শিশির_ভেজা_রোদ্দুর Part_57

0
190

শিশির_ভেজা_রোদ্দুর
Part_57
#Writer_NOVA

(নিচের কথাগুলো অবশ্যই পড়বেন)

সকালবেলা আম্মুর পা জড়িয়ে ধরে ফ্লোরে হাত-পা ছড়িয়ে বসে আছি। মাদার বাংলাদেশ আমার হেব্বি রেগে আছে। তায়াং ভাইয়া খালামণির পা ধরে বসে আছে। দূরে দাঁড়িয়ে আমাদের কান্ড দেখে এনাজ,
এনাম মিটমিট করে হাসছে। আমরা দুজন যা শুরু করেছি তাতে হাসি আসারই কথা। কত কিছু করে পটানোর চেষ্টা করছি কিন্তু একটুও পটছে না। দাদী তো রেগে খালামণির রুমে দরজা আটকে বসে আছে। আম্মু বাজখাঁই গলায় বললো,

— নোভা, পা ছাড় বলছি।

— মাফ করে দাও না আম্মু।

— কে আম্মু, কিসের আম্মু? তোর আম্মু মরে গেছে। আমি যদি তোর আম্মু হতাম তাহলে এভাবে আমাদের মুখে চুনকালি মেখে পালাতে পারতি না।

— এখানে চুনকালি লাগানোর কি হলো? তোমাদের দুই বোনকে আমরা দুই ভাই-বোন আগেই বলছি আমরা এই বিয়ে করতে পারবো না। তাতো কোন গুরুত্ব দেওনি। ধরে-বেধে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছো। একবারও জিজ্ঞেস করেছো আমরা এই বিয়েতে রাজী আছি কিনা? আমরা কোন উপায় না পেয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি।

আম্মু মুখটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে রেখেছে। তায়াং ভাইয়া খালামণিকে বললো,

— তোমাকে আমি সব খুলে বললাম। তবুও তুমি জোর করে কেন আমাকে বিয়ে দিতে চাইলে বলো তো? দাদীর সাথে সাথে তোমারও মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

খালামণি সোফার উল্টোদিকে তাকালো। সেখানে পাশাপাশি ইভা ও তন্বী দাঁড়িয়ে আছে। ওদের দিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে বললো,

— তোদের যারা পালাতে সাহায্য করেছে তাদের বিচার আগে হবে। তারপর তোদেরকে ধরবো।

খালামণির কথাটা বলতে দেরী তন্বী ও ইভার সেখান থেকে চম্পট দিতে দেরী নয়। ওদের দৌড় দেখে আমার ভীষণ হাসি পেলো। কিন্তু এখন হাসলে আমার কপালে শনি আছে। মামা,আব্বু সোফায় বসে আছে।আব্বুর মুখটা গম্ভীর হয়ে আছে।তার সামনে যাওয়া তো দূরে থাক তার দিকে তাকাতেও আমার ভয় করছে। আমি তায়াং ভাইয়াকে ঠেলা দিয়ে ইশারা করে আব্বুর সাথে কথা বলতে বললাম। তায়াং ভাইয়া ইশারায় মানা করলো। আমি এবার ওকে একটা জোরে চিমটি কাটলাম। ও আহ্ করে মৃদু চিৎকার দিয়ে আমার দিকে ক্রুর দৃষ্টি দিলো। আমি মোলায়েম একটা হাসি দিয়ে ওকে ইশারায় আবার অনুরোধ করলাম। ভাইয়া খালামণির পা ছেড়ে আব্বুর সামনে দাঁড়ালো।

— খালু আমার কিছু কথা ছিলো।

— হুম বলো।

— যদিও আমরা একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছি। তাও মাফ চাইছি। কথাগুলো আমাদের আগেই বলে ফেলা উচিত ছিলো। তাহলে আর এত ভেজাল হতো না।

— ভাগ্যিস ঘরোয়াভাবে বিয়ের আয়োজন করেছিলাম। নয়তো আমাদের মান-সম্মান যতটুকু ছিলো তাও হারাতাম।

