#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৩১
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
ওড়নায় টান পড়তে আভিরা শাওনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়ে। মুহূর্তেই শাওন আভিরার হাত আঁকড়ে ধরল।
– আমার কথাটা শোনো আমি তোমায় ভা…
নাক বরাবর ঘুষি পড়তে শাওনের হাত আলগা হয়ে এলো।
নাওয়াজ চিল্লিয়ে উঠল,
– এ ঘরে কেন এসেছেন?
আভিরা থরথর করে কাঁপছে। সহসাই জবাব দিতে পারল না। আটকে আসা গলায় পানির গ্লাসটা দেখিয়ে বলল,
– পানি দিতে এসেছিলাম।
– ওকে ছেড়ে দাও, আমি ওকে বিয়ে করব।
শাওনের কথা শুনে আভিরা আঁতকে ওঠে। ভয়ে ভয়ে চাইল নাওয়াজের দিকে। নাওয়াজও তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
নাওয়াজ পানির গ্লাসটা সজোরে আছড়ে ফেলল মেঝেতে। ভয়ে আভিরা দু কদম পিছিয়ে যায়। জড়োসড়ো হয়ে ঠেসে দাঁড়ায়। দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে মেয়েটার। কী থেকে কী হয়ে গেল আভিরা বুঝে উঠতে পারল না যেন।
আভিরা কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে শাওনের ঘরের দিকে পা বাড়ায়। এ ছেলেকে ওর ছোটো কাকার বিয়েতে একবার দেখেছিল। এরপর এত বছর পর আজ আবার। কখনো কথা হয়নি। তাই কেমন অস্বস্তি হচ্ছে। মুখের উপর তো আর শায়লাকে মানা করে দিতে পারে না। আর এক গ্লাস পানিই তো, দিয়ে বেরিয়ে যাবে ভেবেছিল। কিন্তু সে বেরিয়ে আসতে গেলেই শাওন হুট করে তার হাত আঁকড়ে ধরে। তারপর এত সব।
শব্দ শুনে ইতোমধ্যে সকলে এ ঘরে ভিড় করেছে। শায়লা ছেলের অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে নাওয়াজকে ঠেলে সরিয়ে ছেলের কাছে গিয়ে বসে। তাহমিদা ভীতগ্রস্তে এক কোণায় জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আভিরার কাছে গেল। ভাগ্যিস মোর্শেদ বাড়ি নেই। নয়তো একটা কেলেঙ্কারি বেঁধে যেত আজ!
স্বামীর দিকে দৃষ্টি যেতে চোখ নামিয়ে নেয় শায়লা। মোজাম্মেল বুঝল কিছু একটা হয়েছে। আর তাতে পরোক্ষভাবে তার স্ত্রীরও হাত আছে। শায়লা ভাবছে কেন যে ছেলের কথা শুনে আভিরাকে এ ঘরে পাঠাতে গেল। ভুলটা তারই। ছেলের কথায় আভিরাকে এ ঘরে পাঠানো ঠিক হয়নি। আভিরা এসেছে শুনে শাওন মাকে বলেছিল মেয়েটাকে যেন একবার দেখার সুযোগ করে দেয়। আভিরা, নাওয়াজ একবার এসেছিল শাওনের ঘরে। শাওন তখন ঘুমিয়ে ছিল বিধায় আর দেখা হয়নি মেয়েটাকে। উঠে যেই শুনেছে আভিরা এসেছে সেই থেকে এক কথা একবার যেন আভিরাকে এ ঘরে নিয়ে আসে। সে তো আর উঠে যেতে পারবে না। শায়লা রাজি হতে চায়নি। কারণ নাওয়াজ আছে আভিরার সাথে। ওকে এ ঘরে একা পাঠানো সম্ভব নয়। কিন্তু তখন আভিরাকে একা দেখে কী ভেবে যেন পানি দেওয়ার বাহানায় এ ঘরে পাঠিয়ে দিল। কিন্তু এসব হবে ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি তিনি। জানলে আভিরাকে এ ঘরে পাঠাতে যেতেন না।
মোজাম্মেল তপ্ত শ্বাস ফেলে সকলকে উদ্দেশ্য করে বলল,
– সবাই বাইরে চলো। এ বিষয়ে আর কোনো কথা হবে না।
