শিশির_ভেজা_রোদ্দুর Part_14

0
501

শিশির_ভেজা_রোদ্দুর
Part_14
#Writer_NOVA

— নোভা,এই নোভা যাবি আমাদের সাথে?যদি যেতে চাস তাহলে জলদী উঠ।

সবেমাত্র চোখ দুটো লেগে এসেছিলো তারমধ্য তায়াং ভাইয়া ডাকাডাকি শুরু করেছে।বিরক্তি সহকারে কপালের উপর থেকে হাতটা সরিয়ে চোখ পাকিয়ে তায়াং ভাইয়ার দিকে তাকালাম।মেজাজ আমার অলরেডি বিগড়ে গেছে। আমার চাহনিতে তায়াং ভাইয়া একটুও ভ্রুক্ষেপ করলো না।বরং আবারো তাড়া দিয়ে বললো,

—ঘুমিয়ে গিয়েছিলি?কখন থেকে ডাকছি।

এবার যেনো মেজাজটা আরো বেশি চড়া হলো।বাঙালি কখনও কোনকিছু সহজে বিশ্বাস করে না।ঘুম থেকে জাগিয়ে জিজ্ঞেস করে ঘুমিয়ে গেছি নাকি।যদি আপনি ঘুম থেকে উঠে বলেন, “ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম কেন ডাকলে?” তাহলে বিশ্বাস করবে।এখন আমার ইচ্ছে করছে তায়াং ভাইয়ার মাথায় যদি শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করতে পারতাম তাহলে মনটা শান্তি হতো।রাগ না দেখিয়ে শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,

—কি হয়েছে ভাইয়া?এতো ডাকাডাকি কেন করছিস?আমি যে ঘুমিয়ে পরেছি তা কি তোর চোখে পরেনি?

তায়াং ভাইয়া মুচকি হেসে বললো,
—এত তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে না। মাত্র আটটা বাজে।এখন ঘুমিয়ে সারারাত মোবাইল নিয়ে পরে থাকলে কপালে মার আছে। তারচেয়ে চল বাইরে থেকে ঘুরে আসি।তোর ফেভারিট ফুচকাও খাইয়ে আনবো।

ভাইয়ার কথা শুনে চোখ দুটো আমার রসগোল্লা হয়ে গেলো।এটা আমার ভাই তো?আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। ওকে এতদিন খুচিয়ে খুঁচিয়েও রাতের বেলা বাইরে নিয়ে যেতে পারতাম না।কত বলেছি চল ভাইয়া ফুচকা খেতে যাবো।কিন্তু ভাইয়া রাজী হতো না।সেখানে ও নিজে এসে বলছে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাবে।আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। নিশ্চয়ই আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছি।চোখ দুটো বড় বড় রেখেই আমি বললাম,

—ভাইয়া আমি সিউর এখন আমি স্বপ্ন দেখছি।তুই এসব কথা কখনও বলতেই পারিস না।আমি আগে নিজেকে চিমটি কেটে দেখি।আমি বাস্তবে আছি নাকি স্বপ্নে। তুই নিজে এসে এসব কথা বলছিস।আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।

কথাটা বলে নিজের গায়ে একটা ছোট করে চিমটি কাটলাম।ব্যাথা পেয়ে আগের থেকে দ্বিগুণ চোখ বড় বড় করে ভাইয়ার দিকে তাকালাম।আমি বাস্তবে আছি। তায়াং ভাইয়া আমার মাথায় মৃদু চাপর মেরে বললো,
—যেতে চাইলে জলদী রেডি হো।নয়তো তোদের দুটোকে রেখেই আমরা চলে যাবো।

—কে কে যাবো তায়াং ভাইয়া?

—তুই, আমি, তন্বী আর এনাজ।

—এনজিও সংস্থাও আমাদের সাথে যাবে?

—কি?এনজিও সংস্থা কে?

—মানে তোর বন্ধু এনাজও আমাদের সাথে যাবে?

—হ্যাঁ যাবে।কেন তোর কোন সমস্যা?

