হ্যাকার লেখকঃ আবির খান। পর্বঃ ০৬ (শেষ পর্ব)

0
121

#হ্যাকার
লেখকঃ আবির খান।
পর্বঃ ০৬ (শেষ পর্ব)
আবির চুপ করে আছে। শুভ শুধু কাঁদছে আর আবিরের উত্তরের অপেক্ষায় আছে। কিছুক্ষণ পর আবির একটা পেনড্রাইভ শুভর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,

আবিরঃ এটা খুলে দেখো। এটার ভিতরে তোমার সব উত্তর আছে।

শুভ দ্রুত পেন ড্রাইভটা ওপেন করে দেখে একটা ফাইল আছে। ফাইলটা খুলতেই সামনে একটা ভিডিও আসে। শুভ আঁতকে ওঠে। ওর মনের মধ্যে অজানা ভয় বাসা বাঁধে। না জানি আবার কোন অপকর্মের ভিডিও। শুভ আবিরের দিকে একবার তাকিয়ে ভিডিওটা প্লে করে। ভিডিওটা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই শুভ দেখে, সেই গতকালকের হ্যাকারটা। সে বলছে,

— কংগ্রেচুলেইশন শুভ৷ আমার পরীক্ষায় তুমি পাশ করেছো। তোমাকে আমি মাফ করে দিলাম। এবং তোমার আর কোন ভয় নেই। তবে…ইয়েস এখানে একটা তবে আছে। আর সেটা হলো, তোমাকে আমি কিছু ডিরেকশন দিব। সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে। প্রথমে, এখন থেকে আমার হয়ে তুমি কাজ করবে। মাসে তোমার যাতে কোন প্রকার কষ্ট না হয় সে পরিমাণ বেতন দেওয়া হবে। দ্বিতীয় হলো, তোমাকে মায়াকে বিয়ে করতে হবে। কারণ কালকের মধ্যেই মায়ার জীবনে বড়ো একটা ঝড় আসছে। যেটা আবির তোমাকে বুঝিয়ে বলবে। তৃতীয় হলো, আমরা এই তিনজন ছাড়া এসব কথা যেন আর কেউ কোন দিন না জানে। যদি জানতে পারে, তাহলে সেদিনই তোমার জীবনের শেষ দিন হবে৷ আর আবির কেন আমাকে চিনে কিংবা আবির কেন হারিয়ে গেল এসব নিয়ে কোন দিন কোন প্রকার প্রশ্ন করা যাবে না। অন্যথায় কি হবে তা ভালো করেই জানো। তোমাকে আমার লোকেরা এভাবে ভিডিওর মাধ্যমে কাজ দিবে৷ তুমি সেটা তোমার মেধা খাটিয়ে করলেই হবে। তোমার বেতন মাসের শুরুতে পৌঁছে যাবে তোমার কাছে। আর হ্যাঁ তুমি তোমার ভার্সিটিও চালিয়ে যেতে পারবে৷ আশা করি এত কিছু দেওয়ার পর আর কোন দিন যেন তোমাকে ধরতে আমার না আসা লাগে। তুমি সর্বদা আমার নজরে থাকবে।

কথাটা শেষ হওয়া মাত্রই ভিডিওটা অটো ডিলিট হয়ে যায়৷ শুভ খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে আবিরের কাছে গিয়ে বলে,

শুভঃ ভাই আমাকে বাঁচালে। আমি ভেবেছিলাম আমার সব শেষ।
আবিরঃ আল্লাহ তায়ালা তোমাকে আরেকটা সুযোগ দিয়েছেন সৎ ভাবে চলার। সুযোগটা হাত ছাড়া করো না।
শুভঃ না না কখনোই না। কিন্তু মায়ার কি হবে?
আবিরঃ স্যার একটা কথা কিন্তু বলেন নি। সেটা হলো তোমার ড্রাগস নেওয়া। আমি জানি তুমি এই ড্রাগস নেও নিজের ডিপ্রেশন থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু এই ড্রাগস একটা বিষ। মানুষকে পাগল উম্মাদ বানাতে পারে। কিংবা তার বিবেককে শেষ করে দিতে পারে৷ তুমি জানো এই ড্রাগসের সবচেয়ে বড়ো ডিলার কে?
শুভঃ কে ভাই?
আবিরঃ মায়ার বাবা। সে কিছু দিনের মধ্যেই নাই হয়ে যাবে। কারণ তার প্রতিটি অপকর্মের প্রমাণ আমাদের স্যারের কাছে আছে। সে এতদিন হ্যাক করে মায়ার বাবার সব অপকর্মের প্রমাণ খুঁজে বের করেছে। যা অন্যকেউ কখনো পারে নি। সো স্যার চাচ্ছিল মায়াকে তোমার হাতে তুলে দিবে। যাতে তোমরা একে অপরকে সাপোর্ট করতে পারো। এখন হয়তো ভাবছো, স্যার এত ভালো কেন? কারণ স্যারও তার নিজের পুরো পরিবারকে হারিয়েছে। সে জানে কার কষ্ট কতটুকু। আশা করি সব বুঝেছো।
শুভঃ আবির তুমি আমাদের এত উপকার করে হারিয়ে যাবে? তুমি আসলে কে প্লিজ বলবে?

