নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা ৫৫.

0
3

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা

৫৫.

টানা তিন তিনটে ক্লাস শেষে বাইরের বেরোলো স্নিগ্ধতা-অনু। ক্লান্তিতে ব্যাগ, স্কেচবুক ফেলে ঘাসের ওপরই ধপ করে বসে পরেছে অনু। স্নিগ্ধতা আস্তেধীরে বসে ফোন বের করলো নিজের। সেখানে একুশটা মিসড কল নোটিফিকেশন দেখে রীতিমতো চমকালো ও। শারাফ, মেহেরুন, অগ্নিলা, সাইফ সবাইমিলে এক দুবার করে কল করেছে ওকে। চিন্তায় পরে আর একমুহূর্তে দেরি না করে আগে সাইফের নম্বরে কল করলো ও। প্রথমবার রিং হতেই কল রিসিভ করলো সাইফ। বললো,

– ফোন রিসিভ করিসনি কেনো? কল করছিলাম তোকে।

– ক্ ক্লাসে ছিলাম ভাইয়া৷ কেনো? কি হয়েছে? ঠিক আছোতো তুমি? কোথায় তুমি? আর…

– কিছুই হয়নি। তুই শান্ত হ। আমি পুলিশস্টেশনে।

– তাহলে…

– আসলে আমাকে শারাফের মা কল করেছিলেন। ওনাদের বাসায় আজ বোধহয় ছোটখাটো গেটটুগেদার আছে। উনি চাইছিলেন আমরাও সেখানে যাই। এখন আমি তো বেরোতে পারছি না। উনি এতোবেশি রিকুয়েস্ট করছিলেন যে, আমরা কেউ না গেলে ব্যাপারটা বাজে দেখাবে। তাই আমি বলে দিয়েছি তুই আর নীলা চলে যাবি।

ভাইয়ের কথায় উঠে দাড়ালো স্নিগ্ধতা। পুরো বিষয়টা আরেকবার বুঝে নিয়ে নিজের কপাল চাপড়ালো ও। বললো,

– উনি জোর করলেন, আর তুমি হ্যাঁ বলে দিলে?

– তো? কি করতাম আমি?

– কি করতে মানে? তুমি কোনোদিনও কোনো বাঙালী মেয়েকে বিয়ের আগে শশুড়বাড়ির গেট টুগেদারে যেতে দেখেছো? দেখেছো কোনোদিন?

– কে গেলো কে না গেলো সেটা বড় কথা না। একজন বয়োজ্যেষ্ঠ অনুরোধ করবেন, আর সেটা আমি রাখবো না? তোরা স্বপ্নীলে যাচ্ছিস। এখন কথা হলো, তোরা দুজন ভার্সিটি থেকে ডিরেক্ট স্বপ্নীলে যাবি নাকি বাসায় ফিরে তারপর…?

– স্নিগ্ধতা শারাফের সাথে ডিরেক্ট স্বপ্নীলে যাচ্ছে। আর আমি পুলিশস্টেশনে আসছি।

স্নিগ্ধতা কিছু বলার আগেই ওর কাছ থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে কথাটা বলে দিলো অগ্নিলা। কলটা কেটেও দিয়েছে ও। স্নিগ্ধতাকে ফোন ফেরত দিয়ে অকপটে বললো,

– তোমার হবু বর গেইটে দাড়ানো ননদীনি। কল করে তোমাকে না পেয়ে, এখন কল করে করে মাথা খারাপ করে দিচ্ছে আমার। তুমি বরং এগোও। তোমার ভাইকে আমি দেখছি।

হেসে দিলো স্নিগ্ধতা। অনুকে বিদায় জানিয়ে পা বাড়ালো ক্যাম্পাসের মেইনগেইটের দিকে। এসে দেখে শারাফ সত্যিই গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়ানো। বেশ আরামে দাড়িয়ে মোবাইল স্ক্রল করছে সে৷ পরনে ছাইরঙা শার্ট৷ গুটানো হাতার ভাজ কিঞ্চিৎ এলোমেলো। বিকেলের ভ্যাপসা গরমটা এদিকে নেই। বড় কৃষ্ণচুড়া গাছটা পুরো গেইটের চত্ত্বরে ছায়া জুড়ে দিয়েছে। ফলে যেটুকো বাতাস যায়আসে, সবটুকো গা ছুইয়ে যায়। সাইডব্যাগটা ঠিকমতো তুলে দিয়ে এগোলো স্নিগ্ধতা। কয়েকপা এগোতেই কানে এলো, ‘সেযে পথ চলে, বুকে ঝড় তুলে, জাগে মনে পুরোনো ব্যথা’

