প্রজাপতির_রং🦋 Part_36

0
433

প্রজাপতির_রং🦋
Part_36
#Writer_NOVA

বর্তমানে আমি, এনাজ, নাভান এই তিনজন একটা কফি হাউসে বসে আছি।সাথে আদর,মুসকানও আছে। ওরা অন্য ফ্লোরে আছে। এনাজ ওদেরকে কল করে এখানে চলে আসতে বলেছে। আগামীকাল পার্টির জন্য শপিংয়ে এসেছি। আমি আসতে চাইনি এনাজ জোর করে নিয়ে এসেছে। নাভান ওর বাবার কোলে চুপটি করে বসে আছে। ঘন্টাখানিক শপিংমলে ঘুরে সবাই হাঁপিয়ে উঠেছি।আমার কোন সমস্যা হয়নি।সব শপিং ব্যাগ ও ছেলেকে এনাজ সামলিয়েছে।এটা তার শাস্তি। আমাকে জোর করে কেন এনেছে। এবার বুঝুক মজা।

এনাজঃ খাচ্ছো না কেন?

আমিঃ ওরা আসছে না কেন?

এনাজঃ ওরা এখুনি চলে আসবে।

আমিঃ ওদের দুজনকে আপনি একা ছাড়লেন কেন? আমার কিন্তু কিছু একটা গোলমাল মনে হচ্ছে।আমার থেকে কি আপনি কিছু লুকাচ্ছেন?

এনাজঃ কোথায়? না তো।তোমার থেকে কি লুকাবো?

আমি এনাজের দিকে চোখ দুটো ছোট ছোট করে তাকালাম।তবে কিছু বললাম না।আমার কাছে আদর ও মুসকানকে একটু সন্দেহ হচ্ছে। মনে হচ্ছে ওদের মাঝে রিলেশন আছে। কিন্তু আন্দাজে তো ঢিল মারা যায় না।তাই আমি চুপ হয়ে গেলাম।

আমিঃ কি হয়েছে আমার নাভান বাবার? চুপ করে আছো যে? শরীর খারাপ লাগছে।

নাভান আমার কথার কোন উত্তর দিলো না। চুপ করে ওর বাবার বুকে মাথা রাখলো।আমার কিছুটা খোটকা লাগলো।ব্যস্ত হয়ে ওর কপালে হাত রাখলাম।

এনাজঃ কি হয়েছে?

আমিঃ ওর শরীরটা তো জ্বর জ্বর মনে হচ্ছে। কপালটা হালকা গরম।

এনাজঃ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো?

আমিঃ ডাক্তারের কাছে নিতে হবে না। বাসায় জ্বরের ঔষধ আছে। বাসায় গিয়ে খাইয়ে দিবো।এর জন্য আমার মানিক চুপ করে আছে। শরীর তো ভালো লাগছে না। সেটা তো আমাকে বলবে।

এনাজঃ ঔষধের নাম বলো।আমি নিচের ফার্মেসী থেকে নিয়ে আসি।বাসায় যেতে দেরী আছে।

আমিঃ এখন আনবেন? না মানে আপনি আবার কষ্ট করে নিচে যাবেন।

এনাজঃ এখন আনবো না মানে।তুমি পাগল হয়ে গেছো।বাসায় যেতে সে কত দেরী।এতক্ষণ আমার ছেলে অসুস্থ থাকবে।আমার কষ্টের থেকে আমার ছেলের কষ্ট আমার কাছে বেশি। তুমি আমাকে নাম বলো আমি নিয়ে আসি।

আমি আর কিছু বললাম না।চুপচাপ ঔষধের নাম বলে দিলাম।এনাজ নাভানকে কোলে নিয়ে নিচের ফ্লোরে যেতে লাগলো।আমি ততক্ষণে কফির মগে চুমুক দিলাম।একা বসে থাকতে থাকতে বোর হচ্ছিলাম।কফি শেষ করে মগটা রেখে উঠে গেলাম।

মুসকান রেগে দ্রুত পায়ে হাঁটছে। তার পেছন পেছন একগাদা শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে দৌড়ে দৌড়ে আসছে আদর।মুসকানের সামনে এসে দুই হাত মেলে মুখটাকে ইনোসেন্ট বানিয়ে আদর বললো।

আদরঃ প্লিজ মুসু আমাকে একটু সময় দেও।আমি এখন সবাইকে আমাদের কথা কি করে বলি? আমাকে তো তোমার উপযুক্ত বানাতে হবে।তারপর তোমাদের বাসায় প্রস্তাব দিবো।

মুসকানঃ আমি কোন কথা শুনছি না। তুমি এখন যেই অবস্থায় আছো সেই অবস্থায় তোমাকে মানতে আমার কোন সমস্যা নেই। তাহলে তোমার এতো কিসের সমস্যা?

