চোরাবালির_পিছুটানে (৩৫) #জেরিন_আক্তার

0
2

#চোরাবালির_পিছুটানে (৩৫)
#জেরিন_আক্তার

রাদিফ আর সাইমন কথা বলতে বলতে বাড়ি ফিরে এলো। মিষ্টি ছিলো কিচেনে মেইডের সাথে। রাদিফ মিষ্টির দিকে একবার তাকিয়ে স্বস্তির শ্বাস ছেড়ে চলে গেলো উপরে।

এদিকে রাহার মনটা বেশ খারাপ। এতদিন রাদিফ আর মিষ্টির সাথে অনেক সুন্দর সুন্দর সময় কাটিয়েছে, এমন কি বাড়িটা ভরা ছিলো। আর এখন না মিষ্টি আছে, না তার ভাই আছে। বাড়িটা ভরা ভরা ছিলো। দুজন না থাকায় বাড়িটা খা খা করছে। মনে হচ্ছে কোনো লোকজনই নেই।

রাহা মন খারাপ নিয়ে নিচে ড্রইং রুমে আসে। সেখানে আনোয়ারা বেগম বসে টিভিতে সিরিয়াল দেখছিলেন। রাহা এসে তার পাশে বসে। আনোয়ারা বেগম টিভি থেকে চোখ সরিয়ে রাহার দিকে তাকিয়ে বলেন,

“দাদুভাই তোমার কি হইছে?”

“দাদিজান কিছু ভালো লাগছে না।”

“কেন, খারাপ লাগতাছে?”

“না। ভাইয়া আর মিষ্টির কথা মনে পড়তেছে।”

“ওওও!”

এমন সময় রাজ অফিসে থেকে বাড়ি ফিরে আসে। রাজ সুট খুলে রাহার হাতে দিয়ে রাহার পাশে বসে। রাহা রাজের সুটটা পাশেই রেখে দিয়ে উঠে চলে যায় পানি আনতে ডাইনিং টেবিলে। সেখানে থেকে গ্লাসে করে পানি নিয়ে আসে রাজের কাছে। রাজ পানির গ্লাসটা নিয়ে পানি খেয়ে খালি গ্লাসটা দিয়ে দেয়। রাহা গ্লাসটা টি-টেবিলে রেখে রাজের পাশে বসে। তৎক্ষণাৎ রাজ উঠে দাড়িয়ে বলে,

“রাহা রুমে চলো তো!”

রাহা রাজের দিকে তাকিয়ে বলে,

“মাত্র এলাম রুমে থেকে। এখন আবার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে পারবো না। তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও।”

রাজ রাহার কথা উপেক্ষা করে আবার বলে,

“তোমাকে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে না। আমি তোমাকে নিয়ে যাবো। উঠো!”

রাহা তখনও বসে থাকে উঠে দাঁড়ায় না। যা দেখে রাজ রাহাকে পাঁজা কোলে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়। আনোয়ারা বেগম দুজনকে দেখে মুচকি হাসে যা রাহা দেখতে পেয়ে লজ্জা পেয়ে যায়। সাথে সাথে রাজের গলা পেঁচিয়ে ধরে। রাজ রাহাকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে আসে। একবারে রুমে এনে বিছানায় বসায়। রাহা রাজের গলা ছেড়ে দিয়ে বসে।

রাজ রুমের দরজা হালকা চাপিয়ে দিয়ে রাহার সামনে এসে হাটু গেরে বসে রাহার কোলে মাথা রাখে। রাহার পেটে কান ঠেকিয়ে কিছুক্ষন নিশ্চুপ হয়ে থাকে। যা দেখে রাহা মুচকি হেসে রাজের চুলে হাত বুলিয়ে দেয়। রাজ ধীর গলায় বলে,

“কতশত কিছু করে এলাম তবুও কোথাও শান্তি পেলাম না। তোমরাই আমরা শান্তি। আল্লাহ, তোমাদের ভালো রাখুক, সুস্থ রাখুক।”

রাহা মুচকি হাসে। রাজ আবার রাহার পেটে কান ঠেকিয়ে বলে,

“বাবা, তুমি কবে আসবে বলোতো! তোমার জন্য অপেক্ষা করা যে এখন কষ্টের হয়ে যাচ্ছে।”

রাজ কিছুক্ষন এভাবে কথা বলতে লাগলো। এরপরে মাথা তুলে রাহার দিকে তাকায়। রাহা বলে উঠে,

“যাও, ফ্রেশ হয়ে এসো।”

“হুম, যাচ্ছি।”

“আর তোমার ফোনটা দাওতো!”

