প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন #পর্বসংখ্যা_৪৯

0
2

#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৪৯
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা

– খাব!

হঠাৎ এমন কথার মানে নাওয়াজের বুঝে এলো না। মেয়েটা আজকাল অদ্ভুত আচরণ করে। বুকে লেপ্টে থাকা মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
– কী খাবেন?

আভিরা চাদর সরিয়ে সামান্য উঁকি দেয়। আঙুল উঁচিয়ে রাস্তার অপর পাশে দেখায়। নাওয়াজ দেখল ছাউনির নিচে মাঝবয়সী এক মহিলা শীতের পিঠা বানাচ্ছে। নাওয়াজ যেন দেখেই বুঝল এ মেয়ে কী খেতে চাচ্ছে।

– আপনি বসুন, আসছি আমি।

– আমিও যাব।

– আসুন।

নাওয়াজ ভাড়া মিটিয়ে নেমে এলো।

– কোনটা খাবেন? ভাপা না চিতই পিঠা?

– চিতই…

আভিরা কথা শেষ করতে পারল না। তার আগেই দেখল ছাউনির ভিতর থেকে তিন চারটা ছেলে বেরিয়ে এসেছে। মেয়েলি কণ্ঠ কানে যেতেই বেরিয়েছে তারা। উঠতি বয়সী ছেলেপেলে সব। নাওয়াজ এক পলক ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে আভিরাকে বলল,
– ঐদিকে গিয়ে দাঁড়ান। নিয়ে আসছি আমি।

আভিরা কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,
– সাথে সরিষা আর মরিচ ভর্তা।

– আচ্ছা।

নাওয়াজ পিঠা এনে দিতেই আভিরা গরম গরম পিঠাতে কামড় বসায়। শীতের পিঠার মধ্যে এ চিতই পিঠা দারুণ লাগে তার। ভাপা পিঠা অত ভালো লাগে না। মিষ্টি জাতীয় খাবারে বরাবরই তার অনিহা। সেজন্য ভাপা পিঠার প্রতি এতটা টান নেই।

– আপনি এত বেশি মরিচ ভর্তা দিয়ে খাচ্ছেন কেন?

– ভালো লাগে।

– পরে বলতে আসবেন না ঝালে ঠোঁট মুখ জ্বলছে। আমি কিন্তু পানি এনে দিতে পারব না।

আভিরা আড়চোখে চায় নাওয়াজের দিকে। বিড়বিড় করে বলল,
– বলব না।

খানিক বাদেই ঝালে বারবার শ্বাস ফেলে মেয়েটা। নাওয়াজ ঠায় দাঁড়িয়ে দেখল। আভিরার চোখ গলিয়ে পানি পড়তেই নাওয়াজ মেয়েটার পিঠে হাত রাখে। নিচু স্বরে বলল,
– কথা শুনেন না কখনোই। এখন চোখের পানি ফেলেন ঝালে। আমি পারব না পানি এনে দিতে।

আভিরা জল টইটম্বুর চোখে চাইল। চোখ মুখ লাল হয়ে এসেছে তার। মেয়েটা ফুটপাত ঘেঁষে বসে পড়ল। নাওয়াজও বসে মেয়েটার সাথে।

– এখানেই বসে থাকবেন। দেখছি কোথাও পানি পাওয়া যায় কিনা।

ঝালে আভিরার মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। কোনোরকম ঘাড় নাড়িয়ে সায় জানায়।

এদিকে দোকানপাট নেই কোনো। নাওয়াজের যত দূর চোখ যায় দেখল রাস্তার দুই পাশই ফাঁকা। মানব শূন্য এদিকটা একেবারে, নির্জন রাস্তা। মেইন রাস্তা হলে দোকানপাট থাকত। কিন্তু গ্রামের ভিতরে বলে কোনো দোকান নেই। রিকশাওয়ালা অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে এসেছে ওদের। এই দিক দিয়ে নাকি তাড়াতাড়ি যেতে পারবে। অনেক আগে এই দিকে দু একবার আসা হয়েছিল নাওয়াজের। ছাউনির এইখানে আগে একটা চায়ের দোকান ছিল। এখন সেইটা নেই। ঐ দোকান থাকলে এমন ঝামেলায় পড়তে হতো না। নাওয়াজ এত না ভেবে পিঠা বানাতে থাকা সেই মহিলার কাছেই গেল।

– খালা পানি হবে আপনার কাছে?

– কীসের লাইগা? খাওয়ার পানি লাগব তোমার?

