অভিমাননামা / ৪র্থ পর্ব #md_shifu

0
2

#অভিমাননামা / ৪র্থ পর্ব
#md_shifu

ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে তোমায় যবে পাই দেখিতে
হারাই-হারাই সদা হয় ভয়, হারাইয়া ফেলি চকিতে ॥
কী করিলে বলো পাইব তোমারে, রাখিব আঁখিতে আঁখিতে।
এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ, তোমারে হৃদয়ে রাখিতে?
গান গাওয়ার মাঝেই তায়েবা টের পেল, তার পিছনে কেউ একজন এসে দাঁড়িয়েছে।
ঠিক কিছুক্ষণ আগেই সাজেদ আর চাঁদ ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে গেলেও সাজেদ সরাসরি চিলেকোঠায় উঠে যায়নি। বরং কি মনে করে আগে একবার নিচে ড্রইংরুমে ঢুকেছিল।
কারণ সে জানে, এতদিন পর এসে যদি কারো সাথে দেখা না করেই উপরে উঠে যায়, তাহলে সবাই ভাববে সে অহংকারী হয়ে গেছে। কোহিনূর হয়তো মনে মনে বলবে রাহেলা ছেলে মানুষ করতে পারেনি।
এই অযথা কথা শুনতে চায়নি বলেই নিচে নেমে সবাইকে সালাম করেছিল সাজেদ। কোহিনূর সহ সবাই তার সাথে বেশ স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছে। তবে সাজেদ শুধু প্রয়োজনীয় উত্তর দিয়েই থেমে ছিল।
তারপর ব্যাগটা হাতে নিয়েই উঠে এসেছিল ছাদে।
আর ছাদে পা রাখতেই থমকে দাঁড়ায় সে।
সন্ধ্যার নরম বাতাসে ভেসে আসছে কারো গানের সুর।
ছাদের এক কোণায় দাঁড়িয়ে একটা মেয়ে গান গাইছে। পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে থাকায় মুখ দেখা যাচ্ছে না। সাদা থ্রি-পিস পরা, কোমর পর্যন্ত লম্বা বেনি করা চুল হালকা বাতাসে দুলছে।
আর সেই কণ্ঠ অদ্ভুত মায়াময়। শুধু গলার সুর আর চুল দেখেই যে কেউ মুগ্ধ হয়ে যাবে। সাজেদও হলো। সে কোনো শব্দ করলো না। নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে শুধু শুনতে লাগলো মেয়েটার গান।
গান থেমে যাওয়ার পর মেয়েটা ধীরে ধীরে পিছনে ফিরলো। আর ঠিক তখনই যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সাজেদের চারপাশ থেমে গেল।
সাদা কাপড়ে, কোনো সাজসজ্জা ছাড়া মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। যেন সন্ধ্যার আলো ভেদ করে আকাশ থেকে নেমে আসা কোনো পরী দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে।
সাজেদ অন্যমনস্কের মতো হা করে তাকিয়ে রইলো।
চোখের পলক ফেলতেও যেন ভুলে গেছে।
অন্যদিকে পিছনে ফিরে অপরিচিত এক ছেলেকে এভাবে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে তায়েবা ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
ছেলেটার চোখে এমন এক মুগ্ধতা ছিল, যেটা দেখে তার বুকের ভিতর অকারণেই কেমন ধক করে উঠলো।
লজ্জায় তায়েবা দ্রুত চোখ নামিয়ে ফেলল। কিছু না বলেই প্রায় পালানোর মতো করে ছাদ থেকে নিচে নেমে গেল।
আর সাজেদ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সেই জায়গাতেই।
মেয়েটার চলে যাওয়ার পরও তার কানে যেন বাজতে থাকলো সেই গানের সুর
“হারাই-হারাই সদা হয় ভয়”
সাজেদ ধীরে ধীরে গভীর নিঃশ্বাস ফেলল। তারপর অজান্তেই মনে মনে বলল
“কে এই রূপসী মেয়ে?”
…………….

