প্রজাপতির_রং🦋 Part_18

0
228

প্রজাপতির_রং🦋
Part_18
#Writer_NOVA

—- হ্যালো লিসেনার।গুড আফটারনোন।আপনারা টিউন করে আছেন ঢাকা এফএম 90.04 ।আপনাদের শো “লাভ কমপ্লেন” নিয়ে লাভ কুইন নোভানাজ আছি আপনাদের সাথে। ফিরলাম বিজ্ঞাপন বিরতির পরপরি।ভালোবাসা নিয়ে আপনাদের কি কি অভিযোগ আছে তা আমাকে জলদী জলদী করে টেক্সট বা কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।আমি সেই অভিযোগ গুলোর সলিউশন দেওয়ার চেষ্টা করবো।তাহলে দেরী কিসের? ভালোবাসার বিরুদ্ধে কিংবা আপনার gf বা bf এর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো করে ফেলুন চটজলদি। কথা না বলে আমি এখন কতগুলো টেক্সট পরবো।রাজশাহী থেকে সুবর্ণা আছে আমাদের সাথে। সে বলেছে আপু,একজনকে আমি অনেক ভালোবাসি কিন্তু সে আমাকে বুঝতে চায় না।ওহ সো স্যাড সূবর্ণা।তুমি নিজেকে আরেকটু ফোকাস করো তার দিকে।তাকে বোঝাও যে তুমি তাকে ভালোবাসো।তাহলে হয়তো সে তোমায় বুঝতেও পারে।তার আগে খোঁজ নিয়ে দেখো সে অন্য কাউকে ভালোবাসে কিনা।ছেলেরা কিন্তু কাউকে সত্যিকারে ভালোবাসলে অন্য কোন মেয়ের দিকে নজর দেয় না।আই হোপ তুমি তার বিষয়ে খোঁজ নিবো।গাজীপুর থেকে চঞ্চল আছে।সে বলছে একজনকে অনেক ভালোবাসতাম আপু।কিন্তু সে আমার ভালোবাসাকে পাগলামি ভেবে ছেড়ে চলে গেছে। এখন আর ভালোবাসার প্রতি কোন ইন্টারেস্ট নেই। চঞ্চল ভাইয়া আপনাকে বলতে চাই একটা কথা। যা আমার তা কিন্তু আমারই।যা আমার নয় তা কখনো আমার ছিলো না আর কখনো হবেই না।আপনার ভালোবাসার মানুষটাও হয়তো আপনার নয়।তাই সে আপনার হয়নি।আর কে টেক্সট করছে আমাকে।আর কে আছে? পেয়েছি, ধানমন্ডি থেকে সজল আছে আমাদের সাথে। আপু তাকে অনেক ভালোবাসতাম।নিজের সবটুকু দিয়ে। কিন্তু সে আমাকে ঠকিয়েছে।আমার ভালোবাসাকে তুচ্ছ করে টাকাওয়ালা ছেলেকে বিয়ে করে বিদেশে স্যাটেল হয়েছে। এখন ভালোবাসাটা সিগারেটের মধ্যেই খুঁজে নিয়েছি।ভাইয়া কি বলবো খুঁজতেছি।অতিরিক্ত সবকিছুই অসহ্যকর।অতিরিক্ত কিছুই ভালো না।তেমনি ভালোবাসাটা অতিরিক্ত পেয়ে গেলে আমরা অবহেলা করি।যে আপনার ভালোবাসাকে তুচ্ছ করে অন্যকে বিয়ে করে সুখে আছে তাকে ভেবে নিকোটিনের ধূয়া টেনে নিজের ক্ষতি কেন করবেন ভাইয়া? দিস ইজ নট ফেয়ার।এটা কিন্তু ঠিক নয়।

গলা শুকিয়ে আসছে। বোতল খুলে গলা ভিজিয়ে নিলাম।বাপরে, এই রেডিও স্টেশনে বকবক করতে করতে আমার জীবন শেষ। সারাদিন অফিস করে কার ভালো লাগে আবার এত বকবক করতে।কিচ্ছু করার নেই স্বামী বিদেশ🤷‍♀️।ওফস সরি,আমার স্বামী বিদেশ নয়।আজ তাজ অফিসে আসেনি।ফ্যাক্টেরীতে প্রোডাক্ট দেখতে গেছে। তার জন্য শান্তিতে একটু কাজ করতে পেরেছি। কিন্তু ওকে ভীষণ মিস করেছি।শত হোক আমার জামাই বলে কথা।বড় করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বকবক শুরু করলাম।

