আন্তঃনগরের_ভালবাসা লেখকঃ আবির খান পর্বঃ ০৯

0
331

#আন্তঃনগরের_ভালবাসা
লেখকঃ আবির খান
পর্বঃ ০৯
মরিয়মের কথা শুনে বাবা-মা হেসে দেয়। আর আমি পুরো বোকা হয়ে যাই। মরিয়ম এটা বলল কি! যাই হোক আমি ওসব কথা আমলে না নিয়ে সন্ধ্যার দিকে নামাজ পড়ে এসে জান্নাতকে কল দিলাম। কিছুক্ষণ রিং হতেই ও রিসিভ করে সালাম দেয়। আমিও সালামের উত্তর দিয়ে বলি,

— অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার কথাই সত্য হয়েছে। বাবা রাজি হয়েছেন।
~ সত্যি? ওয়াও! আমি বলেছি না আঙ্কেল কখনো না করবেন না। আমি ওনাকে অনেক দিন ধরেই চিনি। সেদিন খাবার টেবিলে বসে খেতে খেতে ওনাদের মাঝে আপনার প্রতি অনেক ভালবাসা দেখেছি৷ যাই হোক তাহলে কবে নাগাদ সবাইকে নিয়ে আসবো?
— এই মাসের তো আর পাঁচ দিন বাকি আছে। সামনের মাসের এক তারিখ থেকেই আসুন।
~ ঠিক আছে। আচ্ছা আপনি খুশি তো?
— আসলে খুশি হবো নাকি দুঃখি বুঝতে পারছি না৷ আমি কনফিউজড।
~ হাহা। এত প্যারা নেন কেন? আমি আছি না। নো চিন্তা ডু ফুরতি। হিহি।
— আপনি আসলেই অনেক ভালো একটা মেয়ে। (মুচকি হেসে)
~ কি জানি। তবে আমি কিন্তু আপনার একটা বিষয়ে খুব কষ্ট পাচ্ছি।

আমি জান্নাতের কথা শুনে অবাক হয়ে যাই। আমি আবার ওকে কিভাবে কষ্ট দিচ্ছি! আমি দ্রুত চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

— কি বলছেন! কিভাবে কষ্ট দিচ্ছি?
~ এই যে আমি আপনার এত ছোট হওয়া স্বত্ত্বেও সেই প্রথম থেকে আপনি আপনি করেই যাচ্ছেন। আচ্ছা আমাকে তুমি করে বললে কি আপনার খুব ক্ষতি হবে? আমার মতো ছোট্ট একটা বেবিকে আপনি, আপনি আপনি করে বলছেন। আমার তো মনে হয় আমি বুড়ি একটা মেয়ে।

আমি জান্নাতের কথা শুনে না হেসে আর পারলাম না। হাসতে হাসতে বলি,

— হাহা, আচ্ছা ঠিক আছে আপনাকে ওহ সরি তোমাকে এখন থেকে তুমি করেই বলবো।
~ সত্যি? (খুব খুশি হয়ে)
— হ্যাঁ।
~ হুম এবার ঠিক আছে। থ্যাংকু থ্যাংকু।
— ওয়েলকাম। আচ্ছা কিছু মনে না করলে তোমাকে একটা প্রশ্ন করি?
~ একটা কেন হাজারটা করুন।
— না না একটাই করবো।
~ আচ্ছা করুন।
— তুমি আমাকে কেন হেল্প করলে? আমি আজ পর্যন্ত যত মেয়ের সাথে একটু হলেও পরিচয় হয়েছি তারা আমার এই হাতের জন্য আমাকে হেও করেছে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে, কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু তুমি কেন আমাকে হেল্প করার জন্য এগিয়ে আসলে?