– জি।

– খাওনের পানি তো আমার ধারে নাই বাজান।

– আশেপাশে কোথাও পানি পাওয়া যাবে না?

– সামনে আমার বাড়ি আছে। কিন্তু দোকান ফালাইয়া কেমনে যাই বাজান। রাস্তার ধারে দোকান। বুঝয় তো, খালি ফালাইয়া যাওন সম্ভব না।

নাওয়াজের নিজেকে অসহায় লাগছে। এক নজর চাইল আভিরার দিকে। মেয়েটা হাঁটুতে মুখ গুঁজে সেখানেই বসে আছে। দোকানের ভিতর থেকে সেই ছেলেগুলো আবার বেরিয়ে আসে।

– আমাদের সাথে আসেন। খালার বাড়িতে নিয়া যাই।

– যা তো ওনাকে নিয়া যা। বাড়িতে তোর খালু আছে। গেট খোলা না পাইয়া আবার ফেরত আসিস না। ডাক দিলেই গেট খুইলা দিব।

– আইচ্ছা।

– মেয়েটা কে ভাইয়া, আপনার বোন?

নাওয়াজ দাঁতে দাঁত পিষে। দু হাত মুষ্টিবদ্ধ করে চাইল ছেলেগুলোর দিকে। তাদের চোখে মুখে আগ্রহ। নাওয়াজ বুঝল তাকে আগ বাড়িয়ে সাহায্য করার কারণ। কিছু বলে না সে। ওদের কথা শুনেইনি যেন এমনভাবে সামনে পা বাড়ায়। ছেলেগুলো আবার জানতে চাইল। জবাব না পেয়ে থেমে যায় তারা।

নাওয়াজ পানি এনে দিতে আভিরা পাগলপ্রায় নাওয়াজের হাত থেকে পানির বোতল নেয়। আভিরাকে এমন অধৈর্য হয়ে পানি নিতে দেখে নাওয়াজ ওর কাঁধে হাত রেখে ধীর স্বরে বলল,
– আস্তে, নাকে মুখে উঠবে।

আভিরা পানি খেয়ে সেখানেই বসে রইল। নাওয়াজ মেয়েটার মাথায় হাত রাখে। আভিরার হাত থেকে পানির বোতল নিয়ে বলল,
– উঠুন এবার, বাড়ি ফিরতে হবে।

– থাকি আরেকটু।

নাওয়াজ বসল মেয়েটার পাশে।‌ আভিরা ওভাবেই হাঁটুতে মুখ ঠেকিয়ে বসে থাকে। ধীরে ধীরে মাথা তুলে পাশে বসে থাকা পুরুষটার কাঁধে মাথা রাখে সে। দু হাতে জাপটে ধরল। হঠাৎ এমন করাতে নাওয়াজ কিছুটা বিভ্রান্ত দৃষ্টি ফেলে মেয়েটার উপর। চাপা স্বরে বলল,
– মানুষ দেখবে।

আভিরা সরে না। লেপ্টে থাকে ওভাবেই। বুজে আসা স্বরে বলল,
– কেউ দেখবে না।

এদিকটা বলতে গেলে একেবারে শুনশান। লোকজনের দেখার সম্ভাবনা নেই একেবারে। ল্যাম্পপোস্টের আলোও ঠিকরে পড়ে না এই দিকে। এমন আলো আঁধারিতে কারো নজরে পড়বে না ফুটপাত ঘেঁষে বসে থাকা নর নারী।

_

– কী সমস্যা?

আভিরা ইতস্তত করে। যত ঝামেলা যেন এ লোকের সামনেই হয়। তীব্র অস্বস্তি নিয়ে বলল,
– ব্লাউজের ফিতা বাঁধতে পারছি না।

– আমি বেঁধে দিচ্ছি।

মেয়েটা আঁতকে ওঠে। তড়িঘড়ি করে বলে উঠল,
– লা্ লাগ লাগবে না, আমি করে নিতে পারব।

– আপনার এই স্বভাব আমার রাগ ধরিয়ে দেয়। কবে বেরিয়ে আসবেন এমন স্বভাব থেকে। বাড়িতে তো মা, লাবণ্য কেউ নেই। কেউ এসে যে আপনার ব্লাউজের ফিতা বেঁধে দেবে তাও সম্ভব নয়।

– আ্ আমি পারব।

নাওয়াজের ইচ্ছে হলো ঠাঁটিয়ে চড় লাগাতে। এই মেয়ে এত বেয়াদব। এত বুঝানোর পরও তার অস্বস্তির শেষ নেই।

– কথা বাড়াবেন না। আমাকে বাঁধতে দিন। আপনি পারবেন না বাঁধতে।

নাওয়াজ ব্লাউজের ফিতা বেঁধে সরে আসতে গিয়েও থেমে গেল। মেয়েটার পিঠে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে বলল,
– ব্লাউজটা বোধ হয় বেশি লুজ?