শায়লা যদিও অন্য সময় হলে স্বামীর কথায় ঘোর বিরোধিতা করত, তেতে উঠত একপ্রকার। তবে আজ কিছুই করল না। আর না বের হলো। বসে রইল ছেলের পাশে। ছেলের এমন অন্যায়ে যে তিনি সমর্থন করছেন তা না, তবে ছেলে তো।
নাওয়াজ তাহমিদার পিছনে থাকা আভিরার হাত ধরে বলল,
– আঞ্জুম আসুন। বাড়ি ফিরে যাব আমরা।
– যাবে মানে কী? তোমরা কোথাও যাচ্ছ না।
– আন্টি প্লিজ জোর করবেন না। এখানে থাকা সম্ভব নয়।
তাহমিদা অনেক কিছুই বলল। তবে লাভ হলো না কোনো। নাওয়াজ বেরিয়ে এলো মেয়েটার হাত ধরে। তার ইচ্ছে করছে শাওনকে খুন করতে। এখানে বেশিক্ষণ থাকলে কিছু একটা করে বসবে। আর এত কিছুর পর এখানে আর এক মুহূর্তও নয়। তাই বেরিয়ে যাওয়ায় শ্রেয় মনে হলো। শাওন চেয়েও কিছু বলতে পারল না। এমনি হসপিটাল থেকে এসেছে বেশি দিন হয়নি। তার উপর আবার আঘাত। নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হচ্ছে না।
মেয়েটার হাত ধরতে বুঝল এখনও কাঁপছে। নাওয়াজ সেদিকে খুব একটা ধ্যান দিল না। নিজের সিটবেল্ট লাগিয়ে আভিরারটাও লাগিয়ে দিল। এত স্পিডে ড্রাইভ করছে। আভিরার ভয় করলেও মুখ ফুটে বলতে পারল না আস্তে চালাতে। শুধু আতঙ্কভরা চোখে দেখে গেল চোয়াল শক্ত করে ব্যস্ত হাতে ড্রাইভ করতে থাকা মানবকে। আধ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামল। এত দ্রুত গতিতে চালিয়েছে যে পঁয়তাল্লিশ মিনিটের রাস্তা আধ ঘণ্টায় শেষ।
আনেসা এমন অসময়ে মেয়ে, মেয়ের জামাইকে দেখে খুব একটা অবাক হলো না। কিছুক্ষণ আগে তাহমিদা ফোন দিয়ে তাকে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে অবগত করেছে। সাথে মোজাম্মেলও ছেলের কাজের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। সময় করে যেন নাওয়াজ আভিরাকে নিয়ে আরেক দিন ও বাড়ি যায় সে কথাও বললেন। আজ যা হলো তাতে তারা লজ্জিত। আনেসা বসে পিঠা বানাচ্ছিল। বিয়ের পর মেয়ের বাড়ি থেকে নানান পিঠা বানিয়ে ছেলের বাড়ি পাঠানো হয়।
ফুলঝুরি, চিকন, হান্দেশ, সিরিঞ্জ, ঝিনুক পিঠাসহ আরও অনেক পিঠা বানানো হয়েছে। দুদিন নাওয়াজ ছিল বলে জামাইয়ের দিকে খেয়াল রাখতে গিয়ে পিঠা বানানো হয়নি। আজ যাই বানাতে বসেছে তার উপর এসব।
নাওয়াজ হনহনিয়ে রুমে চলে গেল। আভিরা কী করবে বুঝতে পারছে না। দাঁড়িয়ে রইল ড্রয়িংরুমের মাঝে। সারা রাস্তায় অস্বাভাবিকভাবে কাঁপলেও ঘরে এসে একদম স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে। আনেসা এ প্রসঙ্গে কথা তুলে না। তোফায়েল আহমেদ বাড়ি নেই। তার কানেও হয়তো খবর গিয়েছে। তিনি এলে না হয় এ নিয়ে কথা হবে।
_
রুমে যেতে দেখা মিলল নাওয়াজ জামাকাপড় না ছেড়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে পড়ে আছে। পায়ের জুতা জোড়াও খোলা হয়নি। কপালে এক হাত ঠেকিয়ে চোখ বুজে পড়ে আছে সে। ঘুমিয়ে আছে না জেগে দেখে বুঝার উপায় নেই।
আভিরা হাতের প্লেট টেবিলে রেখে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে ভয়ে ভয়ে ডাকল,
– শুনছেন, জেগে আছেন?