ফোনের ওপাশে জান্নাত অস্থির হয়ে যায় আবিরের এই আকস্মিক প্রশ্নটা শুনে। কি উত্তর দিবে ও? ও কি বলে দিবে ওর মনের কথাটা? কিন্তু এখন তো বলার সঠিক সময় না৷ তাহলে ও আবিরকে কি উত্তর দিবে? জান্নাত নিশ্চুপ হয়ে শুধু ভাবছে। কারণ প্রশ্নটা খুব জটিল। উত্তরটাও ঠিক সেভাবে দিতে হবে ওকে। জান্নাত কিছুক্ষণ ভেবে বলে,

~ কারণ আমি ওইসব মেয়েদের মতো না। আমার কাছে বাইরের সৌন্দর্য্যের থেকে একটা মানুষের ভিতরের সৌন্দর্য্যটা কেমন সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বাহির যেমনই হোক আপনার ভিতরের মানুষটা অনেক সৎ আর পরিশ্রমি। তাই এত ভালো মানুষের পাশে যদি আমি একটু দাঁড়াবার সুযোগ পাই তাহলে সেই সুযোগটা আমি কেন হাতছাড়া করবো বলুন তো? তাছাড়া আরেকটি বিষয় আছে। সেটা নাহয় কোন একদিন সঠিক সময় আসলে বলবো। আজ এটুকু জানুন৷

আমি জান্নাতের উত্তরে মুগ্ধ হলাম। এরকম একটা মেয়ের সঙ্গই চাচ্ছিলাম জীবনে। কিন্তু জানি আমাদের পথচলা কখনো এক হবে না। আমি মুচকি হাসলাম আর বললাম,

— তুমি জীবনে অনেক হ্যাপি হও, তোমার সব ইচ্ছাগুলো মহান আল্লাহ তায়ালা পূরণ করুক।
~ আমিন।
— আর একটা কথা বলি?
~ জি জি অবশ্যই। আপনি বলতে থাকুন। আপনাকে শুনতে অনেক ভালো লাগছে।
— পারলে নামাজ এবং পর্দাটা ঠিক মতো মানার চেষ্টা করো। দেখবে জীবনটা আরও বেশি সুন্দর হয়ে গিয়েছে। এই আধুনিক চাকচিক্যময় জীবন ক্ষনিকের জন্য। আমাদের সবার একদিন চলে যেতে হবে সেই মহান আল্লাহর কাছে। তার কাছে যেন আমরা খালি হাতে না যাই, তারজন্য দিনের পথেও চলতে হবে৷ আশা করি আমার কথাটা রাখবে।

জান্নাত একটু চুপ থেকে বলে,

~ ঠিক আছে। আপনি বলেছেন তো আমি আর অবহেলা করবো না। আব্বু আম্মুও আমাকে বলতো৷ পাত্তা দেই নি। কিন্তু আপনার কথা আমি ফেলতো পারবো না৷ এরপরে যখন আমাকে দেখবেন, এক নতুন জান্নাত আপনার সামনে এসে দাঁড়াবে৷ দোয়া করবেন৷
— ইনশাআল্লাহ। আজ তাহলে রাখি। আল্লাহ হাফেজ।
~ আল্লাহ হাফেজ।

জান্নাত ফোনটা রেখে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। নিজেকে কিছুক্ষণ ভালো করে দেখে। তারপর একটা বড়ো ওড়না এনে হিজাবের মতো করে পরে। ও অবাক হয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে আছে। পর্দা করা অবস্থায় ওকে বেশি ভালো লাগছে। জান্নাত নিজেকে দেখে নিজেই মুগ্ধ হয়ে যায়। ও মনে মনে আবিরকে অসংখ্য ধন্যবাদ দেয়। আর সিদ্ধান্ত নেয় এবার ও পরিবর্তন হবে। জান্নাত ওর মায়ের কাছে চলে যায়। ওর মা কিচেনে কি যেন করছিলেন।

~ মা মা একটা কথা ছিল।
~ হুম বল। (কাজ করতে করতে)
~ আমাকে নিয়ে কালকে একটু শপিং এ যাবে?
~ কি! তুই আমাকে নিয়ে শপিং এ যাবি? এমনি তো সবসময় বান্ধবীদের সাথে যাস। এবার আমাকে কেন? (অবাক হয়ে)
~ আসলে কয়েকটা বোরখা আর হিজাব কিনতাম। তোমার তো এগুলো নিয়ে ভালো আইডিয়া আছে আমার তো তেমন কোন ধারণাই নেই তাই আরকি।

জান্নাতের মা হা করে তাকিয়ে আছেন ওর কথা শুনে। তিনি তার নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। ওনার এত সুন্দরী স্টাইলিশ মেয়ে হঠাৎ করে ভালো হয়ে যেতে চাচ্ছে! উনি জান্নাতকে ধরে জিজ্ঞেস করলেন,

~ মা তুই ঠিক আছিস তো? কি হয়েছে তোর? হঠাৎ করে এত বড়ো পরিবর্তন কিভাবে?