রাজ পকেট থেকে নিজের ফোন বের করে রাহার হাতে দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। রাহা ফোন নিয়ে হোয়াটস্যাপে মিষ্টিকে কল দেয়। মিষ্টি রাজের ফোন পেয়ে সাথে সাথে রিসিভ করে। রাহা বলে,

“আপু ভালো আছো?”

“হুম, ভালো আছি। তু্ই কেমন আছিস?”

“ভালো নেই আপু!”

“কেনো তোর আবার কি হলো?”

“আপু তোমাদের ছাড়া কেমন যেনো ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। কিচ্ছু করতে ভালো লাগছে না।”

মিষ্টি হেসে বলে,

“ওহ, এই ব্যাপার। তো আমার ভাইটা কোথায়? ওকে বল যে আমার ভালো লাগছে না একটু ভালো লাগিয়ে দাও!”

রাহা লজ্জা পেয়ে বলে,

“আপু কি বলছো এসব। সত্যিই তোমাদের ছাড়া ভালো লাগছে না।”

“হুম, বুঝি কাকে ছাড়া ভালো লাগে আর কাকে ছাড়া লাগে না।”

“আপু ছাড়ো ওসব। এখন বলো কি করছো?”

“বসে আছি। তু্ই কি করছিস?”

“আমিও বসে আছি। ভাইয়া কোথায়?”

“তোর ভাইয়া ড্রইং রুমে সাইমন ভাইয়ার সাথে বসে আছে।”

“ওহ। খেয়েছো?”

“হুম। তু্ই?”

“না। তোমার ভাই মাত্র ফিরলো। দুজনে একসাথে খাবো।”

“ভালোই। তো ভাইয়া কি করছে এখন?”

“ওয়াশরুমে ফ্রেশ হচ্ছে।”

“ওহ। ডক্টরের চেকাপ করিয়েছিস?”

“হুম। কালকের আগের দিন করিয়ে এসেছি। সব কিছুই নরমাল।”

“ওহ। দেখে শুনে থাকিস। বেশি হাটাহাটি করিস না।”

“ঠিক আছে।”

“আর কোনোরকম খারাপ লাগলে সাথে সাথে জানাবি।”

“ঠিক আছে আপু।”

“তাহলে ভাইয়াকে নিয়ে খেয়ে নে। আবার পরে ফোন করবো।”

“আচ্ছা। তোমরা ভালো থেকো।”

____________________

পরদিন সন্ধ্যায় রাদিফ আর সাইমন নিজেদের কাজ শেষ দিয়ে একটা জায়গায় বসে আছে। তারা যে সিক্রেট বিজনেসটা করতো সেটার আর কোনো অর্ডার বা কোনো ডিল নেই। তারা আর কোনো অর্ডার নিতে চায় না। আপাতত সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছে। এরপরে আর এগুলোর চিন্তাও করবে না।

রাদিফ শুধুমাত্র মিষ্টির জন্য এগুলো ছাড়লো। হয়তো মিষ্টিকে কখনও বলতে পারবে না। তবুও নিজেই নিজেকে শান্তনা দিতে পারবে যে, সে একজনকে ভালোবেসে, তার উপরে বিশ্বাস রেখে, তাকে আগলে রাখতে এগুলো ছেড়ে দিলো।

রাদিফ বাড়ি ফিরার পথে একটা শপিংয়ে যায়। সাথে সাইমনও আছে। দুজনে মিলে মিষ্টির জন্য একটা সারপ্রাইস এরেঞ্জ করার চিন্তা করেছে। রাদিফ বিয়ের পরে মিষ্টির জন্য তেমন কোনো সারপ্রাইস এরেঞ্জ করেনি। যা করেছে তেমন জাঁকজমক হয়নি। এবার বেশ জাঁকজমক ভাবেই সারপ্রাইস দিবে।