আবির মুচকি একটা হাসি দেয়। আর পেন ড্রাইভটা নিয়ে শুভর বাসা থেকে চলে যায়৷ বাইরে এসে কাকে যেন ফোন দিয়ে বলে,

আবিরঃ ভার্সিটিতে জানিয়ে দিও আবির অস্ট্রেলিয়া চলে গিয়েছে। ও আর আসবে না।
— ওকে স্যার।
আবিরঃ রাতের মিশনের জন্য রেডি হও।
— আমরা রেডি স্যার।

রাত ১২ টা ০১ মিনিট বাজে ঘড়িতে। মায়ার বাবা মানে মিস্টার জামাল খান তার বেডে শুয়ে আছে। শুয়ে আছেন বললে ভুল হবে তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। আবির ওর পুরো টিম নিয়ে খুব কৌশলে সব বডিগার্ডকে ঘুম পাড়িয়ে কিংবা বেহুশ করে জামাল সাহেবের রুমে প্রবেশ করে। তাকে ঘুমের মধ্যেই অ্যাটাক করা হয়। তিনি কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে অজ্ঞান করা হয়। আবিরের টিম তাকে নিয়ে হল রুমে আসে। আবির সবাইকে ইশারা দিয়ে মায়ার রুমের দিকে যায়। মায়া গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। আবির মায়ার রুমের দরজায় তিনবার টোকা দেয়। মায়া ঘুমাতুর চোখে দরজা খুলে দেখে আবির কালো একটা বিশেষ স্যুট পরে দাঁড়িয়ে আছে। মায়ার চোখ ভয়ে বড়ো বড়ো হয়ে যায়৷ ও পালাতে নিলে আবির ওকে খপ করে ধরে ফেলে। আর বলে,

আবিরঃ তোমার বাবা আমাদের আন্ডারে। নিচে চলো গেলেই সব দেখবে।

মায়ার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। কিন্তু ওর মুখ দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না ভয়ে৷ তবে ওর পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে। আবির মায়াকে নিয়ে নিচে আসতেই দেখে ওর বাবাকে কয়েকজন অস্রসহ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। মায়া বাবা বলে চিৎকার করে তার কাছে যায়। কিন্তু মায়া দেখে ওর বাবা কেমন জানি হয়ে পড়ে আছে। মায়া বাবা বাবা বলে ডাকছে কিন্তু কোন সাড়া শব্দ নাই। মায়া এবার হাউমাউ করে কান্না করতে করতে আবিরের কাছে আসে। এসে জিজ্ঞেস করে,

মায়াঃ আ…আব…আবির আমার বাবাকে কি করেছো তোমরা? উনি কোন কথা বলছে না কেন?
আবিরঃ শান্ত হও। উনি অজ্ঞান হয়ে আছে। আগামী ৮ ঘণ্টার আগে উনার জ্ঞান আসবে না।
মায়াঃ কিহ! আমার বাবা কি করেছে? আর তোমরা কারা? তুমি এই পোশাকে কেন? এসব কি হচ্ছে?
আবিরঃ একটু পরই সব বুঝে যাবে।

আবির ইশারা করা মাত্রই হলরুমে থাকা টিভিতে আবিরের টিমের একজন একটা ভিডিও প্লে করে মায়াকে দেখতে বলে। মায়া চোখ বড়ো করে করে পুরো ভিডিওটা দেখে। ভিডিওটা শেষ হলে মায়া মাটিতে পড়ে চায়। নিজের চোখ আর কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না মায়া। ওর আপন বাবার জন্য কত ছেলে মেয়ে যে নষ্ট হয়েছে এবং মারা গিয়েছে তার কোন হিসাব নেই। পুরো ভিডিওটা একটা ডকুমেন্টারি ছিল জামাল খানের অপকর্মের উপর। মায়া কাঁদতে কাঁদতে বলে,

মায়াঃ আবির এসব কি হলো? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না এসব। আমি কি কোন স্বপ্ন দেখছি? আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।

