চোরাবালির_পিছুটানে (২০) #জেরিন_আক্তার

0
2

#চোরাবালির_পিছুটানে (২০)
#জেরিন_আক্তার

রাদিফ কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা তার মায়ের সামনে এসে দাঁড়ায়। রুমানা চৌধুরী ছেলেকে বুকে জড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। রাদিফ জড়ানো গলায় তার মাকে বলে,

“কাঁদছো কেনো বলোতো?”

রুমানা চৌধুরী ছেলেকে ছাড়িয়ে, ছেলের মাথায়, মুখে হাত ছুঁইয়ে দিয়ে বলেন,

“তু্ই এসেছিস বাবা! তোকে যে সামনে থেকে দেখতে পাবো এটা কখনও কল্পনাই করিনি বাবা। তু্ই কেমন আছিস?”

“ভালো আছি মা!”

রাশেদ চৌধুরী রাদিফকে দেখে ঘাবড়ে গেলেন। কেমন চিন্তা জড়িয়ে ধরেছে তাকে। তার প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে,,এই ছেলে আজকে ফিরে এলো কেনো? মিষ্টিকে কি কোনো ভাবে এই বিয়েটা করতে দিবে না। আর আজকেই কেনো ও ফিরে এলো। যদি মিষ্টির বিয়েটা কোনোভাবে হতে না দেয় তখন। আর এর থেকেও বড় বিষয় রাদিফ যদি সেদিনের হওয়া ঘটনা গুলো এখন সবাইকে বলে দেয় তাহলে কি করবে সে! এই ঘরভর্তি লোকের সামনে তার সম্মানটা কোথায় যাবে?

রাদিফ ঠান্ডা মেজাজে টান টান বুক নিয়ে দাড়ালো রাশেদ চৌধুরীর মুখোমুখি। রাশেদ চৌধুরী এই শীতের মধ্যেও ঘামছেন। রাদিফ তার দিকে তাকিয়ে বলে,

“রাশেদ চৌধুরী যে ভালো আছেন?”

সবাই রাদিফের কথায় বেশ আশ্চর্য হলো। বাপের বয়সী চাচাকে নাম ধরে ডাকছে এই ছেলে। পাশে থেকে রুবেল চৌধুরী বলেন,

“রাদিফ উনি তোমার চাচা হয়!”

রাদিফ তপ্ত শ্বাস ফেলে হালকা হেসে বলে,

“বাবা, বিয়ে বাড়ি বলে কথা আমি উনার সাথে একটু মজা করলাম। আর এইটুকু মজা তো করাই যায় তাইনা!”

রাদিফ চোখ দিয়ে কি যেনো ইশারা করলো তিনজন ছেলেকে। একজন ছেলে যার নাম সোহাগ, সে গিয়ে মেইন দরজা বন্ধ করে ওখানেই দাড়ালো। আরেকজন তার নাম আলিফ, সে গিয়ে সিঁড়ির উপরে দাড়ালো। আরেকজন সে সাজিদ। সাজিদ এসে রাদিফের একটু কাছে দাড়ালো। সবাই রাদিফ আর সাইমনের বন্ধু।

রাদিফ নিজের কোমরে গুজে রাখা রিভলবার বের করে মুহূর্তেই গর্জে উঠে বলে,

“কেউ কারো জায়গায় থেকে নড়বে না। কারো কোনো কথার শব্দও যেনো আমার কানে না আসে। আর যদি আমার কথা নড়চড় হয় তাহলে ভুলে যাবো তোমরা এই চৌধুরী বাড়ির আত্মীয়।”

পুরো ড্রইং রুমে পনেরো জনের মতো লোক হবে। এর মধ্যে বরের বাড়ির তিনজন লোক আছে। তুহিনের চাচা, (মিরন শিকদার), চাচি(আছিয়া বেগম)আর চাচাতো বোন (তুলি) উনারা কিছু বুঝতে পারছেন না। এই ছেলে হুট্ করে কোথায় থেকে এলো, কি করতে চায় কিছুই তাদের মাথায় ঢুকছে না।

রাদিফ রাশেদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলে উঠে,

“কি ভেবেছো আমার ভালোবাসা সস্তা! আমি তোমার মেয়েকে ভালোবেসে যাবো, নিজে থেকে কষ্টও পেয়ে যাবো আর তুমি কিনা মেয়েকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিবে। এতো সোজা!”