জান্নাত মুচকি হেসে ওর মাকে জড়িয়ে ধরে বলে,

~ তোমার মেয়েকে কেউ একজন বলেছে। যেটা তার মনে লেগেছে। আর তাছাড়া এটা আমার দায়িত্ব একজন মুসলিম মেয়ে হিসেবে। এতদিন মানি নি তারজন্য আল্লাহর কাছে আমি অনেক ক্ষমাপ্রার্থী। জানি না তিঁনি মাফ করবেন কিনা। তবে জীবনের বাকি সময়টা ভালো ভাবেই চলতে চাই।
~ মাশাল্লাহ। তা কে আমার মেয়েকে এত তাড়াতাড়ি পরিবর্তন করে দিল?
~ আছে একজন। সময় হলে বলবো। আচ্ছা ভালো কথা, আমরা একটা স্যার পেয়েছি। মরিয়মকে চিনো না? ওর ভাইয়ের কাছে পড়বো। ঢাবির স্টুডেন্ট সে। অনেক ভালো পড়ায় নাকি।
~ কি বলিস! মরিয়মের ভাই কোথা থেকে আসলো?
~ সে অনেক বড়ো কাহিনি। অন্য সময় বলবো।
~ আচ্ছা বলিস কিন্তু।
~ আচ্ছা। তাহলে আমি যাই। আমার ফ্রেন্ডসদেরকেও বলে আসি যে নতুন স্যার পেয়েছি।
~ ঠিক আছে মা। কাল তোকে নিয়ে শপিং এ যাবোনি চিন্তা করিস না৷
~ আচ্ছা৷

এরপর জান্নাত ওর বান্ধবীদের সাথে কথা বলে তাদেরকে ভালো ভাবে বুঝিয়ে ম্যানেজ করে ফেলে। পরদিন জান্নাত ওর মাকে নিয়ে একসাথে শপিং এ গিয়ে বোরখা আর হিজাব কিনে আনে। নেক্সট দিনে ও ভার্সিটিতে বোরখা আর হিজাব পরে যায়। মরিয়ম ক্লাসে দাঁড়িয়ে ওদের গ্রুপের মেয়েদের সাথে ক্লাস নিয়েই কথা বলছিল। হঠাৎ জান্নাত এসে জিজ্ঞেস করলো,

~ কিরে কেমন আছিস তোরা?
~ তুমি কে? ঠিক চিনলাম নাতো। (মরিয়ম)
~ আমার কণ্ঠ শুনেও আমাকে চিনিস নি?
~ কিহ! জান্নাত তুই? (সবাই)
~ হ্যাঁ রে পাগলিরা আমি।

মরিয়মসহ অন্য মেয়েরা সবাই হা করে তাকিয়ে আছে জান্নাতকে দেখে৷ মরিয়ম জিজ্ঞেস করে,

~ দোস্ত কিভাবে কি? হঠাৎ এত পরিবর্তন?
~ দরকার ছিল আগেই। কিন্তু তখন বুঝিনি জীবনটা আসলে কেমন। এখন বুঝছি। আল্লাহ আমাদের এত সুন্দর করে বানিয়েছেন আর আমরা কি করছি? সারাদিন পাপই করে যাচ্ছি। তাই পরিবর্তন তো আনতেই হবে৷ নাহলে দুনিয়া থেকে কি নিয়ে যাবো বল? আমি বলি তোরাও আমার মতো হয়ে যা। দেখবি অনেক ভালো লাগবে৷
~ হ্যাঁ দোস্ত সত্যিই বলছিস। তোকে কিন্তু মানিয়েছে। আমাদেরও উচিৎ পর্দা করা। আমরাও কালকে থেকে পর্দা করবো।
~ শুধু পর্দা করলেই চলবে না। নামাজও পড়তে হবে কিন্তু।
~ ঠিক আছে দোস্ত।

