প্রেমালয় ২ -৩.

0
134

#প্রেমালয় ২ -৩.
#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ

মা কতো সুন্দরেই বলে দিলো সংসার টা ঘুচিয়ে নিস। অথচ এই সংসার টা হওয়ার কথা ছিলো শিশিরের। ভাগ্য আমার কথায় নিয়ে দাড় করাবে কে জানে?
তীসাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে বিদায় দিয়ে দিলো সবাই। চেনা মুখ গুলোকেও বড্ড অচেনা মনে হচ্ছে আজ।
গাড়ির কাচ নামিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে সুশান্ত। এখানে আশার সময়টা আর এখন যাওয়ার সময়টার ফিল পুরোপুরিই আলাদা। সারপ্রাইজ টা এতো বড় হবে তা হয়তো ভাবতেও পারেনি কখনো।
তীসার মনের ভেতর কেমন কুহু কুহু ডাকছে। সুশান্তের নিরবতায় যেন তার ভয়টা গাড় করে তুলছে। কিছু মুহুর্তে নিরবতাই বলে দেয় আঘাত টা কতো গভির ছিলো। একটা প্রশ্ন বার বার ভাবিয়ে তুলছে তীসাকে। কারণ, সুশান্ত তো শিশির কে ভালোবাসে, তাহলে শিশির চলে যাওয়ায় হুট করে আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলো কেন? প্রশ্ন টা তার কাছে খুবই রহস্য জনক।
.

রুমের দরজা খোলার শব্দে কেঁপে উঠলো শিশির। তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে এসেছে রুমে। বয়স খুব একটা বেশি না। তার ছোট বা সমবয়সি এই টাইপের। হাতে খাবার নিয়ে এসেছে। খাবার টা এক সাইডে রেখে শিশিরের হাতের বাধন খুলে দিলো মেয়েটা। অনেক্ষন এভাবে বেধে রাখায় হাত টা জ্বলছে খুব। এখান থেকে বের হওয়ার বুদ্ধি খুজছিলো শিশির। মেয়েটাকে দেখে মাথায় একটা বুদ্ধি চেপে বসে তার।
মেয়েটাকে তার পাশে বসিয়ে বলে,
– তোমার নাম কি?
– আপু, চারু।
– তুমি কতদিন ধরে এই বাসায় আছো?
– জ্বি না আপু, আজই আসলাম। স্যার আপনার টেক কেয়ারের জন্য রেখেছে আমায়?
– তোমার স্যার তোমাকে কত টাকা দিবে?
– সেটা স্যার জানে, কিছু বলেনি। বলে ছে শুধু আপনাকে দেখে রাখতে।
– আমাকে একটা হেল্প করলে তুমি এক রাতেই পাবে, ১ লক্ষ। আমাকে শুধু এই বাসা থেকে বের হতে সাহায্য করবে, ব্যস এতটুকুই।
– সরি আপু, এই বাসায় প্রতিটা কর্নারেই ক্যামেরা লাগানো আছে। আর বাইরে বেস কয়েকজন সিকিউরিটি রেখেছে। আপনি চাইলেও এখান থেকে বের হতে পারবেন না, যদি স্যার না চায়।
.

ফুলে সাজানো একটা ঘরে এসে বসিয়ে রেখে গেছে তীসাকে। চার দিকে কোলাহল পূর্ন পরিবেশ। নতুন বৌ দেখতে আসছে অনেকেই। হাতে গনা কয়েক জন ছারা আর সব অচেনা মুখ। চেনা বাড়িটাও আজ বড্ড অচেনা লাগছে। নিরংশু দৃষ্টিতে চোখ বুলাচ্ছে চার দিকে। খুব সুন্দর করেই সাজিয়েছে ঘরটা। তবে তার জন্য না, শিশিরের জন্য সাজানো হয়েছিলো। বিছানার মাঝে বড় করে একটা লাভের মাঝখানে লেখা (S+S)..
একটা দির্ঘশ্বাস ফেললো। খুব ভয় করছে তার। ফোন বের করে মাকে ফোন দিলো সে। ফোন রিসিভ করতেই কেঁদে দিলো তীসা।
– আমার খুব ভয় করছে মা,,,,,

রুমে কারো আশার শব্দ শুনে ফোন রেখে দিলো তীসা। সুশান্তকে দেখে লুকিয়ে চোখের পানি মুছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে সে।
সুশান্ত সামনে এসে সোজাসুজি ভাবেই বললো,
– যদি ভাবিস কেঁদে কেঁটে আমায় ইম্প্রেস করে নিবি, তাহলে তুই বোকার স্বর্গে বাস করছিস। আমার জীবন টা এলোমেলো করে দিয়েছিস তোরা দুই বোন মিলে। সোজা কথা কান খুলে শুনে রাখ, বৌ হয়ে এই বাড়িতে এসেছিস, কখনো বৌ এর অধিকার ফলাতে আসবি না।
বলেই একটা টাওয়াল নিয়ে ওয়াসরুমে চলে গেলো সুশান্ত।
তীসা কিছু বলছে না, চুপচাপ নিচের দিকে চেয়ে আছে। এটাই তো হওয়ার ছিলো। আজকের এই রাতটা নিয়ে ছোট বেলা থেকে স্বপ্নটা বোধ হয় একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিলো।