রাশেদ চৌধুরী এগিয়ে এসে বলেন,

“রাদিফ কি হচ্ছে কি, আজ মিষ্টির বিয়ে তুমি কি বিয়েটা ভেঙে দিতে চাইছো?”

রাদিফ উচ্চকণ্ঠে বলে,

“হ্যা চাইছি! শুধু বিয়ে ভেঙে দিয়ে ছেড়ে দিবো এইটুকু পর্যন্তই না, সেদিন কেনো আমি চলে গিয়েছিলাম সেটাও সবাইকে শোনাবো।”

রাশেদ চৌধুরী মনে মনে যা ভেবেছিলেন তাই হলো। রাদিফ যদি এখন সবটা বলে দেয় তাহলে সবার সামনে তার মান-সম্মানটা শেষ হয়ে যাবে। তিনি কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

রাদিফ রাশেদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে কাঠকাঠ গলায় বলে,

“আজ সব তছনছ করে দিবো। একটাকেউ ছেড়ে দিবো না। দরকার হলে লাশ পড়ে যাবে। বিয়ে খেতে এসেছে সবাই, তাইনা! সবার মনে ফুর্তি লাগছে! আমার সাথে বিয়ে না দিয়ে সবাই এই বিয়ে নিয়ে কতটা ফুর্তি করতে পারে আমিও দেখে নিবো। সব কয়টাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে ফেলবো।”

সবাই রাদিফের কথাশুনে সত্যি ভয়ে আছে। এই ছেলের রাগ দেখে মনে হচ্ছে, যা বলছে তাই করে দেবে।

রাশেদ চৌধুরী মনে মনে বলেন,, এখন কি করে পরিস্থিতি সামাল দিবো। এই ছেলে যখন একবার বলেছে সব বলে দেবে তাহলে নিশ্চই বলেই দেবে। না না এইটা হতে দেওয়া যাবে না। রাদিফকে আটকাতে হবে। এখন রাদিফ যা চায় তাই করতে দিলে হবে না।

রাশেদ চৌধুরীগলার কণ্ঠ খাঁদে নামিয়ে বলেন,

“রাদিফ বাবা শান্ত হও! বুঝতে পেরেছি আমার ভুল হয়েছে।”

রাদিফ বাঁকা হেসে বলে,

“কি ভুল হয়েছে সেটা বলুন! নাকি আমি বলে দিবো!”

রাশেদ চৌধুরী বড্ড চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন। এই ছেলে আজ সব বলেই দেবে। রাশেদ চৌধুরী কিছুক্ষণ ভেবে নিচু গলায় বলেন,

“রাদিফ, আমার ভুল হয়েছে তোমাদের ভালোবাসা না মেনে নিয়ে। আজ চাই তুমি মিষ্টিকে বিয়ে করো।”

এই শুনে রাদিফ জোরে হেসে উঠে বলে,

“শাক দিয়ে মাছ ঢাকছেন! আবার মিষ্টিকে বিয়ে করার কথা ভেবে বলছেন তো!”

রাশেদ চৌধুরী মাথা নত করে বলেন,

“হুম। ভেবেই বলছি। আমি আজ অনুমতি দিলাম।”

রাদিফ এক সেকেন্ডও দাঁড়ায় না তার সামনে।রিভলবার দিয়ে কাজীর দিকে ইশারা করে উঠে দাঁড়াতে বলে। কাজী ভয়ে ভয়ে উঠে দাঁড়ায়। এরপরে রাদিফ সাজিদের দিকে তাকিয়ে কর্কশ গলায় বলে,

“সাজিদ কাজীকে ধরে উপরে নিয়ে আয়!”

এই বলে রাদিফ তার মায়ের কাছে এসে দাঁড়ায়। মাকে বলে,

“মা, আমার রুমের চাবি দাও!”

রুমানা চৌধুরী বলেন,

“তু্ই একটু দাড়া, আমি নিয়ে আসছি!”

“তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো!”