মরিয়ম জান্নাতকে নিয়ে একপাশে এনে জিজ্ঞেস করে,

~ দোস্ত সত্যি করে বলতো এই পরিবর্তনের কারণ কি? আর কে বলেছে তোকে এসব করতে?
~ কাউকে বলবি না তো?
~ তুই আমাকে বিশ্বাস করিস না?
~ আচ্ছা বলছি। তোর ভাইটা বলেছে। আমার মনে ধরেছে ওনার কথাগুলো।
~ আবির ভাইয়া?
~ হুম।(লজ্জাসিক্ত কণ্ঠে)
~ বাহ! ভিতরে ভিতরে তাহলে এসব চলছে? ভালো ভালো চালিয়ে যা। আমার কোন সমস্যা নেই। হিহি।
~ আরে কি যে বলছিস না! উনি অনেক ভালো একটা মানুষ। প্রেম, ভালবাসা কিংবা আমার প্রতি তার কোন ওরকম আকর্ষণই নেই। আমি শুধু অপেক্ষায় আছি ওনার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। তারপর নাহয়…
~ বান্ধপীটা আমার…

মরিয়ম খুব খুশি হয়ে জান্নাতকে জড়িয়ে ধরে। এরপর ওরা আরও অনেক কথা বলে। সেদিনের পর দেখতে দেখতে এক তারিখ চলে আসে। আছরের নামাজের ঠিক পর পরই আমি ক্লাস নিব বলে জানিয়ে দিলাম। ওরা সেভাবেই সবাই চলে আসে। আমি জান্নাতকে দেখে পুরো থমকে যাই। ওকে চিনাই যাচ্ছিলো না৷ একদম সুন্দর করে পর্দা করে এসেছে। সাথে ওদের প্রতিটি বান্ধবীরাও। যার ফলে আমার জন্য সুবিধা হলো। সবাই বসলে আমি আমার পরিচয় দিলাম৷

— আমি আবির আহমেদ। ঢাবি থেকে বিবিএ এবং এম এ শেষ করেছি। আজ থেকে আমিই তোমাদের পড়াবো। সবাই আমাকে আবির ভাইয়া বলেই সম্মোধন করো। স্যার বলতে হবে না। আর যেকোন প্রকার পড়াশোনা রিলেটেড সমস্যা হলে আমাকে কোন সংকোচ ছাড়া বলবে। এতগুলো টাকা দিয়ে আমার কাছে পড়ছো, কোন ভাবেই ফাঁকি দেওয়া যাবে না। কারণ তোমাদের বাবা-মা এই টাকা গুলো অনেক কষ্ট করে আয় করেন। তাই নো অবহেলা। আর একটা কথা আগেই বলে দিলাম, আমার ডান হাতটা কিন্তু প্যারালাইজড। বলতে পারো অকেজো। তবে তাই বলে আমার হাতের জন্য তোমাদের পড়ায় কোন বিন্দু পরিমাণ সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ। কি তোমরা মন দিয়ে পড়বে তো?
~ জি ভাইয়া। (সবাই একসাথে)
~ থ্যাঙ্কিউ।

সবাই মুগ্ধ হয়ে আমার কথা শুনছিল। বাইরে যে তাদের অভিভাবকও উপস্থিত ছিল সেটা আমার জানাই ছিল না। কয়েকজন এসে আমার অনেক প্রশংসা করে তাদের মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব আমার কাঁধে দিয়ে চলে গেলেন। আমি তা গ্রহণ করে মহান আল্লাহর নাম নিয়ে ওদের পড়াতে শুরু করলাম।