– জি, জি। রেডিমেড তো তাই।

আভিরা তোতলায়। এত দিকে চোখ যায় কেন এ লোকের।

– আচ্ছা সেফটিপিন দিন লাগিয়ে দেই আমি।

মেয়েটা চোখ উঁচিয়ে চাইল নাওয়াজের দিকে। দ্বিধাদ্বন্দ্ব কণ্ঠে বলল,
– আব্ সেফটিপিন কেন?

– বেশি লুজ ব্লাউজটা। গায়ে শাড়ি জড়ালেও বুঝা যাবে। সেফটিপিন দিন আমায়।

আভিরা কাঁপা হাতে সেফটিপিন এগিয়ে দেয় নাওয়াজকে। হঠাৎ কেন যেন ভয়ে গলা শুকিয়ে এলো। অস্থিরতা দেখা যায় তার সুশ্রী চেহারায়।
নাওয়াজ পেটের কাছটাই ব্লাউজ টেনে সাবধানতার সহিত সেফটিপিন দিয়ে আটকে দিল। খাটে রাখা লাল, গোল্ডেন মিশেলের কাঞ্জিভরম শাড়িটা হাতের আঁজলায় নেয়। ভাঁজ খুলে মেলে ধরল বারো হাতের শাড়ি। খসখসে হাতে সুডৌল কোমর ছুঁয়ে শাড়ি গুঁজে। এবার কুঁচি করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়নি তাকে। খুব দক্ষতার সাথে কুঁচি করে কোমরে গুঁজে দিল। আঁচল টেনে কাঁধে সেফটিপিন দিয়ে আটকে দেয়। তারপর হাঁটু গেড়ে বসল রমণীর সম্মুখে। এলোমেলো শাড়ির কুঁচি টেনে ঠিক করল। হুট করে নাওয়াজ চোখ তুলে তাকায়। দেখল আভিরার নজর তার দিকেই স্থির। তার এমন হঠাৎ দৃষ্টিপাতে আভিরা থতমত খেল। তড়িঘড়ি করে নজর ফেরায়। আচমকা মনে হলো তার কোমরে ঠান্ডা হাতের স্পর্শ। শাড়ি সরিয়ে কেউ কোমরে ঠোঁট ছুঁয়েছে। হঠাৎ স্পর্শে আভিরার শরীর কেঁপে ওঠে। ছটফটে ভাব দেওয়া গেল মেয়েটার মধ্যে।‌ নাওয়াজের স্পর্শের চেয়েও তার কথায় তীব্র অস্থিরতা।

– এমন একটু আধটু ছোঁয়াতে আমার হয় না আঞ্জুম। আমার পক্ষে মনকে বুঝ দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সম্পূর্ণ আপনিটাকে নিজের করে কবে পাব!

_

– কী কাজ করতে হবে আন্টি? আমাকে বলুন, আমি করে দিচ্ছি।

আভিরাকে দেখে সুরভী রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো। শাড়ির আঁচলে হাত মুছে মেয়েটার থুতনি ধরে মিষ্টি হেসে বলল,
– কাজ করার জন্য অনেক লোক আছে। তোমাকে হাত লাগাতে হবে না। তুমি বরং এক কাজ করো। এই শরবতের গ্লাসটা নাওয়াজকে দিয়ে এসো।

– চিনি কম দিয়েছেন তো? মানে উনি এত মিষ্টি খেতে পারেন না।

– দেড় চামচ চিনি দিয়েছি। মিষ্টি হয়নি বেশি, ঠিকঠাক। তোমার স্বামী খেতে পারবে।

আভিরা লজ্জা পেল কিছুটা। মাথা নুইয়ে দ্রুত গ্লাস হাতে বেরিয়ে এলো। বাহিরে গিয়ে দেখল নাওয়াজ মাহাদের সাথে কাজে হাত লাগিয়েছে।

– এটা নিন।

– আপনি বাহিরে এলেন কেন? বের হতে নিষেধ করেছিলাম আপনাকে।

আভিরা মাথা নুইয়ে মিনমিন করে বলল,
– আন্টি বলল আপনাকে দিতে।

– আচ্ছা। ভিতরে যান এবার, বের হবেন না আর। বাহির থেকে অনেক মানুষ এসেছে। প্রয়োজন ছাড়া কারো সামনে যাবেন না।

