শিশির_ভেজা_রোদ্দুর Part_17

0
229

শিশির_ভেজা_রোদ্দুর
Part_17
#Writer_NOVA

আকাশ ভেঙে বৃষ্টি। আজ আমার সাথে হয়তো আকাশেরও মন খারাপ। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো মুখ বেয়ে টপটপ করে নিচে পরছে।ইচ্ছে করেই ভিজছি।বৃষ্টির সাথে চোখের পানিগুলো মিশে যাচ্ছে। সকালে তাকে দেখার পর যখন কলেজের পেছন দিকে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠলাম। তখন সেখানেও মিনিট দশেক কেঁদে বাসায় চলে এসেছি। আমি আজ কলেজে থাকলে শেষ হয়ে যেতাম।যদি তার মুখোমুখি হয়ে যাই তাহলেই সমস্যা।বাসার আসার পর নামলো ঝুম বৃষ্টি। তায়াং ভাইয়া তার বন্ধুদের নিয়ে রুমে আড্ডা দিচ্ছে। বৃষ্টির কারণে দুপুরে আজ ইলিশ খিচুড়ি রান্না হবে।খালামণির হাতের ইলিশ খিচুড়ির কোন তুলনা হয় না।তাই আকাশে মেঘ জমলেই তায়াং ভাইয়ার আবদার সেদিন ইলিশ খিচুড়ি রাঁধতে হবে।বাসায় আসার পর থেকে ভীষণ খারাপ লাগছিলো।খালামণি কিংবা বাসার কেউ আমাকে দেখেনি।একবার তায়াং ভাইয়ার রুম অব্দি গিয়েছিলাম।পর্দা সরিয়ে দেখলাম অনেক মানুষ। তাই ভাইয়াকে না ডেকেই ছাদে চলে এলাম।ইচ্ছে হলো বৃষ্টিতে ভেজার সাথে কান্না করে মনটা হালকা করি।আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের মনের আর্জিগুলো জানালাম।

—আল্লাহ সবই তো ভুলে গিয়েছিলাম আমি।সব ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করেছি।তবুও কেন সে আমার কাছে চলে এলো।তাকে ছাড়া ভালোই তো ছিলাম।কেন অতীত মনে করাতে সে চলে এলো?আমাকে কি তুমি শান্তিতে বাঁচতে দিবে না। যে মানুষটা আমাকে জীবনের মাঝরাস্তায় এসে হাত ছেড়ে দিলো,এতো এতো স্বপ্ন দেখিয়ে সবকিছু নিজে ভেঙেচুরে, মিথ্যে অপবাদ দিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চলে গিয়েছিলো।তাকে কেন আমার চোখের সামনে আনলে? আমি কি সব ভুলে হাসি-খুশিতে জীবন পার করতে পারবো না? তুমি কি জানো না, তাকে নিজের চোখের সামনে দেখলে আমি আবারো আত্মহত্যার চেষ্টা করবো?একবার আত্মহত্যা করতে গিয়ে বেঁচে ফিরেছি।

হাঁটু মুড়ে বসে দুই হাত ঢেকে বেশ কিছু সময় চিৎকার করে কাঁদলাম। হঠাৎ নিজের মনের ভেতর থেকে একটু সাহস উঁকি দিলো।দুই হাত সরিয়ে চোখ, মুখ শক্ত করে নিজের মনে বিরবির করে বললাম,

—কিন্তু আমি তো এখন সেই ভুল কখনো করবো না। আমি নিজের জীবনকে ভীষণ ভালোবাসি।আমাকে সব বাঁধা উপক্রম করতে হবে।একটুও ভেঙে পরবো না আমি।কেন ভেঙে পরবো?যে কিনা সবার কাছে আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নিজে ভালো সেজেছিলো তার জন্য কাঁদবো? একটু কাঁদবো না।আমাকে শক্ত হতে হবে।হ্যাঁ,আমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।তাকে ভুলে আমি যখন নতুন জীবন শুরু করতে পেরেছি তাহলে সে আবার আমার সামনে এলে আমি কেন দূর্বল হবো?একটুও হবো না। একটুও না।

