মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-১৯.৩ ] #মেহুলিনা_প্রাপ্তি

0
1

#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-১৯.৩ ]
#মেহুলিনা_প্রাপ্তি

এখন রাত প্রায় দুইটার কাছাকাছি ।রোদেলা চোখের পানি মুছে ঘরের দিকে পা বাড়াতে নিচ্ছিল,তখনি রোদেলার হাতে থাকা ফোনটা বেজে উঠলো।রোদেলা ফোনটা হাতে নিয়ে আননোন নাম্বারটার দিকে অপলক তাকিয়ে রইলো। একবার কল হয়ে কেটে গিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় আবার কল এলো। রোদেলা কল রিসিভ করে কানে ধরলো।

ফোনের বিপরীত পাশ থেকে আজ বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলার শব্দ ভেসে আসছে।রোদেলা বিরক্ত হয়ে কল কেটে দিতে নিচ্ছিল, তখনি রোদেলাকে সম্পূর্ণ হতবাক করে দিয়ে,ফোনের বিপরীত পাশ থেকে প্রথমবারের মতো পুরুষালী গম্ভীর সম্মোহনী কন্ঠ ভেসে এলো,
” ইটস টু এ.এম । বাট আই ক‍্যান্ট স্লিপ। ”

রোদেলা’র বুকটা ছ‍‍্যাঁৎ করে উঠলো অপ্রত‍‍্যাশিত কথাটা শুনতেই। পুরুষালি গলার স্বরের মালিককে চিনতে আসুবিধা হলো না রোদেলার। আহিয়ানের সম্মোহনী কন্ঠে, রোদেলার ছোট বুকটা ধুকপুক করছে এখনও। রোদেলার চোখ দিয়ে টপটপ করে করে বড় বড় ফোঁটায় নামতে লাগলো অশ্রুধারা।অশ্রুসিক্ত নয়নে রোদেলা ফোনটা হাতে নিয়েই আকাশের দিকে তাকালো। কোনো এক অদৃশ‍্য টানে রোদেলার বারবার মনে হতো,ফোনের বিপরীত পাশের মানুষটি আহিয়ান ছাড়া অন‍্য কেউ হতেই পারে না। তাই তো কিশোরী এই লোকের একশো দুইটা নাম্বার ব্লক করেও, লাস্টের এই একটা নাম্বার ব্লক করেনি।

________________________

দুই মাস পূর্বের ঘঠনা :

আহিয়ান সেনানিবাসে ফেরার পর থেকেই রোদেলার সাথে কথা বলেনি। মেয়েটার পরিক্ষা সামনে । আহিয়ান রোদেলাকে উপেক্ষা করবে ভেবে,এক সপ্তাহ কাটিয়ে দিয়েছে। তবে সারাদিন দায়িত্ব শেষে, রাতেরবেলা নিজস্ব অস্তিত্বের সাথে দেখা হলেই,অজনা এক কারণে মনটা তার উতলা হয়ে ওড়ে।

আহিয়ান নিজের ইগোর কাছে বাঁজি ধরে কোনো রকম এক মাস পাড় করলো। তারপর যখন নিজেকে আর সামলাতে পারছিল না,তখন বাধ‍্য হয়ে একদিন নিজেই একটা স্মার্ট ফোন কিনে তার বাবার কাছে
পাঠিয়েছিল,রোদেলাকে দেওয়ার জন‍্য। আহিয়ান তার বাবাকে বলেছিল, তিনি যেন বলেন এটা তিনি কিনে দিয়েছেন রোদেলাকে। রোদেলাকে জাবির সাহেব সে কথায় বলেছিল। আহিয়ান নিজেই রোদেলার ফোনে সিম ঢুকিয়ে সব ঠিকঠাক সেট করে দিয়েছিল। এমনকি রোদেলার ফোনের সকল অ‍্যাক্সেসও নিজের ফোনের সাথে সেট করে রেখেছিল। রোদেলা ফোনে কি কি করতো,তা আহিয়ান দেখতে পারতো।