তায়েবা ঘরে গিয়ে দেখতে পাই চাঁদ চলে আসছে। চাঁদের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করে ” কখন আসছোস। মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তো আমাদের ভুলেই গেছোস।” তায়েবার কথায় চাঁদ বলে ” দূর না। ভুলে কোনো যাবো। দেখো চলে আসছি। আর তুমি এই সময়ে ছাঁদে কি করতেছো?”
” কে জানি আসবে বলছে চাচি তাই চিলাকোঠা টা পরিস্কার করে গোছাইতে গেছিলাম। গোছানো শেষে একটু গান গাইতে গেলাম তখন দেখলাম কে জানি আসছে। তাই আমি দূরে চলে আসছি।” বলেই থামে তায়েবা।
তায়েবা হলো চাঁদের চাচাতো বোন। তায়েবার বাবার নাম মোজাম্মেল হোসেন। মা রুজিনা বেগম আর তায়েবার বড় ভাই সাইফ হোসেন। চাঁদ থেকে বছর দু একের বড় তায়েবা। এইসএসসি দিয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য প্রিপ্রারেশন নিচ্ছে।পড়াশোনার পাশাপাশি গান গাইতেও ভীষণ পছন্দ করে সে। বাসার সবাই প্রায়ই বলে, তায়েবার কণ্ঠে আলাদা এক মায়া আছে।
আর সেই মায়ার সুরেই আজ অজান্তে থমকে গিয়েছিল সাজেদ।
…………….
সাজেদ চিলেকোঠার রুমে এসে দরজাটা ভেতর থেকে লাগিয়ে দিল।
দীর্ঘ জার্নির ক্লান্তি শরীরে থাকলেও এই মুহূর্তে তার ঘুম বা বিশ্রামের কথা একদমই মনে হচ্ছে না। ব্যাগটা একপাশে রেখে ফ্রেশ না হয়েই সোজা বিছানায় শুয়ে পড়ল।
রুমটার সাথে ছোট্ট একটা বাথরুম লাগানো আছে। নিচে নামার প্রয়োজন নেই এটা ভেবেই কিছুটা স্বস্তি লাগছে তার। অন্তত অযথা কারো সাথে দেখা বা কথা বলতে হবে না।
বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করতেই অন্য এক সমস্যা শুরু হলো সাজেদের। বারবার সেই মেয়েটার মুখ ভেসে উঠছে। সাদা থ্রি-পিস, কোমর ছোঁয়া বেনি করা চুল, আর সেই মায়াবী কণ্ঠ। সাজেদ ধীরে ধীরে চোখ খুলল। সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ।

ছোটবেলার পর আজই প্রথম এ বাসায় আসা তার। তাই হয়তো মেয়েটা পরিচিত লাগছে। নিশ্চয়ই ছোটবেলার দেখা কোনো পরিচিত মানুষ। কিন্তু যতই মনে করার চেষ্টা করছে, কিছুতেই ঠিকঠাক মনে করতে পারছে না। তবুও অদ্ভুত ব্যাপার হলো মেয়েটার চেহারাটা যেন মাথা থেকে সরছেই না।
এত বছর বয়স হলো, কোনো মেয়েকে নিয়ে এভাবে কখনো ভাবেনি সাজেদ। বন্ধুরা যখন প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে গল্প করতো, সে তখন বিরক্ত হতো। তার কাছে এসব সবসময়ই বাড়তি ঝামেলা মনে হতো।
কিন্তু আজ প্রথম দেখাতেই একটা মেয়ে অদ্ভুতভাবে তার মনে দাগ কেটে গেছে। যে ছেলে কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে দ্বিতীয়বার তাকানোর প্রয়োজন মনে করেনি, সেই ছেলেই আজ ছাদের উপর দাঁড়িয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল একটা মেয়ের দিকে।
আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় এখনো তার চোখের সামনে ভাসছে মেয়েটার লজ্জা পাওয়া মুখটা।
সাজেদ ধীরে ধীরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
তার মাথার ভেতর এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই গানের লাইনগুলো
“ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে তোমায় যবে পাই দেখিতে…
হারাই-হারাই সদা হয় ভয়…”
গানের সুরটা যেন পুরো চিলেকোঠার নীরবতায় মিশে গেছে। আর সেই সুরের সাথে অজান্তেই জড়িয়ে গেছে এক অচেনা মেয়ের মুখ।

