#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
৪৭.
চৌধুরী নিবাসের বাগানের একাংশে হুল্লোড়, আরেকাংশে স্তব্ধতা। মোলায়েম বাতাসে ছন্দ তুলে হেলতেদুলতে থাকা ফুলগাছগুলো থমকে গেছে যেনো। তাদের অবস্থা এখন অনেকটা রুক্ষ দুপুরের তীব্র রোদের সংস্পর্শে এসে নেতিয়ে যাবার মতো। বাগানের একপাশে ইটবাধানো রাস্তাটায় মুখোমুখি দাড়ানো দুজন। তাদের কারো দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা অপরজনের চেয়ে কম নয়। তবে মুখভঙ্গিমার পার্থক্য আছে। একজন মুঠো করা হাত আর শক্ত চোয়ালে সহ্যশক্তি দেখাচ্ছে, তো অপরজন সুস্নিগ্ধ হাসিতে সামনেরজনের প্রতিক্রিয়া পরখ করছে। শারাফ ঠোটের হাসিটা আরো বর্ধিত করলো। মিনিটখানেকের নিরবতা কাটিয়ে বললো,
– শারাফের জিনিসে কেবলমাত্র আরাফাতের-ই হস্তক্ষেপ সম্ভব। মিস্টার এহমাদ জানেনও না এ কথাটা। তারপরেও দেখ, স্নিগ্ধতাকে নিয়ে যেতে, বেছেবেছে তোকেই পাঠিয়েছে সে। হোয়াট আ কো-ইনসিডেন্স!
নিজেকে সংবরন করলো আরাফাত। শারাফ আরেকটু হেসে বললো,
– আপাতদৃষ্টিতে এমনটা মনে হলেও আসল ঘটনা কিন্তু আলাদা আরাফাত। একচুয়ালি তোর এখানে আসার কারনটা স্নিগ্ধতা। ওই ওর ভাইকে বলেছে তোকে পাঠানোর জন্য। ও চায় আমরা মুখোমুখি হই, কথা বলে নিজেদের মধ্যেকার ঝামেলা মিটমাট করে নেই। ঝগড়া, ভায়োলেন্স একদমই পছন্দ করে না মেয়েটা।
আরাফাত মুখ খুললো। রাগ নিয়ে বললো,
– আর সেই মেয়েটাকেই ঠকিয়ে ভালোবাসার জালে ফাসিয়েছিস তুই!
ভ্রুজোড়া কুচকে বিস্ময় দেখালো শারাফ। বললো,
– সরি?
– অবাক হওয়ার নাটক করছিস?
– না। তুই যা বুঝাতে চাইছিস, সেটা বুঝতে চাইছি।
– তোকে পুরোপুরিভাবে চিনি আমি শারাফ। যেদিন প্রথমবার স্নিগ্ধতার ক্যানভাসে তোর ছবি দেখেছিলাম, সেদিনই বুঝে যাওয়া উচিত ছিলো আমার। যে স্নিগ্ধতা সবাইকে উপেক্ষা করে, সে কি করে তোর নামে আটকালো? কারন সবটাই তোর সাজানো ছিলো! তুই…
– তোর সত্যিই মনে হয় তুই আমাকে পুরোপুরিভাবে চিনিস?
শারাফ থামিয়ে দিলো আরাফাতকে। তবে আরাফাতের ভাবান্তর হলো না। অকস্মাক শারাফের হাত সামনে তুলে ধরলো ও। নমনীয় গলায় বললো,
– স্নিগ্ধতারও এখানটায়…ঠিক এখানটাতেই একটা কাটা দাগ আছে। শুধুমাত্র ওর দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য, ওর এটেনশন পাবার জন্য তোর কব্জিতেও এই একই দাগ ইচ্ছেকরে বাধিয়েছিস তুই। তাইনা?
