শিশির_ভেজা_রোদ্দুর Part_59

0
201

শিশির_ভেজা_রোদ্দুর
Part_59
#Writer_NOVA

— নুবা!

সোফায় দুই পা মুড়ে বসে, কোলে বিশাল বড় প্লেট রেখে গাজরের খোসা ছাড়াচ্ছিলাম। মনোযোগটা পুরো দমে কাজের মধ্যেই ছিলো। হঠাৎ ইফাতের বিখ্যাত “নুবা” ডাক শুনে চমকে ওর দিকে তাকালাম। বেচারার মুখটা কিরকম শুকনো লাগছে। সেই শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে আমি রাগ করতে পারলাম না। মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করলাম,

— কিছু বলবি ইফাত?

ইফাত মাথা উপর-নিচে করে বললো,
— হুম।

— কি বলবি বলে ফেল।

— তুমি কি ব্যস্ত?

— হুম একটু বলা যায়।

— গাজর দিয়ে কি করবে?

— গাজরের হালুয়া বানাবো।

— তুমি হালুয়া রান্না করতে পারো?

— হুম পারি।

— আমার আম্মুরও গাজরের হালুয়া অনেক পছন্দ।

— তাই নাকি! বাহ ভালোই তো।তাহলে বানিয়ে আন্টিকে দিয়ে আসবোনি। তোর পছন্দ নয়?

— আমার ততটা ভালো লাগে না।

— ওহ আচ্ছা।

আমি সোফার এক সাইড সরে ওকে জায়গা করে দিয়ে বললাম,

— এখানে বস।

ইফাত চুপচাপ এসে আমার পাশে বসলো। মাঝে মাঝে কাজ করার সময় একজন কথা বলার মানুষ পেলে আমার ভালোই লাগে। এমনি একা একা বোরিং হচ্ছিলাম। মনে মনে আল্লাহর কাছে একটা কথা বলার মানুষ চাইছিলাম। আল্লাহ মিলিয়েও দিলো। আজ মন ভালো নেই বলে কলেজেও যাইনি। তন্বী একাই চলে গেছে। একা থাকতে থাকতে বিরক্ত লাগছিলো। তাই ভাবলাম কিছু রান্না করি সময় কেটে যাবে। দাদী তো আমার সাথে চার-পাঁচ দিন ধরে কথা বলে না। খালামণি অবসর সময়ে দাদীর সাথে গল্প করে।কিংবা মোবাইলে সিরিয়াল দেখে, সবার সাথে ইমো তে কথা বলে। ইফাত কিছু সময় চুপ করে আমার কাজ দেখলো। তারপর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ভুবন ভুলানো একটা হাসি দিয়ে বললো,

— কার জন্য রান্না করবে?

— তায়াং ভাইয়র জন্য। ও গাজরের হালুয়া অনেক পছন্দ করে। ফ্রীজে গাজরগুলো কবের থেকে পরে আছে। কিছুই করা হয় না। তাই ভাবলাম ওর জন্য একটু হালুয়া করে ফেলি।তোর স্কুল নেই আজকে?

— মাথাব্যথা করছিলো। তাই আম্মু বললো যেতে হবে না। সিফাত একটু পর যাবে।

— তুই আজ এত ভদ্র ছেলে যে? অন্য সময় তো বউ বউ করে কান পচিয়ে ফেলতি। কি হয়েছে?

— আম্মুর শরীরটা কয়েকদিন ধরে ভালো না জানো। আম্মু খালি উল্টোপাল্টা কথা বলে। উনি নাকি মারা যাবে আরো কতকিছু। আমার না অনেক খারাপ লাগে। তার কিছু হলে আমাদের কি হবে বলো তো?

কথাগুলো বলতে বলতে ইফাতের চোখ দুটো টলমল করে উঠলো। আগের পিচ্চি ইফাতের সাথে আজকের পিচ্চির অনেক তফাৎ। নেই কোন দুষ্টমী করার তাড়া। বরং মা কে হারানোর ভয় তার চোখে স্পষ্ট। তার জন্য হয়তো দুষ্টমীগুলো তাকে ছেড়ে পালিয়েছে। আমি প্লেটটা সামনের টি-টেবিলে রেখে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,