—- ভালোবাসা চার অক্ষরের একটা অপূর্ব শব্দ। যার মধ্যে লুকিয়ে আছে হাজার মান-অভিমান, ভালো লাগা,খারাপ লাগা, ভালোবাসার মানুষকে ঘিরে অন্যরকম অনুভূতি। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম অনুভূতির মধ্যে সর্বপ্রথমে এটা আছে।আমি তো আগেই বলেছি ভালোবাসা হলো প্রজাপতির মতো।হালকা করে ধরলে উড়ে যাবে,শক্ত করে ধরলে মরে যাবে আর যত্ন করলে কাছে রবে।আর এই ভালোবাসা নামক প্রজাপতির রং গুলো হলো,, রাগ, মান-অভিমান, রেসপেক্ট, বিশ্বাস,জেলাসি ফিল করা,কেয়ার,সবকিছুতে অধিকার দেখানো ইত্যাদি ।প্রজাপতি যেমন তার রং ছাড়া অসম্পূর্ণ। তেমনি ভালোবাসা নামক বস্তুটাও এসব ছাড়া অসম্পূর্ণ। সবাই কিন্তু একভাবে ভালোবাসতে পারে না।একেকজন ভালোবাসাটা একেকভাবে প্রকাশ করে।কারো ভালোবাসা প্রকাশটা কেয়ারিং -এর মধ্যে। কারো বা শাসনের মধ্যে, কারো রাগের মধ্যে। এক্ষেত্রে আমাদেরকে বুঝে নিতে হবে আমার ভালোবাসার মানুষটা আমাকে ঠিক কিভাবে ভালোবাসে।মেক্সিমাম মানুষ বুঝতে কিংবা ধরতে পারে না তার পার্টনার তাকে কোন এঙ্গেলে ভালোবাসে।যার কারণে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।সম্পর্কে ফাটল ধরে নষ্ট হয়ে যায়।সত্যি ভালোবাসার মানুষগুলো কখন তার ভালোবাসার অসম্মান করে না।হাজার চেষ্টা করবে আপনাকে তার করে রাখতে।তবে জানেন তো পৃথিবীতে একটা অদ্ভুত নিয়মে চলে।সেই নিয়মটা হলো,

” আমি যারে চাই, সে আমাকে চায় না।
যে আমাকে চায় তারে আমি চাই না। ”

এটা ১০০% সত্যি। আপনি যাকে ভালোবাসেন মন-প্রাণ দিয়ে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে অন্য কাউকে ভালোবাসে।আর যে আপনাকে ভালোবাসে তাকে আপনি ভালোবাসেন না।কিন্তু কি করার মনটা তো অন্য কাউকে দিয়ে বসে আছেন।চাইলেও ফেরাতে পারেন না।অনেক কথা হয়েছে। এখন কতগুলো কমেন্ট পরবো।আজকে এত কম টেক্সট ও কমেন্ট কেন আসছে।কেন কেন কেন আসছে হুম? আপনারা কি সবাই ঘুমিয়ে পরছেন? যদি ঘুমিয়ে পরেন তাহলে উঠুন জলদী করে আপনাদের অভিযোগ গুলো টেক্সট, কমেন্টও করে আমাকে জানিয়ে দিন।”পথহারা মুসাফির” নামক এক আইডি থেকে কমেন্ট করেছে।আপু, আজকাল ভালোবাসা হয় রূপ দেখে। কেউ গুণ দেখে করে না।কালো রংয়ের মানুষদের ভালোবাসতে মানা।গায়ের রং দিয়ে এখন ভালোবাসা বিবেচনা হয়।কালো রঙের বলে কেউ পছন্দ করে না।ফর্সা গায়ের রংটাই আজকাল সব।নব্বই দশকের সত্যিকারের ভালোবাসাটা এখন নেই আপু।