সাজেদ ছোট বেলায় যে কয়েকবার ঢাকায় এসেছিলো ততবারই চাঁদের সাথে ঝগড়া লেগে যেতো। তবে তায়েবা আর সাইফ এর সাথে একটু আধটু জমতো। সাইফ সাজেদ থেকে শুধু এক বছরের বড়। যার জন্য সাইফ এর সাথে ভালো জমতো সাজেদের। কিন্তু যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পর আর কারো সাথে কোনো কথায় হয় নাই। এখন কাউকে চিনবে কিনা সন্দেহ।
…………

দরজায় হালকা করাঘাতের শব্দে সাজেদের ঘুম ভেঙে গেল।
দীর্ঘ জার্নির ক্লান্তিতে বিছানায় শোয়ার কিছুক্ষণ পরই গভীর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছিল সে। এমনকি এখনো ফ্রেশ হওয়াও হয়নি।
আধোঘুম চোখে আড়মোড়া ভেঙে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো সাজেদ। তারপর এলোমেলো চুলেই গিয়ে দরজাটা খুললো।
দরজা খুলতেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল সে।
ছাদের সেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে সামনে।
হাতে দুপুরের খাবারের ট্রে।
সাদা কাপড়ের বদলে এখন হালকা নীল রঙের একটা থ্রি-পিস পরা। চুলগুলো এখনো সুন্দর করে বেনি করা। মুখে কোনো সাজ নেই, তবুও অদ্ভুত একটা মায়া লেগে আছে।
সাজেদ কিছু না বলে দরজা থেকে সরে পাশে দাঁড়ালো।
তায়েবা ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল। রুমের একপাশে থাকা পড়ার টেবিলটার উপর খাবার রেখে চুপচাপ বের হয়ে যেতে নিল।
ঠিক তখনই পিছন থেকে সাজেদের গলা ভেসে এলো
“আপনি কে? চাঁদের কি হন?”
প্রশ্নটা শুনে তায়েবা থেমে গেল।
কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে ধীরে বলল,
“আমি তায়েবা। চাঁদের চাচাতো বোন।” কথাটা বললেও পিছনে ফিরে তাকালো না তায়েবা । তারপর আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না। দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে গেল। দরজাটা আস্তে করে বন্ধ হওয়ার শব্দ হতেই সাজেদ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ।
তারপর ধীরে ধীরে বিছানায় বসে পড়ল।
“তায়েবা” নামটা আস্তে আস্তে কয়েকবার মনে মনে আওড়ালো সে। অদ্ভুত সুন্দর একটা নাম।
হঠাৎ নিজের মাথায় নিজেই হালকা একটা টোকা মেরে নিচু গলায় বলল,
“গেছোস তুই ফেঁসে”
কথাটা বলেই নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠলো তার।
……………..
চাঁদ ডাইনিং রুমে ঢুকতেই দেখতে পেল, টেবিলের একপাশে সাইফ বসে চুপচাপ ভাত খাচ্ছে।
মনে হলো অনেকক্ষণ ধরেই খাচ্ছে, কারণ প্লেট প্রায় শেষের দিকে। এখনো সে চাঁদকে খেয়াল করেনি।
চাঁদ চেয়ার টেনে বসতে বসতেই হাসিমুখে বলল
“কেমন আছেন সাইফ ভাই?
হঠাৎ চাঁদের গলা শুনে সাইফ মুখ তুলে তাকালো।
আর তাকাতেই তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠলো।
“ভালো আছি। তুই কেমন আছিস? অনেকদিন তো মামার বাড়িতে ঘুরে বেড়াইলি।”
