প্রজাপতির_রং🦋 Bonous_Part

0
207

প্রজাপতির_রং🦋
Bonous_Part
#Writer_NOVA

—আরে রোশান দেওয়ান যে!!!!

রোশানের কথা শুনে সবাই দ্রুত গতিতে দরজার দিকে তাকালো।তাকিয়ে দেখলো সেখানে কেউ নেই। এনাজ ওদের বোকা বানিয়েছে।সেই ফাঁকে এনাজ মোরশেদের হাত থেকে গান কেড়ে নিয়ে পেছন থেকে একহাতে ওর গলা জড়িয়ে ধরে আরেক হাতে মাথায় গান তাক করে ধরলো।

এনাজঃ কেউ কাছে আসার চেষ্টা করলে সোজা ওপরে পাঠিয়ে দিবো।

সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার রোশান সত্যি সত্যি এসে পুরো প্লানটাই চৌপট করে দিলো।বাইরে থেকে দৌড়ে এসে দরজা দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে বললো।

রোশানঃ আমার নোভা কোথায়? তোমরা ওর কোন ক্ষতি করো না প্লিজ।

দরজা দিয়ে দ্রুত গতিতে ঢুকতে ঢুকতে রোশান কথাগুলো বললো।সবার নজর এখন রোশানের দিকে।সেই সুযোগে মোরশেদ ওয়াসিম সেম এনাজের মতো করে নিজেকে ছাড়িয়ে গান হাতে নিয়ে নিলো।তারপর এনাজের মাথায় ঠেকালো।সাইমন দৌড়ে গিয়ে রিভেলবার হাতে রোশানের মাথায় ঠেকালো।রোশান আগাগোড়া কিছু না বুঝে বোকার মতো তাকিয়ে রইলো।

এনাজঃ রোশান বাবু,আরেকটু পর এলে কি হতো?(রেগে)

তায়াংঃ দিলেন তো আমাদের সব প্ল্যানে জল ঢেলে।

রোশানঃ আমি কি করলাম? আর তোমরাই বা কে? ওহ্ তোমাকে তো চিনতে পেরেছি। মুরাদ সাহেবের বড় ছেলে তাজরান।কিন্তু তোমার সাথেরটা কে?

এনাজঃ আমি এনাজ।নোভার স্বামী। আর ও আমার বন্ধু প্লাস নোভার খালাতো ভাই তায়াং😊।

এনাজের নাম শুনে রোশানের চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেলো।অবিশ্বাস্য চোখে বললো।

রোশানঃ এনাজ তো মারা গেছে। তুমি মিথ্যে কেন বলছো?তুমি তো তাজ!!!

তায়াংঃ সত্য-মিথ্যের বিচার পরে হবে। আগে এদের সাথে লড়াই করেন।

কথাগুলো বলে তায়াং ভাইয়া ওর সামনে থাকা লোকটার পেটে একটা লাথি মারলো।এনাজ দুই হাত নাড়িয়ে অনেকটা কুংফু স্টাইলে মোরশেদের হাত থেকে গানটা ফেলে দিলো।রোশান কিছু সময় এদিক সেদিক তাকিয়ে বোকার মতো সাইমনের দিকে তাকালো। তারপর এক ঘুষিতে সাইমনকে দূরে পাঠিয়ে দিলো।সাইমনের নাকের তেরটা তো তায়াং আগেই বাজিয়ে ছিলো।নতুন করে রোশান বাজালো।সাইমন ভেবেছিলো রোশান ফাইট করতে পারে না।অথচ সাইমন তো জানে না রোশান ছোটবেলা থেকে এসবে দক্ষ।আমি চেয়ারে বসে বসে ওদের ফাইট দেখছি।এখন পপকর্ণ হলে খারাপ হতো না।বসে থাকতে থাকতে আমার কোমড়ের হাড্ডি বাঁকা হয়ে গেলো।হাত দুটো রশি দিয়ে বেঁধে রাখার কারণে অবশ হয়ে আসছে।কিন্তু আমাকে এখান থেকে ছুটানোর প্রয়োজন কেউ মনে করছে না।কিন্তু এর মধ্যে ঘটলো এক বিপত্তি। সাইমন সুযোগ বুঝে আবারো রিভেলবার তুলে এনাজের দিকে তাক করে বললো।

সাইমনঃ সবাই থেমে যাও।নয়তো একে শেষ করে দিবো।আমি বলছি থেমে যাও।

রোশান থেমে গিয়ে হাত দুটো ওপরের দিকে তুলে ফেললো।কিন্তু তায়াং ভাইয়া এখনো থামছে না।মোরশেদকে মেরেই যাচ্ছে। সেটা দেখে সাইমন আবারো হুংকার দিলো।

সাইমনঃ তায়াং থাম বলছি।নয়তো একে মেরে ফেলবো।

তায়াংঃ মারবি যখন মার।এত বারবার বলার কি আছে?