আপনি ছেলে না মেয়ে আই ডোন্ট নো। আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো আমি একটা একটা করে দিচ্ছি। প্রথম প্রশ্নের উত্তর —ভালোবাসা কখনো রূপ দেখে হয় না।ভালোবাসতে কখনো কারণ লাগে না।কোন রূপ লাগে না। কারণে-অকারণেই ভালোবাসা যায়।যেই ভালোবাসা রুপ দেখে হয় সেটা কখনো সত্যিকারের ভালোবাসা হতেই পারে না। সেটা যাস্ট রূপে মুগ্ধ হওয়া কিংবা মিথ্যে ভালোবাসা।যে আপনাকে সত্যি ভালোবাসবে তার কাছে আপনার চেহারার গঠন,গায়ের রং নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। সে পুরোটা দিয়ে শুধু আপনাকে চাইবে।তবে আমরা বেশিরভাগ সময় মরিচীকার পেছনে ছুটি।সত্যি ভালোবাসা চিনতেই পারি না।দুষ্টু লোকের মিষ্টি কথায় আকৃষ্ট হয়।কিন্তু সত্যি ভালোবাসার মানুষটার তেতো কথা হজম করতে পারি না।বুঝতে পারি না সে আমার ভালোর জন্য আমাকে শাসন করছে, তেতো কথা বলছে,উচিত কথাগুলো, পথগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।

আরেকটা প্রশ্নের উত্তর —কে বলেছে আপনাকে ভালোবাসা গুণ দিয়ে হয় না? এটা আপনার ভুল ধারণা। যে আপনাকে মন-প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসবে সে আপনাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে।আপনার গুণগুলোও সে হাজার দোষের ভিড়ে খুঁজে নিবে।ফর্সা গায়ের রং মোটেও সব নয়।যদি ফর্সা রংয়ে সব হতো তাহলে মানুষ রূপ ধুয়ে ধুয়ে পানি খেতো।পৃথিবীতে এত মেধা, গুণের কোন উৎসই থাকতো না। হ্যাঁ, এখন নব্বই দশকের প্রেম নেই।আমিও স্বীকার করি নেই। কেন নেই জানেন?কারণ এখন যুগ পাল্টিয়েছে।তার সাথে সাথে ভালোবাসার ধরণ, প্রকাশের ধরণও পাল্টে গেছে। ভালোবাসা নামক বস্তুটা যদি না থাকতো তাহলে কখনও আমরা টিকে থাকতে পারতাম না।যে আপনাকে ভালোবাসবে সে এমনি ভালোবাসবে।আপনার রূপে মুগ্ধ হয়ে নয়।বরং আপনার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েও হতে পারে।

সবশেষে আমি সবাইকে একটা কথা বলতে চাই। কেউ সবদিক থেকে ১০০% পারফেক্ট নয়।প্রত্যেকের মাঝে কিছু না কিছু খুঁত অবশ্যই আছে।তাই নিজেকে কখনো তুচ্ছ মনে করবেন না।আল্লাহর সৃষ্টি সবকিছু সুন্দর। গায়ের রংটা একটু চাপা হয়েছে তো কি হয়েছে? তাই বলে কি আমরা মানুষ নই।আপনার গায়ের রং কালো বলে আপনি মন খারাপ করবেন, বিষন্ন মনে থাকবেন।এটা কিন্তু ঠিক নয়। এতে তো আপনি আল্লাহর সৃষ্টিকে তুচ্ছ করছেন।তার সৃষ্টি কি কখনো খারাপ হতে পারে বলুন? উনি কত সুন্দর করে আমাদেরকে সৃষ্টি করেছে।আপনি যেরকম আছেন আল্লাহ আপনাকে যেরকম বানিয়েছেন তার জন্য বলুন আলহামদুলিল্লাহ। নিজেকে কখনো ছোট করে দেখবেন না।নিজেকে ছোট করা মানে আল্লাহর সৃষ্টিকে ছোট করে দেখা। আমিও কিন্তু সুন্দরী নই।আমার গায়ের রং শ্যামলা।তার জন্য আমি শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। আমাকে এভাবে ভালো দেখাবে বলেই আল্লাহ এভাবে সৃষ্টি করছে।আমার এক ফুফাতো ভাইয়া আমাকে সবসময় বলতো, “নোভা, কখনও নিজেকে ছোট করে দেখবে না।তুমি এভাবেই পার্ফেক্ট বলে আল্লাহ তোমাকে এভাবে সৃষ্টি করেছে। তুমি নিজেকে কালো মনে করে শুধু শুধু নিজেকে অপমান করছো আর আল্লাহর সৃষ্টিতে অসন্তুষ্ট হচ্ছো।তুমি যেরকম আছো তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলো।কতটা নিখুঁতভাবে সে তোমাকে সৃষ্টি করছে। আর তুমি নিজেকে কালো বলে দাবী করছো।তুমি কাজটা ভুল করছো” আমিও ভেবে দেখলাম সত্যিই তো।ভাইয়া যা বলছে তা পুরোটাই সত্যি।