শারাফও প্রতিক্রিয়া দেখালো না। উকি দিয়ে একবার হাত দেখলো নিজের। তারপর আগ্রহভরে আরাফাতের ব্যবহার দেখতে লাগলো। আরাফাত ওর হাত ছেড়ে দিয়ে বললো,
– তোর লক্ষ্য ছিলো স্নিগ্ধতার ক্যানভাসে জায়গা করে নেওয়া। অনু, ফাইনআর্টস, এমনকি সাইফের মাথাতেও এটা ঢুকিয়ে দেওয়া যে, স্নিগ্ধতা তোকে আঁকিয়েছে। ওর পছন্দের তুই! তাইনা? বল?
শারাফ ছাড় পেয়ে ডানহাতে বাহাতের কবজি মোচড়ালো। স্বাভাবিক গলায় বললো,
– এতোসব কিছুই না আরাফাত। আমি সত্যিই স্নিগ্ধতার পছন্দের। ও ভালোবাসে আমাকে৷ সিমিলারলি আমিও অনেকবেশি ভালোবাসি ওকে। আর সেটা মিস্টার এহমাদ বেশ ভালোমতোই মানে।
– মানতে বাধ্য করেছিস তুই সাইফকে।
আরাফাতের এ কথাতেও শারাফ আবারো আগ্রহের সহিত তাকালো ওর দিকে। বললো,
– রিয়েলী? তোর মনে হয় সাইফ এহমাদকে আমি বাধ্য করেছি আমার-স্নিগ্ধতার বিষয়ে ভাবতে?
– আমার মনে হয় বলে না। তুই এমনটাই করেছিস। স্নিগ্ধতা, সাইফ দুজনের কাছে নিজেকে এমনভাবে প্রেজেন্ট করেছিস যেনো ওরা তোকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়। নিজেদের সাথে তোকে জড়াতে বাধ্য হয়।
নিস্পলকভাবে কয়েকদন্ড ওর দিকে তাকিয়ে রইলো শারাফ। হঠাৎ কোথথেকে মুসকান ছুটে এসে, ওর পান্জাবীতে টান লাগালো। আরাফাতের দিক দৃষ্টি রেখেই, নিচু হয়ে বসলো শারাফ। মুসকান ওর গালে হলুদ ছোয়াতে যাবে, শারাফ দ্রুত গাল সরিয়ে নিয়ে বললো,
– এপাশে না মুসু। এপাশে তোর হবু ভাবী হলুদ ছুইয়েছে। তুই অন্যপাশে লাগা।
মুসকান শারাফের অপরগালে হলুদ লাগিয়ে নাচতে নাচতে চলে গেলো। আরাফাত নিথর হয়ে দাড়িয়ে। উঠে দাড়ালো শারাফ। ওর কাধে হাত রেখে বললো,
– দেখ আরাফাত…
ঝারা মেরে সরে দাড়ালো আরাফাত। শারাফ কোমড়ে দুহাত রেখে একটা হতাশার শ্বাস ফেললো। তারপর বললো,
– তোর ধারনা আমি স্নিগ্ধতা আর ওর ভাইকে আমার সাথে জড়াতে বাধ্য করেছি? তোর মনে হয় কাউকে কখনো ভালোবাসতে বাধ্য করা যায়?
– তুই সব পারিস।
– ভুল বললি আরাফাত। ভালোবাসায় বাধ্যবাধকতা খাটে না। তুই তো এতোগুলো দিন ওদের আশেপাশেই ছিলি। যদি কাউকে ভালোবাসতে বাধ্য করা যেতো, তাহলে তো তুইও পারতি স্নিগ্ধতাকে তোকে ভালোবাসতে বাধ্য করতে। এতোগুলো দিনে যেটা তুই করতে পারিসনি, সেটা আমি এ কদিনে কি করে পারবো বলতো? এমনটা কেনো মনে হচ্ছে তোর?
