#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা
৫৬.
স্বপ্নীলের দেয়ালে দেয়ালে উৎসবের আমেজ। পরিবারের সবার বড় ছেলেটা এতোবছর পর দেশে ফিরেছে। সাথে আজই ছোট ছেলের বিয়ের দিনতারিখ ঠিক হবে। শারাফের পুরো পরিবারে এ দুই নিয়ে খুশির মহড়া বসেছে যেনো। মেহেরুন, মিসেস সেজান আর মিসেস নাহিদ মিলে কিচেনে। ড্রয়িংরুমে শারাফ, ওর বাবা সেজান সাহেব, প্রফেসর নাহিদ শাওনের সাথে কথা বলছেন। আর শায়েরী স্নিগ্ধতাকে স্বাভাবিক করার জন্য ওকে নিয়ে স্বপ্নীল ঘুরছে। মুসকান ওদের আগেআগে নাচতে নাচতে যাচ্ছে। পুরো বাড়ি ঘুরে শারাফের রুমের সামনে পৌছালো ওরা। এরইমাঝে কোত্থেকে দরজায় হাজির শারাফ। চমকে দাড়িয়ে গেলো স্নিগ্ধতা-শায়েরী। শারাফ দরজায় হেলান দিয়ে, বুকে হাত গুজে, আয়েশে দাড়ালো। বললো,
– পুরো স্বপ্নীল তো দেখে নিলে। তবে এই ঘরে ঢুকতে গেলে আলাদা ফি দিতে হবে ম্যাডাম।
স্নিগ্ধতা আগ্রহ দেখালো না। শায়েরী মুখ ভেঙচিয়ে বললো,
– হ্যাঁ। এন্ট্রি ফি দাও স্নিগ্ধুভাবী। চিড়িয়াখানা তো এটা!
শারাফ মার লাগানো ভঙিমা করলো ওকে। শায়েরী হুড়মুড়িয়ে পেছনে লুকোলো স্নিগ্ধতার। স্নিগ্ধতা ভ্রুকুটি করে বললো,
– তা কি এমন স্পেশালিটি এই রুমের শুনি? এক্সট্রা ফি দিতে হবে কেনো?
– এই রুমে ঢুকলে রুমের মালিকের এক্সট্রা কেয়ার পাবে। তো এক্সট্রা ফি দেবেনা?
স্নিগ্ধতা একটু আটকে দাড়িয়ে রইলো। শারাফ ঘাড় কাৎ করে ইশারা করলো শায়েরীকে। মুসকানের চোখ আটকে দিয়ে ওকে নিয়ে হাটা লাগালো শায়েরী। বললো,
– চল মুসু। বউমা ডাকছে তোকে।
– কিন্তু আমি তো কোনো ডাক শুনিনি শাইপু!
মুসকান রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে বলতে বলতে চললো শায়েরীর সাথে। স্নিগ্ধতা শায়েরীর চলে যাওয়ার কারন বুঝে উঠলো না। মিসেস নাহিদ মুসকানকে ডেকেছে, সেটা ওর কানেও আসেনি। ও নিজেও এগিয়ে বললো,
– আন্টি কখন ডেকেছেন মুসকানকে শায়েরী? আমিও তো শুনলাম না। তুমি…
শারাফ এবারে পথ আগলে দাড়ালো স্নিগ্ধতার। আরো একদফায় বুকের ভেতরটা ধ্বক করে ওঠে স্নিগ্ধতার। শুকনো ঢোক গিলে নিজের গলা ভেজায় ও। শারাফ বললো,
– আজ আমার ঘর দেখবে না স্নিগ্ধতা? নাকি লাল টুকটুকে বউ হয়ে ডিরেক্ট আমাদের বাসরঘরে ঢুকবে?