গান শুনে আড়চোখে পাশে তাকালো স্নিগ্ধতা। কলেজড্রেস পরিহিত তিনটে ছেলে। ও তাকাতেই সবগুলো অন্যদিক মনোযোগী হওয়ার ভান শুরু করেছে। স্নিগ্ধতা হতাশাসূচক শ্বাস ফেলে আবারো পা বাড়ালো ও। শারাফের অনেকটা সামনে গিয়ে লক্ষ্য করলো, শারাফ এখনো লক্ষ করেনি ওকে। স্নিগ্ধতার বিরক্তি বাড়লো। সোজা গিয়ে শারাফের মোবাইলের ওপর হাত নিয়ে চুড়ির শব্দ করলো ও। আর হাতটা দেখেই নিশব্দে হেসে দিলো শারাফ। কবজিঢাকা বড়হাতার ওপর চুড়ি মানেই স্নিগ্ধতা। মোবাইল সরিয়ে, সোজা হয়ে দাড়িয়ে, চোখ তুলে তাকালো ও। কাচের লাল চুড়িগুলোর মতো, টকটকে লাল জামাটার মতো সামনে দাড়ানো স্নিগ্ধতার নাকটাও কিঞ্চিৎ লাল। কিছুটা উকি দিয়ে ওর চেহারার দিকে তাকালো শারাফ। বললো,

– কল রিসিভ না করার আদরযোগ্য অপরাধ করেও নাকের ডগায় অভিমান কেনো? আমি কোনো অপরাধ করে ফেলেছি নাকি?

– সবচেয়ে বড় অপরাধটাই করেছো।

– রিয়েলী?

– তা নয়তো কি? আমি এসে দাড়িয়েছি সেই কখন! আর তুমি এখনো ফোনে।

– ওওও। আমিতো ভাবলাম সবচেয়ে বড় অপরাধ, কোনো খু*নটুন করে ফেলেছি বোধহয়।

হেসে কথাটা বলে আবারো গাড়িতে হেলান দিয়ে আরামে দাড়ালো শারাফ। স্নিগ্ধতা ভ্রুকুটি করে তাকিয়ে রইলো। এখানে খু*নের কথা কোত্থেকে আসছে? মুখে বললো,

– উপেক্ষার চেয়ে বড় অপরাধ আর কি?

– তাও ঠিক।

বিজ্ঞের মতো মাথা ঝাকালো শারাফ। তারপর হাতে থাকা ফোন আর গাড়ির চাবি স্নিগ্ধতার দিক বাড়িয়ে দিয়ে বললো,

– একটু ধরোতো।

স্নিগ্ধতা রাগীরাগী মুখ করে ওগুলো নিলো। শারাফ ওকে পাশ কাটিয়ে ওই কলেজপড়ুয়া ছেলেগুলোর দিকে এগোলো এবারে। ছেলেগুলো ঝালমুড়ি খেতে খেতে হাসাহাসি করছিলো। শারাফ সোজা গিয়ে মাঝের ছেলেটার দিকে আঙুল নাচিয়ে দাড়াতে বললো। ছেলেটা আগে আশপাশ দেখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলো। তারপর আস্তেকরে উঠে দাড়িয়ে উকি দিলো স্নিগ্ধতার দিকে। শারাফ কোনোরুপ দেরি না করে ছেলেটার বুকপকেটে হাত ঢুকালো। সেখান থেকে একটা সিগারেটের প্যাকেট বের করে, একটু সময় নিয়ে দেখে নিলো সেটা। পরমুহুর্তে সশব্দে চড় পরলো ছেলেটার গালে। গালে হাত দিয়ে হা হয়ে আটকে রইলো ছেলেটা। ওর পাশের দুটোও দাড়িয়ে গেছে সাথেসাথে। শারাফ সিগারেটের প্যাকেট ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে শক্তগলায় বললো,

