প্রেমালয় পর্বঃ_১

0
807

১,
বরপক্ষ আপুকে দেখতে এসেছে আজ। তবে বর পক্ষের মাঝে বরের জায়গায় মুগ্ধ কে দেখে সারা শরির কাপুনি দিয়ে উঠলো আমার। এক বছর আগের সেই অতিত আবার মাথা চারা দিয়ে উঠলো। মুগ্ধ আমাকে দেখেনি। তার বাবা মায়ের মাঝখানে মাথা নিচু করে বসে আছে। মুখটা এক আকাশ সমান বিষণ্নতায় ঘেরা তার। আর তার উপর আমার এক আকাশ সমান অভিমান।
তার মানে মুগ্ধর জন্যই আপুকে দেখতে এসেছে আজ। মাথা ঘুরছে আমার। যেনো আর এক মুহুর্ত ওখানে থাকাটা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে আমার জন্য।
এর মাঝেই বাবা বললো,
– শিশির যা তিসাকে ভিতরে নিয়ে যা।
আসার পর থেকেই নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলো মুগ্ধ। কারো দিকে তাকায় নি। ওর বাবা মা ই আপুকে দেখে হাতে একটা রিং পড়িয়ে দিলো।
কিন্তু বাবার মুখে শিশির নামটা শুনতেই মাথা তুলে তাকালো মুগ্ধ। মুগ্ধর দৃষ্টি স্থির হয়ে গেলো আমার দিকে। আর আমার চোখে পানি টলমল করছে।
চোখের পানি গড়িয়ে পড়ার আগেই আপুকে ধরে হাটা শুরু করলাম রুমের দিকে। আর মুগ্ধর স্থির দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

(আমি শিশির আর যাকে দেখতে আসলো সে হলো তিসা আপু, আমার থেকে ২ বছরের বড়। বাবা-মা, দাদি আর আমরা দুই বোন নিয়ে আমাদের পরিবার। আমি অনার্স পরীক্ষা দিয়েছিলাম। বাট পাশ করাটা সম্ভব হয়নি আমার। পড়া লেখায় বরাবরই খুব সিরিয়াস ছিলাম। বাট একটা ধাক্কায় কেড়ে নিয়েছিলো জীবনের সব স্বপ্ন, হাসি খুশি থাকা টা। পরীক্ষাটাও দিয়েছিলাম নিজের উপর জোড় করে। বাট, ফলাফল শুন্য। স্বপ্ন যেখানে ভেঙে যায় সেখানে এগিয়ে যাওয়াটা খুব টাপ। তাই আপাততো লেখা পড়া থেকে দুরে আছি আমি। কিন্তু এই লেখা পড়া নিয়েই আমার অনেক স্বপ্ন ছিলো। আমার সব স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে কেউ একজন) ফেরা যাক গল্পে।

লুকিয়ে হাত দিয়ে চোখ মুছে নিলো শিশির। তিসা তার ভেজা চোখ দেখে বললো,
– কি হয়েছে? কাঁদছিস কেন?
– ক কই না তো, এমনি চোখে কি যেনো একটা পরেছে।
– দেখ আমার কাছে লুকাবি না। আমি দেখতেই পাচ্ছি তুই কাঁদছিস।
– তুই আমাদের ছেরে শশুর বাড়িতে চলে যাবি তাই না আপু? তখন পর হয়ে যাবো আমরা?
তিসা একটু হেসে শিশিরকে ধরে বললো,
– আরে পাগলি এই জন্যই কাঁদছিস? আমরা কেনো আলাদা হবো? আমরা তো একই থাকবো সারা জীবন তাই না? শুধু দুরুত্বটা বাড়বে। চিন্তা করিস না, আমাদের সব সময় দেখা হবে।
– আপু একটা প্রশ্ন করি?
– হুম বল,,
– ওকে তোর পছন্দ হয়েছে?
তিসা একটু লাজুক ভঙ্গিতে নিচের দিকে তাকালো। শিশির সিরিয়াস ভাব নিয়ে বললো,
– দেখ একধম ঢং করবিনা আমার সামনে। সোজাসুজি প্রশ্নের সোজাসুজি উত্তর দে।
তিসা এখনও লাজুক ভঙ্গিতে বললো,
– বাবা মা যেখানে কথা বলছে সেখানে আমার আর কি বা বলার আছে?

শিশির ভালোই বুঝতে পারছে, আপুর মুগ্ধকে পছন্দ হয়েছে। এমনিতেও মুগ্ধকে অপছন্দ করার কোনো কারণ নেই। কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলো শিশির।

