করছে যেনো। ফোনকলে বিপদগ্রস্ত মেয়েলী গলা শুনে যে ও সুযোগ নেওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলো, এমনটা টের পেলে ওকে ভস্ম করে দেবে ওই চোখজোড়া। টের পেয়ে ডাক্তার ঢোক গিললো। বললো,

– এ্ একজন কল কে বললো তার বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। বাসার কাছের হসপিটালে গিয়ে দেখে সেটা বন্ধ। কি করবে কিছু বুঝে উঠতে পারছে না বলে সোজা আমার বাসার নিচেই এনেছে। আ্ আমি দেখলাম এতোরাতে বিপদে পরেছে, ডাক্তার হিসেবে তাকে হেল্প করা উচিত। আ্ আর নিচে নেমে গেইট পার হতেই ক্ কেউ মুখে রুমাল চেপে ধরে। এরপর আ….!

ঠোঁটের কাটা জায়গাটায় টান লেগে থেমে যায় ডাক্তার। সাইফ ঘৃণ্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললো,

– আপনার এতোসব কুকর্ম আছে জানার পরেও লোকজন আপনার কাছে চিকিৎসা নিতে আসে?

ডাক্তার চুপ। সাইফ তেমনি রগচটা স্বরে বললো,

– তারপর?

পরের ঘটনাগুলো মনে পরতেই ডাক্তারের শরীর ঝাকি দিয়ে উঠলো। জ্ঞান ফেরার পর, চোখের সামনে হঠাৎ আসা কিঞ্চিৎ আলোটা ওর জীবনের অন্ধকারতম মুহুর্ত ছিলো। আর আধারে থাকা আবছা অবয়ব, তা নিসন্দেহে ছিলো সবচেয়ে হিংস্র! ভয়ংকর!

অন্ধকার ঘরটা মৃদ্যু আলোতে ভরে উঠলো অকস্মাৎ। মোটামুটি মাঝারি আকারের ঘরটা। পুরো ঘর জুড়ে থাকার মধ্যে আছে শুধু পাঁচ-ছয়টা দুইপাশ খোলা শেলফ। প্রতিটায় লম্বালম্বিভাবে পাঁচ-ছয়টা তাক, নিচে একটা ড্রয়ার। তাকগুলোতে বিভিন্ন ধারালো সরন্জাম সাড়িয়ে রাখা। অতি যত্ন সহকারে সফট পেপারে মোড়ানো সেগুলো। ছোটবড় নানা আকারের সূচ, ছুরি, রিয়জেন্টের বোতল, দুচারটে রিভলবার, রক্তের দাগ লেগে থাকা পাথর, জুতো, হ্যান্ডগ্লাভস, মাস্ক, রেইনকোট আরো অনেককিছুই। দেয়ালে টাঙানো পুরোনো খবরকাগজের অংশবিশেষগুলোর দিকে এগোলো অবয়ব। আর ঠিক পাশের ভাঙা কাচের টুকরোয় প্রতিবিম্ব দেখা মিললো অগ্নিলার। আরেকজন একদৃষ্টিতে খবরকাগজে থাকা ছবিটার দিক তাকিয়ে। অগ্নিলা সামনের টেবিলে কাধের ঝোলানো সাইডব্যাগটা নামালো। বললো,

– আজ প্রথমবার অগ্নিলাকে কোনো প্লান এবর্ট করতে হলো।

– জানতাম প্রেম বিনাশী। ধারনাও করেছিলাম, এমনটা হবে। তো প্রথমবার এই প্রেম নামক বস্তুটা আমাদের পথ আগলে দিলো। চিয়ারস্ টু দ্যাট!