— আমরা দুজন দুজনকে ভাই-বোনের চোখে দেখি। তাই বিয়েটা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পালিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় পাইনি। আপনারা কেউ আমাদের কোন কথাই শুনতে চাইছিলেন না।

— দেখো বাবা তায়াং। আমারও আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে পছন্দ নয়। নোভার আম্মু তোমাকে অনেক পছন্দ করে। তাই তার জোড়াজুড়িতে এক প্রকার বাধ্য হয়ে বিয়েতে রাজী হতে হয়েছে। তবে আমি মন থেকে চাইনি বিয়েটা হোক। আমার বড় মেয়েকে আমি পাঁচজন নিয়েই বিয়ে দিবো। তবে এক জায়গায় আমারও ভুল হয়েছে। তোমাদের মতামতটা নেওয়া প্রয়োজন ছিলো। আমরা তোমাদের ওপর আমাদের মতটা চাপিয়ে দিয়েছি। এটা অন্যায় হয়েছে।

আব্বুর কথা শুনে আমার চোখ দুটো রসগোল্লা হয়ে গেলো। এক লাফে আম্মুর পা ছেড়ে সোফায় গিয়ে আব্বুকে জড়িয়ে ধরলাম। সামনের পাটির দাঁত দেখিয়ে আব্বুকে বললাম,

— শুকরিয়া আব্বু। যাক তুমি তো বুঝতে পেরেছো। আর কাউকে লাগবে না আমার। এবার একটু আম্মুকে এই সহজ বিষয়টা বুঝিয়ে দাও।

— তবে মা-মণি তুমি পালিয়ে যেয়ে কাজটা ঠিক করোনি।

— আমি জানি আব্বু। কিন্তু আর কোন আইডিয়া মাথায় আসেনি। সরি তার জন্য ☹️।

তায়াং ভাইয়া কিছু সময় থেমে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো,

— আমি সবাইকে একটা কথা বলতে চাই।

খালামণি দৃষ্টি অন্য দিকে ঘুরিয়ে কঠিন গলায় বললো,
— তোর কোন কথা শুনতে আমরা আগ্রহী নই।

— তোমাদের শুনতে হবে আম্মু। এই কথাটা আরো আগে বললে এতকিছু হতো না। তুমি তো জানো। কিন্তু তার নামটা জানো না। আমি তার নামটা একসাথেই সবাইকে জানিয়ে দিতে চাইছি।

মামা জিজ্ঞেস করলো,
— কি কথা তায়াং বাবা?

ভাইয়া কিছু সময় জোরে দম নিয়ে বললো,
—আমি নূরকে পছন্দ করি। বিয়ে করলে ওকেই করবো।

সবাই একসাথে চমকে তায়াং ভাইয়ার দিকে তাকালো। মামা,মামী দুজনেই বিস্মিত চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। খালামণি জানতো ভাইয়া একটা মেয়েকে পছন্দ করে। কিন্তু সে যে নূর আপি তা জানতো না। তাই সেও চোখ বড় বড় করে ভাইয়ার দিকে তাকালো। তায়াং ভাইয়া চোখ দিয়ে ইশারা করে এনাজকে কিছু বলতে বললো। এনাজ সামনে এসে মাথা চুলকে বোকা ভঙ্গিতে আব্বুকে বললো,

— আঙ্কেল আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।

আব্বু ভ্রু জোড়া কুঁচকে এনাজের দিকে তাকিয়ে বললো,

— কি কথা?