রাদিফ আর সাইমন দুজনে শপিং শেষ করে বাড়ি ফিরে আসে। এখন বাজে রাত আটটা এখন সারপ্রাইস এরেঞ্জ করা ওদের দুজনের পক্ষে সম্ভব নয়। সারাদিন অনেক দৌড়ঝাপ দিয়েছে। আর একটা সারপ্রাইস এরেঞ্জ করতেও অনেক সময়ের প্রয়োজন। দুজনের কাছে এখন সময় নেই। কালকে এরেঞ্জ করবে। রাদিফ আর সাইমন মিষ্টিকে সারপ্রাইস দেওয়ার জন্য ডেকোরেশনের জন্য অনেক জিনিস কিনে আনে। সেগুলো মিষ্টি যেনো দেখতে না পারে তাই সেগুলো লুকিয়ে মেইডের রুমে নিয়ে রাখে। মিষ্টি দেখতে পারলে সারপ্রাইসটা বুঝে যাবে।

সব কাজ শেষে রাদিফ আর সাইমন নিজেদের রুমে যায়। রাদিফ রুমে এসে দেখে মিষ্টি বিছানায় শুয়ে ফোন দেখছে। রাদিফ মিষ্টির দিকে তাকিয়ে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলে,

“কি কপাল ভাই, ফোন কিনে দিয়েছি যাতে আমার খোঁজ-খবর নিতে পারে। আর এই মহারানী তো দেখি ফোন নিয়ে রিলস দেখে।”

মিষ্টি ফোন রেখে দিয়ে রাদিফের দিকে তাকাতে তাকাতে উঠে বসে। রাদিফ ততক্ষনে ওয়াশরুমে পা রাখে। আর বলে,

“মহারানীর ফোন দেখা শেষ হলে যেনো আমার জামাকাপড় দিয়ে যায়।”

মিষ্টি মুখ ভেঙচি কেটে কাভার্ডের দিকে এগিয়ে গিয়ে রাদিফের জন্য টি-শার্ট আর ট্রাউজার বের করে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যায়। রাদিফ হাত বাড়িয়ে দেয়। মিষ্টি আবারও ভেঙচি কেটে জামাকাপড় গুলো দিয়ে দেয়। রাদিফ ঠোঁট কামড়ে হেসে জামাকাপড় নিয়ে বলে,

“টাওয়াল কোথায়?”

“আনছি!”

মিষ্টি সোফার উপরে থেকে টাওয়াল এনে দেয় রাদিফকে। রাদিফ টাওয়াল নিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়।

মিষ্টি রুম থেকে বেরিয়ে ড্রইং রুমে চলে আসে। সেখানে ডাইনিং টেবিলে খাবার রেডি করতে থাকে।

____________________

রাত তখন দশটা,,

রাদিফ প্রতিদিনের মতো আজকেও ল্যাপটপ নিয়ে অফিসের কাজ করছে। আজ ড্রইং রুমে বসেছে। সাইমনও বসে আছে। সাইমনের কাজ শেষ। সে ফোনে চ্যাট করছে। সেই সময় বাড়ির কলিং বেল বাজায় রায়ান। সাইমন ফোন দেখতে দেখতে গিয়ে সদর দরজা খুলে দেয়। ফোন থেকে চোখ উঠিয়ে রায়ানকে দেখে একটু অবাক হলো বৈকি। তবে রায়ান এখন এখানে আসায় সাইমন একটুও খুশি হয়নি। তবুও স্বাভাবিক রইলো, বুঝতে দিলো না।

আর রায়ান সাইমনকে দেখে হেসে বলে,

“কিরে কেমন আছিস?”

সাইমন ছোট্ট করে জবাব দেয়,

“ভালো। তু্ই?”

“ভালো!”

রায়ান ভিতরে ঢুকে। রাদিফ রায়ানকে একনজর দেখে কাজে মন দেয়। সেও খুশি হয়নি রায়ান আসাতে।

চলবে….

পরবর্তী পর্ব কালকে সন্ধ্যায় আসবে।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here