আদরঃ তুমি বিষয়টা বুঝতেই চাইছো না।আমি মিডেল ক্লাশ ফ্যামেলীর ছেলে।আমি যদি তোমার উপযুক্ত না হয় তাহলে তোমার ফ্যামেলী আমাদের বিয়ে কেন দিবে?

মুসকানঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি আমাকে ভালোবাসো।এর থেকে বড় আর কি হতে পারে?

আমিঃ কি হচ্ছে এখানে?

আমার কন্ঠ শুনে আদর,মুসকান দুজনেই ঘাবড়ে গেল।মুসকান ঢোক গিলে আমতাআমতা করে বললো।

মুসকানঃ আরে ভাবী কখন এলে?

আমিঃ এসেছি অনেক আগে।তাকিয়ে তাকিয়ে তোমাদের কাহিনি দেখছিলাম।এখন আমাকে কি বলবে হচ্ছেটা কি?

আমার গম্ভীর কণ্ঠের কথা শুনে দুজন চমকে উঠলো। উপর দিয়ে গম্ভীর থাকলেও ভেতরে আমার পেট ফেটে হাসি আসছে।এতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওদের দেখছিলাম।এবার আমার সন্দেহ পুরো সত্যি হলো।আমি ওদের সব কথা শুনেছি। এরা একে অপরকে ভীষণ ভালোবাসে।আদর ভয়ে ভয়ে বললো।

আদরঃ তেমন কিছু না ভাবী।

আমিঃ কেমন কিছু তাহলে? তোমরা এতো ঘামছো কেন? মানুষ তো তখুনী ঘামে যখন সে মিথ্যে বলে নয়তো কিছু লুকাতে চায়।

মুসকানঃ গরম লাগছে তো ভাবী তাই।

আমিঃ ওহ আচ্ছা। তোমরা কি সোজাসাপ্টাভাবে আমাকে বলবে। নাকি অন্য ব্যবস্থা নিবো।আমাকে ভালোয় ভালোয় বলে দিলে তোমাদের সাহায্যও করতে পারি।নয়তো প্যাচ লাগিয়ে দিবো।

🦋🦋🦋

আমার কথা শুনে আদর,মুসকান দুজনে একসাথে চমকে উঠলো। আমি এবার হাসি আটকে রাখতে পারলাম না।ফিক করে হেসে উঠলাম।এতে ওরা দুজন আমার দিকে একদফা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।

আমিঃ আরে ভয় পেয়ো না। আমি বাঘ বা ভাল্লুক কেউ নই।আমি মজা করছিলাম।

মুসকান বুকে ফুঁ দিয়ে আমার দিকে তাকালো। তারপর হালকা হেসে শাসিয়ে বললো।

মুসকানঃ ভাবী!!! তুমি তো ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে।

আদরঃ আমার তো মনে হচ্ছিলো কেউ আমার বুকের হৃৎপিণ্ডটার বরাবরি ছুড়ি চালিয়ে দিয়েছে।এখন জান ফিরে আসলো।

আমিঃ ঘটনা কি? কবের থেকে চলে এসব🤨?(ভ্রু নাচিয়ে)

মুসকানঃ আসলে ভাবী আমরা একে অপরকে অনেক ভালোবাসি। কিন্তু বাসায় ভয়ে বলতে পারছি না। এদিকে বাবা-মা আমার বিয়ের চিন্তা ভাবনা করছে।আমাদের রিলেশন এক বছর ধরে। আদর যখন প্রথম জয়েন করছে তখন থেকে।কিন্তু এখন ভয় করছে। যদি বাবা-মা, ভাইয়ারা আমাদের সম্পর্ক মেনে না নেয় তাহলে আমরা শেষ।

আমিঃ ওহ,এই ব্যাপার।আমিও এটাই সন্দেহ করেছিলাম।

হঠাৎ মুসকান আমার দুই হাত ওর দুই হাতের মুঠোয় নিয়ে আমাকে অনুরোধের সুরে বললো।

মুসকানঃ ভাবী, তুমিই পারবে আমাকে সাহায্য করতে।তুমি বড় ভাইয়াকে প্লিজ আমাদের জন্য রাজী করাও।তুমি ছাড়া অন্য কেউ বড় ভাইয়াকে রাজী করাতে পারবে না। আর বড় ভাইয়া বললে বাবা ঠিক রাজী হয়ে যাবে।ভাইয়ার কথা বাবা কখনোই ফেলে না।আর বাবা রাজী মানে সবাই রাজী।