সাড়া নেই কোনো। আভিরার কেন জানি নাওয়াজের এমন নিশ্চুপতায় গা হিম হয়ে আসে। এমন রাগ আগে কখনো দেখেনি। যদিও তাকে কিছু বলেনি। তবুও ভয় করছে। কাছে গিয়ে পুনরায় ডাকল,
– আম্মু বলেছে খেয়ে নিতে। খাবার পাঠিয়েছে। খেতে উঠুন।
নাওয়াজ এক টানে আভিরাকে বিছানায় ফেলে দু হাত চেপে ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলল,
– কোথাও যেতে নিষেধ করেছিলাম।
আভিরা ভড়কে গেল। ব্যথা সহ্য করতে না পেরে চোখ ছাপিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে তার। মৃগ নয়নের কাণায় কাণায় অশ্রু ঠাসা। হাত ছাড়াতে ব্যর্থ হলে ভাঙা গলায় বলল,
– আম… হা…হাতে লাগছে ছাড়ুন।
নাওয়াজ ছাড়ল না। আরও জোর প্রয়োগ করে। দু হাত মুচড়ে সামান্য ঝুঁকে বলল,
– আগে বলুন আমার কথা অমান্য করে বের হয়েছিলেন কেন?
– একা ঘরে বসে ভালো লাগছিল না। আপনারও আসতে দেরি হচ্ছিল তাই…
– তাই বেরিয়ে গেলেন। দুটো মিনিট অপেক্ষা করা যেত না।
আভিরা মুখ ফুটে কিছু বলতে চাইল। তবে নাওয়াজ কিছু শুনল না। ছেড়ে দেয় আভিরার হাত, বেরিয়ে গেল রুম থেকে। সেদিকে তাকিয়ে আভিরা ফুঁপিয়ে ওঠে। সে নিজের দোষ মেনে নিয়েছে। ভুলটা তারই। লোকটা বাইরে যাওয়ার আগে তাকে বলে গিয়েছিল সে না আসা অবধি যেন বাইরে বের না হয়। কয়েক মিনিট বসে থেকে আভিরা একপ্রকার বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে ছিল। একা একা কতক্ষণ বসে থাকা যায়। নাওয়াজ বাইরে গিয়েছে অনেকক্ষণ। আসার নাম নেই। তাই বসে না থেকে বের হলো ঘর থেকে।
শাওনের মনোভাব সম্পর্কে সে অবগত নয়। কেউ তো আর এসব তাকে জানায়নি। জানলে ও বাড়ি যেতে রাজি হতো না কখনোই। লোকটা সব জানত। সেজন্য প্রথমে রাজি হয়নি। আবার তাকে ছাড়া বের না হতেও নিষেধ করে গিয়েছিল। তাকে জানালে সে নিশ্চয় ঐ লোকের কথা অমান্য করে বের হতো না। তাকে কোনোকিছু নিয়ে অবগত না করে তার উপর চোটপাট করার কোনো মানে হয়।
কাঁদতে কাঁদতে আভিরা কখন ঘুমিয়ে গেল জানা নেই। মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে। মেয়েকে উঠার জন্য তাড়া দিয়ে বলল,
– ওঠ। আর কত ঘুমাবি?