আহিয়ান নিজের অস্থিরতা কমাতে এক রাতে রোদেলার সাথে কথা বলবে, ঠিক করে নিল। তারপর একমাস আগে, একদিন রাতে আহিয়ান রোদেলাকে কল দিয়েছিল। সেদিন মেয়েটা অপরিচিত নাম্বার ভেবে আহিয়ানের দুইটা নাম্বারই ব্লক করে দিয়েছিল। তার অবশ‍্য কারণ আছে,আহিয়ান রোদেলার সাথে কথা বলবে ভেবেও কোন এক অদৃশ‍্য কারণে বারবার তার গলা আটকে আসছিল। তাই সে চুপ থেকেই মেয়েটার কন্ঠটা একটু শুনতে চেয়েছিল। তবে সেটাও সম্ভব হয়নি। আহিয়ানের সেদিন রাগে কড়মড় করে উঠেছিল। আহিয়ানের সেদিন রাতের বেলায় একটা অপারেশন ছিল। সেখানে চলে যাওয়ায়,সে মেয়েটাকে এ নিয়ে বেশি ঘাটেনি।

পরের দিন রাত্রি বেলায় অবকাশ মিলতেই, আহিয়ান তার দলের ক‍্যাপ্টেন জাহিদকে তলব করে পাঠালো। জাহিদ আসতেই আহিয়ান তাকে অর্ডার করলো,
” এই মুহুর্তে আমাকে অনেকগুলো সিম এনে দাও। কোথা থেকে আনবে,কিভাবে আনবে, কিচ্ছু জানি না।যাও ফার্স্ট। ”

জাহিদ পড়লো মহা ঝামেলায় এই রাতের বেলায় এতো সিম সে পাবে কোথায়? তার উপর স‍্যারের অর্ডার। না মানারও উপায় নেই। জাহিদ তার টিম নিয়ে বেরিয়ে গেল। অবশ‍্য অফিসিয়াল পোশাক না পরে, সিভিলে বেরিয়েছে সবাই। মুখে সবার কালো কাপড় বাঁধা। জাহিদ তার দল নিয়ে, একটা মোবাইল আর সিমের দোকানে ঢুকে দোকানদারের দিকে সাত জন বন্দুক তাক করে দাড়ালো। দোকানদার ভয়ে, জান হাতে নিয়ে কাঁপতে লাগল।

জাহিদ দোকানদারের অগোচরে নিজের কপাল চাপড়ে ধরলো।মনে মনে বিড়বিড় করলো,
” এই মুখ কাকে দেখাই? শেষে কিনা সিম ঢাকাতি করতে এলাম? এই পৃথিবী কি আমাদের মেনে নিবে? ”

বাকি ছয় জন ক‍্যাপ্টেন জাবির এর শেষের কথাটা শুনে বলল,
” না স‍্যার। এই নশ্বর পৃথিবী আর তাতে বসবাসরত মানুষ আমাদের কথা জানতে পারলে, আমাদেরকে পৃথিবীর বাইরে ফিক্কা মারবে। ”

জাবির নিজের মুখের উপরের কাপড়টা নাকের উপরের দিকে ঠিক করে নিতে নিতে বলল,
” এই ভালো করে অভিনয় কর। যেন দোকানদার বুঝতে না পারে আমরা নতুন ঢাকাত। ”

জাহিদের কথায় সবাই মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলল,
” ওকে স‍্যার। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা
করছি। ”

জাবির দোকনদারকে বলল,
” তোমার দোকানের যত সিম আছে সব বের কর।”