— আপনাদের যদি আপত্তি না থাকে তাহলে আমি নোভাকে বিয়ে করতে চাই।

এনাজের কথা শুনেই আব্বুর কপালে ভাজ পরলো। মুখের হাসিটাও মলিন হয়ে গেলো। আমার ভয় করছে। আব্বু যদি এনাজকে মানা করে দেয়। আব্বু কিছু সময় চুপ থেকে বললো,

— তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে পাঁচজনকে নিয়ে এসো। আমি তাদের সাথে কথা বলবো।

— আঙ্কেল আমার কেউ নেই। আমি এতিম ছেলে। যারা আছে তাদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। আপনি আমার বিষয় খোঁজ খবর নিন। তারপর আপনার যদি মনে হয় আমি খারাপ তাহলে রিজেক্ট করে দিবেন। কিন্তু আমাকে ভালো ছেলে হিসেবে চিহ্নিত করলে অবশ্যই আপনার বড় মেয়েকে আমার হাতে তুলে দিতে হবে।

— আমি পাঁচজন ছাড়া তো আমার মেয়েকে দিতে পারি না। আমরা একটা সমাজ নিয়ে চলি বাবা। সবদিকে নজর রাখতে হয়। তাছাড়া এটা আমার আদরের বড় মেয়ে। দশ জায়গা দেখে এক জায়গায় দিবো। তায়াং-এর সাথে বিয়েতে আমি রাজী ছিলাম না। তাতো একটু আগে বললামই। একবার ও ভুল করেছে। তাই ওকে নিয়ে আমি একটু বেশি সেনসেটিভ।

— আঙ্কেল আপনার মেয়ে আমার সাথে থাকবে। ওর দায়িত্ব আমার। এখানে সমাজের কথা বললে তো হবে না। তাছাড়া আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। এর থেকে বড় কোন কথা তো থাকতে পারে না।

💖💖💖

তাদের দুজনের কথার মাঝে আমরা কেউ কোন কথা বলছি না। সবাই নীরব দর্শকের ভুমিকা রাখছে। তাদের কথার চক্করে তায়াং ভাইয়ার নূর আপিকে পছন্দ করার কথাটা ধামাচাপা পরে গেলো। আব্বু মুখটাকে থমথমে করে এনাজকে বললো,

— দেখো এনাজ যা বলার তাতো বলেই দিলাম। তুমি তোমার পরিবারের পাঁচজন নিয়ে আসো। আমি তাদের সাথে বসে কথা বলবো। তারপর ভেবে দেখবো তোমার সাথে আমার মেয়ে বিয়ে দিবো কিনা। তুমি যদি আমার মেয়েকে ভালোবেসে সুখে রাখতে পারো তাহলে তোমার হাতেই নির্দ্বিধায় তুলে দিবো।

এনাজ শক্ত গলায় আব্বুর কথার প্রতিবাদ করে বললো,

— আমি তো পাঁচজন আনবো না আঙ্কেল। যারা আমার বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর একদিন একটা খোঁজ নেয়নি, একটু উঁকি মেরে দেখেনি আমরা কেমন আছি। বেঁচে আছি নাকি মরে গেছি। কিভাবে চলছি কি করছি।তাদের কে কেন আনবো আমি? চাচারা এতিমের সম্পদটুকু কেড়ে নিয়েছে। এখন তাদের আনতে হলে আমার তেল মাখতে হবে, হাতে-পায়ে পরতে হবে।শুধুমাত্র বিয়ের জন্য তাদের হাত-পায়ে তো ধরবো না আমি। আমি তাদের মুখও দর্শন করতে চাই না। আমি এই বিষয়টা মানতে পারলাম না আঙ্কেল।

— তুমি পাঁচজন না আনলে তো আমি কথা এগুতে পারছি না। আমার মেয়েকে তো সারাজীবনের সিকিউরিটি দিয়ে কারো হাতে তুলে দিতে হবে। পরবর্তীতে আল্লাহ না করুক কোন দূর্ঘটনা ঘটলে আমাদের কপাল চাপড়াতে হবে।

— আঙ্কেল আমি এতিম বলে কি আমার জন্য এতো শর্ত জুড়ে দিলেন? আমার ওপর কি বিশ্বাস হচ্ছে না আপনার? তায়াং-কে জিজ্ঞেস করুন। ওর থেকে ভালো আমাকে আর কেউ চিনে না।

— যা বলার তাতো বলেই দিলাম। তুমি পাঁচজন নিয়ে আসো তারপর দেখা যাবে।

আমি শুকনো মুখে এনাজের দিকে তাকালাম। ওর মুখটা বিষন্ন লাগছে। তায়াং ভাইয়া চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কিছুটা সাহস যুগিয়ে আব্বুকে বললাম,