সেদিনের পর টানা চার মাস কেটে যায়। এর মাঝে প্রথম মাসের বেতন পেয়ে বাবার টাকাটা তাকে ফেরত দিয়ে দিয়েছি। সাথে বাবাকে একটা পাঞ্জাবি, মাকে একটা শাড়ী আর বোনকে একটা ওর পছন্দের ড্রেস কিনে দিয়েছিলাম। আমার খুব ইচ্ছা ছিল আমার প্রথম ইনকাম দিয়ে আমার পরিবারের জন্য কিছু কিনবো। আপন পরিবারের সাথে তো পারলাম না, এবার না হয় আমার এই নতুন পরিবারের সাথেই ইচ্ছাটা পূরণ করা যাক। বাবা আর মা প্রচন্ড খুশি হলেন। আমি আজও বুঝতে পারি না তারা কিভাবে আমাকে এত ভালবাসেন৷ যেখানে আমি তাদের আপন ছেলেই না। খুব খুশি হয়েছিলেন সবাই আমার কাছ থেকে এগুলা পেয়ে। ওহ হ্যাঁ জান্নাতকেও একটা জিনিস গিফট করেছিলাম। সেটা ছিল একটা নেকলেস। জান্নাত নেকলেসটা পেয়ে অসম্ভব খুশি হয়েছিল। ও এরপর থেকে প্রতিদিন নাকি এটাই পরে থাকতো। মরিয়ম বলেছিল আমায়। আমি পড়াতে পড়াতে ওদের মিডটার্ম পরীক্ষা শুরু হয়। আমার কাছে যারা পড়েছিল তারা প্রত্যেকে অনেক ভালো রেজাল্ট করে। পুরো ক্লাসে খবর হয়ে যায় ব্যাপারটা। আমাদের জান্নাত এই সুযোগে সবার কাছে আমার কথা বলে দেয়। ব্যাস কাজ শেষ। পরদিন আরও পনেরো জন এসে উপস্থিত। আমি পুরো থ। তারাও আমার কাছে পড়বে। আমি না করি নি। আরও টেবিল চেয়ার সংখ্যা বাড়লো। পড়াতে লাগলাম। ধীরে ধীরে আরও স্টুডেন্ট আসতে শুরু করলো। বিকেলে ব্যাচে জায়গা হয় না বলে এবার শুরু হলো দুপুরের। মানে যোহরের ঠিক পর পরই। দেখতে দেখতে প্রায় ৫০/৬০ জন্ স্টুডেন্ট হয়ে গেল আমার। এত স্টুডেন্ট হওয়ায় আমি বেতন বাড়াই নি। উল্টো এক হাজার টাকা কমিয়ে দিয়েছি। যার জন্য সবাই আরও খুশি মনে পড়ছিল। এভাবে দিন যেতে থাকে। স্টুডেন্টদের পড়ানোর পাশাপাশি আমি মাঝে মাঝে বাবাকে বিজনেসে হেল্প করতাম। যেমন বিভিন্ন প্রজেক্ট আসলে আমিই সেগুলো পরীক্ষা করে দেখতাম যে এই প্রজেক্টে কাজ করলে আমাদের কোম্পানির লাভ হবে নাকি লস। আমার দেওয়া সিদ্ধান্তেই বাবা কাজ করতেন। এবং কোম্পানি অনেক মুনাফা করতে লাগলো। এভাবে আস্তে আস্তে বাবাকেও তার বিজনেসে সাহায্য করছি সাথে আমিও টাকা আয় করছিলাম। প্রায় এক বছর কেটে যায়। স্টুডেন্ট পড়িয়ে মাসে মাসে অনেক টাকা আসছিল৷ টাকাগুলো সব ব্যাংকে জমা হচ্ছিলো। এই এক বছরে প্রায় ব্যাংকে ২২ লক্ষ টাকা জমে যায়। আমি পুরো সকড। প্রচন্ড খুশি লাগছিলো। এতগুলো টাকা আমার। বাবা নিজেও অনেক খুশি। আমি আবার বাবার কাছে যাই। কারণ এবার আমার আসল স্বপ্ন পূরণে বাবার কাছ থেকে একটু সাহায্য লাগবে। আমি বাবার সামনে বসে আছি। বাবা বললেন,

— হুম বল কি বলবি…

আমি বলতে শুরু করলাম….

চলবে..?

(বিঃদ্রঃ আগামী কালকে এই গল্পের ইতি টানা হবে ইনশাআল্লাহ।)

সবার ভালো সাড়া চাই তাহলে খুব তাড়াতাড়ি পরবর্তী পর্ব দেওয়া হবে। আর কেমন লেগেছে জানাবেন কিন্তু। আগের এবং পরবর্তী পর্বের লিংক কমেন্ট দেওয়া হবে। ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here