আবির মায়ার কাছে এসে ওকে ধরে বলে,

আবিরঃ স্বপ্ন না এটা বাস্তব। তোমার বাবার ১৫-২০ বছরের সাজার ব্যবস্থা করবো আমি। এরপর সে তোমার কাছে আবার ফিরে আসবে ভালো হয়ে যদি সে পর্যন্ত সে বেঁচে থাকে তাহলে। আর ওনার যত সম্পত্তি আছে সব সিলগালা করা হবে৷ কারণ এসব অবৈধ টাকায় গড়া। এখন হয়তো ভাবছো তোমার কি হবে? তোমার জন্য শুভকে ঠিক করেছি। ওর যেমন তোমাকে প্রয়োজন, ঠিক তেমনি এখন তোমারও ওর প্রয়োজন। ও অনেক ভালো ছেলে। তোমাকে ভালো রাখবে৷ তোমাদের জন্য আমি এইটুকুই করতে পারবো। তুমি শুভর কাছে চলে যেও। ওকে বলেছি তোমাকে বিয়ে করে নিতে। আশা করি ভালোই থাকবে। পাপের রাজ্যে কোন দিন সুখ খুঁজে লাভ নেই। সব পাপীদের শেষ আছে। তোমাদের সবার পাপের শেষ এটাই।

মায়া অঝোরে কান্না করছে। আবির ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,

আবিরঃ একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। চলো। শুভ বাইরে অপেক্ষা করছে। একটু পরেই এখানে অনেক লোক আসবে আমাদের। তার আগেই শুভর সাথে চলে যাও।

আবির ইশারা করতেই মায়ার বাবাকে ধরে ওর লোকেরা নিয়ে যায়। আবির মায়াকে নিয়ে বাইরে আসে। শুভ বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। আবির মায়াকে শুভর কাছে দিয়ে বলে,

আবিরঃ শুভ ওকে দেখে রেখো। আর মায়া তোমাদের এসবের কথা কখনো কেউ জানবে না। এবার পুরো মিশনটা আমি সিক্রেট ভাবে চালিয়েছি স্যারের কথায়৷ তোমরা তোমাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেও। আর নিজেদের সাপোর্ট করো। আসি।
মায়াঃ আবির আবির….(অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে)

আবির দাঁড়িয়ে যায়। মায়া কান্নাসিক্ত কণ্ঠে বলে,

মায়াঃ শেষ একটিবার বাবাকে জড়িয়ে ধরতে দিবে? জানি না ওনাকে আর পাবো কিনা। প্লিজ….

আবিরঃ ওকে।

আবির ইশারা করলে ওর লোকেরা সবাই সরে যায়। মায়া ওর বাবাকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ খুব কান্না করে। তারপর আবির আর অপেক্ষা করে না। শুভ আর মায়াকে ওদের আরেকটা গাড়িতে পাঠিয়ে দেয় শুভর বাসায়। আর আবির মায়ার বাবাকে এবং ওর টিমকে নিয়ে চলে যায়।

পরদিন সকালে,

আবির দিয়া বাড়ির একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে একা। অনু আসছে। ওর সাথে শেষবারের মতো দেখা করতে চায় আবির। অনু অবশ্য কিছুই জানে না। আবির দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে অনুকে কিভাবে ওর বিদায়ের কথা বলবে। এসব ভাবতে ভাবতেই অনু চলে আসে। আবির তাকিয়ে দেখে অনু বেশ সুন্দর করে সেজে গুজে এসেছে। ওর চোখে মুখে বেশ আনন্দের ছাপ। উজ্জ্বল হাসিমাখা মুখ। আবির বুঝে যায় এসবের কারণ কি। অনু হয়তো ভাবছে আবির ওকে এখানে ডেকেছে ওকে প্রপোজ করার জন্য। কিন্তু…

অনুঃ কেমন আছেন? হঠাৎ এভাবে ডেকে আনলেন যে?
আবিরঃ ভালো আছি। তোমাকে আজও অনেক সুন্দর লাগছে। একদম একটা পরীর মতো।

অনু খেয়াল করে আবিরের মুখখানা কেমন মলিন হয়ে আছে। ও আবিরের একটু কাছে এসে জিজ্ঞেস করে,

অনুঃ আপনাকে এভাবে দেখাচ্ছে কেন? কি হয়েছে?

