প্রেমালয় পর্বঃ_৪

0
179

প্রেমালয় পর্বঃ_৪
#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ

হালকা শীতল ভাব, ধিরে ধিরে আলোকিতো হচ্ছে পুরো শহর। গাছে গাছে পাখিদের মন মুগ্ধকর কিচির মিচির ডাক। হালকা জ্বলে উঠা প্রভাতি আলোয় অন্য রকম দেখায় ব্যস্ত শহরটাকে। তবে সবাই এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে না। কারণ, আমরা মানব জাতি বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। কেউ বিলাশি জীবন নিয়ে চলছে, তাদের সকাল হয় ১০ টার পরে। যখন সূর্য প্রায়ই তেজস্ব হয়ে উঠে।
আবার কেউ জিবিকা নির্বাহের জন্য বেড়িয়ে পড়তে ব্যাস্ত। তাদের এতো সময় নেই সৌন্দর্যকে উপভোগ করার। আবার ইয়াং জেনারেশনের ক্ষেত্রে বলতে গেলে, রাত ভর চ্যাটিং করে, সকাল টা পার করে দেয় ঘুমিয়ে।
এক কথায় বলতে গেলে তুমি প্রকৃতির মাঝে মুগ্ধতা খুজতে গেলে তোমাকে আগে প্রকৃতি প্রমি হয়ে উঠতে হবে।

সকালের নাস্তা শেষ করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো শিশির ও মাহিমা। একটা রিক্সা ডেকে উঠে গেলো তারা। ভার্সিটি বেশি দুরে না। এখান থেকে ২০ টাকার ভাড়া মাত্র।
ভর্তি হওয়ার পর আজকে ফাস্ট ক্লাস। রিক্সা এসে নামিয়ে দিলো কলেজের গেটের সামনে। ঘড়ির কাটা তখন ৮ঃ৪৫ মিনিট। প্রথম দিন অন্তত একটু আগে আসা উচিৎ ছিলো। নিজ ডিপার্টমেন্ট খুজতে হবে। তার পর ক্লাস, কতো প্যারা। রিক্সা ওয়ালাকে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে ব্যাগ নিয়ে দ্রুত পায়ে হাটা ধরলো শিশির ও মাহিমা। কলেজ গেট ক্রস করে ভেতরে ঢুকতেই একটা ছেলের সাথে ধাক্কা। ফোনে কার সাথে কথা বলতে বলতে খুব তাড়াহুরো করে বের হচ্ছিলো ছেলেটা। হুট করে ধাক্কা খাওয়ায় হাত থেকে ফোন টা নিচে পরে গেলো ছেলেটার। শিশির সরি বলে আবার হাটা ধরলো।
পেছন থেকে ছেলেটা বলে উঠে,
– এই যে মিস, এটা কি হলো?
পাশ থেকে মাহিমা বললো,
– সরি ভাইয়া, ও আসলে খেয়াল করেনি।
– আপনার বান্ধবি চোখ কি কপালে নিয়ে ঘুরে? নাকি ভার্সিটির সুদর্শন ছেলে চোখে পরলেই গায়ের উপর ধাক্কা মারতে উড়ে যাওয়ার অভ্যেস আছে? কোন টা?
শিশির এবার একটু রেগে গিয়ে বললো,
– এইবার কি একটু বেশি হচ্ছে না ভাইয়া? সরি তো বললাম ই। এবার কি পায়ে ধরেও মাপ চাইতে হবে?
পাশ থেকে একটা ছেলে এসে বললো,
– কি হয়েছে হৃদয়? এই মেয়ে, তুমি কার সাথে কথা বলছো যানো?
– সরি ভাইয়া এতো জানার ইচ্ছে নেই।
বলেই মাহিমার হাত ধরে হাটা ধরে শিশির।
হৃদয় নিচ থেকে ফোন টা উঠিয়ে পাশের ছেলেটাকে বললো,
– মেয়েটা কে?
– জানিনা, আজ প্রথম দেখলাম। হয়তো নতুন ভর্তি হয়েছে।
– ওর সব ইনফরমেশন আমি চাই।
– কেন ভাই, পছন্দ হয়েছে নাকি?
– মজা করবি না, নতুন হয়েও তার এতো তেজ। আমার সাথে ত্যারা কথা বলার স্বাধ আমি মিটাবো।
বলেই সান গ্লাস টা পড়ে সেখান থেকে চলে গেলো হৃদয়।

ক্লাসের দিকে যেতে যেতে মাহিমা বললো,
– এভাবে কেন কথা বললি? দোষ টা তো তারও ছিলো না।
– দোষ নিয়ে বলিনি আমি। সে পরের কথাটা কি বললো? সু-দর্শন ছেলে দেখলে নাকি ইচ্ছে করে গায়ের উপর পরি। সুন্দর্য যতটুকু নেই, ভব তার চেয়ে বেশি।
– তবুও ওসব সিনিয়র ছেলেদের সাথে তর্কে না জড়ানোই ভালো।

ক্লাস খুজতে এতো দেড়ি হলো না তাদের। ক্লাসের সামনে যেতেই দেখলো ৫ মিনিট অতিরিক্ত। স্যার অলরেডি চলে এসেছে।
– মে আই কাম ইন স্যার?
স্যার ঘরির দিয়ে চেয়ে বললো,
– ইয়েস কাম ইন,, নেক্সট টাইম টাইমলি আসবে।
– জ্বি স্যার।
– নাম কি তোমাদের?
– স্যার আমি শিশির আর ও হলো আমার বান্ধবি মাহিমা।
– ওকে, গো টু সিট।