একবার ভেবে দেখুন তো, আপনাকে চাইলে আল্লাহ একটা হাত না দিতে পারতো,একটা পা না দিতে পারতো।কিন্তু তা সে করেনি।সে আপনাকে পুরো সুস্থ, স্বাভাবিক করে তৈরি করেছে। গায়ের রংটা নাহয় একটু চাপা তাতে কি হয়েছে? আপনি কি ফেলে দেওয়া বস্তু হয়ে গেছেন।বরং কালো রঙের বলে আপনাকে যে কিরকম মায়াবী লাগে তা কি আপনি জানেন? ফর্সা ত্বকের মানুষের থেকে শ্যাম বর্ণের মানুষের মুখে একটু বেশি মায়া দিয়ে ঘেরা থাকে।আপনার বিশ্বাস না হলে আপনি একজন শ্যাম বর্ণের মানুষের দিকে পাঁচ মিনিট মনোযোগ সহকারে তাকিয়ে থেকেন।দেখবেন অন্য রকম একটা সৌন্দর্য খুঁজে পাবেন।তাই আমি বলবো নিজেকে তুচ্ছ করে দেখা বন্ধ করুন।আপনার গায়ের রংটা আপনার মেটার নয়।এট তো আপনি বানাননি।তাহলে কেন আপনি নিজেকে খারাপ ভাববেন?পৃথিবীর সব সৃষ্টিই সুন্দর। কারণ সবকিছুই মহান আল্লাহ তায়ালা নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী সৃষ্টি করেছে। গায়ের রং-এর দিকে না তাকিয়ে নিজের মনের দিকে নজর দিন।মনের দিক থেকে যে সুন্দর তাকেই সবাই ভালোবাসে।রূপ তো কিছু দিন কিন্তু ভালোবাসা চিরদিন।

দেস রাইট।আপনারা শুনছেন ঢাকা এফএম 90.04। চলছে লাভ কমপ্লেন।এবং চলবে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত।প্রতিদিন ৪টা থেকে ৬টা অব্দি আমি আর জে নোভানাজ থাকি আপনাদের সাথে। আপনাদের শো লাভ কমপ্লেন নিয়ে। এখন সময় ৫ টা বেজে ৪৭ মিনিট।আর ১৩ মিনিট আছি আপনাদের সাথে। এখন ছোট একটা বিজ্ঞাপন বিরতি নিবো।ফিরছি বিজ্ঞাপনের পরপরি।কোথাও যাবেন না।আমার সাথেই থাকুন, ঢাকা এফএমের সাথে থাকুন।আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে অভিযোগগুলো মনের মধ্যে জমিয়ে না রেখে টাইপ করে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন।আমি তার সলিউশন দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। ফিরছি বিজ্ঞাপন বিরতির পর।কোথাও হারিয়ে যেয়েন না কিন্তু আবার।

🦋🦋🦋

পরেরদিন…………..

দুপুরের প্রখর রোদে সবকিছু কিরকম ঝিমিয়ে গেছে। ক্যান্টিনে এসেছি দুপুরের খাবারের জন্য। মাথার ওপর চারটা ফ্যান ঘুরছে তারপরেও অসহ্যকর গুমোট একটা গরম অনুভূত হচ্ছে। ক্যান্টিনের জানালা দিয়ে বাইরের রাস্তার সবটা দেখা যায়। রাস্তায় দুটো কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে । সম্ভবত রিকাশার জন্য অপেক্ষা করছে।তারা একে অপরের সাথে হেসেখেলে কথা বলছে আবার কিছু সময় পরপর মেয়েটা ছেলেটাকে ইচ্ছে মতো পিঠে কিল,ঘুষি দিচ্ছে। ছেলেটা সুযোগ বুঝে মেয়েটার চুল টেনে দিচ্ছে। এদের দেখে তায়াং ভাইয়ার কথা মনে পরে গেলো।আমি আর তায়াং ভাইয়ার বন্ডিংটাও এমন ছিলো।এদের দেখে আমার একটা ঘটনার কথা মনে পরে গেল।একবার তায়াং ভাইয়ার হাতে যেই ধাওয়া খেয়েছিলাম।ভাইয়া আমাকে খুব ধমকি-ধামকি দিয়ে মানা করেছিলো কলেজে যেনো কোন ছেলের সাথে কথা না বলি।কিন্তু আমি একবার একটা ছেলেকে পটাতে গিয়েছিলাম।তখুনি ভাইয়ার যেই ধাওয়া খাইছিলাম তারপর কানে ধরছিলাম যে কোন ছেলের আশেপাশে থাকবো না।