– আচ্ছা।

_

মাহিরার রুম মেয়েমানুষ দিয়ে গিজগিজ করছে। আভিরা এক কোণায় জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়ায়। এত মানুষের ভিড়ে অস্বস্তি লাগছে তার। এর মধ্যে বাচ্চা কাচ্চার কান্নার শব্দ। শীতের মধ্যেও যেন মেয়েটার শরীর ঘেমে উঠেছে।

– তুমি এখানে কী করছ? এসো আমার সাথে।

বর্ণাকে দেখে আভিরা মুচকি হাসে। মৃদু হেসে বলল,
– আপনাকে সুন্দর লাগছে আপু।

আচমকা বর্ণা ঘুরে তাকায়। আভিরা যেন সে চাহনিতে বিব্রত বোধ করে। বর্ণা তা দেখে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে বলল,
– এত ভয় পাও কেন?

আভিরা আমতা আমতা করে,
– এ্ এমনি…

বর্ণার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে আভিরা থেমে যায়। বর্ণা এগিয়ে আসে। আভিরার ঠিক সামনে এসে দাঁড়ায়। থুতনি ছুঁয়ে বলল,
– মুখের এই হাল কেন?

আভিরা বুঝল না এমন কথার মানে। দ্বিধা নিয়ে বলল,
– মানে?

– সাজোনি কেন তুমি?

– সাজতে ভালো লাগে না আমার।

– তাই বলে এমন অনুষ্ঠানেও সাজবে না। শাড়ির সাথে একটু গর্জিয়াস মেকআপ না করলে কেমন দেখায়।

– আমি এমনই ঠিক আছি।

– লিপস্টিকটা অন্তত দাও।

– না আপু। উনি রাগ করবেন। সাজতে নিষেধ করেছেন।

বর্ণা হঠাৎ শব্দ করে হেসে উঠল।

– আরে বোকা মেয়ে লিপস্টিক দিলে সাজা হয় না। ঠোঁট দুটো লাল রঙে রাঙাও। ট্রাস্ট মি, নাওয়াজ দেখে রাগ করবে না।

– দিব না আমি।

মেয়েটার কণ্ঠে কী দৃঢ়তা। যেন স্বামীর কথার বাইরে কদম ফেলাও বারণ। সাজতে নিষেধ করেছে তাকে। সে কেন ঐ লোকের বিরোধিতা করে নিজেকে সাজাতে যাবে। আর হালকা পাতলা সাজে তো নিজেকে সাজিয়েছেই সে। ঐ লোকই সাজিয়ে দিয়েছে। এই গলায় থাকা হার, হাতের বালা সব নাওয়াজ পরিয়ে দিয়েছে নিজ দায়িত্বে। বাড়তি রঙ লাগাতে যাবে কেন এখন?

_

বর্ণা আভিরাকে নিয়ে মাহিরার কাছে গেল। মেয়েটাকে কী চমৎকার লাগছে। আভিরা দেখল মাহিরার চোখে মুখে কেমন অস্থিরতা। লাজুকতায় ছেড়ে রয়েছে মুখাবয়ব। আভিরার হঠাৎ তার বাগদানের কথা মনে পড়ে। কী অদ্ভুত অস্থিরতা ছিল তার মধ্যে সেদিন। প্রতিটা মেয়েরই বোধ হয় এমন অনুভূতি হয় এদিনে। নয়তো সামাদ তো অপরিচিত কেউ না। তবুও মাহিরার চোখে মুখে কী উদ্বিগ্নতা!

এনগেজমেন্টের অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হুট করেই নেওয়া হয়েছে। ছ মাস পরে হবার কথা থাকলেও দুদিন আগে দুই পরিবারের লোকেরা বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নিল শুক্রবার আংটি পরানো হবে। সামাদের চাচার ফ্লাইট রবিবারে। সেজন্য উনি দেশে থাকতে থাকতেই এনগেজমেন্টের অনুষ্ঠান সেরে ফেলবে। বাহিরে গেলে কবে আসবে তার নিশ্চয়তা নেই। সেই সুবাদে আজ এই এনগেজমেন্টের অনুষ্ঠান।

– এক্সকিউজ মি মিস!

– মিস নয়, মিসেস ইয়াজিদ। আভিরা আঞ্জুম, নাওয়াজ ইয়াজিদের ওয়াইফ। ‌

– সে ম্যারিড?