— চিন্তা করিস না। কিছু হবে না আন্টির।

— আম্মুর কিছু হলে আমি বাঁচবো না আপু।

মাথা নিচু করে ডুকরে কেঁদে উঠলো ইফাত। ওর কথার মধ্যে আজ আমি কোন বাচ্চামো খুঁজে পাচ্ছি না। বরং মনে হচ্ছে কোন বড় মানুষের সাথে কথা বলছি। কোথায় জানি পড়েছিলাম,”বাবা-মা হয়তো জানে না সন্তানরা নিজের মৃত্যুর থেকেও বেশি ভয় পায় তাদের মৃত্যুকে।” কথাগুলো চিরন্তন সত্য। এমনি ভালো লাগছিলো না তার মধ্যে ওর কান্না যেন আমার মনকে আরো খারাপ করে দিলো। ওর মাথা উঠিয়ে চোখের পানিটুকু মুছিয়ে দিয়ে বললাম,

— তুই না গুড বয়? গুড বয়রা তো কখনও কান্না করে না। বরং কোন কিছুতে ভেঙে না পরে শক্ত হয়ে থাকে। আচ্ছা এখন এসব কথা বাদ দে। কি জন্য এসেছিস তাই তো বললি না।

— আম্মু তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছে।

— এ মা কি বলিস? আগে বলবি না। আচ্ছা চল আন্টির সাথে দেখা করে আসি। তবে তুই একটু অপেক্ষা কর আমি ফ্রীজ থেকে দুধের বোতল বের করে ভিজিয়ে রেখে আসি। এই যাবো আর আসবো।

— দুধ দিয়ে কি করবে?

— পায়েস রান্না করবো।

— তুমি পায়েসও রান্না করতে পারো?

ইফাত বিস্মিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে কথাটা বলতেই আমি ফিক করে হেসে উঠলাম। ওর মুখের রিয়েকশন দেখে না হেসে পারলাম না। ইফাত আবারো তাড়া দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

— বললে না, তুমি পায়েস রান্না করতে পারো?

— না পারি না।

— তাহলে রান্না করবে কি করে?

— ইউটিউব দেখে। নয়তো খালামণি দেখিয়ে দিবে।

পায়েসটা পোলাওয়ের চাল দিয়ে রান্না করবো।আমি পোলাও জাতীয় রান্নাগুলোতে পানির আন্দাজ বুঝি না। তাই এই খাবারগুলো ছাড়া বাকি সবই পারি। পোলাওয়ের চালে পানিটা পরিমাণ মতো দিতে হয়। বেশি দিলে চাল গলে যাবে, কম দিলে ফুটবেই না৷ তাই পোলাওয়ের চাল দিয়ে তৈরি রান্নাগুলো আমার কাছে এক্সট্রা ঝামেলা মনে হয়। পায়েস এনজিও সংস্থার ভীষণ পছন্দ। তার জন্য রান্না করে পাঠিয়ে দিবো। যদি মহাশয়ের ইগনোর করাটা একটু কমে তাই। কিচেনে গিয়ে ফ্রীজ থেকে দুধের বোতল বের করে ছোট বালতিতে ভিজিয়ে রাখলাম। ওড়নায় হাত মুছতে মুছতে ড্রয়িংরুমে এসে ইফাতকে বললাম,

— হুম চল।

— হালুয়া বানাবা না?

— পরে। আগে তোর আম্মুর কাছ থেকে আসি।

— পায়েসও কি তায়াং ভাইয়ার জন্য রান্না করবে?

— না।

— তাহলে কার জন্য।

— তায়াং ভাইয়ার বন্ধু এনাজের জন্য। ঐ যে সেদিন যার কোলে বসে দুষ্টামী করেছিলি তার জন্য।

— ওহ্।

— হুম, এবার চল।

দরজা বাইরের থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে আমি ও ইফাত ওদের বাসার ভেতরে চলে গেলাম। আজ আন্টির সাথে অনেক সময় গল্প করবো। উনাকে মানসিকভাবে সাহস যুগাতে হবে। উনি ইদানীং অনেক বেশি ভয় পাচ্ছে। আন্টির রুমের সামনে এসে দেখলাম আন্টি বালিশে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। ইফাত মৃদুস্বরে ডাকলো।

— আম্মু!

— হু বল।

— আপু আসছে।

— ভেতরে আসতে বল।

ইফাত আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
— তুমি ভেতরে যাও। আমি আমার রুমে চলে যাই।

আমি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালাম। ইফাত চলে গেল। আমি গুটি গুটি পায়ে আন্টির সামনে গিয়ে সালাম দিলাম।

—আসসালামু আলাইকুম আন্টি। কেমন আছেন?