দোকানদার থরথর করে করে কাঁপতে কাঁপতে দোকানে থাকা সব সিম দেখালো। জাবির তাড়াতাড়ি একটা শপিং ব‍্যাগে সব সিম ভরে নিল। দোকানদার ভয়ে ইতিমধ্যে প‍্যান্ট ভিঁজিয়ে ফেলেছে। জাহিদ সেটা দেখে নাক কুঁচকে এক লাফে দোকান থেকে বেরিয়ে এলো। জাহিদ ওয়াক থু করে ছেপ ফেলে নিল, দোকানদারর আড়ালে। তারপর মানিব‍্যগ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা বের ধরে দোকানদারকে বলল,
” ক‍্যাচ ধরো মিয়া। যে কাজ করছো ভিতরে আর আসতে পারবো না। ”

জাহিদ চল্লিশ হাজার টাকা দোকানদারকে ঢিল ছুড়ে দিয়ে,বাকি ছয় সদস‍্যকে ইশারা করলো,
” বয়েজ, আওয়ার মিশন ইজ কমপ্লিট। নাউ গো অ্যান্ড গেট ইনটু দ্য জিপ। উই নিড টু ডেলিভার দিজ টু মেজর স্যার অ্যাজ কুইকলি অ্যাজ পসিবল।”

সবাই জাহিদের কথা মতো সিম গুলো নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো। তারপর চোখের পলকে ড্রাইভ করে মুহুর্তেই উধাও হয়ে গেল সবাই। দোকানদার এদের অদ্ভুত লুটপাট দেখে ভেবাচেকা খেল। মনে মনে বকতেও লাগলো,
” শা’লার ঢাকাতের দল লুটবিই যখন ভালো করে ঢাকাতির ট্রেনিং নিয়ে আসবি না। শা’লারা এক একটা উচ্চ লেভেলের অশিক্ষিত ঢাকাত। নয়তো কেউ সিম ঢাকাতি করতে আসে?তাও সিম ঢাকাতি করলো তো করলো, শেষে কিনা সিমের দামের চেয়েও বেশি টাকা ধরিয়ে দিয়ে গেল। বলি হাদারামরা,এভাবে হম্বিতম্বি না করলে কি হতো না,এখন আমি এই ভেঁজা প‍্যান্ট নিয়ে বাড়ি যাবো কিভাবে?শা’লারা সিম ঢাকাতি করতে এসে,আমার প্রেস্টিজ ঢাকাতি করে নিয়ে গেল। বলি আমাকে এই ভরা বাজারে মৃূত্র বিসর্জণ না করালে কি হতো না তোদের? ছ‍্যাহ! ”

জাহিদ মূলত আইডি কার্ডের ঝামেলা এড়াতে এই অদ্ভুত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। জাহিদ সেনানিবাসে ফিরে সিম ভর্তি শপিং ব‍্যাগ নিয়ে হাজির হলো আহিয়ানের কাছে। আহিয়িনকে সিম দিয়ে,স‍্যালুট করে দ্রুত কেটে পড়লো।পাছে আবার এই মেজর সাহেব তাকে অদ্ভুত কাজের দায়িত্ব না দিয়ে বসে।

জাহিদ চলে যেতেই আহিয়ান ঠোঁট কামড়ে হাসলো অল্প।আহিয়ান মাথার চুল পিছনে ঠেলে দিতে দিতে বলল,
” খুব শখ না নাম্বারর ব্লক করার। আমিও দেখি কি পরিমাণ এনার্জি তোমার পিচ্চি বালিকা । ”

আহিয়ান নিজের দুইটা স্মার্ট ফোন আর বাটন ফোনে, দুইটা করে পরপর ছয়টা সিম ঢুকিয়ে নিল। তারপর মিটি মিটি হেসে বলল,
” বিসমিল্লাহ,বলে বউকে টিজ করা শুরু করলাম। রহমত ও বরকত দান করো খোদা! আমি যেন
পাশ করি। ”