রুমানা চৌধুরী নিজের রুমে গিয়ে ছেলের রুমের চাবি নিয়ে এলেন। রাদিফ এই বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পরে তিনি রাদিফের রুমে কাউকে ঢুকতে দেননা। তালা দিয়ে রাখেন। চাবিও আলাদা করে নিজের কাছে রাখেন।কয়েকদিন পরপর তিনি নিজেই রাদিফের রুম পরিষ্কার করেন।

রাদিফ তার মায়ের থেকে চাবি নিয়ে হনহন করে সিঁড়ির কাছে যায়। সাজিদ কাজীকে ধরে নিয়ে রাদিফের পেছন পেছন হাঁটা দেয়। রাদিফ পেছনে তাকিয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে কড়া গলায় বলে,

“বিয়ে যার সাথে হওয়ার কথা ছিলো তার সাথে হবে না। আপনারা খেয়ে যে যেখানে থেকে এসেছেন চলে যান। আর লাস্ট কথা, রাশেদ চৌধুরী একটু খেয়াল রাখবেন কেউ যেনো উপরে না আসে। মাথা খুব গরম। যদি কেউ উপরে আসে তাকে একবারে উপরে পাঠিয়ে দিবো।”

রাশেদ চৌধুরী ধপ করে বসে পড়লেন। তার পাশে এসে মিরন শিকদার বলেন,

“ভাই এগুলো কি? মিষ্টির বিয়ে এই ছেলেটার সাথে হবে? এই এইদিকে তুহিনের কি হবে? আপনি কি করছেন আমরা কিন্তু কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।”

_________________

এদিকে রাহা বিছানায় উঁবু হয়ে শুয়ে শুয়ে কাঁদছে। রাজ এতক্ষন নিচে ছিলো সাইমনের সাথে কথা বলে এলো। সাইমন রাদিফের কোনো খবরই দিতে পারলো না। বললো সেও জানে না রাদিফ কোথায়। কিন্তু এটা রাজের কেনো যেনো কোনোমতেই বিশ্বাস হলো না।

রাজ রাহার পাশেই উঁবু হয়ে শুলো। এরপরে রাহার মুখের সামনে গিয়ে বলে,

“কাঁদছো কেনো?”

রাহা মাথা তুলে বলে,

“মিষ্টির জন্য! আপুর যদি সত্যি সত্যি বিয়ে হয়ে যায় তখন কি হবে!”

রাজ নিজে বসে রাহাকেও বসিয়ে বলে,

“আগেই এতকিছু ভেবে কান্না করছো কেনো? দেখোই না কি হয়!”

রাহা নাক টেনে রাজের দিকে তাকিয়ে ঝাড়ি মেরে বলে,

“আর কি দেখবো হ্যা! বিয়ে হয়ে গেলে জামাই দেখবো!”

“তুমি শান্ত হও! অনেকক্ষণ আগে বাবা বললো, জামাইকে কে যেনো ষড়যন্ত্র করে ভুলভাল একটা জায়গায় রেখে এসেছে। এবং জামাইয়ের গাড়িটার চাকায় গুলি করে পাংচার করে দিয়েছে। যেনো তারা আসতে না পারে। পরে নাকি বাবা গাড়ি পাঠিয়েছে। সেখানে থেকেও তাদের আসতে বাংলাদেশে তখন অনেক রাত হবে।”

রাহা আবারও নাক টেনে বলে,

“ভালোই করেছে। যে কাজটা করেছে তাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দিবো। আল্লাহ তুমি লোকটার সাথে একদিন দেখা করিয়ে দিও। আর আল্লাহ বিয়েটা যেনো না হয়!”

রাজ বলে,

“আল্লাহ আল্লাহ করো! দেখো কি হয়। আর আমি বাবাকে বলেছি বিয়ে পড়ানোর কিছুক্ষন আগে যেনো আমাকে কল দেয়। আমি তখন কথা বলে হলেও বিয়েটা ভেঙে দিবো। দরকার হলে উল্টাপাল্টা বাঁধিয়ে দিবো। চৌধুরী বাড়ির ছেলে আমিও।”

____________

রাদিফ নিজের সাথে সাজিদ আর কাজীকে নিয়ে তার নিজের রুমে ঢুকলো। রুমটায় ঢুকে কাজীকে সোফায় বসতে বলে। এরপরে সাজিদকে বলে,

“তু্ই বাহিরে গিয়ে দেখবি কোন রুমে মিষ্টি বসে আছে। তাকে গিয়ে বলবি যে, তু্ই বর পক্ষের, তুহিনের বন্ধু।”

“হুম, তারপর কি বলবো!”