এনাজ আমাদের সাথে যাবে এই কথাটা শুনতেই আচমকা আমার ভেতরটা চমকে উঠলো। শ্বাস-প্রশ্বাসও ভারী হয়ে উঠলো।এই ছেলেটার কথা শুনলে ইদানীং আমার কি জানি হয়।আমার মনে হয় আমি নিজের মধ্যে থাকি না।কিরকম একটা অস্বস্তিকর ফিলিংস হয়।কোথায় অন্য কারোর সময় তো হয় না।আমাকে ভাবনায় বিভোর দেখে তায়াং ভাইয়া আমার চোখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

—কি রে কোথায় হারিয়ে গেলি?এনাজ গেলে কি তোর কোন সমস্যা?

—না না আমার সমস্যা হবে কেন?

—তাহলে এখন আর কথা বলিস না।যেতে চাইলে দশ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে ড্রয়িংরুমে চলে আয়।নয়তো দুটোকে ফেলেই চলে যাবো।মনে রাখিস সময় কিন্তু মাত্র দশ মিনিট।আর হ্যাঁ বোরকা পরবি, হিজাব বাঁধবি।এই দুটো করতে দশ মিনিটের বেশি লাগে না।

তায়াং ভাইয়া চলে গেলো।আমি নিষ্পলক চোখে তায়াং ভাইয়ার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলাম।কি করে বলবো যে তার বন্ধুর আশেপাশে থাকলে আমার হার্টবিট বেড়ে যায়।আমি কোথায় জানি হারিয়ে যাই।কিন্তু আমি তো চাই না আর কারো মাঝে হারাতে।একবার ধাক্কা সামলিয়ে নিজেকে দাঁড়া করাতে পেরেছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার তো পারবো না।

—নোভাপু,কি কালার হিজাব বাঁধবা?আমি কিন্তু মিষ্টি কালারটা পরবো,তুমি?

তন্বী রুমে ঢুকে আলমারি খুলতে খুলতে আমার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো।আমি ওর দিকে কিছু সময় বোকার মতো তাকিয়ে রইলাম।আসলে আমি এতটাই ভাবনায় বিভোর ছিলাম যে ওর কথা মাথায় ঢুকেনি।কয়েক মিনিট পর ওর কথা বুঝতে পারলাম।নিচু স্বরে ওকে বললাম,

—আকাশি রঙের হিজাবটা বের কর।সাথে কালো বোরকাটা।যেটার নিচে শাড়ির পারের মতো কাজ আছে সেই কালো বোরকটা।

—আচ্ছা। আমি তাহলে চিকন পার ওয়ালা কালো বোরকাটা পরি।

—তন্বী ঘটনা কি রে?

তন্বী চোখ, মুখ কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

—কিসের ঘটনা?

—তায়াং ভাইয়া হঠাৎ আমাদের নিয়ে বাইরে ফুচকা খেতে নিয়ে যাবে।তাও রাত আটটা বাজে। আমিতো প্রথমে শুনেই অবাক।আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না। এটা আমাদের তায়াং ভাইয়াতো?

—আমিও প্রথম অবাক হয়েছি।কিন্তু দুই দিন ধরে তোমার মন খারাপ। বৃষ্টির দিনও নাকি তোমার মন অনেক খারাপ ছিলো।সেটা এনাজ ভাইয়া এসে আমাদের ভাইয়াকে বলেছে।তারপর থেকে তুমি অনেক চুপচাপ থাকো।তাই আমাদের নিয়ে ঘুরতে বের হবে।দিনে তো ভাইয়া সময় পায় না।তাই রাতের বেলা যাবে।

—তুই এতকিছু জানলি কি করে?

—বারে, আমার সামনে বসে তারা আলাপ আলোচনা করলো।আর আমি জানবো না।

—ওহ আচ্ছা। জলদী রেডী হো।অলরেডি পাঁচ মিনিট চলে গেছে।

তন্বীকে তাড়া দিয়ে আমিও তৈরি হতে চলে গেলাম।না চাইতেও মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো।ভাইটার আমাদের সবদিকে নজর।সেই বৃষ্টির দিনের ঘটনার পর আজ দুদিন কেটে গেছে। এই দুইদিন আমি সত্যি অনেক চুপচাপ ছিলাম।সেটাও ভাইয়ার চোখে পরে গেছে। নিজের মনে হাসতে হাসতে তৈরি হতে চলে গেলাম।

