#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_১৬
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
সকলে ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত। কে বলবে এরা বিয়ে খেতে এসেছে। যেভাবে ঘুরছে মনে হয় ঘুরতে এসেছে বিয়েতে আসেনি। কয়েক ঘণ্টায় পুরো গ্রাম ঘুরে ফেলবে এমন হাবভাব।
বিয়ের অনেক দেরি। মাগরিবের নামাজের পর। প্রথমে এশার নামাজের পর বিয়ে পড়ানো হবে বলে কথা হলেও সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। এশার নামাজের পর বিয়ে হলে সব শেষ করতে করতে অনেক রাত হয়ে যাবে। এখান থেকে আবার মেয়ে নিয়ে ছেলের বাড়ি যাওয়ারও একটা ব্যাপার আছে। এত রাত করার কোনো মানে নেই। তাই সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিল মাগরিবের নামাজ আদায় করে বিয়ে পড়ানো হবে। আর এখনও আসরের আজান পড়েনি। হাতে অনেক সময়। বসে না থেকে তাই সকলে এদিক ওদিক দেখে বেড়াচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে সকলে অনেক দূর চলে এলো। এখানে ওদের ছেড়ে দিলে চিনে বাড়ি অবধি যেতে পারবে কিনা বলা মুশকিল।
লাল টকটকে শিমুল ফুল। পাতা নেই, পাতা থাকলে হয়তো আরও নজরকাড়া লাগত। শীতের শেষে সব পাতা ঝরে যায়। ফাল্গুনের শুরুতে ভরে যায় লাল টকটকে ফুলে। বিশাল এক তুলা গাছ। ডালপালা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিশাল আকৃতির। গাছের শেকড়ও বেশ পুরু। প্রায় ত্রিশ বছর আগের গাছ। তার চেয়েও বেশি সময়কার। আন্দাজে যতটুকু বলা সম্ভব।
– ঐ গাছে ভূত আছে, জানো তো। আসার সময় এক দাদু বলছিল এদিকে না আসতে।
– কী বলছ কী?
– ওমা তুমি শোনোনি?
অবাক হয়ে জানতে চাইল ইফা।
– না।
ভীতু চোখে এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল বুশরা। মোটেও তুলা গাছের দিকে চাইল না। ভূত প্রেতে ভীষণ ভয় তার। সেই ছোটো থেকে। হাঁটু কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে যায়। ভূতের নাম শুনলে ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে।
গর্দভ মেয়ের মাথায় এলো না দিনের বেলা ভূত আসবে কোথা থেকে। এখনও তো সন্ধ্যা নামেনি। আসার সময় একটু আধটু শুনেছিল। কিন্তু পুরো কথা শুনেনি। সে তো পিছনে ছিল। তাছাড়া জ্যোতি, ফারাবির সাথে কথায় মশগুল ছিল। শুনবে কীভাবে?
বুশরা চোখ ঘুরিয়ে ভাইকে খুঁজল। ঐ তো জিদানের সাথে কথা বলছে। মেয়েটা গিয়ে ভাইয়ের এক হাত আঁকড়ে ধরে।
শরীর কাঁপছে, খুব বেশি ভয় পেয়েছে বোধ হয়। বর্ণ বোনের অবস্থা দেখে অস্থির হয়ে জানতে চাইল,
– কী হয়েছে বুশু? এভাবে কাঁপছিস কেন?
– ভ…ভূ…ভূত!
আঙুল দিয়ে তুলা গাছটা দেখায়।
– ভূত, তুই পাগল হলি? দিনের বেলা ভূত আসবে কই থেকে।
– ওরা যে বলল।
জিদান উচ্চস্বরে হেসে ওঠে। ওর সাথে বাকিরাও তাল মিলিয়ে হাসতে থাকে। হাসল না শুধু বর্ণ। বোনের ভয় সম্পর্কে সে অবগত। একটা মানুষ এতটা আহাম্মক কি করে হতে পারে ভেবে পায় না জিদান। সামান্য কমনসেন্স নেই। অবশ্য মেয়েমানুষ বলে কথা। আহাম্মক তো হবেই। ওরা বলল আর অমনি ভূতের ভয়ে ভাইয়ের কাছে ছুটে এসেছে।
বুশরা লজ্জা পেল খানিকটা। তবে ভয় কাটেনি তার। নিজের করা বোকামিও টের পেল সাথে সাথে। ওরা ওর বোকামিতে হাসাহাসি করেছে বুঝে উঠতে পেরে চোখ ছাপিয়ে কান্না এলো।
বর্ণ চোখ রাঙিয়ে তাকায় সকলের দিকে। চোয়াল শক্ত করে শুধাল,
– এমন বেহুদা মজা কে করেছে?