উনি মুখে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বললো,
— ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ আছি ভালোই। তুমি কেমন আছো?

আমি তার পাশে বসে হাসিমুখে বললাম,
— আলহামদুলিল্লাহ। আমার শ্বাশুড়িও তো মা শা আল্লাহ আগের থেকে অনেক বেশি সুন্দর হয়ে গেছে।

— মরে যাবো তো তাই বোধহয়।

— আন্টি উল্টোপাল্টা কথা বলবেন না😤।

— সত্যি কথা মা। মানুষ তো মারা যাওয়ার আগে সুন্দর হয়। তুমি জানো না।

— চুপ করুন তো। হায়াতের মালিক আল্লাহ। এসব বলতে হয় না। কেন ডেকেছেন তাই বলেন।

— ইফাত বললো তুমি বাসায় আছো। তাই ভাবলাম তোমাকে ডেকে একটু গল্প করি।বাঁচি না মরি তাতো বলতে পারি না। যদি মরে যাই তাহলে তো আর গল্প করা হবে না। আমার কয়েকদিন ধরে অনেক বেশি মনে হচ্চে আমার মৃত্যু সন্নিকটে।

— আন্টি আপনি যদি এমন কথা বলা বন্ধ না করেন তাহলে আমি কিন্তু চলে যাবো। আর কখনো আসবো না।

আমি রাগী গলায় কথাটা বলে উঠতে নিলেই উনি আমার হাত ধরে আটকে বললো,
— এই না না কোথাও যেয়ো না। বসো এখানে।দুই দিন ধরে শরীরটা অনেক খারাপ। হাত-পা নাড়াতে পারি না। সারাক্ষণ অস্থির অস্থির লাগে।

— টেনশন করেন না। ইন শা আল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি আপনার মাথায় একটু তেল দিয়ে দেই। পায়ের তালুতেও একটু তেল ডলে দিবোনি। তাহলে ভালো লাগবে।

— না না তোমার এতো কষ্ট করতে হবে না।

— আমার কোন কষ্ট হবে না। আপনি চুপটি করে এখানে বসুন।

উনি আর অমত করলো না। আমি ডেসিং টেবিল থেকে তেলের বোতল নিয়ে তার মাথায় তেল দিতে লাগলাম। তেল দেওয়ার মাঝে মাঝে তার সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করলাম। এতে উনি একটু বেটার ফিল করবে তাই।

💖💖💖

বিকালে……

সকাল থেকে আকাশটা আজ ভার। মনে হয় এই বুঝি বৃষ্টি নামবে। শীতের দিনে বৃষ্টি আমার একদম পছন্দ নয়। শীত আমার পছন্দের ঋতু হলেও বৃষ্টি আমার ভীষণ অপছন্দ। ঈশান কোণে কালো মেঘের আনাগোনা। আমার মন ও আকাশের অবস্থা এখন একিরকম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। ঠান্ডা বাতাস বইছে।সারা শরীর শিরশির করছে সাথে শরীরের পশমগুলো ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে গেছে। তবুও বারান্দা থেকে সরতে ইচ্ছে করছে না। ভাবনায় বিভোর হয়ে আছি আমি। চিন্তা করছি তিন দিন আগের কথা। আম্মু যাওয়ার আগে তার সাথে কথা বলেছিলাম এনাজের বিষয় নিয়ে। ডুব দিলাম কল্পনায়।

ফ্লাশব্যাক…..

আম্মুর জন্য হালিম রান্না করেছি।আম্মুর হালিম অনেক পছন্দ।কারো রাগ,অভিমান ভাঙানোর, কোন কাজ বা উদ্দেশ্য হাসিল করতে খুব জাদুকরী একটা উপায় হলো তার পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়ানো। কেউ আমার ওপর রাগ, অভিমান করলে সেগুলো ভাঙাতে কিংবা কোন কাজ হাসিল করতে আমি এই ট্রিকসটা কাজে লাগাই।গরম গরম হালিম নিয়ে রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আগামীকাল সকালে তারা চলে যাবে। পর্দা কিছুটা সরিয়ে আম্মুর থেকে অনুমতি চাইলাম,

— আম্মু আসবো?