কথাগুলো বলে আবার কান্নায় ভেঙে পরলাম।বৃষ্টির বেগটা আগের থেকে বেড়ে গেছে। সারা শরীর ভিজে একাকার। চুল বেয়ে পানি পরছে।বৃষ্টির পানির সাথে আমার চোখের পানিও ধুয়ে যাচ্ছে। আমার যে এবার ৯ বছরের রেকর্ড ভেঙে জ্বর আসবে তা আমি সিউর।আসুক,আমি ইচ্ছে করে জ্বরকে দাওয়াত করেছি।তাহলে কয়েকদিন কলেজে যেতে হবে না। আর সে যদি এই কয়েকদিন কলেজে আসে তাহলে তার সাথে আমার দেখা হবে না। ছাদের ফ্লোরে জমে থাকা পানির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে এসব ভাবছিলাম। হঠাৎ আমার খেয়াল হলো আমার শরীরে বৃষ্টির পানি পরছে না। সামনে তাকিয়ে দেখলাম জমে থাকা পানিতে বৃষ্টি পরছে। কিন্তু আমার শরীরে বৃষ্টির পানি পরছে না। পেছন ঘুরে দেখলাম আমার মাথার ওপর ছাতা ধরে রাখা। তাকে পা থেকে মাথা অব্দি দেখার আগেই আমার চোখ পানিতে ঝাপসা হয়ে এলো।আমার মনে হলো আমি তায়াং ভাইয়াকে দেখলাম।দ্রুত উঠে তায়াং ভাইয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম।

—তায়াং ভাইয়া আমার অনেক খারাপ লাগছে।জানিস আজ ও আমাদের কলেজে এসেছিলো।ওকে দেখে আমার সারা পৃথিবী থমকে গিয়েছিল। আমি ওকে চোখের সামনে সহ্য করতে পারছিলাম না।তায়াং ভাইয়া আমার সাথে এমন কেন হলো রে?আমি তো ওকে সত্যি ভালোবেসে ছিলাম।তাহলে ও কেন আমায় ঠকালো?আমার সাথে এতো সুক্ষ্ম অভিনয় কেন করলো?তুই না সবসময় বলতি মেয়েরা অভিনয় করে।তাহলে আজ কেন আমি হেরে গেলাম।তবে কথাটা তুই ভুল বলিসনি।হ্যাঁ,মেয়েরা অভিনয় করে। যেমন আমি সব ভুলে হাসি-খুশি থাকার অভিনয় করি।সবাইকে মাতিয়ে রেখে দেখাই আমি ভালো আছি।এখনো মাঝরাতে চোখ বন্ধ করলে ওর কথা কানে এসে বারি খায়।নতুন কাউকে নিয়ে কল্পনা করতে চাইলেও ও এসে হাজির হয়।কেন তায়াং ভাইয়া তার উত্তর কি দিতে পারবি?তুই চুপ করে আছিস কেন?বল কিছু।আমাকে পুরোনো অতীত থেকে মুক্তি দে না রে ভাইয়া।আমি আর সহ্য করতে পারছি না।খুব কষ্ট হয় জানিস। আমি ভালো নেই তায়াং ভাইয়া। আমি ভালো থাকার অভিনয় করি।এখনো যে পুরোনো স্মৃতিগুলো তাড়া করে বেড়ায় আমায়।সেগুলো ভেতরটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়ে শেষ করে দিলো আমায়।আমি মুক্তি চাই ভাইয়া।

বরফ যেমন সামান্য উষ্ণতা পেলে গলে যায়।তেমনি আমি শুধুমাত্র এই ভাইটার সংস্পর্শে এলে পুরো দূর্বল হয়ে যাই।প্রিয় মানুষ তো আমাদের অনেকেই হয়।কিন্তু জড়িয়ে ধরে কান্না করার মতো মানুষ কয়জন হয়? যাকে জড়িয়ে ধরলে সবকিছু ভুলে যাই আমরা।বৃষ্টির বেগ কমে এসেছে। তার সাথে আমার কান্নার বেগ কমে গেছে। এখন ফোপাচ্ছি।তায়াং ভাইয়া ঠায় ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ থেকে একটা শব্দও বের হয়নি।এমনকি সে আমায় জড়িয়েও ধরিনি।শুধু দু-একবার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়েছে। আমার ভেজা শরীর নিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরার কারণে তার শার্টও ভিজে গেছে। হঠাৎ সে মৃদুস্বরে বলে উঠলো,