কথা শেষ করে শারাফকে আরেকপা এগোতে দেখে স্নিগ্ধতা নুইয়ে যায়। দ্রুততার সাথে পা বাড়াচ্ছিলো ও ড্রয়িংরুমের দিকে। কিন্তু পাশ কাটিয়ে যাবার সময় ওর একহাত ধরে ফেলে শারাফ। স্নিগ্ধতা পেছন ফিরলো না। দ্রুতচলা শ্বাসপ্রশ্বাস সামলানোর চেষ্টায় থেকে বললো,
– শ্ শারাফ…
শারাফ প্রতিত্তোর করলো না। একহাতে ধাক্কা মেরে রুমের দরজা পুরোপুরিভাবে খুলে দিলো। তারপর স্নিগ্ধতাকে দরজা বরাবর দাড় করিয়ে, নিজে গিয়ে পেছনে দাড়ালো ওর। হাত ছেড়ে দিয়ে যথেষ্ট দুরুত্ব বজায় রেখেছে শারাফ। ঝুকে দাড়িয়ে স্নিগ্ধতার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো,
– দেখো স্নিগ্ধতা, আমার ঘরে আমরা। অনেকটা কাছাকাছি থাকা, আমি আর তুমি।
স্নিগ্ধতা চোখ নামিয়ে ছিলো। শারাফের কথা শুনে চোখ তুলে তাকালো ও। দরজা বরাবর রুমের ভেতরে আয়না। সেখানে ওর আপাদমস্তক প্রতিবিম্ব। ঠিক পেছনে দাড়ানো শারাফের বুক যেনো ওর পিঠ ছুয়েছে। শারাফ হেসে বললো,
– দেখেছো স্নিগ্ধতা? আয়নায় তোমার ওই প্রতিবিম্ব আমায় ছুয়ে দিলো, আর আমিটাই বিলীন হয়ে গেলাম। আর যখন সত্যিই তুমি আমার, আমিতো…
– উহুম উহুম…
অগ্নিলার গলা ঝাড়ার শব্দ। চমকে উঠে পাশ ফেরে স্নিগ্ধতা। অগ্নিলা, মেহেরুন করিডোরে দাড়ানো। স্নিগ্ধতা শারাফের থেকে সরে, তড়িৎগতিতে সামনে গিয়ে দাড়ায় অগ্নিলার। শারাফের চেহারায় বিরক্তিভাব। শার্টের হাতার ভাজ ঠিক করতে করতে বললো,
– কখন এলে?
– ঠিক যখন আপনি আমার ননদীনিকে লজ্জায় ফেলতে উদ্যত ছিলেন, তখন!
শারাফ অগ্নিলাকে পাল্টা জবাব দিতে চোখ তুলে তাকায়। স্নিগ্ধতা কথা ঘোরাতে বলে উঠলো,
– ভাবী? ভাইয়া?
– এসেছে। নিচে বাকিসবের সাথে কথা বলছে।
একপলক শারাফের দিক তাকিয়ে নিচে চলে আসলো স্নিগ্ধতা। সাইফ ওকে দেখে দাড়িয়ে গেলো। অগ্নিলাকে পুলিশস্টেশন দেখেই ওর মনে হয়েছিলো, একাকী স্বপ্নীলে নিসন্দেহে অস্বস্তিতে আছে স্নিগ্ধতা৷ তারওপর অগ্নিলা যখন বললো আজকেই শারাফের পরিবার বিয়ের দিনতারিখ ঠিক করতে চাইছে, আর দ্বিমত করেনি সাইফ। চলে এসেছে অগ্নিলাকে নিয়ে। বোনের হাসিমুখ দেখে ওর ক্লান্তিভরা চেহারাটায় প্রশান্তির রেখা দেখা দিলো। স্নিগ্ধতা ভাইয়ের পাশে গিয়ে দাড়ালো। শাওন বেশ প্রখর চাওনিতে দু ভাইবোনের স্বস্তিময় সম্পর্ক পরখ করলো। বললো,
– মিস্টার এহমাদ বোনকে চোখে হারান দেখছি। এটুকো সময় চেহারায় যা অন্ধকার ছিলো, পুরোটা স্নিগ্ধতা আসায় আলোকিত হয়ে গেছে।
শারাফ এসে শাওনের সোফার হাতলে বসলো। সাইফ কিছু বলতে চাইছিলো। শায়েরী বললো,
– বোনকে চোখে হারাবে না তো তোমাদের মতো হবে শাওন ভাইয়া। একমাত্র বোনের পিন্ডি চটকানো ছাড়া আর কিছু করেছো আজোবদি?