আমিঃ আচ্ছা আমি চেষ্টা করবো।তোমরা ভয় পেয়ো না। দেখছি কি করা যায়।

আদরঃ Thanks ভাবী।

মুসকান হাত ছাড়িয়ে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

মুসকানঃ এত্তগুলা Thanks। এর জন্য তো তুমি আমার কিউট ভাবী।

আমিঃ হয়েছে আর পটাতে হবে না। ঐদিকে চলো।তোমার ভাই আমাদের খুঁজবে।

আমরা তিনজন হাঁটতে লাগলাম। ওরা দুজন একসাথে হাঁটতে হাঁটতে সামনে এগিয়ে গেছে। আমি কিছুটা পিছিয়ে গেলাম। হঠাৎ মনে হলো আমাকে কেউ ফোলো করছে।সাথে একটা হালকা পারফিউমের ঘ্রাণ পেলাম।ওড়নাটা নাকের সামনে ধরতেই পারফিউমের ঘ্রাণটা তীব্র হলো।এনাজ আজ এই পারফিউম দিয়ে এসেছে। সে যখন আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো তখন হয়তো গায়ে লেগে গেছে। আমি জানি আমাকে কেউ ফোলো করছে না।মাঝে মাঝে আমার হ্যালুসিয়েশন হয়😵।যেমন হয়েছিল সেদিন রাতে(পর্ব-০৯)। সেদিন আমার সাথে কেউ ছিলো না।কিন্তু তারপরও মনে হচ্ছিলো কেউ আমাকে ওপর থেকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে দেখছিলো।আর তার গায়ের ঘ্রাণ আমার বড্ড চেনা মনে হচ্ছিলো। আসলে সেখানে কেউ ছিলো না।মাঝে মাঝে আমার এরকম হ্যালুসিয়েশন হয়।

(কেউ বিশ্বাস করবেন কি না জানি না। মাঝে মাঝে আমারও এমন হ্যালুসিয়েশন হয়।আমার সাথে কেউ নেই কিন্তু তারপরও মনে হয় কেউ আছে,কেউ আমাকে ফোলো করছে। যার গায়ের ঘ্রাণ আমি পাচ্ছি। সেই বিষয়টা আমি গল্পে উল্লেখ করছি।সত্যি সেদিন গল্পের নোভার আশেপাশে কেউ ছিলো না। এটা আমার আরো আগে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত ছিলো।কিন্তু আমি ভুলে গেছি। তার জন্য এক্সট্রিমলি সরি। এর জন্য সত্যি ক্ষমাপার্থী আমি।)

পিছনে পরে গিয়েছিলাম বলে দ্রুত পায়ে মুসকানের পাশে এসে দাড়ালাম। কফি হাউসে এসে বসে রইলাম।শপিংমলের থার্ড ফ্লোরের পূর্ব পাশের জায়গা জুড়ে বিশাল কফি হাউস। সেখানে যেতেই দেখতে পেলাম এনাজ নাভানকে নিজ হাতে ঔষধ খাইয়ে দিচ্ছে। এই দৃশ্যটা দেখে আমার চোখটা ছলছল করে উঠলো।ছোটবেলায় যখন ঔষধ খেতে না চাইতাম তখন আব্বুও আমাকে এভাবে খাইয়ে দিতো।আব্বুর কথা মনে হতেই চোখ দুটো থেকে আপনাআপনি পানি পরে গেলো।
আমি দ্রুত পানি মুছে নিলাম।

মুসকানঃ কি হয়েছে ভাবী? কাঁদছো কেন?

আমিঃ কোথায় না তো।চলো ভেতরে যাই।

ধীর পায়ে এনাজ যে টেবিলে বসেছে সেই টেবিলে বসে পরলাম।এনাজ আমাদের দিকে না তাকিয়ে বোতল খুলে পানি ঢেলে নিলো একটা খালি মগে।সেটা সাবধানে নাভানকে খাইয়ে দিলো।তারপর টিস্যু দিয়ে মুখ মুছিয়ে দিলো।আমি এক ধ্যানে তাকে দেখতে লাগলাম।মনে মনে বললাম।

আমিঃ এভাবে বাচ্চা সামলানো ও কেয়ার করার জন্য হলেও তোমাকে আমার চাই😌।(মনে মনে)

আদরঃ কোথায় গিয়েছিলেন স্যার?