— আব্বু আমার কথাটা একটু শুনো প্লিজ……

পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই আব্বু হাত উঠিয়ে আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো,

—একবার ভুল করেছো। ২য় বার এমন কিছু করো না। তোমার কোনটা ভালো সেটা আমাদের থেকে বেশি তুমি বুঝো না। তোমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমি ও তোমার আম্মু এখনো বেঁচে আছে। নিজেকে বড় ভেবো না। তুমি আমাদের কাছে সবসময় ছোটই থাকবে।

আব্বু দ্রুত রুমে চলে গেলো।আব্বুর সাথে সাথে আম্মু,খালামণি, মামা মামীও চলে গেল। ড্রয়িংরুমে শুধু আমি, এনাজ, তায়াং ভাইয়া, এনাম। আমি ছলছল চোখে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। এনাজ আমার সামনে এসে টলমল চোখে বললো,

— এতিম হয়ে বোধহয় জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করেছি। আমাদের কদর কোথাও নেই। সব জায়গায় আমাদেরকে চোখের আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয় আমরা এতিম। সবার সাথে টক্কর দেওয়া আমাদের বোকামি। আচ্ছা, আমরা কি ইচ্ছে করে এতিম হয়েছি? কেউ কি চায় ইচ্ছে করে এতিম হতে? এটা কি আমাদের দোষ?

আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
— কি বলছেন এসব? এতিম হওয়া দোষের কেন হবে? আপনাদের ভাগ্য আল্লাহ বাবা-মা রাখেনি। এতে আপনাদের দোষ কেন হবে?

—যদি দোষ না হয় তাহলে কেন সবক্ষেত্রে আমাদেরকে নিচু করে দেখা হয়। তোমার বাবার মতো বুদ্ধিমান মানুষের দ্বারা এমন কিছু আশা করিনি। সত্যি আমি আশাহত।

— এনাজ আমার কথাটা শুনেন।

— ব্যাস অনেক শুনেছি নোভা। এভাবে ডেকে এনে অপমান না করলেও পারতে। তোমার কথায় শুধুমাত্র এখানে এসেছিলাম। তুমিও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলে আমি তোমার যোগ্য নই।

— কি উল্টো পাল্টা বকছেন? এখানে আমি কি করলাম? আপনি আমাকে শুধু শুধু ভুল বুঝছেন কেন? আমি কি বলেছি আপনি আমার যোগ্য নন?

— থাক আর কোন কথা শুনতে হবে না। আমি পাঁচজন নিয়ে আসতে পারবো না। আমার ওপর ভরসা করে যদি তোমার বাবা-মা বিয়ে দেয় তাহলে আমি সর্বদা চেষ্টা করবো তোমাকে রাণী করে রাখতে।

—একটু অপেক্ষা করুন আমি আব্বুকে মানিয়ে নিবো।ধৈর্য্য ধরুন সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি সব ঠিক করে ফেলবো। তবে আপনাকে আমার হাত শক্ত করে ধরে রাখতে হবে। মাঝপথে ছেড়ে দিলে চলবে না।

— আমি তোমার হাতটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য ধরিনি। তোমাকে আমার প্রয়োজন। সবকিছুর বিনিময়ে হলেও তোমাকে আমার হাসিল করতে হবে। কিন্তু এমন হলে তো আমাকে হতাশা ঘিরে ফেলবে। আমার বেঁচে থাকা দায় হয়ে যাবে।উনি কথাটা অন্যভাবেও বলতে পারতো। আমার দিক বিবেচনা না করে উনি নিজের রায় দিয়ে দিলো। এটা আমি মানতে পারছি না।

আমার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে এনামকে বললো,
—এনাম চল, আমাদের জন্য সবকিছু বরাদ্দ নেই রে ভাই। শুধুমাত্র এতিম হওয়ার কারণে বোধহয় আমরা এতো অপমানিত হয়। আমাদের ভালোবাসার কোন দাম নেই। সবচেয়ে বড় কথা আমরা এতিম।