তায়াং ভাইয়ার এমন হেয়ালি মার্কা কথাবার্তা শুনে আমার ভয় করছে।যদি সত্যি এনাজকে মেরে ফেলে।
তাহলে এবার সত্যি সত্যি বিধবা হয়ে যাবো।আমার ছেলেটা পুরোপুরি বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হবে।আল্লাহ জানে নাভান কেমন আছে?আমার ছেলেটা ভালো থাকলেই চলবে।নাভান ভালো থাকলে আমি আজ এখান থেকে বেচে না ফিরলেও আমার কোন দুঃখ নেই।

সাইমন সিরিয়াস ভঙ্গিতে রিভেলবারের ট্রিগার চেপে ধরলো।আমি চোখ বন্ধ করে দরুদ পড়ছি আর আল্লাহ কে ডাকছি।গুলির শব্দ না পেয়ে পিটপিট করে তাকাতে দেখতে পেলাম সাইমন ট্রিগার চেপে গুলি করার চেষ্টা করছে কিন্তু হচ্ছে না। সেটা দেখে এনাজ, তায়াং দুজনেই হাসছে।

তায়াংঃ সো স্যাড সাইমন বাবু।রিভেলবারে একটা বুলেটও নেই। সব বুলেট আমার পকেটে।

সাইমন পুরো আহাম্মক। রিভেলবারে একটা বুলেটও নেই আর সে এটা এতক্ষণেও টের পেলো না। আর তায়াং তখন থেকে এই রিভেলবার নিয়ে ওদের এরকম বোকা বানালো।এনাজ সাইমনের হাত থেকে রিভেলবার ফেলে এলোপাতাড়ি ওকে মারতে লাগলো।রোশানও ওদের লোকদের মারছে।এখন তায়াং ভাইয়া মোরশেদের হাতে মার খাচ্ছে। হঠাৎ সাইমন চিৎকার করে উঠলো।

সাইমনঃ ভাইয়াআআআআআআআ!!!

🦋🦋🦋

ওর চিৎকারে সবাই ওর দিকে তাকালো। আমার চোখ কপালে।সাইমনের গলা বেয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত পরছে। আমি এনাজের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলাম ওর হাতে রক্তাক্ত ছোট একটা ধারালো ব্লেড।যেটা ও কিছু সময় আগে চুল থেকে বের করেছে।সাইমন ধপ করে নিচে পরে গেল।মোরশেদ দৌড়ে সাইমনের কাছে ছুটে এলো।সাইমনের মাথাটা নিজের কোলে নিয়ে ব্যস্ত ভঙ্গিতে পাগালোর মতো বলতে লাগলো।

মোরশেদঃ ভাই তোর কি হয়েছে? ভাই, কথা বল তুই। তোর কিছু হতে দিবো না আমি।তোর কিছু হবে না।

মোরশেদ সাহেব সাইমনের নাকের সামনে দুই আঙুল রেখে সাইমন বলে চিৎকার করে উঠলো।এনাজ ওর সামনে এক হাঁটু মুরে বসলো।

এনাজঃ তোর ভাই আর নেই রে।অনেক ভালো ছেলে ছিলো।আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ওর জন্য।মন খারাপ করিস না।পৃথিবীতে কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না।কষ্ট পাস না।একটু পর তুইও ওর সাথে চলে যাবি।দুজন একসাথে দেখা করতে পারবি।তোর ভাই আগে গিয়েছে। তুই না হয় একটু পরে যা।

এনাজের এসব গা জ্বালানো কথা শুনে মোরশেদ রেগে কাঁদতে কাঁদতে চেচিয়ে বললো।

মোরশেদঃ তোকে জিন্দা ছাড়বো না আমি।

এনাজঃ আমি ওকে বেশি কিছু করিনি তো।যাস্ট একটা গলা বরাবরি ব্লেডটা দিয়ে পোঁচ দিয়েছি।সাথে সাথে পরপারে।তোর সানগ্লাসে চুল ঠিক করতে করতে যে চুলের মধ্যে ব্লেডটা লুকালাম তাও দেখতে পাসনি? এতো কাঁচা খেলোয়াড় হয়ে খেলতে কেন নেমেছিস?আমরা দুই বন্ধু তো তোদের দুই ভাইকে কিভাবে মারবো তার প্ল্যান করেই এসেছি।