উঠতে গিয়ে বুঝল হাত নাড়াতে পারছে না। আভিরা বহু কষ্টে উঠে দাঁড়ায়। মাকে কোনোকিছুর আঁচ করতে দিল না। লুকানোর বৃথা চেষ্টা। মায়ের চোখ ফাঁকি দেওয়া এত সহজ। মায়েদের বলতে হয় না। তারা যেন দেখেই বুঝে যায়। দশ মাস পেটে ধরেছে, সে মেয়ের নাড়ি নক্ষত্র চেনা। আনেসা সবটা অভিজ্ঞ চোখে পরখ করল। মেয়ের চোখের ভেজা পাপড়ি, হাত নাড়াতে না পারা। নাওয়াজকে তখন বেরিয়ে যেতে দেখেছিল। ভেবেছিলেন হয়তো কোনো কাজে বাইরে যাচ্ছে। কিন্তু মেয়ের সাথে যে রাগারাগি করে বেরিয়েছে তা বুঝেনি। আভিরা বাইরে গিয়ে নাওয়াজকে কোথাও দেখল না। আনেসা গরম গরম ভাজা হান্দেশ আর বাটিতে সবজি এনে মেয়েকে বলল,
– খেয়ে দেখ তো কেমন হয়েছে।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও আভিরা মুখে দেয়। চিনির সিরা ছাড়া তেলে ভাজা হান্দেশ আভিরার অনেক পছন্দের। যেকোনো তরকারি দিয়ে খেতে দারুণ লাগে। বিশেষ করে গোশতের ঝোল দিয়ে। তবে আজ যেন সে স্বাদ উপভোগ করার কোনো তোড়জোড় দেখা গেল না তার মাঝে।
_
নাওয়াজ এলো ঘণ্টা দুয়েক পর। আভিরা ততক্ষণে মা, চাচিদের সাথে হাত লাগিয়েছে। রান্নাটা না পারলেও বিভিন্ন পিঠা বানাতে ভালোই পারে। তার কাকি বেলে দিলে চালের গুঁড়োয় বানানো পুরু গোল দলায় খেজুরের কাঁটা দিয়ে নকশা করছে।
নাওয়াজ এসেছে সে খেয়ালই করেনি। মাহাদ এসে সকলের সাথে কুশল বিনিময় করতে নাওয়াজকে চোখে পড়ল তার। একবার সেদিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিজের কাজে মন দেয়।
নাওয়াজ তখন বেরিয়ে মোড়ের ধারে থাকা চায়ের দোকানে বসেছিল। দু কাপ চা আর সিগারেট ফুঁকে ব্রিজে বসে সে। সন্ধ্যা নামলেও বাড়ি ফেরার তাড়া দেখা গেল না তার মাঝে।
ফোনের রিংটোনে ধ্যান ভাঙলেও পকেট থেকে ফোন বের করে ধরার চেষ্টা চালায় না, বসেই রইল। কিন্তু ফোনদাতার লাগাতার দেওয়া কলে অতিষ্ঠ হয়ে কল ধরতে হলো তাকে।
মাহাদ জানাল সে আসছে, মাঝ রাস্তায় আছে। সে কাল আসতে চেয়েছিল। কিন্তু ইয়াজমীন বলল আজই যেতে। তাই হসপিটাল থেকে সোজা বন্ধুর শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। নাওয়াজ বসে মাহাদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। মাহাদ আসতেই ওকে নিয়ে বাড়ি ফিরে। মাহাদকে দেখে সকলে ব্যস্ত হয়ে গেলেও আভিরার মাঝে কোনো হেলদোল দেখা গেল না। কথা বলে সে নকশা করতে ব্যস্ত। আনেসা বুঝল মেয়েকে জোর করেও এখান থেকে উঠানো সম্ভব নয়।