ওর কথায় হেসে দিলো সকলে। সাইফ স্নিগ্ধতার দিকে তাকিয়ে বললো,
– টুকি আমার বেচে থাকার অবলম্বন মিস্টার শাওন। ভুল বলেননি আপনি।
পরপরই মুখ খুললো অগ্নিলা। বিয়েতে আসেনি বলে অনেককথা শুনিয়ে দিলো শাওনকে। তারপর একসাথেই খাবার পর্ব শেষ করলো সবাই। খাওয়া শেষে ছেলেরা আবারো একসাথে ড্রয়িংরুমে বসলো। মেয়েরা স্নিগ্ধতাকে নিয়ে কিছুটা দুরের বারান্দার মতো জায়গাটায় বসেছে৷ একটুপরে মুসকান হেলেদুলে এসে স্নিগ্ধতাকে বললো,
– ভাবীন জানো? পরেরসপ্তাহেই তোমার শারাফ ভাইয়ার বিয়ে! কি মজা!
ওর কথা শুনে তৎক্ষনাৎ দাড়িয়ে গেলো স্নিগ্ধতা। বাকিসব ওর ভঙিমায় কিছুটা অবাকই হয়েছে। মেহেরুন উঠে দাড়ালো। আলতোকরে স্নিগ্ধতার থুতনি ধরে বললো,
– এনি প্রবলেম স্নিগ্ধতা? ডেইটটা কি জলদি হয়ে গেলো তোমার জন্য? তুমি কিন্তু আমাকে নিশ্চিন্তে বলতে পারো সমস্যা থাকলে।
– না আপু। কোনো সমস্যা নেই ওর।
অগ্নিলা জবাব দেয়। ঠোটে জোরপূর্বক হাসি ফোটায় স্নিগ্ধতা। সবার সাথে বসে গিয়ে। কিছুক্ষণ পর ফোন নিয়ে ওপরে চলে আসে শাওন। সিড়ির সামনের করিডোরে দাড়িয়ে নিজের হাসিখুশি পরিবারটাকে দেখতে লাগলো ও। স্নিগ্ধতাকে সবার মাঝে বসানো হয়েছে। মিসেস সেজান একটা শাড়ি মাথায় জড়িয়ে দিয়েছেন ওর। সাথে একটা গয়নার বাক্স নিয়ে পরিয়ে দিলেন ওকে। চোখের চশমাটা ঠেলে দিয়ে, পাশে দাড়ানো শারাফকেও একদফা দেখে নিলো শাওন। তারপর সাইফের দিকে তাকিয়ে থেকে একটা বের করে সিগারেট জ্বালালো। কয়েকটান দিয়ে ফোন কানে তুলে বললো,
– ওদিকের কি খবর?
– সব ড্রাগস্ এক সপ্তাহ হলো বর্ডারে আটকে আছে ভাই।
– লেট ইট বি। যা শুনেছি আর যেমনটা দেখলাম, দ্যা সৎ পুলিশ অফিসার সাইফ এহমাদ এতো সহজে তারেককে ছাড়বে না। আর ওর ইউআরএল ছাড়া ড্রাগস বাইপাস করা পসিবল না।
– কিন্তু ভাই, তারেক ভাইয়ের ইউআরএলও তো হ্যাক করা।
শাওন আবারো সিগারেটে টান দিলো। ধোয়া ছেড়ে বললো,
– ইউআরএল রিগেইন করেছি আমি। দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্জিনিয়ারিং পড়াটা কাজে লাগানোর জায়গা আর কই?
– আমার ভয় করছে ভাই। যে কারনেই পুলিশ ধরুক না কেনো, যদি তারেক ভাই কোনোভাবে আমাদের বিষয়ে মুখ খুলে দেয়, তাহলে তো…
– তোর মনেহয় তারেক কিছু বলবে?