এনাজঃ তোমরা কোথায় গিয়েছিলে তাই বলো? তোমাদের খুঁজতে খুজতে হয়রান হয়ে গেছি আমি।

মুসকানঃ আমরা এদিকটাই ছিলাম ভাইয়া।

এনাজঃ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে চললো।এখনো শপিং শেষ হলো না।মেয়েদের নিয়ে এলে এই একটা জ্বালা।এদের শপিং শেষ হওয়ার নামও নেয় না।

আমিঃ আমরা কি আসতে চেয়েছিলাম।আপনিই তো জোর করে নিয়ে এলেন।এখন নিয়ে এসে খোঁটা দেওয়া হচ্ছে। করবো না শপিং। মুসকান চলো তো।(রাগ দেখিয়ে)

মুসকানঃ হুম চলো ভাবী।

আমি উঠতে নিলেই এনাজ হাত চেপে ধরে কিছুটা রাগী কন্ঠে বললো।

এনাজঃ সাহস থাকলে এখান থেকে এক পা নড়ে দেখো।তারপর দেখো আমি কি করি? চুপচাপ এখানে বসে থাকো।এসেছো আমার ইচ্ছায় যাবেও আমার ইচ্ছায়।এই মুসকান বস।তোকে কি আলাদা করে কিছু বলতে হবে।

মুসকানঃ না ভাইয়া।আমি বসে রইলাম।(ভয় পেয়ে)

মুসকানের কথা শুনে আদর মিটমিট করে হাসতে লাগলো।এতে মুসকান চোখ রাঙানি দিলো।তাতে আদর ভদ্র ছেলের মতো ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বসে রইলো।বেশ কিছু সময় পর আমরা সেখান থেকে উঠে লেডিস ফ্যাশনে ঢুকে পরলাম।আমি ও মুসকান ড্রেস নেড়েচেড়ে দেখছি।আদর,এনাজ চুপ করে পাশের দুটো সিটে বসে আছে। নাভান এনাজের কোলে ঘুমিয়ে পরছে।

🦋🦋🦋

—- এই পিচ্চি মেয়ে। একটু এদিকে আসো তো।

এক ভদ্রমহিলার ডাক শুনে আমি ও মুসকান দুজনেই পেছনে ঘুরলাম।একটা মহিলা এই লেডিস ফ্যাশনে আসার পর থেকে আমাদেরকে ফোলো করছিলো।তার ডাক শুনে মুসকান জিজ্ঞেস করলো।

মুসকানঃ আমাদের কিছু বলছেন আন্টি।

—- তোমাকে নয়।তোমার পাশের ব্লু ড্রেস পরা পিচ্চি মেয়েকে বলছি।

আমি আহাম্মকের মতো মুসকানের দিকে তাকালাম।আমাকে কোন এঙ্গেলে পিচ্চি মেয়ে মনে হয়। বিয়ের আগেই আমাকে বিবাহিত মনে হতো।এখন তো একটা ছেলে আছে। ছেলে হওয়ার পর একটু গুলুমুলু হয়ে গেছি।আর উনি আমাকে পিচ্চি বলছে।আমার পরিচিত কেউ বললে এতক্ষণে সারা শপিংমল মাথায় তুলে ফেলতাম।কিন্তু অপরিচিত মানুষকে তো কিছু বলা যায় না। তাই চুপচাপ তার সামনে এসে দাঁড়ালাম।

আমিঃ কিছু বলবেন আন্টি?

—- আসলে আমার মেয়েটা তোমার মতোই।তাই তোমার মাপে কিছু ড্রেস কিনতাম।তুমি একটু দাঁড়াও আমি মাপ নিচ্ছি।

আমি হাসিমুখে তার সাথে দাঁড়িয়ে রইলাম।মিনিট দশ হয়ে গেলো সে ড্রেসই পছন্দ করতে পারছে না।বরং আমাকে এটা সেটা জিজ্ঞেস করছো।আমার পার্সোনাল প্রশ্ন করছে।আমার বাসা কোথায়?বাবা-মা কোথায় থাকে?আমরা কয় ভাই-বোন ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি মনে মনে বেশ বিরক্ত হলেও হাসি মুখে কমবেশি উত্তর দিতে লাগলাম।আমাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এনাজ এগিয়ে গেলো।

এনাজঃ কোন সমস্যা বাটারফ্লাই?

আমিঃ না। উনি উনার মেয়ের জন্য ড্রেস কিনবে।কিন্তু তার মেয়েকে সাথে আনেনি।আমার মতোই নাকি তার মেয়ের বডির সাইজ।তাই মাপ নিচ্ছেন।

—- এটা কে হয় তোমার?