বর্ণের এমন রাগান্বিত মুখাবয়ব দেখে সকলের হাসি থেমে গেল। ইফা আমতা আমতা করে কিছু একটা বলতে চাইল।
এর মাঝেই বুশরা অন্যদিকে ছুট লাগায়। বর্ণও ছুটে বোনের পিছু। এলোমেলো হয়ে ছুটছে মেয়েটা।
কী লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হলো তাকে! ও না হয় একটু ভয় পেয়েছে, তাই বলে এভাবে হাসতে হবে। কে বলেছে শাড়ি সামলাতে পারবে না মেয়েটা। এই যে শাড়ি পরে ছুটে চলেছে। হোঁচট খেয়ে পড়ছে কই।
– বুশু দাঁড়া, ওদিকে যাস না। বোন আমার, শোন।
_
– আভিদি তোমায় তুন্দল লাকচে।
আইদাহ মুখে আঙুল পুরে গোল গোল চোখে আভিরাকে দেখতে লাগল। তার আভিদি আজ নতুন সাজে সেজেছে। সে আগে দেখেনি কেন। মা তাকে আসতে দেয়নি। তাই তো দেখতে পারল না। মায়ের উপর রাগ হলো মেয়েটার।
– তাই?
– হু।
– আমার বনুটাকেও তো সুন্দর লাগছে।
তৃপ্তি দাঁত কেলিয়ে বলল,
– তোকে একদম বাজে দেখাচ্ছে আইদাহ। মামি মণি তোকে এটা কী পরিয়ে দিয়েছে।
আইদাহ পরনের বারবি ফ্রকটা নেড়েচেড়ে আভিরাকে দেখিয়ে বলল,
– আভিদি আমায় তুন্দল লাকচে না বলো?
আভিরা আইদাহকে কোলে তুলে নেয়। সামান্য হেসে বলল,
– সুন্দর লাগছে তো আইদাহকে। একদম বারবি বারবি লাগছে।
আইদাহ আভিরার দিকে চেয়ে কী ভাবল কে জানে।
পরক্ষণেই মাথা ঝাঁকিয়ে বলতে লাগল,
– না, না আমায় তুন্দল লাকচে না। তৃপৃ ঠিক বলচে। আমালে তোমাল মতো তুন্দল লাকচে না। লাল, লাল।
– আভিদি তো বউ সেজেছে। তাই আভিদিকে লাল, লাল লাগছে। তোকে আভিদির মতো লাগতে যাবে কেন? তুই কি বউ?
বউ শব্দটা আগে শুনেনি আইদাহ। তবে সে আভিদির মতো বউ সাজবে বলে বায়না ধরল। কান্না জুড়ে দেয় মেয়েটা। সে কী কান্না! সবসময়ের মতো হাত পা ছোড়াছুড়ি করছে।
আভিরা পড়েছে মুশকিলে। এই মেয়েকে এখন কী বলে বুঝ দিবে। তৃপ্তির দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাল। তৃপ্তি আর দাঁড়ায় না, দাঁত কেলিয়ে দৌড় লাগাল।
তাহমিদার ছোটো মেয়ে তৃপ্তি। বড়ো মেয়েটা হয়েছে একদম বাবার মতো। এই যে বিয়েতে মোর্শেদ এলো না বলে সেও আসেনি। মোর্শেদ তো তাহমিদাকে বলেই দিয়েছে, সে যদি বিয়েতে আসে তবে যাতে একেবারে এখানে থেকে যায়। ঐ বাড়িতে কোনো জায়গা নেই তার। ঐ বাড়ির দ্বার তার জন্য বন্ধ। বন্ধ হলে হোক। তার আদরের ভাতিজির বিয়ে সে কি না এসে থাকবে। দ্বার বন্ধ হলে সেও যাবে না ঐ বাড়ি। তবুও বিয়েতে সে আসবেই। মায়ের সাথে তৃপ্তিও আসবে বলে বায়না ধরে।
তৃপ্তি এ বছর স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সামনে তার বার্ষিক পরীক্ষা। তাই মা আগের মতো তাকে নানা বাড়িতে আসতে দেয় না। বলেছে একেবারে পরীক্ষার পর নিয়ে আসবে। সে কত কান্না করল, তাকে যাতে নিয়ে আসে। তাহমিদা আসতে দিল না তো দিলই না। কিন্তু তার আভিদির বিয়ে সে না এসে থাকবে। তবে এখানে এসে তার মনটা খারাপ হয়ে গেল। সবাই শুধু আইদাহকে আদর করে। এই যে এত মাস পর সে এলো তার দিকে কারো খেয়াল নেই। সবাই আইদাহকে নিয়ে পড়ে আছে। এমনকি তার আভিদিও। তাই তো ইচ্ছে করে আইদাহকে কাঁদাল।