মোরশেদঃ আমি তোকে ছাড়বো না এনাজ।(চিৎকার করে)

এনাজঃ কেন রে খুব কষ্ট হচ্ছে? খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে? আমারো হয়েছিল। যখন তুই আমার ছোট ভাইকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলি।সেদিন তায়াং না থাকলে তো মেরেই ফেলতি।তাই তো ওকে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে দিয়েছি আমি।নিজের ফ্ল্যাটটাও বিক্রি করে দিয়েছি।যাতে ওর কোন খোঁজ না পাস।আমার ভাই আড়াই বছর ধরে আমার চোখের আড়ালে।আমার স্ত্রীর থেকেও দূরে রেখেছিস।মরতে মরতে বেঁচে গেছি আমি।জিন্দা লাশ হয়ে ছিলাম।আমার ভেতরের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছিলো।

এনামকে একবার কিছু লোক মেরে গুরতর আহত করে রাস্তায় ফেলে গিয়েছিলো। ভাগ্যক্রমে তায়াং ভাইয়া সেদিন ঐ রাস্তা দিয়ে ফিরছিলো।দূর থেকে কিছু ছেলেকে কাউকে মারতে দেখে দৌড়ে যায়।তায়াং ভাইয়াকে দেখে ওরা পালিয়ে যায়। তায়াং ভাইয়া গিয়ে দেখে সেটা এনাম।দ্রুত ওকে হসপিটালে ভর্তি করে।সেই মাসেই এনাম অস্ট্রেলিয়া চলে যায়।এসব কথা আমি আগে জানতাম না।কয়েক দিন আগে তায়াং ভাইয়া বলেছিলো।

সাইমনের গলার কাছ দিয়ে সরু রক্তের ধারা বইছে।আমার মাথা ঘুরাচ্ছে তা দেখে।নিজের চোখের সামনে এরকম মৃত্যু দেখলাম।তাও আবার আমার স্বামীর হাতে হয়েছে।সাইমন যতই খারাপ হোক।আমি ওর মৃত্যু এভাবে চাইনি।মোরশেদ সাহেব সাইমনকে ছেড়ে এনাজের সাথে ফাইট করা শুরু করলো।আমার এসব দেখতে আর ভালো লাগছে না। তাই আমি অন্য দিকে চেয়ে রইলাম।হঠাৎ একটা গুলির শব্দে সব নিশ্চুপ হয়ে গেলো।আমি ভয় পেয়ে চট করে সেদিকে তাকালাম।মোরশেদ ওয়াসিম মুখ থুবড়ে নিচে পরে গেলো।রোশানের হাতে থাকা গানের থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমি বিস্ফোরিত চোখে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।তায়াং ভাইয়া,এনাজও অবাক।মোরশেদের সাঙ্গপাঙ্গরা দৌড়ে পালাতে নিলে সবকটা কে ধরে আচ্ছা পিটুনি দিলো। রোশান গানটা মোরশেদ ওয়াসিমের সামনে ফেলে দৌড়ে আমার কাছে এসে হাতের বাঁধন খুলতে লাগলো।

রোশানঃ তুমি ঠিক আছো তো? তোমার কোথাও লাগেনি তো? আমি পুরো পাগল হয়ে গেছিলাম।

তায়াংঃ কি করলেন আপনি এটা?

রোশানঃ আপনাদের যা করার দরকার ছিলো তা আমি করে দিলাম।

এনাজঃ আপনি মারলেন কেন? ওর সাথে শত্রুতা আমাদের,আপনার নয়।

রোশানঃ ও আমার পাখিকে এখানে আটকে রেখে কষ্ট দিয়েছে। তাই মেরে ফেলছি।আপনারা কোন টেনশন করো না। আমার আইনমন্ত্রীর সাথে ভালো সম্পর্ক আছে। আমি সব সামলে নিবো।

তায়াংঃ তার কোন দরকার নেই। আমিই ইনফর্ম করে দিচ্ছি দুই পক্ষ পাল্টা গোলাগুলিতে মোরশেদ নিহত হয়েছে।

🦋🦋🦋

তায়াং ভাইয়া সামনে থেকে সরে গিয়ে পকেট থেকে মোবাইল বের করলো।তারপর তার আন্ডারে থাকা কর্মীদের কল করে এখানে চলে আসতে বললো।মোরশেদের বাকি সাঙ্গপাঙ্গরা একেকজন আহত হয়ে এদিক সেদিক পরে আছে। রোশান আমার বাঁধন খুলে হাত ধরে দাঁড় করালো।এনাজ এসে এক ঝাটকায় রোশানের হাত থেকে আমার হাত ছাড়িয়ে নিজে ধরে নিলো।

এনাজঃ আমাদের সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ। তবে আমার বউয়ের দিকে নজর না দিলেই খুশি হই।ওকে সামলানোর জন্য আমি আছি।

রোশানঃ নোভা,ও কি তোমার এনাজ?