তাচ্ছিল্যে বলে, একটা বড় শ্বাস ফেলে ক্লান্ত শরীরটাকে চেয়ারে এলিয়ে দিলো অগ্নিলা। ডাক্তারের আজ ইতি হওয়ার ছিলো। ঠিক যেমনভাবে আগের মানুষগুলো গত হয়েছে, সেইভাবে। কতো সাজানো গোছানো প্লান ছিলো ওর। প্রথমে মেয়েলী লোভে ফেলে অপহরন, তারপর তাকে তড়পাতে দেখে চোখের শান্তি, এরপর পরপার। কতো সুন্দর হিসেব! কিন্তু সে হিসেবে গরমিল বাধিয়েছে প্রেমময় প্রহর। সুবাস এপার্টমেন্টে সাইফও পৌছে গেছে। সিরিয়াল কিলারের কেইসে এদিকেও মোড় ঘোরাবে ও। কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থেকে, টুকটাক শব্দ শুনে আবারো সোজা হয়ে বসলো অগ্নিলা। দ্বিতীয় ব্যক্তি সাইডব্যাগটা হতে একেএকে ভ্রু প্লাকার, ইঞ্জেকশন, স্টেথোস্কোপ, শকিং ইস্ত্রি, কিছু ঔষুধ আর পাউডার ড্রাগস বের করে আনছে। অগ্নিলা মুচকি হেসে চেয়ার ছেড়ে দিলো। সে পাউডারের প্যাকগুলো হাতে নিয়ে বসে গেলো চেয়ারে। নিস্পাপ কন্ঠে বললো,

– নারীর নেশা বড় নেশা তাইনা ডাক্তার? তাহলে এ নেশাতেই এতো দুর্বল হয়ে পরেছিলে কেনো?

হেসে দিলো অগ্নিলা। বুকে হাত গুজে দাড়িয়ে বললো,

-সেদিন তো খুব বলছিলো আমাকে ছোবে। আজ এতোক্ষন ছিলাম, একবারো বললো না, অগ্নিকন্যা, এই ড্রাগসে কাজে দেবেনা। তোমাকে লাগবে। একবারো বললো না এসো ছুয়ে দি তোমাকে। বেচারা!

– একবারো বললো না, তুমি ওই চাঁদের মতো সুন্দর। অথচ এই একটা কথাই ওর আগে পাঁচজনকে চিরমুক্তি দিয়েছিলো। এতো চেষ্টা করেও বলাতে পারলাম না।

মনটা খারাপ করে ফেললো দ্বিতীয়জন। এরপর ভ্রু প্লাকারটা হাতে নিয়ে বললো,

– এটা দিয়ে চোখের পাপড়ি টেনে তোলার সময় কেমন লেগেছিলো ডক্টর? চোখের আকার বেড়েছে না? ওই বর্ধিত চোখ দিয়ে আরো বেশিবেশি মেয়েদের দেখতে পারবে তুমি। সুবিধা করেছি না তোমার বলো?

ওটা রেখে আবার ইনজেকশন নিলো সে। বললো,

– শরীরের প্রতিটা লোমকুপ একেকটা ছিদ্র। বেচে থাকার জন্য ওপরওয়ালা তোমাকে দিয়েছে ডাক্তার। কিন্তু তুমি তো আবার রোগীকে ইন্জেক্ট করতে গিয়ে তার শরীরে বাজে স্পর্শ করতে যাও। বেচে থাকার অধিকার নেই তোমার। ওপরওয়ালার সমসংখ্যক না হলেও, কিছুটা ফিরিয়ে দিলাম তোমাকে। আমৃত্যু সযত্নে রেখো কেমন?

অবয়ব স্টেথোস্কোপের প্রান্তে আঙুল ছোয়ালো এবারে। অগ্নিলার দিকে ফিরে বললো,

– এতো জলদি তাপ শেষ? ডাক্তারের হার্টবিট চেইক করার সময় টু সেভেনটি ডিগ্রিতে গরম করেছিলাম না?

ঠোঁট টিপে হাসলো অগ্নিলা। সে থার্মোমিটারটা দেখিয়ে উৎকন্ঠার মতো করে বললো,

– এটা বগলে রেখে তাপমাত্রা মাপা রিস্কি ডক্টর! হতে পারে কাচের জিনিসটা ভেঙে গিয়ে তোমার শরীরে অসংখ্য আঁচড় দিয়ে গেলো! আবার মুখে পুরতে গেলেও সমস্যা! হতে পারে অসাবধানতাবশত কেউ পুরো থার্মোমিটারটাই তোমার গলা অবদি ঢুকিয়ে দিলো! তাইনা বলো? হতে পারে না? অভিজ্ঞতা আছে না তোমার?