মাহাদকে নাওয়াজ নিজের শার্ট, প্যান্ট দিল পরার জন্য। বেচারা যেহেতু হসপিটাল থেকে সোজা এখানে এসেছে, তাই সাথে কিছু আনার সুযোগ করে উঠতে পারেনি। ফ্রেশ হয়ে এলে আনেসা তাদেরও পিঠা দেয়। স্বাস্থ্য সচেতন দু ডাক্তার বেশ আয়েশ করে তেল চুপচুপে অস্বাস্থ্যকর পিঠা খাচ্ছে। খেতে খেতে মাহাদ আভিরা আর নাওয়াজের ভাবভঙ্গি দেখে নেয়। দুটোর একটা আরেকটার দিকে ভুলেও ফিরে দেখছে না। নাওয়াজ এক মনে পিঠা খেয়ে চলেছে। আর আভিরা নকশা আঁকছে।
আনেসা ফোন দিয়ে ইয়াজমীনকে সবটা বলেছে। সব শুনেই ইয়াজমীন মাহাদকে এখানে পাঠায়। নাওয়াজের রাগ সম্পর্কে তিনি অবগত। ছেলেকে সে ছাড়া এ মুহূর্তে মাহাদই সামলাতে পারবে। তবে যা ঘটে যাওয়ার ইয়াজমীনের অগোচরে ঘটে গিয়েছে। আনেসা সব বললেও তার মেয়ের সাথে করা কর্মকাণ্ডের কথা ভুলেও বলেনি।
মাহাদ সব শুনে ছুটে এসেছে। অথচ এ দুটোকে দেখো। একজন কাজ করছে আর আরেকজন খেয়েই চলেছে।মাঝে ফেঁসে গেল সে। মাহাদ ভাবল তার দ্রুত বিয়েটা সেরে ফেলা উচিত। তারপর সে একেক কাণ্ড করে নাওয়াজকে নাকানিচোবানি খাওয়াবে। নিজের বাড়ি থেকে তার বাড়ি দৌড় করাবে। সে যেমন দৌড়ে এসেছে আজ। তবে দুঃখের বিষয় দুজনের বাড়িই একেবারে দ্বার সম্মুখে।
হান্দেশ রেখে মোগলাই পরোটা মুখে দিতেই নাক মুখ কুঁচকে নিল আভিরা। নকশা আঁকলেও চোখ তার নাওয়াজের দিকে। মেঝেতে বসাতে সুবিধা হয়েছে। সে নাওয়াজকে বেশ ভালো করে দেখতে পারছে। দেখো কেমন করে গিলে যাচ্ছে, যেন জীবনেও খায়নি।
_
নাওয়াজ বেশ রাত করে রুমে এলো। আভিরা তখন গভীর ঘুমে। হাতে থাকা টিউব থেকে মলম বের করে আভিরার হাতে লাগিয়ে দেয়। হাতে ঠান্ডা পরশ অনুভব হতে আভিরার মস্তিষ্ক সচল হলো। লোকটা এসেছে তবে। লোকটার সামনে যেন পড়তে না হয় তাই আগেভাগেই শুয়ে পড়েছে। কিন্তু চোখে ঘুম নামলে তো। তবুও জোর করে ঘুমানোর চেষ্টায় চোখ বুজে পড়ে রইল। মলম লাগিয়েই নাওয়াজ সরে যায়। আভিরা আহত হলো। চোখ গলিয়ে পড়ে উষ্ণ নোনাজল। ভেবেছিল আর যাইহোক লোকটা আঘাত করে হয়তো সে রাতের মতো একটা চুমু খাবে। কিন্তু তা করেনি। এত রাগ?
ঘন নিঃশ্বাস পড়তে নাওয়াজ ঘুরে আভিরার হাতে ঠোঁট ছোঁয়ায়। মেয়েটার হাত ধরতেই নাওয়াজের ভুল ভাঙে। তখন ভেবেছিল ঘুমিয়ে গিয়েছে। কিন্তু মলম লাগাতে যখন হাত খানিক কাঁপল তখনই বুঝল এই মেয়ে যে ঘুমায়নি। তাই মলম লাগিয়েই সরে এসেছে।
মেয়েটা হয়তো ভেবেছে ঘুমিয়ে থাকার অভিনয় করবে আর নাওয়াজ বুঝতে পারবে না। আভিরা তো আর জানে না এই নাওয়াজের সাথে লুকিয়ে চুকিয়ে কিছু করা অসম্ভব প্রায়।
গভীর ঘুমে দেখে নাওয়াজ সময় নষ্ট না করে চুমু খেল।
হাতার অংশ কিছুটা গুটাতে দেখল নখের আঁচড়, লালচে হয়ে আছে তা। নাওয়াজ তাতেও ঠোঁট ছোঁয়ায়।