💖💖💖

ফুচকার স্টলে মুখোমুখি বসে আছি আমরা।আমার ভীষণ অস্বস্তি লাগছে।আমার বরাবর এনজিও সংস্থা বসেছে।তন্বীর বরাবর তায়াং ভাইয়া। আমরা এখন যেই ফুচকার স্টলে বসে আছি সেটা এই বাজারে সবচেয়ে বড় ফুচকার স্টল।আমাদের মতো অনেকেই এখানে রাতের বেলা ফুচকা খেতে এসেছে। তায়াং ভাইয়া ও এনাজ দুজন মোবাইলে ডুবে আছে। আমি ও তন্বী একবার ওদের মুখের দিকে তাকাই।আরেকবার নিজেদের দিকে তাকাই।নিজেদের অসহায় শিশু মনে হচ্ছে। আমাদের পাশের টেবিলে ছয়জন ছেলে বসে আড্ডা দিচ্ছে। সারা স্টল ওরাই তুলে ফেলেছে। ওদের দেখে আমার পুরনো কথাগুলো মনে পরে গেলো।আমরা সব ফ্রেন্ডরা কখনও কফিশপে,ফাস্টফুডে কিংবা ফুচকার স্টলে গেলে এমন করতাম।এখন কারো সাথে তেমন যোগাযোগ হয় না।শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে এসব ভাবছিলাম। তখুনি ঐ টেবিলের চিকনা দেখতে একটা ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে এক চোখ মারলো।আমার রাগ হলো।কিন্তু কিছু না বলে চোখ ফিরিয়ে নিলাম।তন্বী আমাকে ফিসফিস করে বললো,

—দেখো তো আপু এরা কি শুরু করেছে?অসহ্য লাগছে।

—কাদের কথা বলছিস?

—ঐ যে পাশের টেবিলের স্টপিডদের কথা বলছি।নূন্যতম ম্যানারও নেই। কি অবস্থা শুরু করছে?টেবিল থাপড়িয়ে বোধহয় আজ আর কিছু রাখবে না।একটু আগে ঐ চিকনা কালো চেক শার্ট পরা ছেলেটা আমাকে চোখ মারলো।এগুলো কি সহ্য করা যায় বলো।

—ঐ চিকনাটা আমাকেও চোখ মারছে।শুধু পারিনি উঠে গিয়ে গাল দুটো লাল করতে।ভাইয়াকে কিছু বলিস না। তাহলে এখানে অনেক বড় ঝামেলা হয়ে যাবে। সেবার যে আমাদের একটা ছেলে টিজ করেছিলো বলে ছেলেটাকে সারা কলেজের সামনে বেল্ট দিয়ে পিটিয়েছিলো। তোর মনে আছে?

—সে কথা কি ভুলতে পারি? তারপর অনেক দিন আমি ভাইয়াকে যা ভয় পাইছি।তবে ভাইয়ার থেকে কিন্তু এনাজ ভাইয়া আরো বেশি রাগী।

তন্বীর কথা শুনে চোখ দুটো বড় করে বললাম,
—বলিস কি? কিন্তু এই ছেলেকে তো মনে হয় ভাজা মাছ উল্টে খেতে পারে না।

—এনাজ ভাইয়া খুব ঠান্ডা মানুষ। সহজে রাগে না।কিন্তু রেগে গেলে রক্ষা নেই। একবার এক ছেলেকে এমন মার মেরেছিলো যে ছেলেটাকে হসপিটালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করতে হয়েছে।

—কেন মেরেছিলো?

—ছেলেটা একটা মেয়ের ওড়না ধরে টান দিয়েছিলো।

—তাহলে একদম ঠিক করেছে।

আমাদের ফুসুরফাসুর করতে শুনে তায়াং ভাইয়া মোবাইলের দিকে তাকিয়ে আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলো,

—ফিসফিস করে কি বলছিস? এতো কথা আমদানি করিস কোথা থেকে? সারাক্ষণ শুধু মুখ চলতেই থাকে।

তায়াং ভাইয়ার কথা শুনে আমি মুখ ভেংচি কেটে বললাম,

—তোরা যেমন সারাক্ষণ মোবাইলের ভেতর ঢুকে যেতে পারিস তেমনি আমরাও কথা বলতে পারি।

এনাজ মোবাইলের থেকে মুখ উঠিয়ে শান্ত চোখে আমার দিকে তাকালো।তার চোখে চোখ পরতেই বুকটা ধুক করে উঠলো।আমি দ্রুত চোখ নামিয়ে ফেললাম।এর চাহনিতে যে আমি ঘায়েল হয়ে যাই তা কি এই ছেলে জানে না।এনাজ মোবাইলটা পকেটে রেখে তায়াং ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করলো,

—কি রে কতক্ষণ লাগে?এরা কি আজ আমাদের কিছু দিবে না?