জবাব না পেয়ে কুটিল হাসলো শাওন। আরো বড়বড় কয়েকটান সিগারেট ফুকে বললো,
– আমি চাইলে অনেক আগেই আফজাল আঙ্কেলকে বলে ওর ব্যবস্থা করতে পারতাম। কিন্তু তাতেও আমার আর ওর ইনভল্বমেন্টের বিষয়টা জানাজানি হতো। আমরা একে ওপরকে চিনি, এই খবরটাও বাইরে আনতে চাইনা আমি। তাই পথ বাকিয়ে আইটি সেক্টরে কথা বলেছি। বাকিটা ওরা ব্যবস্থা করবে।
…
– এনিওয়েজ। তারেক আগে ছাড়া পাক। আপাতত আমিও ব্যস্ত আর আরেকজনও অন্যদুনিয়ায়। তুই মিটিংয়ের ডেইট পিছিয়ে দে। পরে কথা হবে।
– হু। ক্ কিন্তু ভাই, আরেকটা কথা…!
– হু…
– ভ্ ভাই, ড্রাগস না পেয়ে ছেলেপেলেরা ক্ষেপে আছে। তারওপর আপনি ছাত্রীহলে যাওয়াও বন্ধ রাখতে বলেছেন। এখানে আমাকে বেশ পেইনে থাকতে হচ্ছে।
চঞ্চলের কথা শুনে শাওন নিজেও চুপ করে গেলো এবারে। নিচতলায় তাকালো ও। শারাফ মুসকানকে কোলে নিয়ে কাতুকুতু দিচ্ছে, হাসিমুখে আড্ডা দিচ্ছে। মেয়েরা মিলে স্নিগ্ধতাকে নিয়ে ব্যস্ত, ছেলেরাও নিজেরা কথা বলছে। এইতো উচ্ছ্বলতায় ভরপুর পরিবার ওর। আর তার বাইরে ও এক বিদঘুটে অন্ধকার দুনিয়া সাজিয়েছে। যেখানে একটা একটা মানুষ থেকে শুরু করে শেষ হয়ে যাবে এমনই হাজারো হাসিখুশি পরিবার। তবে তাতে পরোয়া নেই শাওনের। পরোয়া আছে তো কেবল এই জগতটাকে বাচিয়ে রাখার। মাদক নামক এই বিষ আরো ছড়িয়ে দেবার। চোয়াল শক্ত করে আরো শক্তিতে শাওন রেলিং মুঠো করে নেয়।
আজ মিটিং হওয়ার কথা ছিলো ওদের গ্যাংয়ের। চার ব্যাচের চারজনের আজ একসাথে বসার কথা ছিলো। দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে চালিয়ে আসা অবাদ মাদকব্যবসা, রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার দাপট, চাঁদাবাজি, মেয়েদের হলে যাতায়াত, সবটা বন্ধ হয়ে গেছে এই কয়েকমাসের ঘটনার প্রেক্ষিতে। শুরুটা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন করলেও, গ্রাজুয়েশন শেষেও এই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শাওন। বরং দেশের বাইরে যাওয়ার পর বিষয়টাকে আরো বাড়ানোর খেয়াল হয় ওর। রাজনৈতিক ছাত্রদলের মাধ্যমে ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে, ক্যাম্পাসের বাইরেও মাদকের ব্যবসা ছড়িয়ে দেয় অবাধে। নরওয়েতে বসেবসে এদিকটা বেশ পটুহাতেই সামলাচ্ছিলো শাওন। তারপর ওর একসময় মনে হয়, স্থানীয় হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়াটা ফলপ্রসূ হবে। তাই প্রতিবার বিদায়ী ব্যাচ থেকে প্রতিনিধি বেছে নিয়েছে ও। আর তারপর থেকে হলগুলোতে এসব চর্চা ব্যাচের পর ব্যাচ চলে আসছে। অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে সবাইকে ঠকিয়ে এই ব্যবসা সামলেছে ও। আপাতদৃষ্টিতে শাওনের দেশে ফেরার কারন শারাফের বিয়ে হলেও, কারনটা মুলত এসবের সমাধা। শারাফের বিয়ে বাহানা শুধু। দৃষ্টি সরালো শাওন। ফোনে বললো,
– আপাতত পরিস্থিতি অনুকুলে আসার অপেক্ষা করতে হবে। উপায় নেই।
– কিসের উপায় নেই?