“হৃদয়হীন মানুষের জন্য কেঁদো না
সে তোমার দিকে ফিরেও তাকাবে না
একটা হৃদয়বান মানুষের জন্য কেঁদো
তাহলে দেখবে,তোমার কান্নার আগেই
সে তোমাকে কাছে টেনে নিবে”

কন্ঠ শুনে আমি ছিটকে দূরে সরে গেলাম।এটা তো তায়াং ভাইয়ার কন্ঠ নয়।অবাক চোখে তাকিয়ে দেখি আমার সামনে এনাজ ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। আমি এতক্ষণ তাহলে তায়াং ভাইয়া ভেবে তাকেই জড়িয়ে ধরেছিলাম।মাঝে মাঝে তায়াং ভাইয়া ও এনাজ দুজনেই একরকম শার্ট-প্যান্ট পরে।তখন যদি ওদের কেউ ভালো মতো খেয়াল না করে তাহলে যময ভাই ভেবে ভুল করবে।একরকম ড্রেসে পেছন থেকে তো পুরো একিরকম মনে হয়।যদিও তাদের চেহারার মিল নেই। তবুও অনেকে খেয়াল না করে ভুলটা করে।আমিও আজ সেম ভুল করেছি।তারা দুজন আজও একি শার্ট-প্যান্ট পরেছে।আমি চেহারা না দেখে বডি দেখে তায়াং ভাইয়া ভেবে তাকে জড়িয়ে ধরেছি।তাছাড়া কতকিছু বলে দিয়েছি।আমি দ্রুত চোখ মুছে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেলাম।পেছনে তাকানোর মতো অবস্থায় আমি নেই।

💖💖💖

বিকেলের পড়ন্ত আলোটা জানালা দিয়ে ঢুকে হাতছানি দিচ্ছে।দুপুরে কোনরকম খেয়ে ঘুমিয়ে পরেছিলাম।এখন উঠে ওয়াশরুম থেকে চোখ, মুখে পানি দিয়ে রুমে ঢুকলাম।চোখ আমার ফুলে লাল হয়ে আছে। আজ ইচ্ছে মতো কান্না করেছি। কান্না করা ও বৃষ্টিতে ভেজার দরুন মাথাব্যাথা উঠে গেছে।এখন শুধু জ্বর বাবাজীর আসার অপেক্ষা।কান্না করায় মনটা অনেক হালকা হয়েছে। সাথে মেজাজটাও অনেক ফুরফুরে।টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ডেসিং টেবিলের সামনে আসতেই চোখ পরলো লাল রঙা একটা কাগজের ওপর।যেটা কফির মগের সাথে চাপা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। যাতে উড়ে যেতে না পারে।আশেপাশে তাকিয়ে কারো অস্তিত্ব খুঁজে পেলাম না।কফির মগটা সরিয়ে কাগজটা হাতে নিলাম।

ডিয়ার মাই লাভ💘,
আমি কোনদিনই জানতে চাইবো না তোমার অতীতে কে ছিলা। ওসবে আমার মাথা ব্যাথা নেই।আমার কাছে তুমি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তোমার কুমারীত্ব পরীক্ষা করে দেখার জন্যে আমি বসে নেই।তোমার শরীরে কারো গন্ধ লেগে আছে কিনা, এটা শুকে দেখার বিন্দু মাত্র ইচ্ছা আমার নেই।শুধু তোমাকে বলবো, যদি তোমার কখনো খুব কাঁদতে ইচ্ছে হয়। প্লিজ আমাকে জড়িয়ে ধরে শার্ট ভিজিয়ে কেঁদো।তোমার চোখে কখনো রাজ্যের সব ঘুম নেমে আসে আমার বুকে মাথা রেখে একটু ঘুমিয়ো। ভরদুপুরে একাকীত্ব বোধ করলে আমায় একটু ডেকো।আমাকে ভালো-টালো না বাসলেও চলেবে। শুধু তুমি ভালো থেকো।তোমার অভিমানের পালা শেষ হলে আমাকে পাশে ডেকো।বেশি কিছু চাই না। শুধু তোমার পাশের বালিশে আমার একটু জায়গা দিয়ো। যেনো চোখ খুলে তোমার মায়া ভরা মুখটা দেখতে পারি।আর তোমার ঐ মায়াবী চোখ পাকানোটা উপভোগ করতে পারি।