তন্বী কপাল কুঁচকে বললো,
—আপনারাও ফুচকা খাবেন নাকি?

তায়াং ভাইয়া বললো,
—তোরা খাবি আর আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো নাকি?

—তোরা তো খাস না ভাইয়া।তাই জিজ্ঞেস করছি।তাই বলে এভাবে উত্তর দিবি।

আমি মুখ টিপে হেসে বললাম,
—ভালোই হয়েছে তন্বী।ওরাও আমাদের সাথে অর্ডার করেছে।নয়তো দেখা যেতো আমরা খেতাম আর ওরা তাকিয়ে থাকতো।তারপর ওদের নজরে আমাদের পেট ব্যাথা শুরু হয়ে যেতো।

তায়াং ভাইয়া আমার কথা শুনে বললো,
—অনেকদিন ধরে তুই আমার হাতে মার খাস না নোভা।নিয়মিত কয়েক ডোজ দিলে তুই ঠিক হয়ে যাবি।

—ইস,এত সোজা নাকি? গায়ে হাত তুলে দেখিস, হাত ভেঙে আরেক হাতে ধরিয়ে দিবো।

এনাজ গলা ঝেড়ে বললো,
—তায়াং তোর বোনের আর কিছু না থাকলেও চাপার জোর ভালোই আছে। করে দেখাতে না পারলেও মুখ দিয়ে খই তো ফুটাতে পারে।

আমি রাগী চোখে এনাজের দিকে তাকাতেই সে মিষ্টি হেসে স্টলের সাহায্যকারী ছেলেটাকে ডাকে বললো,
—ভাইয়া আর কতক্ষণ?

ছেলেটা সামনে এসে মাথা চুলকে বোকার মতো হেসে বললো,
—এই তো ভাইয়া হয়ে গেছে। আমি এখুনি নিয়ে আসছি।

ছেলেটা কথা শেষ করে এক মিনিটও দাঁড়ালো না।দ্রুত ভেতরে চলে গেল।ছেলেটার কথা বলার ভঙ্গি দেখে আমার ভীষণ হাসি পেলো।হাসলামও কিন্তু কেউ দেখেনি।কারণ আমাদের চারজনের মুখেই মাস্ক আছে। খাবার আসার আগে কেউ মাস্ক খুলবো না এমন পণ করে রেখেছি।হঠাৎ করে আমার চোখটা আবারো পাশের টেবিলে চলে গেল।ঐ চিকনা ছোকরাটা এবার ফ্লাইং কিস দেখালো।আমি চোখ পাকিয়ে একটা খাইয়া ফালামু লুক দিয়ে দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিলাম।এতে ওরা থামলো না।একের পর এক শিস বাজিয়ে যাচ্ছে। এতে আমিও তন্বী মহা বিরক্ত। এদের সাহস দেখে অবাক হচ্ছি।আমাদের সাথে ওদের থেকে বড় দুটো ছেলে আছে তারপরেও ওরা টিজ করছে।মিনিট তিনেকের মধ্যে আমাদের ফুচকা নিয়ে ছেলেটা ফিরে এলো।আমি ও তন্বী মাস্ক খুলে ফুচকা মুখে পুরতেই আবার ঐ ছেলেগুলো উৎপাত শুরু হলো।একজন বললো,

—আপু একা একা খাবেন?আমাদের একটু দেন।

আরেকটা ছেলে সাথেরজনকে বললো,
—দোস্ত, মিষ্টি কালার হিজাব ওয়ালী কিন্তু জোস।

ব্লু শার্ট পরা আরেকটি ছেলে বললো,
—আমার কিন্তু আকাশি কালার হিজাব পরাটাকে বেশি ভালো লাগছে। আকাশি রঙের হিজাব ওয়ালীর চোখের ওপর ক্রাশ খাইছি।