মেহেরুনের গলা শুনে স্বাভাবিক রইলো শাওন। হাতে থাকা সিগারেট নিভিয়ে, কল কেটে পেছন ফিরলো ও। মেহেরুনের প্রশ্নসূচক চাওনি। শাওন হেসে দিয়ে বললো,
– বহুদিন বরকে কাছে না পেয়ে একজনের বউ নাকি তার ওপর ক্ষিপ্ত। সে বেচারা আমাকে কল করে বউয়ের অভিমান ভাঙানোর উপায় খুজছিলো। তাই বললাম, উপায় নেই। এতোদিন দুরে থেকে এখন এসেছে বউকে মানাতে!
মেহেরুন রাগরাগ মুখ করে বললো,
– মা নিচে যেতে বলছে তোমাকে৷
– বুঝলাম।
– বুঝতে বলিনি। মা যেতে বলেছে।
– যাচ্ছি। তারআগে তুমি এটা বলো, ও বেচারার সত্যিই বউয়ের মান ভাঙানোর কোনো উপায় নেই তাইনা?
মেহেরুন তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকালো। শাওন হাসি আটকে এগোলো ওর দিকে। খানিকটা ঝুঁকে, দুহাতে কান ধরে বললো,
– এভাবে কান ধরলেও ওর বউয়ের অভিমান গলবে না। তাইনা মেহু?
নিমিষেই সব অভিমান গায়েব হয়ে গেলো মেহেরুনের। শাওন আসার পর থেকে ভালোকরে কথাই বলেনি ওর সাথে। বলবেই বা কেনো? বিয়ের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় যে নতুন বউ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিয়ে এতোগুলো বছর পর ফেরে, তার সাথে আবার কিসের ভালো করে কথা? কিন্তু শাওনকে ওভাবে কান ধরতে দেখে আর অভিমান রইলো না ওর। শাওনের বুকে ঘুষি লাগিয়ে, ফুপিয়ে কেদে দিয়ে বললো,
– তুমি প্রচন্ড খারাপ একটা মানুষ জানোতো! প্রচন্ড খারাপ!
শাওন হাসছিলো। সাথে আরো হাসির শব্দ কানে আসলো ওর। পাশেই মুসকান আর শারাফ। শারাফ রেলিংয়ে কনুই ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে দাড়ালো। একহাত বাড়িয়ে বললো,
– ছোটভাইয়ের কাছ থেকে মেয়েপটানো ভালোই শিখে গেছো দেখছি। এবার গুরুদক্ষিণা দাও।
শারাফের কানের দিকে হাত বাড়ালো শাওন। হেসে সেখান থেকে সরে দাড়ালো শারাফ। ও বুঝতে পেরেছিলো, মেহেরুনের অভিমান হয়েছে। আর সেটা শাওনকে আগেথেকেই বলে রেখেছিলো ও। এই পরিবারটা ওর কাছে সব। কারো এতোটুকো বিমর্ষ চেহারা সহ্য হয়না ওর। হাসিমুখে ওরাও নিচে চলে আসে। কথাবার্তা শেষ করে সবার কাছ থেকে একেএকে বিদায় নেয় স্নিগ্ধতা, সাইফ, অগ্নিলা। আর ওরা বেরিয়ে যেতেই একটা ম্যাসেজ আসে শাওনের ফোনে। ম্যাসেজটা পরে মৃদ্যু হাসলো শাওন। হাসির মর্মার্থ, ‘কি করে দাবার পাশা নিজের অনুকুলে আনতে হয়, তা শাওন ভালোমতোই জানে ইন্সপেক্টর সাইফ এহমাদ। তোমার ভালো এতেই যে তুমি নিজের সীমায় থাকো। আমার খেলায় ঢুকতে চেওনা। সেখানে ঢুকলে সোজা বলি হতে হবে তোমাকে। এন্ড ট্রাস্ট মি বেয়াইসাহেব! শাওন একবিন্দুও কম্প্রোমাইজ করতে জানে না। হি ইজ নট আ লিটল সরি এট অল!’
#চলবে…