“মিষ্টিকে বলবি যে, তুহিন তোমাকে পাশের রুমে ডাকছে। আলাদা করে কথা বলতে চায়।”

“ঠিক আছে। তু্ই বস, আমি ওকে গিয়ে বলছি।”

“বলছি না, ওকে সাথে করে নিয়ে আসবি। আর ওর সাথে কেউ আসতে চাইলে বলবি পার্সোনাল কথা বলবে, একা ডেকেছে। আর পারলে রুমগুলো লক করে আসিস!”

“ঠিক আছে।”

সাজিদ চলে যায় রুম থেকে। পরপর দুইটা রুমের পরের রুমেই দেখতে পায় মিষ্টি বসে আছে। সাথে দুইজন মেয়ে। হয়তো বান্ধবী হবে। সাজিদ রুমের দরজার সামনে এসে বলে,

“ভাবি, আসবো!”

মিষ্টি হালকা হেসে বলে,

“হ্যা আসুন!”

সাজিদ মিষ্টির সামনে এসে বলে,

“ভাবি, আস্সালামুআলাইকুম!”

মিষ্টি আস্তে করে সালামের উত্তর দেয়। সাজিদ মিষ্টিকে বলে,

“ভাবি, আমি বর পক্ষ, মানে তুহিনের বন্ধু। তুহিন আমাকে পাঠালো। বললো আপনার সাথে পার্সোনাল কথা বলবে। একটু তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে।”

পাশে থেকে মিষ্টির একজন বান্ধবী, রিমু বলে,

“দুলাভাইকে এখানে আসতে বলুন!”

সাজিদ হেসে হেসে বলে,

“আপনারা এখানে আছেন বলে আপনাদের দুলাভাই এখানে আসবে না! ভাবিকে পাশের রুমে যেতে বলেছে।”

মিষ্টির দুই বান্ধবী রিমু আর ফিমা দুজনেই এই কথাশুনে ভেঙচি কাটে। ফিমা মিষ্টিকে বলে,

“এই যা তোর জামাই ডাকছে শুনে আয়। এরপরে আমরা উনাকে ধরে ইচ্ছেমতো ঝাড়বো।”

এই শুনে সাজিদ মনে মনে বলে,

“ঝাড়িস, আগে ওর পাশে ঘেঁষতে পারিস কিনা এইটা দেখ!”

মিষ্টি মনে মনে চেয়েই ছিলো তুহিন এলে নিজেই ডেকে কথা বলবে। বিয়েটা সে করতে চায়না সেটা বলে দেবে। যা হবার হবে। জোর করে তো আর বিয়ে করতে পারবে না। রাদিফের অপেক্ষায় থেকে তো নিজে কিছুই বলতে পারেনি। যদি রাদিফ বলতে না করতো তাহলে নিজেই বিয়ে ভেঙে দিতো। এই রাদিফের আশায় বসে থেকে কিচ্ছু বলতে পারেনি। এখন আর বসে থাকলে চলবে না। মিষ্টিকে এই সুযোগে বলে দিতে হবে সবটা।

মিষ্টি বিছানায় থেকে নেমে সাজিদকে বলে,

“ভাইয়া চলুন! আমারও তার সাথে কথা আছে।”

এই শুনে ফিমা রিমুকে বলে,

“দেখেছিস বিয়ে হয়নি। আর এখনই কিনা কেউ কাউকে ছাড়া থাকতেই পারে না।”

মিষ্টি চোখ পাকিয়ে তাকালো দুজনের দিকে। দুজনেই চুপ হয়ে গেলো। মিষ্টি চলে গেলো সাজিদের পিছু পিছু। সাজিদ দু-পা পিছিয়ে রুমটা লক করে দিয়ে মিষ্টির পেছনে হাঁটা দিলো। মিষ্টি পেছনে ফিরে সাজিদকে বলে,

“কোন রুমে আছেন উনি?”