– অল্প সময়ে না। একটু একটু করে মাইন্ডগেইমটা ভালোমতোই খেলেছিস তুই। সাইফের সাথে যেদিন শপিংমলে তোর প্রথম দেখা হয়, সেদিন তুই লোক ঠিক করে স্নিগ্ধতার সাইডব্যাগ চুরি করতে বলেছিলি। যেনো প্রথম সাক্ষাতেই তোর প্রতি সাইফের একটা ভালো ইমপ্রেশন তৈরী হয়। হয়েছিলোও তাই। তুই ছিনতাইকারীকে ধরলি, স্নিগ্ধতার সাইডব্যাগ ফিরিয়ে দিলি, ওর কাটা হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলি, আর সাইফের সেদিন থেকেই বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করলো স্নিগ্ধতাকে আগলে রাখার জন্য তুইই পার্ফেক্ট।
শারাফ নিরব। আরাফাত তাচ্ছিল্যে হেসে বললো,
– এসব আমি কিভাবে জানলাম ভেবে অবাক হোস না। ওই টোকাই সেদিন ভীড়ে হারিয়ে যায়নি। আমার হাতে ধরা পরেছিলো। আমিও ছিলাম ওখানে। মাস্টারপ্লানার তুই, এরপরও তোর হাতে দু দুটো চড় খেতে হয়েছে ওকে। সেই রাগ, আর আমার হাতে আরো চারটে চড়ের ভয়ে সত্যিটা বলে দিয়েছিলো ও আমাকে।
…
– নিজেকে আঘাত করা অবদি ঠিক ছিলো। কিন্তু শারাফ, স্নিগ্ধতাকে হাসিল করবি বলে তুই সেদিন ওই টোকাইকে দিয়ে স্নিগ্ধতাকেও আঘাত করিয়েছিস। বিন্দুমাত্র বুক কাপেনি তোর!
আরাফাতের স্বর অধঃগামী। শারাফ পান্জাবীর একপকেটে হাত গুজে আরামে দাড়ালো। তাকিয়ে রইলো আরাফাতের দিকে। অনেকদিন পর কেউ এভাবে শোনাচ্ছে ওকে। শোনার আগ্রহ কেবলই বাড়ছে যেনো ওর। আরাফাত বলে চলেছে,
– অনুশোচনা থেকে ক্ষোভ, স্নিগ্ধতার অনুভূতির এমন পরিনতি থেকে তুই আমাকেও ছাড় দিসনি। আমার ভালোবাসাটা ওর চোখে যতোটাই বিশুদ্ধ ছিলো, ততোটাই ঘৃণ্য প্রমাণ করেছিস তুই। সেদিন স্টোররুমে অনুকে আটকে দেওয়া মানুষটা আমিই ছিলাম, সেটা তুই বলে দিয়েছিস স্নিগ্ধতাকে। প্রত্যাখানের সহমর্মিতার পরিবর্তে, আমার প্রতি এখন ঘৃণা কাজ করে স্নিগ্ধতার। আমার থেকে পুরোপুরিভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ও।
…
– মুহিবের কি দোষ ছিলো শারাফ? আমার মতো স্নিগ্ধতাকে একতরফা ভালোবাসতো। এটাই! সেই মুহিবকেও স্নিগ্ধতার কাছে ছোট করে দিয়েছিস তুই। ও যে তোর গাড়ির ব্রেকফেইল করিয়েছিলো, সেটা বলে দিয়েছিস তুই স্নিগ্ধতাকে। যাতে আমার মতো ওকে প্রত্যাখানের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা না হয় স্নিগ্ধতার। বরং রাগ হয়, মুহিব তোর ক্ষতি করতে চেয়েছিলো। আর সবটা সেভাবেই ঘটলো। মুহিবের সাথে স্নিগ্ধতার এখন যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তুই জানিস, হলুদশেষে স্নিগ্ধতার কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছে ছেলেটা। বন্ধুত্ব ফেরত চেয়েছে ওদের। আর স্নিগ্ধতা জবাব না দিয়ে চলে এসেছে।
শারাফ শ্বাস ছাড়লো। সত্যিটা আরাফাত অবদি পৌছাবে, কখনো মনে হয়নি ওর। হ্যাঁ ও ছাড় দেয়নি। নিজেকে ছাড় দেয়নি, স্নিগ্ধতাকে ছাড় দেয়নি, নাইবা ছাড় দিয়েছে স্নিগ্ধতার ধারেকাছে আসা বা আসতে চেষ্টা করা কাউকে। ঠিক সেভাবেই হয়েছে সবটা, যেভাবে ও চেয়েছিলো। ভার্সিটিতে প্রথমবার স্নিগ্ধতাকে দেখা, আর সেমুহুর্তেই ওই টানাটানা চোখের অতলের প্রেমজোয়ারে ডুবে যাওয়া। সেইযে শুরু! এরপর নিজের মাঝে ছিলোই না ও। মনমস্তিষ্কে কেবল ছিলো, ওই চোখজোড়ার অধিকারীনিকে ওর চাই। যেভাবেই হোক চাই। আরাফাত বললো,
– স্নিগ্ধতাই কেনো শারাফ?