এনাজ চোখের পানি মুছে আমার দিকে ঘুরে কান্না জড়ানো কন্ঠে বললো,

— তোমার বাবা এতো ঘুড়িয়ে-পেচিয়ে কথা না বলে আমাকে সরাসরি বলে দিতে পারতো কোন এতিম ছেলের সাথে তার মেয়েকে বিয়ে দিবে না।

আমি রেগে বললাম,
— তখন থেকে কি এতিম এতিম বলা শুরু করেছেন? আমার বাবা কি একবারো এই শব্দটা উচ্চারণ করেছে? এবার কিন্তু বেশি বুঝছেন আপনি।

— আমি বেশি নই সঠিকটাই বুঝছি। সেই ছোট বেলা থেকে একা একা জীবনযুদ্ধ করে এসেছি। কার কথা বলার ভঙ্গি কোনদিকে ইঙ্গিত করে তা বোঝার ক্ষমতা আমার আছে নোভা। তবুও যদি তোমার আব্বু আমাকে বিশ্বাস করে তোমাকে আমার হাতে তুলে দিতে পারে তাহলে আমাকে বলো। আমি খুশিমনে সব ভুলে তোমাকে গ্রহণ করতে চলে আসবো। আমার কোন অভিযোগ কিংবা দাবীদাওয়া থাকবে না। আমার শুধু তুমি হলেই চলবে।আসছি, ভালো থেকো।

এনাজ ওর ভাইয়ের হাত ধরে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। আমি তায়াং ভাইয়ার দিকে তাকালে সেও আমার দিকে কপাল কুঁচকে তাকালো। আমি ধপ করে সোফায় দাঁড়ানো থেকে বসে পরলাম। চোখ দুটো দিয়ে আপনাআপনি পানি পরছে।সারা পৃথিবী ঘুরছে আমার। এমনটা না হলেও পারতো!

#চলবে

আসসালামু আলাইকুম। অনেকেই বলছেন আপু ওদের বিয়ে দিয়ে দিন। বিয়ের পরের কাহিনি দেখতে চাই। হ্যাঁ আমি আবার বিয়ে দিবো। তবে আরেকটু কাহিনীর পর।এখন হয়তো অনেকে আমার ওপর রাগবেন বিয়ে দিবো যখন তাহলে কেন এই প্যাচ লাগালাম?কারণটাও বলছি। আমার এই গল্পের থিমটা নিশ্চয়ই সবাই এতদিনে বুঝতে পেরেছেন। থিমটা হলো একটা মধ্যবিত্ত পরিবারকে ঘিরে। তাই আমি সবকিছু বাস্তবতার আলোকে সাজানোর চেষ্টা করছি। বাস্তবে আমার মনে হয় না কোন মেয়ের বাবা তার আদরের মেয়েকে সিকিউরিটি ছাড়া একটা এতিম ছেলের হাতে তুলে দিবে। যদি সেটা নাটক, সিনেমা হয় তাহলে আরেক কথা। সব বাবা-মা টাকা-পয়সা দেখে মেয়ে বিয়ে দেয় না। অনেকে মেয়ের জন্য ভালো ছেলেও খুঁজে। যে তার মেয়েকে সারাজীবন সুখে রাখতে পারবে। বাবা-মা চায় তার সন্তানের সুখে থাকার সিকিউরিটি।

আরেকটা কথা– দয়া করে কেউ বলেন না আপু এটা কেন করলা, ঐটা কেন এমন হলো। আপনারা এসব কথা বললে আমি থিম গুলিয়ে ফেলি।এতে দেখা যায় গল্পের পর্বটা এলেমেলো হয়ে যায়। গল্পের থিমটা আমাকে আমার মতো সাজাতে দিন।ইন শা আল্লাহ খুব শীঘ্রই আমি সব ঠিক করে আপনাদের ভালো কিছু উপহার দিবো। যদি আমার কোন ভুল হয় তাহলে আমাকে জানিয়ে দিবেন। আমার ভুল কেউ ধরিয়ে দিলে আমি অনেক খুশি হই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here