শরির বেয়ে ঘাম পরছে শিশিরের। একাকি ছাদের এক কোনে বসে নিশ্চুপ হয়ে কেঁদে যাচ্ছে। পূরোনো স্মৃতি গুলো বার বার চোখের সামনে ভেষে উঠছে তার।
সেদিন বিকেলে হেটেছিলাম অনেক্ষন এক সাথে। একটা নদীর পাড়ে বসে মুগ্ধর কাধে মাথা রেখে আহ্লাদি সুরে একটা প্রশ্ন করছিলাম,,
– আমায় কতটা ভালোবাসেন আপনি?
মুগ্ধ শিশিরের চোখের পানে চেয়ে বললো,
– তোমার কতোটা গ্রহন করার শক্তি আছে।
– আমার মন টা তো সামনে থাকা নদীটার মতো বিশাল।
– আর আমার ভালোবাসা টা যদি এক সমুদ্র সমান হয়?
– আচ্ছা বুঝলাম, তো এই ভালোবাসা টা কতো দিন থাকবে শুনি?
– বেচে আছি যত দিন।
– হারিয়ে যাবেন না তো কখনো?
মুগ্ধ একটু হাসলো। হাসতে হাসতে আমার কপালে আলতো করে একটা চুমু একে দিলো।

নিরবে ছাদের এক কোনে বসে পুরোনো স্মতি গুলো ভাবছে শিশির। কোথায় হারিয়ে গেলো তার এতো ভালোবাসা?
এই এক বছর ধরে নিয়ে অনেক কষ্ট করে বুঝিয়েছি। ভুলে থাকতে চেয়েছি তাকে। কিন্তু হুট করে এভাবে এসে সব এলো মেলো করে দেওয়াটা কি খুব দরকার ছিলো?

শরির টা খুব ভার হয়ে আছে। ওয়াশ রুমে গিয়ে একটা লম্বা শাওয়ার নিলো শিশির। সে এখন স্বাভাবিক। কিছুই হয়নি তার সাথে।
তিসা তখন ফোন হাতে খাটের এক পাশে বসে আছে। শিশির চুল মুছতে মুছতে তার কাছে গিয়ে দাড়ায়। দেখে তিসা ফোনে মুগ্ধর ছবি দেখছে এক নজরে। শিশির একটা দির্ঘশ্বাস নিলো। তিসা হাস্যজ্জল মুখে শিশিরকে ছবি গুলো দেখিয়ে জিজ্ঞাসা ভঙ্গিতে বললো,
– খুব কিউট তাই না?
শিশির বিষণ্ন মনে ছোট্ট করে বললো,
– হুম খুব।
– জানিস অনেক কষ্টে ফেসবুক আইডি টা খুজে বের করেছি।
কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলো শিশির। কারণ সেই দিনের পর থেকে এই আইডির সাথে মুগ্ধর সব কিছুই তার ব্লক লিষ্টে।
,
,
সন্ধার পর চা নিয়ে মুগ্ধর পাশে এসে দাড়ালো তার মা মারিয়া চৌধুরি। থমথমে নিরব পরিবেশ। আকাশের চাঁদ টা চার দিকে কিরণ ছড়াতে ব্যাস্ত। মুগ্ধ নিরবে ওই চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে অনেক্ষন। মনে হচ্ছে ওই চাঁদ আজ তার হাতে এসে ধরা দিলো। কতো খুজেছিলো তার শিশির পরী কে। অথচ আজ???
মারিয়া চৌধুরি শ্রাবনের হাতে চা টা দিয়ে বললো,
– মেয়ে কেমন লাগলো?
মুগ্ধর চোখে ভাসছে শিশিরের নিচু হয়ে থাকা বিষণ্ন মুখ। সেখান থেকেই মা কে বলে উঠলো,
– অপূর্ব,,,
– বলছিলাম না, একবার দেখলে তুই আর না করতে পারবি না?
– জানো মা, আমি কতো খুজেছি আমার স্বপ্নপরী কে। আমি ওকে কিছুতেই হারাতে দেবো না মা,,,, আমার সকল সুন্দর মুহুর্ত এমন প্রভাতে ভেজা শিশিরের মতো শিশিরময় হোক।
মারিয়া চৌধুরির হাতে যেনো আজ এক আকাশ সমান খুশি এসে ধরা দিলো। কারণ যে ছেলেকে বিয়ের জন্য রাজিই করানো যাচ্ছিলো না, সেই ছেলে আজ নিজে থেকেই কতোটা সম্মতি দিচ্ছে।
মারিয়া চৌধুরি সেখান থেকে দ্রুত পায়ে চলে গেলো নিচে। তার বাবার সাথে কথা বলে, বিয়ের দিন খন খুব তারাতারি ঠিক করতে হবে। বলা তো যায় না, আজ কাল কার ছেলে মেয়ে কখন পল্টি খেতে পারে।

চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে প্রকৃতির দিকে তাকালো মুগ্ধ। আজ যেনো প্রান খুলে শ্বাস নিচ্ছে সে। এতো খুশির মাঝেও মুহুর্তেই চোখ দুটু ভিজে গেলো তার।
” অনেক কষ্ট পেয়েছো তুমি। আমার জন্য পাগলের মতো নিজেকে শুধু কষ্টই দিয়েছো। আর না, আমি হাজার খোজার পর, তুমি ঠিকই আমার সামনে এসে ধরা দিলে। আমি তোমাকে আজও সেই আগের তুলনায় বেশিই ভালোবাসি। আমি কখনোই তোমায় আর হারাতে দিবো না। কখনো এক ফোটা কষ্ট অনুভব করতে দিবো না তোমায়। কক্ষনো না।

To be continue,,,,,,,,,,,

প্রেমালয় পর্বঃ_১
#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ

~~ ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরুধ রইলো💖

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here