শিশির ও মাহিমা একসাথে সিটে এসে বসলো। স্যার টা সুবিধার মনে হচ্ছে না। আজ প্রথম দিন, তাও মুখে কোনো হাসি নেই। বয়স তো প্রায় ৪৫ ঘনাবে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে একটু রাগি প্রকৃতির।

স্যার এর ক্লাস শেষে এলো এক ম্যাম। ম্যামটা একটু ভালোই মনে হলো। প্রথমেই হাসি মুখে সবার সাথে পরিচিত হলো। এর পর ক্লাস শুরু করলো।
হুট করে একটা ছেলে দরজার সামনে এসে বললো,
– এক্সকিউজ মি ম্যাম, মে আই কাম ইন?
– ইয়েস।
ছেলেটি ম্যাম এর কাছে গিয়ে বললো,
– একটা মেয়েকে ডাকছে নিচে।
– এখন ক্লাস টাইম কেউ বাইরে যাবে না।
– ম্যাম, আড়জেন্ট। মুগ্ধ ভাইয়া পাঠিয়েছে।
মুগ্ধর নাম শুনে ম্যাম বললো,
– আচ্ছা ঠিক আছে, কোন মেয়ে?
– ম্যাম শিশির।

ম্যাম সকলের উদ্দেশ্য করে বললো,
– এখানে শিশির কে?
ভয়ে ঘাবড়ে গেলো শিশির। মাথায় একটা চিন্তা ঢুকে গেলো, সকালের ছেলেটা কোনো ঝামেলা করছে না তো? ভয়ে প্রান যায় যায় অবস্থা শিশিরের। ম্যাম আরেকবার বলতেই উঠে দাড়ায় শিশির।
শিশিরকে উদ্দেশ্য করে ম্যাম বললো,
– তোমাকে বাইরে ডাকছে, দেখে এসো।
এইবার বুকটা কাপতে শুরু করলো শিশিরের। ভয়ার্ত চেহারায় মাহিমার দিকে তাকালো। মাহিমার মুখেও দুশ্চিন্তার ছাপ। তারও ধারণা হয়তো সকালের সেই হৃদয় নামের ছেলেটা কোনো ঝামেলা করবে।
শিশির ম্যাম এর দিকে চেয়ে বললো,
– ম্যাম অনুমতি দিলে আমি মাহিমাকেও সাথে নিয়ে যেতে চাই।
এর মাঝেই ছেলেটা বললো,
– না, শুধু আপনাকেই ডাকা হয়েছে।

শিশির ভয়ে গুটি গুটি পায়ে ছেলেটার পেছন পেছন গেলো। ছেলেটা হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলো, ওইযে ভাইয়া।
এবার যেনো কলিজায় পানি এলো শিশিরের। এতোক্ষনে গড়ে উঠা ভয় টা এবার একটু একটু কমতে লাগলো মুগ্ধকে দেখে। একটা বাইকের উপর বসে আছে মুগ্ধ৷ হাতে ফোন নিয়ে গুন গুন করে কি যেনো বলছে।
মুগ্ধর কাছে এগিয়ে গেলো শিশির। মুগ্ধ ফোন টা পকেটে নিয়ে বলে,
– কেমন আছেন মিস শিশির আহমেদ।
– জ্বা আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তবে আপনি এখানে?
– আমি তো এখানেই পড়ি, মাস্টার্সে। আপনিও তাহলে এখানেই ভর্তি হলেন?
– হুম, আচ্ছা আপনি কি করে জানলেন আমি এখানে ভর্তি হয়েছি, আর কোন ডিপার্টমেন্টে পড়ি তাও? মানে এই কলেজে আমি ভর্তি হয়েছি এটা আপনি জানলেন কি করে।
– প্রথম ক্লাসে আপনার ডিপার্টমেন্টের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আপনাকে চোখে পরলো, তাই জানলাম।
– আমাকে চিনলেন কি ভাবে? হুম?
– আমি কাউকে ভুলি না। আর যাকে একটি রাত পাহারে দিলাম তাকে ভুলে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। আপনি আমায় চিনেছেন?
– হুম অবশ্যই,
– তাহলে আমি চিনবো না কেন?
– হিহিহি, বুঝলাম।
– আপনার হাসিটা সুন্দর।
শিশির এবার হাসি থামিয়ে মুগ্ধর দিকে তাকালো,
– কেন ডেকেছেন বলুন,
– এমনি ইচ্ছে হলো ডাকলাম, কেন কোনো সমস্যা?
– না না, এমনি জানতে ইচ্ছে হলো।
– আচ্ছা এখন ক্লাসে যান। আছেন যেহেতু দেখা তো প্রতিদিনই হবে।
– হুম তা হয়তো হবে। তবে প্রতিদিন কি এভাবে ডেকে আনবেন?
– হুহ্, আমার তো বয়েই গেছে প্রতিদিন আপনাকে এখানে ডেকে এনে কথা বলার। আমার তো আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই।
– হিহিহি, এমনি মজা করে বললাম।
– হুম এখন ক্লাসে যান।
– আচ্ছা,,,,
– আর শুনুন,
– হুম,
– কোনো সমস্যা হলে, বা কোনো প্রব্লেমে পরলে আমাকে বলতে পারেন।
শিশির, মাথা কাত করে হাসি মুখে বললো,
– আচ্ছা,,,
মুগ্ধ একটা মুগ্ধতার হাসি হাসলো। তার পর বাইক নিয়ে চলে গেলো বাইরে। হয়তো আজকে আর ক্লাস করবে না।

To be continue……..

~ ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরুধ রইলো💖

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here