– পরেরবার এমন ঘটনা দেখলে কিন্তু…

কথা শেষ না করে কেবল আঙুল নাড়িয়ে ছেলেটাকে শাষিয়ে আসলো শারাফ। স্নিগ্ধতা পুরোটাই দেখলো। বুঝলোও, শারাফের অলক্ষ্যে ছিলো না ও। এটুক সময়ে ওকে দেখে কে গান ছুড়েছে, সেটা ঠিকই খেয়াল করেছে ও। আর আশপাশের কারো প্রশ্ন নেবেনা বলে সিগারেটের প্যাকেটটা দেখিয়ে ছেলেটাকে চড় মারলো। শারাফ শার্টের হাতা ঠিকঠাকমতো ভাজ দিতে দিতে স্নিগ্ধতার কাছে আসলো। ওর থেকে চাবি নিয়ে বললো,

– চলুন ম্যাডাম। আপনাকে স্বপ্নীলে নিয়ে যাওয়ার মাতৃ-আদেশ পালন করি। প্রেমিকধর্ম পালনের সুযোগ দেবেন কিনা সেটা গাড়িতে বসেবসে ভাববেন না হয়?

– বাচ্চা ছেলে। ওভাবে…

শারাফ গাড়ির দরজা খুলে ড্রাইভিংসিটে উঠে বসলো। নির্বিকার ভঙিতে বললো,

– বাচ্চাদের সিগারেট খাওয়া উচিত না।

স্নিগ্ধতা হতাশ। ঘুরে এসে শারাফের পাশেরসিটে বসলো ও। ব্যস্ত হলো সিটবেল্ট লাগাতে। আর স্টেয়ারিংয়ে হাত রেখে সোজা গেইট বরাবর তাকালো শারাফ। চায়ের ঝুপড়িতে থাকা চঞ্চলের সাথে চোখাচোখি হয়ে যায় ওর। শারাফ সানগ্লাসটা চোখে দিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো। গাড়ি সরে না আসা অবদি ওর দৃষ্টি দেখেছে চঞ্চল। হাজার চেষ্টা করেও স্নিগ্ধতার ঘোর কাটাতে পারছে না ও। বরং সবসময় মনে হয়, ওই রুপ না ছুতে পারলে ওর জীবন ব্যর্থ। সাথের আরেক চেলাকে নিয়ে তাই আজকেও চোরের মতো স্নিগ্ধতাকে ফলো করেছে ও। কথায় বলে, চোরের দশদিন আর গেরস্তের একদিন। আজকে বোধহয় চঞ্চল শারাফের দৃষ্টি এড়োতে পারেনি৷ শারাফের সে দৃষ্টি দেখে চঞ্চল বেশ বুঝলো, শারাফ শুধু ওই ছেলেটাকে শুধু চড় মারেনি, বরং ওকে বুঝিয়ে দিয়ে গেলো, স্নিগ্ধতার ধারেকাছে আসতে চাওয়া কাউকেই ছাড় দেবেনা ও। শারাফের গাড়ি আড়াল। হাতে থাকা ওয়ানটাইম চায়ের কাপ শক্তমুঠো করে ধরে চঞ্চল। তৎক্ষনাৎ গরম চা উপচে পরে ওর হাতে। পাশ থেকে কেউ একজন ওর হাতে বোতলের পানি ঢালতে ঢালতে বললো,

– সবে তো হাত পুড়েছে চঞ্চল ভাই। ওই রুপের আগুন কিন্তু পুরো আপনিটাকেই ঝলসে দেবার ক্ষমতা রাখে।

চঞ্চল পাশে তাকায়। বক্তাকে দেখে অবাক হয় কিছুটা৷ পাশে দাড়ানো মোহিনী পানি ঢালা শেষে অতি স্বাভাবিকভাবে বোতলের মুখ লাগায়৷ তারপর চোখের সানগ্লাসটা খোলে। চঞ্চল একদৃষ্টিতে ওর বিগলিত চোখের শুকনো ভাজ চেয়ে চেয়ে দেখলো। মোহিনী বললো,

– আমাকেই দেখুন। স্নিগ্ধতার ওপর কুদৃষ্টি আমার একচোখের দৃষ্টিশক্তি কেড়েছে। আপনার লোলুপ দৃষ্টিকে ছাড় দেবে বলে মনে হয়না।

– সেটা আমিও জানি মোহিনী। আর শুধু এ কারনেই চুপ আছি। নইলে এতোদিনে কবেই ওই রুপ…

দাতে দাত চেপে বলতে গিয়েও থেমে যায় চঞ্চল। মোহিনী ছোটখাটো শ্বাস ফেলে বলে,

– ওর কথা ভাবা বাদ দিন চঞ্চল ভাই। সময় করে হলে আসেন। কয়েকদিনের মধ্যেই হলে নতুন মেয়েদের আনাগোনা শুরু হবে। তাদের সাথে দেখাসাক্ষাৎ হলে আপনার এই মনোকষ্ট আর থাকবে না। এমন নিরামিষ জীবন কাটালে ও ভাবনা আরো বাড়বে বৈ কমবে না।