ফ্লাশব্যাক……. ❣️

সবার ক্রাশবয়ের আলভীর সাথে কথা বলছিলাম।আসলে কথা নয় পটানোর চেষ্টা করছিলাম।একে নাকি কেউ পটাতে পারে না।তাই বান্ধবীদের সাথে বাজি ধরে আমি আসছি পটাইতে।হঠাৎ দেখি রোডের দিক থেকে তায়াং ভাইয়া ক্রিকেট স্ট্যাম্প নিয়ে আমার দিকেই আসছে।

আমিঃ এই রে তায়াং ভাইয়া এদিকে আসছে কেন?ঐ মোটা স্টাম্প দিয়ে কি এখন দু-চার ঘা আমার পিঠে মারবে নাকি।এই পাঠারে নিয়া আর পারি না।সবসময় আমার কাজে বা হাত ঢুকাইতে বিনা দাওয়াতে চলে আসে।(মনে মনে)

আমি মনে মনে কথা আওড়াতে আওড়াতে তায়াং ভাইয়া সামনে চলে এলো।

তায়াংঃ কি রে তুই এখানে কি করছিস?(রেগে)

আমি ভাইয়াকে হেচকা টান দিয়ে অন্য দিকে নিয়ে গেলাম।ভয়ে হাত-পা কাঁপা-কাঁপি করছে।তাও যথাসম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বললাম।

আমিঃ আসলে ভাইয়া আমি ঐ ছেলেটাকে পটাচ্ছিলাম।হয়েছে কি…..

আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই তায়াং ভাইয়া হুংকার মেরে বললো।

তায়াংঃ তোকে না বলছি ছেলেদের থেকে দূরে থাকতে।আর তুই নিজেই চলে এসেছিস ছেলে পটাতে।তোকে তো আজকে এই স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে সোজা করে ফেলবো।

আমিঃ ভাগ নোভা ভাগ।জানে বেঁচে থাকলে পরেও ঐ ক্রাশবয়কে পটাতে পারবি। আগে নিজের জীবন বাঁচা।

অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ জোরে কথাগুলো বলে উল্টো দিকে দৌড় মারলাম।আমার পেছন পেছন তায়াং ভাইয়াও স্টাম্প হাতে দৌড়াচ্ছে। একবার পেছনে তাকিয়ে দৌড়ের স্প্রিড বারিয়ে দিলাম।দুপুর বেলা হওয়ায় রাস্তায় বেশি মানুষ নেই। তারপরও দু-একজন যারা আছে তারা আমাদের দিকে অবাক চোখ তাকিয়ে আছে। আমি সেদিকে তোয়াক্কা না করে কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে জুতা জোড়া হাতে নিয়ে নিলাম।তারপর আবার ছুট।পেছন থেকে তায়াং ভাইয়া চেচিয়ে আমাকে থামতে বলছে।আমি কি পাগল নাকি যে থামবো।থামলেই তো ঐ মোটা স্টাম্প আমার ওপর ভাঙবে।

ফ্লাশব্যাক এন্ড………❣️

পুরোনো কথা মনে করে নিজের মনেই হেসে উঠলাম।ততক্ষণে ছেলে-মেয়ে দুটো চলে গেছে। একটা বার্গার অর্ডার করেছি সেই কখন, এখনো আসার নাম নেই। ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে হিমিকে কল করলাম।

হিমিঃ হ্যাঁ বল।

আমিঃ নাভান কই?

হিমিঃ একটু খাওয়াতে বসছিলাম।কিন্তু এক লোকমাও মুখে তুললো না।

আমিঃ ও ইদানীং খাবার নিয়ে অনেক জ্বালায়।দেখিস কিছু করে খাওয়াতে পারিস কিনা।এরিন আসেনি?

হিমিঃ না ও এখনো আসেনি।নে তোর ছেলে তোর সাথে কথা বলবে।

আমিঃ দে ওর কাছে।

নাভানঃ হ্যালো আম্মু।কই তুমি? আসো। আমার জন্য বাজার থেকে চিপস,চকলেট আনো।

আমিঃ তোমার জন্য মোটা লাঠি আনবো।তুমি বেড বয় হয়ে গেছো।খাবার নিয়ে দুষ্টামী করো।

নাভানঃ না মারে না।আমি গুড বয়।

আমিঃ গুড বয় হলে চুপচাপ খাবার খেয়ে নেও।নয়তো চিপস, চকলেট কিছুই আনবো না।

নাভানঃ আচ্ছা আমি খাবো।কিন্তু তোমার হাতে।

আমিঃ এখন খালামণি খাইয়ে দিক।তার হাতে খেয়ে নেও মানিক।তুমি আমার গুড বয়।আম্মুর কথা তো শুনে নাভান তাই না?