বেলকনিতে একটা চেয়ারে বসে চোখ বুজে আছে তৌফিক আহমেদ। মেহমানরা অনেকেই চলে গেছে। যে কয়েকজন আছে তারাও ঘুমিয়ে গেছে এতোক্ষনে। চার পাশে কোলাহল পূর্ণ পরিবেশটাও নিস্তব্দ হয়ে গেছে। শিরিনা আহমেদ পাশে এসে বসলো।
– অনেক রাত হয়েছে, এখানে বসে আছেন কেন? কালকে তো আবার ওদের বাড়ি যেতে হবে ভেতরে চলেন।
তৌফিক আহমেদ একটা দির্ঘশ্বাস ফেললো,
– আমি কখনো ভাবতেও পারিনি ছোট মেয়েটা আমার মান সম্মান এভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দিবে। রাগের মাথায় হুট হাট ডিসিশনে তীসার সাথেও অন্যায় করে ফেললাম খুব। অন্তত মেয়েটার মত নেওয়া উচিৎ ছিলো।
– এখন ওসব চিন্তা বাদ দিন, এইসব নিয়ে পরেও ভাবা যাবে। এখন নিজেকে একটু বিশ্রামে নিন।
– শিশিরের জন্য এই বাড়ির দরজা চিরতরে বন্ধ।
,

খাবার গুলো ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্লেট টাও টুকরো টুকরো হয়ে আছে। দরজার এক পাশে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে চারু।
তখনই রুমে আসলো মুগ্ধ। শিশিরের এমন কান্ড দেখে চুপচাপ শিশিরের সামনে এসে বসলো সে। শিশির রাগটা টগবগ করছে খুব। মনে হচ্ছে এই মুগ্ধকে খুন করতে পারলেই এই রাগটা কমবে তার।
– কি চান আপনি? আর কত কষ্ট দিবেন আমাকে?
– যতটা কষ্ট আমি পেয়েছি, ঠিক ততটা।
– লাভ কি? সুশান্ত ঠিকই আমায় এখান থেকে নিয়ে যাবে।
শিশিরের কাছে এসে শিশিরের গাল টিপে ধরলো মুগ্ধ। রক্তিম চোখে শিশিরের দিকে তাকিয়ে বললো,
– এই নামটা শুনতে শুনতে কান পচে গেল আমার? সুশান্ত কেন, তোমার আশা পাশে থাকা মানুষ গুলোর মাঝে একটারও শক্তি নেই যে মুগ্ধর কাছ থেকে তোমাকে নিয়ে যাবে। কারণ, হয়তো তুমি আমার, নয়তো অন্য কারো না।
শিশিরকে ছেরে সোজা হয়ে দাড়ালো মুগ্ধ। শিশির মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে বললো,
– এসব করে কি আপনার ভালোবাসার প্রমান দিতে চাইছেন? ভালোবাসা এতোটা সস্থা না। ভালোবাসায় বিশ্বাস, গুরুত্ব, সম্মান সবই থাকতে হয়।
– ওহ্ রিয়েলি? তাহলে একজন মানুষের সাথে এতো টা সময় রিলেশনে থাকার সত্বেও অন্য কারো জন্য নিজের ভালোবাসাম মানুষটা কে দুড়ে ঠেলে দেওয়া টা ভালোবাসায় কতোটা সম্মানের পরিচয় দেয়?
– সেটা আপনাকে নতুন করে বুঝাতে হবে না। আমার থেকে আপনিই ভালো জানেন এটা। নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন।
– আচ্ছা বুঝলাম, তবে সুশান্ত তোমায় কতোটা ভালোবাসে?
– ভালোবাসা পরিমাপ করা যায় না। তবে ভালোবাসার দিক দিয়ে আপনি তার নখের যোগ্যও না।
মুগ্ধ হাটু গড়ে শিশিরের পাশে বসলো,
– আমি বুঝতে পারছি না শিশির আমার দোষ টা কোথায়? অন্তত তুমি তো জানতে আমি তোমায় কতোটা ভালোবাসি। তবুও কেন এমন করছো? তুমিই তো সব সময় বলতে, আমায় কখনো ছেড়ে যাবে না।
– সেটা আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করে দেখুন। আশা করি উত্তর পেয়ে যাবেন।
,
,
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সুশান্ত দেখে খাটের এক পাশে গুটি শুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে তীসা। তীসার ঘুম দেখে মাথায় রাগ উঠে গেলো সুশান্তর। কত শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছে আমার ঘুম হারাম করে।
সুশান্ত বিছানার কাছে এসে তীসার হাত ধরে টেনে খাট থেকে নিচে ফেলে দেয় তাকে। আচমকাই এমন হওয়ায় ভয়ে সুশান্তের দিকে চেয়ে আছে তীসা। সুশান্ত রাগি চোখে বলতে শুরু করে,
– এই তোকে বলছি না, এক সাথে ঘুমানো তো দুরে থাক, কখনো স্ত্রীর অধিকারও চাইতে আসবি না। আরেক বার এই বিছানায় এক সাথে থাকতে চাইবি তো, ঘুমানোর স্বাধ জন্মের মতো মিটিয়ে দিব।

রাত তখন ১ টা পেরিয়ে গেলো। এক দিকে মুগ্ধর সাথে খারাপ ব্যাবহার করার একই ভাবে চেয়ারের সাথে বেধে রেখে গেছে শিশিরকে।
আর অন্য দিকে আজ বাবা মাকে ছেরে অন্যের ঘরে রাত পার করছে তীসা।
আজ তার বাসর রাত। অথচ রুমের এক কোনে বসে বসে নিরবে কাঁদছে সে।

To be continue,,,,,

~ ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরুধ রইলো।💖

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here