আমি একবার অসহায় চোখে তায়াং ভাইয়ার দিকে তাকালাম।সে নিশ্চিন্তে ফুচকা মুখে পুরছে আর মোবাইলে মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা দেখছে।
এনাজও একি কাজ করছে। একবার মৃদুস্বরে ভাইয়া বলে ডেকে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করলাম।কিন্তু ফলাফল শূন্য। ছেলেগুলো এবার টেবিলে থাপ্পড় মেরে সবাই একসাথে গান ধরেছে। আমার এখন কান্না পাচ্ছে। আমাদের কতকিছু বলছে কিন্তু এনাজ বা তায়াং ভাইয়া কারো কোন রিয়েকশন নেই। আমি সত্যি হতাশ হলাম।এবার কিছুটা জোরেই ডাকলাম।

—তায়াং ভাইয়া।

—হুম বল।

—জলদী এখান থেকে চল।আমাদের এখানে ভালো লাগছে না।

আমার সাথে তন্বীও সুর মেলালো।তন্বী মুখের রং পাল্টে কড়া গলায় বললো,

—ভাইয়া আমাদের খাওয়া শেষ। চল উঠি।

এনাজ বললো,
—তোমরা তাহলে বাইরে গিয়ে দাঁড়াও আমি বিল দিয়ে আসছি।তায়াং তোর খাওয়া হলে ওদের নিয়ে বাইরে চলে যাস।আমার আসতে একটু দেরী হবে।

—আচ্ছা তুই যা।ভালো করে বিলটা দিয়ে আসিস।কোন সমস্যা যাতে না হয়।

কথাটা বলে তায়াং ভাইয়া এনাজের দিকে তাকালো। দুজনেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি দিলো।যা আমি বা তন্বী কেউই বুঝলাম না।তায়াং ভাইয়ার খাওয়া হতেই আমরা বের হয়ে গেলাম।ভাইয়া আমাদের দুজনকে দুটো চকবার আইসক্রিম কিনে দিয়ে আবার মোবাইলে মনোযোগ দিলো।আমি খুব মনোযোগ দিয়ে আইসক্রিম খাচ্ছি।
হঠাৎ আমার মনে হলো আমি এনাজকে দেখলাম। সাথে তখনকার ঐ চিকনা ছেলেটা যে আমাকে ফ্লাইং কিস দেখিয়েছে আর যে বলেছিলো চোখের ওপর ক্রাশ খেয়েছে সেই ছেলেটাকে নিয়ে এনাজ উত্তর দিকে দরজা দিয়ে বের হলো।তারপর এনাজ মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাকি দুজনের গলাগলি ধরে হাসি মুখে ওদের সাথে কথা বলতে বলতে ভেতরের চিপা গলিতে ঢুকে গেলো।মিনিট পাঁচ হয়ে গেছে কেউ তো বের হয় না।একটু পর দেখলাম……….

#চলবে

আজকের পর্বটা ১৭৭০+ শব্দ আছে। গতকাল গল্প দেইনি বলে আজকে একটু বড় করে দিয়েছি।এরপরেও যদি কেউ বলেন না আপু একটু বড় করে দাও।তাহলে খবর আছে হুহ🌚।আরেকটা কথা,অনেকে বলছেন আপু নোভার অতীতে কি আছে জলদী ক্লিয়ার করেন।মাত্র দুইটা পর্বে আমি অল্প একটু রহস্য রেখেছি।তার মধ্যে এখুনি যদি বলেন ক্লিয়ার করতে তাহলে দ্রুত ক্লিয়ার করে শেষ করে দেই।প্রিয় রিডার্স গল্পটা যেহেতু আমি সাজাচ্ছি তাই আমি ভালো বুঝবো কি করতে হবে আর কি করতে হবে না। তবে আমি এই অতীত নিয়ে বেশি পর্ব করবো না। খুব শীঘ্রই এর সমাধান দিবো।হুট করে একটা কাহিনি দিলেই হয়না।সেটার যুক্তিযুক্ত কারণও লাগে।নয়তো আপনারাই বলবেন লেখিকা গাঁজাখুরি কাহিনি লিখছে।গল্পে এরপরে কি হবে তা আপনারা না জানলেও আমি কিন্তু জানি।গল্পকে গল্পের মতো চলতে দিন।অধৈর্য না হয়ে ধৈর্য্য সহকারে সাথে থাকুন।ইনশাআল্লাহ, আপনাদের নিরাশ করবো না।হ্যাপি রিডিং।

❤️NOVA❤️

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here