– উনি।

– সরি, বাট দেখে কোনোভাবে বিবাহিত লাগছে না।

– ড্রেসআপ দেখে বুঝা উচিত ছিল।

– সরি। ড্রেসআপ দেখে বুঝা সম্ভব নয়। শাড়ি পরলেও দেখে বিবাহিত মনে হচ্ছে না।

নাওয়াজ তীক্ষ্ণ চোখে চাইল সামনে থাকা ছেলেটার দিকে। এ ছেলেকে সে আগে কখনো দেখেনি। সামাদের বাড়ির কেউ হয়তো।

– আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না।

– আমি সামাদের ছোটো চাচার শ্যালক।

– ওহ্। কোন প্রয়োজন ছিল?

– জি, আসলে মাহাদের রুম কোনটা বুঝে উঠতে পারছি না।

– ডানে গিয়ে একেবারে শেষের রুমটা।

– থ্যাংকস।

ছেলেটা যেতে নাওয়াজ আভিরার দিকে ফিরে চায়। মেয়েটার হাত ধরে বলল,
– চলুন।

– কোথায় যাব? একটু পরে আংটি পরানো হবে।

– দেখতে হবে না।

– দেখব আমি।

নাওয়াজ কথা বলে না। মেয়েটার হাত ধরে বেরিয়ে এলো। চাপা স্বরে হিসহিসিয়ে বলল,
– আমার কথা শুনে যদি রুমে থাকতেন তাহলে আংটি পরানো দেখা হতো আপনার। কিন্তু আপনি তো কথা শোনার মেয়ে না। স্বামী যেইটা নিষেধ করবে আপনার সেই কথার অবাধ্যতা করতে হবে।

আভিরার হঠাৎ চোখ গলিয়ে পানি পড়ে। সে এই লোকের কথার অবাধ্যতা করে। কই বর্ণা এতবার বলার পরও তো সে ঠোঁটে লিপস্টিক ছোঁয়ায়নি। লোকটা বারণ করেছে সেজন্য। রুম ভর্তি মানুষের মধ্যে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। লোকটা বের হতে নিষেধ করেছে বিধায়। আর এখন এ লোক বলছে সে তার স্বামীর কথার অবাধ্যতা করে।

আভিরা ঠোঁট কামড়ে কান্না সংবরণ এর চেষ্টা করে। বর্ণার সাথে ড্রয়িংরুমে গিয়েছিল তখন। হঠাৎ করে ঐ ছেলে এসে ডাকল। সে তো কথা অবধি বলেনি। যা বলার এই লোকই তো বলল। তারপরও তার দোষ দিতেই হবে। এও শুনতে হবে সে তার কথার অবাধ্যতা করে।

_

– আপনাকে দেখে ওনার বিবাহিত কেন লাগেনি আঞ্জুম?

আভিরা জবাব দেয় না। এইটা কেমন প্রশ্ন। ও কী করে বলবে কেন মনে হয়নি। হঠাৎ নাওয়াজের গম্ভীর স্বর কানে আসে।

– এই ঘোমটা কোথায়, ঘোমটা কেন দেননি?

হঠাৎ ধমকে আভিরা দু কদম পিছিয়ে যায়।

– জ্ জি, ঘোমটা দিয়েছিলাম আমি। পড়ে গিয়েছে হয়তো।

– আচ্ছা আসুন।

মেয়েটা গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যায়। নাওয়াজ ড্রেসিং টেবিল এ থাকা বক্স থেকে বেশ কয়েকটা রঙ বেরঙের চুড়ি বের করে পরিয়ে দিল মেয়েটার শুভ্র হাতে। নাকে হাত দিতে গেলে আভিরা আচমকা পিছিয়ে যায়। আঁতকে বলে উঠল,
– কী করছেন কী আপনি?

নাওয়াজ মেয়েটার ঠোঁটে আঙুল ছুঁয়ে চুপ করিয়ে দেয়। আভিরা যেন জমে যায়। আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নাওয়াজ নাকের নথ খুলে, সাদা পাথরের একটা নথ পরিয়ে দেয়। আভিরা স্তম্ভিত হয়ে শুধু নাওয়াজের কাণ্ড দেখে গেল। নাওয়াজ মেয়েটার মাথায় ঘোমটা দিয়ে বলল,
– এবার দেখে ম্যারিড লাগছে আপনাকে, নাওয়াজ ইয়াজিদের বউ!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here