তবে একটা কথা অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ এ অনেক গুলো অপশনের মধ্যে আমি একটা অপশন থাকবো এমন টা চাই না।আমি চাই তোমার জীবনে একটাই অপশন থাকবে আর সেটা শুধু মাত্র আমি।হ্যাঁ, শুধুই আমি।সব ভুলে আমাকে আপন করে নাও।
প্রমিজ করছি তোমার অতীত যতই বিষাক্ত হোক না কেন আমি কখনও মনে আসতেই দিবো না।

ইতি তোমার
ভালোবাসার কাঙাল

লেখাগুলো পড়তে গিয়ে আনমনেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো। আমার এনাজকে ভীষণ সন্দেহ হচ্ছে। আমার মনে হয় এই চিরকুটগুলো এনাজই দিচ্ছে। কিন্তু প্রমাণ ছাড়াতো আন্দাজে ঢিল মারতে পারি না। এখন শুধু প্রমাণ পেয়ে হাতেনাতে ধরতে পারলেই হলো।চিরকুটটা আগেরগুলোর সাথে টেবিলের ড্রয়ারে রেখে খাটে বসে কফির মগে চুমুক দিলাম।

—নোভাপু, এই ঔষধ দুটো খেয়ে নাও।তায়াং ভাইয়া পাঠিয়েছে। তুমি না খেলে বলেছে বকবে।

তন্বী এক গ্লাস পানি ও দুটো টেবলেট নিয়ে রুমের ভেতরে ঢুকলো।বাইরে এখনো বৃষ্টি নেই। তবে আকাশ গুড়ুম গুড়ুম শব্দ করছে।সাথে ঠান্ডা বাতাস বইছে। আমার প্রচুর শীত করছে।কফিটা জলদী শেষ করে কাঁথা মুড়ি দিয়ে জুবুথুবু হয়ে বসলাম।তন্বী আমার দিকে ঔষধগুলো বাড়িয়ে দিয়ে বললো,

—জলদী খেয়ে নাও।নয়তো আমাকে বকবে।বৃষ্টিতে আজ অনেক ভিজছো।পাক্কা জ্বর আসবে।

—এতবড় টেবলেট আমার গলা দিয়ে নামবে না।তুই জানিস না আমি টেবলেট খেতে পারি না।গলায় বেজে থাকে।আমি খাবো না, সর।

—খেতে না চাইলে জোর করে খাইয়ে দেওয়ার হুকুম আছে। নয়তো আমাকে বকে উদ্ধার করে ফেলবে।

—তায়াং ভাইয়া কোথায়?

—দুপুরে একবার এসে তোমাকে দেখে গেছে। তুমি তখন ঘুমাচ্ছিলে।তাই ডাক দেয়নি।নাও ঔষধগুলো খেয়ে নাও।

—আমি খাবো না। প্লিজ তন্বী জোর করিস না।

—কোন কথা শুনছি না।

তন্বী জোর করে ঔষধ দুটো খাইয়ে দিলো।আমি আরো দুই গ্লাস পানি ঢকঢক করে শেষ করলাম।তারপরেও মনে হচ্ছে গলায় ঔষধ বেজে আছে। কাঁথা মুড়ি দিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। ঠান্ডা বাতাস ততটা গায়ে না লাগলেও শীত করছে।পাশের বারান্দার দিকে তাকিয়ে তন্বীকে জিজ্ঞেস করলাম,

—ইফাত,সিফাত কোথায় রে? কয়েকদিন ধরে ওদের দুজনকে যে দেখছি না।আমার ভালুপাসা ও ছোট দেবরটাকে আজকাল দেখি না।

—ইস, কত ভালুপাসা। একদম বাইয়া চাইয়া পরতাছে।তা তুমি কি তোমার ভালুপাসাটাকে মিস করছো নাকি?