নাভানঃ হুম।আম্মু,আমাল বাবা কো?বাবাকে নিয়ে আইসো।আমি আব্বুর সাথে খেলবো।

বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো।ইদানীং নাভান একটু বেশিই বাবার কথা জিজ্ঞেস করে। আমি চিন্তা করছি একদিন ওকে অফিসে নিয়ে আসবো।তাজকে দেখে যদি ঠান্ডা হয়।শত হোক ওর বাবাই তো।

আমিঃ তুমি দুষ্টুমী করো না আব্বু।আমি আসার সময় চিপস,চকলেট নিয়ে আসবো।

নাভানঃ বাবাকে নিয়ে আইসো।

আমিঃ তোমার খালামণিকে মোবাইল দেও।

হিমিঃ হ্যাঁ বল।

আমিঃ ওকে একটু দেখে রাখিস।আবার বাপের কথা মনে পরছে।সারাদিন গাল ফুলিয়ে বসে থাকবে।

হিমিঃ আচ্ছা।

আমিঃ রাখছি তাহলে।

কল কেটে বিষন্ন মনে বাইরে তাকিয়ে রইলাম।তাজের কাছে এত সহজে আমি ধরা দিবো না।প্রত্যেকটা দিনের হিসাব নিবো আমি।কেন বেচে থাকতেও আমাকে সাদা কাপড় পরে থাকতে হয়? ছেলে,বউয়ের কোন খোঁজ নেয়নি।এমনি এমনি ছেড়ে দিবো নাকি আমি।অনেক হিসাব বাকি আছে। কেন সবকিছু এলোমেলো করে দিলো আমার।সে যখন বদলেই গেছে তাহলে আবার কেন আমার সামনে এলো।আমার স্বামীকে মৃত ভেবে আমি না হয় ছেলেটাকে নিয়ে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতাম।তার ওপর প্রচন্ড অভিমান ও ক্ষোভ জন্মেছে আমার।খুব সহজে এগুলো ভাংবে না।আজ অফিসে কতগুলো গেস্ট এসেছে।আমি তাদের দেখিনি।একজন কলিগের থেকে শুনছি। তাদের নিয়ে ব্যস্ত তাজ সাহেব।আমি এখন তার থেকে নিজেকে দূরেই রাখি।সে যখন পেরেছে আড়াই বছর আমার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে আমি কেন পারবো না।

আদরঃ একা একা বসে আছেন যে ম্যাম?

আমার মুখোমুখি চেয়ার টান দিয়ে বসতে বসতে কথাটা বললো আদর।আমি মুখে কিঞ্চিত হাসির রেখা ফুটিয়ে বললাম।

আমিঃ সেই কখন একটা বার্গার অর্ডার দিয়েছি।এখনো আসার নাম নেই।

আদরঃ ওহ আচ্ছা।

আমিঃ কিছু বলবেন??

আদরঃ নাহ কিছু না।আপনি একা একা বসে আছেন তাই আরকি।

আমিঃ কোম্পানি দিতে এসেছেন?

আদরঃ তোওবা তোওবা। কি বলেন ম্যাম? আমি আপনাকে ছোট বোনের নজরে দেখি।

আমিঃ তাহলেই ভালো।

হঠাৎ আদরের হাতে থাকা মোবাইলে ভাইব্রেশন বেজে উঠলো।আদর আমার দিকে তাকিয়ে মুখটা চওড়া করে উঠে যেতে যেতে বললো।

আদরঃ আচ্ছা ম্যাম থাকুন।আমি আসছি।

আমি মাথা নেড়ে সম্মতি দিতেই আদর কল রিসিভ করে কথা বলতে বলতে চলে গেল। ওয়েটার এসে বার্গার দিয়ে গেলো।আমি সেটা কোনরকম খেয়ে, বিল পে করে অফিসের দিকে চলতে লাগলাম।

নিজের কেবিনের দিকে যাচ্ছিলাম।তখুনি এক জোড়া হাত এসে হেচকা টানে আমাকে একটা রুমে নিয়ে গেল।আমি চিৎকার করতে নিলেই একটা বলিষ্ঠ হাত এসে পেছন থেকে আমার মুখ চেপে ধরলো।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here