আমিঃ আমার হাসবেন্ড।

—- তুমি বিবাহিত!!!! (অবাক চোখে)

আমিঃ জ্বি আন্টি।শুধু বিবাহিত নই।আমার একটা ছেলেও আছে। এই যে এটা আমার ছেলে।

আমার কথা শুনে বিস্মিত চোখে মহিলা তাকিয়ে রইলেন। তারপর যা বললেন তাতে আমি অবাক হয়ে গেলাম।

—- আসলে মা আমি মনে করেছি তুমি অবিবাহিত। তোমাকে দেখতে পিচ্চি মনে হচ্ছিলো।আমার বড় ছেলেকে বিয়ে করাবো।ওর জন্য অনেক দিন ধরে মেয়ে খুজছি।তোমাকে দেখেই আমার ছেলের জন্য ভীষণ পছন্দ হয়েছিলো।তাই তোমার সাথে কথা বলার জন্য মেয়ের ড্রেসের কথা বলছি।এখন তো দেখছি তুমি বিবাহিত। সাথে বাচ্চাও আছে। আমাকে মাফ করে দিও।আমি আসলে বুঝতে পারিনি।(এনাজের দিকে তাকিয়ে) সরি বাবা।

এনাজ আমার দিকে তাকিয়ে রাগে দাঁতে দাঁত চেপে মহিলাকে বললো।

এনাজঃ ইট’স ওকে আন্টি।

মহিলা অন্য দিকে চলে গেল। তার ছেলের জন্য তো পছন্দ করেনি।আমাকে বিশাল বাঁশ খাইয়ে দিয়ে গেল।আমার স্বামী মহাদোয় তো হেব্বি চটে গেছে। কিন্তু আমার কি দোষ? আমি কি মহিলাকে সেধে গিয়ে বলেছিলাম আমাকে আপনার ছেলের জন্য পছন্দ করুন।

এনাজঃ বোরখা কোথায় তোমার?

আমিঃ বাসায়।

এনাজঃ বোরখা কি আলমারিতে সাজিয়ে রাখার জন্য কিনছো।এখুনি চলো।তোমাকে আমি আরেকটা কিনে দিবো।যেটা তুমি এখুনি পরবে।আর কখনো বোরখা ছাড়া বাসা থেকে বের হলে পা ভেঙে হসপিটালে ভর্তি করে রাখবো।

আমিঃ আজব তো!!!

এনাজ সামনে এসে আরেকদফা রাগ ঝাড়ালো।এক হাত দিয়ে আমার ডান হাত ধরে রেগে বললো।

এনাজঃ হাতের চুড়ি,নাকের নাকফুল কোথায়? তোমার স্বামী কি এখনো মৃতই আছে।

আমিঃ হুট করে যদি চুড়ি,নাকফুল পরি তাহলে লোকে সন্দেহ করবে।তখন আবার আমার চরিত্রে দাগ লাগাতে উঠেপড়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে। তাই পরিনি।

এনাজঃ লোকের কথার গুষ্টি কিলাই।আমাকে পুরো উদ্ধার করে ফেলছো। কে কি বললো তাতে কানে দিবে না।চলো আমার সাথে।

এনাজ রেগে আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো।পেছনে তাকিয়ে দেখি মুসকান মুখে হাত দিয়ে মিটমিট করে হাসছে।আর আদর অবাক চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। হাত ধরে একটা বোরখার স্টোরে এনে সেখান থেকে কালো রঙের বোরখা কিনে দিলো।তারপর ধমকি-ধামকি দিয়ে সেটা পরালো।তারপর গোল্ড জুয়েলারির শপ থেকে চিকন দুগাছি চুড়ি কিনে নিজ হাতে আমায় পরিয়ে দিলো।তার পছন্দ মতো গোল্ড ও ডায়মন্ড পাথরের মিশ্রিত একটা নাকফুল কিনলো।সেটাও নিজ হাতে নাকে পরিয়ে দিলো।

আমি ইনোসেন্ট ফেস করে রেখেছি।সারা শপিংয়ে আমি আর এনাজের সাথে কোন কথা বলিনি।শপিং শেষ হলো মগরিবের আজানের পরপর।আমাকে ও নাভানকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে এনাজ চলে গেল। আমি পেছনে না তাকিয়ে নাভানকে কোলে নিয়ে গটগট করে ভেতরে ঢুকে পরলাম।কথা নেই এই বেডার সাথে হুহ😏!!!

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here