অপরদিক হতে আম্মু শুধু আমার দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো। কোন কথা বললো না। আমি তার অনুমতি না নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম। হালিমের বাটিটা তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম,

— নাও গরম গরম খেয়ে নাও।

— আমি কিছু খাবো না।

— সে কি কথা! তোমার জন্য এত কষ্ট করে রান্না করলাম আর তুমিই খাবে না। এটা তো ঠিক নয়।

— কি কাজের জন্য আমার পছন্দের খাবার রান্না করেছিস তাই বল।

আমি ধরা পরে যাওয়ার ভঙ্গিতে মাথা চুলকালাম। মায়েদের সাথে কখনও চালাকি করে পারা যায় না। চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারবে আমাদের মতলব কি,কেন এসেছি। মুখ দেখেই সব বুঝে ফেলে। এদিক সেদিক তাকিয়ে আব্বুকে খুজলাম। কোথাও দেখতে না পেয়ে খেয়াল হলো এশারের নামাজ পরতে মসজিদে গেছে। আম্মুর পায়ের কাছে বসতোই আম্মু কড়া গলায় বললো,

— এনাজের বিষয় আমি তোর আব্বুকে কিছু বলতে পারবো না। তোর আব্বু যা বলেছে তাই হবে।

— এটা কেমন কথা আম্মু? তুমি না বললে কে বলবে?

— আমার সাথে ঘ্যানঘ্যান না করে যা বলার তোর আব্বুকে বল। সে যা সিদ্ধান্ত নিবে আমি তাই মেনে নিবো।

— তুমি তো জানো আমি সরাসরি আব্বুকে কিছু বলতে পারি না। আমার ভয় করে। যা বলার তোমাকে দিয়ে বলাই৷ আজ এমন কথা বলছো কেন?

— তোর বিষয় নিয়ে যা করার সব তোর আব্বু করবে। আমি কিছু বললেই বলে, “তুমি চুপ থাকো বড় মেয়ের সবকিছু দেখার জন্য আমি আছি।” তাহলে আমি কি বলবো বল তো? কিছু বললেও রাগ হয়ে যায়। তোর আব্বুর রাগ তো তুই জানিসই। তাই আমাকে কিছু না বলে তুই সরাসরি তোর আব্বুর সাথে কথা বল। এখন কিছু বলিস না। তার মতিগতি আমি বুঝতে পারছি না। সামনের সপ্তাহে যখন আসবো তখন বলিস।

আমি কিছুটা হাফ ছাড়লাম। আম্মুর রাগ তাহলে কমেছে। রেগে থাকলে মাদার বাংলাদেশ আমার পুরো রণমুর্তি ধারন করে। আমি বসা থেকে দাঁড়িয়ে বললাম,

— আচ্ছা তাহলে তাই হবে। তুমি হালিম খেয়ে নাও। আমার ওপর আর রেগে থেকো না।

— আর শোন।

— হুম বলো।

— তায়াং, এনাজ দুজনকেই আমার পছন্দ। তায়াং যেহেতু নূরকে ভালোবাসে তাই আমি চাই নূরের সাথেই ওর বিয়ে হোক। এবার তোর ভাগ্যে এনাজ আছে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। এনাজের আচার,ব্যবহার আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। তবুও তোর আব্বুকে খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে বলবো।

— ঠিক আছে। তোমরা যেটা ভালো মনে করো তাই করো। তবে এমন কিছু করো না যার জন্য আমার ভেতরের আমি সত্ত্বাটা মরে যায়।

কথা না বাড়িয়ে দ্রুত রুমের বাইরে চলে এলাম। আম্মুকে নিয়ে কোন টেনশন নেই আর।এখন আব্বুকে রাজী করাতে পারলেই আমাদের বিয়েটা কনফার্ম।

ফ্লাশব্যাক এন্ড……

— এই নোভাপু হারিয়েছো কোন দেশে?

তন্বী দুই বাহু ঝাঁকিয়ে আমাকে প্রশ্ন করতেই আমি ভাবনা থেকে ফিরে এলাম। চমকে ওর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

— কি হয়েছে?

— থাকো কোথায় আজকাল? কখন থেকে ডাকছি কিন্তু তোমার কোন রেসপন্স নেই। ধাক্কা দিতেই হুশ ফিরলো তোমার। কি ভাবছিলে এতে মনোযোগ দিয়ে?