আইদাহ বউ সেজে বাড়িময় নেচেকুদে বেড়াচ্ছে। লাল টুকটুকে শাড়ি পরেছে সে। তার যেন আনন্দের শেষ নেই। একে ওকে দেখাচ্ছে। সে বউ সেজেছে। তার আভিদির মতো বউ।
_
বুশরা কেঁদে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। বর্ণ বোনকে ধমকাচ্ছে সে তখন ওভাবে দৌড়াতে গেল কেন? যদি পড়ে ব্যথা পেত।
ইফা, জ্যোতি সবশেষে জিদান এলো। আস্তে ধীরে এসেছে সে। যেন কোনোকিছুর তাড়া নেই তার। বর্ণের কেন যেন জিদানের উপর রাগ হলো। ছেলেটা কেমন যেন। এত অগ্রাহ্য করে চলে সবাইকে। এই যে তার সামান্য মজা করাতে মেয়েটা কান্না করছে। কিন্তু তার চোখ মুখে অনুশোচনার ছিটেফোঁটাও নেই।
ইফা খানিকটা ইতস্তত করে বলল,
– দুঃখিত বুশরা। আমি বুঝতে পারিনি যে তুমি এত ভয় পাবে। তাছাড়া আমি মিথ্যা বলিনি। ঐ বুড়ো দাদু তখন বলেছিল তাই বললাম। তুমি এসবে ভয় পাও জানলে এত কথা বলতে যেতাম না। আমরা ইচ্ছে করে কেউ এমন করিনি।
– কিন্তু উনি ইচ্ছে করে করেছেন।
– কে?
– ঐ যে, উনি।
জিদানকে দেখিয়ে।
– ভাই, ভাই কী করল?
জ্যোতি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে।
– উনিই তো হাসল, ইচ্ছে করে মজা নিয়েছে।
বলে মেয়েটা আবার কেঁদে ফেলল। কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠে গেছে।
– আর কান্না করো না। দেখো আমরা সবাই সরি বলছি। আর কখনো এমন হবে না, প্রমিস।
– কিন্তু যে দোষ করল সে তো সরি বলছে না। তাকে সরি বলতে বলুন।
জ্যোতি জানে ওর ভাই কখনো সরি বলবে না। তবুও আস্তে করে বলল,
– ভাই ওকে সরি বলে দে।
– অসম্ভব।
– দেখ ভাই দোষটা কিন্তু তোর। ওভাবে না হাসলে এমনটা হতো না। একটা সরিই তো, বলে দে না। ওরা আভিদির বিয়ে উপলক্ষ্যে এ প্রথমবার এলো আমাদের এখানে। আর কখনো আসবে কিনা ঠিক নেই। শুধু শুধু ছোটো একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে মনোমালিন্য করার কোনো মানে নেই।
ইফাও বলল,
– ভাই সরি বলে দাও।
জিদান না পারতে বলল,
– সরি।
বলে আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে সেখান থেকে চলে গেল। জিদান যেতেই বুশরার মুখে তেরছা হাসি ফুটে ওঠে।
_
কাজি বসে আছে আভিরার ঘরে। কী যেন লিখছে। বাইরে থেকে কান্নার সুর ভেসে এলো। কেউ থেমে থেমে কাঁদছে। আভিরার মনে হলো ভুল শুনেছে। পরমুহূর্তে স্পষ্ট হলো মা কাঁদছে। মোটেও ভুল হলো না তার। তবে মা এখন কাঁদছে কেন?
সামনে কাজিসহ গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বিরা বসা। আভিরা ঘোমটার আড়াল থেকে বাবাকে খুঁজল। না বাবা নেই। মা কাঁদছে কেন? কার কাছ থেকে জানবে সে। এতগুলো মানুষের সামনে থেকে উঠে গিয়ে দেখাও সম্ভব নয়। সময়ের ব্যবধানে কান্নার আওয়াজ যেন বাড়তে থাকে। এবার যেন সকলে সচেতন হলো। একজন মুরুব্বি উঠে বাহিরে যায়। এভাবে কাঁদছে কেন? মেয়ে বিয়ে দিবে, তাই বলে বিয়ের আগে এভাবে কান্না করার মানে কী?