” আমিও ভালো আছি। অফিস ছুটি নাকি আজকে?”
সাইফ হালকা মুচকি হেসে বলল
” আজকে অফিসে ভালো লাগতেছিল না, তাই চলে আসলাম।”
কথাটা শুনে চাঁদ শুধু “ওহ” বলে মাথা নাড়ল।
তবে সে জানে না, সাইফের এই “ভালো লাগতেছিল না” কথাটা পুরোপুরি সত্যি না।
সাইফের বাবার ছোট একটা কাপড়ের ফ্যাক্টরি আছে। এখন বেশিরভাগ দায়িত্বই সাইফ সামলায়। সাধারণত দুপুরের আগে বাসায় আসে না সে। কিন্তু আজ চাঁদ ফিরবে শুনেই ইচ্ছে করেই একটু আগেভাগে চলে এসেছে।
অবশ্য সেটা মুখে প্রকাশ করার সাহস তার নেই।
চাঁদ হাত ধুয়ে নিজের জন্য ভাত বেড়ে নিল। তারপর খেতে খেতেই দুজন টুকটাক গল্প করতে লাগল।
…………….
সাইফ আর অফিসে ফিরে গেল না। অনেক বছর পর সাজেদ এসেছে এতদিনের দূরত্বটা অন্তত একটু কমুক, এই ভাবনাই বারবার মাথায় ঘুরছিল তার। তাই ঠিক করল, একবার চিলেকোঠায় গিয়ে সাজেদের সাথে ভালোভাবে গল্প করে আসবে।
এই ভেবেই ধীরে ধীরে ছাদের দিকে পা বাড়ালো সে।
চিলেকোঠার দরজার সামনে গিয়ে হালকা কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে শব্দ এলো। কয়েক সেকেন্ড পর দরজা খুলে গেল।
দরজা খুলতেই সাইফ দেখতে পেলো উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রং, ছিপছিপে অথচ সুঠাম গড়ন, চোখেমুখে একটা চাপা গাম্ভীর্যপূর্ণ একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে। সাইফ না চিনলেও বুঝতে বাকি রইলো না এটাই সাজেদ।
সাইফ ঠোঁটে হালকা হাসি টেনে হাত বাড়িয়ে দিল।
“হাই, আমি সাইফ। আমি যদি ভুল না করি, তুমি সাজেদ?”
তারপর একটু হেসে আবার বলল,
“তুমি বললাম, মাইন্ড করিওনা। আমার চেয়ে ছোট বা সমবয়সী কাউরে ‘আপনি’ বলতে ভালো লাগে না।”
সাজেদ প্রথমে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো ছেলেটার দিকে। তারপর নাম শুনতেই চিনে ফেলল।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটাই সেই ছোটবেলার সাইফ যার সাথে এখানে আসলে সবচেয়ে বেশি সময় কাটতো তার।
সাজেদও হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“হ্যাঁ, আমিই সাজেদ। সমস্যা নাই, তুমি বলতেই পারো। চাইলে তুইও বলতে পারো। ছোটবেলায় তো তুই করেই বলতে।”
কথাটা শুনে সাইফ চোখ বড় করে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
“ওহহ! তোর তো দেখি ছোটবেলার কথাও মনে আছে!”
তারপর চোখ টিপে হেসে বলল,
“তুইও আমাকে ভাই না বলে সাইফ বলতিস। এখনো তুই করে বললে কোনো সমস্যা নাই। আমি এত মাইন্ড খাই না।”
সাইফের এমন সহজ-স্বাভাবিক আচরণ দেখে অজান্তেই সাজেদের মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠলো।
অনেকদিন পর যেন বুকের ভেতরের চাপা অস্বস্তিটা একটু নরম হলো।
হঠাৎ যেন কিছু মনে পড়তেই লজ্জিত গলায় বলল “আরে সরি সরি। তোকে দাঁড় করাই রাখছি! ভিতরে আয়, বস। তারপর গল্প করা যাবে।”
বলেই দরজা থেকে সরে দাঁড়ালো সাজেদ।