– হু সেটাই। বসের সাথে কথা হয়েছে। এভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে কোনোদিকই এগোবে না। তুই নতুনকরে ওদিকটা গোছানো শুরু কর৷ খুব দ্রুতই ওপরমহলের পজিটিভ অর্ডার আসবে আশা করি।

মাথা ঝাকায় মোহিনী। গলার সামনে আসা চুল ঝারা মেরে পেছনে ঠেলে দিয়ে, আবারো সানগ্লাস এটে দেয় চোখে। সালাম দিয়ে পা বাড়ায় ক্যাম্পাসের ভেতরে। দোকান থেকে সিগারেট নিয়ে সিগারেট ধরায় চঞ্চল। টান মেরে ধোয়া আকাশে উড়িয়ে দিয়ে, একটা বিশ্রি হাসি দিয়ে বলে ওঠে,
‘পাখি তুমি যার খাঁচাতেই যাও না কেনো, একদিন না একদিন চঞ্চলের কাছে ধরা তোমাকে দিতেই হবে। তোমাকে আমার লাগবে! মানে লাগবে। তোমাকে ছোয়া প্রথম পুরুষ না হওয়ার আফসোস আমি মানতে পারবো। কিন্তু একেবারে না পাওয়ার তৃষ্ণায় থাকতে পারবো না। একবারের জন্য হলেও, তোমাকে আমার কাছে চাই!’

স্বপ্নীলের গেইটে গাড়ির গতি কমায় শারাফ। দাড়োয়ান গেইট খুলে দিলে গাড়ি মুলদরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতে থাকে। স্নিগ্ধতা চোখ তুলে দেখে নেয় পুরো বাড়িটা। সবজায়গায় উচ্চবিত্তের রেশ। গেইটের সামনে বাগানবিলাসের গাঢ় গোলাপী রঙ। ভেতরের দুপাশে বড়বড় হলুদ গাদার গাছ। ফুলও আছে তাতে। এই প্রথমবার স্বপ্নীলে আসলো ও। বুকের ভেতর অদ্ভুত ধুকপুকানির অনুভব হচ্ছে ওর। শারাফ গাড়ি থামায়। স্নিগ্ধতার উৎসুক চোখজোড়া দেখে স্টেয়ারিংয়ে দুহাত রেখে তাতে থুতনি ঠেকায়। স্নিগ্ধতার দিকে তাকিয়ে থাকে কয়েকদন্ড৷ কিছুক্ষণ পর গাড়ি থেমেছে সে হুশ ফেরে স্নিগ্ধতারও। পাশে তাকিয়ে শারাফকে কিছু বলতে যাবে, ওর মুগ্ধ চাওনি দেখে থেমে যায়। বলে,

– হ্যাঁ। এভাবেই গাড়িতে বসেবসে আমাকে দেখতে থাকুন।

মুচকি হাসে শারাফ। বলে,

– আমি কিন্তু ক্লান্ত হবোনা।

স্নিগ্ধতা গাড়ি থেকে নেমে আসলো। শারাফের অপেক্ষা না করে পা বাড়ালো ভেতরের দিকে। শারাফও দ্রুততার সাথে বেরিয়ে মৃদ্যুগতিতে দৌড়ে পাশে গেলো স্নিগ্ধতার। বললো,

– হেই ওয়েট! হবু শশুড়বাড়িতে কেউ এভাবে ঢোকে? লজ্জা পাও।

বুকে হাত গুজে দাড়ালো স্নিগ্ধতা। বললো,

– আমি নিজে এখানে আসতে চাইনি। আন্টি, মেহুভাবী, শায়েরী, ছোটআন্টি সবাই মিলে কল করে আসতে বলেছে আমাকে। আর এজন্য ভেতরে যেতে আমার মোটেও লজ্জা পাচ্ছে না। আরকিছু?