অজানা ভয়ে মেয়েটার কলিজা ছলকে ওঠে। কিছু কী হয়েছে? নয়তো মায়ের এভাবে কান্না করার কথা না। একে একে সকলে বেরিয়ে গেল কাজি বাদে। উনি ব্যস্ত হাতে কী সব লিখেই যাচ্ছে। আভিরা বসে থাকতে পারল না আর। সকলে বেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ তাকে কেউ কিছু বলছে না। কেউ নেইও যে কাউকে জিজ্ঞেস করবে। নিশ্চয় খারাপ কিছু হয়েছে। নয়তো সকলে এভাবে বেরিয়ে যাবে কেন। আভিরা উঠে দাঁড়াল। কাজি সাহেব এক নজর মাথা তুলে আভিরাকে দেখে ফের লেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মেয়েটাকে বের হয়ে যেতে দেখেও কিছু বলল না।
_
ঐ তো নিস্তেজ হয়ে তাযীম মায়ের কোলে পড়ে আছে। কপাল বেয়ে চিকন ধারায় গড়িয়ে পড়ছে লাল তরল রক্ত।
ভেজা জবজবে অফ হোয়াইট শেরওয়ানিটা রঙ পাল্টে লাল বর্ণ ধারণ করেছে। ক্ষীণ শ্বাস চলছে। হয়তো এতটুকু শ্বাস ফেলতে বহু কষ্ট হচ্ছে ছেলেটার। মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে না কী!
আনেসা মুখে আঁচল চেপে কাঁদছে। তবুও তার কান্না সব ছাপিয়ে সকলের কান অবধি। আতিয়া খানম আহাজারি করছেন। আভিরা দরজা ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। কী হচ্ছে তার যেন বোধগম্য হলো না।
আভিরাকে দেখে আইদাহ মায়ের কোল থেকে নেমে দৌড়ে আভিরার কাছে এলো। আধো আধো বুলিতে আওড়ায়,
– আভিদি লত্… লত্ত
আভিরার যেন হুঁশ ফিরে। মাটিতে এলোমেলো হয়ে বসে পড়ল মেয়েটা। মায়ের কোল থেকে ভাইয়ের মাথাটা নিজের কাছে টেনে নেয়। বার কয়েক ডাকল,
– তাযীম ভাই আমার, উঠ সোনা। চোখ খোল।
আভিরার হঠাৎ মনে পড়ল তাযীমের সেদিনের বলা কথাটা।
তুমি পঁচা আপু। আব্বুর মতো তুমিও আমায় বকলে। আমি আর কথা বলব না তোমার সাথে। আর আসব না তোমার কাছে। তুমি কান্না করলেও আসব না। দেখে নিও।
আভিরা বিড়বিড় করে বলতে লাগল,
– আমি আর তোকে বকব না। উঠ না ভাই, দেখ আমি কান্না করছি। তুই তোর কথা রাখলি। উঠবি না। দেখ আপু ডাকছি তো। এত বড়ো শাস্তি আমায় দিস না সোনা। চোখ মেলে দেখ আপু কান্না করছে। উঠ, এই উঠ না। আম্মু তোমার ছেলেকে উঠতে বলো।
নানান জনে নানান কথা বলছে। কেউ সান্ত্বনা দিতে ব্যস্ত। আবার কেউ ঠেস মেরে কথা বলছে। মেয়ের বিয়েতে এতই মশগুল আনেসা ছেলের দিকে খেয়াল নেই। ছেলেটা এই ভর সন্ধ্যায় পুকুর পাড়ে কখন গেল তোমরা এতগুলো মানুষ দেখলে না। দেখো চোখে চশমাটাও নেই। চশমা ছাড়া তো কিছুই দেখে না। পড়ে টড়ে বোধহয় মাথা ফাটাল। পানিতে পড়ল কীভাবে। এ আবার তেনাদের কাজ নয়তো। বাচ্চাদের দিকে তো তাদের নজর থাকে। আবার ভর সন্ধ্যা। ভাগ্যিস, জিদান ঠিক সময়ে দেখে ঝাঁপ দিল। নয়তো কী হতো!
ভিড়ের মধ্যে একজন তো বলেই ফেলল,
– আহা ছেলেটা বাঁচবে তো!
আভিরা ভয়ঙ্কর চোখে তাকায় সে মহিলার দিকে। আভিরার তাকানোতে তিনি আমতা আমতা করে বললেন,
– আমি তো কথার কথা বলছি। দেখছ না কীভাবে রক্ত পড়ছে, থামছে না। বাচ্চা ছেলে। মাথায় শক্ত আঘাত পেল। তাই আর কি…
আরেকজন বলল,
– এভাবে ওর দিকে তাকালে কী হবে? ও ভুল কিছু বলেছে না কি? ছেলেটাকে হাসপাতালে নিবে, তা না করে মরা কান্না জুড়ে দিয়েছ। এভাবে রক্ত পড়লে এ ছেলে বাঁচবে।
আভিরার কানে সেসব গেলে তো। সে তো ভাইকে ডাকতে ব্যস্ত। চারিদিকে ভয়ঙ্কর নিস্তব্ধতা। শুধু থেমে থেমে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। এ বিয়ে বাড়ি নাকি শোক বাড়ি!