আহিয়ান প্রথমে কল করতেই কয়েকবার রিং হয়ে কেটে গেল।তারপর তিন বারের মাথায় রোদেলা কল রিসিভ করে ফোন কানে ধরলো। আহিয়ান কোনো কথা বলেনি।এক অদৃশ‍্য শক্তিবল তার গলায় খরা সৃষ্টি করে চলেছে যেন, রোদেলা বিরক্ত হয়ে সেদিন প্রথমবারের ফোনে মতো মুখ খুলল,
” কোন মগারে আমায় ফোন করে বিরক্তি করিস। এমন হাল করবো একদম সব ফাতরামি ইতরামি একদিনেই ছুটিয়ে দিব।শা’লার চিনিস না তো আমায়। আমি মেজর সাহেবের এক মাত্র স্ত্রী মানে মিসেস মেজরনি বলছি। ”

আহিয়ান রোদেলার কথায় জটকা খেল এক প্রকার। তার পিচ্চি বউ, নিজেকে মেজর সাহেবের বউ বলে বলে গলা ফাটাচ্ছে।অথচ আবার না জেনে,তাকেই ধমক দেখাচ্ছে।আহিয়ানের গম্ভীর বদনে হাসি ফুটে উঠলো। আহিয়ানের হাসির শব্দ অল্প বিস্তর রোদেলাও শুনতে পেল। আহিয়ান নিজের হাসি আটকাতে না পের খট করে কল কেটে দিল।

আহিয়ান কল কেটে দেওয়ায় রোদেলা ভেবেছিল,ফোনের বিপরীত পাশের মানুষটা তাকে ভয় পেয়ে কল কেটে দিয়েছে। তবে রোদেলাকে অবাক করে দিয়ে,আহিয়ান আবার কল করতেই রোদেলা বিরক্ত হয়ে নাম্বারটা ব্লক করে দিল। আহিয়ান তার বউ এর কান্ড দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো।তারপর আরেকটা নাম্বার থেকে পুনরায় কল করলো। রোদেলা সেই নাম্বারটা রিসিভ না করেই ডিরেক্ট ব্লক করে ফেলল। আহিয়ান তার পিচ্চি বউ এর রাগ দেখে মিটিমিটি হাসলো।আহিয়ান বেশ মজা পেল। সে পুনরাই আরেকটা নাম্বার থেকে কল করল,সেটাও রোদেলা ব্লক করে দিল। আহিয়ান মিট মিট করে শয়তানি হাসি দিচ্ছে, আর একটা একটা সিম ঢুকাচ্ছে।

বউকে নতুন নতুন নাম্বার থেকে কল করে, পর পর বউ এর কাছ থেকে ব্লক খাচ্ছে আহিয়ান। এভাবে অনেকটা সময় পেরিয়ে যাবার পর আহিয়ান এক রাতেই তার বউ এর থেকে ১০০টা নাম্বারে ব্লক খেল। গত কাল খেয়েছিল দুইটা নাম্বারে ব্লক। আহিয়ান বউ এর থেকে মোট ১০২ টা নাম্বারে ব্লক খাবার পর, হুঁশ ফিরলো তার।আহিয়ান কটমট করে বলল,
” ছোট মরিচের এত ঝাল! ভাল লাগছে বউ। আই অ‍্যাপ্রিশিয়েট ইট। দেখতে হবে না বউটা কার। ”

আহিয়ান কথাটা বলেই বাঁকা হাসলো।তারপর শপিং ব‍্যাগ হাতরে সিম বের করে দেখলো আর মাত্র একটা সিম অবশিষ্ট আছে। আহিয়ানের বিরক্ত হলো। মাত্র একশ একটা সিম আনলো এই জাহিদ। তবে বউ এর সাথে তো তার কথা বলতে হবেই।তাই অবশিষ্ট সিম ফোনে ঢুকিয়ে প্রথমে একটা মেসেজ পাঠালো,