প্রতিত্তরে কেবল ঠোঁট টিপে হাসলো শারাফ। ভ্রুকুচকে তাকালো স্নিগ্ধতা। পা বাড়াতে যাবে, হাত ধরে শারাফ ওকে আটকে দেয়। স্নিগ্ধতার প্রশ্নসুচক চাওনি। ওর পিঠজুড়ে থাকা ছাড়া চুল ঘাড়ের বাপাশে দিয়ে, একটা টকটকে লাল গোলাপ ডানকানের নিচে গুজে দিলো শারাফ। স্নিগ্ধতা যতোটা বলিষ্ঠ কন্ঠে ‘লজ্জা পাচ্ছে না’ বলেছিলো, ততোটাই নুইয়ে যায় এবারে। শারাফ আরো একপা এগোয়। স্নিগ্ধতার ডান গালে আলতো এক চুমু একে ফিসফিসিয়ে বলে,

– লজ্জা পাও স্নিগ্ধতা। আমি চাই আজ তোমার গালের রক্তিমতা এই গোলাপের লালকেও হার মানাক। আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি তোমার লজ্জরাঙা মুখ। কজ যেদিন তুমি পুরোপুরি আমার হয়ে স্বপ্নীলে আসবে, সেদিন তোমার ভূষণ হিসেবে লজ্জা নয়, আমি থাকবো। এন্ড ট্রাস্ট মি, সেদিন আর তারপর থেকে আমার ভালোবাসা তোমার লজ্জামাখা মুখের চেয়েও প্রগাঢ় হবে। অনেকবেশি!

বলা শেষ করে শারাফ দুরুত্ব রেখে সরে দাড়ালো। কিন্তু এসব কথা শুনে কান গরম হয়ে গেছে স্নিগ্ধতার। দৃষ্টি অনেক আগেই মাটিতে স্থির করেছিলো ও। আপাতত ওর পুরো শরীর কাপছে। শিরা-উপশিরায় রক্তের প্রবাহ যেনো বেগ পেয়েছে। হৃদপিন্ডটাও লাফালাফি করছে। জিভ দিয়ে ঠোট ভেজালো স্নিগ্ধতা। শারাফ প্রথমবার ওর এতোটা কাছে এসেছে, এমনটা নয়। কিন্তু ওর কথায় কিছুতো ছিলো আজ। শারাফ টের পেলো স্নিগ্ধতার অস্থিরতা। হাত ধরে নিজেই বাসার ভেতরে নিয়ে গেলো ওকে। ড্রয়িংরুমে ঢুকেই উচ্চস্বরে ডাক লাগালো,

– মা? মেহুভাবী?

– শুধুমাত্র তোর বিয়ে উপলক্ষ্যে এতোদিন পর দেশে ফিরলাম। সেটার পাওনা হিসেবে হলেও তো তোর মা, মেহুকে ছেড়ে ভাইয়া বলে হাক ছাড়া উচিত। তাই নয়কি?

মাথা নিচু করেই এ অবদি এসেছিলো স্নিগ্ধতা। এটুক শুনেই চোখ তুলে তাকালো ও। সামনে দাড়ানো মানুষটার হাসিখুশি মুখ। চোখে আয়তাকার চশমা। উচ্চতায় শারাফের চেয়ে কমই হবে সে। তবে গায়ের গরন হুবহু শারাফের মতোই। পরনে গাঢ় খয়েরি টিশার্ট আর প্যান্ট। শারাফ হেসে বললো,

– মেয়ে পটানের সময় তো তুমি ছিলে না। মা, মেহুভাবী ওরাই ছিলো। তো যে স্বার্থপর ভাই আমার দুঃসময়ে না থেকে সুসময়ে ভাগীদার হতে আসে, তার নাম জপার প্রশ্নই ওঠেনা। কানেকশন লস্ট!

মারার ভঙিমা করেও থেমে যায় শাওন। হেসে দেয় দুভাই মিলে। শাওন স্নিগ্ধতার দিকে তাকিয়ে ওকে আপাদমস্তক দেখে নিলো। ইতস্ততবোধ নিয়ে শারাফের দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। শারাফ ঠোঁটের হাসি প্রসারিত করে বললো,

– শি ইজ দ্যা ওয়ান। স্নিগ্ধতা এহমাদ।

তবে শাওনের কানে বোধহয় স্নিগ্ধতা নামটা পৌছালো না। কেবল পৌছালো স্নিগ্ধতার শেষনাম।এহমাদ। শাওনের কাছে ওর পরিচয় দাড়ালো, ও ইন্সপেক্টর সাইফ এহমাদের বোন, স্নিগ্ধতা এহমাদ।

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here