ভিতরে ঢুকে চারপাশে তাকিয়ে সাইফ হালকা হেসে বলল
“দেখতেছি তোর রুমটা বেশ সুন্দর করে গুছানো হইছে।”
সাজেদও টেবিলের দিকে তাকিয়ে বলল “হুম। কে যেন গুছাইছে।”
সাইফ ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বলল
“কে আবার? তায়েবা গুছাইছে।”
নামটা শুনতেই সাজেদের বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধক করে উঠলো। তবে মুখে কিছু প্রকাশ না করে স্বাভাবিক গলায় বলল
“ও আচ্ছা।” সাইফ বিছানার একপাশে বসে পড়ল। তারপর সাজেদ থেকে জিজ্ঞেস করলো
“কী খবর বল? পড়াশোনা শেষ?”
“হুম। মাস্টার্সও শেষ।তুর”
“ভালো। চাঁদের মুখে শুনলাম চাকরিও হইছে। আর আমি বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করি।”
“হ্যাঁ। আগামী সপ্তাহে জয়েন করবো।”
“বাহ! তাহলে তো ট্রিট পাওনা।”
“আগে জয়েন করি, তারপর দেখা যাবে।” বলেই দুজনেই হেসে উঠল।
সাইফ আবার বলে
” তো তুর কোন জায়গায় কিসের চাকরি হয়েছে?”
” এইতো মতিঝিলে একটা কোম্পানি তে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে জয়েন করবো।” সাজেদের কথায় সাইফের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। হেসে উত্তেজিত কন্ঠে বলে
“কি বলিস, আমাদের কোম্পানিও তো মতিঝিলে। তুর মতিঝিলে হয়েছে ভালো হয়েছে। একসাথে আসা যাওয়া করা যাবে।”
আরো কিছুক্ষণ গল্প করে সাইফ সাজেদ কে বাহিরে গিয়ে ঘুরে আসার প্রস্তাব দেই। সাজেদ রাজি হলে সাইফ তৈরি হয়ে নিতে বলে নিজেও নিচে চলে যায় তৈরি হওয়ার জন্য। যাওয়ার আগে নাম্বার নিয়ে যায় কল দিলে নিচে নামার জন্য।
দরজাটা বন্ধ করে সাজেদ কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ব্যাগ খুলে কাপড় বের করল। ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাথরুমে ঢুকতে যাবে, ঠিক তখনই তার চোখ পড়ল টেবিলের উপর রাখা খাবারের ট্রেটার দিকে। অজান্তেই তার মনে পড়ে গেল নীল থ্রি-পিস পরা মেয়েটার কথা। তায়েবা।
নামটা মনে আসতেই নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।
পরক্ষণেই মাথা ঝাঁকিয়ে নিজেকে সামলে নিল সে।
“আজব! দুইবার দেখা হইছে, আর আমি কি না সারাক্ষণ ওই মেয়ের কথাই ভাবতেছি!”
নিজের উপর বিরক্ত হওয়ার চেষ্টা করলেও খুব একটা লাভ হলো না। কারণ মনের কোনো এক কোণে তায়েবার মায়াবী কণ্ঠ এখনো নীরবে বাজছে
“ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে তোমায় যবে পাই দেখিতে…”।

চলবে………..
( গল্প সুন্দর না লাগলে বলবেন। কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে বলবেন।গল্প পড়ে রেসপন্স করিয়েন।
ধন্যবাদ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here