— কিছু না।

— কিছু তো ভাবছিলে।

— ছাড় তো। কেন ডেকেছিস তাই বল।

— ইমরান ভাইয়াকে কেন আসতে বলেছো? ভাইয়া সেই কখন থেকে এসে বসে আছে। তোমাকে ডাকতে ডাকতে আমার গলা ভেঙে গেলো।

— ওহ হ্যাঁ, ভাইয়াকে কল করে আমি আসতে বলেছিলাম। এনাজের জন্য একটু পায়েস রান্না করেছিলাম। সেট টিফিন বক্স করে ওর জন্য পাঠাতে।

তন্বী শয়তানি হাসি দিয়ে নিজের কাঁধ দিয়ে আমার কাঁধে জোরে একটা ধাক্কা মেরে সুর দিয়ে টেনে টেনে বললো,
— বাহ বাহ কি ভালোবাসা!

— বেশি কথা বলিস না। এমনি একটু রান্না করতে মন চাইলো। তার পছন্দ তাই আরকি।

— হু হু সবই বুঝি।

— হইছে সব বুঝে উল্টায় ফেলছো। যা সর।

তন্বীকে সাইড কাটিয়ে কিচেনে চলে গেলাম। ইমরান ভাইয়াকে টিফিন বক্স দিয়ে ফিরে এলাম। পায়েসে মিষ্টি একটু বেশি হয়েছে। এনাজের জন্য ঠিক আছে। উনি আবার মিষ্টি একটু বেশি পছন্দ। কিন্তু আমার পায়েসে মিষ্টি কম পছন্দ। তায়াং ভাইয়া আজকে ফিরবে না। কি একটা কাজে ঢাকার বাইরে গেছে। তার গাজরের হালুয়া বানিয়ে ডিপ ফ্রীজে রেখে দিয়েছি। হালুয়া ঠান্ডা হওয়ার পরপরই আন্টিকে দিয়ে এসেছি। তারও যখন পছন্দ তাহলে দিতে তো হয়। ভাইয়া আগামীকাল এলে ওকে ঠান্ডাটাই খাওয়াবো।

রাতে…..

— আপনি যেই নাম্বারে কল করছেন তা এই মুহুর্তে বন্ধ আছে। আপনি যদি বাংলালিংকের গ্রাহক হোন তাহলে অনুগ্রহ করে এখুনি ডায়াল করুন ★★★★ এই নাম্বারে। ধন্যবাদ।

অপরপাশ থেকে টুট টুট করে কলটা কেটে গেলো।বিষন্ন মনে কানের থেকে মোবাইলটা সরালাম।সন্ধ্যা থেকে এনাজের নাম্বারে ট্রাই করে যাচ্ছি। বারবার একই কথা বলছে। বুক চিঁড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে গেলো। ঘড়ির কাটা টিক টিক করে রাত দশটায় ছুঁয়েছে। দূরের মেঘাচ্ছন্ন আকাশে থেকে থেকে বিজলি চমকাচ্ছে। রাতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।কাঁধে হাতের স্পর্শ পেতেই চোখের কোণের পানি মুছে পেছনে তাকালাম। তন্বী মুখ শুকনো করে বললো,

— ঘুমাবে না?

— হুম চল।

তন্বীর সাথে বারান্দা থেকে ভেতরে চলে এলাম। আমি বিছানায় শুতেই তন্বী লাইট অফ করে আমার পাশে শুয়ে পরলো। তন্বী কিছু সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পরবে। কিন্তু আমি জানি আমার ঘুম আসতে দেরী আছে। গত তিনদিন ধরে সারারাত বিছানার এপাশ ওপাশ করতে করতে রাত তিনটে বাজে চোখ লাগে। ফেসবুক আমার এতো পছন্দ। এখন সেই যোগাযোগ মাধ্যমটাও ইদানীং বিরক্ত লাগে। এপাশ ওপাশ করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম নিজেও জানি না। হঠাৎ তন্বীর ঝাঁকানিতে পিট পিট করে চোখ খুলে তাকালাম। তন্বীর চোখে পানি। কাঁদতে কাঁদতে আমাকে বললো,

— নোভাপু উঠো, আর কত ঘুমাইবা? এদিকে দেখো কি অঘটন ঘটে গেছে।

— কি হয়েছে?

— কিছু শুনো নাই? পুরো দালানের মানুষ উঠে গেছে। কান্নাকাটি পরে গেছে। আর তোমার ঘুমই ভাঙে না।

— বলবি তো কি হয়েছে?

—ইফাতের আম্মু মারা গেছে।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here