কপাল শিথিল হলো আবছায়ার। শান্তশ্রান্ত ভঙিতে এবার শকিং ইস্ত্রিটার দিক তাকিয়ে রইলো সে। বললো,

– আমি ওইটাকে পুরো ফোর ফোরটি ভোল্টেজের চেয়েছিলাম। যাতে ডক্টর সেকেন্ডে কয়েকবার মরে যায়। আর তোমার এই টু টুয়েন্টি ভোল্ট! এটার জন্য আমাকে ওর যন্ত্রনা দেখতে চারসেকেন্ড অপেক্ষা করতে হয়েছে জানো?

অগ্নিলা ইস্ত্রির চারধারে আঙুল ঘুরিয়ে মৃদ্যুছন্দে অন্যপাশে গিয়ে দাড়ালো। বললো,

– অপেক্ষায় অনেককিছু মেলে। এটা তোমাকে আমার বোঝাতে হবে না নিশ্চয়ই?

সে রিয়জেন্টের বোতলটা হাতে নিলো। কি ভেবে আবারো টেবিলে রেখে, দু সেকেন্ডের মধ্যে হাতের ধাক্কায় নিচে ফেলে দিলো ওটা। অগ্নিলা অন্যদিকে এগিয়েছিলো। চমকে উঠে পেছন ফিরলো ও। ফ্লোরে পরে থাকা তরল থেকে সবুজ ধোয়া আসছে। অগ্নিলা বললো,

– ওর ওপর রাগ কেনো দেখাচ্ছো?

– কাজ হয়নি। আর যা অকেজো, তাকে যত্ন করার মতো আমিটা এখন নেই। মোহিনী ম্যাডামের একচোখ গেছে। ডাক্তারের দুচোখ যাওয়া আবশ্যক ছিলো। অথচ পারলাম না তেমনটা ঘটাতে।

– যা হয়েছে, হয়েছে। তবে সাইফ এহমাদকে নজরআন্দাজ করা যাবে না। ওকে চক্রবুহ্যে ফাসাতে গিয়ে যদি একচুলও ভুল হয়, সবটা শেষ হয়ে যাবে। সবটা।

– তবে একটা কথা। তোমাকে ‘নিজেকে সামলাও’ এ কথাটা বলার প্রয়োজনবোধ করিনি এতোদিন। আজ বলছি, নিজেকে সামলাও। নইলে সময়ের আগে অসময়ী ঝড়ে সব লন্ডভন্ড হয়ে যাবে। তখন না আমি বাচবো, নাইবা…

– তোমাকে মৃত্যুভয় মানায়। সামহাও, তুমি কি আমাকেও মৃত্যুর ভয় দেখাচ্ছো?

– না। যে এই পৃথিবীকে এতোটা ঘৃণা করে, তাকে মৃত্যুর ভয় দেখানো সাজে না। আর কিছু না জানলেও, আমি এটুকো জানি তার কাছে মৃত্যু মানে মুক্তি। এই বিষাক্ততা থেকে মুক্তি। আমি তো তোমার উদ্দেশ্যের বাচার কথা বলেছি। আর তোমার উদ্দেশ্যকে বাচাতে, তোমাকে বাচতে হবে।

মুচকি হেসে হাতঘড়িটা দেখে নিলো সে। বললো,

– এখন বেরোনো উচিত। এই কালকুঠুরির বাইরের সুস্থ স্বাভাবিক জীবন নামক নাটক আমাদের অপেক্ষা করছে। বাই।

অগ্নিলা মাথা ওপরনিচ করে হ্যাঁ বুঝালো। চুপচাপ বেরিয়ে গেলো সে। অগ্নিলা তাকালো সেই খবরকাগজের টুকরোগুলোর দিকে। পাঁচটে খু*নের ছবির সাথে সম্পর্কিত সে সব তথ্য-উপাত্ত, যেগুলো পুলিশেরও হাত লাগেনি। সর্ববামের ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলো অগ্নিলা। ওর আপাতদৃষ্টি বলে, সব বিধ্বংসের সূচনা সেখানে। কিন্তু মন বলে, এ কলঙ্কিত অধ্যায় আরো আগের! আরো পুরোনো। অগ্নিলা অন্যত্র চোখ আটকালো। দেয়ালের বামের শেষদিক বরাবর একটা অর্ধচন্দ্রাকৃতির কাঠের শোপিস ঝুলোনো। আর সেখানে সুন্দর করে খোদাই করা, “YS”

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here