দুজনের মুখেই রাগ স্পষ্ট। আমি একবার এনাজের দিকে তাকাই আরেকবার রোশানের দিকে।

রোশানঃ কি হলো বলো?

আমি উপর নিচ করে মাথা ঝাঁকালাম। রোশান তীক্ষ্ম চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এনাজের মুখে বিজয়ের হাসি।

রোশানঃ সত্যি এটা তোমার এনাজ?

আমিঃ হুম।

রোশানঃ তাহলে এতদিন আমায় কেন বলোনি?

আমিঃ আমি নিজেই জানতাম না আপনাকে কি বলবো?(বিরবির করে)

রোশানঃ কি বিরবির করছো? স্পষ্ট করে বলো।(রেগে+ চিৎকার করে)

এনাজঃ আস্তে কথা বলুন।আমাদের সাহায্য করেছেন বলে যে আপনি আমার বাটারফ্লাইয়ের সাথে যা খুশি তা ব্যবহার করবেন তা কিন্তু আমি টলারেট করবো না।

রোশানঃ আপনি চুপ করুন।আমি আপনার সাথে কথা বলছি না।

এনাজঃ এ পাগল হয়ে গেছে। চলো তো বাটারফ্লাই।

এনাজ আমার এক হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো।তখুনি আমার আরেক হাতে টান পরলো।আমি পেছন তাকিয়ে দেখি রোশান অন্য দিকে ঘুরে শক্ত করে আমার হাত ধরে আছে। আমি থেমে যাওয়ায় এনাজ চেচিয়ে উঠলো।

এনাজঃ কি হলো থামলে কেন?

আমিঃ আমার হাত।( মুখ কুচোমুচো করে)

এনাজঃ রোশান ওর হাতটা ছাড়ুন।

রোশানঃ আমি ছাড়বো না। দেখি আপনি ওকে আমার কাছ থেকে কি করে নিয়ে যান?

এনাজঃ আমি ওর হাসবেন্ড। আমার পুরো অধিকার আছে ওর ওপর।

রোশানঃ গত আড়াই বছর এই অধিকারবোধটা কোথায় ছিলো আপনার, মিস্টার এনাজ?

এনাজঃ সেই কৈফিয়ত আমি আপনাকে দিবো না। ওর হাত ছেড়ে দিন।

রোশানঃ আমি ছাড়বো না।

দুজন আমার হাত ধরে তর্ক শুরু করে দিয়েছে।আমি অসহায়ের মতো কিছুখন এনাজের দিকে কিছুখন রোশানের দিকে তাকাচ্ছি। বিশ্বাস করেন রাসেল ভাই,আমার এখন “ফুল নেবো নাকি অশ্রু নেবো” মুভির ঐ গানটা অনেক মনে পরছে।”বিধি তুমি বলে দাও আমি কার?” মুহূর্তে কল্পনার জগতে চলে গেলাম।আমি এই গানটা গাইছি।

আমিঃ বিধি তুমি বলে দেও আমি কার? দুটি মানুষ একটি মনের দাবিদার।

রোশানঃ আমি পৃথিবীর এই বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিবো, তুমি যদি আমারি না হও।

এনাজঃ তুমি বিশ্বাসঘাতকতা করো না প্রিয়া।আমি ছাড়া তুমি কারো নও।

হঠাৎ একটা গুলির শব্দে আমার কল্পানার জগৎ হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।আমার তো কোনদিকে হুশ ছিলো না। হুট করে তায়াং ভাইয়ার কথা মনে পরলো।তায়াং ভাইয়া তো এখানেই ছিলো।সে কোথায় গেল?গুলির শব্দে তিনজন চমকে উঠলাম।আমি এদিক সেদিক তাকিয়ে আৎকে উঠলাম।এনাজ, রোশানের থেকে হাত ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে চোখ বন্ধ করে জোরে চিৎকার করে বলে উঠলাম।

আমিঃ তায়াং ভাইয়া!!!!

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here