…
– উত্তর দে! তুই জানতি আমি স্নিগ্ধতাকে কতোটা ভালোবাসি। তারপরও কেনো ওকেই নিজের সাথে জড়ালি? হুয়াই?
শারাফ শীতল চাওনিতে তাকিয়ে রইলো কিয়দক্ষণ। একপা এগিয়ে, ঠান্ডা আওয়াজে বললো,
– ভার্সিটি থাকতে চারচারটে বছর তুই আমার চাওয়া সবকিছুতে চাওয়া জুড়েছিলি আরাফাত। আমি কোনোদিনও, একবারো জিজ্ঞেস করিনি, আমার চাওয়াটাই কেনো তোকে চাইতে হবে। বরং নির্বিঘ্নে নিজের চাওয়া থেকে সরে এসেছি। আর আজ যখন আমি তোর একটা চাওয়াতে নিজেকে জড়িয়েছি, তুই জবাব চাইছিস?
– কিসের সাথে কিসের তুলনা করছিস তুই? আমি স্নিগ্ধতাকে ভালোবাসি! শী ইজ মাই লাভ।
– আর আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি।
– না! তুই ঠকিয়েছিস স্নিগ্ধতাকে।
– ভালোবাসায় সব জায়েজ।
– কিন্তু যখন স্নিগ্ধতা জানবে, তুই ওকে পাবার জন্য এতোসব করেছিস, ওকে ঠকিয়ে ভালোবাসতে বাধ্য করেছিস, তোর বলা এই ভালোবাসাই থাকবে না শারাফ। সেটা ভেবে দেখেছিস কখনো?
শারাফ একমুহুর্ত চুপ রইলো। পরক্ষণেই মুচকি হেসে বললো,
– কেনো ভাববো? যেই আমি ওকে এতোবেশি ভালোবাসি, সেই আমি ওকে ঠকিয়েছি, এমনটা কেনো মনে হবে স্নিগ্ধতার? এসব কে বলবে স্নিগ্ধতাকে? তুই?
আরাফাত থামলো এবারে। শারাফের হাসিটায় যেনো আত্মবিশ্বাস খোয়া গেলো ওর। শারাফ আবারো বললো,
– বলনা! তুই এসব জানাবি স্নিগ্ধতাকে? আমি ওকে পাওয়ার জন্য কি কি করেছি এন্ড অল?