—আরে ধূর,যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দে।

—ওরা দুজন ওদের নানাবাড়ি গিয়েছিল। আজ সকালে তো ফিরেও এসেছে।

তন্বীর কথা শেষ হতেই ইফাতদের বারান্দার দরজাটা খট করে খুলে গেলো।এদিক সেদিক তাকিয়ে পা টিপে টিপে ইফাত আমাদের বারান্দার রেলিঙের সামনে এসে দাঁড়ালো। আমি চোখ ছোট ছোট করে ওর কার্যকালাপ পর্যবেক্ষণ করছি।হুট করে আমাকে দেখে চমকে উঠলো। আমি কাঁথা মুড়ি দেয়া ছিলাম বলে বেচারা বোধহয় আমাকে খেয়াল করতে পারেনি।

—বউ তুমি 😍।

—পিচ্চি আমাকে বউ বলে ডাকবি না।আমি তোর বড় বোন।আরেকবার বউ বললে থাপড়াইয়া তোরে অজ্ঞান করমু।তারপর তোর কিডনি বেঁচে দিবো।

—পারবা না তুমিও তো আমারে ভালোবাসো।এই যে আমার জন্য বারান্দার দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতাছো।

—তোর ভালুপাসা ছুটাইতাছি।বারান্দায় দেখে সাহস বেড়ে গেছে। দাড়া আমি আসতেছি।

—এই নাও এটা তোমার।

সেদিনের মতো করে ছোট একটা কাগজ মুড়িয়ে ছুঁড়ে মেরে রুমের ভেতর দৌড় দিলো।যাওয়ার আগে ঠোঁট দুটো চোখা করে আমাকে কিসি দেখালো।সাথে দুই চোখ মেরে দিলো। এক চোখ মারতে পারে না বেচারা।এক চোখ মারতে গেলে ওর দুই চোখ বন্ধ হয়ে যায়।আমার চোখ দুটো এখন শুধু কোটর থেকে বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম। মুড়ানো কাগজটা খুললাম।আজও একশ একটা বানান ভুল হওয়া চিঠি দিয়েছে।

বউ,
এই কয়টা দিন তুমারে আমি অনেক মিস করছি যানো।আমি নানাবাড়ি থাকলেও আমার মনটা ছিল তুমার কাছে।ঘুমানোর লিগা চোখ বন্ধ করলেই তুমার মুখটা ভাইসা উঠতো।যার কারনে আমি ঘুমাইতে পারতাম না। তুমি যানো আমি বাসায় আসার লিগা প্রতেকদিন কানতাম। সুধু তুমারে দেখার জন্য। তুমারে ছাড়া আমার দিনগুলো যাইতাছিলো না।বাসায় থাকলে তো লুকাইয়া তুমারে যা এট্টু দেখতাম।কিন্ত নানাবাড়িতে তুমারে দেখি না।তাই আমার মন অনেক খারাপ লাগতো।আজকে বাসায় আইসা তুমারে দেখার পর আমার সবকিছু ভালো লাগা শুরু করছে।আমি তুমারে সত্য অনেক ভালবাসি।কিন্ত তুমি বুঝো না।

ইতি তুমার
ইফাত

আহা, কি ভালুপাসা!! সবাই এখন আমাকে চিঠি দিতে ব্যস্ত।একজনকে তো হাতেনাতে ধরতে পারতেছি না।আরেকজন আমার বিরহে পাগল হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য এটা সত্যি আমি চিঠি পড়ে আমি এখন কোমায় আছি।কোমা ফিরে আসলে বাকিগুলো বলবোনি।

কিন্তু রাতে……

#চলবে

আগামীকাল গল্প না দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই আজকে একটু বড় করে দিয়ে দিলাম।যদি দিতে পারি তাহলে অবশ্যই গল্প দিবো।না দিতে পারলে কেউ অপেক্ষা করেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here