” মোট ১০২ টা নাম্বার ব্লক করে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছো,নিশ্চই সোনা পাখি? বলছিলাম,আমার বুকে মাথা রেখে একটু জিরিয়ে নিবে নাকি? না মানে আমার আবার দয়ার শরীর। চাইলে ফ্রিতে আমার বুকটা খানিকক্ষণের জন‍্য ধার নিতে পারো সোনা পাখি।আমি কিন্তু কিছু মনে করবে না। শোন যাক সেসব কথা। আমার দিনটা বেশ ব‍্যস্ততায় কাটে। রাত বিরাতে মনটা বউ বউ করে। তাই মাঝে মাঝেই এই নাম্বার থেকে কল আসলে অন্তত নাগিনের মতো নিশ্বাসটুকু ফেলেই আমার কানকে শান্তি দিও। নয়তো আমার শান্তি যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে আমিও নিজের অধিকার খাটিয়ে তোমার শান্তিতে লাল বাত্তি জ্বালিয়ে দিব। সো বি অ‍্যা গুড গার্ল ওকে। আমি এখন তোমাকে কল করলে সেটা রিসিভ করে চুপচাপ শুয়ে পড়বে কথা বলতে হবে না। ব‍্যস ফোন রিসিভ করে ফোনটা নিজের পাশে রেখেই ঘুমাবে ওকে। ইতি তোমার হালাল ইভ টিজার। ”

রোদেলার মেসেজ দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গিয়েছিল। তারপর হালাল ইভ টিজার পরিচয়ে মেয়েটা বেশ দোনামনায় পড়েছিল। রোদেলার অবুঝ মন ফোনের বিপরীত পাশের লোকটাকে তার মেজর সাহেব হিসাবেই
ধরে নিয়েছিল।


রোদেলা তখন ফোনের শব্দে নিজের চিন্তা থেকে বেরিয়ে এলো। বাধ‍্য মেয়ের মতো কল রিসিভ করে, রোদেলা নিজের ফোনটা বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়েছিল। আহিয়ান বউয়ের নিশ্বাসটুকু শুনেই নিজের রাত পাড় করতে অভ‍্যস্ত হলো সেই দিন থেকে।

________________

বর্তমান :

রোদেলা আহিয়ানের সম্মোহনী কন্ঠে নড়েচড়ে উঠলো। মেয়েটা বড় বড় ফোঁটায় চোখের পানি ফেলছে। ফোনের বিপরীত পাশের লোকটা তাহলে তার মেজর সাহেব। রোদেলা আগে এটাই ভেবেছিল। তাই তো বেহায়ার মতন লোকটার কথা মেনে নিয়েছিল। আহিয়ান আবার সম্মোহনী কন্ঠে আওড়ালো,
” ইটস টু এ.এম। আই ক্যান্ট স্লিপ মাই বিউটি।”

রোদেলা নিজেকে স্বাভাবিক করে মিনমিনে স্বরে জানতে চাইলো,
” কেন ঘুমাতে পারছেন না? ”

আহিয়ান বেডে উপর হয়ে শুয়ে বালিশে অর্ধেক মুখ গুজে শুয়ে আছে। আহিয়ান সেভাবেই সম্মোহনী কন্ঠে বলল,
” কারণ একটা ছোট্ট লাল টুকটুকে পরী বউ,বারবার ঘুমের মাঝে এসে ডিস্টার্ব করছে। ”

রোদেলার বুকটা ধক করে উঠলো আহিয়ানের এমন কন্ঠ শুনে। মেয়েটার গাল,কানদ্বয় ইতিমধ্যে গরম হয়ে উঠেছে। রোদেলা ডানহাতের তর্জনী আঙুলটা দাঁতে কামড়ে ধরে বলল,
” তাহলে সেসব আপনার ছোট্ট লাল পরী বউকেই বলেন? আমার কাছে বলছেন কেন? ”

আহিয়ান ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল,
” আমি তো আমার ছোট্ট লাল টুকটুকে পরী বউ এর সাথেই কথা বলছি।ব‍াই দ‍্য ওয়ে আপনি কে আপা?আপনি কি আমার বউ এর অ‍্যাসিসট‍্যান্ট। ”

রোদেলা দাঁত কিরমির করে বলল,
” ভালো হবে না কিন্তু পঁচা মেজর।আমি কল কেটে দিব। ”