সাজিদ রাদিফের রুমটা দেখিয়ে বলে,

“ওই যে ওইটায়!”

মিষ্টি দাড়ালো। ওই রুমটা রাদিফের। যেটা তার ছোট আম্মু তালা দিয়ে রাখে সবসময়। কিন্তু ওইটা খুলে তুহিনকে ঢুকতে দিলো কি করে। তার ছোট আম্মু তো বাড়ির লোকেদেরই ঢুকতে দেয় না। আর সেখানে তুহিনকে, কি করে ঢুকতে দিলো?

মিষ্টি কথাগুলো মনে মনে আওড়িয়ে সাজিদকে বলে,

“ভাইয়া,কি বলছেন ওই রুমে আছেন উনি?”

“হুম। আর আপনি দাঁড়ালেন কেনো আসুন!”

“ভাইয়া ওই রুমটা কে খুলে দিয়েছে?”

“রুমটা এসে দেখি খোলা। আর বরের জন্য ওই রুমই ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

মিষ্টি আর কথা বাড়ালো না। তার কাছে বেশি সময় নেই। তাই সাজিদের সাথে সাথে চলে গেলো। রুমের সামনে এসে দেখে বাহিরে কাজী দাড়িয়ে আছে। সাজিদ তাকে দেখে বলে,

“আপনি এখানে দাড়িয়ে কেনো? ভিতরে চলুন?”

“উনি বললো কিছুক্ষণ পরে যেতে। সে নাকি মেয়ের সাথে একান্ত কথা বলবে।”

“ওহ। এবার বুঝেছি।”

সাজিদ মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বলেন,

“ভাবি, আপনি ভিতরে গিয়ে কথা বলুন!”

মিষ্টি রুমের ভিতরে ঢুকে। সামনে পড়ে কালো ব্লেজার, কালো প্যান্ট পড়া একটা লোক দাড়িয়ে। উল্টো দিক হয়ে দাড়িয়ে আছে। হাতে সিগারেট। ধোয়া উড়ছে লোকটার মুখে থেকে। মিষ্টি বেশ আশ্চর্য হলো। তুহিন এই পোশাকে এসেছে। আবার সিগারেট খাচ্ছে। মিষ্টি আন্দাজ করতে পারলো লোকটা তুহিন না। সে পেছনে না ফিরেই মিষ্টিকে বলে উঠে,

“দরজা বন্ধ কর!”

মিষ্টি কথাটা ভালো ভাবে না শুনেই দরজা বন্ধ করে দেয়। পরক্ষনেই মাথায় স্বরণ হয় তাকে তু্ই করে বলছে। কিন্তু তুহিন তো তু্ই করে বলে না। তবে কি এইটা তুহিন না। মিষ্টি সাথে সাথে বলে,

“আপনি কে?”

রাদিফ সিগারেটে শেষ টান দিয়ে সেটা ফেলে দিয়ে ধোয়া উড়াতে উড়াতে পেছনে ফিরে। মুখে তার বাকা হাসি। মিষ্টি চোখের সামনে রাদিফকে দেখে চমকে উঠলো। রাদিফ চট করে মিষ্টির সামনে এসে দাড়ালো। এরপরে চোয়ালে শক্ত করে মিষ্টির গালে থাপ্পড় মারলো। একটা না পরপর তিনটা থাপ্পড় মারলো। মিষ্টি দুই-গালে হাত রেখে রাদিফের দিকে তাকিয়ে রইলো। চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করলো তার।

রাদিফ মিষ্টির দিকে তাকিয়ে তপ্ত শ্বাস ছেড়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে উঠে,

“এহ, মনে রং কত! নতুন জামাইয়ের সাথে দেখা করতে এসেছে! যেই শুনেছে তুহিন ডেকেছে আর ওমনেই দৌড়ে চলে এসেছে। কত দরদ! মনে হচ্ছে তোকে গলা টিপে মেরে দেই।”

চলবে….

পরবর্তী পর্ব কালকে সন্ধ্যায় আসবে। এর আগে আসবে না। নেক্সট পার্ট স্পেশাল হবে।

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here