আরাফাত জবাবহীন। শারাফ নিজের পান্জাবীর কলারটা ঝাকি মারলো। তারপর হাতা গুটানোর ভঙিমায় ভাবলেশহীনভাবে বললো,
– আমি খুব ভালেমতোই জানি আরাফাত, তুই এমনটা কোনোদিনও করবি না। কারন তুইও ভালোমতোন জানিস, এখন তুই স্নিগ্ধতাকে যাই বলবি, ও কেবলই ভুল বুঝবে তোকে। আমাকে নিচু দেখানোর চেষ্টাটুকো করতে গিয়ে তুই নিজেই ওর দৃষ্টিতে নিচে নেমে যাবি। স্নিগ্ধতার ভাবতে খুব বেশি সময় লাগবে না যে, তুই ওই টোকাইকে টাকা খাইয়ে আমার বিরুদ্ধে কথা বলানোর জন্য উস্কেছিস। তাছাড়া তোর আর মুহিবের ঘটনাটা তো আমি ওকে সাজিয়ে বলিনি। তোরা যা করেছিস, আমি সেটাই ওকে জানিয়েছি জাস্ট। তাহলে আমি স্নিগ্ধতাকে ঠিক কি করে ঠকালাম?
– তাহলে স্নিগ্ধতা না, সাইফ জানবে সবটা।
মাটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললো আরাফাত। শারাফ পান্জাবীর হাতা গুটাতে ব্যস্ত ছিলো। চোখ তুলে একপলক তাকালো ও আরাফাতের দিকে। নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কিছুএকটা ভাবলো ও। বললো,
– খুব একটা লাভ হবেনা আরাফাত। জানিস তুই। সে তোকে ততোটা বিশ্বাস করে না যতোটা না তার বোনকে ভালোবাসে।
…
– তাছাড়া একটা কথা আমার মাথাতেই ঢুকছে না। তুই আগে থেকেই এসব জানিস। যদি মিস্টার এহমাদকে-ই জানানোর ছিলো, এ কাজটা আগেই করতে পারতি তুই। এতোদিন বলিস নি কেনো তাকে? কিসের জন্য অপেক্ষা করছিলি?
চোখ বন্ধ করে শ্বাস ফেললো আরাফাত। শারাফ আবারো বিশ্বজয়ের হাসি হাসলো। আরাফাতের বুকে একআঙুল ঠেকিয়ে বললো,
– আমি বলবো কেনো? স্নিগ্ধতার জন্য এই এখানটায় থাকা প্রেম তোকে থামিয়ে দিয়েছে। সত্যি তো এটাই, তুই স্নিগ্ধতাকে চাসনি। স্নিগ্ধতার ভালো থাকাটা চেয়েছিস। ও তোকে চায়নি এই কষ্টের চেয়ে, আমাকে চেয়ে আমার সাথে ভালো আছে, এতেই তুষ্ট তুই। তুই চাসনা আমরা আলাদা হই।
আরাফাত আর প্রতিত্তর করলো না। আজোবদি ও যতোবার শারাফের সামনে এসেছে, ততেবারই নিজেকে লুকোতে ব্যর্থ হয়েছে। এজন্যই শারাফের থেকে এতোদিন দুরে ছিলো ও। উদ্দেশ্য, জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটাকে লুকিয়ে যাওয়া। কপাল বেয়ে একফোটা ঘাম গরালো আরাফাতের। নখ দিয়ে ডলে মুছে ফেললো ঘর্মকণা। শারাফ হেলতে থাকা সূর্যের দিকে তাকালো একবার। আবারো আরাফাতের দিকে তাকিয়ে বললো,
– চন্দ্রকলঙ্ক বুঝিস আরাফাত? চাঁদের রোশনাইয়ে সে চন্দ্রকলঙ্কও কিন্তু উহ্য হয়ে যায়। আমার প্রেমও ঠিক তেমন। আমি স্নিগ্ধতাকে এতোবেশি ভালোবেসেছি, এতোবেশি ভালোবাসবো যে তার বন্দনায় ওকে আপন করার জন্য করা সব অনাচার উহ্য পরে যাবে। প্রেম-দ্রোহ, ন্যায়-অন্যায়, সব মিটিয়ে দিয়ে তা কেবল প্রশংসিত হবে। হবে এক অনন্য প্রেমগাঁথা! ‘নন্দিত চন্দ্রকলঙ্ক’
#চলবে…