আহিয়ান বউ এর কথায় লাফ দিয়ে শোয়া থেকে বিছানায় উঠে বসলো। তারপর ঘাঢ় ঢলতে ঢলতে বলল,
” এ‍্যাইই না! কল কাটবে না কিন্তু। আর তুমি বারান্দায় দাড়িয়ে ভিঁজছো কেন? জ্বর বাঁধানোর যত ধান্দা না? ”

রোদেলা মুখ মুচড়ে বলল,
” উহুম, কে বলেছে আপনাকে? আর আপনি বুঝলেন কিভাবে আমি বেলকনিতে দাড়িয়ে আছি। ”

” সিক্সথ সেন্স পিচ্চি।সিক্সথ সেন্স। ও সব তুমি বুঝবে না।তুমি বৃষ্টি ছুঁয়ে দিচ্ছ। কাল দেখো তোমায় জ্বর ছুঁয়ে দিবে।এটাও কমন সেন্স। শোন রুমে গিয়ে গা মুছে কাথা মুরি দিয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ো গিয়ে। এই ছোট মাথায় এত চাপ নিও না। ”

রোদেলা মুখটা ফুলিয়ে বলল,
” ভালো লাগছে না আমার। এখন ঘুম আসবে না। আপনি ঘুমান শান্তিতে। ”

আহিয়ান বউয়ের কথায় ফোনের অপর পাশে ঠোঁট চেপে ধরে মনে মনে বলল,
“কত যে শান্তিতে ঘুমাচ্ছি পিচ্চি।তা যদি তোমাকে দেখাতে পারতাম! ”
আহিয়ান কথাটা বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তারপর বলল,
—– ” মন খারাপ? ”

—-” হুম ”

—-” বেশি? ”

—– ” হুম অনেক।”

—- ” তা ম‍্যাডামের মন ভালো হবে কি করলে? ”

রোদেলা চোখ বুজে ঠোঁট চেপে, মিনমিনে স্বরে জবাব দিল, ” জানি না।”

রোদেলার খুব মনে পড়ছে তার মেজর সাহেবকে। এটা কি সে সরাসরি মুখে বলবে এই পাষাণ পুরুষকে। রোদেলা চোখ মুছলো।

রোদেলার কথায় আহিয়ান বড়সরো নিশ্বাস ছাড়লো। তারপর আহিয়ান রোদেলাকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে গান ধরলো,

বৃষ্টি ভেজা রাতে, আমি তোমায় নিয়ে যাবো।
যতগুলো কথা হয়নি বলা, তোমাকেই বলে দেবো।
স্বপ্নিল এই পৃথিবীকে, আজ তোমার রঙে রাঙাবো।
অনেক দূরের আকাশপথে,তোমায় নিয়ে হারাবো।

রোদেলা আহিয়ানের সম্মোহনী কন্ঠে কোথায় যেন হারিয়ে গেল। তার মেজর সাহেব তার জন‍্য গান গাইছে। তার জন‍্য ঘুমাতে পারছে না। এটাও এই দুই কানে শুনতে পাবে,রোদেলা তা জীবনে কল্পণাও করেনি। খুশিতে মেয়েটার চোখ দিয়ে আবার টপটপ করে পানি পড়ছে। রোদেলা আকাশের দিকে তাকিয়ে খোদাকে স্মরণ করলো। আজ তার কাছে সব কিছু কেমন স্বপ্নের ন‍্যায় মনে হচ্ছে।রোদেলার বুকটা ধুকপুক করছে মাত্রাতিরিক্ত।আহিয়ান ফোনের বিপরীত পাশ থেকেও বউ এর হৃদস্পন্দন এর শব্দ শুনতে পাচ্ছে। আহিয়ানেরও তার ছোট বউ এর জন‍্য মন পুড়ছে।আহিয়ান আগামী দিনগুলোর কথা চিন্তা করে, হাসলো মিটিমিটি।

চলবে….
( এই পর্বে 2k রিয়েক্ট পূরণ হলে নতুন পর্ব আসবে।তাই সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন। )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here