আবির অনুর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে,

আবিরঃ আমি চলে যাচ্ছি অনেক দূরে। হয়তো আর কোন দিন তোমার সাথে নাও দেখা হতে পারে।

অনু যেন ভীষণ বড়ো একটা ধাক্কা খায়। ও অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,

অনুঃ মানে? কোথায় যাবেন আপনি?
আবিরঃ যাবো অনেক দূরে। একটা কাজে তোমাদের মাঝে এসেছিলাম। কাজ শেষ এখন আমার যাওয়ার পালা। আমাকে যেতেই হবে।

অনু আবিরকে ধরে অঝোরে কেঁদে দেয়। আর বলে,

অনুঃ না এটা ঠিক না। আমি তো আপনাকে বিদায় দিতে এখানে আসিনি। আমি ভেবেছি আপনার সাথে আমার বাকি জীবনটা পাড় করবো। এটা অসম্ভব। আমি মানি না। আমি আপনাকে ভালবেসে ফেলেছি। আমি আপনাকে কোথাও যেতে দিব না। প্লিজ আমাকে এভাবে একা করে কোথাও যাবেন না। প্লিজ…..

অনু আবিরকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে আর এগুলো বলছে। আবিরের খুব খারাপ লাগছে। মনের অজান্তেই অনুকে ওর ভালো লেগে যায়। আবির নিজেও জানে না কেন এমন হলো। অনু কাঁদতে কাঁদতে বলে,

অনুঃ প্লিজ কিছু তো বলুন।
আবিরঃ আমার কিছুই করার নেই অনু। আমার জীবনের পথচলা অনেক ভয়াবহ। তোমার সুন্দর জীবনটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে মুহূর্তেই।
অনুঃ কেন এসব বলছেন? আপনার কি আমাকে পছন্দ হয় নি? আমি কি দেখতে খুব খারাপ?
আবিরঃ না অনু না। কিন্তু….
অনুঃ সত্যি করে বলুন তো কে আপনি? কি করতে এসেছিলেন আপনি? বলুন আমাকে?
আবিরঃ সত্যিটা তুমি নিতে পারবে না। কিংবা বিশ্বাস করবে না।
অনুঃ আপনি প্লিজ বলুন।

আবির অনুকে সামনে এনে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,

আবিরঃ কয়েকদিন আগে শুনেছিলে যে একজন হ্যাকার ইউএস এর সবচেয়ে কঠিন সিকিউরিটি সিস্টেমকে হ্যাক করেছে?
অনুঃ হ্যাঁ।
আবিরঃ সেই হ্যাকারটা আর কেউ না, আমি আবির। আর আমি একটা গোপন সংস্থার সাথে আছি। যারা দেশের জন্য গোপন ভাবে লড়াই করছে। আমি তাদের মধ্যে একজন। আমার জীবন এই আছে তো এই নেই৷ আমার এই সত্যি আমার সহকর্মী ছাড়া আর কেউ জানে না। আজকে শুধু তোমাকেই বললাম।

অনু স্তব্ধ হয়ে আবিরের দিকে তাকিয়ে আছে। আর নিঃশব্দে মেয়েটার গাল বেয়ে টপটপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। আবির আবার বলে,

আবিরঃ আমি আজ চলে যাচ্ছি। তুমি ভালো থেকো। দোয়া করি অনেক ভালো একটা জীবন সঙ্গী পাও। আর আমাকে ভুলে যেও। আমি তোমাদের জীবনে অল্প কিছু দিনের মেহমান ছিলাম। এবার আমাকে যেতে হবে।
অনুঃ আবির, আপনি যেমনই হন না কেন, আমি আপনার সাথে থাকতে রাজি। বাঁচলে একসাথে, মরলেও একসাথে।

আবির সেই মুচকি হাসি দিয়ে বলে,

আবিরঃ এটা বাস্তব জীবন অনু। কোন সিনেমার কাল্পনিক গল্প নয়। তুমি ভালো থেকো। আমার গাড়িটা ওখানে দাঁড়িয়ে আছে। তুমি সেটা দিয়ে বাসায় চলে যেও। আমি আসি।
অনুঃ আবির এভাবে যাবেন না প্লিজ। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। প্লিজ আবির…..

আবির আর অনুর কাছে দাঁড়াতে পারে না। কারণ ওর চোখটাও ঝাপসা হয়ে আসছে। আর একমুহূর্ত দাঁড়ালে হয়তো নিজের আবেগকে আর ধরে রাখতে পারবে না ও। তাই অনুর এবং সবার ভালোর জন্যই আবির চলে যাচ্ছে বহু দূরে। হয়তো আর কোন দিন ফেরা হবে না এই শহরে।

— সমাপ্ত।

কেমন লেগেছে পুরো গল্পটি অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এতদিন ধরে সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। জানি না আর গল্প লিখব কিনা। হয়তো এটাই আমার শেষ গল্প। ভালো থাকবেন সবাই। আল্লাহ হাফেজ।

© আবির খান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here